ক্রিসমাস ২০২৫ আসছে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, যা খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের কাছে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব । যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপনের এই বিশেষ দিনটি শুধু ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের জীবনে আনন্দ, ভালোবাসা এবং পারিবারিক মিলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে । প্রাচীন রোমান উৎসব থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের সাজসজ্জা ও উপহার বিনিময়—ক্রিসমাসের যাত্রা হাজার বছরের সাংস্কৃতিক বিবর্তনের সাক্ষী।
এই নিবন্ধে আমরা ক্রিসমাস ২০২৫ এর সম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরব, যেখানে থাকছে এর ইতিহাস, ধর্মীয় তাৎপর্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপনের পদ্ধতি এবং আধুনিক যুগে এই উৎসবের পরিবর্তনশীল চরিত্র।
ক্রিসমাস কী এবং কবে পালন করা হয়?

ক্রিসমাসের সংজ্ঞা
ক্রিসমাস খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান উৎসব যা প্রতি বছর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন পালনের জন্য উদযাপিত হয়। “ক্রিসমাস” শব্দটি “Christ’s Mass” বা খ্রিস্টের গণপ্রার্থনা থেকে উদ্ভূত। এই দিনে খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বরের পুত্র মানবরূপে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তি দিতে। বাইবেলের নতুন নিয়মে বর্ণিত আছে যে যিশু বেথলেহেমের একটি আস্তাবলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ফেরেশতারা মেষপালকদের এই সুসংবাদ দিয়েছিলেন ।
| মূল তথ্য | বিবরণ |
| উৎসবের নাম | ক্রিসমাস, বড়দিন, নোয়েল, ইয়ুল |
| ধর্মীয় তাৎপর্য | যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপন |
| প্রকৃতি | ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব |
| পালনকারী | খ্রিস্টান এবং অ-খ্রিস্টান সম্প্রদায় |
ক্রিসমাসের ইতিহাস ও উৎপত্তি
প্রাচীন যুগের শীতকালীন উৎসব
ক্রিসমাসের উৎপত্তি খ্রিস্টধর্মের আগের পৌত্তলিক ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। প্রাচীন রোমে ডিসেম্বর মাসে দুটি প্রধান উৎসব পালিত হতো—সাটার্নালিয়া এবং সোল ইনভিক্টাস । সাটার্নালিয়া ছিল কৃষির দেবতা স্যাটার্নের সম্মানে দুই সপ্তাহব্যাপী উৎসব, যেখানে মানুষ উপহার বিনিময়, ভোজন এবং আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠত। ২৫ ডিসেম্বর রোমানরা তাদের সূর্য দেবতা মিথ্রার জন্মদিন উদযাপন করত । এই প্রাচীন উৎসবগুলোর উৎসবমুখর চরিত্র পরবর্তীতে খ্রিস্টান ক্রিসমাসে মিশে গেছে।
| প্রাচীন উৎসব | সময়কাল | বৈশিষ্ট্য |
| সাটার্নালিয়া | ১৭-২৩ ডিসেম্বর | উপহার বিনিময়, ভোজন, সামাজিক উল্লাস |
| সোল ইনভিক্টাস | ২৫ ডিসেম্বর | সূর্য দেবতার জন্মোৎসব |
| ইয়ুল | শীতকালীন সোলস্টিস | জার্মানিক পৌত্তলিক উৎসব |
২৫ ডিসেম্বর কেন নির্বাচিত হয়েছিল?
বাইবেলে যিশুর প্রকৃত জন্ম তারিখ উল্লেখ নেই। ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুসারে, প্রথম ক্রিসমাস উদযাপন ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে ২৫ ডিসেম্বর রোমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল । ৪র্থ শতাব্দীতে রোমান সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর চার্চ নেতারা ২৫ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে: প্রথমত, এটি পৌত্তলিক সূর্য উৎসবের সাথে মিল রেখে খ্রিস্টানদের “সত্যিকারের আলো” যিশুর জন্মকে সংযুক্ত করে । দ্বিতীয়ত, খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ব অনুসারে, ২৫ মার্চ যিশুর গর্ভধারণের দিন (অ্যানানসিয়েশন) ধরে নয় মাস পরে ২৫ ডিসেম্বর আসে ।
মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ
মধ্যযুগে ইউরোপে ক্রিসমাস ধর্মীয় গণপ্রার্থনা এবং ভোজের মিশ্রণে পালিত হতো। ১৬ শতকে জার্মানিতে ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর ঐতিহ্য শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে এটি অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ছড়িয়ে পড়ে । ঔপনিবেশিক যুগে ইউরোপীয় অভিবাসীরা আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিসমাস ঐতিহ্য নিয়ে যান। ১৯ শতকে ভিক্টোরিয়ান যুগে ক্রিসমাস আধুনিক রূপ পায়, যেখানে পারিবারিক মিলন, উপহার বিনিময় এবং সাজসজ্জা প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে ।
ক্রিসমাসের ধর্মীয় তাৎপর্য
খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বে ক্রিসমাস
খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্টের জন্ম মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় উপহার। বাইবেলের লুক গসপেলে বর্ণিত আছে যে মেরি এবং যোসেফ বেথলেহেমে জনগণনার জন্য গিয়েছিলেন, সেখানে একটি আস্তাবলে যিশুর জন্ম হয় এবং তাকে খাবার পাত্রে শুইয়ে রাখা হয় । ম্যাথু গসপেলে বর্ণিত তিন জ্ঞানী ব্যক্তি (ম্যাজাই) তারকা দেখে যিশুকে খুঁজে পান এবং সোনা, লোবান ও গন্ধরস উপহার দেন। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন যে এই জন্ম মানবজাতির পাপ থেকে মুক্তির সূচনা। ক্রিসমাস তাই শুধু একটি উৎসব নয়, বরং ঈশ্বরের ভালোবাসা ও মুক্তির প্রতিশ্রুতির স্মরণ।
| ধর্মীয় উপাদান | তাৎপর্য |
| যিশুর জন্ম | মানবরূপে ঈশ্বরের আগমন |
| বেথলেহেমের তারকা | পথপ্রদর্শনের প্রতীক |
| তিন জ্ঞানী ব্যক্তির উপহার | সম্মান ও ভক্তির প্রকাশ |
| মেষপালকদের সাক্ষী | সাধারণ মানুষের জন্য সুসংবাদ |
বিভিন্ন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি
রোমান ক্যাথলিক চার্চে ক্রিসমাস মধ্যরাত্রি গণপ্রার্থনা (মিডনাইট ম্যাস) দিয়ে শুরু হয়, যা অত্যন্ত পবিত্র অনুষ্ঠান। প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চগুলোতে ক্রিসমাস সেবা, ক্যারল গান এবং বাইবেল পাঠ করা হয়। পূর্ব অর্থোডক্স চার্চে ক্রিসমাসের আগে ৪০ দিনের উপবাস পালন করা হয় এবং ৭ জানুয়ারি মহান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এঞ্জেলিক্যান, লুথেরান, মেথডিস্ট এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য থাকলেও সকলের মূল বার্তা এক—যিশু খ্রিস্টের জন্ম উদযাপন।
ক্রিসমাসের প্রতীক ও ঐতিহ্য

ক্রিসমাস ট্রি
ক্রিসমাস ট্রি আধুনিক ক্রিসমাসের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক। এর উৎপত্তি ১৬ শতকের জার্মানিতে, যেখানে মানুষ চিরসবুজ গাছ ঘরে এনে সাজাতো । কিংবদন্তি অনুসারে, প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কারক মার্টিন লুথার ১৫৩৬ সালে প্রথম ক্রিসমাস ট্রিতে মোমবাতি জ্বালিয়েছিলেন তারার আলো দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে । চিরসবুজ গাছ চিরন্তন জীবনের প্রতীক এবং খ্রিস্টানরা এটিকে যিশুর অনন্ত জীবনের সাথে যুক্ত করেন। জার্মান অভিবাসীরা ১৯ শতকে আমেরিকায় এই ঐতিহ্য নিয়ে যান । বর্তমানে নিউ ইয়র্কের রকফেলার সেন্টার ক্রিসমাস ট্রি বিশ্বখ্যাত ।
| ট্রির উপাদান | প্রতীকী অর্থ |
| চিরসবুজ গাছ | অনন্ত জীবন ও আশা |
| তারকা (শীর্ষে) | বেথলেহেমের তারকা |
| আলো/মোমবাতি | যিশু খ্রিস্ট—বিশ্বের আলো |
| অলংকরণ | আনন্দ ও উৎসবমুখরতা |
সান্তা ক্লজ বা বাবা নোয়েল
সান্তা ক্লজ আধুনিক ক্রিসমাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র। এই চরিত্রের মূল ভিত্তি হলো ৪র্থ শতাব্দীর সেন্ট নিকোলাস, যিনি তুরস্কের মাইরা শহরের একজন বিশপ ছিলেন এবং তার দানশীলতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন । তিনি গরিব শিশুদের জুতার মধ্যে গোপনে স্বর্ণমুদ্রা রেখে দিতেন । ডাচ অভিবাসীরা ১৭ শতকে “Sinterklaas” ঐতিহ্য আমেরিকায় নিয়ে আসেন এবং ১৭৭৩ সালে আমেরিকান সংবাদপত্র “Santa Claus” নাম ব্যবহার করে । ১৮২৩ সালে ক্লেমেন্ট ক্লার্ক মুরের কবিতা “A Visit from St. Nicholas” আধুনিক সান্তার চেহারা তৈরি করে । জার্মান-আমেরিকান কার্টুনিস্ট থমাস নাস্ট ১৮৬২-১৮৬৬ সালে সান্তাকে মোটা পেটওয়ালা, সাদা দাড়িওয়ালা এবং লাল পোশাকের চরিত্র হিসেবে চিত্রিত করেন ।
ক্রিসমাস ক্যারল ও সংগীত
ক্রিসমাস ক্যারল হলো ক্রিসমাস উপলক্ষে গাওয়া ধর্মীয় ও উৎসবমুখর গান। মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চে এবং রাস্তায় ক্যারল গাওয়া শুরু হয়। “Silent Night” (১৮১৮), “O Holy Night” (১৮৪৭), “Jingle Bells” (১৮৫৭) এবং “White Christmas” (১৯৪২) বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিসমাস গান। ক্যারল গাওয়া শুধু চার্চে নয়, পরিবার এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে একতা ও আনন্দ সৃষ্টি করে।
উপহার বিনিময় ও এর অর্থ
ক্রিসমাসে উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য বাইবেলের তিন জ্ঞানী ব্যক্তির যিশুকে উপহার দেওয়া থেকে অনুপ্রাণিত। সোনা, লোবান এবং গন্ধরস ছিল মূল্যবান উপহার যা সম্মান ও ভক্তি প্রকাশ করত। আধুনিক যুগে উপহার বিনিময় পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সেন্ট নিকোলাসের গোপন দান থেকে শুরু করে বর্তমান যুগের সান্তা ক্লজের উপহার—এই ঐতিহ্য দানশীলতা এবং সহমর্মিতার বার্তা বহন করে।
ক্রিসমাস মোজা এবং ছন্দ
চিমনিতে মোজা ঝুলানোর প্রথা সেন্ট নিকোলাসের একটি কিংবদন্তি থেকে এসেছে, যেখানে তিনি একটি গরিব পরিবারের তিন মেয়ের জন্য চিমনি দিয়ে স্বর্ণমুদ্রা ফেলেন যা মোজার মধ্যে পড়ে। এই গল্প থেকে শিশুরা চিমনিতে বা বিছানার কাছে মোজা ঝুলিয়ে রাখে সান্তার উপহারের জন্য। ক্রিসমাস রিদম বা মালা দরজায় ঝোলানো হয় চিরসবুজ জীবন ও আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে। প্রাচীন রোমানরা ভাগ্য ও স্বাস্থ্যের জন্য সবুজ মালা ব্যবহার করত, যা খ্রিস্টান ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রিসমাস উদযাপন

ইউরোপীয় দেশসমূহ
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে ক্রিসমাস পালন অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী। ক্রিসমাস ডিনারে রোস্ট টার্কি, ব্রাসেলস স্প্রাউটস এবং ক্রিসমাস পুডিং পরিবেশন করা হয়। ক্রিসমাস ক্র্যাকার টেনে ছোট উপহার বের করা এবং কাগজের টুপি পরা একটি মজার ঐতিহ্য। প্রতি বছর রাজা বা রানীর ক্রিসমাস বার্তা দেশবাসী টেলিভিশনে দেখেন। বক্সিং ডে (২৬ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ ক্রিসমাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন মানুষ দরিদ্রদের উপহার দেয় এবং ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করে।
জার্মানি
জার্মানি ক্রিসমাসের অনেক ঐতিহ্যের জন্মস্থান। জার্মান ক্রিসমাস মার্কেট (Weihnachtsmarkt) বিশ্বখ্যাত, যেখানে হস্তনির্মিত সাজসজ্জা, মুলদ ওয়াইন এবং স্টোলেন কেক পাওয়া যায়। অ্যাডভেন্ট ক্যালেন্ডার জার্মান উদ্ভাবন, যা ১ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন একটি করে দরজা খুলে চকলেট বা ছোট উপহার পাওয়া যায়। ক্রিস কিন্ডেল (Christ Child) শিশু যিশু হিসেবে উপহার নিয়ে আসার ঐতিহ্য জার্মানিতে জনপ্রিয়।
ফ্রান্স
ফ্রান্সে ক্রিসমাস ইভে (২৪ ডিসেম্বর) রাতে রেভিলন নামে বিশাল ভোজের আয়োজন করা হয় মধ্যরাত্রি মাসের পরে। বুশে দ্য নোয়েল (Yule Log Cake) একটি ঐতিহ্যবাহী ডেজার্ট যা কাঠের গুঁড়ির মতো দেখতে। প্যারিসের শ্যাঁজেলিজে এভিনিউতে দর্শনীয় ক্রিসমাস আলো সাজসজ্জা হয় । গ্যালারি লাফায়েতের ক্রিসমাস উইন্ডো ডিসপ্লে বিশ্বখ্যাত।
| দেশ | বিশেষ ঐতিহ্য | বিশেষ খাবার |
| যুক্তরাজ্য | ক্রিসমাস ক্র্যাকার, রাজকীয় বার্তা | টার্কি, ক্রিসমাস পুডিং |
| জার্মানি | ক্রিসমাস মার্কেট, অ্যাডভেন্ট ক্যালেন্ডার | স্টোলেন কেক, মুলদ ওয়াইন |
| ফ্রান্স | রেভিলন ডিনার | বুশে দ্য নোয়েল |
উত্তর আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকায় ক্রিসমাস সবচেয়ে বড় উৎসব। নিউ ইয়র্কের রকফেলার সেন্টার ক্রিসমাস ট্রি লাইটিং অনুষ্ঠান লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখে । ফিফথ এভিনিউর দোকানগুলোর ক্রিসমাস উইন্ডো ডিসপ্লে এবং হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা দর্শনীয়। ব্ল্যাক ফ্রাইডে (থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের পরের দিন) এবং সাইবার মানডে ক্রিসমাস শপিংয়ের মূল সময়। আমেরিকানরা দানশীলতায় বিশ্বাস করে এবং সালভেশন আর্মি, ফুড ব্যাংক ইত্যাদিতে দান করে।
কানাডা
কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ক্রিসমাসে প্রতিফলিত হয়। ব্রিটিশ, ফরাসি এবং অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য মিলেমিশে একটি অনন্য উদযাপন তৈরি হয়। শীতকালীন কার্নিভাল এবং আউটডোর স্কেটিং কানাডিয়ান ক্রিসমাসের অংশ। মন্ট্রিয়ল এবং টরন্টোতে চমৎকার ক্রিসমাস মার্কেট অনুষ্ঠিত হয়।
লাতিন আমেরিকা
লাতিন আমেরিকায় ক্রিসমাস ক্যাথলিক ঐতিহ্যের সাথে স্থানীয় সংস্কৃতির মিশ্রণ। মেক্সিকোতে লাস পোসাদাস (Las Posadas) ১৬-২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেরি এবং যোসেফের আশ্রয় খোঁজার পুনরাভিনয় করা হয়। ব্রাজিলে মিডনাইট ম্যাস (মিসা দো গালো) অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গ্রীষ্মকালীন ক্রিসমাস হওয়ায় সৈকতে উদযাপন হয়। কলম্বিয়ায় ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ক্যান্ডেল নাইট (Día de las Velitas) পালিত হয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ মোমবাতি জ্বালানো হয়।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল
ফিলিপাইন্স
ফিলিপাইন্সে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রিসমাস উদযাপন হয়—সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত । সিম্বাং গাবি (Simbang Gabi) নামে নয় দিনের ভোরের মাস ১৬-২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। প্যারল (Parol) নামক তারকা আকৃতির লন্ঠন ঘরে ঝুলানো ফিলিপিনো ঐতিহ্য। ৯০% জনসংখ্যা ক্যাথলিক হওয়ায় ক্রিসমাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিসমাস গ্রীষ্মকালে পড়ে, তাই সৈকতে উদযাপন জনপ্রিয়। বারবিকিউ ডিনার, সামুদ্রিক খাবার এবং ঠাণ্ডা পানীয় ঐতিহ্যবাহী রোস্ট টার্কির পাশাপাশি পরিবেশন করা হয়। সিডনির বন্ডি বিচে “Christmas on the Beach” উৎসব এবং ক্যারলস বাই ক্যান্ডেলাইট অনুষ্ঠান বিখ্যাত।
ভারত ও বাংলাদেশ
ভারতে খ্রিস্টান সম্প্রদায় (প্রায় ২.৩%) ক্রিসমাস পালন করে। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের ক্রিসমাস সাজসজ্জা বিখ্যাত। গোয়া, কেরালা এবং পূর্বোত্তর রাজ্যগুলোতে বড় উৎসব হয়। বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায় ঢাকার তেজগাঁও চার্চ, চট্টগ্রামের জুবিলি চার্চসহ বিভিন্ন চার্চে মধ্যরাত্রি গণপ্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক সমাবেশের মাধ্যমে ক্রিসমাস পালন করে। অমুসলিম অনেক বাঙালি এই উৎসবের সামাজিক দিকে অংশ নেন।
| অঞ্চল | দেশ | বিশেষত্ব |
| এশিয়া | ফিলিপাইন্স | দীর্ঘতম ক্রিসমাস সিজন, সিম্বাং গাবি |
| প্রশান্ত মহাসাগরীয় | অস্ট্রেলিয়া | গ্রীষ্মকালীন সৈকত ক্রিসমাস |
| দক্ষিণ এশিয়া | ভারত-বাংলাদেশ | চার্চ সেবা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান |
আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিসমাস গ্রীষ্মকালে হয়, তাই আউটডোর বারবিকিউ এবং ক্যারল গাওয়া জনপ্রিয়। নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানরা পশু বলি, বড় ভোজ এবং গ্রামে ফিরে পরিবারের সাথে সময় কাটায়। ইথিওপিয়ার অর্থোডক্স চার্চ ৭ জানুয়ারি গান্না (Ganna) নামে ক্রিসমাস পালন করে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী হকি-সদৃশ খেলা খেলা হয়। আফ্রিকার ক্রিসমাস স্থানীয় ঐতিহ্য এবং খ্রিস্টান আচারের অনন্য সংমিশ্রণ।
ক্রিসমাস ২০২৫ এর বিশেষত্ব
২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বৈশিষ্ট্য
ক্রিসমাস ২০২৫ বৃহস্পতিবার পড়ায় অনেক কর্মচারী শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ছুটি নিয়ে দীর্ঘ সপ্তাহান্ত উপভোগ করতে পারবেন । এটি পারিবারিক ভ্রমণ এবং বিশ্রামের জন্য আদর্শ সময়। ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার হওয়ায় অনেক দেশে ক্রিসমাস সিজনের শপিং এবং প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তীব্র হবে। ক্রিসমাস ২০২৫ এর অনন্যতা হলো এটি দশকের মধ্যপর্বে আসছে, যখন মানুষ নতুন ঐতিহ্য এবং স্মৃতি তৈরির জন্য উৎসাহী থাকে।
| ক্রিসমাস ২০২৫ | তথ্য |
| তারিখ | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| বার | বৃহস্পতিবার |
| বছরের দিন নম্বর | ৩৫৯তম দিন |
| সুবিধা | দীর্ঘ সপ্তাহান্তের সম্ভাবনা |
প্রযুক্তি ও আধুনিকতার প্রভাব
ক্রিসমাস ২০২৫ প্রযুক্তিনির্ভর উদযাপন দেখবে। কোভিড-১৯ পরবর্তী যুগে ভার্চুয়াল ক্রিসমাস পার্টি, জুম বা হোয়াটসঅ্যাপে পরিবারের সাথে যুক্ত থাকা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। অনলাইন শপিং বৃদ্ধি পাচ্ছে—আমাজন, ইবে এবং অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ক্রিসমাস ডিল দিচ্ছে। ডিজিটাল গ্রিটিং কার্ড, ই-উপহার ভাউচার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিসমাস ছবি শেয়ার করা জনপ্রিয় হয়েছে। এআই-চালিত ব্যক্তিগত উপহার সুপারিশ এবং স্মার্ট হোম ক্রিসমাস লাইট নিয়ন্ত্রণ আধুনিক ক্রিসমাসের অংশ।
পরিবেশবান্ধব ক্রিসমাস
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে টেকসই ক্রিসমাস উদযাপনের ট্রেন্ড বাড়ছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য মোড়ক কাগজ, কাপড়ের ব্যাগ, LED লাইট এবং কৃত্রিম ট্রির পরিবর্তে জীবন্ত ট্রি ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পণ্য ক্রয় কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমায়। খাবারের অপচয় রোধ, জৈব সার তৈরি এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি সাজসজ্জা ক্রিসমাস ২০২৫ এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হবে।
ক্রিসমাসের খাবার ও রন্ধনশৈলী
ঐতিহ্যবাহী ক্রিসমাস ডিনার
ক্রিসমাস ডিনার পশ্চিমা দেশগুলোতে পরিবারের সবচেয়ে বড় ভোজ। রোস্ট টার্কি সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধান খাবার, যা স্টাফিং, গ্রেভি এবং ক্র্যানবেরি সস দিয়ে পরিবেশন করা হয় । হ্যাম বা শুয়োরের মাংসও ইউরোপে জনপ্রিয়—মধ্যযুগে নভেম্বরে শূকর জবাই করে শীতের জন্য সংরক্ষণ করা হতো । ইংল্যান্ডে রোস্ট গুজ ছিল ঐতিহ্যবাহী, তবে ভিক্টোরিয়ান যুগে টার্কি জনপ্রিয় হয়। সাইড ডিশ হিসেবে ম্যাশড পটেটো, ব্রাসেলস স্প্রাউটস, গাজর এবং ইয়র্কশায়ার পুডিং পরিবেশন করা হয়।
| খাবার | উৎপত্তি | তাৎপর্য |
| টার্কি | আমেরিকা থেকে ইউরোপে | প্রাচুর্য ও উদারতার প্রতীক |
| হ্যাম | ইউরোপ (জার্মানি, নরওয়ে) | শীতকালীন সংরক্ষণ ঐতিহ্য |
| রোস্ট গুজ | মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ড | পুরনো ব্রিটিশ ঐতিহ্য |
ক্রিসমাস ডেজার্ট
ক্রিসমাস পুডিং ব্রিটিশ ঐতিহ্যবাহী ডেজার্ট, যা শুকনো ফল, মশলা এবং ব্র্যান্ডি দিয়ে তৈরি এবং কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে তৈরি করা হয়। পরিবেশনের সময় এটি জ্বালানো হয় দর্শনীয় উপস্থাপনার জন্য। মিন্স পাই (mince pies) ছোট পাই যাতে মশলাযুক্ত ফল মিশ্রণ থাকে। জিঞ্জারব্রেড কুকিজ জার্মান ঐতিহ্য, যা ছোট ঘর, মানুষ এবং তারকা আকারে তৈরি হয়। বুশে দ্য নোয়েল বা ইয়ুল লগ কেক ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী কেক, যা কাঠের গুঁড়ির মতো দেখতে এবং চকলেট ক্রিম দিয়ে ঢাকা।
বিভিন্ন দেশের বিশেষ খাবার
ইতালিতে প্যানেটোন (Panettone) একটি মিষ্টি রুটি যাতে শুকনো ফল এবং কিসমিস থাকে। পোল্যান্ডে কুটিয়া (Kutia) একটি মিষ্টি শস্য খাবার যা ক্রিসমাস ইভে পরিবেশন করা হয়। জাপানে KFC ফ্রাইড চিকেন ক্রিসমাসের ঐতিহ্যবাহী খাবার হয়ে উঠেছে—১৯৭০-এর দশকে একটি মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের কারণে। স্পেনে তুরোন (Turrón) নামক বাদাম নুগাট এবং ল্যাটিন আমেরিকায় তামালে (tamales) জনপ্রিয়।
আধুনিক যুগে ক্রিসমাসের বাণিজ্যিকীকরণ
ক্রিসমাস শপিং সিজন
ক্রিসমাস বর্তমানে বছরের সবচেয়ে বড় শপিং সিজন। আমেরিকায় থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের পরের দিন ব্ল্যাক ফ্রাইডে থেকে ক্রিসমাস শপিং শুরু হয়, যেখানে দোকানে ব্যাপক ছাড় থাকে। সাইবার মানডে অনলাইন শপিংয়ের জন্য জনপ্রিয়। ২০২৩ সালে আমেরিকায় ক্রিসমাস শপিংয়ে প্রায় ৯৬৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বছরের মোট বিক্রয়ের ৩০-৪০% ক্রিসমাস সিজনে করেন। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বৃদ্ধি শপিংকে আরো সহজ করেছে।
| শপিং ইভেন্ট | সময় | বৈশিষ্ট্য |
| ব্ল্যাক ফ্রাইডে | থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের পরের দিন | দোকানে বিশাল ছাড় |
| সাইবার মানডে | ব্ল্যাক ফ্রাইডের পরের সোমবার | অনলাইন ডিল |
| ক্রিসমাস ইভ | ২৪ ডিসেম্বর | শেষ মুহূর্তের শপিং |
বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিং
ক্রিসমাস থিমের বিজ্ঞাপন অক্টোবর থেকে শুরু হয়। কোকা-কোলা কোম্পানি ১৯৩০-এর দশকে থমাস নাস্টের সান্তা ইমেজ জনপ্রিয় করে—লাল পোশাকের মোটা পেটওয়ালা সান্তা এখন সর্বজনীন চিত্র। ব্র্যান্ডগুলো ক্রিসমাস বিজ্ঞাপনে আবেগপূর্ণ গল্প, পরিবার এবং ভালোবাসার থিম ব্যবহার করে। যুক্তরাজ্যের জন লুইস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের বার্ষিক ক্রিসমাস বিজ্ঞাপন প্রতীক্ষিত ইভেন্ট।
বাণিজ্যিকীকরণের সমালোচনা
অনেক সমালোচক মনে করেন ক্রিসমাসের আধ্যাত্মিক এবং ধর্মীয় অর্থ বাণিজ্যিকীকরণের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। উপহার কেনার চাপ, ক্রেডিট কার্ড ঋণ এবং অতিরিক্ত ভোগবাদ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চার্চ নেতারা ক্রিসমাসের প্রকৃত অর্থ—যিশুর জন্ম এবং দানশীলতা—মনে রাখার আহ্বান জানান। অনেক পরিবার এখন “সাধারণ ক্রিসমাস” পালন করছেন, যেখানে কম উপহার এবং বেশি পারিবারিক সময়ের উপর জোর দেওয়া হয়।
ক্রিসমাস উদযাপনের টিপস ও আইডিয়া
পরিবার ও বন্ধুদের সাথে উদযাপন
ক্রিসমাসের মূল আনন্দ প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো। পারিবারিক ডিনার, একসাথে ক্রিসমাস মুভি দেখা এবং ক্যারল গাওয়া স্মৃতি তৈরি করে। ঐতিহ্যবাহী বোর্ড গেম, কার্ড খেলা এবং সিক্রেট সান্তা (এলোমেলো উপহার বিনিময়) পরিবারকে একত্রিত করে। শিশুদের জন্য সান্তার চিঠি লেখা এবং দুধ ও কুকিজ রেখে দেওয়া মজাদার ঐতিহ্য। পারিবারিক ফটো সেশন এবং ক্রিসমাস কার্ড তৈরি দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি সৃষ্টি করে।
| কার্যক্রম | বৈশিষ্ট্য |
| পারিবারিক ডিনার | একসাথে ভোজ ও কথোপকথন |
| ক্রিসমাস মুভি নাইট | “Home Alone”, “Elf” দেখা |
| গেম ও কার্ড | পরিবারের সাথে মজাদার সময় |
| সিক্রেট সান্তা | এলোমেলো উপহার বিনিময় |
বাজেট-বান্ধব ক্রিসমাস
ব্যয়বহুল উদযাপনের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ক্রিসমাস পালন করা যায়। DIY (Do It Yourself) উপহার যেমন হাতে তৈরি কার্ড, বেকড কুকিজ বা হস্তনির্মিত সাজসজ্জা অর্থসাশ্রয়ী এবং ব্যক্তিগত স্পর্শ যুক্ত করে। পুরনো সাজসজ্জা পুনর্ব্যবহার, কাগজের স্নোফ্লেক তৈরি এবং প্রাকৃতিক উপাদান (পাইন শঙ্কু, শাখা) ব্যবহার বাজেট বাঁচায়। সিক্রেট সান্তা পদ্ধতি অনুসরণ করলে সবাইকে উপহার না দিয়ে একজনকে দিলেই হয়। পরিবারের সাথে বাড়িতে রান্না করা দামি রেস্তোরাঁর চেয়ে সাশ্রয়ী এবং আন্তরিক।
নিরাপদ উদযাপন
ক্রিসমাস সাজসজ্জায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। LED লাইট ব্যবহার করুন যা কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং উত্তাপ কম দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত তার বা অতিরিক্ত লোডিং এড়িয়ে চলুন। মোমবাতি ব্যবহারে সতর্ক থাকুন এবং জ্বলন্ত মোমবাতি কখনো ছেড়ে যাবেন না। খাবারে অ্যালার্জি সম্পর্কে সচেতন থাকুন—অতিথিদের খাদ্য সংবেদনশীলতা জেনে নিন। কোভিড-পরবর্তী যুগে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব (প্রয়োজনে) এবং অসুস্থ থাকলে বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ভার্চুয়াল ক্রিসমাস
দূরবর্তী পরিবার ও বন্ধুদের সাথে জুম, স্কাইপ বা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে যুক্ত হন। ভার্চুয়াল ডিনার পার্টি আয়োজন করুন যেখানে সবাই একই সময়ে খাবার খায় এবং কথা বলে। অনলাইন ক্রিসমাস গেম যেমন ভার্চুয়াল এস্কেপ রুম বা ট্রিভিয়া খেলা মজাদার। ডিজিটাল উপহার কার্ড, ই-বুক বা অনলাইন কোর্স সাবস্ক্রিপশন উপহার দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিসমাস ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করে প্রিয়জনদের সাথে সংযুক্ত থাকুন।
সামাজিক ঐক্যবদ্ধতা
ক্রিসমাস ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে একতা এবং শান্তির বার্তা প্রচার করে। যদিও এটি খ্রিস্টান উৎসব, বিশ্বের অনেক অ-খ্রিস্টান দেশেও সামাজিক উৎসব হিসেবে পালিত হয় । ক্রিসমাসের সময় সম্প্রদায়গুলো একত্রিত হয়, প্রতিবেশীরা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানায় এবং বিভিন্ন পটভূমির মানুষ একই আনন্দে মিলিত হয়। এই উৎসব সাংস্কৃতিক ভিন্নতা অতিক্রম করে মানবিক মূল্যবোধ—দয়া, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্মান—তুলে ধরে। কর্মক্ষেত্রে ক্রিসমাস পার্টি, স্কুলে ক্যারল গান এবং সম্প্রদায়ের উৎসব সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করে।
| সামাজিক প্রভাব | বিবরণ |
| সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি | ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একসাথে উদযাপন |
| পারিবারিক বন্ধন | দূরবর্তী পরিবার পুনর্মিলন |
| দাতব্যতা | দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি সহানুভূতি |
| শান্তির বার্তা | বৈশ্বিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা |
দাতব্য কার্যক্রম
ক্রিসমাস সিজনে বিশ্বব্যাপী দানশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় । মানুষ খাদ্য ব্যাংক, হোমলেস শেল্টার এবং দাতব্য সংস্থায় দান করে। সালভেশন আর্মি তাদের “রেড কেটল ক্যাম্পেইন” চালায় যেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা অর্থ সংগ্রহ করেন অভাবীদের জন্য। “অ্যাঞ্জেল ট্রি” প্রোগ্রামে মানুষ গরিব শিশুদের জন্য উপহার কিনে দেন । কমিউনিটি ডিনার আয়োজন করা হয় যেখানে হোমলেস এবং একাকী মানুষদের খাওয়ানো হয়। দাতব্য সংস্থাগুলো ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি অনুদান পায়—২০২৩ সালে আমেরিকায় ডিসেম্বরে মোট বার্ষিক দানের ৩০% করা হয়েছিল । এই ঐতিহ্য সেন্ট নিকোলাসের দানশীলতার ধারাবাহিকতা এবং যিশুর শিক্ষার প্রতিফলন।
সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে ক্রিসমাস
ক্রিসমাস পশ্চিমা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে গভীর প্রভাব ফেলেছে। চার্লস ডিকেন্সের “A Christmas Carol” (১৮৪৩) ক্রিসমাসের আধুনিক চেতনা গঠনে বিশাল ভূমিকা রেখেছে—এটি দানশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা দিয়েছে। এই গল্পটি অসংখ্যবার চলচ্চিত্র ও নাটকে রূপায়িত হয়েছে । ক্রিসমাস চলচ্চিত্র যেমন “It’s a Wonderful Life” (১৯৪৬), “Miracle on 34th Street” (১৯৪৭) সাংস্কৃতিক মাইলফলক হয়ে উঠেছে । “Home Alone” (১৯৯০), “Elf” (২০০৩), “The Polar Express” (২০০৪) এবং “Love Actually” (২০০৩) আধুনিক ক্লাসিক। এই চলচ্চিত্রগুলো পারিবারিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং আশার বার্তা প্রচার করে । আশ্চর্যজনকভাবে “Die Hard” (১৯৮৮) ক্রিসমাস মুভি কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কিন্তু এটি ক্রিসমাস ইভে সেট করা হয়েছে ।
পরিবেশ ও টেকসই ক্রিসমাস
প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার
ক্রিসমাসের পরিবেশগত প্রভাব উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাজ্যে শুধুমাত্র ক্রিসমাস সিজনে অতিরিক্ত ৩ মিলিয়ন টন বর্জ্য উৎপন্ন হয় । প্রকৃত বনাম কৃত্রিম ক্রিসমাস ট্রি বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ—প্রকৃত গাছ জৈব পচনশীল এবং পরিবেশে রাসায়নিক ক্ষতি করে না । কৃত্রিম গাছ পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক প্লাস্টিক (PVC) দিয়ে তৈরি, যা জৈব পচনশীল নয় এবং উৎপাদন ও পরিবহনে কার্বন ফুটপ্রিন্ট বাড়ায় । তবে কৃত্রিম ট্রি যদি ১০ বছরের বেশি ব্যবহার করা হয়, তবে এটি পরিবেশের জন্য ভালো হতে পারে। প্রকৃত গাছের চাষে জল, হার্বিসাইড এবং পেস্টিসাইড ব্যবহার স্থানীয় পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে ।
| ট্রির ধরন | সুবিধা | অসুবিধা |
| প্রকৃত গাছ | জৈব পচনশীল, প্রাকৃতিক গন্ধ | চাষে রাসায়নিক, পরিবহন খরচ |
| কৃত্রিম গাছ | পুনর্ব্যবহারযোগ্য, দীর্ঘস্থায়ী | প্লাস্টিক দূষণ, উৎপাদন কার্বন |
| ভাড়া/জীবন্ত গাছ | ব্যবহারের পর রোপণ | সীমিত প্রাপ্যতা |
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
ক্রিসমাসে মোড়ক কাগজ, প্লাস্টিক এবং খাবারের অপচয় বিশাল সমস্যা । যুক্তরাজ্যে ক্রিসমাসে ১০০ মিলিয়ন আবর্জনা ব্যাগ ল্যান্ডফিলে যায় । আনুমানিক ১৭৫ মিলিয়ন মিন্স পাইয়ের মধ্যে ৭৪ মিলিয়ন ফেলে দেওয়া হয় । লক্ষ লক্ষ পাউন্ডের খাবার অপচয় হয়, যা মিথেন গ্যাস নির্গমন বাড়ায় । পুনর্ব্যবহারযোগ্য মোড়ক কাগজ, কাপড়ের ব্যাগ বা “ফিউরোশিকি” (জাপানি কাপড় মোড়ক) ব্যবহার করা উচিত। খাবার পরিকল্পনা করে কেনা এবং অতিরিক্ত রান্না এড়ানো বর্জ্য কমায়। বাকি খাবার কম্পোস্টিং করা বা দাতব্য সংস্থায় দান করা পরিবেশবান্ধব।
গ্রীন ক্রিসমাস উদ্যোগ
টেকসই ক্রিসমাস উদযাপনের জন্য LED লাইট ব্যবহার করুন যা ৮০% কম বিদ্যুৎ খরচ করে । টাইমার ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় সময় লাইট বন্ধ রাখুন । স্থানীয় পণ্য কিনলে পরিবহন কার্বন কমে । সেকেন্ড-হ্যান্ড বা পুনর্ব্যবহৃত উপহার দেওয়া পরিবেশবান্ধব । অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক উপহার (কনসার্ট টিকিট, স্পা ভাউচার) বস্তুগত বর্জ্য কমায় । কার্বন অফসেট প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে ভ্রমণের প্রভাব ক্ষতিপূরণ করা যায়। ইকো-ফ্রেন্ডলি সাজসজ্জা যেমন কাঠের অলংকার, কাপড়ের মালা এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন ।
ক্রিসমাস সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণা
সাধারণ মিথ ও সত্য
মিথ ১: যিশু ২৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন
সত্য: বাইবেলে যিশুর প্রকৃত জন্ম তারিখ উল্লেখ নেই। ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন তিনি বসন্ত বা গ্রীষ্মে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । চার্চ ৪র্থ শতাব্দীতে পৌত্তলিক উৎসবের সাথে খাপ খাইয়ে ২৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে।
মিথ ২: সান্তা ক্লজ সত্যিকারের লাল পোশাক পরেন কোকা-কোলার কারণে
সত্য: সান্তার লাল পোশাক কোকা-কোলার আগে থেকেই ছিল। থমাস নাস্ট ১৮৬০-এর দশকে লাল পোশাকের সান্তা আঁকেন । তবে কোকা-কোলা ১৯৩০-এর দশকে এই ইমেজ জনপ্রিয় করে।
মিথ ৩: ক্রিসমাস ট্রি সবসময় খ্রিস্টান ঐতিহ্য ছিল
সত্য: ক্রিসমাস ট্রির উৎপত্তি পৌত্তলিক জার্মানিক ঐতিহ্যে, যা পরে খ্রিস্টান প্রতীকে রূপান্তরিত হয় ।
| মিথ | সত্য |
| যিশুর জন্ম ২৫ ডিসেম্বর | বাইবেলে তারিখ নেই, ৪র্থ শতকে নির্ধারিত |
| সান্তার লাল পোশাক কোকা-কোলার সৃষ্টি | ১৮৬০-এর দশকেই লাল পোশাক ছিল |
| সবসময় টার্কি খাওয়া হতো | ভিক্টোরিয়ান যুগের আগে গুজ বা হ্যাম |
ক্রিসমাস পরবর্তী ঐতিহ্য
বক্সিং ডে
২৬ ডিসেম্বর বক্সিং ডে যুক্তরাজ্য এবং কমনওয়েলথ দেশগুলোতে পালিত হয়। নামের উৎপত্তি ভিক্টোরিয়ান যুগে—ধনী পরিবারগুলো তাদের কর্মচারীদের “ক্রিসমাস বক্স” বা উপহারের বাক্স দিতেন পরের দিন। চার্চগুলো দরিদ্রদের জন্য দান বাক্স খুলত। আধুনিক যুগে বক্সিং ডে শপিংয়ের বড় দিন, ক্রিসমাসের পর বিশাল ছাড়। ব্রিটেনে ফুটবল ম্যাচ এবং কানাডায় হকি খেলা ঐতিহ্যবাহী। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ক্রিকেট এই দিনে শুরু হয়। অনেক পরিবার এই দিনে বাকি খাবার দিয়ে আরেকটি ভোজ করে।
দ্বাদশ রাত্রি
ক্রিসমাস সিজন আসলে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে, যা “এপিফানি” বা “থ্রি কিংস ডে” নামে পরিচিত। এই দিনটি তিন জ্ঞানী ব্যক্তির যিশুকে দেখা এবং উপহার দেওয়ার ঘটনা স্মরণ করে। ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে “দ্বাদশ রাত্রি” বা “Twelve Days of Christmas” বলা হয়। অনেক দেশে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্রিসমাস সাজসজ্জা রাখা হয়। স্পেন এবং লাতিন আমেরিকায় এই দিনে শিশুরা উপহার পায়। ইংল্যান্ডে ঐতিহ্যগতভাবে এই দিনে ক্রিসমাস ট্রি নামানো হয় এবং নতুন বছরের প্রস্তুতি শুরু হয়।
শেষ কথা
ক্রিসমাস ২০২৫ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা, ঐক্য এবং সহমর্মিতার প্রতীক । প্রাচীন রোমান সাটার্নালিয়া থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজিটাল উদযাপন পর্যন্ত, ক্রিসমাসের যাত্রা মানব সভ্যতার সাংস্কৃতিক বিবর্তনের আয়না । যিশু খ্রিস্টের জন্ম উদযাপন এর কেন্দ্রবিন্দু হলেও, এই উৎসব এখন সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ—দানশীলতা, পারিবারিক বন্ধন এবং শান্তির বার্তা—বহন করে। ক্রিসমাস ২০২৫ বৃহস্পতিবার পড়ায় পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে ।
বিশ্বের প্রতিটি কোণে—ইউরোপের ক্রিসমাস মার্কেট থেকে ফিলিপাইন্সের সিম্বাং গাবি, অস্ট্রেলিয়ার সৈকত উদযাপন থেকে বাংলাদেশের চার্চ সেবা—ক্রিসমাস স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে অনন্য রূপ ধারণ করেছে । আধুনিক যুগে বাণিজ্যিকীকরণের সমালোচনা থাকলেও, ক্রিসমাসের মূল বার্তা—ভালোবাসা এবং দয়া—অপরিবর্তিত রয়েছে । পরিবেশ সচেতন উদযাপন, টেকসই পণ্য ব্যবহার এবং দাতব্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা ক্রিসমাস ২০২৫ কে আরো অর্থবহ করে তুলতে পারি । এই উৎসব আমাদের মানবিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার এক অনন্য সুযোগ দেয়, যা আগামী প্রজন্মের জন্য স্মৃতি এবং ঐতিহ্য তৈরি করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
ক্রিসমাস ২০২৫ কত তারিখে?
ক্রিসমাস ২০২৫ সাল ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার পালিত হবে । এটি খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব যা যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপনে প্রতি বছর এই তারিখে পালন করা হয়। বৃহস্পতিবার পড়ায় অনেকে দীর্ঘ সপ্তাহান্ত উপভোগ করতে পারবেন।
ক্রিসমাস কেন ২৫ ডিসেম্বর পালন করা হয়?
বাইবেলে যিশুর প্রকৃত জন্ম তারিখ উল্লেখ নেই । ৪র্থ শতাব্দীতে রোমান চার্চ ২৫ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করে, যা ছিল রোমান শীতকালীন সোলস্টিস উৎসবের সময় । এটি পৌত্তলিক ঐতিহ্যকে খ্রিস্টান উৎসবে রূপান্তরের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল, যা খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সহায়ক হয়েছিল।
বাংলাদেশে ক্রিসমাস কীভাবে পালন করা হয়?
বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় চার্চে মধ্যরাত্রি মাস, প্রার্থনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রিসমাস পালন করে। ঢাকার তেজগাঁও চার্চ, চট্টগ্রামের জুবিলি চার্চ এবং অন্যান্য শহরের চার্চগুলোতে বিশেষ আয়োজন করা হয়। ক্যারল গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক সমাবেশ অন্তর্ভুক্ত। অমুসলিম অনেকে এই উৎসবের সামাজিক দিকগুলো উপভোগ করেন এবং সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়।
সান্তা ক্লজ কে এবং এর উৎপত্তি কোথা থেকে?
সান্তা ক্লজ চরিত্রটি ৪র্থ শতাব্দীর তুরস্কের সেন্ট নিকোলাস থেকে অনুপ্রাণিত । তিনি দরিদ্রদের গোপনে উপহার দিতেন এবং তার দানশীলতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন । ডাচ অভিবাসীরা আমেরিকায় “Sinterklaas” ঐতিহ্য নিয়ে আসে, যা পরে “Santa Claus” এ রূপান্তরিত হয় । ১৯ শতকে আমেরিকান লেখক ও শিল্পীরা আধুনিক সান্তার চেহারা তৈরি করেন ।
ক্রিসমাস ট্রির তাৎপর্য কী?
ক্রিসমাস ট্রি চিরসবুজ জীবন এবং আশার প্রতীক । এর উৎপত্তি ১৬ শতকের জার্মানিতে, যেখানে মানুষ চিরসবুজ গাছ ঘরে সাজাতো শীতের অন্ধকারে আশার আলো হিসেবে। খ্রিস্টানরা এটিকে যিশু খ্রিস্টের চিরন্তন জীবনের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখেন। গাছের আলো খ্রিস্টের আলোর প্রতীক এবং ত্রিভুজাকার আকৃতি ত্রিত্ববাদের প্রতিনিধিত্ব করে।
ক্রিসমাসে উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য কীভাবে শুরু হয়েছিল?
বাইবেলে তিন জ্ঞানী ব্যক্তি শিশু যিশুকে সোনা, লোবান এবং গন্ধরস উপহার দিয়েছিলেন। এই ঘটনা থেকে উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য শুরু। সেন্ট নিকোলাসের গোপন দানশীলতাও এই ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করেছে । আধুনিক যুগে এটি ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে বন্ধন শক্তিশালী করে।
ক্রিসমাস কি শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের উৎসব?
মূলত ক্রিসমাস খ্রিস্টধর্মের ধর্মীয় উৎসব । তবে বিশ্বায়নের যুগে এটি একটি সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে । জাপান, চীন এবং ভারতের মতো অনেক অ-খ্রিস্টান দেশেও এর সামাজিক ও বাণিজ্যিক দিকগুলো উদযাপিত হয়। ক্রিসমাসের সর্বজনীন বার্তা—শান্তি, ভালোবাসা এবং পারিবারিক মিলন—ধর্মীয় সীমা অতিক্রম করেছে।
পরিবেশবান্ধব ক্রিসমাস উদযাপনের উপায় কী?
LED লাইট ব্যবহার করুন যা কম বিদ্যুৎ খরচ করে । পুনর্ব্যবহারযোগ্য মোড়ক কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন । স্থানীয় পণ্য কিনুন যা পরিবহন কার্বন কমায়। খাবারের অপচয় রোধ করুন এবং বাকি খাবার কম্পোস্ট করুন । সেকেন্ড-হ্যান্ড বা অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক উপহার দিন । প্রকৃত ট্রি ব্যবহার করলে তা পরে কম্পোস্ট করুন, বা জীবন্ত ট্রি ভাড়া নিন যা পরে রোপণ করা যায় ।


