ক্লাউড কম্পিউটিং ক্যারিয়ারের প্রারম্ভিক পদগুলো কী

সর্বাধিক আলোচিত

ক্লাউড কম্পিউটিং শেখার সময় এডব্লিউএস, অ্যাজুর বা গুগল ক্লাউডের বিভিন্ন সেবা নিয়ে পড়াশোনা করা তুলনামূলক সহজ। ঝামেলা শুরু হয় চাকরি খুঁজতে গিয়ে। একই ধরনের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে, কিন্তু পদের নাম আলাদা—ক্লাউড সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েট, জুনিয়র ক্লাউড অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ক্লাউড অপারেশনস, জুনিয়র ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, কখনো আবার জুনিয়র ডেভঅপস।

কোনটি আসলে প্রারম্ভিক পদ? কোনটির জন্য প্রোগ্রামিং বেশি দরকার? আর সনদ আগে নেবেন, নাকি প্রকল্প তৈরি করবেন? ক্লাউড ক্যারিয়ারের পথ বুঝতে হলে প্রথমেই চাকরির নাম থেকে একটু দূরে সরে আসতে হবে। পদের নাম প্রতিষ্ঠানভেদে বদলায়। কাজটি কী, সেটিই আসল।

কারও নেটওয়ার্কিং ভালো, কেউ লিনাক্সে স্বচ্ছন্দ, কেউ প্রোগ্রামিং থেকে আসছেন। সবার জন্য একই প্রথম চাকরি তাই যুক্তিযুক্ত নয়।

চাকরির নাম দেখে খুব বেশি কিছু ধরে নেবেন না

“জুনিয়র” বা “প্রারম্ভিক” লেখা দেখেই ধরে নেওয়া যায় না যে পদটি একেবারে নতুনদের জন্য তৈরি।

একই ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার পদে একটি প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল মেশিন, স্টোরেজ আর মৌলিক নেটওয়ার্কিংয়ের কাজ দিতে পারে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে একই নামের চাকরিতে স্ক্রিপ্টিং, সফটওয়্যার স্থাপন, সিআই/সিডি এমনকি কনটেইনার নিয়েও কাজ থাকতে পারে।

আবেদনের সময় তাই তিনটি বিষয় আগে দেখুন—কাজের দায়িত্ব, আবশ্যিক যোগ্যতা এবং কোন দক্ষতাগুলো শুধু অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই জায়গাটি পরিষ্কার হলে ক্লাউড ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি কমে যায়।

আরও পড়ুন: কোন Career আপনার জন্য মানানসই: আগ্রহ, দক্ষতা ও জীবনযাপন মিলিয়ে দেখুন

সমস্যা খুঁজে বের করতে ভালো লাগলে ক্লাউড সাপোর্ট দিয়ে শুরু করা যায়

সমস্যা খুঁজে বের করতে ভালো লাগলে ক্লাউড সাপোর্ট দিয়ে শুরু করা যায়

ক্লাউড সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েট বা ক্লাউড সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারের কাজে প্রযুক্তি জানার পাশাপাশি একটি বিষয় খুব দরকার—কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি ধাপে ধাপে বের করতে পারা।

ধরুন সার্ভার চালু আছে, অথচ ডোমেইন দিয়ে ওয়েবসাইট খুলছে না।

নতুন কেউ হয়তো প্রথমেই সার্ভার পুনরায় চালু করবেন। একজন দক্ষ সাপোর্ট প্রকৌশলী বরং সমস্যাটিকে ভাগ করবেন। ডিএনএস ঠিক আছে? প্রয়োজনীয় পোর্ট খোলা? নেটওয়ার্কের পথ ঠিক? লোড ব্যালান্সার সাড়া দিচ্ছে? সার্ভারের ভেতরের সেবা চলছে?

এভাবে চিন্তা করাটাই সাপোর্ট কাজের বড় অংশ।

এডব্লিউএসের বর্তমান ক্লাউড সাপোর্ট চাকরির একটি বিজ্ঞাপনে লিনাক্স বা উইন্ডোজ সিস্টেম প্রশাসনের পাশাপাশি এইচটিটিপি/এস, টিসিপি/আইপি, ডিএনএস, রাউটিং, সুইচিং এবং ফায়ারওয়াল সম্পর্কে জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সমস্যা বুঝে সমাধান করা এবং পরিষ্কারভাবে যোগাযোগ করাও সেখানে কাজের অংশ।

তাই আগে সহায়তা কেন্দ্র, কারিগরি সহায়তা, নেটওয়ার্কিং বা সিস্টেম প্রশাসনে কিছু কাজ করে থাকলে ক্লাউড সাপোর্ট আপনার জন্য বেশ স্বাভাবিক রূপান্তরের পথ হতে পারে। শুধু এডব্লিউএসের নিয়ন্ত্রণপ্যানেল ব্যবহার করতে জানা এখানে খুব বেশি দূর নিয়ে যাবে না। সমস্যা শনাক্ত করার দক্ষতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সার্ভার আর অবকাঠামো নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগলে প্রশাসন বা অপারেশনস দেখুন

জুনিয়র ক্লাউড অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং ক্লাউড অপারেশনসের মধ্যে অনেক জায়গায় কাজের মিল থাকে।

প্রশাসনের কাজে সাধারণত ভার্চুয়াল মেশিন, স্টোরেজ, নেটওয়ার্ক, ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার এবং রিসোর্স কনফিগারেশনের কাজ বেশি দেখা যায়। অপারেশনসে নজর কিছুটা বেশি থাকে চলমান সিস্টেমের দিকে—পর্যবেক্ষণ, সতর্কবার্তা, লগ, ব্যাকআপ, পুনরুদ্ধার ও কর্মক্ষমতা।

মাইক্রোসফটের অ্যাজুর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ভূমিকার বিবরণে ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক, স্টোরেজ, কম্পিউট, পরিচয় ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও পরিচালন নীতি রয়েছে। অপারেটিং সিস্টেম, নেটওয়ার্কিং, সার্ভার ও ভার্চুয়ালাইজেশন সম্পর্কেও ধারণা থাকা এই কাজের ভিত্তির অংশ।

কাগজে এগুলো পড়লে সহজ লাগে। বাস্তবে পার্থক্যটা বোঝা যায় যখন নিজে কাজ করতে শুরু করবেন। একটি ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করুন। আলাদা ব্যবহারকারীকে অনুমতি দিন। নেটওয়ার্কের নিয়ম বদলান। পর্যবেক্ষণ চালু করুন। তারপর দেখুন কোনো কনফিগারেশন ভুল হলে কীভাবে সেটি খুঁজে বের করছেন।

লিনাক্স বা উইন্ডোজ সার্ভার আগে থেকে জানা থাকলে এখানে সুবিধা হবে। ক্লাউড পরিবেশ পুরোপুরি নতুন মনে হবে না, তবে নিয়ন্ত্রণপ্যানেলের পাশাপাশি কমান্ড-লাইন ইন্টারফেস, এপিআই এবং পরে কোডের মাধ্যমে অবকাঠামো পরিচালনার পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে।

ক্লাউড অপারেশনস সনদ নিয়ে একটি বিষয় জানা দরকার

এডব্লিউএসের এডব্লিউএস সার্টিফায়েড ক্লাউডঅপস ইঞ্জিনিয়ার – অ্যাসোসিয়েট আগে এডব্লিউএস সার্টিফায়েড সিসঅপস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর – অ্যাসোসিয়েট নামে পরিচিত ছিল।

বর্তমান এসওএ-সি০৩ পরীক্ষায় পর্যবেক্ষণ, কাজের পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণ, নেটওয়ার্কিং, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ, পুনরুদ্ধার ও কর্মক্ষমতা-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। এডব্লিউএস যে প্রার্থীর ধরন উল্লেখ করেছে, সেখানে প্রায় ১ বছরের এডব্লিউএস কাজের পরিবেশ স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতা ধরা হয়েছে।

তাই ক্লাউড শেখা শুরু করেই এই পরীক্ষায় বসা দরকার—এমন ভাবার কারণ নেই। আগে পর্যবেক্ষণ, লগ, সতর্কবার্তা, ব্যাকআপ ও সমস্যা শনাক্তকরণ নিয়ে কয়েকটি বাস্তব অনুশীলন করলে পরীক্ষাটিও বেশি অর্থবহ হবে।

“জুনিয়র ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার” নামটি একটু বেশি অস্পষ্ট

এই পদটির দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি বদলাতে দেখা যায়। কোথাও মূল কাজ কম্পিউট রিসোর্স তৈরি, স্টোরেজ ও নেটওয়ার্কিং কনফিগার করা। কোথাও আইএএম, সফটওয়্যার স্থাপন, পর্যবেক্ষণ বা স্ক্রিপ্টিংও যুক্ত থাকে।

গুগলের অ্যাসোসিয়েট ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার ভূমিকার বিবরণে ক্লাউড পরিবেশ তৈরি, সমাধান বাস্তবায়ন, চলমান কার্যক্রম বজায় রাখা এবং প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা কনফিগার করার দক্ষতা রয়েছে। এখানে নিয়ন্ত্রণপ্যানেল দিয়ে শুরু করা স্বাভাবিক। কিন্তু কিছুদিন পর কমান্ড-লাইন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

একই কনফিগারেশন দ্বিতীয়বার তৈরি করতে গেলে তখন বোঝা যায় কেন কমান্ড-লাইন, স্ক্রিপ্ট বা কোডের মাধ্যমে অবকাঠামো তৈরির পদ্ধতি দরকার। নতুনদের সবচেয়ে পরিচিত ভুলটিও এখানেই ঘটে। একটি চাকরির বিজ্ঞাপনে টেরাফর্ম, কুবারনেটিস, ডকার, পাইথন, সিআই/সিডি আর তিনটি ক্লাউড সেবাদাতার নাম দেখে সব একসঙ্গে শেখা শুরু করা হয়।

এতে সাধারণত শেখার তালিকা বড় হয়, দক্ষতা ততটা গভীর হয় না। একটি ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম আগে ঠিক করুন। কম্পিউট, স্টোরেজ, নেটওয়ার্কিং, পরিচয় ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণের কাজ নিজে করুন। এরপর যে চাকরির দিকে যাচ্ছেন, তার প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন দক্ষতা যোগ করুন।

ডেভঅপসে যেতে চাইলে “জুনিয়র” শব্দটিকে খুব বিশ্বাস করবেন না

জুনিয়র ডেভঅপস পদের কোনো একক সংজ্ঞা নেই। কোনো প্রতিষ্ঠানে গিট, মৌলিক সফটওয়্যার স্থাপন এবং স্ক্রিপ্টিং জানা থাকলেই আবেদন করা যায়। আবার অন্য জায়গায় লিনাক্স, ক্লাউড অবকাঠামো, সিআই/সিডি, কনটেইনার এবং আগের অপারেশনস অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়।

এ কারণে ডেভঅপসের পেশাদার-স্তরের সনদ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করার পরিকল্পনাও সব সময় যুক্তিযুক্ত নয়। গুগল তার প্রফেশনাল ক্লাউড ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ার সনদের জন্য ৩ বছরের বেশি শিল্পখাতের অভিজ্ঞতা সুপারিশ করে, যার মধ্যে অন্তত ১ বছর গুগল ক্লাউডের উৎপাদন পরিবেশ নকশা ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছে।

এডব্লিউএস সার্টিফায়েড ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ার – প্রফেশনাল-এর ক্ষেত্রেও এডব্লিউএস ২ বা তার বেশি বছরের এডব্লিউএস পরিবেশ প্রস্তুত, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতা সুপারিশ করে।

নতুন হলে গিট, সফটওয়্যার স্থাপনের ধাপ, মৌলিক স্ক্রিপ্টিং, ক্লাউডের ভিত্তি এবং সিআই/সিডির ধারণা আগে পরিষ্কার করুন। কনটেইনার বা কোডের মাধ্যমে অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা পরে শেখা যাবে।

এখানে বেশি টুল জানা নয়, একটি সফটওয়্যার কীভাবে পরীক্ষার পরিবেশ থেকে চালু ব্যবস্থায় পৌঁছায়—সেই পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারাই ভালো শুরু।

ক্লাউড নিরাপত্তায় আগ্রহ থাকলে আইএএম এড়িয়ে যাবেন না

ক্লাউড সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার সব প্রতিষ্ঠানে প্রারম্ভিক পদ নয়, আবার কোথাও জুনিয়র সুযোগ একেবারেই নেই—এ কথাও ঠিক নয়। অভিজ্ঞতার শর্ত চাকরিভেদে বদলায়।

তবে নিরাপত্তার দিকে যেতে চাইলে পরিচয় ও প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে বোঝা দরকার। ব্যবহারকারী, ভূমিকা, অনুমতি, সাময়িক পরিচয়পত্র, বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই এবং ন্যূনতম অনুমতির নীতি—এসব ক্লাউড নিরাপত্তার খুব মৌলিক বিষয়।

ন্যূনতম অনুমতির ধারণাটি কঠিন নয়। যে ব্যবহারকারী বা কাজের পরিবেশের যতটুকু প্রবেশাধিকার প্রয়োজন, তাকে তার বেশি অনুমতি না দেওয়া। এডব্লিউএসের আইএএম নিরাপত্তা নির্দেশনায় বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই, সাময়িক পরিচয়পত্র এবং ন্যূনতম অনুমতির নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আইএএম বা প্রবেশাধিকার প্রশাসনকেন্দ্রিক কোনো জুনিয়র পদ পাওয়া গেলে সেখান থেকে নিরাপত্তাভিত্তিক দক্ষতা তৈরি করা যায়। কিন্তু “ক্লাউড সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার” নাম দেখেই প্রারম্ভিক পদ ধরে আবেদন করলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সঙ্গে মিলবে না।

প্রথম চাকরির জন্য কোন দক্ষতাগুলো আগে শিখবেন?

প্রথম চাকরির জন্য কোন দক্ষতাগুলো আগে শিখবেন?

এখানে বিশাল তালিকা বানানোর দরকার নেই। নেটওয়ার্কিং ঠিকমতো না বুঝলে ক্লাউড সাপোর্ট, প্রশাসন বা অপারেশনস—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা হবে। আইপি ঠিকানা, সাবনেট, ডিএনএস, টিসিপি/আইপি, রাউটিং, ফায়ারওয়াল এবং এইচটিটিপি/এইচটিটিপিএস নিয়ে মৌলিক সমস্যা শনাক্ত করতে পারা দরকার।

লিনাক্স অথবা উইন্ডোজে ফাইলের অনুমতি, চলমান প্রক্রিয়া, সেবা, ব্যবহারকারী এবং লগ কোথায় পাওয়া যায়, সেটিও জানতে হবে। এরপর একটি ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম নিন। এডব্লিউএস হলে কিছুদিন এডব্লিউএসেই থাকুন। অ্যাজুর নিলে অ্যাজুর। প্রথম সপ্তাহেই দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্ম শেখার কোনো দরকার নেই।

কম্পিউট চালু করুন। স্টোরেজ ব্যবহার করুন। নেটওয়ার্ক তৈরি করুন। ব্যবহারকারীর অনুমতি দিন। পর্যবেক্ষণ দেখুন। এরপর কমান্ড-লাইন যোগ করুন।

ব্যাশ, পাওয়ারশেল অথবা পাইথন—যেটি আপনার পরিবেশের সঙ্গে বেশি মানায়, সেটি দিয়ে বারবার করতে হয় এমন ছোট কাজ স্বয়ংক্রিয় করার চেষ্টা করুন। আর শুরু থেকেই গিট ব্যবহার করুন। শুধু প্রোগ্রাম নয়, কনফিগারেশন, স্ক্রিপ্ট এবং প্রকল্পের নথিও সংস্করণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রাখুন।

সনদ নাকি প্রকল্প—কোনটি আগে?

এই প্রশ্নের এক লাইনের উত্তর হলে বলা যায়: শুধু সনদ সংগ্রহ করার জন্য সনদ নেবেন না। এডব্লিউএস শিখতে একেবারে নতুন হলে এডব্লিউএস সার্টিফায়েড ক্লাউড প্র্যাকটিশনার ভিত্তিমূলক সূচনা হতে পারে। আগে তথ্যপ্রযুক্তি বা ক্লাউডে কাজের অভিজ্ঞতা নেই—এমন পেশা পরিবর্তনকারীদের জন্যও এডব্লিউএস এটিকে উপযুক্ত সূচনা হিসেবে রাখে।

অ্যাজুরের এজেড-৯০০: অ্যাজুর ফান্ডামেন্টালস প্রাথমিক স্তরের সনদ। এতে ক্লাউড ধারণা এবং অ্যাজুরের মূল কাঠামো, সেবা ও পরিচালন নীতি রয়েছে।

কিন্তু অ্যাজুর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হতে চাইলে পরে এজেড-১০৪: অ্যাজুর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অ্যাসোসিয়েট বেশি প্রাসঙ্গিক। এটি মধ্যবর্তী স্তরের সনদ।

গুগল ক্লাউডের অ্যাসোসিয়েট ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার পরীক্ষায় আনুষ্ঠানিক পূর্বশর্ত নেই। তবে গুগল পরীক্ষার আগে ৬ মাসের বেশি হাতে-কলমে গুগল ক্লাউড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সুপারিশ করে। এই তথ্যগুলো থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—সনদের স্তর এবং আপনার বাস্তব দক্ষতা একই জিনিস নয়। তাই আগে লক্ষ্য পদ ঠিক করুন। তারপর দেখুন সনদটি সেই পদের জন্য সত্যিই প্রয়োজনীয় বা উপকারী কি না।

কাজের নমুনায় কী রাখবেন?

ক্লাউডে নিজের কাজ দেখাতে বিশাল প্রকল্প দরকার নেই। একটি লিনাক্স ভার্চুয়াল মেশিন দিয়েই ভালো অনুশীলন শুরু করা যায়। সেখানে ওয়েব সার্ভার চালান। নেটওয়ার্কের প্রবেশাধিকার ঠিক করুন। ডিএনএস যুক্ত করুন। পর্যবেক্ষণ চালু করুন।

তারপর ইচ্ছা করে কিছু একটি ভুল করুন।

একটি পোর্ট বন্ধ করে দিন। ভুল কনফিগারেশন দিন। কোনো সেবা বন্ধ করুন।

এরপর লগ দেখে সমস্যা খুঁজুন।

প্রকল্পের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ অনেক সময় চূড়ান্ত ছবি নয়; কী সমস্যা হয়েছিল এবং আপনি কীভাবে সেটি বের করেছিলেন—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি প্রকল্পে অবজেক্ট স্টোরেজ এবং প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করতে পারেন। কে ফাইল দেখতে পারছে, অনুমতি বদলালে কী হচ্ছে—এসব নথিভুক্ত করুন।

অপারেশনসের দিকে গেলে সতর্কবার্তা ও ব্যাকআপ যোগ করুন। ডেভঅপসের দিকে যেতে চাইলে পরে একই অবকাঠামো স্ক্রিপ্ট বা কোডের মাধ্যমে আবার তৈরি করুন। এগুলো চাকরির শর্টকাট নয়। কিন্তু সাক্ষাৎকারে “এডব্লিউএস জানি” বলার চেয়ে দেখানোর মতো কিছু থাকবে।

নিজের জন্য পদ বাছার সহজ উপায়

নেটওয়ার্কিং আর সমস্যা শনাক্ত করতে ভালো লাগে?

ক্লাউড সাপোর্টের বিজ্ঞাপন দিয়ে শুরু করুন।

সার্ভার, ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার, পর্যবেক্ষণ এবং অবকাঠামো নিয়ে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ?

ক্লাউড প্রশাসন বা ক্লাউড অপারেশনস দেখুন।

প্রোগ্রামিং, গিট এবং সফটওয়্যার স্থাপন আগে থেকে পরিচিত?

জুনিয়র ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার বা জুনিয়র ডেভঅপসের চাকরির বিবরণ পড়ুন।

তারপর একটি কাজ করুন, যা অনেকেই করেন না—একই ধরনের ১০–১৫টি সাম্প্রতিক চাকরির বিজ্ঞাপন পাশাপাশি দেখুন।

কোন দক্ষতাটি বারবার আসছে, লিখে ফেলুন।

ডিএনএস আর লিনাক্স বারবার আসছে? সেটিই শেখার পরের বিষয়।

পরিচয় ব্যবস্থাপনা, ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কিং আর পর্যবেক্ষণ বেশি আসছে? প্রকল্পে সেগুলো যোগ করুন।

গিট, সিআই/সিডি আর কনটেইনার নিয়মিত দেখা যাচ্ছে? তখন এগুলো শেখার প্রয়োজন বাস্তব, শুধু জনপ্রিয় বলে নয়।

এইভাবে চাকরির বাজারকেই নিজের শেখার পাঠ্যক্রম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কোথা থেকে শুরু করবেন

ক্লাউড ক্যারিয়ারের পথ নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি তথ্যের অভাব নয়। শেখার মতো বিষয় এত বেশি যে নতুনরা কোনটি আগে করবে, সেটিই ঠিক করতে পারে না।

একটি পদ বেছে নিন।

একটি ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম নিন।

তারপর নেটওয়ার্কিং, অপারেটিং সিস্টেম এবং সেই প্ল্যাটফর্মের মূল সেবাগুলো নিয়ে কয়েকটি হাতে-কলমে প্রকল্প করুন। চাকরির বিজ্ঞাপন পড়ে পরের দক্ষতা ঠিক করুন। সনদ প্রয়োজন হলে নিন। শুধু জীবনবৃত্তান্তে আরেকটি ব্যাজ যোগ হবে বলে নেবেন না। ক্লাউডে প্রথম চাকরির জন্য সবকিছু জানা দরকার হয় না। কিন্তু যে পদে আবেদন করছেন, সেই কাজের মৌলিক অংশগুলো নিজে করতে পারা দরকার।

কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন

কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রি ছাড়া কি ক্লাউডে চাকরি পাওয়া যায়?

সব চাকরিতে কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। কিছু নিয়োগকর্তা সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি চায়, আবার কিছু পদে সমমানের বাস্তব অভিজ্ঞতা গ্রহণ করা হয়। নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনের যোগ্যতার শর্তই এখানে আসল।

প্রোগ্রামিং খুব ভালো না জানলে কি সমস্যা হবে?

পদের ওপর নির্ভর করে। ক্লাউড সাপোর্ট বা কিছু প্রশাসনিক পদে সফটওয়্যার উন্নয়ন পর্যায়ের প্রোগ্রামিং সাধারণত মূল কাজ নয়। তবে ব্যাশ, পাওয়ারশেল বা পাইথনের মৌলিক স্ক্রিপ্টিং জানলে সমস্যা শনাক্তকরণ ও স্বয়ংক্রিয়করণের কাজ সহজ হয়।

এডব্লিউএস, অ্যাজুর না গুগল ক্লাউড—প্রথমে কোনটি?

যে প্ল্যাটফর্ম আপনার লক্ষ্য চাকরির বিজ্ঞাপনে বেশি দেখা যাচ্ছে, সেটি দিয়ে শুরু করাই সবচেয়ে ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত। তিনটি একসঙ্গে শেখার প্রয়োজন নেই।

সনদ থাকলেই কি প্রারম্ভিক ক্লাউড চাকরির জন্য যথেষ্ট?

না। সনদ জ্ঞান গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে, কিন্তু হাতে-কলমে অনুশীলন, সমস্যা শনাক্ত করার দক্ষতা এবং নিজের প্রকল্প ব্যাখ্যা করতে পারার ক্ষমতার বিকল্প নয়।

সর্বশেষ