বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাবা-মায়েদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সন্তানদের মোবাইল বা টিভির আসক্তি কমানো। স্কুল থেকে ফিরেই কার্টুন, খাওয়ার সময় ইউটিউব, আর ঘুমানোর আগে গেম খেলা—এ যেন এখন প্রতিটি ঘরের সাধারণ চিত্র। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রিন আসক্তি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই অভিভাবক হিসেবে বাচ্চাদের স্ক্রীন টাইম কমানোর কার্যকরী উপায় জানা এবং তা প্রয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শিশুদের চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, এমনকি কথা বলা শিখতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু হুট করেই কি সন্তানের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া সম্ভব? মোটেও না। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা এবং ধাপে ধাপে অভ্যাস পরিবর্তন। আজকের এই গাইডে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি আপনার সন্তানের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং তাদের একটি সুস্থ ও সুন্দর শৈশব উপহার দেবেন।
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম: শিশুদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব
কেন আমরা স্ক্রিন টাইম নিয়ে এত চিন্তিত? কারণ এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। শিশুরা যখন দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ট্যাবে মগ্ন থাকে, তখন তারা বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এটি কেবল তাদের চোখের ক্ষতি করে না, বরং মস্তিষ্কের গঠনেও প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত স্ক্রিন আসক্তি ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যা অনেকটা নেশার মতো কাজ করে। ফলে ফোন কেড়ে নিলে বাচ্চারা কান্নাকাটি বা চিৎকার শুরু করে।
শারীরিক দিক থেকে, এক জায়গায় বসে থাকার ফলে ওবেসিটি বা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। মানসিকভাবে, শিশুদের ধৈর্য কমে যায় এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া সামাজিক দক্ষতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় কারণ তারা মানুষের সাথে মেশার সুযোগ পায় না।
স্ক্রিন টাইমের নেতিবাচক প্রভাবসমূহ:
| প্রভাবের ক্ষেত্র | সম্ভাব্য সমস্যা | লক্ষণ |
|---|---|---|
| শারীরিক স্বাস্থ্য | চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, স্থূলতা। | চোখ দিয়ে পানি পড়া, ঘাড় ব্যথা, অলসতা। |
| মানসিক স্বাস্থ্য | উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগহীনতা। | ফোন না পেলে চিৎকার করা, অস্থিরতা। |
| সামাজিক দক্ষতা | মানুষের সাথে মিশতে না পারা, কথা বলায় দেরি। | চোখের দিকে তাকিয়ে কথা না বলা, একা থাকা। |
| ঘুমের ব্যাঘাত | অনিদ্রা, দেরিতে ঘুমানো। | সকালে ক্লান্ত বোধ করা, চোখের নিচে কালি। |
স্ক্রিন টাইম গাইডলাইন: কার জন্য কতটুকু?

সব বয়সের শিশুর জন্য স্ক্রিন টাইম এক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP) শিশুদের বয়সের ওপর ভিত্তি করে কিছু নির্দিষ্ট গাইডলাইন দিয়েছে। বাচ্চাদের স্ক্রীন টাইম কমানোর কার্যকরী উপায় প্রয়োগ করার আগে এই গাইডলাইনগুলো জানা জরুরি।
দেড় বা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ভিডিও চ্যাট ছাড়া অন্য কোনো স্ক্রিন টাইম একদমই উচিত নয়। দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা মানসম্মত অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে। আর স্কুলগামী শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে তাদের খেলাধুলা ও ঘুমের ক্ষতি না হয়।
বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম চার্ট:
| বয়স | দৈনিক অনুমোদিত সময় | বিশেষ পরামর্শ |
|---|---|---|
| ০ – ১৮ মাস | ০ মিনিট (ভিডিও কল ব্যতীত)। | মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য স্ক্রিন থেকে দূরে রাখুন। |
| ১৮ – ২৪ মাস | খুবই সীমিত। | শুধুমাত্র শিক্ষামূলক কন্টেন্ট, বাবা-মায়ের সাথে। |
| ২ – ৫ বছর | সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা। | কার্টুনের বদলে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বেছে নিন। |
| ৬+ বছর | ১.৫ – ২ ঘণ্টা (মনিটর করা)। | বিনোদনের চেয়ে শিক্ষামূলক ব্যবহারে জোর দিন। |
১. ঘরে ‘নো স্ক্রিন জোন’ তৈরি করা
শিশুদের অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য ঘরের পরিবেশ পরিবর্তন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি চান আপনার সন্তান স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুক, তবে ঘরের কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল বা টিভি নিষিদ্ধ করতে হবে। একে বলা হয় ‘নো স্ক্রিন জোন’।
ডাইনিং টেবিল, বেডরুম এবং পড়ার ঘরকে স্ক্রিন মুক্ত রাখুন। খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল দেখার অভ্যাস হজমে সমস্যা করে এবং পারিবারিক বন্ধন কমিয়ে দেয়। একইভাবে, শোবার ঘরে টিভি থাকলে বা ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার করলে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, যা গভীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
নো স্ক্রিন জোন বাস্তবায়ন টিপস:
| জোন/স্থান | নিয়ম | সুবিধা |
|---|---|---|
| ডাইনিং টেবিল | খাওয়ার সময় কোনো ডিভাইস নয়। | পরিবারের সবার সাথে কথা বলার সুযোগ বাড়ে। |
| বেডরুম | ঘুমের ১ ঘণ্টা আগে সব স্ক্রিন বন্ধ। | দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের মান ভালো হয়। |
| পড়ার টেবিল | পড়ার সময় ফোন অন্য রুমে রাখা। | মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং পড়া দ্রুত মনে থাকে। |
২. বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করা
শিশুরা কেন মোবাইলে আসক্ত হয়? কারণ তারা বোরিং ফিল করে বা তাদের কাছে অন্য কোনো বিনোদনের মাধ্যম নেই। তাই মোবাইল কেড়ে নেওয়ার আগে তাদের হাতে বিকল্প কিছু তুলে দিতে হবে। বাচ্চাদের স্ক্রীন টাইম কমানোর কার্যকরী উপায় হিসেবে এটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ।
তাদেরকে আর্ট পেপার, রঙ পেন্সিল, গল্পের বই, বা বিল্ডিং ব্লকস দিন। ইনডোর গেমস যেমন লুডু, দাবার মতো খেলায় উৎসাহিত করুন। এছাড়া বিকেলে বা ছুটির দিনে পার্কে নিয়ে যাওয়া বা সাইক্লিং করানো দারুণ বিকল্প। যখন তারা বাস্তব জগতের খেলায় আনন্দ পাবে, তখন ভার্চুয়াল জগতের প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে।
বিকল্প বিনোদনের তালিকা:
| ধরণ | উদাহরণ | উপকারিতা |
|---|---|---|
| সৃজনশীল কাজ | ছবি আঁকা, ক্লে মডেলিং, অরিগামি। | কল্পনাশক্তি ও হাতের দক্ষতা বাড়ায়। |
| শারীরিক খেলা | ফুটবল, ক্রিকেট, লুকোচুরি। | শারীরিক গঠন ও ইমিউনিটি শক্তিশালী করে। |
| পারিবারিক কাজ | বাগান করা, রান্নায় সাহায্য করা। | দায়িত্ববোধ শেখায় ও বন্ডিং ভালো হয়। |
৩. প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ (প্যারেন্টাল কন্ট্রোল)
প্রযুক্তির সমস্যা সমাধানের জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া একটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত। বর্তমানে স্মার্টফোন এবং অ্যাপগুলোতে বিল্ট-ইন ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ ফিচার থাকে। এর মাধ্যমে আপনি নির্ধারণ করে দিতে পারেন আপনার সন্তান দিনে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করবে এবং কী কী দেখবে।
গুগলের ‘Family Link’ অ্যাপটি এক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। এর মাধ্যমে আপনি সন্তানের ফোনের স্ক্রিন টাইম লিমিট সেট করতে পারেন, নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্লক করতে পারেন এবং তারা কী দেখছে তা মনিটর করতে পারেন। ইউটিউব কিডস (YouTube Kids) অ্যাপ ব্যবহার করুন, যেখানে শুধুমাত্র শিশুদের উপযোগী কন্টেন্ট থাকে।
জনপ্রিয় প্যারেন্টাল কন্ট্রোল টুলস:
| টুলের নাম | কাজ | প্ল্যাটফর্ম |
|---|---|---|
| Google Family Link | সময়সীমা নির্ধারণ ও অ্যাপ লক। | অ্যান্ড্রয়েড |
| Apple Screen Time | অ্যাপ লিমিট ও ডাউনটাইম সেট করা। | আইওএস (iOS) |
| YouTube Kids | নিরাপদ ভিডিও ফিল্টারিং। | সব প্ল্যাটফর্ম |
৪. বাবা-মাকে রোল মডেল হতে হবে
শিশুরা শুনে যতটা শেখে, তার চেয়ে বেশি শেখে দেখে। আপনি যদি সারাদিন ফেসবুকে স্ক্রল করেন বা অফিসের মেইল চেক করেন, তবে আপনার সন্তানও মনে করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বাচ্চাদের স্ক্রীন টাইম কমানোর কার্যকরী উপায় খুঁজতে হলে আগে নিজের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে।
অফিস থেকে ফিরে মোবাইলটি দূরে সরিয়ে রাখুন। সন্তানের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। ছুটির দিনে মুভি দেখার বদলে সবাই মিলে ঘুরতে যান বা বোর্ড গেম খেলুন। যখন সন্তান দেখবে বাবা-মা অবসর সময়ে বই পড়ছে বা গল্প করছে, তখন তারাও সেই অভ্যাস রপ্ত করবে।
প্যারেন্টাল রোল মডেলিং চেকলিস্ট:
| কি করবেন? | কি করবেন না? |
|---|---|
| বই পড়া বা খবরের কাগজ পড়া। | খাওয়ার সময় মোবাইল ব্যবহার করা। |
| সন্তানের সাথে সরাসরি খেলা। | বাচ্চার সাথে কথা বলার সময় ফোনের দিকে তাকানো। |
| নির্দিষ্ট সময়ে ফোন চেক করা। | ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে ফোন টেপা। |
৫. ২০-২০-২০ নিয়ম শেখানো
অনলাইন ক্লাস বা জরুরি কারণে যদি স্ক্রিন ব্যবহার করতেই হয়, তবে চোখের সুরক্ষার জন্য ‘২০-২০-২০’ নিয়মটি মেনে চলা উচিত। এটি চোখের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মাথাব্যথা প্রতিরোধ করে।
নিয়মটি খুব সহজ: প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর, অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে। এছাড়া স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা ঘরের আলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এবং ব্লু-লাইট ফিল্টার ব্যবহার করা জরুরি।
চোখের সুরক্ষায় করণীয়:
| পদক্ষেপ | বিবরণ | ফলাফল |
|---|---|---|
| বিরতি নেওয়া | প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ড বিরতি। | চোখের পেশি শিথিল থাকে। |
| পলক ফেলা | ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা। | চোখ শুষ্ক হওয়া রোধ করে। |
| দূরত্ব বজায় রাখা | স্ক্রিন থেকে ১৮-২৪ ইঞ্চি দূরত্ব। | চোখের ওপর চাপ কম পড়ে। |
৬. সন্তানদের সাথে যোগাযোগ ও আলোচনা

জোর করে বা বকাঝকা করে কোনো অভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন। বরং সন্তানের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। তাদের বুঝিয়ে বলুন কেন অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ক্ষতিকর। তাদের বয়স অনুযায়ী উদাহরণ দিন।
যেমন, তাদের বলতে পারেন, “বেশি ফোন দেখলে তোমার চোখ ব্যথা করবে, তখন তুমি আর সুন্দর ছবি আঁকতে পারবে না।” অথবা “আমরা যদি এখন ফোন রেখে খেলি, তবে অনেক বেশি মজা হবে।” যখন তারা বুঝতে পারবে যে আপনি তাদের মঙ্গলের জন্যই বলছেন, তখন তারা নিয়মগুলো মানতে আগ্রহী হবে।
ইতিবাচক যোগাযোগের উপায়:
| যা বলা উচিত নয় | যা বলা উচিত |
|---|---|
| “ফোনটা এখনই রাখ, নইলে মার দেব!” | “এসো, আমরা এখন ফোন রেখে লুডু খেলি।” |
| “তুমি সবসময় মোবাইলে থাকো।” | “আজ আমরা অনেকক্ষণ মোবাইল দেখেছি, এখন বিরতির সময়।” |
| “তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।” | “তুমি তো খুব সুন্দর ছবি আঁকতে পারো, চল আঁকি।” |
৭. একঘেয়েমি বা বোরডমকে স্বাগত জানানো
অনেক অভিভাবক মনে করেন সন্তান যেন কখনোই বোরড না হয়, তাই ব্যস্ত রাখতে হাতে ফোন তুলে দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের জন্য মাঝে মাঝে ‘বোর’ হওয়া ভালো। কারণ এই একঘেয়েমি থেকেই তাদের সৃজনশীলতা জন্ম নেয়।
যখন হাতের কাছে কোনো বিনোদন থাকে না, তখন শিশুরা নিজেই খেলার নতুন উপায় খুঁজে বের করে। তারা হয়তো বালিশ দিয়ে ঘর বানাবে, অথবা পুতুল দিয়ে গল্প তৈরি করবে। তাই সন্তান যদি বলে “আমার ভালো লাগছে না”, তবে সাথে সাথে ফোন না দিয়ে তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি ব্যবহার করতে দিন।
বোরডমের ইতিবাচক দিক:
| বিষয় | ফলাফল |
|---|---|
| সৃজনশীলতা বৃদ্ধি | নতুন খেলার আইডিয়া তৈরি হয়। |
| আত্মনির্ভরশীলতা | একা সময় কাটানো শেখে। |
| সমস্যা সমাধান | নিজের বিনোদন নিজে খুঁজে নেয়। |
৮. রুটিন তৈরি ও পুরস্কার ব্যবস্থা
শিশুদের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন যেখানে পড়া, খেলা, খাওয়া এবং ঘুমের সময় নির্দিষ্ট থাকবে। এই রুটিনের মধ্যে অল্প কিছু সময় ‘স্ক্রিন টাইম’ হিসেবে রাখুন। যখন সবকিছু নিয়মমাফিক হবে, তখন তারা অহেতুক ফোনের জন্য বায়না করবে না।
এছাড়া ভালো আচরণের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখতে পারেন। যেমন—যদি সে সারাদিন ফোন না ধরে থাকে, তবে বিকেলে তার পছন্দের নাস্তা বানিয়ে দেওয়া বা তার পছন্দের পার্কে নিয়ে যাওয়া। একে ‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট’ বলা হয়।
দৈনিক রুটিনের উদাহরণ:
| সময় | কার্যকলাপ |
|---|---|
| সকাল | ঘুম থেকে ওঠা, নাস্তা, স্কুল/পড়া। |
| দুপুর | গোসল, খাওয়া, বিশ্রাম (নো স্ক্রিন)। |
| বিকেল | আউটডোর খেলা বা সৃজনশীল কাজ। |
| সন্ধ্যা | পড়ালেখা, পরিবারের সাথে সময়। |
| রাত | ডিনার, বই পড়া, ঘুম (নো স্ক্রিন)। |
৯. ডিজিটাল লিটারেসি বা সচেতনতা
একটু বড় বয়সের শিশুদের (যেমন ৭+ বছর) ডিজিটাল লিটারেসি শেখানো জরুরি। ইন্টারনেটে কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ, সেটা তাদের বোঝাতে হবে। শিক্ষামূলক ভিডিও, ডকুমেন্টারি বা কুইজ গেমসের মাধ্যমে তাদের স্ক্রিন টাইমকে প্রোডাক্টিভ বা কার্যকরী করা যায়।
মনে রাখবেন, সব স্ক্রিন টাইম খারাপ নয়। যদি তারা টিভিতে ‘সিসিমপুর’ দেখে বা ইউটিউবে ‘বিজ্ঞান বিষয়ক’ ভিডিও দেখে কিছু শেখে, তবে তা ‘প্যাসিভ’ বিনোদনের চেয়ে অনেক ভালো। তবে এক্ষেত্রেও সময়সীমা মেনে চলা আবশ্যক।
শেষ কথা
সন্তানকে ডিজিটাল আসক্তি থেকে মুক্ত রাখা একদিনের কাজ নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। বাচ্চাদের স্ক্রীন টাইম কমানোর কার্যকরী উপায় গুলো ধৈর্য ধরে নিয়মিত মেনে চললে ধীরে ধীরে সুফল পাওয়া যাবে। মনে রাখবেন, প্রযুক্তির কাজ আমাদের জীবনকে সুন্দর করা, নিয়ন্ত্রণ করা নয়।
আপনার সন্তানের হাতে স্মার্টফোনের বদলে তুলে দিন বই, বল বা রঙ পেন্সিল। তাদের সাথে কোয়ালিটি সময় কাটান। আপনার একটু সচেতনতাই পারে সন্তানকে একটি সুস্থ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত শৈশব উপহার দিতে। আজ থেকেই শুরু হোক ডিজিটাল ডিটক্সের বা প্রযুক্তিমুক্ত সময়ের চর্চা।


