২০২৬ সালের প্রথম দিনে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সোনার দাম কমানো হলেও ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ২,২৬,৯২৩ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি সোনার দামের ওঠানামা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালে ৯১ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং মাত্র ২৭ বার হ্রাস করা হয়েছে। বর্তমানে ক্রেতাদের বিক্রয়মূল্যের সাথে ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬% মেকিং চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সোনার বর্তমান দাম: বিস্তারিত তালিকা
ভরি অনুযায়ী সোনার দাম
বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণের প্রধান একক হলো ভরি। ১ ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম। বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম নিম্নরূপ:
| স্বর্ণের ক্যারেট | প্রতি ভরি দাম (টাকা) | প্রতি গ্রাম দাম (টাকা) | গতকালের তুলনায় পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,২৬,৯২৩ | ১৯,৪৫৬ | -২,৫০৮ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,১৮,৯৯২ | ১৮,৭৭৬ | -২,৩৯৬ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৮৭,৭৩২ | ১৬,০৯৩ | -২,০৫৩ টাকা |
| ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি | ১,৫৬,৫৩১ | ১৩,৪২০ | -১,৭১১ টাকা |
এই দামগুলো স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রাম অনুযায়ী সোনার দাম বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম গ্রাম হিসেবে হিসাব করা হলেও বাংলাদেশে ভরি হিসেব বেশি প্রচলিত। তবে ছোট পরিমাণ সোনা কেনার জন্য গ্রাম হিসেবে দাম জানা গুরুত্বপূর্ণ। ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনার প্রতি গ্রাম দাম বর্তমানে প্রায় ১৫,৭৬৮ টাকা থেকে শুরু হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট গোল্ড প্রাইসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশে ১ ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম হিসেবে গণনা করা হয়, যা মূলত ভারতীয় তোলা পদ্ধতির সাথে সমতুল্য।
আনা ও রতি হিসেবে সোনার দাম
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালঙ্কার বাজারে আনা ও রতি হিসেব এখনও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পরিমাপের এই পদ্ধতি বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় এবং পুরাতন স্বর্ণকারদের মধ্যে জনপ্রিয়।
| পরিমাপ একক | গ্রামে রূপান্তর | ২২ ক্যারেট দাম (টাকা) | ২১ ক্যারেট দাম (টাকা) |
|---|---|---|---|
| ১ ভরি | ১১.৬৬৪ গ্রাম | ২,২৬,৯২৩ | ২,১৮,৯৯২ |
| ১ আনা (১/১৬ ভরি) | ০.৭২৯ গ্রাম | ১৪,১৮৩ | ১৩,৬৮৭ |
| ১ রতি | ০.১৮২ গ্রাম | ৩,৫৪১ | ৩,৪১৮ |
| ১০ গ্রাম | ১০.০০০ গ্রাম | ১,৯৪,৫৬০ | ১,৮৭,৭৬০ |
এই হিসাব অনুযায়ী, ১ ভরি = ১৬ আনা এবং ১ আনা = ৪ রতি। অনেক ক্রেতা বিশেষত বিবাহ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য সোনা কেনার সময় এই ঐতিহ্যবাহী পরিমাপ ব্যবহার করে থাকেন।
রুপার বর্তমান বাজার দাম
রুপার মূল্য তালিকা
সোনার পাশাপাশি রুপার চাহিদাও বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য। রুপা সাধারণত সাশ্রয়ী মূল্যে অলঙ্কার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বিনিয়োগের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।
| পরিমাপ একক | রুপার দাম (টাকা) | সাপ্তাহিক পরিবর্তন |
|---|---|---|
| প্রতি গ্রাম | ২৯৪ | +১০.৮৩ টাকা (+৩.৮৩%) |
| প্রতি ভরি (১১.৬৬ৄ গ্রাম) | ৩,৪৩০ | +১২৬.৩৫ টাকা |
| প্রতি কিলোগ্রাম | ২,৯৪,৩৩৩ | +১০,৮৩০ টাকা |
| প্রতি তোলা | ৩,৪৩০ | +১২৬.৩৫ টাকা |
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে রুপার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ যেখানে প্রতি কিলোগ্রাম রুপার দাম ছিল ২,২৬,১১৩ টাকা, সেখানে ৩০ ডিসেম্বর তা বেড়ে ২,৯৪,৩৩৩ টাকায় পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক রুপার বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
রুপার বিনিয়োগ সুবিধা
রুপা সোনার তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য একটি ভালো বিনিয়োগ বিকল্প। রূপার গহনা, বার এবং কয়েন সহজলভ্য এবং প্রয়োজনে তাড়াতাড়ি নগদে রূপান্তর করা যায়। বাংলাদেশে রুপার চাহিদা বিশেষত ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে এবং উৎসবের সময় বৃদ্ধি পায়।
সোনার দাম বৃদ্ধির কারণ ও বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
২০২৫ সালে বাংলাদেশে সোনার দাম রেকর্ড ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যা দেশের স্বর্ণ বাজারের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের মূল্য প্রতি আউন্স ২,৬০০ থেকে ২,৭০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে উঠানামা করছে, যা ঐতিহাসিক উচ্চতার কাছাকাছি। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কেন্দ্রীয় বৃহৎ দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সোনার মজুদ বৃদ্ধি এই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
বাংলাদেশ তার সোনার চাহিদার প্রায় সম্পূর্ণটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়ে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশী টাকার বিনিময় হার দুর্বল হওয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দামে প্রতিফলিত হয়েছে।
স্থানীয় বাজারের চাহিদা-সরবরাহ
বাংলাদেশে বিয়ে, ঈদ এবং অন্যান্য উৎসবের সময় সোনার চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২৫-২৬ সালের বিয়ের মৌসুমে সোনার চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, যা দাম বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। এছাড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন, যা চাহিদা আরও বাড়িয়েছে।
তেজাবি সোনার (বিশুদ্ধ সোনা) স্থানীয় বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় এবং আমদানি প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজুস নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করে এবং তেজাবি সোনার দামের ভিত্তিতে খুচরা দাম নির্ধারণ করে থাকে।
সোনা ক্রয়ে সতর্কতা ও পরামর্শ
খাঁটি সোনা নিশ্চিতকরণ
সোনা কেনার সময় হলমার্ক এবং বিডিএস (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস) সার্টিফিকেট আছে কিনা তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলমার্ক থাকলে সোনার বিশুদ্ধতা এবং ওজনের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সাল থেকে হলমার্ক বাধ্যতামূলক করেছে, তবে এখনও অনেক দোকানে হলমার্কবিহীন সোনা পাওয়া যায়।
কেনার সময় ক্যারেট নিশ্চিত করুন – ২২ ক্যারেট অলঙ্কারের জন্য আদর্শ, যেখানে ২৪ ক্যারেট বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। ১৮ ক্যারেট সোনা আধুনিক ডিজাইনের গহনার জন্য ব্যবহৃত হয় কারণ এতে অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণ বেশি থাকায় এটি বেশি শক্ত ও টেকসই। দাম তুলনা করার সময় মেকিং চার্জ, ভ্যাট এবং অন্যান্য লুকানো খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিন।
মেকিং চার্জ এবং অতিরিক্ত খরচ
বাজুস কর্তৃক ঘোষিত দামের সাথে মেকিং চার্জ যুক্ত হয়, যা ডিজাইনের জটিলতা অনুসারে ৬% থেকে ২৫% পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ ডিজাইনের গহনায় মেকিং চার্জ কম হয়, কিন্তু জটিল এবং আধুনিক ডিজাইনে এটি বেশি হয়। এছাড়া সরকারি ৫% ভ্যাট বাধ্যতামূলক, যা মোট বিলে যুক্ত হয়।
সোনা বিক্রয়ের সময় মেকিং চার্জ এবং ভ্যাট ফেরত পাওয়া যায় না, শুধুমাত্র সোনার ওজন অনুযায়ী দাম পাওয়া যায়। তাই বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনলে সোনার বার বা কয়েন কেনা বেশি লাভজনক, যেখানে মেকিং চার্জ অনেক কম বা একেবারেই থাকে না।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা ও বিশেষজ্ঞ মতামত
২০২৬ সালে সোনার দামের সম্ভাব্য গতিপথ
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে সোনার দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সোনার দামকে প্রভাবিত করবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, সোনার দাম প্রতি আউন্স ৩,০০০ মার্কিন ডলার স্পর্শ করতে পারে, যা বাংলাদেশে আরও মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
তবে স্বল্পমেয়াদে দাম কিছুটা স্থিতিশীল বা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, বিশেষত যদি মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয় বা আন্তর্জাতিক বাজারে সংশোধন আসে। বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আশা করছেন যে নতুন বছরের প্রথম কোয়ার্টারে দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে স্বল্পমেয়াদী লাভের আশায় সোনায় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে কারণ দামের ওঠানামা অনিশ্চিত। পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণের অংশ হিসেবে মোট বিনিয়োগের ১০-১৫% সোনায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
সোনা কেনার সেরা সময় হলো যখন দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং চাহিদা কম থাকে। উৎসব ও বিয়ের মৌসুমের বাইরে দাম সাধারণত কিছুটা কম থাকে। নিয়মিত ছোট পরিমাণে সোনা কিনলে গড় খরচ কম রাখা সম্ভব এবং বাজারের ওঠানামার ঝুঁকি কমে।
সোনা ও রুপা ক্রয়ের জন্য বিশ্বস্ত উৎস
বাজুস অনুমোদিত দোকান
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর সদস্য দোকানগুলো থেকে সোনা কেনা সবচেয়ে নিরাপদ। বাজুসের প্রায় ৫০,০০০ সদস্য রয়েছে যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করে। এই দোকানগুলো বাজুস নির্ধারিত দাম মেনে চলে এবং হলমার্কযুক্ত সোনা বিক্রয় করে।
ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, চাঁদনী চক এবং নিউমার্কেটে বড় এবং বিশ্বস্ত স্বর্ণালঙ্কারের দোকান রয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী এবং খুলনার প্রধান শপিং মলগুলোতেও বিশ্বস্ত ডিলার পাওয়া যায়। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পরিচিত এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে কিনুন।
রসিদ ও গ্যারান্টি সংরক্ষণ
সোনা কেনার সময় অবশ্যই সঠিক রসিদ নিন যেখানে ওজন, ক্যারেট, মেকিং চার্জ, ভ্যাট এবং মোট মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। হলমার্ক সার্টিফিকেট এবং গ্যারান্টি কার্ড সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে বিক্রয় বা বিনিময়ের সময় এই নথিপত্র প্রয়োজন হবে।
অনেক দোকান বাইব্যাক গ্যারান্টি দেয়, যেখানে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সোনা ফেরত দিতে পারবেন এবং প্রায় পূর্ণ মূল্য ফেরত পাবেন। এই সুবিধা থাকলে তা রসিদে উল্লেখ আছে কিনা নিশ্চিত করুন। ডিজিটাল পেমেন্ট করলে তার প্রমাণও সংরক্ষণ করুন কারণ এটি করদাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সোনা ও রুপার ট্যাক্স ও আইনি বিষয়
আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট
বাংলাদেশে সোনা আমদানিতে শুল্ক এবং অন্যান্য কর আরোপিত হয়, যা চূড়ান্ত মূল্যে প্রভাব ফেলে। বৈধভাবে আমদানিকৃত সোনার উপর নির্ধারিত শুল্ক প্রদান করতে হয়। খুচরা বিক্রয়ে ৫% ভ্যাট বাধ্যতামূলক, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক নির্ধারিত।
২০২৩ সাল থেকে নতুন ট্যাক্স বিধি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা বৈধভাবে আনা যায়। তবে বাণিজ্যিক আমদানির জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন এবং সকল শুল্ক পরিশোধ বাধ্যতামূলক। অবৈধভাবে সোনা আমদানি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
সোনা ও রুপার সাথে বিনিয়োগ বিকল্প তুলনা
বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ঐতিহ্যগতভাবে জনপ্রিয় হলেও অন্যান্য বিকল্পের সাথে তুলনা করা গুরুত্বপূর্ণ। স্থাবর সম্পত্তি, শেয়ার বাজার, সেভিংস সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক ডিপোজিট প্রতিটিরই নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। সোনার প্রধান সুবিধা হলো এর তরলতা – যেকোনো সময় দ্রুত নগদে রূপান্তর করা সম্ভব।
তবে সোনায় নিয়মিত আয় নেই, সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমেই শুধুমাত্র লাভ হয়। বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৈরি করাই বুদ্ধিমানের কাজ, যেখানে সোনা ঝুঁকি হ্রাসের একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
শেষ কথা
২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশে সোনা ও রুপার দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায় অবস্থান করছে। ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি মূল্য ২,২৬,৯২৩ টাকা এবং রুপার প্রতি গ্রাম মূল্য ২৯৪ টাকা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধি এবং মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। ক্রেতাদের উচিত বাজুস অনুমোদিত দোকান থেকে হলমার্কযুক্ত সোনা কেনা, সঠিক রসিদ সংরক্ষণ করা এবং মেকিং চার্জ ও ভ্যাট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা এবং পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সোনার দামের প্রবণতা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দাম স্থিতিশীল থাকবে বা সামান্য বৃদ্ধি পাবে। সচেতন ক্রয় এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সোনা ও রুপায় বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে।


