বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সোনা শুধুমাত্র কোনো অলঙ্কার নয়, বরং এটি বিপদের বন্ধু এবং আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এর সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে যারা পত্রিকার পাতায় বা অনলাইনে সোনার দাম খুঁজছেন, তাদের জন্য খবরটি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS)-এর সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সোনার দামে আবারও এক বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের জেরে ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনার দাম এখন ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
আজকের এই দীর্ঘ এবং বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা শুধুমাত্র আজকের নির্ধারিত দামই জানাব না, বরং এর পেছনের কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, নতুন ব্যাগেজ রুলস ২০২৫ এবং সোনা কেনার সময় সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনার করণীয় কী—তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করব। আপনি যদি বিয়ের গয়না কেনার পরিকল্পনা করেন কিংবা প্রবাস থেকে সোনা নিয়ে আসার কথা ভাবেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জানা থাকা আবশ্যক।
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: আজকের সোনার বাজারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র
আজ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রোজ বৃহস্পতিবার। সপ্তাহের এই সময়ে সাধারণত বিয়ের কেনাকাটা বা শপিংয়ের ভিড় থাকে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS)-এর প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং স্ট্যান্ডিং কমিটি সম্প্রতি যে বৈঠক করেছে, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজকের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট (22K) ১ ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২,১৭,০৬৭ টাকা। মনে রাখবেন, এটি শুধুমাত্র সোনার বেস প্রাইস। এর সাথে ৫% সরকারি ভ্যাট এবং গয়না তৈরির মজুরি (Making Charge) যুক্ত করলে ১ ভরি গয়নার দাম প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
সোনার দামের বিস্তারিত তালিকা (Gold Price Per Bhori)
সোনার বিশুদ্ধতার মাপকাঠি হলো ক্যারেট। বাংলাদেশে সাধারণত ৪ ধরনের সোনা বিক্রি হয়। নিচে বাজুস নির্ধারিত আজকের অফিসিয়াল রেট চার্ট দেওয়া হলো।
| সোনার মান (Quality) | বিশুদ্ধতা | আজকের দাম (টাকা/ভরি) | গত দিনের দাম | পরিবর্তন | মন্তব্য |
| ২২ ক্যারেট (Hallmarked) | ৯১.৬% | ৳ ২,১৭,০৬৭ | ৳ ২,১৫,৫৯৭ | ▲ বৃদ্ধি | বিয়ের গয়নার জন্য সেরা |
| ২১ ক্যারেট (Hallmarked) | ৮৭.৫% | ৳ ২,০৭,২১১ | ৳ ২,০৫,৮০০ | ▲ বৃদ্ধি | কিছুটা সাশ্রয়ী |
| ১৮ ক্যারেট (Hallmarked) | ৭৫.০% | ৳ ১,৭৭,৬৪৩ | ৳ ১,৭৬,৩৯৫ | ▲ বৃদ্ধি | ডায়মন্ড কাটিং গয়নার জন্য |
| সনাতন পদ্ধতি (Traditional) | অনির্দিষ্ট | ৳ ১,৪৭,৯০০ | ৳ ১,৪৬,৮৩৮ | ▲ বৃদ্ধি | পুরাতন স্বর্ণালঙ্কার |
বাজার বিশ্লেষণ: গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ ক্যারেট সোনায় প্রায় ১,৪৭০ টাকার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা ভেবেছিলেন দাম কমলে কিনবেন, তারা এখন নতুন করে বাজেট করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও প্রায় দেড় লাখ টাকার কাছে চলে যাওয়াটা নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য চিন্তার বিষয়।
গ্রাম, আনা এবং রতি অনুযায়ী সোনার নিখুঁত হিসাব
দোকানে গিয়ে যাতে আপনাকে বিভ্রান্ত হতে না হয়, তার জন্য আমরা ভরি-র পাশাপাশি গ্রাম, আনা এবং রতির হিসাবও তুলে ধরছি। বাংলাদেশে ১ ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম ধরা হয়। আবার ১৬ আনায় ১ ভরি এবং ৬ রতিতে ১ আনা হয়।
১. গ্রাম প্রতি সোনার দাম (Per Gram Price)
বর্তমানে অনেক আধুনিক জুয়েলারি শপ ভরি-র বদলে গ্রামে সোনা বিক্রি করে। বিশেষ করে লাইট ওয়েট বা হালকা ওজনের গয়নার জন্য গ্রামের হিসাবটি সুবিধাজনক।
-
২২ ক্যারেট ১ গ্রাম: ১৮,৬১০ টাকা
-
২১ ক্যারেট ১ গ্রাম: ১৭,৭৬৫ টাকা
-
১৮ ক্যারেট ১ গ্রাম: ১৫,২৩০ টাকা
-
সনাতন ১ গ্রাম: ১২,৬৮০ টাকা
২. আনা ও রতি অনুযায়ী সূক্ষ্ম হিসাব (Micro Calculations)
গ্রামের বা মফস্বলের স্বর্ণকাররা এখনও আনা-রতির হিসেবেই কাজ করেন। আপনার সুবিধার্থে ১৮ ডিসেম্বরের রেট অনুযায়ী কনভার্সন চার্ট নিচে দেওয়া হলো:
| একক (Unit) | ২২ ক্যারেট (টাকা) | ২১ ক্যারেট (টাকা) | ১৮ ক্যারেট (টাকা) | সনাতন (টাকা) |
| ১ আনা | ৳ ১৩,৫৬৬ | ৳ ১২,৯৫০ | ৳ ১১,১০২ | ৳ ৯,২৪৩ |
| ১ রতি | ৳ ২,২৬১ | ৳ ২,১৫৮ | ৳ ১,৮৫০ | ৳ ১,৫৪০ |
উদাহরণ: আপনি যদি নবজাতকের জন্য ২ আনার একটি ছোট চেইন বা আংটি বানাতে চান, তবে ২২ ক্যারেট সোনা দিয়ে শুধু মেটেরিয়ালের দাম পড়বে (২ x ১৩,৫৬৬) = ২৭,১৩২ টাকা। এর সাথে মজুরি যোগ হবে।
আজকের রুপোর বাজার দর (Silver Price Update)
সোনার দামের উর্ধ্বগতির কারণে অনেকেই এখন রুপোর গয়নার দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে গোল্ড প্লেটেড বা এন্টিক ডিজাইনের রুপোর গয়না এখন ফ্যাশনে ইন। বাজুস নির্ধারিত আজকের রুপোর দাম নিচে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, সোনার দাম ঘন ঘন পরিবর্তন হলেও রুপোর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।
| রুপোর মান (Category) | ভরি প্রতি দাম (টাকা) | গ্রাম প্রতি দাম (টাকা) | ব্যবহারের ক্ষেত্র |
| ২২ ক্যারেট (কদম) | ৳ ৪,২৪৬ | ৳ ৩৬৪ | ভালো মানের গয়না |
| ২১ ক্যারেট | ৳ ৪,০৪৭ | ৳ ৩৪৭ | সাধারণ ব্যবহার |
| ১৮ ক্যারেট | ৳ ৩,৪৭৬ | ৳ ২৯৮ | গিফট আইটেম |
| সনাতন (Traditional) | ৳ ২,৬০১ | ৳ ২২৩ | নূপুর, বিছা ইত্যাদি |
টিপস: রুপোর গয়না কেনার সময়ও হলমার্ক দেখে কেনা উচিত। ২২ ক্যারেট রুপো সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং টেকসই হয়।
কেন বাড়ছে সোনার দাম? বিশ্ববাজার ও অর্থনীতির গভীর বিশ্লেষণ
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সোনার দামের এই রেকর্ড ব্রেকিং অবস্থার পেছনে শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার দায়ী নয়। এর শেকড় আন্তর্জাতিক অর্থনীতির গভীরে প্রোথিত। আসুন জেনে নিই প্রধান ৫টি কারণ:
১. আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের উল্লম্ফন
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে (Spot Market) সোনার দাম প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) ৪৩০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা গত বছরের (২০২৪) তুলনায় প্রায় ৬০-৭০% বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) সুদের হার কমানোর বা স্থিতিশীল রাখার যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতে বিনিয়োগকারীরা ডলার ছেড়ে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
২. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা (Geopolitical Tension)
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধবিগ্রহ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বড় বড় দেশগুলো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (যেমন চীন, রাশিয়া, ভারত) তাদের রিজার্ভে ডলারের বদলে সোনা মজুদ করছে। একে বলা হয় “Safe Haven Asset” বা নিরাপদ বিনিয়োগ। যখনই বিশ্বে অস্থিরতা বাড়ে, তখনই সোনার দাম বাড়ে।
৩. টাকার অবমূল্যায়ন (Currency Devaluation)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বড় কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যদি ১% বাড়ে, আর টাকার মান যদি ডলারের বিপরীতে ২% কমে, তবে দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৩% বেড়ে যায়। বর্তমানে ১ ডলার কিনতে প্রায় ১২০-১২৫ টাকা (খোলা বাজারে আরও বেশি) খরচ করতে হচ্ছে, যা আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
৪. তেজাবী সোনার সংকট
বাজুস বারবার উল্লেখ করছে যে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনা বা পিওর গোল্ডের সরবরাহ কম। যখন চাহিদা বেশি থাকে কিন্তু জোগান কম থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়। এছাড়া বিদেশ থেকে সোনা আমদানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করায় ব্যাগেজ রুলের মাধ্যমে আসা সোনার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
৫. বিয়ের মৌসুমের চাহিদা
শীতকাল মানেই বাংলাদেশে বিয়ের ধুম। ডিসেম্বর মাসে সোনার গয়নার চাহিদা সারাবছরের তুলনায় তুঙ্গে থাকে। এই বাড়তি চাহিদাও দাম বাড়ার পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ হিসেবে কাজ করে।
ব্যাগেজ রুলস ২০২৫: বিদেশ থেকে সোনা আনার নতুন নিয়ম
অনেক প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফেরার সময় পরিবারের জন্য সোনা নিয়ে আসেন। কিন্তু ২০২৫ সালের নতুন ব্যাগেজ রুলসে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে যা না জানলে আপনি এয়ারপোর্টে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন।
১. ট্যাক্স ফ্রি গয়নার সীমা
একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম (প্রায় ৮.৫ ভরি) ওজনের সোনার গয়না কোনো প্রকার শুল্ক বা ট্যাক্স ছাড়াই আনতে পারবেন। তবে শর্ত হলো, একই ডিজাইনের গয়না ১২ পিসের বেশি হতে পারবে না।
২. সোনার বার (Gold Bar) আনার নিয়ম ও ট্যাক্স
আগে যাত্রীরা একাধিকবার সোনার বার আনতে পারতেন। কিন্তু ২০২৫-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
-
একজন যাত্রী বছরে মাত্র একবার সোনার বার আনতে পারবেন।
-
সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম বা ১০ ভরি ওজনের বার আনা যাবে।
-
এর জন্য নির্দিষ্ট শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। ২০২৫ সালের বাজেট অনুযায়ী ১১৭ গ্রাম সোনার বারের জন্য শুল্ক ৫০,১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (আগে যা ছিল ৪০,০০০ টাকা)।
-
২৪ ক্যারেটের নিচে কোনো বার আনা যাবে না এবং অবশ্যই বারের গায়ে খোদাই করা তথ্য থাকতে হবে।
সতর্কতা: ঘোষণা ছাড়া বা নির্ধারিত ওজনের বেশি সোনা আনলে তা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বাজেয়াপ্ত করতে পারে এবং চোরাচালান আইনের আওতায় মামলা হতে পারে।
সোনা কেনার সময় যেসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
এত উচ্চমূল্যে সোনা কেনার সময় সামান্য ভুলেও আপনার হাজার হাজার টাকা গচ্চা যেতে পারে। একজন সচেতন ক্রেতা হিসেবে নিচের চেকলিস্টটি মিলিয়ে নিন:
১. হলমার্ক (Hallmark) বা লেজার প্রিন্ট
সনাতন পদ্ধতির সোনা চেনার দিন শেষ। এখন বিএসটিআই অনুমোদিত হলমার্ক বা লেজার প্রিন্ট ছাড়া সোনা কিনবেন না। গয়নার ভেতরের অংশে আতশ কাঁচ দিয়ে দেখুন:
-
২২ ক্যারেটের জন্য 916 লেখা থাকবে।
-
২১ ক্যারেটের জন্য 875 লেখা থাকবে।
- ১৮ ক্যারেটের জন্য 750 লেখা থাকবে।দোকানদার যদি বলে “আমাদের সোনা মেশিনে টেস্ট করা”, তবুও হলমার্ক সিল ছাড়া কিনবেন না।
২. মেকিং চার্জ বা মজুরি নিয়ে দরদাম
বাজুস সোনার দাম নির্ধারণ করে দিলেও, মজুরি নির্ধারণ করে না। দোকান ও ডিজাইন ভেদে মজুরি ভরি প্রতি ৩,০০০ থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই মজুরি অংশটিতেই আপনি দরদাম বা বার্গেইন করতে পারেন। অনেক সময় দোকানদাররা মজুরিতে ছাড় দেন।
৩. পাথর বা পুঁতির ওজন বাদ দিন
অনেকে পাথবসানো গয়না কেনেন। মনে রাখবেন, সোনার দাম দিয়ে পাথর কিনবেন না। গয়না ওজন করার সময় পাথরের ওজন বাদ দিয়ে শুধু সোনার ওজন মেপে দাম নির্ধারণ করতে বলুন। বিক্রির সময় পাথরের কোনো দাম পাওয়া যায় না।
৪. পাকা মেমোর গুরুত্ব
হাতে লেখা সাধারণ স্লিপ নেবেন না। অবশ্যই দোকানের ছাপানো পাকা রসিদ বা মেমো নেবেন, যেখানে স্পষ্ট লেখা থাকবে:
-
সোনার ক্যারেট ও ওজন।
-
গয়নার বিবরণ।
-
মজুরি ও ভ্যাট আলাদাভাবে উল্লেখ।
-
ভবিষ্যতে ফেরত বা পরিবর্তনের শর্তাবলী।
নিজের গয়নার দাম নিজেই বের করুন (Calculation Guide)
দোকানদার ক্যালকুলেটরে কী টিপছে তা না দেখে নিজেই হিসাব করুন।
সূত্র: (সোনার দাম + মজুরি) + ৫% ভ্যাট = মোট দাম
উদাহরণ:
ধরুন, আপনি ১০ গ্রাম ওজনের একটি ২২ ক্যারেট গলার হার কিনবেন।
-
আজকের রেট অনুযায়ী ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনা = ১,৮৬,১০০ টাকা।
-
ধরলাম, মজুরি প্রতি গ্রামে ৫০০ টাকা করে ১০ গ্রামে = ৫,০০০ টাকা।
-
তাহলে ভ্যাট-পূর্ব দাম = ১,৮৬,১০০ + ৫,০০০ = ১,৯১,১০০ টাকা।
-
ভ্যাট (৫%) = ১,৯১,১০০ x ৫% = ৯,৫৫৫ টাকা।
-
আপনাকে দিতে হবে = ২,০০,৬৫৫ টাকা।
পুরাতন সোনা বদল বা বিক্রি (Exchange Policy)
আপনার ঘরে যদি পুরোনো দিনের গয়না থাকে এবং তা দিয়ে নতুন ডিজাইনের গয়না বানাতে চান, তবে কিছু লস বা ক্ষতি মেনে নিতে হবে।
-
এক্সচেঞ্জ (Exchange): পুরোনো সোনা দিয়ে নতুন সোনা নিলে সাধারণত ওজনের ওপর ১০% থেকে ১৫% বাদ দেওয়া হয়।
-
নগদ বিক্রি (Cash Sell): সোনা বিক্রি করে টাকা নিতে চাইলে ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত দাম কেটে রাখা হয়।
-
সনাতন সোনা: সনাতন পদ্ধতির সোনায় খাদ বেশি থাকে বলে এটি বদলানোর সময় ৩০-৪০% পর্যন্ত বাদ যেতে পারে।
টিপস: যে দোকান থেকে সোনা কিনেছেন, সেই দোকানেই ফেরত দিলে সাধারণত কর্তনের হার কিছুটা কম হয়। তাই রসিদটি যত্ন করে রাখুন।
আগামীর বাজার পূর্বাভাস: ২০২৬ সালে কি দাম কমবে?
অর্থনীতিবিদ এবং গোল্ড মার্কেট অ্যানালিস্টদের মতে, সহসা সোনার দাম কমার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বরং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সোনার দাম ভরি প্রতি আড়াই লাখ টাকা ছোঁয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এর কারণগুলো হলো:
-
বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকা।
-
ডলারের আধিপত্য কমা এবং বিকল্প মুদ্রা হিসেবে সোনার অবস্থান শক্ত হওয়া।
-
সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বাড়ানোর প্রতিযোগিতা।
তাই যদি আপনার হাতে অলস টাকা থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে সোনা বা গোল্ড বার কেনা এখনও লাভজনক। তবে স্বল্প সময়ের জন্য (যেমন ৬ মাস বা ১ বছর) বিনিয়োগ করলে মজুরি ও ভ্যাটের কারণে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
শেষ কথা ও পরামর্শ
পরিশেষে, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এর বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সোনার দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করছে। ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২,১৭,০৬৭ টাকা এবং রুপোর দাম ৪,২৪৬ টাকা ভরি—এই উচ্চমূল্যের বাজারে আবেগ দিয়ে নয়, বরং বুদ্ধি দিয়ে কেনাকাটা করতে হবে। বিয়ে বা অনুষ্ঠানের জন্য গয়না আবশ্যক হলে হালকা ওজনের (Light weight) ডিজাইনের দিকে ঝুঁকুন। বাজেট কম থাকলে ১৮ ক্যারেট বা ২১ ক্যারেট সোনা বেছে নিতে পারেন, যা দেখতে ২২ ক্যারেটের মতোই উজ্জ্বল কিন্তু দামে সাশ্রয়ী। আর বিনিয়োগের জন্য কিনলে অবশ্যই গয়নার বদলে গোল্ড বার বা কয়েন কিনুন, যাতে মজুরির টাকা বেঁচে যায়।
সোনার বাজারের প্রতি মুহূর্তের আপডেট, বাজুসের নতুন ঘোষণা এবং অর্থনীতি বিষয়ক সঠিক তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। আপনার কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।


