১৭ সেপ্টেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে – বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা, জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী

সর্বাধিক আলোচিত

ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টালে প্রতিটি দিনেরই নিজস্ব একটা গল্প থাকে, তবে ইতিহাসের পাতায় ১৭ই সেপ্টেম্বর দিনটি যেন একটু বেশিই ঘটনাবহুল। দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঐতিহাসিক সব চুক্তি, ভূ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় আধুনিক সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথে শিক্ষার অধিকার আদায়ের ছাত্র আন্দোলন—এই দিনটি বারবার নাগরিক স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে।

কম্পিউটারের আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমের জন্ম থেকে শুরু করে, লৌহ যবনিকার (Iron Curtain) আড়ালে ট্রেড ইউনিয়নের উত্থান, কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশে শিল্প ও সমাজ সংস্কারকদের জন্ম—১৭ই সেপ্টেম্বর যেন বিশ্বজুড়ে মানুষের ঘুরে দাঁড়ানো এবং বৌদ্ধিক বিকাশের এক দারুণ প্রতিচ্ছবি।

এক নজরে: ১৭ই সেপ্টেম্বরের ঐতিহাসিক মাইলফলক

সাল ঘটনা অঞ্চল / বিষয় ঐতিহাসিক তাৎপর্য
১৭৮৭ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান স্বাক্ষর ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ৩৯ জন প্রতিনিধি আধুনিক সাংবিধানিক শাসনের এই ভিত্তিপ্রস্তরে স্বাক্ষর করেন।
১৮৬২ অ্যান্টিটামের যুদ্ধ মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার সামরিক ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন; এর পরপরই লিংকন ‘মুক্তির ঘোষণাপত্র’ (Emancipation Proclamation) জারি করেন।
১৯৩৯ পোল্যান্ডে সোভিয়েত আগ্রাসন পূর্ব ইউরোপ মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তির গোপন শর্ত মেনে সোভিয়েত বাহিনী পূর্ব দিক থেকে পোল্যান্ডে প্রবেশ করে।
১৯৪৮ অপারেশন পোলোর সমাপ্তি হায়দ্রাবাদ, ভারত সামরিক হস্তক্ষেপের পর দেশীয় রাজ্য হায়দ্রাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হয়।
১৯৬২ শিক্ষা দিবস আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) স্বৈরাচারী শরীফ কমিশনের বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিরোধ।
১৯৭৪ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ নিউইয়র্ক / বিশ্ব বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
১৯৭৮ ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৮০ সলিডারিটি (Solidarność) প্রতিষ্ঠা গডানস্ক, পোল্যান্ড ওয়ারশ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশে প্রথমবারের মতো স্বাধীন ও অ-কমিউনিস্ট ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়।
১৯৯১ লিনাক্স কার্নেল ০.০১ প্রকাশ হেলসিংকি, ফিনল্যান্ড লিনাস টরভ্যাল্ডস ওপেন-সোর্স লিনাক্স কার্নেলের প্রাথমিক সংস্করণ প্রকাশ করেন।
২০১১ অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট শুরু নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদ বিশ্বব্যাপী এক আর্থ-সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দেয়।

বাঙালি বলয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আদর্শিক পটপরিবর্তনে ১৭ই সেপ্টেম্বর দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ এবং ভারত—উভয় দেশেই দিনটি উপনিবেশবিরোধী চেতনা, ভাষাতাত্ত্বিক মর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক দারুণ মিশেল।

১৯৬২: শিক্ষা দিবস (বাংলাদেশ)

১৯৬২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ঢাকার রাজপথ সাক্ষী হয়েছিল এক অভূতপূর্ব ছাত্র অভ্যুত্থানের, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের পথ প্রশস্ত করেছিল। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনকালে গঠিত ‘শরীফ কমিশন’-এর বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে আসে।

এই কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা, গরিব ও মেহনতি মানুষের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ করা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা নষ্ট করে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়া। সেদিন হাইকোর্ট ও কার্জন হল এলাকায় ছাত্রদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ এবং বাবুলসহ নাম না-জানা অনেকেই সেদিন শহীদ হন। ছাত্রদের এই আত্মত্যাগের মুখে স্বৈরাচারী সরকার শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষানীতি স্থগিত করতে বাধ্য হয়। সর্বজনীন শিক্ষার অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ের স্মরণে আজও বাংলাদেশে ১৭ই সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

১৯৭৪: জাতিসংঘে বাংলাদেশ

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেতে বাংলাদেশকে অনেক কূটনৈতিক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল, যার অন্যতম কারণ ছিল পাকিস্তানের প্ররোচনায় চীনের বারবার ভেটো প্রদান।

অবশেষে ১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ঠিক আট দিন পর, ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।

১৯৪৮: হায়দ্রাবাদের অন্তর্ভুক্তি (অপারেশন পোলো)

ভারতের মধ্যাঞ্চলে ১৯৪৮ সালের এই দিনে সমাপ্ত হয় ‘অপারেশন পোলো’। ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নির্দেশে শুরু হওয়া এই পাঁচ দিনের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হায়দ্রাবাদকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

হায়দ্রাবাদের নিজাম মীর ওসমান আলী খান মূলত স্বাধীন থাকতে বা পাকিস্তানে যোগ দিতে চেয়েছিলেন এবং তাঁর সশস্ত্র বাহিনী ‘রাজাকাররা’ সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার চালাচ্ছিল। ১৭ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজামের সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল সৈয়দ আহমেদ আল এদ্রুস আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে এই দিনটিকে আঞ্চলিকভাবে ‘তেলেঙ্গানা মুক্তি দিবস’ বা ‘তেলেঙ্গানা জাতীয় সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

সাংস্কৃতিক উৎসব: বিশ্বকর্মা পূজা

প্রতি বছর ১৭ই সেপ্টেম্বরের আশেপাশে (হিন্দু সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শেষে, সূর্যের কন্যা রাশিতে প্রবেশের সময়) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিশ্বকর্মা পূজা উদযাপিত হয়।

দেবশিল্পী ও শ্রেষ্ঠ কারিগর ভগবান বিশ্বকর্মার প্রতি উৎসর্গকৃত এই উৎসবটি বেশ অনন্য। কারণ এখানে মূলত কারখানা, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, ছাপাখানা এবং যানবাহনের পূজা করা হয়। শ্রমিক ও কারিগররা এদিন তাদের যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করে বিশ্রাম নেন এবং ঘুড়ি উড়িয়ে প্রযুক্তি, শ্রম ও সৃজনশীলতার প্রতি এক দারুণ সামষ্টিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আন্তর্জাতিক দিবস ও বৈশ্বিক ছুটি

আন্তর্জাতিক দিবস ও পালনীয়

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই দিনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালন করে:

  • বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস (WHO): ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে অবহেলাজনিত ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের সচেতন করাই এর মূল লক্ষ্য।

  • সংবিধান ও নাগরিকত্ব দিবস (যুক্তরাষ্ট্র): ১৭৮৭ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান স্বাক্ষরের ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিনটি পালিত হয়। এদিন আদালতগুলোতে গণ-নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাজার হাজার নতুন মার্কিন নাগরিককে স্বাগত জানানো হয়।

  • অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব দিবস: ২০০১ সালে প্রবর্তিত এই দিনে অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপন করে।

  • জাতীয় বীর দিবস (অ্যাঙ্গোলা): অ্যাঙ্গোলার প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং উপনিবেশবিরোধী বিপ্লবী নেতা ডা. আন্তোনিও আগোস্টিনহো নেতোর জন্মদিন (১৭ সেপ্টেম্বর ১৯২২) উপলক্ষে এই দিনটিতে সেখানে সরকারি ছুটি থাকে।

বিশ্ব ইতিহাসের পাতা থেকে

উপমহাদেশের বাইরেও ১৭ই সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মহাদেশে সামরিক সংঘাত, গণতান্ত্রিক সনদ এবং ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

যুক্তরাষ্ট্র

  • ১৭৮৭ – যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান স্বাক্ষর: ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভানিয়া স্টেট হাউসে জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে ৩৯ জন প্রতিনিধি কয়েক মাসের বিতর্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।

  • ১৮৬২ – অ্যান্টিটামের যুদ্ধ: আমেরিকান গৃহযুদ্ধের এই দিনে কনফেডারেট আর্মি এবং ইউনিয়ন ফোর্সের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। এক দিনেই প্রায় ২২,৭০০ সৈন্য হতাহত বা নিখোঁজ হয়। এই যুদ্ধের পরই আব্রাহাম লিংকন ক্রীতদাসদের মুক্তির ঘোষণাপত্র জারি করার রাজনৈতিক সুযোগ পান।

  • ২০১১ – অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট: কর্পোরেট লোভ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের জুকোটি পার্কে মানুষ জড়ো হয়। তাদের “We are the 99%” স্লোগানটি পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক আলোচনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।

ইউরোপ ও রাশিয়া

  • ১৯৩৯ – পোল্যান্ডে সোভিয়েত আগ্রাসন: নাৎসি জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের ঠিক ষোল দিন পর, সোভিয়েত লাল ফৌজ পূর্ব দিক থেকে পোল্যান্ডে আক্রমণ চালায়। মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তির গোপন শর্ত মেনে করা এই আক্রমণটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

  • ১৯৪৪ – অপারেশন মার্কেট গার্ডেন: পশ্চিমা মিত্রবাহিনী নেদারল্যান্ডসে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও জার্মানদের পাল্টা আক্রমণে এই অভিযান খুব একটা সফল হয়নি।

  • ১৯৮০ – সলিডারিটি (Solidarność) গঠন: পোল্যান্ডের গডানস্কে লেক ওয়ালেসার নেতৃত্বে তৈরি হয় স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন ‘সলিডারিটি’। এটি পরবর্তীতে পূর্ব ইউরোপে কমিউনিস্ট শাসনের পতনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

বিখ্যাত জন্ম ও মৃত্যু

এই দিনে এমন অনেক দার্শনিক, গণিতবিদ এবং শিল্পীর জন্ম ও মৃত্যু হয়েছে, যাদের কাজ আজও আমাদের পৃথিবীকে প্রভাবিত করে চলেছে।

বিখ্যাত জন্ম (১৭ই সেপ্টেম্বর)

নাম জন্মসাল জাতীয়তা পেশা / অবদান
বের্নহার্ট রিমান ১৮২৬ জার্মান বিখ্যাত গণিতবিদ; যাঁর জ্যামিতি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৭ ভারতীয় (বাঙালি) প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও ব্যঙ্গচিত্রী; ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলায় কিউবিজম-এর পথিকৃৎ।
পেরিয়ার ই. ভি. রামাসামি ১৮৭৯ ভারতীয় সমাজ সংস্কারক এবং রাজনীতিবিদ; আত্মমর্যাদা আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
এম. এফ. হুসেন ১৯১৫ ভারতীয় প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী; যাঁকে ‘ভারতের পিকাসো’ বলা হয়।
বিনয় মজুমদার ১৯৩৪ ভারতীয় (বাঙালি) সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বাঙালি কবি (ফিরে এসো, চাকা)।
নরেন্দ্র মোদী ১৯৫০ ভারতীয় ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী।
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ১৯৮৬ ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার; টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০-র বেশি উইকেট শিকারি স্পিনার।

বিখ্যাত মৃত্যু (১৭ই সেপ্টেম্বর)

নাম মৃত্যুসাল জাতীয়তা অবদান / ঐতিহাসিক কারণ
উইলিয়াম হেনরি ফক্স ট্যালবট ১৮৭৭ ব্রিটিশ উদ্ভাবক এবং ফটোগ্রাফির পথিকৃৎ; আধুনিক ফিল্মের পূর্বসূরি সল্টেড পেপার আবিষ্কার করেন।
কাউন্ট ফোলকে বার্নাডোট ১৯৪৮ সুইডিশ জাতিসংঘের শান্তি মধ্যস্থতাকারী; জেরুজালেমে আততায়ীর হাতে নিহত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে বাঁচিয়েছিলেন।
কার্ল পপার ১৯৯৪ অস্ট্রিয়ান-ব্রিটিশ বিজ্ঞানের দার্শনিক; উন্মুক্ত সমাজ এবং উদার গণতন্ত্রের প্রবক্তা।

“জানতেন কি?” (মজার কিছু তথ্য)

  • যে ব্যক্তি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্রাট ঘোষণা করেছিলেন: ১৮৫৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর, জশুয়া আব্রাহাম নর্টন নামের এক অদ্ভুত স্বভাবের ব্যক্তি সান ফ্রান্সিসকোর একটি পত্রিকার অফিসে গিয়ে নিজেকে “নর্টন-১, যুক্তরাষ্ট্রের সম্রাট” হিসেবে ঘোষণা করেন! মজার ব্যাপার হলো, মানুষ তাকে পাগল না ভেবে শহরের এক আইকনিক চরিত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

  • হ্যারিয়েট টাবম্যানের স্বাধীনতার পথে যাত্রা: ১৮৪৯ সালের এই দিনে হ্যারিয়েট টাবম্যান দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে প্রথমবার পালিয়ে যাওয়ার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে তিনি আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড ব্যবহার করে আরও বহু দাসকে মুক্ত করেছিলেন।

  • ওপেন-সোর্স লিনাক্স কার্নেল আপলোড: ১৯৯১ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর, লিনাস টরভ্যাল্ডস নামের ২১ বছর বয়সী এক ফিনিশ ছাত্র ইন্টারনেটে লিনাক্স কার্নেলের প্রথম ভার্সন (০.০১) প্রকাশ করেন। প্রায় ১০,০০০ লাইনের সেই কোডটিই আজকের আধুনিক ক্লাউড কম্পিউটিং এবং মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের (যেমন অ্যান্ড্রয়েড) মূল ভিত্তি!

শেষ কথা

১৭ই সেপ্টেম্বর সত্যিই মানব সভ্যতার এক অসাধারণ মোজাইক। এটি আমাদের দেখায় কীভাবে সাধারণ মানুষ, মেধাবী মন এবং সুসংগঠিত আন্দোলন ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে। ঢাকার রাজপথে শিক্ষার অধিকারের দাবি থেকে শুরু করে পোল্যান্ডের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াই—সবকিছুই প্রমাণ করে যে কোনো অর্জনের জন্যই সংগ্রাম প্রয়োজন। ১৭ই সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাবলি কেবল ইতিহাসের পাতা নয়, বরং এটি শাসন ও স্বাধীনতা, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক চলমান ভারসাম্য, যা আজও আমাদের পৃথিবীকে নতুন করে গড়ছে।

সর্বশেষ