২ সেপ্টেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে – বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা, জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী

সর্বাধিক আলোচিত

ইতিহাস খুব কম সময়ই সরলরেখায় চলে; বরং এটি এমন কিছু নির্দিষ্ট দিনের ওপর ভিত্তি করে বাঁক নেয়, যেদিন কোনো ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, বিপ্লবের সূচনা হয়, বড় কোনো বিপর্যয় শহরের চেহারা বদলে দেয়, কিংবা পৃথিবীতে কোনো অসাধারণ মানুষের আগমন বা প্রস্থান ঘটে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ২রা সেপ্টেম্বর ঠিক এমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

টোকিও উপসাগরে একটি যুদ্ধজাহাজের ডেক থেকে শুরু করে, যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছিল, কিংবা লন্ডনের একটি বেকারিতে জ্বলে ওঠা সেই স্ফুলিঙ্গ, যা একটি মধ্যযুগীয় রাজধানীকেই প্রায় মুছে দিয়েছিল—২রা সেপ্টেম্বর বারবার বিভিন্ন যুগের মধ্যে একটি বিভাজক রেখা হিসেবে কাজ করেছে। দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত—এই দিনটি অসংখ্য রাজনৈতিক মাইলফলক, সাংস্কৃতিক সম্পদ, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর অবিস্মরণীয় শিক্ষার সাক্ষী।

বাঙালি পরিমণ্ডল ও ভারতীয় উপমহাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে ২রা সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যিক শাসনের গোধূলিলগ্ন, স্বাধীনতার আশেপাশের তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা এবং উপমহাদেশের পারফর্মিং আর্টস, জনপ্রশাসন ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্মরণীয়।

  • ১৯৪৬ সালের ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: ১৯৪৬ সালের ২রা সেপ্টেম্বর ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, যা মূলত ব্রিটিশ রাজের অবসানের চূড়ান্ত ইঙ্গিত ছিল। ক্যাবিনেট মিশনের সুপারিশে গঠিত এই নির্বাহী পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন জওহরলাল নেহরু। ভয়াবহ সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি উপমহাদেশকে স্বায়ত্তশাসনের দিকে পরিচালিত করার বিশাল দায়িত্ব ছিল এই পরিষদের কাঁধে। এর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে মুসলিম লীগের “ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে”-র জেরে বাংলা ও পাঞ্জাবে যে ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই পরিষদই পরবর্তীতে গণপরিষদের ভিত্তি স্থাপন করে, যা স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনা করেছিল।

  • ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা: ১৯৭১ সালের ২রা সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়ায়। পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে ততদিনে লাখ লাখ বাঙালি শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে আশ্রয় নিয়েছে। এই দিন নয়াদিল্লি, ওয়াশিংটন, মস্কো এবং ঢাকার মধ্যে চালাচালি হওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক তারবার্তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, রণাঙ্গনে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা নদীমাতৃক অঞ্চলজুড়ে পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত হামলা চালায় এবং তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে দেয়। পাশাপাশি, প্রবাসী বাঙালি বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী ও কূটনীতিকরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে (মুজিবনগর সরকার) স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে জনমত গড়ে তোলার জোর প্রচেষ্টা চালান।

উপমহাদেশের বিশিষ্ট জন্ম ও মৃত্যু

  • পবন কল্যাণ (জন্ম ১৯৭১): অন্ধ্রপ্রদেশের চিরালায় কোনিদেলা কল্যাণ বাবু হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তেলেগু সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় ও ডায়নামিক তারকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ‘জনসেনা পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

  • ইশান্ত শর্মা (জন্ম ১৯৮৮): দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী এই দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার কপিল দেবের পর মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় পেসার হিসেবে ১০০টি টেস্ট ম্যাচ খেলার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। ৩০০টিরও বেশি টেস্ট উইকেট শিকার করে তিনি বিদেশের মাটিতে ভারতের পেস বোলিং বিপ্লবের অন্যতম কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন।

  • ওয়াই. এস. রাজশেখর রেড্ডি (মৃত্যু ২০০৯): ‘ওয়াইএসআর’ নামে সমধিক পরিচিত অন্ধ্রপ্রদেশের এই দুইবারের মুখ্যমন্ত্রী নাল্লামালা ফরেস্টের গভীর জঙ্গলে এক মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার শাসনামলে যুগান্তকারী গ্রামীণ স্বাস্থ্যবীমা এবং বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের কৃষি নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন।

  • সিদ্ধার্থ শুক্লা (মৃত্যু ২০২১): জনপ্রিয় মডেল, অভিনেতা এবং ‘বিগ বস ১৩’-এর বিজয়ী মাত্র ৪০ বছর বয়সে আকস্মিকভাবে মারা যান। তার এই অকাল প্রয়াণ আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ, কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য এবং সেলিব্রিটি কালচার নিয়ে ভারতজুড়ে গভীর আলোচনার জন্ম দেয়।

আন্তর্জাতিক দিবস ও জাতীয় ছুটি

আন্তর্জাতিক দিবস ও জাতীয় ছুটি

  • ভিয়েতনামের জাতীয় দিবস (Quốc khánh): ২রা সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে বিপ্লবী নেতা হো চি মিন হ্যানয়ের বা দিন স্কয়ারে জড়ো হওয়া লাখ লাখ জনতার সামনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং ‘ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব ভিয়েতনাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং ফ্রান্সের মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন।

  • জাপানের ওপর বিজয় (V-J) দিবস: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশ কয়েকটি মিত্র দেশে ২রা সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভি-জে ডে বা ‘ভিক্টরি ওভার জাপান ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। যদিও আগস্টের ১৪/১৫ তারিখে জাপান আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, কিন্তু ২রা সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বৈশ্বিক শত্রুতার চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

  • বিশ্ব নারকেল দিবস: জাকার্তাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কোকোনাট কমিউনিটি (আইসিসি) দ্বারা প্রবর্তিত এই দিনটি নারকেল গাছের (যাকে ‘ট্রি অফ লাইফ’ বলা হয়) আর্থসামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এই দিনটি ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিনিয়োগ, প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি এবং টেকসই কৃষি-বনায়নের প্রসারে পালিত হয়।

বৈশ্বিক ইতিহাস: যুগান্তকারী পরিবর্তনসমূহ

  • প্রাচীন ইতিহাস – অ্যাক্টিয়ামের যুদ্ধ (৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ): গ্রিসের পশ্চিম উপকূলে অক্টাভিয়ানের নৌবহর এবং মার্ক অ্যান্টনি ও মিশরের রানি ক্লিওপেট্রা সপ্তম-এর সম্মিলিত বাহিনীর মধ্যে বিখ্যাত অ্যাক্টিয়ামের নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়। ক্লিওপেট্রা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেলে, অ্যান্টনিও তার বাহিনী ত্যাগ করে তাকে অনুসরণ করেন। এই যুদ্ধ অক্টাভিয়ানের সামনে থাকা শেষ বাধাও দূর করে দেয়, মিশরের টলেমিক সাম্রাজ্যের পতন ঘটায় এবং রোমান প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে রোমান সাম্রাজ্যের জন্ম দেয়।

  • লন্ডনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (১৬৬৬): ১৬৬৬ সালের ২রা সেপ্টেম্বর ভোরে পুডিং লেনের থমাস ফারিনারের বেকারিতে একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে লন্ডনের গ্রেট ফায়ারের সূত্রপাত হয়। শুষ্ক গ্রীষ্ম এবং প্রবল পূবালী হাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং টানা চার দিন ধরে শহরের কাঠের তৈরি কাঠামো গিলে খেতে থাকে। এর ফলে ১৩,২০০টিরও বেশি বাড়ি ও অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। এই বিপর্যয় বিশ্বের প্রথম মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কোডের জন্ম দেয় এবং আধুনিক নগর ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ভিত্তি স্থাপন করে।

  • ১১ দিনের সময় লাফ (১৭৫২): গ্রেট ব্রিটেন এবং এর উপনিবেশগুলো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার বাতিল করে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে। ঋতুর সাথে নাগরিক বছরের সমন্বয় করতে ১৭৫২ সালের ২রা সেপ্টেম্বরের ঠিক পরের দিনটিকে ১৪ই সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয়। ফলে ইতিহাস থেকে ১১টি দিন স্রেফ উধাও হয়ে যায়!

  • ফরাসি বিপ্লব – সেপ্টেম্বরের গণহত্যা (১৭৯২): প্রুশিয়ান ও অস্ট্রিয়ান আগ্রাসনের ভয় এবং রাজতন্ত্রীদের ষড়যন্ত্রের গুজবে আতঙ্কিত প্যারিসের বিপ্লবী জনতা ১৭৯২ সালের ২রা সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরের কারাগারগুলোতে হামলা চালায়, যেখানে ১২০০-এরও বেশি বন্দিকে হত্যা করা হয়।

  • মার্কিন ট্রেজারি প্রতিষ্ঠা (১৭৮৯): প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বা অর্থ বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিলে স্বাক্ষর করেন এবং আলেকজান্ডার হ্যামিল্টনকে প্রথম সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেন।

  • অটোমেটেড ব্যাংকিংয়ের ভোর (১৯৬৯): কেমিক্যাল ব্যাংক নিউইয়র্কের রকভিল সেন্টারে তাদের শাখায় আমেরিকার প্রথম এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) স্থাপন করে।

  • সুইসএয়ার ফ্লাইট ১১১ বিপর্যয় (১৯৯৮): নিউইয়র্ক থেকে জেনেভামুখী একটি ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-১১ বিমানের ওয়্যারিংয়ে মাঝ-আকাশে আগুন ধরে যায় এবং নোভা স্কটিয়ার কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ২২৯ জন যাত্রী ও ক্রুর সবাই নিহত হন।

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি (১৯৪৫): ১৯৪৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ৯:০৪ মিনিটে টোকিও উপসাগরে নোঙর করা ইউএসএস মিসৌরি যুদ্ধজাহাজে জাপানের আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিক দলিলে স্বাক্ষর করা হয়।

  • আকায়েসু রায় (১৯৯৮): তাঞ্জানিয়ার আরুশাতে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিআর) জিন-পল আকায়েসুকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়মতান্ত্রিক যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এটিই ছিল প্রথম নজির।

২রা সেপ্টেম্বরের উল্লেখযোগ্য জন্ম

  • রানি লিলিওকালানি (১৮৩৮–১৯১৭): তিনি ছিলেন হাওয়াই রাজ্যের শেষ স্বাধীন শাসক। একজন দক্ষ লেখিকা এবং সুরকার হিসেবে তিনি যখন স্থানীয় হাওয়াইয়ানদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের চেষ্টা করেন, তখন ১৮৯৩ সালে আমেরিকান ব্যবসায়িক স্বার্থের নেতৃত্বে এক অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

  • উইলহেম ওস্টওয়াল্ড (১৮৫৩–১৯৩২): এই জার্মান রসায়নবিদ ক্যাটালাইসিস বা অনুঘটক এবং রাসায়নিক সাম্যাবস্থার ওপর যুগান্তকারী কাজের জন্য ১৯০৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেন।

  • কিয়ানু রিভস (জন্ম ১৯৬৪): ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ‘জন উইক’-এর মতো ব্লকবাস্টারের জন্য পরিচিত এই কানাডিয়ান অভিনেতা তার মানবপ্রীতি, বিনয় এবং দাতব্য কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

  • সালমা হায়েক (জন্ম ১৯৬৬): মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণকারী সালমা হায়েক হলিউডের বাধা ভেঙে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম প্রভাবশালী লাতিনা পাওয়ারহাউস হয়ে ওঠেন এবং ‘ফ্রিদা’ সিনেমার জন্য অস্কার মনোনয়ন লাভ করেন।

২রা সেপ্টেম্বরের উল্লেখযোগ্য মৃত্যু

  • জে.আর.আর. টলকিয়েন (১৮৯২–১৯৭৩): এই ইংরেজ লেখক তার মাস্টারপিস—’দ্য হবিট’ এবং ‘দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস’-এর মাধ্যমে আধুনিক ফ্যান্টাসি সাহিত্য এবং বিশ্ব নির্মাণের (Worldbuilding) ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

  • হো চি মিন (১৮৯০–১৯৬৯): ভিয়েতনামের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের এই অবিসংবাদিত নেতা ৭৯ বছর বয়সে হ্যানয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

  • ডাঃ ক্রিশ্চিয়ান বার্নার্ড (১৯২২–২০০১): দক্ষিণ আফ্রিকার এই কার্ডিয়াক সার্জন ১৯৬৭ সালে মানুষের মধ্যে বিশ্বের প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করে বিশ্ব চিকিৎসা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ঐতিহাসিক টুকিটাকি

  • পরিত্যক্ত দুর্গের ওপর বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ: ১৯৬৭ সালের ২রা সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সাবেক মেজর প্যাডি রয় বেটস আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি পরিত্যক্ত নৌ দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং একে স্বাধীন ‘প্রিন্সিপালিটি অফ সিল্যান্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

  • ভিয়েতনামে ২রা সেপ্টেম্বরের দ্বৈত পরিচয়: হো চি মিন ১৯৪৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ১৯৬৯ সালের ২রা সেপ্টেম্বর মারা যান। কিন্তু জাতীয় দিবসের উৎসব যেন বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সে কারণে টানা ২০ বছর তার আনুষ্ঠানিক মৃত্যুর তারিখ ৩রা সেপ্টেম্বর হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।

শেষ কথা

২রা সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে নাটকীয় শুরু, স্মরণীয় সমাপ্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকারের দিন হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে আছে। এই দিন পুডিং লেনের ছাই থেকে আধুনিক স্থাপত্যের জন্ম হয়েছিল; ইউএসএস মিসৌরি জাহাজের ডেক বিশ্বযুদ্ধের ক্লান্ত পৃথিবীকে স্বস্তি এনে দিয়েছিল; আর হো চি মিনের ভাষণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাধীনতার গতিপথ বদলে দিয়েছিল। শত শত বছরের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, ২রা সেপ্টেম্বর মানবজাতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সংঘাত, ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং একটি সুন্দর আগামীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক গভীর আয়না হিসেবে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।

সর্বশেষ