চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতারণার ধরন বদলেছে। এখন শুধু অচেনা কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে দুর্বল বিজ্ঞাপন আসে না; পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো, নিয়োগপত্র—সবই ব্যবহার করা হতে পারে।
এ বছরের এপ্রিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে প্রকাশ্যে সতর্ক করতে হয়েছিল, তাদের নাম ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তখন সিটি কর্পোরেশনে কোনো নিয়োগ কার্যক্রমই চলছিল না। অর্থাৎ চাকরির খবরটি দেখতে যতই বিশ্বাসযোগ্য হোক, প্রতিষ্ঠানের নিজের তথ্যের সঙ্গে না মিললে সেটি ধরে এগোনোর সুযোগ নেই।
অনলাইনে চাকরি খোঁজেন এমন কারও জন্য এখানেই সবচেয়ে দরকারি শিক্ষা আছে। ফেক জব স্ক্যাম ধরতে প্রতারকের কথার মধ্যে ভুল খোঁজার চেয়ে, তাঁর কথা বাদ দিয়ে চাকরিটির অস্তিত্ব যাচাই করা বেশি কাজে দেয়।
শুরুতেই টাকার প্রসঙ্গ উঠলে একটু থামুন
অনেক ভুয়া চাকরির প্রস্তাবের কথাবার্তা মোটামুটি একই জায়গায় এসে ঠেকে—কিছু টাকা দিতে হবে। শুরুতে হয়তো কথাটা সরাসরি বলা হয় না। আগে পদের নাম, বেতন, কাজের সময় নিয়ে আলাপ হয়। এরপর বলা হলো নিবন্ধনের টাকা লাগবে। কোথাও প্রশিক্ষণ ফি, কোথাও পরিচয়পত্র তৈরির খরচ, কোথাও আবার নিরাপত্তা জামানত।
চাকরি দরকার বলে এই ছোট অঙ্কটিই অনেকের কাছে তখন বাধা মনে হয় না। সমস্যা হলো, প্রথম টাকা দেওয়ার পর আরও একটি খরচ আসতে পারে।
বাংলাদেশে এমবিজব নামে একটি অনলাইন আয়ের প্ল্যাটফর্ম ঘিরে এমন কৌশলের বিষয়ে বিজিডি ই-গভ সার্ট সতর্ক করেছিল। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মানুষকে অ্যাকাউন্ট চালু, টাকা তোলা বা যাচাইয়ের নামে অর্থ দিতে বলা হচ্ছিল। প্রতারণাটিকে বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে সরকারি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার নামও ব্যবহার করা হয়েছিল।
তাই “ফি খুব বেশি নয়” ভেবে টাকা পাঠানোর আগে অন্য প্রশ্ন করুন—চাকরিটি আসল কি না আমি নিজে যাচাই করেছি?
কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নম্বর বের করে ফোন করা যায়। সরকারি চাকরি হলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। কোনো নিয়োগকারী যদি বলেন, “আজকের মধ্যেই টাকা না দিলে সুযোগ চলে যাবে”, সেই তাড়াটিও খটকার কারণ। একটি বৈধ কোর্স বা পেশাগত প্রশিক্ষণের ফি থাকতে পারে। কিন্তু চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার শর্ত হিসেবে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বরে টাকা পাঠানো অন্য ব্যাপার।
আরও পড়ুন: Phishing Message চেনার ১২টি লক্ষণ: SMS, Email ও Messenger-এর উদাহরণ
চাকরির খবর কোথায় পেলেন, তার চেয়ে খবরটি আর কোথায় পাওয়া যাচ্ছে দেখুন
লিংকডইন, ফেসবুক বা কোনো পরিচিত চাকরির সাইটে বিজ্ঞাপন দেখেছেন। প্রথম দেখায় সন্দেহ করার কারণ নেই। কিন্তু যাচাই সেখানেই শেষ হলে ঝুঁকি থেকে যায়। আসল কোম্পানির পুরোনো বা চলমান চাকরির বিজ্ঞাপন কপি করে শুধু যোগাযোগের তথ্য পাল্টে দেওয়া সম্ভব। বিদেশে এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। কোম্পানির আসল কর্মীর নাম ব্যবহার করেও ভুয়া নিয়োগের যোগাযোগ চালানোর নজির আছে।
বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থীর জন্য এর সমাধান খুব প্রযুক্তিনির্ভর কিছু নয়। ধরা যাক, একটি ব্যাংক, টেলিকম কোম্পানি বা বড় প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়োগের বার্তা পেয়েছেন। গুগলে প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে তাদের ওয়েবসাইটে যান। নিয়োগ বা ক্যারিয়ার অংশে বিজ্ঞপ্তিটি আছে কি না দেখুন।
না থাকলে ফোন করা যায়।
“আপনাদের এখানে এই পদে লোক নেওয়া হচ্ছে?”
এই একটি প্রশ্নেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ঘটনাতেও বাইরের লোকের দেওয়া চাকরির আশ্বাসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিজের তথ্য মিলছিল না। তাদের সরকারি বিজ্ঞপ্তিই পরে জানিয়ে দেয়, তখন কোনো নিয়োগ চলছিল না। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ফেসবুকে ঘুরে বেড়ানো বিজ্ঞপ্তির ছবিকে মূল উৎস ভাবার দরকার নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি আছে কি না আগে দেখুন।
ইমেইলটা দেখতে ঠিকঠাক। ঠিকানাটাও কি ঠিক?

ইমেইলের ওপরের দিকে একটি পরিচিত কোম্পানির নাম দেখা গেল। পাশে লোগো। নিচে কর্মকর্তার নাম ও পদবি। এখানেই অনেকের যাচাই শেষ হয়ে যায়। আরও কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রেরকের পুরো ইমেইল ঠিকানাটি দেখুন। আসল কোম্পানির ওয়েব ঠিকানার সঙ্গে নকল ঠিকানার পার্থক্য কখনো খুবই ছোট হয়। মাঝখানে একটি বাড়তি শব্দ, একটি অক্ষরের হেরফের, শেষে অন্য ডোমেইন—চোখ এড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তন।
বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কেউ ব্যক্তিগত জিমেইল ঠিকানা থেকে চাকরির কাগজপত্র পাঠালে প্রশ্ন উঠবে। অবশ্য ছোট ব্যবসা বা স্বাধীন নিয়োগকারী জিমেইল ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে ইমেইল ঠিকানাকে একমাত্র বিচার না বানিয়ে পরিচয়টি অন্যভাবে মিলিয়ে নেওয়াই ভালো।
একই কথা ফোন নম্বরের ক্ষেত্রেও।
যিনি চাকরি দেবেন বলে যোগাযোগ করেছেন, তাঁর দেওয়া নম্বরে ফোন করে তাঁর পরিচয় যাচাই করলে যাচাইটা আসলে তাঁর কাছেই করা হলো। কোম্পানির ওয়েবসাইটে থাকা নম্বরে ফোন করলে তবেই স্বাধীনভাবে বিষয়টি মেলে।
সাক্ষাৎকার হয়েছে মানেই আর যাচাই লাগবে না—এমন নয়
ভুয়া চাকরি নিয়ে আমাদের মাথায় একটা চেনা ছবি আছে: দু-চারটি বার্তা, তারপরই টাকা চাওয়া। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এত সংক্ষিপ্ত হয় না। প্রতারক চাইলে সময় নিয়ে কথা বলতে পারে, ভিডিও সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কোম্পানির লোগো দেওয়া কাগজ পাঠাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে ভুয়া নিয়োগের অংশ হিসেবে প্রায় ৪৫ মিনিটের ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল।
তাই সাক্ষাৎকার “ভালো হয়েছে” কি না দিয়ে চাকরির সত্যতা মাপা কঠিন।
বরং কথাবার্তায় কী ছিল, সেটি মনে করুন।
আপনি কোন দলে কাজ করবেন? কাজটি আসলে কী? কাকে রিপোর্ট করবেন? কর্মস্থল কোথায়? নিয়োগের পরবর্তী ধাপ কী? এসব নিয়ে পরিষ্কার আলোচনা না হয়ে যদি হঠাৎ ব্যাংকের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের পূর্ণ কপি বা টাকা পাঠানোর প্রসঙ্গ সামনে আসে, তখন আবার যাচাইয়ে ফিরুন।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর বেতন পাঠাতে ব্যাংক হিসাব লাগতে পারে। পরিচয় নিশ্চিত করতেও নথি প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ওটিপি, পিন, কার্ডের সিভিভি বা অনলাইন ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য লাগে না। এসব তথ্য চাওয়া হলে পাঠাবেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট চাইলে “কেন?” জিজ্ঞেস করাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোন পর্যায়ে নথিটি দরকার এবং কোথায় জমা হবে—সেটি জানা উচিত।
এখন আর সব ভুয়া চাকরিতে ‘চাকরি’ও থাকে না
অনলাইনে আরেক ধরনের ফাঁদ বেড়েছে, যেখানে শুরুতে ব্যাপারটি চাকরির চেয়ে ছোটখাটো আয়ের সুযোগের মতো দেখায়। কিছু রেটিং দিতে হবে, কোনো পণ্য বা সেবার বিষয়ে কয়েকবার ক্লিক করতে হবে, ছোট একটি কাজ শেষ করতে হবে। অ্যাকাউন্টে আয়ও দেখা যায়।
তারপর বলা হয়, টাকা তুলতে হলে আগে কিছু অর্থ জমা দিন। কিংবা আরও কাজ পেতে নিজের টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স বাড়াতে হবে। এই পর্যায়ে স্ক্রিনে কত টাকা দেখা যাচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজের আয় হাতে পেতে নিজের টাকাই যদি আগে পাঠাতে হয়, সেখানে আর কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণ নেই।
একই ধরনের সতর্কতা চেকের ক্ষেত্রেও দরকার। নতুন চাকরিতে কম্পিউটার বা অফিসের সরঞ্জাম কেনার জন্য কোম্পানি চেক পাঠিয়েছে, এরপর সেই অর্থের একটি অংশ নির্দিষ্ট কারও কাছে পাঠাতে বলছে—এমন ব্যবস্থা এলে ব্যাংকের সঙ্গে কথা না বলে কোনো টাকা পাঠানো ঠিক নয়। জাল চেক প্রথমে হিসাবে দেখা গেলেও পরে বাতিল হতে পারে।
বিদেশের চাকরিতে শেষ মুহূর্তের বদলকে ছোট করে দেখবেন না
বিদেশে চাকরির প্রস্তাব যাচাই করার সময় শুধু কোম্পানির নাম দেখলে হবে না। বিজ্ঞাপনে যে কাজের কথা বলা হয়েছিল, চুক্তিপত্রে সেটিই আছে কি না দেখতে হবে। কোন দেশে যাচ্ছেন, ভিসা কোন কাজের জন্য, কর্মস্থল কোথায়—এগুলোও মিলতে হবে।
বিশেষ করে বিমান ধরার আগে হঠাৎ যদি বলা হয় অন্য শহর বা অন্য দেশে যেতে হবে, তখন থামুন। পাসপোর্ট অন্যের কাছে রেখে দিতে চাপ দেওয়া, চুক্তিতে না থাকা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা কিংবা কর্মস্থলের তথ্য গোপন রাখা সাধারণ পরিবর্তন নয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু ঘটনায় চাকরির কথা বলে মানুষকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর আটকে রাখা এবং অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিতে টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে শেষ মুহূর্তের অসঙ্গতি মেনে নেওয়া ঠিক হবে না। বরং ওই সময় যাচাই করা আরও জরুরি।
কিছু একটা মিলছে না মনে হলে

চাকরির প্রস্তাব যাচাই করতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। রিক্রুটারের পাঠানো লিংকটি বন্ধ রাখুন। কোম্পানির নাম নিজে লিখে ওয়েবসাইটে যান। সেখান থেকে ফোন নম্বর বের করুন। যে পদের কথা বলা হচ্ছে সেটি আছে কি না জিজ্ঞেস করুন।
ইমেইল ঠিকানাটিও দেখুন। কোম্পানির আসল ডোমেইনের সঙ্গে মেলে কি না মিলিয়ে নিন। এতটুকুতেই যদি উত্তর পাওয়া যায়, ভালো। না পাওয়া গেলে টাকা বা গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানোর তাড়া নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
আর একটি ছোট ব্যাপার কাজে দেয়। চাকরির বার্তা যতই আকর্ষণীয় হোক, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না দিলেও চাকরিপ্রার্থীর অপরাধ হচ্ছে না। পাঁচ-দশ মিনিট সময় নিয়ে তথ্য মিলিয়ে নেওয়াই বরং স্বাভাবিক।
টাকা দিয়ে ফেলেছেন? চ্যাট মুছে ফেলবেন না
প্রতারণা বুঝতে পারার পর অনেকে প্রথমে কথোপকথন মুছে ফেলতে চান। রাগ, লজ্জা বা ভয়—যে কারণেই হোক, সেটি করবেন না। ফোন নম্বর, ইমেইল, চাকরির বিজ্ঞাপন, নিয়োগপত্র, ওয়েব ঠিকানা, লেনদেনের রসিদ ও স্ক্রিনশট রেখে দিন।
ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠালে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন। লেনদেন বন্ধ করা বা অর্থ ফেরত আনার কোনো সুযোগ আছে কি না জানতে হবে দ্রুতই। পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকলে বদলে ফেলুন। একই পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও থাকলে সেগুলোও পরিবর্তন করুন।
বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পরে থানায় যেতে হতে পারে। সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনার জন্য বিজিডি ই-গভ সার্ট-এর রিপোর্টিং ব্যবস্থাও আছে।
বাংলাদেশে বসে লেখা এই নিবন্ধে দেশের পাঠকের জন্য এটুকুই মূল পথ। ভারতে থাকা বাংলা পাঠকের ক্ষেত্রে সে দেশের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল ও ১৯৩০ নম্বরের আর্থিক সাইবার জালিয়াতি হেল্পলাইন ব্যবহার করা যায়।
চাকরির তাড়ায় যাচাইটা যেন বাদ না যায়
ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ধরার জন্য প্রতিটি ইমেইলকে সন্দেহজনক ভাবতে হবে না। আবার কোম্পানির লোগো দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়ারও সুযোগ নেই। চাকরিটির খোঁজ কোম্পানির নিজের কাছে পাওয়া যাচ্ছে কি না—সেখান থেকেই শুরু করুন।
যিনি যোগাযোগ করছেন তাঁর পরিচয় কোম্পানি নিশ্চিত করতে পারছে কি না দেখুন। নিয়োগের শুরুতেই টাকা বা এমন তথ্য চাওয়া হচ্ছে কি না খেয়াল করুন, যা এই পর্যায়ে লাগার কথা নয়।
এগুলো মিলিয়ে দেখতে বেশি সময় লাগে না।
চাকরি খোঁজার সময় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় থাকে, সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ভয়ও থাকে। সেই ভয় থেকেই তাড়াহুড়ো আসে। প্রতারকের সুবিধা হয় ঠিক তখনই। তাই ভালো কোনো প্রস্তাব এলে আনন্দটা থাকুক, কিন্তু যাচাইটা বাদ না যাক।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ভুয়া চাকরির প্রস্তাব কি শুধু হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকেই আসে?
না। প্রতারণামূলক চাকরির প্রস্তাব ইমেইল, ফোনকল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এমনকি চাকরির প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও আসতে পারে। তাই কোন মাধ্যমে বার্তাটি এসেছে, শুধু সেটি দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানি ও নিয়োগকারীর পরিচয় আলাদাভাবে যাচাই করুন।
কোনো কোম্পানির লোগোসহ নিয়োগপত্র পেলে কি সেটি বিশ্বাস করা যায়?
শুধু লোগো বা দেখতে পেশাদার নিয়োগপত্র চাকরিটি আসল হওয়ার প্রমাণ নয়। কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়োগপত্র, পদ এবং নিয়োগকারীর পরিচয় মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ ফি চাওয়া হলে কী করব?
প্রথমে জানতে হবে ফিটি আসলে কিসের জন্য এবং সেটি কোম্পানির আনুষ্ঠানিক নিয়মের অংশ কি না। কোনো ব্যক্তি যদি চাকরি নিশ্চিত করার শর্তে নিজের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বরে টাকা পাঠাতে বলেন, টাকা না পাঠিয়ে কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যাচাই করুন।
নিয়োগকারী জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট চাইলে কি দেওয়া যাবে?
নিয়োগের নির্দিষ্ট পর্যায়ে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠান ও চাকরির সত্যতা নিশ্চিত না করে পূর্ণ পরিচয়পত্র পাঠাবেন না। নথিটি কেন লাগছে, কোথায় জমা হবে এবং কে সংরক্ষণ করবে—এসব আগে জেনে নিন।
চাকরির ইমেইল জিমেইল থেকে এলে কি সেটি ভুয়া?
অবশ্যই নয়। ছোট প্রতিষ্ঠান বা স্বাধীন নিয়োগকারী ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করতে পারেন। তবে বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যক্তিগত ইমেইল থেকে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির ওয়েবসাইটে থাকা ফোন নম্বর বা ইমেইলের মাধ্যমে পরিচয়টি মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
সাক্ষাৎকারের পর টাকা চাইলে কী করবেন?
চাকরি নিশ্চিত করা, অ্যাকাউন্ট চালু করা, সরঞ্জাম পাঠানো বা বেতন ছাড় করার নামে টাকা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে অর্থ পাঠাবেন না। প্রথমে কোম্পানির নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যমে দাবিটি সত্য কি না যাচাই করুন।

