আমি কখনো পেলেকে খেলতে দেখিনি।
না স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে বসে, না টিভির পর্দায়, এমনকি পরদিন সকালের রিপ্লেতেও না। ফুটবল বোঝার মতো বয়স যখন হলো, ততদিনে রাজা অনেক আগেই বুট তুলে রেখেছেন। তবু ২৩ অক্টোবর, যখন সারা পৃথিবী পেলের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী পালন করছে, বুকের ভেতর একটা টান অনুভব করি। ঠিক যেমন টান মানুষ অনুভব করে এমন এক দাদার জন্য, যাকে হয়তো ভালো করে চেনেনি, কিন্তু মন উজাড় করে ভালোবাসে।
কারণ পেলেকে আমি নিজে খুঁজে পাইনি। তাঁকে আমি পেয়েছি উত্তরাধিকারসূত্রে।
হাত বদলে পাওয়া এক ভালোবাসা

আমার বাবা পেলেকে খেলতে দেখেছেন। আমার জন্মের অনেক আগে থেকেই তিনি ব্রাজিলের ভক্ত, আর আমৃত্যু তা-ই ছিলেন। আমাদের বাড়িতে হলুদ জার্সি শুধু একটা দলের জার্সি ছিল না। সেটা ছিল প্রায় পারিবারিক ধর্মের মতো। আর এই ধর্মের শুরুটা হয়েছিল পেলেকে দিয়েই।
বাবা যখন পেলের কথা বলতেন, মনে হতো না তিনি পরিসংখ্যান পড়ে শোনাচ্ছেন। মনে হতো একজন প্রত্যক্ষদর্শী কথা বলছেন। আমার চাচারাও ছিলেন একই রকম। তাঁরা একসঙ্গে বসলেই গল্প শুরু হয়ে যেত। একজন এমন কোনো খুঁটিনাটি যোগ করতেন যা বাকিরা ভুলে গেছেন, আর প্রত্যেকেই জোর দিয়ে বলতেন তাঁর কথাটাই ঠিক। ছোটবেলায় আমি সেই আড্ডার মাঝখানে বসে প্রতিটা কথা গিলে খেতাম।
কিছু গল্প পরে আমি যাচাই করে দেখেছি। বাকিগুলো এমনিই বিশ্বাস করেছি, কারণ বাবা বলেছেন।
আমার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট ছিল।
বাবার কাছে এক ছেলের প্রতিজ্ঞা
অনেক বছর পরে জেনেছি, পেলের নিজের গল্পও শুরু হয়েছে একজন বাবাকে দিয়ে।
তাঁর আসল নাম এদসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। জন্ম ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর, ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের ছোট্ট শহর ত্রেস কোরাসোয়েসে। তাঁর বাবা দোন্দিনিও ছিলেন একজন ফুটবলার, কিন্তু হাঁটুর চোটে তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। পরিবারে অভাব ছিল। ছোট্ট এদসন বাউরু শহরে জুতা পালিশ করে কিছু টাকা আয় করতেন। ফুটবল শিখেছেন হাতের কাছে যা পেয়েছেন তা দিয়েই, কখনো কাপড় ঠাসা মোজা দিয়ে, কারণ সত্যিকারের একটা বল কেনার সামর্থ্য তাঁদের ছিল না।
তারপর এলো ১৯৫০ সালের ১৬ জুলাই। সেবার বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ব্রাজিল। মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিপক্ষে শুধু ড্র করলেই কাপ জিতত ব্রাজিল। কিন্তু তারা হেরে গেল ২-১ গোলে। পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেল। ব্রাজিলের মানুষ আজও সেই দিনটাকে বলে “মারাকানাসো”।
নয় বছরের এদসন দেখলেন, তাঁর বাবা রেডিওর পাশে বসে কাঁদছেন। বাবাকে তিনি আগে কখনো কাঁদতে দেখেননি। তাই ছেলেটি বাবাকে কথা দিলেন: একদিন তিনি বাবার জন্য বিশ্বকাপ জিতবেন।
এই গল্পটা প্রথম যখন পড়ি, কিছুক্ষণ থেমে যেতে হয়েছিল।
ইতিহাসের সেরা ফুটবলার, আর তাঁর কিংবদন্তির শুরুটা ঠিক সেভাবেই, যেভাবে শুরু হয়েছিল তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা। একজন ছেলে। একজন বাবা। আর তাঁদের মধ্যে বয়ে যাওয়া এমন এক অনুভূতি, যা খেলার চেয়েও বড়। পেলে সারা জীবন বাবাকে দেওয়া কথা রেখে গেছেন। অনেক ছোট পরিসরে, আমিও সারা জীবন বাবার পেলে-প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।
সুইডেনে সতেরো বছরের এক কিশোর
সেই প্রতিজ্ঞার আট বছর পর পেলে কথা রাখলেন।
১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে তাঁর বয়স মাত্র ১৭, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়। কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করলেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে করলেন হ্যাটট্রিক। আর ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে করলেন দুই গোল। ব্রাজিল জিতল ৫-২ গোলে। যে ছেলেটা একদিন বাবাকে কাঁদতে দেখেছিল, সে এখন সতীর্থদের কাঁধে মাথা রেখে কাঁদছে, ভোট দেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
চাচারা এই অংশটা বলতে খুব ভালোবাসতেন। “একটা কিশোর!” বলে মাথা নাড়তেন, যেন এত বছর পরেও ব্যাপারটা বিশ্বাস হয় না। সত্যিই হয় না। আজকের এত টাকা আর বিজ্ঞানের ফুটবলেও ১৭ বছরের কেউ বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই গোল করে কাপ জিতবে, শুনলে বানানো গল্প মনে হয়।
কিন্তু এটা বানানো না। এর ভিডিও আছে। আমি যে কতবার দেখেছি, গুনে শেষ করতে পারব না।
কঠিন সময়: ১৯৬২ আর ১৯৬৬
বাবার গল্প থেকে যা শিখেছি, আর হাইলাইটস ভিডিওতে যা প্রায়ই বাদ পড়ে যায়, তা হলো পেলের পথ শুধু ট্রফিতে ভরা ছিল না।
১৯৬২ সালে চিলিতে, ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচেই তিনি চোট পান এবং পুরো টুর্নামেন্টের বাকিটা খেলতে পারেননি। গারিঞ্চা দলকে টেনে নিয়ে যান, আর ব্রাজিল আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়। পেলে পেলেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ পদক, কিন্তু টুর্নামেন্টের বেশির ভাগটাই কাটিয়েছেন মাঠের বাইরে বসে।
১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা তাঁকে নিশানা বানিয়ে একের পর এক লাথি মেরেছে। ক্ষতবিক্ষত হয়ে, খোঁড়াতে খোঁড়াতে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান, আর ব্রাজিল আগেভাগেই বাড়ি ফেরে। শোনা যায়, এরপর তিনি বলেছিলেন আর কোনো বিশ্বকাপ খেলতে চান না।
কেউ যখন বলে প্রতিভাবানদের জন্য সাফল্য সহজে আসে, আমার এই কথাগুলো মনে পড়ে। আসে না। জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়ার সব কারণই পেলের ছিল। তবু তিনি ফিরে এসেছিলেন।
১৯৭০: যে দল কিংবদন্তি হয়ে গেল
আর কী অসাধারণ সেই ফিরে আসা!
১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপই প্রথম বিশ্বকাপ, যা রঙিন টিভিতে ব্যাপকভাবে সম্প্রচার হয়েছিল। সারা পৃথিবী দেখল ব্রাজিল এমন ফুটবল খেলছে, যা আজও মনে হয় অন্য কোনো গ্রহ থেকে আসা। পেলে, জাইরজিনিও, তোস্তাও, রিভেলিনো, জেরসন, আর অধিনায়ক কার্লোস আলবার্তো। অনেকেই আজও এটাকে ইতিহাসের সেরা দল বলে মানেন।
ইতালির বিপক্ষে ফাইনালটা দেখুন। দেখবেন পেলে ডিফেন্ডারদের ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে হেডে প্রথম গোলটা করছেন। মনে হয় মেক্সিকো সিটির আকাশ তাঁকে বাকিদের চেয়ে একটু বেশিক্ষণ বাতাসে ধরে রেখেছিল। ব্রাজিল জিতল ৪-১ গোলে। চতুর্থ গোলটা, যেটা পেলের শান্ত আর ধীরস্থির পাস থেকে কার্লোস আলবার্তো করেছিলেন, সেটা হয়তো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর দলগত গোল।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে পেলে হয়ে গেলেন ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন: ১৯৫৮, ১৯৬২ আর ১৯৭০। অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেছে, এখনো কেউ এই রেকর্ড ছুঁতে পারেনি।
ছোট্ট পর্দায় রাজার সঙ্গে দেখা
বাবা সেই যুগটা নিজের সময়ে দেখেছেন। আমি দেখেছি ইউটিউবে।
ভিডিওগুলো ঝাপসা। রং ঘোলাটে। ক্যামেরা প্রায়ই বলটাকেই হারিয়ে ফেলে। কিছু ভিডিও এতই পুরোনো যে খেলোয়াড়দের দেখে মনে হয় তারা দ্রুত গতিতে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু পেলের পায়ে বল আসার পর এসব কিছুই আর চোখে পড়ে না।
প্রথমে চোখে পড়ে তাঁর ভারসাম্য। ডিফেন্ডাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে, আর তিনি ততক্ষণে অন্য জায়গায়। তারপর তাঁর দৃষ্টি: এমন পাস যা আর কেউ দেখেনি, এমন কোণ থেকে শট যেখান থেকে গোল হওয়ার কথাই না। আর আছে সেই গোলগুলো, যেগুলো হয়নি, কিন্তু আসল গোলের মতোই বিখ্যাত হয়ে গেছে। ১৯৭০ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে তিনি নিজেদের অর্ধ থেকে গোল করার চেষ্টা করেছিলেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে বল না ছুঁয়েই গোলকিপারকে বোকা বানিয়েছিলেন, তারপর শটটা অল্পের জন্য বাইরে যায়। বেশির ভাগ খেলোয়াড়কে মানুষ মনে রাখে তাদের গোলের জন্য। পেলেকে মনে রাখে এমনকি না হওয়া গোলগুলোর জন্যও।
এই ভিডিওগুলো দেখতে দেখতে বাবার গল্পগুলো নিয়ে একটা জিনিস অবশেষে বুঝলাম। তিনি একটুও বাড়িয়ে বলেননি।
বরং হয়তো কমিয়েই বলেছিলেন।
গোলের চেয়েও বেশি কিছু
পেলের পরিসংখ্যান শুনলে মাথা ঘুরে যায়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী তিনি ১,৩৬৩ ম্যাচে করেছেন ১,২৭৯ গোল। ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর পেনাল্টি থেকে নিজের ১,০০০তম গোলটি করেন মারাকানায়, ঠিক সেই স্টেডিয়ামে যেখানে ১৯৫০ সালে তাঁর বাবার হৃদয় ভেঙেছিল। গোলটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন ব্রাজিলের শিশুদের।
প্রায় দুই দশক খেলেছেন সান্তোস ক্লাবে। এরপর যোগ দেন নিউ ইয়র্ক কসমসে, আর ফুটবলকে পরিচিত করে তোলেন এমন এক দেশে, যেখানে এই খেলা নিয়ে কারও তেমন মাথাব্যথা ছিল না। পরে তিনি ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০০০ সালে ফিফা তাঁকে শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে ঘোষণা করে।
কিন্তু পরিসংখ্যানের কারণে আমার পরিবারের বড়রা পেলের নাম নেওয়ার সময় গলা নামিয়ে কথা বলতেন না।
পেলে ফুটবলকে আনন্দের খেলা বানিয়েছিলেন। তিনি এমনভাবে খেলতেন, যেন খেলাটা কোনো যুদ্ধ না, বরং একটা উৎসব। আর সেই আনন্দ তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি কোণে। ব্রাজিলিয়ানরা একে বলে “জোগো বনিতো”, মানে সুন্দর খেলা। আর ব্রাজিলে কখনো পা না রাখা লাখো ভক্তের কাছে পেলেই ছিলেন সেই সুন্দর খেলার মুখ। যারা মানচিত্রে রিও খুঁজে পেত না, তারাও তাঁর নাম জানত। যারা পর্তুগিজের একটা শব্দও জানত না, তারাও তাঁর নাম ধরে চিৎকার করতে শিখেছিল।
ব্রাজিল থেকে হাজার মাইল দূরে বসেও এভাবেই একজন মানুষ ব্রাজিলের ভক্ত হয়ে ওঠে। ভূগোলের কারণে না। হাত বদলে পাওয়া একটা অনুভূতির কারণে।
যেদিন রাজা চলে গেলেন
২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর, ৮২ বছর বয়সে পেলে যখন মারা গেলেন, তখন অদ্ভুতভাবে মনে হয়েছিল খুব কাছের কেউ চলে গেছেন, যদিও তাঁর সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। ব্রাজিল তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে। সান্তোসের ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষ লাইন দিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানায়। মেসি, রোনালদো, এমবাপে, আর ১০ নম্বর জার্সি পরার স্বপ্ন দেখা প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড় তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।
কয়েক মাস পরে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত পর্তুগিজ অভিধান মিকায়েলিস “পেলে” শব্দটিকে বিশেষণ হিসেবে যোগ করে, যার মানে অসাধারণ, অতুলনীয়, সাধারণের চেয়ে অনেক ওপরে। একবার ভেবে দেখুন। তাঁর নাম শুধু ইতিহাসের বইয়ে ঢোকেনি। ঢুকে গেছে ভাষার ভেতরেই।
আমার কাছে তাঁর চলে যাওয়াটা অন্যরকম লেগেছিল, কারণ এর সঙ্গে আরেকটা শূন্যতা জড়িয়ে আছে। যে মানুষটা আমাকে প্রথম পেলের কথা বলেছিলেন, তিনিও আর নেই। এখন একজনের কথা ভাবলে আরেকজনের কথা মনে পড়ে। বাবার গল্প আর পেলের কিংবদন্তি এখন একই সুতোয় গাঁথা। একটা টান দিলে অন্যটাও টের পাই।
আমরা আসলে কী উত্তরাধিকার পাই
আমি এখন বিশ্বাস করি, যে কিংবদন্তিদের আমরা ভালোবাসি, তাঁদের বেশির ভাগকেই আমরা নিজের চোখে দেখিনি। কেউ না কেউ আমাদের দেখিয়েছে। কোনো বাবা টিভির দিকে আঙুল তুলে দেখিয়েছেন। কোনো চাচা বিয়েবাড়িতে বসে গল্প শুনিয়েছেন। কোনো বয়স্ক মানুষ চায়ের দোকানে বসে কসম খেয়ে বলেছেন, তিনি এমন কিছু দেখেছেন যা খেলাটাকে চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছিল।
সত্যিকারের ভক্ত হওয়া মানে সেখানে উপস্থিত থাকা না। মানে হলো গল্পটা কারও কাছ থেকে শোনা।
পেলে এটা সবার চেয়ে ভালো বুঝতেন। তাঁর পুরো ক্যারিয়ারটাই জন্ম নিয়েছিল রেডিওর পাশে বাবার সঙ্গে কাটানো একটা মুহূর্ত থেকে। আর আমার ভালোবাসার জন্ম হয়েছে বাবার সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত থেকে, কখনো টিভির পাশে, কখনো খাবার টেবিলে, যখন তিনি হলুদ জার্সি পরা এক মানুষের গল্প বলতেন, যিনি এমন সব কাজ করতে পারতেন যা আর কেউ পারত না।
বাবা আমাকে মারাকানার গ্যালারিতে একটা আসন দিতে পারেননি। আমাকে ১৯৭০ সালে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু তিনি যা দিয়েছেন, তা এর চেয়েও দামি: তাঁর স্মৃতি। এত ভালোবাসা দিয়ে সেই স্মৃতির গল্প বলেছেন যে, একসময় সেটা আমার নিজের স্মৃতি হয়ে গেছে। পরে যত ঝাপসা ভিডিও দেখেছি, সেগুলো শুধু প্রমাণ করেছে বাবা আমাকে যা দিয়ে গেছেন, তা খাঁটি।
তাই আজও আমি হলুদ জার্সি পরি। ব্রাজিল যখন টানেল থেকে মাঠে নামে, আজও বুকটা লাফিয়ে ওঠে। আর সেই অনুভূতির কোথাও মিশে আছেন দুজন মানুষ, যাঁদের আমি খুব মিস করি: যে রাজাকে আমি কখনো দেখিনি, আর যে বাবা নিশ্চিত করেছিলেন যে আমার তাঁকে দেখার দরকারই হবে না।
শুভ ৮৬তম জন্মদিন, রাজা
পেলের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীতে আমি ভান করব না যে আমি তাঁকে বাবার মতো করে চিনি। সেটা সম্ভব না। আমি অনেক দেরিতে এসেছি।
কিন্তু এটুকু জানি। যতদিন কেউ একজন গল্পটা বলে যাচ্ছে, ততদিন একজন কিংবদন্তি আসলে মরে না। পেলে বাবাকে দেওয়া কথা রেখেছিলেন। আমার বাবা আমার জন্য পেলেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আমার চাচারা গল্পটা বারবার বলেছেন। আর এখন আমি গল্পটা বলছি আপনাকে।
শুভ জন্মদিন, পেলে। আমার বাবাকে যে আনন্দ দিয়েছিলেন, তার জন্য ধন্যবাদ।
আর বাবার মধ্য দিয়ে, আমাকেও।


