অনলাইনে শপিং করার সময় ক্রেতারা পণ্যটি সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারেন না। তারা পণ্যটি নেড়েচেড়ে দেখার, এর গন্ধ নেওয়ার বা এর গুণগত মান বাস্তবে যাচাই করার কোনো সুযোগ পান না। ঠিক এই জায়গাতেই আপনার ওয়েবসাইটের বিবরণী বা টেক্সট একজন দক্ষ ও রক্ত-মাংসের সেলসম্যানের ভূমিকা পালন করে। সঠিক শব্দচয়ন এবং তথ্যের নিখুঁত গাঁথুনি মুহূর্তেই একজন সাধারণ ভিজিটরকে বিশ্বস্ত ও অনুগত ক্রেতায় বদলে দিতে পারে। বর্তমান তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এবং ব্যবসায়ের সেলস গ্রাফকে ওপরের দিকে নিয়ে যেতে হলে কার্যকর ও জাদুকরী প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার উপায় জানা থাকা অপরিহার্য।
ই-কমার্সে প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার উপায় ও এর আসল গুরুত্ব

একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের প্রোডাক্ট পেজ মূলত আপনার ডিজিটাল শোরুম বা প্রধান শপ-ফ্রন্ট। এখানে একজন ক্রেতা যখন প্রবেশ করেন, তখন চটকদার ছবির পাশাপাশি লেখার ওপর ভিত্তি করেই তিনি ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। আমরা অনেকেই মনে করি শুধু পণ্যের নাম আর দাম বসিয়ে দিলেই বিক্রি বাড়বে, যা সম্পূর্ণ ভুল ও সেকেলে ধারণা। সঠিক শব্দ এবং বাস্তবসম্মত তথ্যের সমন্বয় ক্রেতার মনে পণ্যের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। আর এই আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত আপনার শপিং কার্টকে অর্ডারে রূপান্তরিত করে।
কেন গতানুগতিক বিবরণী ক্রেতা হারায়?
বেশিরভাগ ই-কমার্স সাইটই প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কাট-খোট্টা বিবরণী হুবহু কপি করে নিজেদের ওয়েবসাইটে বসিয়ে দেয়। এই ধরনের লেখায় কোনো আবেগ, গল্প বা মানবিক আবেদন থাকে না, যা একজন বাস্তব ক্রেতার হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে না। ক্রেতা যখন কোনো সমস্যার সমাধান বা সুবিধার খোঁজে আসেন, তখন জটিল যান্ত্রিক ও একঘেয়ে ভাষা তাকে চরমভাবে হতাশ করে। এর ফলে তারা দ্রুত সাইট থেকে বেরিয়ে যান এবং প্রতিযোগীর ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনে নেন।
কীভাবে বিবরণী আপনার ব্র্যান্ডের কণ্ঠস্বর তৈরি করে
প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন শুধু তথ্যের তালিকা নয়, এটি আপনার ব্র্যান্ডের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। আপনি কি খুব সিরিয়াস, নাকি বন্ধুবৎসল ও চটপটে? লেখার ধরন দেখেই ক্রেতা আপনার ব্র্যান্ডের সাথে একটি মানসিক সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ টোন বা লেখার স্টাইল দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতার মনে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি আনুগত্য (Brand Loyalty) গড়ে তোলে।
| বিবরণীর ধরন | ক্রেতার মানসিক প্রতিক্রিয়া | সেলস কনভার্সন রেট |
| কপি-পেস্ট করা যান্ত্রিক বিবরণী | বিরক্ত ও বিভ্রান্ত বোধ করেন, দ্রুত পেজ ছেড়ে যান | অত্যন্ত কম (১%-এর নিচে) |
| আবেগী ও সমাধানমুখী বিবরণী | পণ্যের সাথে নিজের প্রয়োজনের মিল খুঁজে পান | বেশ ভালো (৩%-৫% বা বেশি) |
| স্টোরিটেলিং সমৃদ্ধ বিবরণী | পণ্যের সাথে আবেগগতভাবে জড়িয়ে পড়েন ও বিশ্বাস করেন | সর্বোচ্চ (৫%-এর ওপরে) |
টার্গেট অডিয়েন্স বা আদর্শ ক্রেতা চেনার গোপন কৌশল
কিছু লেখার আগে আপনাকে একদম পরিষ্কারভাবে জানতে হবে আপনি কার সাথে কথা বলছেন এবং আপনার আদর্শ ক্রেতা (Buyer Persona) কে। একজন কলেজ পড়ুয়া তরুণীর কাছে যে ভাষায় মেকআপ প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন, একজন করপোরেট কর্মকর্তার কাছে ল্যাপটপ ব্যাগ কিন্তু সেই একই ভাষায় বিক্রি করা যাবে না। ক্রেতার বয়স, পেশা, জীবনধারা এবং তাদের মানসিকতা বুঝে শব্দ নির্বাচন করাটাই হলো স্মার্ট কন্টেন্ট মার্কেটিং। যখন ক্রেতা পড়া শুরু করে ভাবেন, “আরে! এই পণ্যটি তো একদম আমার জন্যই তৈরি,” তখনই আপনার লেখাটি সফল ও সার্থক হয়।
ক্রেতার মনের ভয় ও সুপ্ত চাহিদা বোঝার উপায়
প্রতিটি ক্রয়ের পেছনেই ক্রেতার কোনো না কোনো সুপ্ত চাহিদা, সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশা বা গোপন ভয় কাজ করে। হয়তো তিনি এমন কোনো পণ্য খুঁজছেন যা তার প্রতিদিনের মূল্যবান সময় বাঁচাবে, অথবা তার সামাজিক মর্যাদা বাড়াবে। আপনার লেখায় সেই নির্দিষ্ট ব্যথার জায়গাটি (Pain point) চিহ্নিত করে নিখুঁত সমাধান দিতে হবে। ক্রেতার মনে কোনো সংশয় থাকলে তা লেখার মাধ্যমেই দূর করতে হবে।
বায়ার পারসোনা তৈরির সহজ ধাপসমূহ
আদর্শ ক্রেতা চেনার জন্য লেখার আগেই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খাতায় লিখে নিন। যেমন: ক্রেতা কেন এই পণ্যটি খুঁজছেন? তার বাজেট কেমন? এবং তিনি পণ্যটি কেনার আগে কী কী বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন? এই উত্তরগুলো জানলে আপনার বিবরণী হবে অত্যন্ত ধারালো ও লক্ষ্যভেদী।
| ক্রেতার ধরন | তাদের মূল চাওয়া বা পছন্দ | লেখায় যে টোন বা ভাষা ব্যবহার করবেন |
| তরুণ ও জেন-জি (Gen-Z) | ট্রেন্ডি ভাব, দ্রুত কাজ হওয়া, আধুনিকতা | বন্ধুভাবাপন্ন, চটপটে ও ক্যাজুয়াল শব্দ |
| পেশাজীবী ও করপোরেট | সময় সাশ্রয়, স্থায়িত্ব ও প্রিমিয়াম কোয়ালিটি | মার্জিত, তথ্যবহুল ও পেশাদার ভাষা |
| গৃহিণী ও অভিভাবক | পরিবারের সুরক্ষা, বাজেট ও নির্ভরতা | উষ্ণ, যত্নশীল ও আশ্বাসমূলক শব্দচয়ন |
ফিচারের বদলে সুবিধার ওপর ফোকাস করার নিয়ম

মানুষ আসলে কোনো পণ্যের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা ফিচার কেনে না, তারা কেনে সেই ফিচার থেকে পাওয়া সুবিধাটুকু বা সমস্যার সমাধান। ধরুন আপনি একটি ছাতা বিক্রি করছেন; এটি “ফাইবারগ্লাস দিয়ে তৈরি”—এটা হলো ফিচার। আর “ঝড়ো বাতাসেও এটি উল্টে যাবে না বা ভাঙবে না, ফলে আপনি থাকবেন সম্পূর্ণ শুকনো”—এটা হলো সুবিধা। ক্রেতাকে সবসময় সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে এই নির্দিষ্ট পণ্যটি তার জীবনকে কতটা সহজ, সুন্দর বা আরামদায়ক করে তুলবে। ফিচারকে সুবিধার মোড়কে উপস্থাপন করাই অভিজ্ঞ কপিরাইটারদের প্রধান অস্ত্র।
ফিচার থেকে বেনিফিট বের করার সহজ ফর্মুলা
যেকোনো পণ্যের বিবরণী লেখার সময় প্রতিটি ফিচারের পাশে মনে মনে বা কাগজে লিখে প্রশ্ন করুন—”তো তাতে আমার কী লাভ?” (So what?)। এই প্রশ্নের যে বাস্তব ও প্রয়োগমুখী উত্তরটি পাবেন, সেটাই আপনার ডেসক্রিপশনের মূল আকর্ষণ বা হেডলাইন হওয়া উচিত।
আবেগী সুবিধার (Emotional Benefit) ক্ষমতা
শুধুমাত্র শারীরিক বা ব্যবহারিক সুবিধাই সব নয়, মানসিক বা আবেগী সুবিধাও ক্রেতাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি দামি ঘড়ি শুধু সময় দেখায় না (ফিচার), বরং এটি পরলে আত্মবিশ্বাস ও করপোরেট আভিজাত্য বহুগুণ বেড়ে যায় (আবেগী সুবিধা)। এই বিষয়গুলো লেখায় কৌশলে তুলে ধরতে হবে।
| পণ্যের নাম | প্রযুক্তিগত ফিচার (যা আছে) | আসল সুবিধা (ক্রেতা যা পান) |
| স্মার্টওয়াচ | ৫০০ এমএএইচ (mAh) ব্যাটারি | একবার চার্জেই টানা ৭ দিন ব্যবহারের স্বাধীনতা |
| স্কিনকেয়ার ক্রিম | হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ | ত্বক থাকবে দিনভর টানটান, সতেজ ও উজ্জ্বল |
| গেমিং চেয়ার | সামঞ্জস্যপূর্ণ লম্বার সাপোর্ট | দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলেও কোমরে ব্যথা হবে না |
এসইও ফ্রেন্ডলি ডেসক্রিপশন লেখার প্রুভেন স্ট্র্যাটেজি
আপনার লেখা যত ভালোই হোক না কেন, এসইও ফ্রেন্ডলি না হলে গুগল সার্চে বা ওয়েবসাইটের সার্চবারে ক্রেতা যদি তা খুঁজে না পান, তবে সব পরিশ্রমই বৃথা। সার্চ ইঞ্জিনে পণ্যকে সবার সামনে আনতে হলে লেখার ভেতর প্রাকৃতিকভাবে কিওয়ার্ড সমন্বয় করতে হবে। তবে জোর করে বারবার একই শব্দ ব্যবহার করলে গুগলের অ্যালগরিদম স্প্যাম হিসেবে ধরে নিতে পারে। তাই প্রাসঙ্গিক সমার্থক শব্দ এবং মানুষের খোঁজার ধরন (Search Intent) অনুযায়ী লেখার গঠন তৈরি করতে হয়, যাতে গুগল এবং ক্রেতা উভয়ই সন্তুষ্ট হন।
কিওয়ার্ড বসানোর সঠিক ও স্বাভাবিক নিয়ম
মূল কিওয়ার্ডটি পণ্যের প্রধান শিরোনামে (H1), পেজের ইউআরএল-এ এবং প্রথম ১০০ শব্দের মধ্যে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি এলএসআই (LSI) বা প্রাসঙ্গিক শব্দগুলো পুরো লেখায় এমনভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন পড়তে একদম স্বাভাবিক মনে হয়। এসইও-এর জন্য লেখার মান ও পড়ার সাবলীলতা কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না।
অন-পেজ এসইও ও মেটাডেটার সঠিক ব্যবহার
প্রোডাক্ট পেজের মেটা টাইটেল এবং মেটা ডেসক্রিপশন অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে হবে, কারণ সার্চ রেজাল্টে ক্রেতা প্রথমে এটাই দেখেন। মেটা ডেসক্রিপশনে একটি স্পষ্ট কল-টু-অ্যাকশন (CTA) এবং মূল কিওয়ার্ড রাখুন, যা সার্চ রেজাল্টে ক্লিক থ্রু রেট (CTR) বাড়াতে সাহায্য করে।
| এসইও উপাদান | কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করবেন | সতর্কতাবাণী |
| ফোকাস কিওয়ার্ড | টাইটেল, ইউআরএল এবং প্রথম প্যারাগ্রাফে | জোর করে বারবার বসাবেন না (Stuffing করবেন না) |
| ন্যাচারাল বা লিম্যাটিক শব্দ | বডির বিভিন্ন অংশে এবং বুলেট পয়েন্টে | লেখার মূল ভাব যেন নষ্ট না হয় |
| ইমেজ অল্টার (Alt) টেক্সট | পণ্যের ছবির ব্যাকএন্ড ডেসক্রিপশনে | শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন |
সেন্সরি ওয়ার্ড বা আবেগী শব্দের ব্যবহার ও স্ক্যানেবল ফরম্যাটিং
অনলাইন পাঠকরা সাধারণত পুরো লেখা লাইন ধরে বা শব্দ ধরে পড়েন না, তারা চোখ বুলিয়ে বা স্ক্যান করে মূল তথ্যগুলো দ্রুত দেখে নেন। তাই বড় বড় প্যারাগ্রাফ না লিখে ছোট ছোট বাক্যে তথ্য ভাগ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এর সাথে যদি আপনি ইন্দ্রিয়কে নাড়া দেওয়ার মতো শব্দ (Sensory words) ব্যবহার করতে পারেন, তবে ক্রেতার কল্পনায় পণ্যটি জীবন্ত হয়ে ওঠে। যেমন খাবার পণ্যের ক্ষেত্রে “মচমচে” বা “জিভে জল আনা” শব্দগুলো পাঠকের মস্তিষ্কে সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং ক্রয়ের তাড়না তৈরি করে।
বুলেট পয়েন্ট ও পাওয়ার ওয়ার্ডের জাদু
পণ্যের মূল আকর্ষণীয় দিকগুলো ৩ থেকে ৫টি ছোট ও স্পষ্ট বুলেট পয়েন্টে তুলে ধরুন। এতে ব্যস্ত ক্রেতারাও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পণ্যের সেরা দিকগুলো বুঝে নিতে পারেন। প্রতিটি বুলেট পয়েন্ট শুরু করুন একটি শক্তিশালী অ্যাকশন ভার্ব বা পাওয়ার ওয়ার্ড দিয়ে।
স্ক্যানেবিলিটি বাড়ানোর জন্য টাইপোগ্রাফি টিপস
লেখার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা কিওয়ার্ডগুলো বোল্ড (Bold) করে দিন। সাব-হেডিংগুলো স্পষ্টভাবে আলাদা করুন এবং পর্যাপ্ত হোয়াইট স্পেস বা ফাঁকা জায়গা রাখুন, যেন চোখের ওপর কোনো ধরনের চাপ না পড়ে।
| সাধারণ শব্দ (যা এড়িয়ে চলবেন) | আবেগী ও পাওয়ার ওয়ার্ড (যা ব্যবহার করবেন) | কেন এটি কার্যকর |
| ভালো মানের কাপড় | অত্যন্ত কোমল ও আরামদায়ক ফ্যাব্রিক | স্পর্শের অনুভূতি তৈরি করে |
| সুস্বাদু চকোলেট | মুখে দিলেই গলে যাওয়া ঘন চকোলেট | স্বাদের কল্পনাকে জাগ্রত করে |
| দ্রুত কাজ করে | চোখের পলকে জাদুকরী সমাধান | দ্রুত সিদ্ধান্তের তাগিদ দেয় |
সোশ্যাল প্রুফ এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর কৌশল
অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতার প্রধান বাধা হলো বিশ্বাসের অভাব। তারা চিন্তা করেন, “পণ্যটি কি সত্যিই ছবির মতো হবে?” এই সন্দেহ দূর করতে বিবরণীতে সোশ্যাল প্রুফ বা সামাজিক স্বীকৃতির উপাদান যুক্ত করা অত্যন্ত কার্যকরী। যখন একজন সম্ভাব্য ক্রেতা দেখেন যে অন্যরাও এই পণ্যটি কিনে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তখন তার মনের দ্বিধা দ্রুত কেটে যায় এবং তিনি কেনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেন।
বিবরণীতে রিভিউ এবং রেটিং যুক্ত করার নিয়ম
প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনের ভেতরে বা ঠিক নিচে বাস্তব ক্রেতার ১-২টি সংক্ষিপ্ত প্রশংসাবাণী বা কোট যুক্ত করে দিন। বিশেষ করে যদি কোনো ক্রেতা পণ্যটি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার সমাধান পেয়ে থাকেন, তবে সেই অভিজ্ঞতাটি হাইলাইট করুন। এটি গতানুগতিক বিজ্ঞাপনের চেয়ে বহুগুণ বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে।
গ্যারান্টি ও রিটার্ন পলিসির স্বচ্ছতা
ক্রেতার মনে ভরসা জোগাতে পণ্যের ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি এবং সহজ রিটার্ন পলিসির কথা স্পষ্ট ভাষায় বিবরণীর শেষের দিকে উল্লেখ করুন। “পছন্দ না হলে ৭ দিনের মধ্যে সহজ রিটার্ন সুবিধা”—এমন একটি ছোট বাক্যও ক্রেতার মনে বড় ধরনের আশ্বাস তৈরি করে এবং কার্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার হার (Cart Abandonment Rate) কমিয়ে দেয়।
| বিশ্বাসের উপাদান | কীভাবে বিবরণীতে যুক্ত করবেন | ক্রেতার মনে এর প্রভাব |
| ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট | বাস্তব ক্রেতার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে লিখুন | পণ্যের গুণগত মানের বাস্তব প্রমাণ পান |
| সার্টিফিকেশন বা অ্যাওয়ার্ড | পণ্যের কোনো মান সনদ থাকলে (যেমন: ISO, BSTI) উল্লেখ করুন | ব্র্যান্ডের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা তৈরি হয় |
| ঝুঁকিমুক্ত গ্যারান্টি | ক্যাশ অন ডেলিভারি বা মানি-ব্যাক গ্যারান্টির কথা লিখুন | ক্রয়ের মানসিক ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসে |
আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
পরিশেষে বলা যায়, একটি সফল ই-কমার্স ব্যবসার পেছনে শক্তিশালী ও জাদুকরী কন্টেন্টের অবদান অনস্বীকার্য। সঠিক ও কার্যকরী প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার উপায় হলো ক্রেতার মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে বোঝা এবং পণ্যের ফিচারকে তার দৈনন্দিন জীবনের সুবিধার সাথে নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেওয়া। আপনি যখন যান্ত্রিক ভাষার বদলে একজন কাছের বন্ধুর মতো আন্তরিক ও মানবিক টোনে কথা বলবেন এবং লেখাকে এসইও-বান্ধব ও সহজে পড়ার উপযোগী করবেন, তখন বিক্রি বাড়তে বাধ্য। আজ থেকেই আপনার ওয়েবসাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩-৫টি পণ্যের বিবরণী এই নতুন ও প্রমাণিত নিয়মে লিখে দেখুন এবং সেলস কনভার্সনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিজেই যাচাই করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: একটি আদর্শ প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন ঠিক কত শব্দের হওয়া উচিত?
উত্তর: এর কোনো ধরাবাঁধা বা নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, তবে সাধারণত ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে ভালো। সাধারণ বা কম দামি পণ্যের জন্য ছোট ও টু-দ্য-পয়েন্ট বিবরণী এবং দামি বা জটিল প্রযুক্তির পণ্যের ক্ষেত্রে একটু বিস্তারিত (৪০০-৫০০ শব্দ) লেখা উচিত, যাতে ক্রেতার সব প্রশ্নের উত্তর সেখানে থাকে।
প্রশ্ন ২: প্রস্তুতকারক কোম্পানির দেওয়া ডেসক্রিপশন সরাসরি ব্যবহার করলে কী ক্ষতি?
উত্তর: এতে গুগলে ‘ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট’ পেনাল্টি খাওয়ার ঝুঁকি থাকে, ফলে আপনার পেজ সার্চ রেজাল্টে কখনোই ওপরের দিকে র্যাঙ্ক করবে না। এছাড়া ঐ লেখায় কোনো নিজস্ব ব্র্যান্ড ভয়েস বা মানবিক ছোঁয়া থাকে না বলে ক্রেতারাও পড়ে কোনো আকর্ষণ বোধ করেন না।
প্রশ্ন ৩: ডেসক্রিপশনের ভেতরে কি পণ্যের দাম বা ডিসকাউন্টের কথা উল্লেখ করা ঠিক?
উত্তর: মূল বিবরণীর টেক্সটের ভেতরে দাম বা অফারের কথা না লেখাই ভালো, কারণ দাম সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে। দাম ও অফারের জন্য পেজের নির্ধারিত বাটন ও প্রাইস সেকশন ব্যবহার করুন; বিবরণীতে শুধু পণ্যের মান, সুবিধা ও সমাধানের ওপর ফোকাস রাখুন।
প্রশ্ন ৪: কাস্টমার রিভিউ বা টেস্টিমোনিয়াল কি ডেসক্রিপশনের অংশ হওয়া উচিত?
উত্তর: সরাসরি ডেসক্রিপশনের মূল প্যারাগ্রাফে না লিখে, বিবরণীর ঠিক নিচে বা পাশে “সোশ্যাল প্রুফ” হিসেবে বাস্তব ক্রেতাদের ১-২টি ছোট রিভিউ বা কোট (Quote) যোগ করলে বিশ্বাসের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং ক্রেতা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
প্রশ্ন ৫: মোবাইল ইউজারদের জন্য প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার সময় কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত?
উত্তর: মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে পড়ার সুবিধার জন্য প্যারাগ্রাফগুলো ১-২ বাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন। ফন্ট সাইজ স্পষ্ট রাখুন, পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা (White space) দিন এবং মূল সুবিধাগুলো অবশ্যই বুলেট পয়েন্টে রাখুন যাতে স্ক্রোল করার সময় সহজেই চোখে পড়ে।

