একটি ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট, কয়েকটি প্রকাশিত নিবন্ধ কিংবা সুন্দরভাবে সাজানো নকশা দেখে কাজের মান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলো দেখে নিয়োগকর্তা সব সময় বুঝতে পারেন না, কাজটি করতে আপনার কতটা অবদান ছিল। কোন সমস্যার সমাধান করেছেন, কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা কাজের পর কী পরিবর্তন এসেছে, সেসবও অনেক সময় অজানা থেকে যায়।
দূর থেকে করা চাকরি ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকের জন্য পোর্টফোলিও তৈরিতে এই জায়গাটিই গুরুত্ব পায়। কারণ সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা আপনার কাজের প্রক্রিয়া সরাসরি দেখেননি। তাঁকে এমন তথ্য দিতে হবে, যার ভিত্তিতে তিনি আপনার দক্ষতা সম্পর্কে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
দূর থেকে কাজের একটি ভালো পোর্টফোলিও তৈরির জন্য অসংখ্য প্রকল্প বা বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। আগের কাজের নমুনা, নিজের দায়িত্ব, সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি এবং যাচাইযোগ্য ফলাফল গুছিয়ে দেখাতে পারলেই পোর্টফোলিও অনেক বেশি তথ্যবহুল হয়।
স্ক্রিনশট আছে, কিন্তু কাজের প্রমাণ কোথায়?
ধরা যাক, একজন ওয়েবসাইট নির্মাতা একটি অনলাইন কেনাকাটার ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিয়েছেন। ওয়েবসাইটটি দেখতে সুন্দর, পৃষ্ঠাগুলো ঠিকমতো খুলছে এবং কেনাকাটার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এখানে কাজের নমুনা পাওয়া গেল। কিন্তু ওয়েবসাইট নির্মাতার দক্ষতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। পুরো ওয়েবসাইট কি তিনি একা তৈরি করেছেন? নাকি শুধু মূল্য পরিশোধ বা ব্যবহারকারীর প্রবেশের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন? ওয়েবসাইটের গতি বাড়ানো, কোনো ত্রুটি সমাধান করা কিংবা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল কি?
স্ক্রিনশট এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।
একই সমস্যা বিষয়বস্তু লেখক বা নকশাবিদের পোর্টফোলিওতেও দেখা যায়। প্রকাশিত নিবন্ধের ঠিকানা দিয়ে বোঝানো যায় লেখাটি কোথায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বিষয় নির্বাচন, গবেষণা, সম্পাদনা বা সার্চ ইঞ্জিনে লেখাটির কার্যকারিতায় লেখকের অবদান কতটা ছিল, তা আলাদা করে জানাতে হয়।
কাজের নমুনা দেখানোর পাশাপাশি সেই কাজে নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করাই পোর্টফোলিও তৈরির মূল কাজ। অবশ্য প্রতিটি প্রকল্পে ব্যবসায়িক ফলাফল দেখানো সম্ভব নয়। অনেক সময় কাজের চূড়ান্ত ফলের তথ্য গ্রাহকের কাছেই থাকে। সে ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব, কাজের পদ্ধতি এবং অনুমোদিত নমুনা দিয়ে দক্ষতার প্রমাণ তুলে ধরতে পারেন।
কোন ধরনের প্রমাণ পোর্টফোলিওতে রাখা উচিত?
প্রমাণ নির্বাচন করার সময় ভাবুন, আপনি যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেখানে নিয়োগকর্তা কোন দক্ষতাগুলো দেখতে চাইবেন।
একজন সফটওয়্যার নির্মাতার লেখা প্রোগ্রামের সংকেত বা কোড দেখানো প্রয়োজন হতে পারে। একজন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বিশেষজ্ঞের ক্ষেত্রে কাজের আগে ও পরে সার্চ ফলাফলে ওয়েবসাইটের কার্যকারিতার তথ্য বেশি প্রাসঙ্গিক। আবার দূর থেকে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া কর্মীর জন্য কাজ সংগঠিত রাখা বা সময়মতো দায়িত্ব শেষ করার প্রমাণ কাজে আসতে পারে।
সম্পন্ন কাজের নমুনার সঙ্গে নিজের ভূমিকা লিখুন

পোর্টফোলিওতে প্রকাশিত কাজের ঠিকানা, পরীক্ষামূলক সংস্করণ, প্রাথমিক নমুনা, প্রোগ্রামের কোড বা অনুমোদিত স্ক্রিনশট রাখতে পারেন। তবে নমুনার পাশে সংক্ষেপে লিখুন, কাজটির উদ্দেশ্য কী ছিল এবং আপনি কোন অংশে কাজ করেছেন।
দলগত প্রকল্প হলে সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
ধরা যাক, একটি মুঠোফোনের অ্যাপ তৈরির প্রকল্পে আপনি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। পোর্টফোলিওতে পুরো অ্যাপের ছবি রাখতে পারেন, যদি প্রকাশের অনুমতি থাকে। কিন্তু বিবরণে নিজের দায়িত্বটুকুই লিখবেন।
অন্যের তৈরি পূর্বনির্ধারিত নকশা পরিবর্তন করলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কোন অংশ আগে থেকে ছিল এবং আপনি কী পরিবর্তন করেছেন, তা জানানো উচিত। এতে কাজের নমুনা দেখে আপনার দক্ষতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে।
ফলাফল দেখান, তবে সংখ্যার পেছনের তথ্যও দিন
পরিমাপযোগ্য ফলাফল পোর্টফোলিওতে বেশ কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সংখ্যাটি কোথা থেকে এসেছে, তা না জানালে সেটির মূল্য বোঝা কঠিন। ধরা যাক, কোনো ওয়েবসাইটে সার্চ ইঞ্জিন থেকে আসা ক্লিকের সংখ্যা বেড়েছে। পোর্টফোলিওতে শুধু বৃদ্ধির শতাংশ লিখলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে না।
কোন পৃষ্ঠায় ক্লিক বেড়েছে, কত দিনের তথ্য তুলনা করা হয়েছে এবং ওই সময়ে কী ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছিল, সেগুলোও জানানো দরকার। সার্চ ইঞ্জিনের জন্য বিষয়বস্তু লেখক বা ওয়েবসাইটের সার্চ কার্যকারিতা উন্নয়নে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা গুগল সার্চ কনসোলের কার্যকারিতা প্রতিবেদনে পৃষ্ঠাভিত্তিক বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার ক্লিক, প্রদর্শনের সংখ্যা এবং প্রদর্শনের তুলনায় ক্লিকের হার দেখতে পারেন। আগের ও পরের সময়সীমা তুলনা করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে এখানে সতর্ক থাকতে হবে। গুগল সার্চে ক্লিক বাড়ার অর্থ সরাসরি বিক্রয় বেড়েছে, এমন নয়। আবার কোনো নিবন্ধ পরিবর্তনের পর ওয়েবসাইটে দর্শনার্থী বাড়লেই সেই পরিবর্তনের কারণে বৃদ্ধি ঘটেছে, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মৌসুমি চাহিদা, অন্য প্রচারণা কিংবা ওয়েবসাইটে একই সময়ে করা পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে।
প্রমাণ যতটুকু সমর্থন করে, দাবি ততটুকুই রাখুন। যাচাইযোগ্য তথ্য না থাকলে অনুমান করে শতাংশ বা ব্যবসায়িক ফলাফল লিখবেন না।
কীভাবে সমস্যার সমাধান করেছেন, সেটিও দেখান
অনেক প্রকল্পে চূড়ান্ত ফলের চেয়ে কাজ করার পদ্ধতি বেশি তথ্য দেয়। একজন ব্যবহারকারী ইন্টারফেস ও অভিজ্ঞতা নকশাবিদ প্রাথমিক নকশা, ব্যবহারকারীর সমস্যার বিবরণ এবং পরবর্তী পরিবর্তনগুলো দেখাতে পারেন। এতে বোঝা যাবে, কোন সিদ্ধান্তের পেছনে কী যুক্তি ছিল। একজন সফটওয়্যার নির্মাতা ব্যাখ্যা করতে পারেন কেন নির্দিষ্ট প্রযুক্তি বেছে নিয়েছেন, কী সমস্যা পেয়েছেন এবং সমাধান পরীক্ষা করেছেন কীভাবে।
গিটহাবে কোড প্রকাশ করে থাকলে প্রকল্পের পরিচিতি ও নির্দেশনাসংবলিত নথিতে উদ্দেশ্য, সেটআপ এবং ব্যবহারের তথ্য রাখাও উপকারী। তবে কোডের অনেক পরিবর্তন নথিভুক্ত থাকা মানেই ভালো কোড লেখার দক্ষতা প্রমাণিত হয় না। কোডের মান এবং সমাধান করা সমস্যাও বিবেচনায় আসে।
আগের গ্রাহকের মন্তব্য থাকলে প্রসঙ্গসহ রাখুন
গ্রাহকের অনুমোদিত মূল্যায়ন কাজের মান সম্পর্কে বাড়তি ধারণা দিতে পারে। বিশেষ করে সময়মতো কাজ শেষ করা, যোগাযোগ বজায় রাখা কিংবা সংশোধনের অনুরোধ সামলানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য প্রাসঙ্গিক।
মন্তব্যের সঙ্গে প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচয় থাকলে সেটি বুঝতে সুবিধা হয়। তবে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ইমেইল, কথোপকথন বা চুক্তির স্ক্রিনশট প্রকাশ করবেন না। মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ থাকাও ভালো।
পেশাভেদে প্রমাণের ধরন বদলাবে
সব পোর্টফোলিওতে একই ধরনের ফলাফল দেখানোর প্রয়োজন নেই। নিজের পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য নির্বাচন করাই যুক্তিসংগত।
| পেশা | পোর্টফোলিওতে যে প্রমাণ রাখতে পারেন |
| বিষয়বস্তু লেখক | প্রকাশিত লেখা, সম্পাদনার নমুনা, সার্চ ফলাফলে কার্যকারিতা |
| সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বিশেষজ্ঞ | ক্লিক, প্রদর্শনের সংখ্যা, প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের তথ্য |
| ব্যবহারকারী ইন্টারফেস ও অভিজ্ঞতা নকশাবিদ | ব্যবহারকারীর সমস্যা, নকশার পরিবর্তন, পরীক্ষার ফল |
| সফটওয়্যার নির্মাতা | কোড, কার্যকর নমুনা, পরীক্ষার ফল, কোড পরিবর্তন পর্যালোচনার অনুরোধ |
| ডিজিটাল বিপণনকর্মী | প্রচারণার লক্ষ্য, সম্ভাব্য গ্রাহক, কাঙ্ক্ষিত কার্যসম্পাদনের তথ্য |
| দূরবর্তী প্রশাসনিক সহকারী | কাজের সংগঠন, নথিপত্র, সময় সাশ্রয়ের প্রমাণ |
এই তালিকা অনুসরণ করতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। যেমন, বিষয়বস্তু লেখকের কাছে কোনো নিবন্ধের বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য না-ও থাকতে পারে। সেটি না থাকলে লেখার মান, গবেষণার পদ্ধতি কিংবা সম্পাদনার আগে ও পরের নমুনা দেখানো যায়। আবার ডিজিটাল বিপণনকর্মীর ক্ষেত্রে প্রচারণার ফলাফল থাকলে সেটির লক্ষ্য ও পরিমাপের ভিত্তি ব্যাখ্যা করা ভালো।
আগের কাজকে প্রকল্পভিত্তিক বিশ্লেষণ হিসেবে সাজাবেন যেভাবে
একটি প্রকল্পভিত্তিক বিশ্লেষণ তৈরির জন্য দীর্ঘ প্রতিবেদন লেখার দরকার নেই। প্রকল্পে কী সমস্যা ছিল, আপনি কী করেছেন এবং কাজের পর কী জানা গেছে, এই তথ্যগুলো গুছিয়ে উপস্থাপন করলেই শুরু করা যায়। প্রথমে এমন প্রকল্প বেছে নিন, যার সঙ্গে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি বা স্বাধীনভাবে চুক্তিভিত্তিক কাজের মিল রয়েছে।
সব পুরোনো কাজ একসঙ্গে দেখানোর দরকার নেই। শুরুতে তিন থেকে পাঁচটি প্রাসঙ্গিক প্রকল্প বিস্তারিতভাবে সাজাতে পারেন। এটি বাধ্যতামূলক সংখ্যা নয়। ভালো প্রকল্প কম থাকলে সংখ্যা বাড়ানোর জন্য দুর্বল নমুনা যোগ করবেন না।
সমস্যাটি কোথায় ছিল?
প্রকল্পের শুরুতে কী পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল, তা লিখুন। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একটি অনলাইন দোকানের মুঠোফোনের সংস্করণে ব্যবহারকারীদের পণ্য খুঁজে পেতে অসুবিধা হচ্ছিল। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল পণ্য খোঁজার প্রক্রিয়া সহজ করা।
এটি একটি কাল্পনিক উদাহরণ। নিজের পোর্টফোলিওতে অবশ্যই প্রকৃত প্রকল্পের তথ্য ব্যবহার করবেন।
আপনার কাজের অংশটি আলাদা করুন
কাজে কোন দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করেছেন এবং কী কারণে নির্দিষ্ট পরিবর্তন এনেছেন, তা ব্যাখ্যা করুন।
প্রকল্পে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকলে তাঁদের কাজকে নিজের অর্জন হিসেবে দেখাবেন না। প্রযুক্তির দীর্ঘ তালিকা দেওয়ার বদলে আপনার সিদ্ধান্ত ও অবদান পরিষ্কার রাখুন।
কী পরিবর্তন এসেছে?
ফলাফল থাকলে আগের ও পরের অবস্থা তুলনা করুন। হিসাব বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। কোনো নির্দিষ্ট কাজ শেষ করতে আগে ১০ ঘণ্টা লাগত। প্রক্রিয়া পরিবর্তনের পর একই ধরনের কাজ ৮ ঘণ্টায় শেষ হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সময় কমেছে ২০ শতাংশ।
এটি বাস্তব প্রকল্পের ফলাফল নয়। নিজের প্রকল্পে এমন তুলনা করার সময় কাজের ধরন, জটিলতা ও সময়সীমা যেন তুলনাযোগ্য হয়। একটি কাজের সময় কমেছে বলে পুরো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা একই হারে বেড়েছে, এমন দাবি করা যাবে না।
ফলাফল অসম্পূর্ণ হলে কী লিখবেন?
সব সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয় না। কোনো পরীক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবহারকারী পাওয়া না-ও যেতে পারে। আবার প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ফলাফল পর্যবেক্ষণের সুযোগ নাও থাকতে পারে।
এ ধরনের সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে লিখুন।
কোন ফলাফল সরাসরি দেখা গেছে আর কোনটি যাচাই করা বাকি, সেটি আলাদা করা থাকলে প্রকল্পের তথ্য মূল্যায়ন করা সহজ হয়।
আন্তর্জাতিক গ্রাহকের জন্য কাজের পাশাপাশি যোগাযোগের প্রমাণও রাখুন

দূর থেকে করা চাকরিতে একই অফিসে বসে কাজ করার সুযোগ থাকে না। ফলে লিখিত যোগাযোগ, সময়সীমা মেনে দায়িত্ব শেষ করা এবং দূর থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এই দক্ষতাগুলো পোর্টফোলিওতে দেখানো সম্ভব, যদি সংশ্লিষ্ট কাজের রেকর্ড থাকে। যেমন, প্রকল্পের অগ্রগতি জানাতে তৈরি করা অনুমোদিত প্রতিবেদন বা কাজের সারাংশ ব্যবহার করতে পারেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন কাজের রেকর্ড থাকলেও তা উল্লেখ করা যায়।
দলগত সফটওয়্যার প্রকল্পে গিটহাবে কোড পরিবর্তন পর্যালোচনার অনুরোধ বা পরিবর্তনের ইতিহাস সহযোগিতার ধরন সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। কোনো সমস্যায় নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আবার কোথায় সহকর্মীর সাহায্য প্রয়োজন হয়েছে, সেটিও ব্যাখ্যা করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য ইংরেজি ভাষায় সংক্ষিপ্ত প্রকল্প বিবরণ রাখা ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত। তবে ভাষাগত দক্ষতার দাবি বাস্তব যোগাযোগের সক্ষমতার সঙ্গে মিলতে হবে। পোর্টফোলিওর প্রতিটি তথ্য অন্য ভাষায় অনুবাদ করার চেয়ে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, নিজের অবদান এবং ফলাফল পরিষ্কারভাবে বোঝানোয় মনোযোগ দিন।
অভিজ্ঞতা নেই? নিজের তৈরি প্রকল্প দিয়েও শুরু করতে পারেন
দূর থেকে করা চাকরি খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থী বা নতুন স্নাতকদের অনেকেরই আগের গ্রাহকের কাজ থাকে না। এই অবস্থায় পোর্টফোলিও তৈরির জন্য কাল্পনিক চাকরির অভিজ্ঞতা দেখানোর প্রয়োজন নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট, ব্যক্তিগত প্রকল্প, উন্মুক্ত উৎসের সফটওয়্যার তৈরিতে অবদান কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিষয়বস্তু লেখক একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক নিবন্ধ লিখতে পারেন। সফটওয়্যার নির্মাতা ছোট অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইটভিত্তিক সরঞ্জাম তৈরি করতে পারেন। নকশাবিদ কোনো কাল্পনিক সেবার জন্য নকশা প্রকল্প সাজাতে পারেন।
তবে এসব নমুনায় কাজের পরিচয় স্পষ্ট রাখুন। ব্যক্তিগত বা শিক্ষামূলক প্রকল্পকে বাস্তব গ্রাহকের কাজ হিসেবে দেখানো যাবে না। কোর্সের সনদ থাকলে তার সঙ্গে শেখা বিষয় প্রয়োগের নমুনা যোগ করুন। শুধু সনদ দেখে নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা বোঝা কঠিন হতে পারে। নতুনদের জন্য একটি ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা প্রকল্প অনেকগুলো অসম্পূর্ণ নমুনার চেয়ে বেশি তথ্য দিতে পারে।
আরও পড়ুন: রিমোট জব খোঁজার আগে নিজের টাইম জোন ও যোগাযোগের দক্ষতা যাচাই করুন
গ্রাহকের কাজ প্রকাশের আগে অনুমতি যাচাই করুন
পোর্টফোলিওতে আগের কাজ দেখাতে গিয়ে গোপনীয় তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সফটওয়্যার, বিপণন ও ব্যবসায়িক প্রকল্পে এমন তথ্য থাকতে পারে, যা প্রকাশ করার অনুমতি আপনার নেই। কোনো প্রকল্প যুক্ত করার আগে চুক্তির শর্ত পরীক্ষা করুন। আলাদা গোপনীয়তা চুক্তি না থাকলেও কাজের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাধারণ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে আপওয়ার্কের কথা বলা যায়। এর সাধারণ শর্তে গোপনীয়তা ও কাজের মেধাস্বত্ব নিয়ে বিধান রয়েছে। সাধারণ নিয়মে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পর গ্রাহকের জন্য তৈরি কাজের মেধাস্বত্ব গ্রাহকের কাছে যায়। তবে আগে থেকে চিহ্নিত কিছু প্রযুক্তি বা বিশেষ চুক্তিতে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
অর্থাৎ আপওয়ার্কে কোনো প্রকল্প শেষ করেছেন বলেই সেটির সব কোড, নথি বা ব্যবসায়িক তথ্য নিজের পোর্টফোলিওতে প্রকাশ করতে পারবেন, এমন নয়। গ্রাহকের লিখিত অনুমতি নিয়ে নির্বাচিত অংশ দেখাতে পারেন। অনুমতি থাকলে পরিচয় শনাক্তকারী তথ্য বাদ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করাও সম্ভব।
অনুমতি পাওয়া না গেলে মূল তথ্য ব্যবহার না করে একই ধরনের সমস্যার ওপর স্বাধীনভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্প তৈরি করতে পারেন। গোপন প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুমোদিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ ব্যবহার করা যায়। মনে রাখবেন, শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম বা প্রতীক সরিয়ে ফেললেই তথ্য প্রকাশের অনুমতি পাওয়া যায় না। ব্যবসায়িক তথ্য, গ্রাহকের তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ নথিও গোপনীয় হতে পারে।
পোর্টফোলিও রাখবেন কোথায়?
পোর্টফোলিওর জন্য শুরুতেই নিজস্ব ওয়েবসাইট বানানো জরুরি নয়। কাজের ধরন অনুযায়ী বিদ্যমান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করা যায়।
- লিংকডইন: প্রকাশিত কাজ, ওয়েব ঠিকানা, নথি ও নির্বাচিত নমুনা বিশেষভাবে প্রদর্শিত কাজের বিভাগে রাখা যায়। প্রকল্প বিভাগে প্রকল্পের নাম, বিবরণ, ব্যবহৃত দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট ছবি বা নথি যোগ করার সুবিধাও রয়েছে। পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে নির্বাচিত কাজ দেখাতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
- গিটহাব: সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। নির্বাচিত কোডভান্ডার প্রোফাইলের সামনে স্থায়ীভাবে দেখানো যায়। প্রকল্পের পরিচিতি ও নির্দেশনাসংবলিত নথিতে উদ্দেশ্য, ব্যবহার, স্থাপনের পদ্ধতি এবং পরীক্ষার তথ্য ব্যাখ্যা করতে পারেন।
- বিহ্যান্স: নকশা, ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি এবং সৃজনশীল প্রকল্প সাজানোর জন্য উপযোগী। তবে শুধু বিশেষ লিংকের মাধ্যমে প্রকল্প দেখা এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখার মতো সুবিধা বিহ্যান্স প্রো-এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলো ওয়েব সংস্করণে পাওয়া যায়। প্রো গ্রাহকসেবার মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দৃশ্যমানতা পরিবর্তিত হতে পারে।
- গুগল ড্রাইভ: পিডিএফ আকারে প্রকল্পভিত্তিক বিশ্লেষণ বা অনুমোদিত কাজের নমুনা শেয়ার করা যায়। ফাইলটি শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য উন্মুক্ত, নাকি লিংক থাকা যে কেউ দেখতে পারবেন, তা যাচাই করুন। কাজের বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে বাইরের ব্যক্তিকে ফাইল দেখানোর অনুমতি সীমিত থাকতে পারে।
- আপওয়ার্ক: পোর্টফোলিও বিভাগে কাজের বিবরণ, ছবি, ভিডিও, নথি ও উপযুক্ত ওয়েব ঠিকানা যোগ করা যায়। তবে গ্রাহকের কাজ প্রকাশ এবং যোগাযোগের তথ্য ব্যবহারে প্ল্যাটফর্মের নিয়ম মানতে হবে।
- বিশেষভাবে মনে রাখুন, আপওয়ার্কের পোর্টফোলিও, সংযুক্ত ফাইল এবং লিংক করা কাজের নমুনায় সরাসরি যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। সেখানে ইমেইল, ফোন নম্বর বা প্ল্যাটফর্মের বাইরে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে এমন তথ্য যুক্ত করবেন না।
- অন্যদিকে নিজস্ব ওয়েবসাইট বা স্বাধীনভাবে পাঠানো পোর্টফোলিওতে পেশাগত যোগাযোগের তথ্য রাখা যায়। সে ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের শর্ত প্রযোজ্য হলে তা মেনে চলতে হবে।
প্রথমে প্রাসঙ্গিক কাজ ও তার প্রমাণ সাজান। পরে প্রয়োজন বুঝে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
পুরোনো পোর্টফোলিওতে প্রথমে কোন পরিবর্তনগুলো করবেন?
পুরোনো পোর্টফোলিও উন্নত করতে সবকিছু বাদ দিয়ে আবার শুরু করার প্রয়োজন নেই। আগে দেখুন, বর্তমান নমুনাগুলো আপনার কাঙ্ক্ষিত কাজের সঙ্গে কতটা প্রাসঙ্গিক।
এরপর কয়েকটি বিষয় ধরে পর্যালোচনা করুন।
১. অপ্রাসঙ্গিক নমুনা সরান। যে পদের জন্য আবেদন করছেন, তার সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন কাজ সামনে রাখার প্রয়োজন নেই।
২. প্রতিটি প্রকল্পে নিজের দায়িত্ব লিখুন। দলগত কাজ হলে ব্যক্তিগত অবদান আলাদা করুন।
৩. যাচাইযোগ্য ফলাফল যুক্ত করুন। উপযুক্ত প্রতিবেদন বা পরীক্ষার তথ্য থাকলে ব্যবহার করুন। তথ্য না থাকলে ফলাফল বানিয়ে লিখবেন না।
৪. গ্রাহকের অনুমতি পরীক্ষা করুন। কোনো ব্যক্তিগত বার্তা, ব্যবসায়িক নথি বা গোপন তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট শর্ত দেখুন।
৫. ওয়েব ঠিকানাগুলো খুলে দেখুন। যেসব নমুনা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ না করেই দেখা প্রয়োজন, সেগুলো অন্য ব্রাউজার বা ব্যক্তিগত উইন্ডো থেকে পরীক্ষা করুন। গোপন ফাইলের অনুমতি আলাদাভাবে দেখুন।
৬. অতিরঞ্জিত দাবি বাদ দিন। দলের অর্জন নিজের নামে লেখা, প্রমাণহীন দর্শনার্থী বৃদ্ধির দাবি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কাল্পনিক গ্রাহক মূল্যায়ন পোর্টফোলিওর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লেখা, কোড বা নকশা তৈরি করলে নিজের অবদানও পরিষ্কার রাখুন। কোন অংশে স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামের সাহায্য নিয়েছেন এবং কোন সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছেন, তা প্রয়োজনমতো ব্যাখ্যা করতে পারেন। পোর্টফোলিও প্রকাশের পর নতুন কাজ বা ফলাফল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিশ্লেষণ হালনাগাদ করুন।
প্রথমে একটি কাজের প্রমাণ গুছিয়ে নিন
দূর থেকে কাজের পোর্টফোলিও নতুন করে সাজাতে চাইলে নিজের আগের কাজ থেকে একটি প্রকল্প বেছে নিন। এমন কাজ, যেখানে আপনার দায়িত্ব পরিষ্কার এবং সমস্যার সমাধানে কী করেছেন, তা ব্যাখ্যা করা সম্ভব। প্রকল্পটির জন্য একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ লিখুন। প্রয়োজনীয় নমুনা, অনুমোদিত তথ্য এবং ফলাফল থাকলে সেগুলো যুক্ত করুন। কোনো তথ্য প্রকাশের অনুমতি না থাকলে সেটি বাদ দিন।
তারপর পোর্টফোলিওটি এমনভাবে দেখুন, যেন আপনি ওই প্রকল্প সম্পর্কে আগে কিছুই জানতেন না। কাজটি কী, আপনার অবদান কোথায় এবং দক্ষতার প্রমাণ কী, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। একটি অস্পষ্ট প্রকল্পের পাশে আরও দশটি স্ক্রিনশট যোগ করার চেয়ে সেই প্রকল্পে আপনার কাজের বিবরণ পরিষ্কার করা বেশি কাজে আসতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
দূর থেকে কাজের পোর্টফোলিও কি পিডিএফ আকারে তৈরি করা যায়?
হ্যাঁ। পিডিএফে পরিচয়, দক্ষতা, নির্বাচিত কাজ, প্রকল্পভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য সাজাতে পারেন। তবে ভিডিও, ব্যবহারকারীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করে এমন নকশা বা সফটওয়্যারের কার্যকর নমুনা দেখানোর জন্য ওয়েব ঠিকানা যুক্ত করা ভালো। পাঠানোর আগে ফাইলের আকার, সব ওয়েব ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়ম পরীক্ষা করুন।
চাকরির অভিজ্ঞতায় দীর্ঘ বিরতি থাকলে পোর্টফোলিওতে কী দেখাবেন?
ওই সময়ে প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত প্রকল্প বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে থাকলে সেগুলো উল্লেখ করুন। কাজের সময়কাল ও নিজের অবদান পরিষ্কার রাখুন। অভিজ্ঞতার ফাঁক ঢাকতে কাল্পনিক গ্রাহক বা প্রকল্প তৈরি করবেন না।
একই পোর্টফোলিও দিয়ে সব ধরনের দূরবর্তী চাকরিতে আবেদন করা যাবে?
মূল পোর্টফোলিও একই রাখতে পারেন। তবে পদের চাহিদা অনুযায়ী প্রথমে দেখানো কাজ ও দক্ষতার বিবরণ পরিবর্তন করা ভালো। সার্চ ইঞ্জিনের জন্য বিষয়বস্তু লেখা এবং প্রযুক্তিগত নির্দেশনামূলক নথি লেখার পদের জন্য একই নমুনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক না-ও হতে পারে।


