একটি চাকরির জন্য সিভি কাস্টমাইজ করার ধাপ

সর্বাধিক আলোচিত

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে Microsoft Excel ব্যবহার করে প্রতিবেদন তৈরির দক্ষতা চাওয়া হয়েছে। আপনার সেই অভিজ্ঞতা আছে। অথচ সিভিতে লেখা রয়েছে ‘দাপ্তরিক কাজে সহায়তা’। নিয়োগকর্তা আপনার প্রকৃত দক্ষতা বুঝতে না পারলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদনটি গুরুত্ব না-ও পেতে পারে।

একই সিভি দিয়ে বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠানে যে অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্ব পায়, অন্য প্রতিষ্ঠানে সেটির প্রয়োজন কম থাকতে পারে। চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সিভি সাজানোর এই পদ্ধতিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘Tailor CV to job’।

এর জন্য প্রতিবার নতুন জীবনবৃত্তান্ত লেখার দরকার নেই। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কোন তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট চাকরির জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক, সেগুলো বেছে নিতে হবে। পাশাপাশি দেখতে হবে সিভির ভাষা, তথ্যের ক্রম ও ফরম্যাট নিয়োগকর্তার চাহিদার সঙ্গে মিলছে কি না। কাজটি খুব জটিল নয়। তবে চাকরির বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে না পড়ে শুধু কয়েকটি কীওয়ার্ড পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

সিভি পরিবর্তনের আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন

অনেকেই নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার পর পুরোনো সিভি খুলে কয়েকটি শব্দ পরিবর্তন করেন। কখনো পদের নাম বদলান, কখনো দু-একটি দক্ষতা যোগ করেন। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে ঠিক কী ধরনের কর্মী চাওয়া হয়েছে, সেটি বোঝার জন্য যথেষ্ট সময় দেন না। সিভি কাস্টমাইজ করার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজটি এখানেই।

বিজ্ঞপ্তিতে পদের দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং অতিরিক্ত দক্ষতার কথা সাধারণত আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে। সব শর্ত সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্দিষ্ট ডিগ্রি বা পেশাগত অনুমোদন বাধ্যতামূলক হতে পারে। আবার কোনো সফটওয়্যারের অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও লেখা থাকতে পারে।

এই দুই ধরনের শর্তের পার্থক্য বুঝতে হবে। একটি মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ পদের বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা, কনটেন্ট পরিকল্পনা এবং প্রচারণার প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব উল্লেখ থাকতে পারে। আবেদনকারীর এসব কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সিভিতে সেগুলো সহজে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

কিন্তু একই প্রার্থী যদি আগের চাকরিতে শুধু সাধারণ প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘ বিবরণ দেন, তাহলে তাঁর প্রাসঙ্গিক দক্ষতা আড়ালে পড়ে যেতে পারে। বিজ্ঞপ্তিটি পড়ার পর নিজের কাছে তিনটি প্রশ্ন রাখুন। কোন যোগ্যতাগুলো বাধ্যতামূলক? নিয়োগ পেলে নিয়মিত কী কাজ করতে হবে? আর সেই কাজগুলোর মধ্যে কোনগুলো আপনি আগে করেছেন?

উত্তরগুলো একটি আলাদা নথিতে লিখে রাখলে পরবর্তী সম্পাদনা সহজ হবে। কোনো বাধ্যতামূলক যোগ্যতা না থাকলে সিভির ভাষা বদলে সেই ঘাটতি পূরণ করা যাবে না। এ কারণে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ন্যূনতম শর্তগুলো মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: এটিএস (ATS) বান্ধব সিভি কী? মানুষ ও সফটওয়্যার দুজনের জন্য পড়তে সহজ সিভি

নিজের অভিজ্ঞতা বদলাবেন না, গুরুত্বের ক্রম বদলান

একজন প্রার্থীর কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে তাঁর সব কাজ প্রতিটি চাকরির জন্য সমান প্রাসঙ্গিক হবে না। অথচ অনেক সিভিতে দেখা যায়, পুরোনো দায়িত্বের দীর্ঘ বিবরণ রয়েছে, কিন্তু আবেদন করা পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজটি সংক্ষেপে লেখা।

এখানে প্রয়োজন তথ্যের ক্রম পরিবর্তন করা। ধরা যাক, একজন ব্যক্তি কনটেন্ট লেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা এবং বিপণন কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি কনটেন্ট রাইটার পদে আবেদন করলে লেখালেখি, গবেষণা ও সম্পাদনার অভিজ্ঞতা সামনে আনতে পারেন।

একই ব্যক্তি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কোনো পদে আবেদন করলে কনটেন্ট পরিকল্পনা, প্রচারণা পরিচালনা এবং ফলাফল বিশ্লেষণের কাজগুলো বেশি গুরুত্ব পাবে। তাঁর চাকরির ইতিহাস বদলাচ্ছে না। আগের কাজের কোন অংশটি নতুন পদের জন্য প্রয়োজনীয়, সেটিই স্পষ্ট হচ্ছে।

একটি মূল সিভি সংরক্ষণ করা সুবিধাজনক

একটি মূল সিভি সংরক্ষণ করা সুবিধাজনক

প্রতিবার পুরোনো সিভি সম্পাদনা করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে যেতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে নিজের সব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নথি রাখুন। এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির ইতিহাস, প্রকল্প, প্রশিক্ষণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যার এবং উল্লেখযোগ্য অর্জনের তথ্য থাকবে। কাজের সময়কাল ও নিজের দায়িত্বের বিবরণও যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করুন।

এই নথিটি সরাসরি চাকরির আবেদনে পাঠানোর জন্য নয়। নির্দিষ্ট পদের জন্য সেখান থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য নির্বাচন করবেন।

প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফাইল তৈরি করাও ভালো অভ্যাস। এতে আগের চাকরির জন্য লেখা কোনো পরিচিতি বা অপ্রাসঙ্গিক দক্ষতা ভুল করে নতুন আবেদনে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

কাজের দায়িত্ব লিখেই থামবেন না

সিভির অভিজ্ঞতা অংশে প্রায়ই এমন কিছু শব্দ দেখা যায়, যেগুলো পড়লে কাজের প্রকৃত ধরন বোঝা যায় না। যেমন ‘টিম ম্যানেজমেন্ট’, ‘রিপোর্টিং’ কিংবা ‘সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট’।

এগুলো পেশাগত দক্ষতার নাম হতে পারে। কিন্তু প্রার্থী কী কাজ করেছেন, সেই প্রশ্নের পুরো উত্তর দেয় না।

উদাহরণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংগঠনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার কথা ভাবা যায়।

সাধারণ বিবরণ: ‘ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেছি।’

আরও নির্দিষ্ট বিবরণ: ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠনের ফেসবুক পেজের প্রকাশনা সূচি তৈরি, পোস্টের বিষয় নির্বাচন এবং নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেছি।’

দ্বিতীয় বিবরণ পড়লে দায়িত্বের পরিসর বোঝা যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং বা কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার চাকরিতে এই তথ্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। একই নিয়ম অন্য পেশার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেউ শুধু ‘গ্রাহকসেবা’ লিখলে বোঝা কঠিন, তিনি গ্রাহকের অভিযোগের সমাধান করেছেন, তথ্য হালনাগাদ করেছেন, নাকি নিয়মিত যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন। বাস্তবে যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলো নির্দিষ্টভাবে লিখলে অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

কাজের ফলাফল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে সেটিও উল্লেখ করা উচিত। কতটি প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন, কতজনের দলের সঙ্গে কাজ করেছেন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে কতটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, এ ধরনের তথ্য কাজে আসতে পারে।

তবে সব অর্জন সংখ্যায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পরিসংখ্যান দেওয়ার জন্য অনুমান করে সংখ্যা বসানোর প্রয়োজনও নেই। বিশেষ করে দলগত কাজের ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব এবং পুরো দলের অর্জনের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। যে ফলাফল একাধিক ব্যক্তির যৌথ প্রচেষ্টায় এসেছে, সেটিকে একক ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

সিভির সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে কী লিখবেন?

জীবনবৃত্তান্তের শুরুতে Professional Summary বা পেশাগত পরিচিতির সংক্ষিপ্ত অংশ রাখা যায়। কিন্তু এই জায়গায় প্রায়ই এমন বাক্য লেখা হয়, যা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর যোগ্যতা বোঝায় না। ‘একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চাই’—এমন পরিচিতি নিয়োগকর্তাকে বিশেষ কিছু জানায় না।

এর পরিবর্তে নিজের প্রাসঙ্গিক দক্ষতা সম্পর্কে সরাসরি লেখা যেতে পারে।

যেমন, কনটেন্ট ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন একজন প্রার্থী লিখতে পারেন:

‘ডিজিটাল কনটেন্ট পরিকল্পনা, ওয়েবসাইটের লেখা সম্পাদনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনায় অভিজ্ঞ। SEO ও কনটেন্টের কার্যকারিতা বিশ্লেষণের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিপণন কার্যক্রমে অবদান রাখতে আগ্রহী।’ এটি কেবল নমুনা। সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকলে একই লেখা ব্যবহার করা উচিত নয়।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বাধ্যতামূলকও নয়। বিশেষ করে নতুন চাকরিপ্রার্থীর উল্লেখযোগ্য পেশাগত অভিজ্ঞতা না থাকলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রকল্প ও বাস্তব দক্ষতাগুলো সরাসরি তুলে ধরা বেশি উপযোগী হতে পারে। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও এই অংশ দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি বাক্যের মধ্যে পদের সঙ্গে নিজের প্রধান যোগ্যতার সম্পর্ক বোঝানোই যথেষ্ট।

নতুন চাকরিপ্রার্থীরা কোন অভিজ্ঞতা ব্যবহার করবেন?

চাকরির অভিজ্ঞতা নেই বলে সিভি প্রায় ফাঁকা রাখতে হবে, এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প, শিক্ষানবিশি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম থেকেও বিভিন্ন পেশার উপযোগী দক্ষতা অর্জন করা যায়। কিন্তু এসব কার্যক্রমের নামের দীর্ঘ তালিকা তৈরি করলেই সিভি ভালো হবে না। আবেদন করা পদের সঙ্গে কোন অভিজ্ঞতার সম্পর্ক রয়েছে, সেটি আগে বুঝতে হবে।

তথ্য বিশ্লেষণের চাকরিতে আবেদন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতিতে কাজ করেছেন এবং প্রতিবেদন তৈরিতে নিজের দায়িত্ব কী ছিল, তা উল্লেখ করা যায়।

গ্রাফিক ডিজাইনের পদের জন্য নিজের তৈরি কাজের নমুনা ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার দক্ষতা বেশি কাজে আসতে পারে। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সিভির শুরুতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিবরণ রাখা অনেক ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত। তবে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে কোনো বিশেষ দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলে তথ্যের ক্রম পরিবর্তন করা যায়।

পেশা পরিবর্তনের সময় আগের কাজের মূল্য কমিয়ে দেখবেন না

একটি পেশা থেকে অন্য পেশায় যেতে চাইলে আগের সব অভিজ্ঞতা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। একজন বিক্রয়কর্মী কাস্টমার সাকসেস পদে আবেদন করতে চাইলে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, তথ্য সংরক্ষণ এবং সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

এগুলো স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতার উদাহরণ। অর্থাৎ একটি পেশায় শেখা দক্ষতা অন্য ধরনের কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে নতুন পদের সঙ্গে মিল দেখাতে গিয়ে পুরোনো চাকরির পদবি পরিবর্তন করবেন না। যে দায়িত্ব পালন করেননি, সেটিও যোগ করা যাবে না।

নিজের প্রকৃত অভিজ্ঞতার কোন অংশগুলো নতুন কাজের জন্য উপযোগী, সেই সম্পর্কটুকু ব্যাখ্যা করাই যথেষ্ট।

চাকরির কীওয়ার্ড ও ATS নিয়ে কতটা ভাববেন?

চাকরির কীওয়ার্ড ও ATS নিয়ে কতটা ভাববেন?

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা দক্ষতার নাম থাকলে সিভিতে সেটি যথাযথভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন হতে পারে। একটি পদে Microsoft Excel, Data Analysis এবং Reporting দক্ষতা চাওয়া হয়েছে। প্রার্থীর এসব কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে দক্ষতার নামের পাশাপাশি কীভাবে ব্যবহার করেছেন, তা লিখতে পারেন।

যেমন, ‘Microsoft Excel ব্যবহার করে মাসিক বিক্রয়ের তথ্য সাজানো ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি।’

এতে সফটওয়্যার জানার দাবির একটি বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়।

অবশ্য বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শব্দ সিভিতে বসানোর দরকার নেই। একই কীওয়ার্ড বারবার লিখলেও যোগ্যতার নতুন কোনো প্রমাণ তৈরি হয় না। ATS নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, সিভিতে নির্দিষ্ট শব্দ না থাকলেই সফটওয়্যার আবেদন বাতিল করে দেয়। বাস্তবে সব নিয়োগব্যবস্থা একইভাবে কাজ করে না।

অ্যাপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম মূলত চাকরির আবেদন সংগ্রহ ও পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিছু ব্যবস্থা সিভি থেকে নাম, যোগাযোগের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শনাক্ত করতে পারে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আবেদন অনুসন্ধান বা নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী বাছাইয়ের কাজেও এসব সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে।

কিছু ব্যবস্থায় আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তিতে প্রার্থীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করার সুবিধা থাকে। কিন্তু সেটি সিভির লেখা থেকে তথ্য শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এক নয়। এ কারণে ATS-এর জন্য সিভি তৈরি বলতে অকারণে কীওয়ার্ড যোগ করার পরিবর্তে প্রাসঙ্গিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পরিষ্কারভাবে লেখা এবং সহজপাঠ্য ফরম্যাট ব্যবহার করাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

জটিল নকশার বদলে পরিষ্কার ফরম্যাট

সাধারণ অনলাইন চাকরির আবেদনে এক কলামের সিভি ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত। অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার জন্য পরিচিত শিরোনাম রাখুন। কাজের বিবরণ প্রয়োজনে ছোট বুলেট পয়েন্টে লিখুন।

অতিরিক্ত গ্রাফিকস, জটিল টেবিল, একাধিক কলাম কিংবা ছবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাখলে কিছু ATS-এ সমস্যা হতে পারে। টেক্সট বক্স ও হেডার-ফুটারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা ভালো।

তবে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সমস্যা হলেই আবেদন বাতিল হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী সুযোগ ভিন্ন হতে পারে।

PDF ও Word-এর মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন?

প্রথমে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটি দেখুন। Greenhouse-এর মতো কিছু নিয়োগব্যবস্থা PDF ও DOCX উভয় ধরনের ফাইল গ্রহণ করে। অন্য প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ফরম্যাট চাওয়া হতে পারে।

PDF তৈরি করলে ফাইলটি খুলে দেখুন। লেখাগুলো ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে কি না এবং প্রয়োজনীয় অংশ কপি করা যাচ্ছে কি না, পরীক্ষা করুন। যদিও এটি কোনো নির্দিষ্ট ATS-এ তথ্য সঠিকভাবে শনাক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

অনলাইন আবেদনপত্রে সিভি আপলোডের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু তথ্য পূরণ হলে সেগুলোও যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে নাম, চাকরির পদবি, কাজের সময়কাল ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ভুল থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই সংশোধন করুন।

সিভির দৈর্ঘ্য নিয়ে অকারণে দুশ্চিন্তা নয়

সিভি অবশ্যই এক পৃষ্ঠার হতে হবে, এমন সর্বজনীন নিয়ম নেই। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের প্রাসঙ্গিক তথ্য অনেক সময় এক পৃষ্ঠায় রাখা সম্ভব। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পৃষ্ঠা বা আরও বেশি জায়গা লাগতে পারে।

আবার গবেষণা, শিক্ষকতা ও একাডেমিক পদের জন্য বিস্তারিত সিভির প্রয়োজন হতে পারে। অনেক দেশে সাধারণ চাকরির আবেদনে সংক্ষিপ্ত রেজুমে ব্যবহৃত হলেও একাডেমিক সিভিতে গবেষণা, প্রকাশনা ও অন্যান্য অর্জনের বিস্তৃত বিবরণ থাকে।

বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে সিভি ও রেজুমে শব্দের ব্যবহার সব ক্ষেত্রে একই নয়। তাই নথির নাম দেখে দৈর্ঘ্য নির্ধারণের পরিবর্তে নিয়োগকর্তার নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সিভি ছোট করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বাদ দেওয়ার দরকার নেই। পুরোনো ও কম প্রাসঙ্গিক কাজের বিবরণ সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে।

একইভাবে ছবি, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য যোগ করার আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট দেশের প্রযোজ্য নিয়ম বিবেচনা করুন। অপ্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

AI দিয়ে সিভি তৈরি করলে কোথায় সতর্ক থাকবেন?

AI-ভিত্তিক লেখার সরঞ্জাম চাকরির বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ, গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শনাক্ত এবং সিভির অস্পষ্ট বাক্য সংশোধনের পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু এসব সরঞ্জামের তৈরি লেখা যাচাই ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। কখনো এমন দায়িত্ব, দক্ষতা কিংবা অর্জনের বিবরণ তৈরি হতে পারে, যার সঙ্গে প্রার্থীর বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল নেই।

নিজের সিভি ও চাকরির বিজ্ঞপ্তি তুলনা করে কোন প্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ পড়েছে, তা শনাক্ত করার কাজে AI সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত লেখার প্রতিটি দাবি সত্য কি না, তা প্রার্থীকেই নিশ্চিত করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও বিবেচনায় রাখা দরকার। অপ্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিবরণ বা পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের গোপন নথি বাইরের কোনো সেবায় আপলোড করবেন না। নিয়োগকর্তা AI ব্যবহারের বিষয়ে আলাদা শর্ত দিলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।

সিভি কাস্টমাইজ করতে অর্থ দিয়ে ATS স্কোর যাচাইয়ের সেবা কেনা বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ ডকুমেন্ট সম্পাদনার সরঞ্জাম দিয়েও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা যায়। কোনো অনলাইন সেবার দেওয়া ATS স্কোর দেখে সাক্ষাৎকার পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত ধরে নেওয়ারও কারণ নেই। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাছাইয়ের শর্ত ও নিয়োগকারীর মূল্যায়ন সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য ছাড়া এমন ফল অনুমান করা সম্ভব নয়।

সিভি পাঠানোর আগে আরেকবার বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিন

সিভি প্রস্তুত হওয়ার পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি আবার খুলুন। এবার দেখুন, প্রতিষ্ঠান যে দায়িত্ব ও দক্ষতাগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতার সম্পর্ক জীবনবৃত্তান্তে পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে কি না।

প্রয়োজনে নিচের বিষয়গুলো ধরে পরীক্ষা করুন:

  • সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাগুলো কি সহজে খুঁজে পাওয়া যায়?
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির পদবি ও কাজের সময়কাল কি নির্ভুল?
  • উল্লেখ করা দক্ষতা ও অর্জনের পক্ষে বাস্তব প্রমাণ রয়েছে?
  • যোগাযোগের তথ্য, কাজের নমুনার লিংক এবং ফাইলের বিন্যাস ঠিক আছে?
  • নিয়োগকর্তার চাওয়া ফরম্যাট ও অতিরিক্ত নথি দেওয়া হয়েছে?

কিছু প্রতিষ্ঠানে আলাদা আবেদনপত্র পূরণ করতে হয়। সেখানে সিভিতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনো অসংগতি আছে কি না, মিলিয়ে নিন। কভার লেটার চাওয়া হলে সিভির সব তথ্য আবার লিখবেন না। সংশ্লিষ্ট চাকরির প্রতি আগ্রহের কারণ এবং নিজের সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক যোগ্যতাগুলো ব্যাখ্যা করাই বেশি উপযোগী। সম্ভব হলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে অন্য কাউকে সিভিটি পড়ে দেখতে বলুন। নিজের পরিচিত লেখা বারবার পড়ার সময় কিছু ভুল বা অস্পষ্ট বাক্য চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

একটি চাকরির জন্য কতটুকু পরিবর্তন যথেষ্ট?

সব চাকরির জন্য সিভিতে একই পরিমাণ পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। কোনো বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচিতি ও কয়েকটি অভিজ্ঞতার বিবরণ সংশোধন করলেই যথেষ্ট হতে পারে। অন্য কোনো পদের জন্য দক্ষতার ক্রম পরিবর্তন, প্রকল্পের তথ্য সংযোজন কিংবা কম প্রাসঙ্গিক কাজ সংক্ষিপ্ত করার প্রয়োজন হবে।

‘Tailor CV to job’ পদ্ধতির উদ্দেশ্য নিজের যোগ্যতাকে বাড়িয়ে দেখানো নয়। নিয়োগকর্তা যে ধরনের কাজের জন্য কর্মী খুঁজছেন, সেই কাজের সঙ্গে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্পর্ক স্পষ্ট করা। এতে সাক্ষাৎকার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। পদের যোগ্যতা, আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার অন্যান্য শর্তও ফলাফলকে প্রভাবিত করে।

পরবর্তী চাকরিতে আবেদন করার সময় পুরোনো সিভি সরাসরি পাঠানোর আগে একটি কাজ করুন। বিজ্ঞপ্তির প্রধান দায়িত্বগুলোর পাশে নিজের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা লিখুন। তারপর সিভি খুলে দেখুন, সেই অভিজ্ঞতাগুলো যথেষ্ট স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে কি না।

কোনো যোগ্যতার প্রমাণ সিভিতে থাকলেও সেটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হলে বিবরণ বা অবস্থান পরিবর্তন করুন। আর যে দক্ষতা নেই, সেটি যোগ করার প্রয়োজন নেই। ভালোভাবে সাজানো সিভিতে সব অভিজ্ঞতার সমান গুরুত্ব থাকতে হবে না। যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সেখানে আপনার যোগ্যতা বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সহজে পাওয়া গেলেই সিভি কাস্টমাইজ করার মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন পদে আবেদন করলে কি আলাদা সিভি তৈরি করতে হবে?

দুটি পদের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা আলাদা হলে সিভিও সেই অনুযায়ী সাজানো ভালো। যেমন, একই প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিস পদে আবেদন করলে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব ভিন্ন হবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির ইতিহাস বা অন্যান্য বাস্তব তথ্য বদলানোর প্রয়োজন নেই। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা সিভি জমা দেওয়ার অনুমতি আছে কি না, সেটিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত দায়িত্ব উল্লেখ না থাকলে সিভি কীভাবে সাজাবেন?

বিজ্ঞপ্তিতে যতটুকু তথ্য রয়েছে, প্রথমে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাগুলো চিহ্নিত করুন। পদের নাম ও কাজের ধরন বিবেচনায় নিজের সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সামনে আনুন। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কাজের বিবরণ থাকলে সেটিও দেখতে পারেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই এমন কোনো দক্ষতাকে বাধ্যতামূলক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ফ্রিল্যান্সিং বা খণ্ডকালীন কাজের অভিজ্ঞতা কি সিভিতে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। ফ্রিল্যান্সিং, খণ্ডকালীন চাকরি কিংবা চুক্তিভিত্তিক প্রকল্পের কাজ সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রাসঙ্গিক হলে সিভিতে উল্লেখ করা যায়। কাজের ধরন, সময়কাল, নিজের দায়িত্ব এবং তৈরি করা ফলাফল পরিষ্কারভাবে লিখুন। তবে ফ্রিল্যান্স বা প্রকল্পভিত্তিক কাজকে স্থায়ী পূর্ণকালীন চাকরি হিসেবে দেখানো উচিত নয়।

চাকরির অভিজ্ঞতায় দীর্ঘ বিরতি থাকলে সিভিতে কী করবেন?

চাকরির বিরতি আড়াল করতে কাজের সময়কাল পরিবর্তন করবেন না। অভিজ্ঞতার তারিখগুলো নির্ভুল রাখুন। বিরতির সময় কোনো প্রশিক্ষণ, প্রকল্প কিংবা প্রাসঙ্গিক দক্ষতা অর্জনের কাজ করে থাকলে তা উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সাক্ষাৎকারে বিরতির কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন। ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য অপ্রয়োজনে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।

সর্বশেষ