সার্চ কনসোলে ম্যানুয়াল অ্যাকশন এলে কী করবেন

সর্বাধিক আলোচিত

গুগল সার্চ কনসোলে ম্যানুয়াল অ্যাকশনের নোটিশ পাওয়ার অর্থ হলো, আপনার ওয়েবসাইটের কোনো অংশ বা পুরো সাইটের বিরুদ্ধে গুগল ব্যবস্থা নিয়েছে। এর ফলে সার্চ ফলাফলে ওয়েবসাইটের অবস্থান নেমে যেতে পারে, এমনকি কিছু পেজ সার্চ ফলাফল থেকে বাদও পড়তে পারে। তবে নোটিশ পেলেই ওয়েবসাইটের সব কনটেন্ট মুছে ফেলা কিংবা নতুন ডোমেইনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

গুগল ম্যানুয়াল অ্যাকশন দূর করতে প্রথমে সার্চ কনসোলে সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে হবে। এরপর গুগলের নীতি লঙ্ঘন করা পেজ, লিংক বা প্রযুক্তিগত সমস্যা সংশোধন করে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ পুনর্বিবেচনার আবেদন পাঠাতে হবে। শুধু আবেদন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না।

মনে রাখা দরকার, ওয়েবসাইটে সার্চ থেকে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়া মানেই ম্যানুয়াল অ্যাকশন নয়। গুগলের অ্যালগরিদমের পরিবর্তন, সার্চের সূচিতে পেজ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সমস্যা কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও এমন হতে পারে। তাই সমাধান খোঁজার আগে সমস্যাটি ঠিক কোথায়, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

গুগল ম্যানুয়াল অ্যাকশন আসলে কী?

গুগলের কোনো মানব পর্যালোচক যখন শনাক্ত করেন যে একটি ওয়েবসাইট বা তার কিছু পেজ গুগলের স্প্যাম নীতি লঙ্ঘন করছে, তখন সংশ্লিষ্ট সাইটের বিরুদ্ধে ম্যানুয়াল অ্যাকশন নেওয়া হতে পারে।

এর ফলে নির্দিষ্ট পেজের সার্চ ফলাফলে অবস্থান কমে যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কোনো পেজ বা পুরো ওয়েবসাইট গুগলের সার্চ ফলাফল থেকে বাদ পড়তে পারে।

ম্যানুয়াল অ্যাকশন মূলত সার্চ ফলাফলকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং অন্যান্য নীতিবিরোধী কার্যক্রম মোকাবিলার একটি ব্যবস্থা। তবে সব নীতি লঙ্ঘনের কারণে মানুষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। গুগলের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাও স্প্যাম শনাক্ত করে।

আরও পড়ুন: গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন

ম্যানুয়াল অ্যাকশন ও অ্যালগরিদমের প্রভাব কি এক?

দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী সমাধানের পদ্ধতিও বদলে যায়।

বিষয় ম্যানুয়াল অ্যাকশন অ্যালগরিদমের প্রভাব
সিদ্ধান্তের উৎস মানব পর্যালোচনা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
সার্চ কনসোলে নোটিশ থাকে সাধারণত থাকে না
প্রভাব নির্দিষ্ট পেজ বা পুরো সাইট সার্চে অবস্থান ও দৃশ্যমানতার পরিবর্তন
পুনর্বিবেচনার আবেদন সংশোধনের পর করা যায় সাধারণভাবে সার্চে অবস্থান কমে যাওয়ার জন্য প্রযোজ্য নয়

কোনো ওয়েবসাইটের দর্শনার্থী কমে গেলেই পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ তৈরি হয় না। আগে নিশ্চিত হতে হবে, সত্যিই ম্যানুয়াল অ্যাকশন দেওয়া হয়েছে কি না।

সার্চ কনসোলে ম্যানুয়াল অ্যাকশন শনাক্ত করবেন যেভাবে

সার্চ কনসোলে ম্যানুয়াল অ্যাকশন শনাক্ত করবেন যেভাবে

এ জন্য আলাদা কোনো অর্থ পরিশোধের এসইও সরঞ্জাম প্রয়োজন নেই। ওয়েবসাইটের যাচাইকৃত মালিক বা প্রয়োজনীয় অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যবহারকারী গুগল সার্চ কনসোল থেকেই ম্যানুয়াল অ্যাকশনের তথ্য দেখতে পারবেন।

নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

  1. গুগল সার্চ কনসোলে প্রবেশ করুন।
  2. ওপরের ওয়েবসাইট নির্বাচনের অংশ থেকে সংশ্লিষ্ট সাইটের সঠিক প্রপার্টি নির্বাচন করুন।
  3. বাঁ পাশের মেনুতে নিরাপত্তা ও ম্যানুয়াল অ্যাকশন বিভাগ খুলুন।
  4. সেখান থেকে ম্যানুয়াল অ্যাকশন নির্বাচন করুন।
  5. কোনো অ্যাকশন থাকলে সেটির বিস্তারিত বিবরণ খুলে দেখুন।

সমস্যা না থাকলে সাধারণত সবুজ চিহ্নসহ উপযুক্ত বার্তা দেখা যাবে। আর সমস্যা থাকলে কী ধরনের নীতি লঙ্ঘন হয়েছে এবং ওয়েবসাইটের কোন অংশ প্রভাবিত, তার বিবরণ পাওয়া যাবে। গুগল ম্যানুয়াল অ্যাকশনের তথ্য সার্চ কনসোলের বার্তা বিভাগেও জানায়।

পুরো সাইট, নাকি নির্দিষ্ট পেজ আক্রান্ত?

ম্যানুয়াল অ্যাকশনের বিবরণে প্রভাবিত পেজের ধরন বা ওয়েব ঠিকানার কিছু নমুনা দেখানো হতে পারে। ধরুন, কোনো সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট বিভাগে অসংখ্য নিম্নমানের প্রচারমূলক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কেবল ওই বিভাগের কিছু পেজ প্রভাবিত হতে পারে। আবার গুরুতর বা ব্যাপক স্প্যাম সমস্যার কারণে পুরো সাইটও আক্রান্ত হতে পারে।

নোটিশে দেখানো নমুনা ওয়েব ঠিকানাগুলোকে সম্পূর্ণ তালিকা মনে করা যাবে না। একই ধরনের সমস্যাযুক্ত অন্য পেজও খুঁজে দেখতে হবে। তবে নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ওয়েব ঠিকানা দেখানো হয়েছে বলেই ওই ধরনের প্রতিটি পেজ আক্রান্ত, এমনও নয়।

কোন কারণে গুগল ম্যানুয়াল অ্যাকশন আসতে পারে?

গুগলের ম্যানুয়াল অ্যাকশনের একাধিক ধরন রয়েছে। কৃত্রিম ব্যাকলিংক থেকে শুরু করে নিম্নমানের কনটেন্ট কিংবা বিভ্রান্তিকর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, বিভিন্ন কারণে এটি হতে পারে।

সব সমস্যার সমাধানও এক নয়। নোটিশে যে নীতি লঙ্ঘনের কথা বলা হয়েছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়েই সংশোধনের কাজ শুরু করতে হবে।

১. অস্বাভাবিক বা কৃত্রিম ব্যাকলিংক

সার্চ ফলাফলে অবস্থান প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে লিংক কেনা, অতিরিক্ত লিংক বিনিময় কিংবা কৃত্রিমভাবে লিংক তৈরির কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এখানে দুটি পরিস্থিতি আলাদা করে দেখতে হবে। আপনার সাইটে আসা অস্বাভাবিক লিংক: অন্য ওয়েবসাইট থেকে আপনার সাইটে আসা অস্বাভাবিক বা সার্চে অবস্থান প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি লিংক।

আপনার সাইট থেকে দেওয়া অস্বাভাবিক লিংক: আপনার ওয়েবসাইট থেকে অন্য সাইটে দেওয়া নীতিবিরোধী লিংক।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্লগে অর্থের বিনিময়ে প্রচারমূলক লিংক বসিয়ে সেটিকে সাধারণ সম্পাদকীয় লিংকের মতো উপস্থাপন করা হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে ওয়েবসাইটে বাইরের লিংক থাকা কিংবা স্বাভাবিকভাবে ব্যাকলিংক পাওয়া নিজে কোনো নীতি লঙ্ঘন নয়। যথাযথভাবে চিহ্নিত বিজ্ঞাপন বা অর্থায়িত প্রচারমূলক লিংকও অনুমোদিত।

২. নিম্নমানের বা মূল্যহীন কনটেন্ট

গুগলের ম্যানুয়াল অ্যাকশনের একটি ধরন হলো এমন কনটেন্ট, যেখানে পাঠকের জন্য খুব সামান্য বা কোনো বাড়তি মূল্য নেই।

এ ধরনের সমস্যার মধ্যে থাকতে পারে অন্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা লেখা, সামান্য পরিবর্তন করে পুনঃপ্রকাশিত কনটেন্ট, মূল্যহীন অ্যাফিলিয়েট পেজ এবং সার্চ ফলাফলে অবস্থান প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি বিভ্রান্তিকর পেজ।

এখানে লেখার দৈর্ঘ্যই একমাত্র বিচার্য নয়। একটি সংক্ষিপ্ত লেখা পাঠকের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারে। বিপরীতে দীর্ঘ নিবন্ধেও নতুন বা ব্যবহারযোগ্য তথ্য না থাকতে পারে। পেজটিতে পাঠক সত্যিই প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন কি না, সেটিই বেশি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা উচিত।

৩. বিপুল পরিমাণে স্প্যাম কনটেন্ট তৈরি

স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অন্য পদ্ধতিতে প্রচুর পেজ তৈরি করে সার্চ ফলাফলে অবস্থান প্রভাবিত করার চেষ্টা গুগলের বিপুল পরিমাণে কনটেন্ট তৈরি করে অপব্যবহারসংক্রান্ত নীতির আওতায় পড়তে পারে।

বিশেষ করে যেসব পেজে মৌলিক তথ্য নেই, পাঠকের প্রয়োজন পূরণ হয় না অথবা বিভিন্ন উৎসের লেখা জোড়া লাগানো হয়েছে, সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লেখা তৈরি করলেই ম্যানুয়াল অ্যাকশন আসবে, এমন ধারণাও সঠিক নয়। সমস্যা হলো সার্চ ফলাফলে অবস্থান প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মূল্যহীন কনটেন্ট তৈরি করা, সেটি যে পদ্ধতিতেই করা হোক। এ ধরনের গুরুতর নীতি লঙ্ঘন গুগলের গুরুতর স্প্যাম সমস্যা সংক্রান্ত ম্যানুয়াল অ্যাকশনের কারণ হতে পারে।

৪. ব্যবহারকারী ও গুগলকে ভিন্ন কনটেন্ট দেখানো

ব্যবহারকারী ও গুগলকে ভিন্ন কনটেন্ট দেখানো

এটি ক্লোকিং নামে পরিচিত। ধরুন, কোনো ওয়েবপেজে গুগলের অনুসন্ধানকারী সফটওয়্যারকে একটি বিষয় দেখানো হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ দর্শনার্থী সেখানে ভিন্ন কনটেন্ট পাচ্ছেন। একইভাবে ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্তিকরভাবে অন্য পেজে পাঠানোও সমস্যার কারণ হতে পারে।

এ ধরনের সমস্যা খুঁজতে ওয়েবসাইটের সার্ভার, অন্য পেজে পাঠানোর নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কোড পরীক্ষা করতে হতে পারে।

তবে ব্যবহারকারীর ভাষা, অবস্থান বা যন্ত্র অনুযায়ী কনটেন্টের স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটলেই সেটি ক্লোকিং হিসেবে গণ্য হয় না। বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্য ও বাস্তব আচরণ এখানে বিবেচ্য।

৫. স্প্যাম মন্তব্য ও ব্যবহারকারীর তৈরি কনটেন্ট

ওয়েবসাইটে মন্তব্য, আলোচনা বা ব্যবহারকারীর প্রোফাইল তৈরির সুযোগ থাকলে সেখানে স্প্যাম ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ধরুন, কোনো প্রযুক্তিবিষয়ক ব্লগের মন্তব্য বিভাগে অপ্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন ও সন্দেহজনক লিংক জমা হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে সংশ্লিষ্ট পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এ ধরনের সমস্যার জন্য গুগলের ব্যবহারকারীর তৈরি স্প্যাম এবং তৃতীয় পক্ষের স্প্যামের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের অপব্যবহার সংক্রান্ত ম্যানুয়াল অ্যাকশন প্রযোজ্য হতে পারে।

৬. বিভ্রান্তিকর কাঠামোবদ্ধ তথ্য

ওয়েবপেজে এমন কাঠামোবদ্ধ তথ্য ব্যবহার করা, যা পেজের প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে মেলে না, ম্যানুয়াল অ্যাকশনের কারণ হতে পারে।

যেমন, চাকরির বিজ্ঞাপন নেই এমন পেজে চাকরির বিজ্ঞাপনের তথ্য যুক্ত করা কিংবা ব্যবহারকারীদের কাছে দৃশ্যমান নয় এমন তথ্যকে বিভ্রান্তিকরভাবে চিহ্নিত করা।

এ ধরনের সমস্যায় ভুল কাঠামোবদ্ধ তথ্য সংশোধন বা অনুপযুক্ত মার্কআপ সরাতে হয়।

৭. প্রতিষ্ঠিত সাইটের সুনামের অপব্যবহার

প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটের সুনামের অপব্যবহারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কেও প্রকাশকদের জানা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটের অর্জিত সার্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা নেওয়ার মূল উদ্দেশ্যে সেখানে তৃতীয় পক্ষের কনটেন্ট প্রকাশ করা হলে সমস্যা হতে পারে।

তবে তৃতীয় পক্ষের লেখা, অতিথি নিবন্ধ বা অ্যাফিলিয়েট কনটেন্ট থাকলেই এই নীতি লঙ্ঘিত হয় না। কনটেন্ট প্রকাশের উদ্দেশ্য, প্রকৃত সম্পাদকীয় সম্পৃক্ততা, মান, লেখকের পরিচয় এবং মূল প্রকাশনার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক বিবেচ্য। কেবল সম্পাদকীয় অনুমোদন রয়েছে দাবি করাও নীতি মেনে চলার নিশ্চয়তা নয়।

এ বিষয়ে ৩০ আগস্ট ২০২৬ থেকে একটি পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য এই নীতির আওতায় নেওয়া ম্যানুয়াল অ্যাকশনের প্রভাব আলাদা। সেখানে সংশ্লিষ্ট কনটেন্টকে মূল ডোমেইন থেকে পৃথক হিসেবে মূল্যায়ন করা হতে পারে। বাংলাদেশ বা ভারতের ব্যবহারকারীদের দেখানো সার্চ ফলাফলে এই বিশেষ ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়।

সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটের জন্য বাড়তি সতর্কতাও রয়েছে। গুগল নিউজ ও গুগল ডিসকভারের নীতির অধীনে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, প্রকাশকের পরিচয়সংক্রান্ত স্বচ্ছতার অভাব এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের জন্য ম্যানুয়াল অ্যাকশন দেখা যেতে পারে।

ম্যানুয়াল অ্যাকশন দূর করার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

সমস্যার ধরন বুঝে সংশোধনের কাজ শুরু করতে হবে। বড় ওয়েবসাইটে সম্পাদকীয় দল, এসইও বিশেষজ্ঞ ও ওয়েব ডেভেলপারের সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

ধাপ ১: নোটিশ এবং আক্রান্ত ওয়েব ঠিকানা সংরক্ষণ করুন

প্রথমে ম্যানুয়াল অ্যাকশনের বিবরণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। নোটিশে যে নীতি লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটির বিস্তারিত নির্দেশনা দেখুন। এরপর প্রভাবিত পেজের নমুনা বা ওয়েব ঠিকানার ধরন সংরক্ষণ করুন।

কাজের সুবিধার্থে একটি তালিকায় আক্রান্ত পেজের ঠিকানা, সমস্যার ধরন, প্রয়োজনীয় সংশোধন, কাজের বর্তমান অবস্থা এবং পরিবর্তনের তারিখ রাখতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট পেজের আগের অবস্থা ও পরিবর্তনের প্রমাণ সংরক্ষণ করাও ভালো। পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন তৈরিতে এসব তথ্য কাজে আসবে।

ধাপ ২: শুধু নমুনা নয়, একই সমস্যার অন্য পেজও খুঁজুন

ধরুন, নোটিশে কয়েকটি নিম্নমানের অ্যাফিলিয়েট পেজের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওয়েবসাইটে একই ধরনের আরও অনেক পেজ প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় কেবল নোটিশে থাকা পেজ সংশোধন করলে সমস্যা পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে।

সাইটের বিভাগ, প্রকাশনার ধরন, পুরোনো কনটেন্ট এবং একই কাঠামোয় তৈরি পেজগুলো পর্যালোচনা করুন। প্রয়োজনে সার্চ কনসোলের সার্চ পারফরম্যান্স এবং পেজ ইনডেক্সিং প্রতিবেদন ব্যবহার করে কোন অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছে, তা দেখুন।

তবে এসব প্রতিবেদনে দর্শনার্থীর কার্যক্রম বা সার্চের সূচিতে অন্তর্ভুক্তির তথ্য পাওয়া যায়। কোন পেজ নীতি লঙ্ঘন করছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট ও গুগলের নীতিমালা আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

ধাপ ৩: নীতিবিরোধী কনটেন্ট সংশোধন বা সরিয়ে ফেলুন

সব সমস্যাযুক্ত পেজ মুছে ফেলার প্রয়োজন নেই। যেসব পেজ সংশোধন করে পাঠকের জন্য প্রকৃত মূল্য যোগ করা সম্ভব, সেগুলো উন্নত করা যেতে পারে। তবে স্প্যাম ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি পেজের ক্ষেত্রে সংশোধনের বদলে সরিয়ে ফেলা বেশি যুক্তিসংগত।

কনটেন্ট পর্যালোচনার সময় কয়েকটি বিষয় দেখুন:

  • তথ্য নির্ভুল ও প্রয়োজনীয় কি না।
  • অন্য উৎস থেকে অনুলিপি করা হয়েছে কি না।
  • পাঠক নতুন কোনো তথ্য বা ব্যবহারিক সমাধান পাচ্ছেন কি না।
  • অপ্রাসঙ্গিক লিংক বা বিভ্রান্তিকর দাবি রয়েছে কি না।

কেবল কয়েকটি শব্দ বদলে বা লেখার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। যে পেজ স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটির ক্ষেত্রে উপযুক্ত এইচটিটিপি অবস্থা নিশ্চিত করুন। আর যে পেজ সংশোধন করে সার্চে রাখতে চান, সেটি গুগলের কাছে প্রবেশযোগ্য রাখুন।

এখানে noindex নির্দেশনা ব্যবহারের একটি ব্যতিক্রম আছে। প্রতিষ্ঠিত সাইটের সুনামের অপব্যবহারসংক্রান্ত সমস্যায় নীতিবিরোধী কনটেন্ট সার্চ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এই নির্দেশনা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নির্দেশনাটি শনাক্ত করতে গুগলকে পেজটি ক্রল করার সুযোগ দিতে হবে। তাই একই পেজ robots.txt ফাইল দিয়ে বন্ধ করে রাখা ঠিক নয়।

ধাপ ৪: লিংকসংক্রান্ত সমস্যা আলাদাভাবে সমাধান করুন

নোটিশে অস্বাভাবিক ব্যাকলিংকের উল্লেখ থাকলে সার্চ কনসোলের লিংক প্রতিবেদন থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। এরপর সন্দেহজনক লিংকগুলো যাচাই করুন। সার্চে অবস্থান প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কেনা বা তৈরি লিংক থাকলে সেগুলো সরানোর চেষ্টা করুন।

বাইরের ওয়েবসাইটের লিংক হলে সংশ্লিষ্ট সাইটের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। লিংক সরানো সম্ভব না হলে nofollow বা উপযুক্ত অন্য বৈশিষ্ট্য ব্যবহারের অনুরোধ করা যায়, যাতে ওই লিংকের মাধ্যমে সার্চে অবস্থানের সুবিধা না যায়।

যেসব সমস্যাযুক্ত লিংক সরানো সম্ভব হচ্ছে না, নির্দিষ্ট শর্তে সেগুলোর জন্য গুগলের ডিসঅ্যাভাউ লিংকস সরঞ্জাম ব্যবহার করা যায়। তবে এটি সাধারণ ব্যাকলিংক পরিষ্কারের সরঞ্জাম নয়। গুগলের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক স্প্যাম বা কৃত্রিম ব্যাকলিংক থাকলে এবং সেগুলোর কারণে ম্যানুয়াল অ্যাকশন হয়ে থাকলে কিংবা হওয়ার বাস্তব আশঙ্কা থাকলে সরঞ্জামটি বিবেচনা করা উচিত।

ভুলভাবে স্বাভাবিক ও মূল্যবান ব্যাকলিংক বাতিল করলে ওয়েবসাইটের সার্চ পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আরেকটি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা হলো, ডিসঅ্যাভাউ লিংকস সরঞ্জাম সরাসরি সার্চ কনসোলের ডোমেইন প্রপার্টি সমর্থন করে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ইউআরএল-প্রিফিক্স প্রপার্টি ব্যবহার করতে হবে।

নিজের ওয়েবসাইট থেকে দেওয়া অর্থের বিনিময়ের লিংক হলে rel=”sponsored” ব্যবহার করা ভালো। গুগল এ ক্ষেত্রে rel=”nofollow”-ও গ্রহণ করে। নীতিবিরোধী লিংক সরিয়ে দেওয়াও একটি সমাধান।

ধাপ ৫: প্রযুক্তিগত সংশোধন যাচাই করুন

কনটেন্ট বা লিংক সংশোধনের পর নিশ্চিত করুন, গুগল প্রয়োজনীয় পেজগুলো পরীক্ষা করতে পারছে। সার্চ কনসোলের ইউআরএল ইনস্পেকশন বা ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষার সুবিধা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পেজের অবস্থা দেখুন।

বিশেষভাবে খেয়াল করুন:

  • পেজটি চালু আছে কি না।
  • সার্চে রাখতে চাওয়া পেজে ভুল করে noindex নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না।
  • প্রয়োজনীয় পেজ robots.txt ফাইল দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে কি না।
  • অপ্রত্যাশিতভাবে অন্য পেজে পাঠানো হচ্ছে কি না।
  • গুগল ও সাধারণ ব্যবহারকারী মূলত একই কনটেন্ট দেখছেন কি না।

ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে দেওয়া পেজ, noindex দিয়ে সার্চ থেকে বাদ দেওয়া পেজ এবং সার্চে ফিরিয়ে আনতে চাওয়া পেজের জন্য একই ব্যবস্থা উপযুক্ত নয়। সংশোধনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরীক্ষা করতে হবে।

ধাপ ৬: সংশোধনের প্রমাণ গুছিয়ে নিন

পুনর্বিবেচনার আবেদনে কী পরিবর্তন করা হয়েছে, সেটি নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে। ধরুন, কোনো ওয়েবসাইটে বিপুল পরিমাণ স্প্যাম মন্তব্য সরানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোন বিভাগ পরিষ্কার করা হয়েছে, কী ধরনের কনটেন্ট বাদ গেছে এবং ভবিষ্যতে স্প্যাম নিয়ন্ত্রণে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা লিখে রাখা যায়।

লিংকের সমস্যায় যোগাযোগের চেষ্টা, সরানো লিংকের তালিকা এবং প্রয়োজন হলে ডিসঅ্যাভাউ সরঞ্জাম ব্যবহারের তথ্য সংরক্ষণ করুন।

গুগলকে বোঝাতে হবে যে সমস্যার মূল কারণ সংশোধন করা হয়েছে। কেবল সাধারণ ক্ষমা প্রার্থনা বা ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়।

পুনর্বিবেচনার আবেদন কীভাবে জমা দেবেন?

ম্যানুয়াল অ্যাকশনের সংশ্লিষ্ট সব সমস্যা সমাধান করার পর গুগল সার্চ কনসোল থেকে পুনর্বিবেচনার আবেদন পাঠানো যায়। এ জন্য আবার ম্যানুয়াল অ্যাকশন প্রতিবেদনে যান। সংশ্লিষ্ট অ্যাকশনের বিবরণে পর্যালোচনার অনুরোধ করার বিকল্পটি ব্যবহার করুন। একাধিক ম্যানুয়াল অ্যাকশন থাকলে প্রতিটির নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষ করতে হবে। মাত্র কিছু পেজ সংশোধন করে আগের সার্চ দৃশ্যমানতা ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করা উচিত নয়।

আবেদনে মূলত তিনটি বিষয় পরিষ্কার থাকতে হবে।

  • কী সমস্যা ছিল: কোন ধরনের নীতি লঙ্ঘন শনাক্ত হয়েছে, সেটি উল্লেখ করুন।
  • কী সংশোধন করা হয়েছে: প্রভাবিত পেজ, লিংক বা প্রযুক্তিগত সমস্যার পরিবর্তনগুলো ব্যাখ্যা করুন।
  • ফলাফল ও প্রমাণ: সংশোধনের উদাহরণ, প্রাসঙ্গিক ওয়েব ঠিকানা এবং পুনরায় সমস্যা ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপ জানান।

পুনর্বিবেচনার আবেদনের একটি নমুনা

নিচের নমুনাটি নিম্নমানের কনটেন্টসংক্রান্ত সমস্যার জন্য। বাস্তবে যে পরিবর্তন করা হয়েছে, কেবল সেটিই আবেদনে উল্লেখ করতে হবে। আমাদের ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত মৌলিক মূল্য নেই এমন কনটেন্টসংক্রান্ত ম্যানুয়াল অ্যাকশন শনাক্ত হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার পর আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যালোচনা করেছি। যেসব পেজ পাঠকের জন্য পর্যাপ্ত মূল্য তৈরি করছিল না, সেগুলোর মধ্যে সংশোধনযোগ্য পেজ উন্নত করেছি এবং অপ্রয়োজনীয় পেজ সরিয়ে দিয়েছি। পরিবর্তিত পেজগুলোর তথ্যের নির্ভুলতা, মৌলিকতা ও ব্যবহারযোগ্যতা আবার যাচাই করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই সমস্যা এড়াতে প্রকাশনার আগে কনটেন্ট পর্যালোচনার নিয়মও সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধিত ও সরিয়ে দেওয়া পেজের উদাহরণ এবং পরিবর্তনের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। অনুগ্রহ করে ওয়েবসাইটটি পুনরায় পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আবেদনের সঙ্গে প্রকৃত ওয়েব ঠিকানা এবং কাজের প্রমাণ যুক্ত করতে হবে। অস্পষ্ট দাবি বা বাস্তবে না করা সংশোধনের কথা লেখা উচিত নয়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর কত দিন লাগতে পারে?

গুগলের পুনর্বিবেচনার আবেদন পর্যালোচনা করতে সাধারণত কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। লিংকসংক্রান্ত জটিল আবেদন পর্যালোচনায় আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি গ্রহণ করার নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়া যায়। পর্যালোচনা শেষ হলেও ইমেইলের মাধ্যমে ফলাফল জানানো হয়।

এই সময় নিয়মিত সার্চ কনসোলের বার্তা বিভাগ পরীক্ষা করা ভালো। চলমান আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার আগে একই আবেদন আবার জমা দেওয়া উচিত নয়।

আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কী করবেন?

প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট সমস্যা পর্যাপ্তভাবে সমাধান হয়েছে বলে গুগল নিশ্চিত হয়নি। সে ক্ষেত্রে নোটিশটি আবার পড়ুন। একই ধরনের সমস্যাযুক্ত পেজ, পুরোনো লিংক কিংবা অসম্পূর্ণ সংশোধন রয়েছে কি না দেখুন।

প্রয়োজনে ওয়েবসাইটের বাইরের একজন অভিজ্ঞ এসইও বিশেষজ্ঞ দিয়ে নিরীক্ষা করানো যেতে পারে। বড় ওয়েবসাইটে সমস্যার উৎস ছড়িয়ে থাকলে এ ধরনের সহায়তা কাজে আসতে পারে।

নতুন করে সমস্যা সংশোধন ও যাচাই করার পর আবার আবেদন করা যায়। তবে আগের বিবরণ অপরিবর্তিত রেখে আবেদন পুনরায় পাঠিয়ে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ম্যানুয়াল অ্যাকশন তুলে নিলে কি আগের ট্রাফিক ফিরে আসবে?

গুগল ম্যানুয়াল অ্যাকশন সরিয়ে নিলেও ওয়েবসাইটের আগের সার্চ র‍্যাঙ্কিং ফিরে আসার নিশ্চয়তা নেই। পুরোনো কৃত্রিম লিংকের সুবিধা হারানো, প্রতিযোগী ওয়েবসাইটের ভালো কনটেন্ট কিংবা গুগলের সাধারণ র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে আগের অবস্থান ফিরে না-ও আসতে পারে।

তাই আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর শুধু ম্যানুয়াল অ্যাকশন সরেছে কি না, সেটি দেখলে চলবে না। সার্চ কনসোলের সার্চ পারফরম্যান্স প্রতিবেদন থেকে নিয়মিত ক্লিক, সার্চ ফলাফলে কতবার পেজ দেখা গেছে এবং প্রভাবিত পেজের অবস্থানের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করুন।

ম্যানুয়াল অ্যাকশন উঠে যাওয়ার পরও কোনো পেজ সার্চে না এলে পেজ ইনডেক্সিং প্রতিবেদন এবং ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষার সুবিধা ব্যবহার করে প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো পরীক্ষা করুন।

ম্যানুয়াল অ্যাকশন এড়াতে ওয়েবসাইট পরিচালনায় কী পরিবর্তন আনবেন?

একবার সমস্যা সংশোধনের পর ভবিষ্যতে একই ভুল ঠেকানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব ওয়েবসাইটে একাধিক লেখক, সম্পাদক, এসইও কর্মী বা বাইরের প্রতিষ্ঠান কাজ করে, সেখানে দায়িত্ব নির্ধারণ করা দরকার।

কনটেন্ট প্রকাশের আগে মৌলিকতা, তথ্যের মান এবং পাঠকের প্রয়োজন যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখুন। অর্থের বিনিময়ের লিংক যথাযথভাবে চিহ্নিত করুন। মন্তব্য ও ব্যবহারকারীর তৈরি কনটেন্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটে লেখক, প্রকাশক, সম্পাদনা ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য পরিষ্কার রাখাও প্রয়োজন। গুগল নিউজ ও গুগল ডিসকভারের প্রযোজ্য নীতিমালা মাথায় রেখে প্রকাশনার নিয়ম তৈরি করা উচিত।

বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসইও কাজ করালে তারা কী ধরনের লিংক তৈরি করছে কিংবা কী পদ্ধতিতে কনটেন্ট প্রকাশ করছে, সেটিও জানা প্রয়োজন। কারণ বাইরের প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও ওয়েবসাইটে নীতিবিরোধী কার্যক্রম চলছে কি না, সে বিষয়ে মালিকপক্ষের নজরদারি থাকা জরুরি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

গুগল ম্যানুয়াল অ্যাকশন সরাতে কি টাকা দিতে হয়?

গুগলের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো ফি লাগে না। গুগল সার্চ কনসোল বিনামূল্যের সেবা। তবে ওয়েবসাইটের সমস্যা সংশোধনে ডেভেলপার বা এসইও বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিলে খরচ হতে পারে।

ওয়েবসাইট হ্যাক হলে কি সেটিও ম্যানুয়াল অ্যাকশন?

সব ক্ষেত্রে নয়। হ্যাকিং, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে তৈরি প্রতারণামূলক পেজের মতো সমস্যা সার্চ কনসোলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যা প্রতিবেদনে দেখানো হতে পারে। এটি ম্যানুয়াল অ্যাকশন প্রতিবেদন থেকে আলাদা।

নিরাপত্তা সমস্যার সংশোধনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন থেকেও পর্যালোচনার আবেদন করা যায়। তবে হ্যাকিংয়ের কারণে তৈরি স্প্যাম কনটেন্ট পরিস্থিতিভেদে ম্যানুয়াল অ্যাকশনের বিষয়ও হতে পারে।

নতুন কেনা ডোমেইনে আগের মালিকের ম্যানুয়াল অ্যাকশন থাকলে কী করবেন?

আগের মালিকের সময় নীতি লঙ্ঘন হয়ে থাকলেও সমস্যাগুলো সংশোধন করতে হবে। এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদনে ডোমেইন বা ওয়েবসাইটটি নতুন মালিকানায় এসেছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা যায়।

সর্বশেষ