লোকাল SEO কী: কাছাকাছি গ্রাহকের অনুসন্ধানে দৃশ্যমান হওয়ার উপায়

সর্বাধিক আলোচিত

আপনার দোকান যে এলাকায়, সেখানকার মানুষ হয়তো সেটির নাম জানেন। কিন্তু নতুন কেউ গুগলে কাছাকাছি কোনো দোকান বা সেবা খুঁজলে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম নাও দেখতে পারেন। অথচ পাশের কয়েকটি ব্যবসার ঠিকানা, ফোন নম্বর, ছবি ও গ্রাহকদের পর্যালোচনা অনুসন্ধানের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে।

এমন হলে প্রথমেই বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। আগে দেখতে হবে, গুগলে আপনার ব্যবসার তথ্য আদৌ রয়েছে কি না। থাকলেও ঠিকানা ভুল, ব্যবসার ধরন অস্পষ্ট কিংবা প্রোফাইলের যাচাই অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানের সঙ্গে জড়িত লোকাল এসইও, অর্থাৎ স্থানীয় অনুসন্ধানে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর কৌশল। লোকাল এসইও কী? এটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের প্রাসঙ্গিক গুগল অনুসন্ধানে কোনো ব্যবসার দৃশ্যমানতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া। গুগল বিজনেস প্রোফাইল, ওয়েবসাইট, ব্যবসার সঠিক তথ্য এবং গ্রাহকদের পর্যালোচনা এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার থাকা ভালো। গুগল ম্যাপে ব্যবসার নাম যোগ করা আর স্থানীয় অনুসন্ধানে ভালো অবস্থান পাওয়া এক নয়। প্রোফাইল তৈরি করার নিয়ম যেমন জানতে হবে, তেমনি বুঝতে হবে গ্রাহক কী খুঁজছেন এবং আপনার ব্যবসার তথ্য তাঁদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে কি না।

সাধারণ এসইও থেকে লোকাল এসইও কোথায় আলাদা

গুগলে ‘ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করার নিয়ম’ লিখে খোঁজা আর ‘উত্তরায় ওয়াশিং মেশিন মেরামত’ লিখে খোঁজার উদ্দেশ্য আলাদা। প্রথম অনুসন্ধানে কেউ হয়তো একটি নির্দেশনামূলক লেখা পড়তে চান। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োজন এমন কোনো প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে মেরামতের সেবা পাওয়া যাবে। সাধারণ এসইওতে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পৃষ্ঠাকে প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধানে দেখানোর জন্য কাজ করা হয়। লোকাল এসইওতে ব্যবসার অবস্থান ও স্থানীয় গ্রাহকের প্রয়োজন বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ ধরনের অনুসন্ধানে গুগল সাধারণ ওয়েবসাইটের ফলাফলের পাশাপাশি মানচিত্রসহ ব্যবসার তালিকাও দেখাতে পারে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, খোলার সময়, গ্রাহকদের দেওয়া মূল্যায়ন এবং যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। ব্যবহারকারী চাইলে সরাসরি ফোন করতে বা দোকানে যাওয়ার পথ দেখতে পারেন।

নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেটিও স্থানীয় অনুসন্ধানে কাজে আসে। সেখানে কোন সেবা দেওয়া হয়, কোন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে এবং যোগাযোগের উপায় কী, সেসব বিস্তারিতভাবে জানানো যায়। তবে গুগল ম্যাপে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা গেলেই তার ওয়েবসাইট সাধারণ অনুসন্ধানের ফলাফলে ভালো অবস্থান পাবে, এমন নয়। দুটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন: পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী?

একই এলাকায় থেকেও সব ব্যবসা সমানভাবে দেখা যায় না কেন?

একই রাস্তায় কয়েকটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান রয়েছে। কাছাকাছি কেউ ফোন মেরামতের দোকান খুঁজলে কোন প্রতিষ্ঠানকে আগে দেখানো হবে, তা গুগল একাধিক বিষয় বিবেচনা করে ঠিক করে। গুগলের স্থানীয় অনুসন্ধানে অবস্থান নির্ধারণের নির্দেশনায় তিনটি প্রধান বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

  • প্রাসঙ্গিকতা: ব্যবহারকারী যা খুঁজছেন, ব্যবসাটি সেই সেবা দেয় কি না। একটি দোকান শুধু মোবাইল বিক্রি করে, অন্যটি মেরামত করে। সঠিক ব্যবসার ধরন ও সেবার বিবরণ এই পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
  • দূরত্ব: অনুসন্ধানকারীর অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানটি কত দূরে। ব্যবহারকারী নিজের অবস্থান উল্লেখ না করলে গুগল অবস্থান সম্পর্কে পাওয়া অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ফলে মিরপুর থেকে খোঁজার সময় যে দোকানটি আগে দেখা যায়, উত্তরা থেকে একই অনুসন্ধান করলে সেটি একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে।
  • পরিচিতি: ব্যবসাটি কতটা পরিচিত এবং অনলাইনে তার সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া যায়। গ্রাহকদের পর্যালোচনা, প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের সংযোগ এবং অন্যান্য তথ্য এখানে বিবেচিত হতে পারে।

গ্রাহকদের মূল্যায়ন নিয়ে ব্যবসার মালিকদের একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। বেশি পর্যালোচনা ও ইতিবাচক মূল্যায়ন স্থানীয় অনুসন্ধানে অবস্থান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে বলে গুগল জানিয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্টসংখ্যক পাঁচ তারকা মূল্যায়ন পেলেই প্রথম অবস্থানে পৌঁছে যাওয়া যায় না। আর বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ ব্যয় করলেও স্থানীয় স্বাভাবিক অনুসন্ধানের অবস্থান কেনা সম্ভব নয়। বিজ্ঞাপন ও সাধারণ অনুসন্ধানের ফলাফল আলাদা বিষয়।

সব ব্যবসার জন্য গুগল বিজনেস প্রোফাইল প্রয়োজন নেই

সব ব্যবসার জন্য গুগল বিজনেস প্রোফাইল প্রয়োজন নেই

লোকাল এসইওর কাজ শুরুর আগে আপনার ব্যবসাটি গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরির যোগ্য কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। মুদি দোকান, রেস্তোরাঁ, ওষুধের দোকান, সেলুন, কম্পিউটার সার্ভিসিং সেন্টার, গাড়ি মেরামতের দোকান কিংবা দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি প্রাসঙ্গিক। আবার কিছু ব্যবসায় গ্রাহক দোকানে আসেন না। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মেরামত, পানির পাইপ মেরামত বা বাসা পরিষ্কারের মতো সেবায় কর্মীরা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে কাজ করেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এসব প্রতিষ্ঠানও গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করতে পারে।

গুগলের যোগ্যতার নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে নির্ধারিত কার্যসময়ে গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি উপস্থিতিতে যোগাযোগ বা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হয়। কিছু বিশেষ ধরনের ব্যবসার জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান, যেখানে গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি উপস্থিতিতে সেবা দেওয়া হয় না, সাধারণত এই প্রোফাইলের যোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই গুগল বিজনেস প্রোফাইলের সমর্থিত অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে। তবে সব ধরনের ব্যবসার জন্য একই যাচাই পদ্ধতি পাওয়া যাবে, এমন নয়। শুধু অনলাইনভিত্তিক কাজের বাজারে কাজ করা কোনো স্বাধীন পেশাজীবীর জন্য নিজের কাজের নমুনা দেখানোর ওয়েবসাইট ও সাধারণ এসইওতে মনোযোগ দেওয়া বেশি কাজে আসতে পারে।

গুগল বিজনেস প্রোফাইল খুলতে গিয়ে যে বিষয়গুলো বুঝতে হবে

গুগল বিজনেস প্রোফাইল আগে গুগল মাই বিজনেস নামে পরিচিত ছিল। প্রোফাইল তৈরি করতে কিংবা আগে থেকে থাকা প্রোফাইলের মালিকানা দাবি করতে গুগল কোনো ফি নেয় না। তবে নতুন প্রোফাইল খোলার আগে ব্যবসাটি গুগল ম্যাপে রয়েছে কি না, একবার খুঁজে দেখুন।

আগে থেকেই প্রোফাইল থাকলে নতুনটি খুলবেন না

গুগল ম্যাপে ব্যবসার নাম ও এলাকার নাম লিখে অনুসন্ধান করুন। প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই তালিকাভুক্ত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন প্রোফাইল তৈরির বদলে বিদ্যমানটির মালিকানা দাবি করুন। যাচাই না হওয়া প্রোফাইলে ব্যবসাটির মালিকানা দাবি করা বা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার বিকল্প পাওয়া যেতে পারে।

অন্য কেউ প্রোফাইলটি যাচাই করে থাকলে মালিকানা বা ব্যবস্থাপনার অনুমতি চাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক প্রোফাইল তৈরি করলে গুগল সেগুলোকে একই ব্যবসার একাধিক তালিকা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। তাই নতুন প্রোফাইল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরোনো তালিকাটি খুঁজে দেখা জরুরি।

নতুন প্রোফাইল তৈরির সময় তথ্যের দিকে নজর দিন

গুগলের ব্যবসা যুক্ত করার পৃষ্ঠায় গিয়ে নতুন ব্যবসা যোগ করার বিকল্প নির্বাচন করুন। সেখানে ব্যবসার নাম, প্রধান ব্যবসার ধরন, অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী কিছু ধাপ আলাদা হতে পারে। ব্যবসার নামের জায়গায় বাস্তবে যে নাম ব্যবহার করা হয়, সেটিই লিখুন।

দোকানের নাম ‘রহমান কম্পিউটার’ হলে সেখানে ‘ঢাকার সেরা ল্যাপটপ সার্ভিসিং কম দামে’ ধরনের বাড়তি শব্দ জুড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গুগলের ব্যবসার তথ্য প্রকাশের নীতিমালায় অপ্রয়োজনীয় অনুসন্ধানমূলক শব্দ, বিভ্রান্তিকর নাম ও ভুয়া অবস্থান ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সঠিক ব্যবসার ধরন নির্বাচনও জরুরি। দোকানে মোবাইল বিক্রি করা হয়, নাকি মেরামতের সেবা দেওয়া হয়, সেটি যেন প্রোফাইল থেকে বোঝা যায়।

দোকানের ঠিকানা আর সেবার এলাকা এক জিনিস নয়

যেসব প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক সরাসরি আসেন, সেগুলোর প্রকৃত ঠিকানা দেওয়া প্রয়োজন। গুগল ম্যাপে অবস্থান নির্দেশক চিহ্নটি সঠিক জায়গায় আছে কি না, দেখে নিন। ভুল ভবন বা রাস্তা দেখানো হলে গ্রাহককে দোকান খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সেবা দেয় কিন্তু নিজস্ব ঠিকানায় গ্রাহক গ্রহণ করে না, সেগুলো সেবাভিত্তিক এলাকার ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে ঠিকানা গ্রাহকদের কাছ থেকে গোপন রেখে সেবার এলাকা নির্ধারণ করতে হয়।

প্রোফাইলের তথ্য সম্পাদনার অংশে গিয়ে অবস্থান ও সেবার এলাকা পরিবর্তন করা যায়। শহর, ডাকঘরের সাংকেতিক নম্বর বা সমর্থিত এলাকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০টি সেবার এলাকা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। গুগলের সাধারণ নির্দেশনায় ব্যবসার কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার গাড়িপথের মধ্যে সেবার এলাকা রাখার পরামর্শ রয়েছে। তবে কিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় এলাকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

কোনো প্রতিষ্ঠান দোকানে গ্রাহক গ্রহণের পাশাপাশি বাড়িতে গিয়েও সেবা দিলে উপযুক্ত শর্ত পূরণ করে ঠিকানা ও সেবার এলাকা দুটিই দেখাতে পারে। এখানে এলাকার সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে বাস্তব তথ্য দেওয়া জরুরি। যে এলাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব নয়, সেই এলাকা প্রোফাইলে যুক্ত করবেন না।

যাচাইয়ের সময় সবার জন্য একই পদ্ধতি থাকবে না

প্রোফাইলের তথ্য জমা দেওয়ার পর গুগলের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে ফোন বা মুঠোবার্তার মাধ্যমে যাচাইয়ের সুযোগ থাকতে পারে। অন্য ক্ষেত্রে ইমেইল, ভিডিও ধারণ, সরাসরি ভিডিও কল কিংবা ডাকযোগে পাঠানো যাচাইপত্রের মতো পদ্ধতি পাওয়া যেতে পারে। ব্যবসার ধরন, অবস্থান ও প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী গুগল পদ্ধতি নির্ধারণ করে।

ভিডিও ধারণের প্রয়োজন হলে সেটি অন্তত ৩০ সেকেন্ডের হতে হবে। মোবাইল ফোন থেকে গুগলের নির্দেশনা অনুসরণ করে সরাসরি ভিডিও ধারণ ও জমা দিতে হয়। আগে ধারণ করা বা সম্পাদিত ভিডিও গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিওতে দোকানের সাইনবোর্ড, আশপাশের অবস্থান, ব্যবসার সরঞ্জাম এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। অন্য ব্যক্তির মুখ বা সংবেদনশীল পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা এড়িয়ে চলুন।

যাচাইয়ের তথ্য জমা দেওয়ার পর পর্যালোচনায় সাধারণত পাঁচ কার্যদিবস পর্যন্ত লাগতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। যাচাই ব্যর্থ হলে আরেকটি নতুন প্রোফাইল খোলার বদলে কোথায় সমস্যা হয়েছে, সেটি দেখুন। গুগলের যাচাই সহায়তা পৃষ্ঠায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

প্রোফাইল তৈরি হলো, কিন্তু তথ্যগুলো ঠিক আছে তো?

ব্যবসার প্রোফাইল যাচাই হওয়ার পর অনেকে আর সেটির দিকে নজর দেন না। অথচ ব্যবসার সময়সূচি, ফোন নম্বর কিংবা সেবার ধরন বদলাতে পারে। ধরুন, আপনার দোকান শুক্রবার বন্ধ থাকে। গুগলে পুরোনো সময়সূচি দেওয়া থাকলে কেউ শুক্রবার দোকানে এসে বন্ধ পেতে পারেন। সঠিক তথ্য থাকলে এমন বিভ্রান্তি এড়ানো সহজ হয়। প্রোফাইলে ব্যবসার খোলার সময়, ফোন নম্বর, সেবার বিবরণ এবং ওয়েবসাইট থাকলে তার ঠিকানা ঠিক রাখুন। দোকানের সামনের অংশ, ভেতরের পরিবেশ কিংবা প্রকৃত পণ্যের ছবিও যুক্ত করতে পারেন।

অন্য প্রতিষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করবেন না। এমন ছবিও এড়িয়ে চলুন, যা বাস্তব ব্যবসা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে। প্রোফাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সতর্ক থাকাও প্রয়োজন। কোনো স্বাধীন পেশাজীবী বা বিপণন সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দিলে ব্যবসার প্রধান মালিকানা নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে রাখুন।

ব্যবসার প্রোফাইলের সেটিংসে ব্যবহারকারী ও তাঁদের অনুমতি পরিচালনার অংশ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কাউকে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যায়। এতে পাসওয়ার্ড ভাগ করতে হয় না। ব্যবস্থাপক প্রোফাইলের অনেক তথ্য পরিবর্তন করতে পারলেও মালিকের মতো অন্য ব্যবহারকারী যোগ বা অপসারণ করতে পারেন না। মোবাইল ফোন, ব্রাউজার ও পরিচালনব্যবস্থাভেদে কিছু সেটিংয়ের অবস্থান আলাদা হতে পারে।

গ্রাহক যেভাবে খোঁজেন, ব্যবসার বিবরণও সেভাবে লিখুন

গ্রাহক যেভাবে খোঁজেন, ব্যবসার বিবরণও সেভাবে লিখুন

ব্যবসার মালিক যে নামে একটি সেবা চেনেন, গ্রাহক সব সময় সেই নাম ব্যবহার করেন না। কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মেরামত প্রতিষ্ঠানের কাছে সেবাটি ‘এসি রক্ষণাবেক্ষণ’ নামে পরিচিত হতে পারে। কিন্তু গ্রাহক হয়তো ‘এসি সার্ভিসিং’ বা ‘এসি মেরামত’ লিখে খুঁজছেন।

চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘এসি সার্ভিসিং চট্টগ্রাম’, ‘পাঁচলাইশ এসি মেরামত’ কিংবা ‘আমার কাছাকাছি এসি মেরামতের দোকান’ প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধানের উদাহরণ হতে পারে। এগুলো সম্ভাব্য অনুসন্ধান, যাচাই করা অনুসন্ধানের পরিমাণের তথ্য নয়।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গেও একই সেবার নাম বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। কোথাও ‘ইলেকট্রিক মিস্ত্রি’ পরিচিত শব্দ, অন্য জায়গায় ‘বিদ্যুৎ মিস্ত্রি’ বেশি ব্যবহৃত হতে পারে। গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্ন, গুগল অনুসন্ধানের স্বয়ংক্রিয় শব্দের পরামর্শ এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য তথ্য থেকে প্রাসঙ্গিক শব্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

তবে গুগলের পরামর্শে কোনো শব্দ দেখা মানেই সেটি অনেক মানুষ খুঁজছেন, এমন নয়। ব্যবসার নাম বা বিবরণে একই শব্দ বারবার লেখারও প্রয়োজন নেই। এমন বিবরণ লিখুন, যা পড়ে একজন নতুন গ্রাহক সহজে বুঝতে পারেন প্রতিষ্ঠানটি কী সেবা দেয় এবং কোথায় সেবা পাওয়া যাবে।

ওয়েবসাইটে এলাকার নাম বসালেই লোকাল এসইও হয় না

গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরির জন্য ওয়েবসাইট বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু গ্রাহককে সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য এটি কাজে আসতে পারে। একটি দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্রের কথা ভাবুন। গুগলে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর দেখে কেউ চিকিৎসাকেন্দ্রটি খুঁজে পেলেন। কিন্তু সেখানে কোন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, চিকিৎসক কারা কিংবা সাক্ষাতের সময় নেওয়ার নিয়ম কী, তা জানতে চাইলে আরও তথ্যের প্রয়োজন হবে।

ওয়েবসাইটে এসব বিষয় গুছিয়ে প্রকাশ করা যায়। একাধিক শাখা থাকলে প্রতিটি শাখার কার্যক্রম ও যোগাযোগের তথ্যও আলাদা করে দেওয়া সম্ভব। লোকাল এসইওর জন্য ওয়েবসাইটে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করুন।

  • মূল পৃষ্ঠা ও যোগাযোগের পাতায় ব্যবসার প্রকৃত নাম, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রকাশযোগ্য ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে কি না।
  • সেবার বিবরণে প্রাসঙ্গিক এলাকার নাম স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
  • মোবাইল ফোনে লেখা পড়া এবং যোগাযোগ করা সহজ কি না।
  • একাধিক শাখা থাকলে প্রতিটির সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না।
  • গুগল সার্চ কনসোল দিয়ে গুগল প্রয়োজনীয় পাতাগুলো খুঁজে পাচ্ছে এবং অনুসন্ধানের জন্য তালিকাভুক্ত করছে কি না, তা দেখা হয়েছে কি না।

এখানে একটি প্রচলিত ভুল হলো, বিভিন্ন শহর বা এলাকার নামে প্রায় একই লেখা দিয়ে আলাদা পৃষ্ঠা তৈরি করা। ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠান কেবল ঢাকায় সেবা দেয়। কিন্তু বরিশাল, খুলনা বা রাজশাহীর নামে প্রায় অভিন্ন পৃষ্ঠা বানিয়ে সেখানকার অনুসন্ধান থেকে দর্শনার্থী আনার চেষ্টা করা হলো।

ব্যবহারকারীকে একই গন্তব্যে পাঠানোর উদ্দেশ্যে এমন পৃষ্ঠা তৈরি করা গুগলের বিভ্রান্তিকর প্রবেশপথ তৈরির বিরুদ্ধে নীতিমালার আওতায় পড়তে পারে। যে এলাকায় ব্যবসার প্রকৃত কার্যক্রম রয়েছে, সেই এলাকার তথ্য দিন। প্রতিটি পাতায় এমন কিছু থাকা উচিত, যা গ্রাহকের কাজে আসবে।

ওয়েবসাইটের কারিগরি ব্যবস্থাপনার সুযোগ থাকলে স্থানীয় ব্যবসার কাঠামোবদ্ধ তথ্য যুক্ত করা যায়। এতে ঠিকানা, যোগাযোগ ও খোলার সময়ের মতো তথ্য গুগলকে সংগঠিতভাবে জানানো সম্ভব। তবে এটি যোগ করলেই অনুসন্ধানের ফলাফলে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

অন্য ওয়েবসাইটে ব্যবসার পুরোনো ঠিকানা রয়ে গেছে কি?

শুধু গুগল বিজনেস প্রোফাইলে সঠিক তথ্য থাকলেই সব জায়গার সমস্যা মিটবে না। ব্যবসার নাম স্থানীয় ব্যবসার তালিকা, শিল্পসংস্থার সদস্যতালিকা কিংবা অন্য কোনো ওয়েবসাইটেও থাকতে পারে। এ ধরনের উল্লেখকে স্থানীয় ব্যবসার তথ্যসূত্র বা লোকাল সাইটেশন বলা হয়। ধরুন, গুগল বিজনেস প্রোফাইলে আপনার দোকানের ঠিকানা ‘ধানমন্ডি ২৭’। কিন্তু অন্য একটি ব্যবসার তালিকায় পুরোনো ঠিকানা দেওয়া রয়েছে। কোনো গ্রাহক সেই তথ্য দেখে ভুল জায়গায় যেতে পারেন।

ব্যবসার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বরের সমন্বয়কে স্থানীয় এসইওতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রাসঙ্গিক অনলাইন তালিকাগুলোতে এই তথ্য মিলিয়ে দেখুন এবং ভুল থাকলে সংশোধন করুন। তবে সেবাভিত্তিক এলাকার ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা অপ্রকাশিত ব্যবসার ঠিকানা সব জায়গায় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এখন প্রশ্ন হলো, কতগুলো ব্যবসার তালিকায় প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করবেন?

এখানে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা ধরে কাজ করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় গ্রাহকের জন্য উপযোগী এবং ব্যবসার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক জায়গাগুলো বেছে নিন। শত শত অপরিচিত ওয়েবসাইটের তালিকায় নাম যুক্ত করলেই গুগলের অনুসন্ধানে অবস্থান উন্নত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অর্থ খরচ করার আগে কোথায় তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, তা দেখা ভালো।

গ্রাহকদের পর্যালোচনা সংগ্রহের জন্য কীভাবে বলবেন?

কোনো অপরিচিত দোকান বা সেবাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে অনেকেই অন্য গ্রাহকদের মতামত পড়েন। আগের ক্রেতারা কী ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, সেটি নতুন গ্রাহকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সেবা নেওয়ার পর গ্রাহককে পর্যালোচনা দিতে অনুরোধ করা যেতে পারে।

গুগল বিজনেস প্রোফাইলের গ্রাহক পর্যালোচনা পড়ার অংশ থেকে নতুন পর্যালোচনা চাওয়ার বিকল্পে গিয়ে পর্যালোচনা দেওয়ার সংযোগ পাওয়া যায়। কম্পিউটার ব্রাউজার থেকে কিউআর কোডও তৈরি করা যায়। গুগলের নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ফোন থেকে সরাসরি এই কিউআর কোড তৈরির সুবিধা নেই।

রসিদ, ধন্যবাদ বার্তা কিংবা দোকানের নির্দিষ্ট জায়গায় সংযোগ বা কিউআর কোড রাখা যেতে পারে। কিন্তু পর্যালোচনা দেওয়ার বিনিময়ে টাকা, ছাড় কিংবা বিনামূল্যে পণ্য দেওয়া গুগলের নীতিমালার পরিপন্থী। নেতিবাচক পর্যালোচনা পরিবর্তন বা সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়েও কোনো সুবিধা দেওয়া যাবে না।

শুধু সন্তুষ্ট গ্রাহকদের কাছ থেকে ইতিবাচক পর্যালোচনা সংগ্রহ করার চেষ্টা না করে প্রকৃত গ্রাহকদের সৎ মতামত দিতে উৎসাহিত করুন। কেউ নেতিবাচক পর্যালোচনা দিলে অভিযোগটি বুঝে উত্তর দিন। প্রয়োজনে আলাদাভাবে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা যায়। তবে প্রকাশ্যে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করবেন না। গুগলের গ্রাহক পর্যালোচনা সংগ্রহের নির্দেশনায় বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুগলে ব্যবসা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু গ্রাহক বাড়ছে কি?

প্রোফাইল তৈরি করার পর নিয়মিত তথ্য দেখার অভ্যাস করুন। শুধু গুগলে ব্যবসার নাম পাওয়া যাচ্ছে বলে কাজের ফল ভালো হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। গুগল বিজনেস প্রোফাইলের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান অংশে প্রোফাইল দেখার সংখ্যা, প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধান, ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য ক্লিক এবং দিকনির্দেশনা চাওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সব ব্যবসার জন্য অবশ্য সব ধরনের পরিমাপ দেখানো হয় না।

সংখ্যাগুলোর অর্থও বুঝতে হবে।

কেউ ফোন করার বোতামে চাপ দিয়েছেন মানেই তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে, এমন নয়। আবার দোকানে যাওয়ার পথ দেখেছেন বলেই তিনি সেখানে গিয়েছেন বা কেনাকাটা করেছেন, সেটিও বলা যায় না। কার্যক্রমের কিছু পরিসংখ্যানে স্বাভাবিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি গুগলের বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ফলে সব সংখ্যাকে বিনামূল্যের লোকাল এসইওর ফলাফল ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে গুগল সার্চ কনসোল দিয়ে অনুসন্ধানে পৃষ্ঠার প্রদর্শন ও প্রবেশের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করুন। প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধানের শব্দ এবং দেশের ভিত্তিতেও তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়। তবে গুগল সার্চ কনসোলের সাধারণ কার্যক্রমের প্রতিবেদন দিয়ে নির্দিষ্ট পাড়া বা রাস্তার সব স্থানীয় অনুসন্ধান কিংবা গুগল ম্যাপে ব্যবসার অবস্থান সরাসরি মাপা যায় না।

প্রয়োজনে ওয়েবসাইটের দর্শনার্থীদের কার্যক্রম বিশ্লেষণের ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাঁরা ওয়েবসাইটে এসে কী করছেন, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। মাসভিত্তিক তথ্য মিলিয়ে দেখুন। অনুসন্ধানে ব্যবসার উপস্থিতি বাড়লেও বিক্রি না বাড়লে যোগাযোগের ব্যবস্থা, সেবার চাহিদা, মূল্য কিংবা গ্রাহকসেবার দিকটি পরীক্ষা করুন। একটি ছোট দোকানের ক্ষেত্রে প্রোফাইল কতবার দেখা হয়েছে, সেই সংখ্যার পাশাপাশি প্রকৃত ফোনালাপ, সেবার অনুরোধ ও কেনাকাটার তথ্যও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে কাজে আসে।

ব্যবসা স্থানান্তর করলে পুরোনো প্রোফাইলের কী হবে?

দোকান অন্য জায়গায় স্থানান্তর করলে সাধারণত নতুন গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করতে হয় না। বিদ্যমান প্রোফাইলের ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয়। যাচাই করা ব্যবসার ঠিকানা পরিবর্তনের পর পুনরায় যাচাই করতে হবে। ব্যবসার নাম ও পরিচয় অপরিবর্তিত থাকলে সাধারণত পুরোনো গ্রাহক পর্যালোচনা বজায় থাকে। তবে হোটেল, গলফ খেলার মাঠ কিংবা দর্শনীয় স্থানের মতো কিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে পর্যালোচনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত নাও হতে পারে।

একই ঠিকানায় দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকলেও বিষয়টি সতর্কভাবে দেখতে হবে। প্রতিষ্ঠান দুটি প্রকৃতপক্ষে স্বতন্ত্র হতে হবে, আলাদা নামে পরিচালিত হতে হবে এবং গুগলের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। পৃথক পরিচয় ও সাইনবোর্ডের প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।

ভার্চুয়াল অফিস বা যৌথভাবে ব্যবহৃত কর্মস্থলের ক্ষেত্রেও নিয়ম রয়েছে।

কোনো জায়গায় অফিসের ঠিকানা ব্যবহারের সুযোগ পেলেই সেটিকে গুগল বিজনেস প্রোফাইলে ব্যবসার ঠিকানা হিসেবে দেখানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট স্থানে নিজস্ব কর্মী, নির্ধারিত সময়ে গ্রাহক গ্রহণের ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত সাইনবোর্ডের মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। ভুয়া বা অনুপযুক্ত ঠিকানা ব্যবহার করলে প্রোফাইলের ওপর বিধিনিষেধ আসতে পারে।

ছোট ব্যবসার জন্য শুরুতে কোন কাজগুলো জরুরি?

লোকাল এসইওর কাজ শুরু করতে একসঙ্গে অনেক সফটওয়্যার বা সেবার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে ছোট দোকান কিংবা সীমিত বাজেটের সেবাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগে ব্যবসার মৌলিক তথ্য ঠিক করা বেশি যুক্তিসংগত। গুগল ম্যাপে নিজের ব্যবসার নাম দিয়ে খুঁজুন। প্রোফাইল থাকলে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিন। নাম, ঠিকানা, ব্যবসার ধরন, ফোন নম্বর ও খোলার সময় মিলিয়ে দেখুন।

কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধন করুন। প্রোফাইল না থাকলে ব্যবসার যোগ্যতা যাচাই করে নতুনটি তৈরি করুন। প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন হলে প্রকৃত ছবি ও সেবার বিবরণ যুক্ত করুন। এরপর গ্রাহকদের পর্যালোচনা দেওয়ার সহজ ব্যবস্থা রাখুন। ওয়েবসাইট থাকলে সেখানকার ব্যবসার তথ্যও মিলিয়ে নিন। নিয়মিত প্রোফাইলের কার্যক্রমের তথ্য দেখুন, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কত গ্রাহক বাড়বে, এমন প্রত্যাশা ধরে কাজ শুরু করবেন না।

কেউ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গুগল ম্যাপে প্রথম অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সেই প্রতিশ্রুতি সতর্কভাবে বিবেচনা করুন। অনুসন্ধানকারীর অবস্থান, ব্যবসার প্রাসঙ্গিকতা, পরিচিতি ও প্রতিযোগিতা অনুযায়ী ফলাফল বদলাতে পারে।

লোকাল এসইও কী, তা বোঝার পর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ হলো নিজের ব্যবসাকে গুগলে সঠিকভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা। তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন প্রচারণায় টাকা খরচ করার আগে সেই সমস্যা ঠিক করুন।

একটি ছোট দোকানের জন্য সঠিক গুগল বিজনেস প্রোফাইল ও নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ রাখা ভালো সূচনা হতে পারে। একাধিক শাখা কিংবা বিভিন্ন এলাকায় সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিটি শাখার তথ্য, ওয়েবসাইটের স্থানীয় পৃষ্ঠা এবং গ্রাহকের সাড়া আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

১. গুগল বিজনেস প্রোফাইলের তথ্য পরিবর্তন করলে কতক্ষণে দেখা যায়?

প্রোফাইলের ঠিকানা, ফোন নম্বর বা ব্যবসার সময়সূচি পরিবর্তন করলে গুগল সাধারণত ১০ মিনিটের মধ্যে তথ্য পর্যালোচনা করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। পরিবর্তিত তথ্য সঙ্গে সঙ্গে দেখা না গেলে প্রোফাইলে সেটির অনুমোদনের অবস্থা পরীক্ষা করুন। গুগল কোনো পরিবর্তন অনুমোদন না করলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে হবে।

২. গুগল ম্যাপে দোকানের অবস্থান ভুল দেখালে কী করবেন?

নিজের গুগল বিজনেস প্রোফাইলে প্রবেশ করে তথ্য সম্পাদনার অংশ থেকে অবস্থান নির্বাচন করুন। সেখানে ব্যবসার ঠিকানা সংশোধন করা যায়। ঠিকানা সঠিক থাকলেও মানচিত্রে অবস্থান নির্দেশক চিহ্ন ভুল জায়গায় থাকলে সেটি সরিয়ে প্রকৃত অবস্থানে বসানোর সুযোগ রয়েছে। পরিবর্তন সংরক্ষণের পর গুগলের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

৩. গুগলে কেউ ভুয়া বা মিথ্যা পর্যালোচনা দিলে সেটি কি সরানো যায়?

গুগলের নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন পর্যালোচনা সরানোর জন্য অভিযোগ জানানো যায়। তবে কোনো পর্যালোচনা নেতিবাচক হলেই সেটি মুছে ফেলা হবে না। গুগল অভিযোগটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ প্রত্যাখ্যাত হলে যোগ্য ক্ষেত্রে একবার আপিল করার সুযোগ থাকতে পারে। সাধারণ গ্রাহক অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক ও ভদ্র উত্তর দেওয়াই ভালো।

৪. গুগল বিজনেস প্রোফাইল স্থগিত হলে কীভাবে আবার চালু করবেন?

প্রথমে প্রোফাইল স্থগিত হওয়ার কারণ এবং গুগলের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পরীক্ষা করুন। কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের ব্যবস্থা নিন। এরপর গুগলের নির্ধারিত আপিল ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যায়। প্রয়োজন হলে ব্যবসার নিবন্ধন, অনুমতিপত্র, করসংক্রান্ত নথি বা ইউটিলিটি বিলের মতো প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে। আপিল চলাকালে একই ব্যবসার জন্য নতুন প্রোফাইল তৈরি করবেন না।

৫. ব্যবসার প্রোফাইলের তথ্য অনুমতি ছাড়া পরিবর্তিত হলে কী করবেন?

গুগল বিভিন্ন উৎস থেকে ব্যবসার তথ্য পায়। কোনো তথ্য ভুল বলে জানা গেলে গুগল নিজেও প্রোফাইলের তথ্য হালনাগাদ করতে পারে। এমন পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তি পেলে প্রোফাইলের তথ্য সম্পাদনার অংশ পরীক্ষা করুন। ব্যবসার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর কিংবা খোলার সময় ভুল থাকলে সঠিক তথ্য দিন। সংশোধন অনুমোদিত না হলে গুগলের সহায়তা ব্যবস্থায় যোগাযোগ করা যায়।

সর্বশেষ