পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী?

সর্বাধিক আলোচিত

একটি ওয়েবসাইটে SEO নিয়ে বিশটির বেশি নিবন্ধ থাকতে পারে। কোথাও কীওয়ার্ড গবেষণার নিয়ম, কোথাও ইন্টারনাল লিংকিং, আবার কোথাও Google Search Console ব্যবহারের নির্দেশনা। প্রতিটি লেখায় প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলেও সমস্যা দেখা দেয়, যখন সেগুলোর মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে না। পাঠক একটি নিবন্ধ পড়ে পরের প্রয়োজনীয় লেখাটি খুঁজে পান না। ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠাগুলোও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থেকে যায়।

এই সমস্যা সমাধানের একটি উপায় হলো পিলার ও ক্লাস্টার কনটেন্টের মাধ্যমে বিষয়গুলো সাজানো। পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টে-এর মূল পার্থক্য তাদের কাজের পরিধিতে। পিলার কনটেন্ট একটি বড় বিষয়ের সামগ্রিক ধারণা দেয়। ক্লাস্টার কনটেন্ট সেই বিষয়ের নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। দুই ধরনের কনটেন্টের মধ্যে প্রাসঙ্গিক লিংক থাকলে পাঠকের তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

তবে সব ওয়েবসাইটের জন্য নতুন করে পিলার পেজ তৈরি করা প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিবন্ধগুলো সাজানো এবং সঠিক জায়গায় ইন্টারনাল লিংক দেওয়াই ভালো সূচনা হতে পারে।

পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্ট আসলে কী?

পিলার কনটেন্ট (Pillar Content) হলো একটি বিস্তৃত বিষয় নিয়ে তৈরি কেন্দ্রীয় কনটেন্ট। এতে পাঠক বিষয়টির প্রধান অংশগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। সাধারণত একটি পিলার পেজে (Pillar Page) এসব তথ্য সাজানো হয়। ধরা যাক, একটি ব্যবসাবিষয়ক ওয়েবসাইটে ‘ছোট ব্যবসার ডিজিটাল মার্কেটিং’ নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা রয়েছে। সেখানে SEO, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, ইমেইল মার্কেটিং, বিজ্ঞাপনের বাজেট এবং ফলাফল পরিমাপের বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।

এই নির্দেশিকাটি পিলার পেজ হিসেবে কাজ করতে পারে। কারণ, পাঠক এখানে পুরো বিষয়টির একটি ধারণা পাচ্ছেন। প্রয়োজন হলে কোনো নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে আরও বিস্তারিত পড়ার সুযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, ক্লাস্টার কনটেন্ট (Cluster Content) একটি নির্দিষ্ট উপবিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা হয়। যেমন, ‘ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বাজেট কীভাবে নির্ধারণ করবেন’ কিংবা ‘ইমেইল মার্কেটিং শুরু করার নিয়ম’।

এই নিবন্ধগুলোর পাঠকচাহিদা আলাদা। কেউ বিজ্ঞাপনের বাজেট জানতে চাইলে তাঁকে পুরো ডিজিটাল মার্কেটিং পরিকল্পনা পড়তে বাধ্য করার প্রয়োজন নেই। কেন্দ্রীয় পিলার পেজ এবং তার সঙ্গে যুক্ত সম্পর্কিত ক্লাস্টার কনটেন্টগুলো নিয়ে যে কাঠামো তৈরি হয়, সেটিই টপিক ক্লাস্টার (Topic Cluster)। এটি SEO ও কনটেন্ট পরিকল্পনার একটি প্রচলিত পদ্ধতি। তবে Google Search-এ জায়গা পেতে হলে প্রতিটি ওয়েবসাইটকে এমন কাঠামো অনুসরণ করতেই হবে, এমন নিয়ম নেই।

পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টে: পার্থক্যগুলো একসঙ্গে দেখুন

পিলার ও ক্লাস্টার কনটেন্টকে আলাদা করার সময় নিবন্ধের দৈর্ঘ্যের চেয়ে পাঠকের উদ্দেশ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তুলনার বিষয় পিলার কনটেন্ট ক্লাস্টার কনটেন্ট
মূল কাজ বড় বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করা নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেওয়া
বিষয়বস্তুর পরিধি একাধিক সম্পর্কিত উপবিষয় একটি নির্দিষ্ট উপবিষয়
পাঠকের প্রয়োজন সামগ্রিক ধারণা বা পরিকল্পনা বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা নির্দেশনা
সার্চ ইনটেন্ট সাধারণত বিস্তৃত তুলনামূলক নির্দিষ্ট
ইন্টারনাল লিংক সম্পর্কিত ক্লাস্টারে পাঠায় প্রাসঙ্গিক পিলার ও অন্য নিবন্ধে পাঠায়
হালনাগাদ সামগ্রিক তথ্য ও কাঠামো পর্যালোচনা নির্দিষ্ট তথ্য, ধাপ ও উদাহরণ সংশোধন

একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পিলার পেজ সব সময় অনেক বড় হতে হবে। বাস্তবে বিষয়টির পরিধি ও পাঠকের প্রয়োজন অনুযায়ী দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা উচিত। কোনো জটিল উপবিষয়ের ক্লাস্টার নিবন্ধ পিলার পেজের চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে।

তাই কোনো লেখা পিলার হবে, নাকি ক্লাস্টার হবে, তা শুধু শব্দসংখ্যা বা শিরোনাম দেখে নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

একটি অনলাইন দোকানের উদাহরণে টপিক ক্লাস্টার বুঝুন

একটি অনলাইন দোকানের উদাহরণে টপিক ক্লাস্টার বুঝুন

ধরা যাক, একটি অনলাইন দোকান নিয়মিত SEO নিয়ে কনটেন্ট প্রকাশ করতে চায়। দোকানটির জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার শিরোনাম হতে পারে ‘অনলাইন দোকানের SEO: পরিকল্পনা থেকে ফলাফল পরিমাপ’।

এটিকে পিলার পেজ হিসেবে ধরে কয়েকটি স্বতন্ত্র নিবন্ধ তৈরি করা যায়।

  • পণ্যের পৃষ্ঠার SEO: পণ্যের নাম, শিরোনাম, বিবরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য কীভাবে সাজাতে হবে।
  • ক্যাটাগরি পেজ অপটিমাইজেশন: পণ্যের বিভাগ, নেভিগেশন ও পৃষ্ঠার কাঠামো তৈরির নিয়ম।
  • পণ্যের ছবির SEO: ছবির বিকল্প লেখা, বর্ণনা ও উপযুক্ত ফাইল ব্যবহারের নির্দেশনা।
  • ই-কমার্স ইন্টারনাল লিংকিং: ক্যাটাগরি, পণ্য ও তথ্যভিত্তিক পৃষ্ঠার মধ্যে লিংক তৈরি।
  • Google Search Console বিশ্লেষণ: কোন পণ্য বা ক্যাটাগরি পৃষ্ঠা সার্চে কেমন ফল করছে, তা বোঝার পদ্ধতি।

পিলার পেজে প্রতিটি বিষয়ের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা থাকবে। পণ্যের ছবি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে পাঠক সেই ক্লাস্টার নিবন্ধে যেতে পারবেন। আবার ছবির SEO নিয়ে লেখা নিবন্ধ থেকে পণ্যের পৃষ্ঠার SEO কিংবা কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় লিংক দেওয়া যেতে পারে, যদি তা আলোচনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয়। এখানে প্রতিটি ক্লাস্টারকে আলাদা উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। একই তথ্য বিভিন্ন শিরোনামে বারবার প্রকাশ করা হচ্ছে না।

কোন বিষয় নিয়ে পিলার পেজ তৈরি করা যুক্তিসংগত?

কোনো কীওয়ার্ড জনপ্রিয় হলেই সেটিকে কেন্দ্র করে পিলার পেজ তৈরি করতে হবে, এমন নয়। ‘SEO কী’ অনুসন্ধানের কথা ধরা যাক। অনেক পাঠক এখানে SEO-এর সংজ্ঞা এবং সাধারণ কাজের ধারণা জানতে চান। একটি যথাযথ নিবন্ধে সেই প্রয়োজন মিটে যেতে পারে। অথচ ‘ছোট ব্যবসার SEO পরিকল্পনা’ অনেক বিস্তৃত বিষয়। এর মধ্যে কীওয়ার্ড গবেষণা, অন-পেজ অপটিমাইজেশন, স্থানীয় SEO, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং ফলাফল বিশ্লেষণের মতো স্বতন্ত্র অংশ রয়েছে। ফলে এটি পিলার পেজের উপযুক্ত বিষয় হতে পারে।

বিষয় নির্বাচনের সময় দেখতে হবে, পাঠক আসলে কী জানতে চাইছেন। তিনি কি একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর চান, নাকি কয়েকটি সম্পর্কিত কাজের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা খুঁজছেন? এরপর সম্ভাব্য ক্লাস্টারগুলো মূল্যায়ন করুন। প্রতিটির জন্য আলাদা অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য এবং পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে কি না দেখুন। শুধু মূল কীওয়ার্ডের সঙ্গে নতুন কিছু শব্দ যোগ করে কয়েকটি নিবন্ধ তৈরি করলে ভালো ক্লাস্টার কাঠামো হবে না।

ওয়েবসাইটের নিজস্ব বিষয়ও এখানে বিবেচ্য। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনার জন্য SEO বা তথ্যনিরাপত্তা নিয়ে পিলার তৈরি করা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু বেশি সার্চ পাওয়ার আশায় প্রকাশনার মূল বিষয় থেকে অনেক দূরের কনটেন্ট তৈরি করলে সেটি নিয়মিত হালনাগাদ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

পুরোনো নিবন্ধ দিয়েই কি পিলার ও ক্লাস্টার তৈরি করা যায়?

যেসব ওয়েবসাইটে আগে থেকেই অনেক নিবন্ধ রয়েছে, তাদের জন্য উত্তরটি সাধারণত হ্যাঁ। নতুন পিলার ও ক্লাস্টার তৈরির আগে পুরোনো কনটেন্ট পর্যালোচনা করা ভালো। শুরুতে একই বিষয়ের সব নিবন্ধের একটি তালিকা করুন। সেখানে URL, মূল বিষয়, লক্ষ্য অনুসন্ধান এবং প্রকাশনার অবস্থা রাখুন। তারপর দেখুন, কোন লেখাটি সামগ্রিক নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করতে পারে এবং কোনগুলো নির্দিষ্ট সমস্যার উত্তর দিচ্ছে।

হয়তো দেখা যাবে, আগে প্রকাশিত একটি বিস্তারিত নিবন্ধকে সামান্য সম্প্রসারণ করলেই ভালো পিলার পেজ পাওয়া যাবে। অন্য নিবন্ধগুলোতে প্রাসঙ্গিক লিংক যুক্ত করে ক্লাস্টার কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। তবে পুরোনো কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার সময় একটি সিদ্ধান্ত সতর্কভাবে নিতে হবে। দুটি নিবন্ধে প্রায় একই প্রশ্নের উত্তর থাকলে সেগুলো একত্র করা যুক্তিসংগত হতে পারে। কিন্তু বিষয় কাছাকাছি হলেই একত্র করতে হবে, এমন নয়। আলাদা পাঠকচাহিদা থাকলে নিবন্ধগুলো স্বতন্ত্র রাখাই ভালো।

কোনো পুরোনো URL স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করলে উপযুক্ত নতুন ঠিকানায় সার্ভার-সাইড স্থায়ী রিডাইরেক্ট ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত HTTP 301 বা 308 রিডাইরেক্ট প্রযোজ্য। পাশাপাশি পুরোনো URL-এ দেওয়া ইন্টারনাল লিংকগুলোও নতুন ঠিকানায় হালনাগাদ করতে হবে। বিদ্যমান কার্যকর নিবন্ধকে উপেক্ষা করে প্রায় একই উদ্দেশ্যের নতুন পৃষ্ঠা প্রকাশ করা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বাড়ায়।

পিলার পেজে কতটুকু লিখবেন, ক্লাস্টারে কতটুকু?

এই জায়গায় কনটেন্ট পরিকল্পনাকারীরা প্রায়ই দ্বিধায় পড়েন। পিলার পেজে সব তথ্য বিস্তারিত লিখলে ক্লাস্টার নিবন্ধে নতুন কী থাকবে? আবার খুব সংক্ষিপ্ত লিখলে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকাটিই অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। ধরা যাক, পিলার পেজের একটি অংশের শিরোনাম ‘কীওয়ার্ড গবেষণা’। সেখানে কীওয়ার্ড গবেষণা কেন প্রয়োজন, সার্চ ইনটেন্ট কীভাবে বিবেচনা করতে হয় এবং ভুল কীওয়ার্ড নির্বাচনে কী সমস্যা হতে পারে, তা ব্যাখ্যা করা যায়। পাঠক বিষয়টির মূল ধারণা পাবেন।

কিন্তু নির্দিষ্ট টুল ব্যবহার করে কীওয়ার্ড খোঁজা, ফিল্টার প্রয়োগ, তথ্য তুলনা কিংবা ফল বিশ্লেষণের বিস্তারিত ধাপ আলাদা ক্লাস্টার নিবন্ধে রাখা বেশি উপযোগী। একইভাবে ‘Google Search Console-এ কোন পৃষ্ঠা বেশি ক্লিক পাচ্ছে’ নিয়ে ক্লাস্টার নিবন্ধ লিখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে যাওয়ার পথ, পরিমাপকের অর্থ, তুলনার পদ্ধতি এবং তথ্যের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করতে হবে।

পিলার পেজের বক্তব্য হুবহু পুনরাবৃত্তি করে ক্লাস্টার দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। ক্লাস্টার নিবন্ধ এমনভাবে লেখা উচিত, যেন পাঠক সেখানে এসে নিজের মূল প্রশ্নের উত্তর পান। উত্তর পেতে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে পিলার পেজে যেতে হবে, এমন ব্যবস্থা ভালো পাঠ-অভিজ্ঞতা তৈরি করে না।

আরও পড়ুন: ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড কুয়েরি আলাদা করে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ

ইন্টারনাল লিংকিং কীভাবে সাজাবেন?

ইন্টারনাল লিংকিং কীভাবে সাজাবেন?

টপিক ক্লাস্টারের ক্ষেত্রে ইন্টারনাল লিংক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমেই সম্পর্কিত পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। গুগল লিংক ব্যবহার করে নতুন পৃষ্ঠা খুঁজে পেতে এবং পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। তবে পাঠকের প্রয়োজন বাদ দিয়ে শুধু সার্চ ইঞ্জিনের কথা চিন্তা করে লিংক বসানো যুক্তিসংগত নয়।

পিলার পেজে যখন কোনো উপবিষয় আলোচনা করবেন, তখন সেই বিষয়ের বিস্তারিত নিবন্ধে লিংক দিন। ক্লাস্টার নিবন্ধেও কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার লিংক থাকতে পারে, বিশেষ করে পাঠকের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট জানার প্রয়োজন হলে।

দুটি ক্লাস্টারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকলে তাদেরও যুক্ত করা যায়। যেমন, কীওয়ার্ড গবেষণার নিবন্ধে সার্চ ইনটেন্ট বিশ্লেষণের লিংক পাঠকের কাজে লাগতে পারে। লিংকের লেখাটিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘এখানে ক্লিক করুন’ লেখার পরিবর্তে ‘সার্চ কনসোলে কুয়েরি বিশ্লেষণের নিয়ম’ লিখলে পাঠক বুঝতে পারবেন, লিংকটি তাঁকে কোন তথ্যের কাছে নিয়ে যাবে।

অবশ্য প্রতিটি ক্লাস্টার থেকে সব ক্লাস্টারে লিংক দেওয়ার দরকার নেই। একইভাবে গুগলও প্রতি পৃষ্ঠায় নির্দিষ্ট সংখ্যক লিংক রাখার বাধ্যতামূলক নিয়ম নির্ধারণ করেনি।

লিংক ক্রলযোগ্য কি না দেখবেন যেভাবে

লিংক তৈরি করার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ HTML-এ <a> এলিমেন্টের সঙ্গে href অ্যাট্রিবিউট ব্যবহার করা হয়। গুগল এ ধরনের লিংক শনাক্ত করতে পারে। JavaScript দিয়ে তৈরি লিংকও ক্রলযোগ্য হতে পারে, যদি রেন্ডার হওয়ার পর সেটি উপযুক্ত HTML লিংক হিসেবে পাওয়া যায়। কিন্তু কেবল JavaScript ইভেন্টের মাধ্যমে পৃষ্ঠা পরিবর্তনের ব্যবস্থা থাকলে গুগল সব ক্ষেত্রে URL শনাক্ত করতে পারে না।

এ ধরনের নেভিগেশন ব্যবহার করলে Google Search Console-এর URL Inspection Tool দিয়ে রেন্ডার করা HTML পরীক্ষা করা যেতে পারে।

আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধে ওয়েবসাইটের অন্য পৃষ্ঠা থেকে লিংক না থাকলে সেটি অরফান পেজ হতে পারে। তবে অরফান পেজ মানেই গুগলের ইনডেক্সে নেই, এমন নয়। সাইটম্যাপ বা বাইরের লিংক থেকেও গুগল সেই URL জানতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে অরফান পেজ খুঁজে ইন্টারনাল লিংক দেওয়ার নির্দেশিকা পড়তে পারেন।

Topic Cluster তৈরি করলে Google Search-এ র‍্যাঙ্কিং বাড়বে?

টপিক ক্লাস্টারের SEO সুবিধা নিয়ে প্রচারে অনেক সময় অতিরঞ্জন দেখা যায়। বিশেষ করে এই ধারণা যে, একটি পিলার পেজের সঙ্গে অনেক ক্লাস্টার যুক্ত করলেই গুগল ওয়েবসাইটটিকে ওই বিষয়ে কর্তৃত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করবে।

এমন নিশ্চয়তা নেই। টপিক ক্লাস্টার মূলত সম্পর্কিত কনটেন্টকে সুসংগঠিত করার পদ্ধতি। ভালো ইন্টারনাল লিংক গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠাগুলো আবিষ্কার করতে এবং তাদের সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু গুগলের সার্চ ব্যবস্থায় কনটেন্টের প্রাসঙ্গিকতা, উপযোগিতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং অন্যান্য সংকেত বিবেচিত হয়। ফলে একটি নির্দিষ্ট লিংক কাঠামো তৈরি করে কতটা র‍্যাঙ্কিং পরিবর্তন হবে, তা আগে থেকে বলা যায় না।

একইভাবে ‘টপিক্যাল অথরিটি’ নামে কোনো নির্দিষ্ট স্কোর অর্জন করলেই ভালো অবস্থান পাওয়া যাবে, এমন ধারণারও ভিত্তি নেই। কনটেন্টের মান এখানে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। দশটি ক্লাস্টার তৈরি করা হলেও সেগুলো যদি একই বক্তব্য ঘুরিয়ে বলে, পাঠকের জন্য তেমন নতুন মূল্য তৈরি হবে না।

বরং প্রতিটি নিবন্ধে স্বতন্ত্র প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পর্কিত পৃষ্ঠায় যাওয়ার সুযোগ রাখা বেশি যুক্তিসংগত।

পিলার ও ক্লাস্টারের SEO ফলাফল কীভাবে মাপবেন?

কনটেন্টের কাঠামো পরিবর্তনের পর কী ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা বুঝতে Google Search Console ব্যবহার করা যায়। এর পারফরম্যান্স প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা এবং অনুসন্ধানের তথ্য দেখা সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পরিমাপক কাজে আসবে।

ক্লিক: গুগল সার্চের ফলাফল থেকে সাইটের লিংকে কতবার ক্লিক হয়েছে।

ইমপ্রেশন: গুগলের গণনার নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান ফলাফলে সাইট বা পৃষ্ঠাটি কতবার প্রদর্শিত হয়েছে।

ক্লিকের হার (CTR): ইমপ্রেশনের তুলনায় ক্লিকের অনুপাত।

গড় অবস্থান: নির্বাচিত তথ্য ও প্রতিবেদনের ধরন অনুযায়ী সার্চ ফলাফলে সাইট বা পৃষ্ঠার অবস্থানের গড় হিসাব।

এখানে গড় অবস্থানকে কোনো পৃষ্ঠার স্থায়ী র‍্যাঙ্কিং মনে করা ঠিক নয়। অনুসন্ধান, সময়, অবস্থান ও ডিভাইসের ভিত্তিতে ফল পরিবর্তিত হতে পারে। আরও একটি বিষয় রয়েছে। সার্চ কনসোলের সাইটভিত্তিক ও URL-ভিত্তিক হিসাব সব সময় একভাবে গণনা করা হয় না। একই অনুসন্ধানে ওয়েবসাইটের একাধিক URL প্রদর্শিত হলে ক্লিক, ইমপ্রেশন ও গড় অবস্থানের হিসাবে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

তাই পিলার ও ক্লাস্টারের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সময় Pages বিভাগে নির্দিষ্ট URL ধরে তথ্য দেখা ভালো। কাঠামো পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাগুলোর তথ্য সংরক্ষণ করুন। এরপর তুলনাযোগ্য সময়ের পারফরম্যান্স দেখুন। ধরা যাক, পিলার পেজে ক্লিক বেড়েছে, কিন্তু কয়েকটি ক্লাস্টার আগের তুলনায় কম ক্লিক পাচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠার উন্নতি দেখে পুরো পরিকল্পনাকে সফল বলা যাবে না। প্রতিটি ক্লাস্টার কোন অনুসন্ধানে প্রদর্শিত হচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।

এখানে মৌসুমি চাহিদা, প্রতিযোগিতা, সার্চ ফলাফলের পরিবর্তন কিংবা অন্য কনটেন্ট হালনাগাদের প্রভাব থাকতে পারে। ফলে ট্রাফিকের সব পরিবর্তনকে নতুন লিংক কাঠামোর ফল হিসেবে ধরা যাবে না।

একই অনুসন্ধানে একাধিক পৃষ্ঠা দেখা গেলেও সেটি নিজে SEO সমস্যার প্রমাণ নয়। পৃষ্ঠাগুলো আলাদা পাঠকচাহিদা পূরণ করছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রায় একই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকলে কোন পৃষ্ঠাটি রাখা বা উন্নত করা প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

সার্চ কনসোলে পেজ ও কুয়েরি ডেটা একসঙ্গে বিশ্লেষণের নির্দেশিকা এ কাজে সহায়ক হতে পারে। মনে রাখতে হবে, Search Console-এর ক্লিক থেকে সরাসরি বিক্রয়, নতুন গ্রাহক কিংবা স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা জানা যায় না। ব্যবসায়িক ফলাফল বুঝতে ওয়েব অ্যানালিটিক্স ও রূপান্তরসংক্রান্ত তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।

ক্লাস্টার তৈরি করতে গিয়ে কোথায় ভুল হয়?

ক্লাস্টার পরিকল্পনার একটি সাধারণ ভুল হলো, একটি বড় বিষয়কে অযথা অনেক ছোট নিবন্ধে ভাগ করা। এতে একই তথ্য বারবার প্রকাশের প্রবণতা তৈরি হয়। ধরা যাক, ‘ইন্টারনাল লিংকিং কী’, ‘ইন্টারনাল লিংকিং কেন প্রয়োজন’ এবং ‘ইন্টারনাল লিংকিংয়ের সুবিধা’ নিয়ে তিনটি আলাদা লেখা তৈরির পরিকল্পনা করা হলো। প্রতিটির জন্য স্বতন্ত্র ও যথেষ্ট তথ্য না থাকলে একটি পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধেই পাঠকের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হতে পারে।

আরেকটি সমস্যা হলো, পিলার পেজকে লিংকের তালিকায় পরিণত করা। পাঠক কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় এসে বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা না পেলে ওই পৃষ্ঠার উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। শিরোনাম ও কীওয়ার্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অস্পষ্টতা দেখা যায়। একই কীওয়ার্ড একাধিক পৃষ্ঠায় থাকতে পারে, কিন্তু সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য আলাদা হওয়া উচিত। কয়েকটি নিবন্ধ যদি প্রায় একই প্রশ্নের উত্তর দেয়, তাহলে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি তৈরি হতে পারে।

কনটেন্ট প্রকাশের পর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। নতুন ক্লাস্টার যুক্ত হলে পিলার পেজে প্রয়োজনীয় লিংক যোগ করতে হতে পারে। কোনো নিবন্ধ সরানো বা একত্র করা হলে পুরোনো লিংকগুলোও পরীক্ষা করতে হবে। ছোট ওয়েবসাইটের জন্য শুরুতেই অনেকগুলো পিলার তৈরির পরিবর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করা বেশি বাস্তবসম্মত।

নিজের ওয়েবসাইটে কোথা থেকে শুরু করবেন?

পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টে-এর পার্থক্য কাজে লাগাতে চাইলে নতুন নিবন্ধ লেখার পরিকল্পনা দিয়ে শুরু করার প্রয়োজন নেই। আগে ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে থাকা কনটেন্টগুলো দেখুন। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেছে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধগুলোর তালিকা তৈরি করুন। কোন লেখা কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা হতে পারে, কোনগুলো আলাদা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে এবং কোথায় ইন্টারনাল লিংকের অভাব রয়েছে, তা শনাক্ত করুন।

এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পিলার পেজের তথ্য উন্নত করুন। ক্লাস্টারগুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিক সংযোগ তৈরি করুন। একই উদ্দেশ্যের একাধিক নিবন্ধ থাকলে সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করুন। পরিবর্তনের আগে ও পরের Search Console ডেটা তুলনা করা যাবে। তবে ট্রাফিকের পাশাপাশি পাঠক সম্পর্কিত তথ্য সহজে খুঁজে পাচ্ছেন কি না এবং কনটেন্টের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি কমেছে কি না, সেটিও দেখুন।

একটি ভালো টপিক ক্লাস্টার তৈরি করার জন্য অনেক নিবন্ধ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। সঠিক বিষয় নির্বাচন, স্বতন্ত্র কনটেন্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইন্টারনাল লিংক তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহারযোগ্য হয়। অর্গানিক ট্রাফিক বাড়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে, যদিও তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পিলার পেজ ও ওয়েবসাইটের ক্যাটাগরি পেজ কি একই?

না। ক্যাটাগরি পেজ সাধারণত একই বিভাগের নিবন্ধ বা পণ্যের তালিকা দেখায়। পিলার পেজে একটি বিস্তৃত বিষয়ের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকে এবং সেখান থেকে বিস্তারিত কনটেন্টে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে পর্যাপ্ত সম্পাদকীয় তথ্য থাকলে কোনো ক্যাটাগরি পেজও পিলার পেজের কাজ করতে পারে।

সাধারণ ব্লগ পোস্ট কি পিলার পেজ হতে পারে?

হ্যাঁ। পিলার পেজের জন্য আলাদা টেমপ্লেট বাধ্যতামূলক নয়। একটি বিদ্যমান ব্লগ পোস্টের বিষয়বস্তু, কাঠামো ও প্রাসঙ্গিক লিংক উন্নত করে সেটিকে পিলার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

একটি ক্লাস্টার নিবন্ধ থেকে কি একাধিক পিলার পেজে লিংক দেওয়া যায়?

যায়। কোনো নিবন্ধ একাধিক বিস্তৃত বিষয়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হলে সংশ্লিষ্ট পিলারগুলোতে লিংক দেওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিটি লিংক পাঠকের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সর্বশেষ