একটি গবেষণা প্রতিবেদনে প্রচুর তথ্য থাকার পরও সেটি সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ না-ও পেতে পারে। কারণ সাংবাদিকেরা সংখ্যার তালিকার চেয়ে এমন তথ্য খোঁজেন, যা তাঁদের পাঠকদের নতুন কিছু জানায়। পরিচিত পরিসংখ্যান আবার প্রকাশ করা কিংবা সাধারণ প্রবণতাকে আকর্ষণীয় শিরোনামে সাজানো তাই অনেক সময় কাজে আসে না।
কার্যকর ডিজিটাল জনসংযোগের ধারণা খুঁজতে প্রথমে বুঝতে হবে, কোন তথ্য মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে, কোথায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটেছে এবং কোন বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এরপর নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংবাদযোগ্য দিকটি বের করতে হবে।
এখানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। সাংবাদিক কেন গবেষণাটি ব্যবহার করবেন, তাঁর পাঠক নতুন কী জানতে পারবেন এবং মূল দাবির পক্ষে কতটা শক্ত প্রমাণ রয়েছে, তা পরিষ্কার না হলে ভালো তথ্যসমষ্টি দিয়েও কার্যকর ডিজিটাল জনসংযোগ প্রচারাভিযান তৈরি করা কঠিন।
সংবাদযোগ্য তথ্য বলতে আসলে কী বোঝায়?
একটি তথ্যসমষ্টিতে হাজার হাজার সংখ্যা থাকতে পারে। কিন্তু সংবাদ তৈরির সম্ভাবনা বাড়ে তখনই, যখন সেসব সংখ্যা থেকে নতুন, প্রাসঙ্গিক ও যাচাইযোগ্য কোনো বিষয় উঠে আসে। ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শহরের বাসাভাড়া নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেখানে শুধু গড় ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করলে পাঠক কিছু তথ্য পাবেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে কোন শহরে ভাড়া সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে, কোথায় আয়ের তুলনায় আবাসন ব্যয় বেশি কিংবা কোন এলাকায় পরিবর্তনের হার অস্বাভাবিক, তা দেখানো গেলে সংবাদ তৈরির সুযোগ বাড়ে।
এই নির্দিষ্ট দিকটিই সংবাদযোগ্য তথ্যের দৃষ্টিকোণ। অর্থাৎ তথ্যের এমন একটি পর্যবেক্ষণ, যা নতুন কিছু জানায় এবং সংবাদ হিসেবে প্রকাশের যৌক্তিকতা তৈরি করে। সাধারণত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য কোনো তথ্যের সংবাদমূল্য বাড়াতে পারে।
- নতুনত্ব: আগে প্রকাশিত হয়নি, এমন তথ্য বা পরিচিত তথ্যের নতুন বিশ্লেষণ।
- জনজীবনে প্রভাব: মানুষের খরচ, কাজ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা দৈনন্দিন সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্ক।
- অপ্রত্যাশিত ফলাফল: প্রচলিত ধারণার সঙ্গে তথ্যের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
- স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা: নির্দিষ্ট শহর, জেলা বা জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
- সময়োপযোগিতা: সাম্প্রতিক ঘটনা, নীতিগত পরিবর্তন কিংবা মৌসুমি প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্ক।
সব বৈশিষ্ট্য একই প্রতিবেদনে থাকতে হবে না। স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্যও বড় সংবাদ হতে পারে। আবার আন্তর্জাতিক কোনো পরিসংখ্যান নতুন হলেও নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পাঠকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক না থাকলে আগ্রহ কম হতে পারে।
তথ্য খোঁজার আগে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ বুঝুন

অনেক জনসংযোগ দল প্রথমে তথ্যসমষ্টি সংগ্রহ করে। এরপর সেটি কোন সংবাদমাধ্যমে পাঠানো যায়, তা ভাবতে শুরু করে। এতে কাজের পরিমাণ বাড়তে পারে। কারণ সংগৃহীত তথ্য সংবাদমাধ্যমের নিয়মিত আলোচনার সঙ্গে মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গবেষণার বিষয় ঠিক করার আগে সম্ভাব্য সংবাদমাধ্যম ও তাদের পাঠকদের চাহিদা বোঝা বেশি যুক্তিসংগত।
প্রথমে প্রতিষ্ঠানের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি সংবাদ বিভাগ নির্বাচন করুন। যেমন প্রযুক্তি, অর্থনীতি, শিক্ষা, পরিবেশ কিংবা ভোক্তা অধিকার। এরপর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের আগের কয়েক মাসের প্রতিবেদন দেখুন। কোন বিষয়গুলো নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে? সাংবাদিকেরা কী ধরনের পরিসংখ্যান ব্যবহার করছেন? কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর কি তথ্যের অভাবে অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে?
ধরা যাক, অনলাইন কেনাকাটার সমস্যা নিয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু কোন অঞ্চলে নির্দিষ্ট ধরনের অভিযোগ বেশি কিংবা অভিযোগ নিষ্পত্তির সময় কীভাবে বদলেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলনা নেই। প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এই ঘাটতি নতুন গবেষণার বিষয় হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ডিজিটাল জনসংযোগের সম্ভাব্য ধারণা খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি কোন সাংবাদিকের কাছে কোন তথ্য পাঠানো যুক্তিসংগত, সেটিও বোঝা সহজ হয়।
নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল জনসংযোগের ধারণা খুঁজতে কোন তথ্যের উৎস ব্যবহার করবেন?
সংবাদযোগ্য তথ্য পেতে সব সময় নতুন জরিপ পরিচালনার প্রয়োজন নেই। সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার প্রকাশিত তথ্যসমষ্টি থেকেও নতুন তুলনা কিংবা বিশ্লেষণ তৈরি করা সম্ভব। তবে কোনো তথ্য ব্যবহার করার আগে সেটির উৎস, সময়কাল, সংগ্রহপদ্ধতি এবং পুনর্ব্যবহারের শর্ত যাচাই করতে হবে।
সরকারি পরিসংখ্যান ও উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস। জনসংখ্যা, অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন জরিপের তথ্য খুঁজতে প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ভিত্তিক প্রকাশনা দেখা যায়। ভারতে সরকারি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার থেকে বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রকাশিত তথ্যসমষ্টি খোঁজা যায়। অর্থনীতি, পরিবহন, শিক্ষা ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য সেখানে পাওয়া যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক তুলনার জন্য বিশ্বব্যাংকের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা যায়। এখানে দেশ, সূচক ও বছর নির্বাচন করে তথ্য দেখার পাশাপাশি এক্সেল ও সিএসভির মতো বিন্যাসে তথ্য নামিয়ে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। তবে একটি দেশের পরিসংখ্যান অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করার আগে সূচকের সংজ্ঞা, পরিমাপের একক এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি মিলিয়ে দেখতে হবে।
আরেকটি বিষয় প্রায়ই নজর এড়িয়ে যায়। কোনো প্রতিবেদনের প্রকাশের তারিখ নতুন হলেও সেটিতে ব্যবহৃত তথ্য কয়েক বছরের পুরোনো হতে পারে। তাই প্রকাশের তারিখ এবং তথ্য যে সময়ের, তা আলাদাভাবে পরীক্ষা করুন।
গুগল ট্রেন্ডস দিয়ে অনুসন্ধানের আগ্রহ বোঝা
কোনো বিষয়ে মানুষের আগ্রহ কীভাবে বদলাচ্ছে, তা বোঝার জন্য গুগলে মানুষের অনুসন্ধানের প্রবণতাও কাজে লাগতে পারে। গুগল ট্রেন্ডসে নির্দিষ্ট বিষয় বা অনুসন্ধান শব্দের প্রতি আগ্রহ সময় ও অঞ্চল অনুযায়ী তুলনা করা যায়। কোথায় আপেক্ষিক আগ্রহ বেশি, কোন সময়ে পরিবর্তন ঘটছে কিংবা মৌসুমি ওঠানামা রয়েছে কি না, তা দেখা সম্ভব।
তবে এর পরিসংখ্যান ব্যাখ্যা করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। গুগল ট্রেন্ডসের ০ থেকে ১০০ নম্বর মোট অনুসন্ধানের সংখ্যা নয়। এটি নির্বাচিত সময় ও অঞ্চলের অনুসন্ধান-আগ্রহের আপেক্ষিক সূচক। নির্ধারিত সময় ও অঞ্চলের মোট গুগল অনুসন্ধানের তুলনায় তথ্য সমন্বয় করে এই সূচক তৈরি করা হয়।
সূচক ১০০ হওয়ার অর্থ নির্বাচিত তুলনায় সর্বোচ্চ আপেক্ষিক অনুসন্ধান-আগ্রহ। এর অর্থ ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মানুষ বিষয়টি অনুসন্ধান করেছেন, এমন নয়। একইভাবে সূচক ০ মানেই কোনো অনুসন্ধান হয়নি, তা বলা যায় না। কম অনুসন্ধানসংখ্যার কারণে পর্যাপ্ত তথ্য না-ও পাওয়া যেতে পারে।
গুগল ট্রেন্ডস নমুনাভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে। ফলে কম অনুসন্ধান হওয়া বিষয়ে ছোটখাটো ওঠানামা কখনো নমুনাগত পরিবর্তনের কারণেও দেখা যেতে পারে। অনুসন্ধানের আগ্রহ বাড়ার অর্থ বাস্তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনা একই অনুপাতে বেড়েছে, এমন দাবিও করা যাবে না। এই সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহার করে সম্ভাব্য সংবাদযোগ্য দিক শনাক্ত করা যুক্তিসংগত। কিন্তু মূল দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্য
প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম থেকেও গবেষণার উপযোগী তথ্য পাওয়া যেতে পারে। যেমন, একটি অনলাইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোন ধরনের কোর্সে নিবন্ধন বাড়ছে, তা বিশ্লেষণ করতে পারে। একটি অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদায় মৌসুমি পরিবর্তন খুঁজতে পারে। এ ধরনের তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই ফলাফলকে পুরো দেশের মানুষের আচরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
নিজস্ব তথ্যে ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়, এমন তথ্য থাকলে গোপনীয়তা ও প্রযোজ্য আইন মেনে কাজ করতে হবে। প্রকাশের আগে তথ্য ব্যবহারের অনুমতি, যেখানে প্রয়োজন সম্মতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি পরীক্ষা করা জরুরি। শুধু নাম বা ফোন নম্বর সরিয়ে ফেললেই সব ক্ষেত্রে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি দূর হয় না। বিশেষ করে ছোট জনগোষ্ঠীর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সাধারণ তথ্যের মধ্যে আকর্ষণীয় সংবাদযোগ্য দিক শনাক্ত করবেন যেভাবে
তথ্য সংগ্রহের পর মূল কাজ হলো সংখ্যাগুলোর মধ্যে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন বা পার্থক্য খুঁজে বের করা। একটি তথ্যসমষ্টি থেকে একাধিক পর্যবেক্ষণ পাওয়া যেতে পারে। তবে সব পর্যবেক্ষণ সংবাদ হিসেবে সমান গুরুত্ব পাবে না।
আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করুন
এক বছরের তথ্য দিয়ে কোনো পরিবর্তনের প্রকৃতি বোঝা কঠিন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কোনো শহরে নতুন ব্যবসা নিবন্ধনের সংখ্যা ধরা যায়। শুধু একটি বছরের নিবন্ধনের সংখ্যা প্রকাশ করার চেয়ে আগের কয়েক বছরের সঙ্গে তুলনা করলে প্রবণতা বোঝা সহজ হতে পারে।
এখানে সমতুল্য সময়কাল, একই সংজ্ঞা এবং তুলনাযোগ্য তথ্য ব্যবহার করা জরুরি। কোনো বছরে তথ্য সংগ্রহের নিয়ম বদলে গেলে সংখ্যার পার্থক্যকে সরাসরি বাস্তব পরিবর্তন বলা যাবে না। এমন ক্ষেত্রে আগে জানতে হবে, পরিবর্তনটি তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি থেকে এসেছে কি না।
মোট সংখ্যার বদলে প্রাসঙ্গিক হার দেখুন
বড় শহরে মোট অভিযোগ, দুর্ঘটনা কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু জনসংখ্যা বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের পরিমাণ বিবেচনায় নিলে চিত্রটি বদলাতে পারে। ধরা যাক, দুটি শহরে একই ধরনের ভোক্তা অভিযোগের সংখ্যা যথাক্রমে ৫০০ ও ৩০০। প্রথম শহরে বেশি অভিযোগ হয়েছে, এটি বলা যায়। কিন্তু সেখানে সমস্যার প্রকৃত বিস্তার বেশি, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসংখ্যা বা লেনদেনের পরিমাণ ভিন্ন হলে অভিযোগের হার অন্য চিত্র দেখাতে পারে। তাই মোট সংখ্যার পাশাপাশি কোন ভিত্তিতে হার হিসাব করা হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। ভুল ভিত্তি ব্যবহার করলে আকর্ষণীয় মনে হওয়া বিশ্লেষণও বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
প্রচলিত ধারণার সঙ্গে তথ্যের অমিল খুঁজুন
কোনো বিষয়ে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্য না মিললে সংবাদযোগ্য দিক তৈরি হতে পারে। যেমন, একটি নির্দিষ্ট সেবার ব্যবহার শুধু বড় শহরে বাড়ছে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু অঞ্চলভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে ছোট শহরে তুলনামূলক বৃদ্ধির হার বেশি পাওয়া গেলে সেটি অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।
এটি একটি কাল্পনিক উদাহরণ, বাস্তব গবেষণার ফল নয়। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ফলাফল পেলেই সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। তথ্যের উৎস, নমুনা এবং সম্ভাব্য বিকল্প ব্যাখ্যা যাচাই করতে হবে।
বড় পরিসংখ্যানের মধ্যে স্থানীয় গল্প খুঁজুন
জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে অনেক সময় আঞ্চলিক পার্থক্য বিস্তারিতভাবে দেখানো হয় না। একটি জাতীয় জরিপে শিক্ষার সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে। সেই তথ্যের জেলা বা অঞ্চলভিত্তিক অংশ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব।
তবে ছোট নমুনার ওপর ভিত্তি করে কোনো জেলার অবস্থান নির্ধারণ করলে ফলাফল অনিশ্চিত হতে পারে। তথ্যের এই সীমাবদ্ধতা আড়াল না করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ব্যাকলিংক কী: সব লিংক কেন সমান মূল্যবান নয়
একটি তথ্যসমষ্টি থেকে কীভাবে একাধিক সংবাদযোগ্য দিক তৈরি করবেন?

ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষার বাজার নিয়ে ডিজিটাল জনসংযোগ প্রচারাভিযান পরিচালনা করতে চায়। প্রাথমিক ধারণা হলো, বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন শিক্ষার প্রতি আগ্রহের পার্থক্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা। প্রথম ধাপে গুগল ট্রেন্ডসে নির্বাচিত শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান শব্দের অঞ্চলভিত্তিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এরপর সরকারি বা স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ইন্টারনেট ব্যবহার ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজতে হবে।
এখান থেকে তিনটি সম্ভাব্য সংবাদযোগ্য দিক তৈরি করা যায়।
প্রথম দিক: কোন অঞ্চলে অনলাইন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের আপেক্ষিক আগ্রহ দ্রুত বদলাচ্ছে?
দ্বিতীয় দিক: ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ এবং অনলাইন শিক্ষার প্রতি অনুসন্ধান-আগ্রহের মধ্যে কোনো পর্যবেক্ষণযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে কি?
তৃতীয় দিক: কোন বিষয় বা দক্ষতাসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে মৌসুমি পরিবর্তন বেশি দেখা যাচ্ছে?
এই তিনটি ধারণা আলাদা প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। ফলে এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিশ্লেষণের পদ্ধতিও কিছুটা ভিন্ন হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের সময়কাল, অঞ্চল, সংজ্ঞা ও নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করতে হবে। পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ধারণাটি বাদ দেওয়াই যুক্তিসংগত।
দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেও একটি অন্যটির কারণ, এমন দাবি করা যাবে না। এটি একটি উদাহরণভিত্তিক গবেষণা পরিকল্পনা। এখানে কোনো প্রকৃত তথ্যসমষ্টি বিশ্লেষণ বা ফলাফল যাচাই করা হয়নি। এই পদ্ধতিতে আগে থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ঠিক করার প্রয়োজন পড়ে না। তথ্য বিশ্লেষণ করে যে পর্যবেক্ষণটি সবচেয়ে ভালোভাবে সমর্থিত হয়, সেটিকে কেন্দ্র করেই সংবাদযোগ্য দিক তৈরি করা যায়।
কোন বিষয় নিয়ে প্রচারাভিযান করবেন, তা কীভাবে ঠিক করবেন?
একটি গবেষণা থেকে কয়েকটি সম্ভাব্য সংবাদ তৈরি হতে পারে। কিন্তু সবগুলো নিয়ে সমানভাবে কাজ করার প্রয়োজন নেই। প্রথমে প্রতিটি বিষয়ের নতুনত্ব, প্রাসঙ্গিকতা ও প্রমাণের শক্তি মূল্যায়ন করুন। এরপর দেখুন, তথ্যটি পাঠকের কাছে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব কি না এবং সেটি প্রকাশের সময়োপযোগী কারণ রয়েছে কি না।
নিচের পাঁচটি মানদণ্ড এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
| মূল্যায়নের বিষয় | যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন |
| নতুনত্ব | তথ্যটি আগে একইভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি? |
| প্রাসঙ্গিকতা | নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পাঠক কেন আগ্রহী হবেন? |
| প্রমাণ | দাবিটি সমর্থন করার মতো তথ্য রয়েছে কি? |
| বোধগম্যতা | ফলাফলটি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা যায় কি? |
| সময়োপযোগিতা | এখন প্রকাশের যৌক্তিক কারণ রয়েছে কি? |
প্রতিটি মানদণ্ডে অভ্যন্তরীণভাবে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত নম্বর দেওয়া যেতে পারে। এটি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি প্রস্তাবিত পদ্ধতি, সংবাদমূল্য পরিমাপের স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড নয়। তবে সব মানদণ্ডকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা দুর্বল হলে অন্য মানদণ্ডে ভালো নম্বর পাওয়ার পরও সেই বিষয় বাদ দেওয়া উচিত।
একইভাবে আলোচনায় আসার সম্ভাবনা বেশি বলে প্রতিষ্ঠানের মূল কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো দীর্ঘমেয়াদে যুক্তিসংগত নাও হতে পারে।
প্রতিবেদন তৈরির আগে তথ্যের ভুলগুলো শনাক্ত করুন
তথ্য বিশ্লেষণের একটি ভুল পুরো জনসংযোগ প্রচারাভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সাংবাদিকেরা যদি মূল তথ্য পুনরায় যাচাই করতে না পারেন, তাহলে সেটি ব্যবহার করার আগ্রহও কমতে পারে। প্রকাশের আগে কয়েকটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
- মূল তথ্যসমষ্টি দেখুন। অন্য প্রতিবেদনের সারাংশ থেকে তথ্য নেওয়ার বদলে সম্ভব হলে প্রাথমিক উৎস ব্যবহার করুন। তথ্যের সময়কাল ও প্রকাশের তারিখ আলাদাভাবে পরীক্ষা করুন।
- হিসাব মিলিয়ে নিন। শতাংশ পরিবর্তন, গড়, অনুপাত কিংবা ক্রমতালিকা তৈরি করা হলে সূত্র ও গণনা পুনরায় পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে অন্য একজন বিশ্লেষককে দিয়ে হিসাব যাচাই করান।
- নমুনার সীমাবদ্ধতা বুঝুন। জরিপে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কীভাবে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে এবং ফলাফল কোন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে, তা দেখুন।
- তুলনার সামঞ্জস্য পরীক্ষা করুন। দুটি তথ্যের সময়কাল, পরিমাপের একক বা সংজ্ঞা আলাদা হলে সরাসরি তুলনা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
- বিকল্প ব্যাখ্যা খুঁজুন। দুটি প্রবণতা একই সময়ে বাড়ছে বলেই একটি অন্যটির কারণ নয়।
কোনো ফলাফল সন্দেহজনক মনে হলে শুধু প্রতিবেদনকে আকর্ষণীয় করার জন্য সেটি রাখা উচিত নয়। প্রমাণের দুর্বলতা আড়াল করে তৈরি করা সংবাদযোগ্য দিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাংবাদিকদের ব্যবহারযোগ্য প্রতিবেদন তৈরি করুন
তথ্য বিশ্লেষণ শেষ হলে সেটিকে সংবাদমাধ্যমের কাজে লাগার মতোভাবে প্রকাশ করতে হবে। দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনের তুলনায় সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার এবং পুনরায় যাচাইযোগ্য উপস্থাপনা অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হতে পারে। একটি ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল জনসংযোগ প্রতিবেদনে সংবাদযোগ্য মূল পর্যবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত।
প্রতিবেদনের শুরুতেই মূল সংবাদটি তুলে ধরুন। এরপর কোন তথ্য থেকে সিদ্ধান্তটি এসেছে, তা ব্যাখ্যা করুন। তথ্যচিত্র বা রেখাচিত্র ব্যবহার করলে পরিমাপের একক, সময়কাল ও উৎস স্পষ্ট রাখুন। রঙের ব্যবহার কিংবা অক্ষের স্কেল এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে পরিবর্তন বাস্তবের তুলনায় বেশি বা কম মনে হয়।
সম্ভব হলে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা তথ্যপত্র, ব্যবহারযোগ্য চিত্র এবং পুনর্ব্যবহারের অনুমতি অনুযায়ী নামিয়ে নেওয়া যায় এমন তথ্যসমষ্টি রাখুন। নিজস্ব জরিপের ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র, নমুনা নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহের সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করা ভালো। আকর্ষণীয় তথ্যচিত্র একটি প্রতিবেদনকে সহজবোধ্য করতে পারে। তবে তথ্য যাচাই করার সুযোগ এবং বিশ্লেষণের স্বচ্ছতা ছাড়া সেটির সংবাদমূল্য প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
সাংবাদিকদের কাছে সংবাদপ্রস্তাবে কোন তথ্যগুলো সামনে রাখবেন?
একই প্রতিবেদন সব সংবাদমাধ্যমে একইভাবে পাঠালে সেটি অনেকের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিক একটি তথ্যের আর্থিক প্রভাব জানতে চাইতে পারেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ থাকতে পারে অঞ্চলভিত্তিক পার্থক্যে। প্রযুক্তি সাংবাদিকের কাছে ব্যবহারকারীর আচরণগত পরিবর্তন বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
তাই সংবাদপ্রস্তাব পাঠানোর আগে সাংবাদিকের আগের প্রকাশিত কাজ দেখুন। তিনি সাধারণত কোন ধরনের তথ্য নিয়ে কাজ করেন, তা বোঝার চেষ্টা করুন। ইমেইলের বিষয় লাইনে মূল সংবাদযোগ্য দিকটি স্পষ্টভাবে লিখুন। প্রতিষ্ঠানের প্রচারমূলক বক্তব্য দিয়ে বার্তা শুরু করার প্রয়োজন নেই। মূল বার্তায় সংক্ষেপে তিনটি বিষয় জানানো যথেষ্ট হতে পারে। নতুন তথ্যটি কী, কেন সেটি ওই সংবাদমাধ্যমের পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং কোথায় পূর্ণ গবেষণা পাওয়া যাবে।
প্রয়োজনে গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের মন্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখুন। মনে রাখতে হবে, সাংবাদিক স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন তথ্যটি ব্যবহার করবেন কি না। সংবাদ প্রকাশ, নির্দিষ্ট শিরোনাম কিংবা অন্য ওয়েবসাইট থেকে নিজের ওয়েবসাইটে সংযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করা উচিত নয়।
কোনো সংবাদমাধ্যম গবেষণাটি ব্যবহার করলে তথ্যের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা যায়। তবে বিজ্ঞাপন বা অর্থের বিনিময়ে প্রকাশিত সংবাদকে স্বাধীন সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের সমতুল্য বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
ডিজিটাল জনসংযোগের মাধ্যমে পাওয়া সংযোগ ও ওয়েবসাইটের দর্শনার্থী কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ডিজিটাল জনসংযোগের ফলাফল মূল্যায়নের সময় শুধু কতটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেই সংখ্যা দেখলে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। প্রথমে দেখুন কোন প্রকাশনাগুলো গবেষণা ব্যবহার করেছে। এরপর প্রতিষ্ঠানের নামের উল্লেখ, মূল গবেষণার সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে আসা দর্শনার্থীর তথ্য আলাদাভাবে পর্যালোচনা করুন।
গুগল সার্চ কনসোলের সংযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে ওয়েবসাইটে আসা কিছু বাহ্যিক সংযোগ ও সংযোগ প্রদানকারী ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এটি সব বাহ্যিক সংযোগের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। এমনকি প্রতিবেদনে দেখা কোনো সংযোগ ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। এই প্রতিবেদন থেকে কোনো সংযোগ nofollow হিসেবে চিহ্নিত কি না, সেটিও জানা যায় না।
গুগল অ্যানালিটিকস ৪-এর দর্শনার্থীদের উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদনে কোন উৎস থেকে ওয়েবসাইটে ভিজিট হচ্ছে এবং সেসব ভিজিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশগ্রহণসূচক তথ্য পর্যালোচনা করা যায়। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রচারমূলক সংযোগে ইউটিএম পরামিতি ব্যবহার করলে প্রচারাভিযান থেকে আসা দর্শনার্থী আলাদাভাবে শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উৎস, মাধ্যম ও প্রচারাভিযানের নাম নির্দেশ করতে যথাক্রমে utm_source, utm_medium এবং utm_campaign ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় সংযোগে নিজের নির্ধারিত ইউটিএম পরামিতি থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই শুধু ইউটিএমভিত্তিক প্রতিবেদন দিয়ে সংবাদমাধ্যম থেকে আসা সব দর্শনার্থীর পূর্ণ হিসাব পাওয়া যাবে না। ডিজিটাল জনসংযোগের ধারণাগুলো ওয়েবসাইটের দর্শনার্থী বাড়াতে সাহায্য করছে কি না, তা বোঝার সময় দর্শনার্থীদের উৎসের পাশাপাশি তাঁদের প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার হার এবং ব্যবসায়িক ফলাফলও দেখুন।
অন্য ওয়েবসাইট থেকে সংযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান ফলাফলে অবস্থান উন্নত হলে পুরো পরিবর্তনের কৃতিত্ব ওই সংযোগকে দেওয়া যাবে না। একই সময়ে অন্যান্য অনুসন্ধানযন্ত্র উপযোগীকরণ কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতার পরিবর্তনও ঘটতে পারে। লিংক তৈরি ও স্বাভাবিকভাবে লিংক অর্জনের পার্থক্য বোঝা এ ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।
গুগলের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমসংক্রান্ত নীতিমালায় মূলত অনুসন্ধান ফলাফলে অবস্থান প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সংযোগ কেনাবেচা বা কৃত্রিমভাবে সংযোগ তৈরি করাকে নিয়মবহির্ভূত সংযোগ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিজ্ঞাপন বা অর্থের বিনিময়ে প্রকাশিত সংযোগের ক্ষেত্রে rel=”sponsored” ব্যবহারকে গুগল অগ্রাধিকার দেয়। rel=”nofollow”-ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প। যথাযথভাবে চিহ্নিত বিজ্ঞাপন বা অর্থায়িত সংযোগকে সাধারণ সম্পাদকীয় সংযোগের সমতুল্য ধরে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
সীমিত বাজেটে কোন ধরনের তথ্যভিত্তিক প্রচারাভিযান শুরু করবেন?
ছোট প্রতিষ্ঠান বা নতুন জনসংযোগ দলের জন্য বড় জরিপ পরিচালনা করা সব সময় বাস্তবসম্মত নয়। সে ক্ষেত্রে সরকারি উন্মুক্ত তথ্য থেকে ছোট আকারের তুলনামূলক প্রতিবেদন তৈরি করা একটি ব্যবহারযোগ্য বিকল্প। উদাহরণ হিসেবে জেলা পর্যায়ের কোনো অর্থনৈতিক সূচক, কয়েক বছরের শিক্ষাসংক্রান্ত পরিবর্তন কিংবা নির্দিষ্ট খাতে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তুলনা বেছে নেওয়া যায়।
গুগল শিটস বা মাইক্রোসফট এক্সেল দিয়েও অনেক সাধারণ বিশ্লেষণ করা সম্ভব। তবে বড় তথ্যসমষ্টি, জটিল পরিসংখ্যান বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করলে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। এখানে গবেষণার পরিধি ছোট রাখাই অনেক ক্ষেত্রে বেশি বাস্তবসম্মত। একসঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির বদলে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর খুঁজুন।
নতুন দল প্রথম প্রচারাভিযানেই জাতীয় পর্যায়ের বড় সংবাদ পাওয়ার লক্ষ্য না রেখে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা প্রকাশ করতে পারে। এরপর সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া, তথ্য ব্যবহারের ধরন এবং পাঠকের আগ্রহ দেখে পরবর্তী গবেষণার পরিধি নির্ধারণ করা যুক্তিসংগত।
প্রথম ডিজিটাল জনসংযোগ প্রচারাভিযানের জন্য কোথা থেকে শুরু করবেন?
শুরুতে এমন একটি বিষয় বেছে নিন, যার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কাজের সম্পর্ক রয়েছে এবং যার তথ্য পাঠকের বাস্তব প্রয়োজনের উত্তর দিতে পারে। এরপর অন্তত দুটি নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস খুঁজে দেখুন। একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন তৈরি করুন এবং তথ্য দিয়ে সেটির উত্তর পাওয়া যায় কি না পরীক্ষা করুন।
সম্ভাব্য সংবাদযোগ্য দিক তৈরি হলে নতুনত্বের পাশাপাশি প্রমাণের শক্তি যাচাই করুন। দুর্বল বা বিভ্রান্তিকর ফলাফল বাদ দিন। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন ও সংবাদমাধ্যমভিত্তিক সংবাদপ্রস্তাব প্রস্তুত করুন। ডিজিটাল জনসংযোগের ধারণা নির্বাচন করার সময় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রশ্নটি হলো, একজন সাংবাদিক কেন এই তথ্যটি তাঁর পাঠকদের জানাতে চাইবেন?
এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট ও প্রমাণসমর্থিত উত্তর পাওয়া গেলে গবেষণাটি প্রচারের উপযুক্ত ভিত্তি পেতে পারে। তবে সংবাদ প্রকাশ বা অন্য ওয়েবসাইট থেকে সংযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘমেয়াদে এমন তথ্য তৈরি করাকে অগ্রাধিকার দিন, যা অন্য প্রকাশকেরা নিজেদের প্রতিবেদনে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পুরোনো তথ্য ব্যবহার করেও কি সংবাদযোগ্য প্রতিবেদন তৈরি করা যায়?
হ্যাঁ, পুরোনো তথ্য থেকেও সংবাদযোগ্য প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব। তবে সেই তথ্যের নতুন বিশ্লেষণ, সময়ভিত্তিক তুলনা কিংবা আগে আলোচিত হয়নি এমন কোনো পর্যবেক্ষণ থাকতে হবে। তথ্যের সময়কাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি। কয়েক বছর আগের পরিসংখ্যানকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করলে পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারেন।
ডিজিটাল জনসংযোগ প্রচারাভিযানের জন্য কি নিজস্ব জরিপ পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক?
না, নিজস্ব জরিপ পরিচালনা বাধ্যতামূলক নয়। সরকারি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেও কার্যকর সংবাদ তৈরি করা যায়। তবে তথ্যের উৎস, নির্ভরযোগ্যতা এবং পুনর্ব্যবহারের অনুমতি যাচাই করতে হবে। নতুন জরিপের প্রয়োজন হবে কি না, তা নির্ভর করবে গবেষণার প্রশ্ন এবং আগে থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর।
সাংবাদিকদের কাছে তথ্য পাঠানোর পর কোনো উত্তর না পেলে কী করবেন?
প্রথমে পরীক্ষা করুন, পাঠানো তথ্যটি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কি না। কিছুদিন পর সংক্ষিপ্ত ও ভদ্রভাবে আবার যোগাযোগ করা যেতে পারে। নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ থাকলে সেটি উল্লেখ করুন। একই বার্তা বারবার পাঠানো বা প্রকাশের জন্য চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে একই গবেষণার ভিন্ন সংবাদযোগ্য দিক নিয়ে অন্য উপযুক্ত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
সংবাদমাধ্যম গবেষণা প্রকাশ করলেও ওয়েবসাইটে সংযোগ না দিলে কী করবেন?
প্রথমে দেখুন, সংবাদমাধ্যমটি গবেষণার উৎস যথাযথভাবে উল্লেখ করেছে কি না। মূল প্রতিবেদনের সংযোগ না থাকলে সাংবাদিক বা সম্পাদকের কাছে বিনয়ের সঙ্গে সেটি যুক্ত করার অনুরোধ করা যায়। তবে সংযোগ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব। সংবাদ প্রকাশ, প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ এবং ওয়েবসাইটে আসা দর্শনার্থীর তথ্য আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ সংযোগ ছাড়াও কোনো প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।


