বাংলাদেশের লোকসংগীতের আকাশে আজ এক বিষাদঘন দিন। নেত্রকোনার ভাটি অঞ্চল থেকে উঠে আসা, জন্মান্ধ বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর আমাদের মাঝে নেই। সুরের মায়া ত্যাগ করে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। আজ শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। তাঁর এই প্রয়াণে বাংলার বাউল জগত হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে, যার ভরাট কণ্ঠ, জাদুকরী বেহালা আর দোতারার সুর দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিল।
অন্ধকার যাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল, সেই অন্ধকারকেই তিনি সুরের আলোয় আলোকিত করেছিলেন। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বার্নাল গ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী শৈশবেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিবন্ধকতাকে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন। আজ যখন তাঁর মরদেহ নগরের আঠারোবাড়ি থেকে ময়মনসিংহের টাউন হল মাঠে নেওয়া হয়, তখন হাজারো ভক্তের অশ্রুসজল চোখ প্রমাণ করে—তিনি কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন মানুষের হৃদয়ের এক পরম আত্মীয়।
অন্ধকারের যাত্রী থেকে সুরের জাদুকর: সুনীল কর্মকারের জীবন ও সাধনা
বাউল সুনীল কর্মকার কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি ছিলেন এক প্রতিষ্ঠানের নাম। তাঁর জীবনগল্প হার মানায় যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। অন্ধত্ব, দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে কীভাবে শিল্পের শিখরে পৌঁছানো যায়, সুনীল কর্মকার তার এক মূর্ত প্রতীক।
শৈশব ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর করুণ ইতিহাস
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বার্নাল গ্রামে এক সাধারণ কর্মকার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল। বাবা দীনেশ কর্মকার ও মা কমলা কর্মকার। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সুনীলের শৈশব ছিল সংগ্রামের। মাত্র সাত বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি চিরতরের জন্য চোখের আলো হারান। সেই বয়সে যখন অন্য শিশুরা খেলার মাঠে দৌড়াত, সুনীল তখন অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াতেন। কিন্তু বিধাতা হয়তো তাঁর জন্য অন্য পরিকল্পনা রেখেছিলেন। চোখের আলো নিভে গেলেও তাঁর অন্তরের আলো জ্বলে উঠেছিল সুরের মূর্ছনায়।
দৃষ্টিহীন শিশু সুনীলকে বিষণ্নতা গ্রাস করতে পারেনি। তাঁর বাবা দীনেশ কর্মকার ছেলের এই অবস্থা দেখে তাঁকে নিয়ে যান পাশের গ্রামের বাউল গায়ক ইসরাইল মিয়ার কাছে। ইসরাইল মিয়াই ছিলেন তাঁর জীবনের প্রথম গুরু, যিনি সুনীলকে সুরের পথে চলতে শিখিয়েছিলেন।
গুরুমুখী বিদ্যা ও বাদ্যযন্ত্রের সাধনা
বাউল সংগীত মূলত গুরুমুখী বিদ্যা। গুরুর সান্নিধ্য ছাড়া এই সাধনমার্গে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব। সুনীল কর্মকার তাঁর জীবদ্দশায় একাধিক গুরুর কাছ থেকে তালিম নিয়েছেন, যা তাঁকে এক পরিপূর্ণ শিল্পীতে পরিণত করেছিল।
- ইসরাইল মিয়া: শৈশবে সংগীতের হাতেখড়ি হয় বাউল ইসরাইল মিয়ার কাছে। তিনি তাঁকে সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং গান শেখাতেন।
- বাদল পণ্ডিত: ৯-১০ বছর বয়সে তিনি বাদল পণ্ডিতের কাছে হারমোনিয়াম বাজানো শেখেন। দৃষ্টিহীন হয়েও হারমোনিয়ামের রিডে তাঁর আঙুল চলত ঝড়ের বেগে।
- গোবিন্দ কর্মকার: প্রতিবেশী কাকা গোবিন্দ কর্মকারের কাছে তিনি তবলার তালিম নেন। তালের লয় আর ছন্দের জ্ঞান তিনি এখান থেকেই আয়ত্ত করেন।
- মীর হোসেন: সুনীল কর্মকারের সংগীত জীবনে এক বড় মোড় আসে যখন তিনি লখনউ ঘরানার সৌখিন বেহালাবাদক মীর হোসেনের সান্নিধ্য পান। তাঁর কাছে তিনি বেহালা বাজানো শেখেন। একজন বাউল শিল্পী সাধারণত একতারা বা দোতারা বাজান, কিন্তু সুনীল কর্মকার বেহালা বাজিয়ে বাউল গান গাওয়ার এক অনন্য শৈলী তৈরি করেছিলেন।
নেত্রকোনার লোকসংস্কৃতি ও সুনীল কর্মকার
নেত্রকোনা জেলাকে বলা হয় বাউল ও লোকসংগীতের উর্বর ভূমি। এই মাটিতেই জন্ম নিয়েছেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, জালাল উদ্দিন খাঁ এবং উকিল মুন্সীর মতো মহাজনরা। সুনীল কর্মকার ছিলেন এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তিনি কেবল গান গাইতেন না, তিনি নেত্রকোনার মাটির সুরকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করতেন।
জালাল গীতির একনিষ্ঠ সাধক
সুনীল কর্মকার সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন বাউল সাধক জালাল উদ্দিন খাঁ-র গানের জন্য। জালাল উদ্দিন খাঁ ছিলেন নেত্রকোনার এক কিংবদন্তি বাউল সাধক, যার গানগুলোতে গভীর দেহতত্ত্ব, নিগূঢ় প্রেম এবং সমাজদর্শন ফুটে উঠত। ছোটবেলায় সুনীল কর্মকার জালাল উদ্দিন খাঁ-র বাড়ির গানের আসরে নিয়মিত যেতেন। সেখানে বসেই তিনি জালাল গীতির প্রেমে পড়েন।
তাঁর কণ্ঠে জালাল উদ্দিন খাঁ-র গানগুলো এক ভিন্ন মাত্রা পেত। বিশেষ করে “অন্ধকারে ঘিরিল কোথায় যাই বলো”, “কত আশা ছিল রে বন্ধু”, এবং “এপার আমি ওপার তুমি”—এই গানগুলো সুনীল কর্মকারের সিগনেচার টিউন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি জালাল গীতির ভাব, সুর এবং উচ্চারণশৈলী এত নিখুঁতভাবে রক্ষা করতেন যে, অনেকেই তাঁকে ‘দ্বিতীয় জালাল’ বলে ডাকতেন।

সংগীত প্রতিভা ও বাদ্যযন্ত্রের দক্ষতা: এক বিস্ময়কর অধ্যায়
সুনীল কর্মকার ছিলেন একজন “মাল্টি-ইনস্ট্রুমেন্টালিস্ট” বা বহুযন্ত্রশিল্পী। একজন দৃষ্টিহীন মানুষের পক্ষে এতগুলো যন্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করা এক অলৌকিক ব্যাপার।
১. দোতারা ও বেহালার যুগলবন্দি: বাউল গানে সাধারণত দোতারা প্রধান বাদ্যযন্ত্র হলেও, সুনীল কর্মকার বেহালাকেও বাউল গানের অনুষঙ্গ করেছিলেন। তাঁর বেহালার করুণ সুর শ্রোতাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাত।
২. তবলা ও হারমোনিয়াম: গানের ফাঁকে ফাঁকে তিনি নিজেই তবলার বোল দিতেন বা হারমোনিয়ামে সুর তুলতেন।
৩. সুরকার ও গীতিকার: তিনি কেবল অন্যের গান গাইতেন না, নিজেও গান লিখতেন। প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর লেখা গানেও জালাল উদ্দিন খাঁ এবং লালন সাঁইয়ের প্রভাব স্পষ্ট। তাঁর অ্যালবাম “মন ব্যাপারী” শ্রোতামহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল।
বাউল দর্শন ও সুনীল কর্মকারের গায়কী
বাউল গান কেবল বিনোদন নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। সুনীল কর্মকার বিশ্বাস করতেন, চর্মচক্ষু না থাকলেও অন্তরের চোখ (Knowledge Eye) দিয়ে ঈশ্বর এবং মানুষকে চেনা যায়। তাঁর গানে তিনটি প্রধান ধারা লক্ষ্য করা যেত:
- দেহতত্ত্ব (Dehotottwo): শরীর ও আত্মার সম্পর্ক নিয়ে গভীর দার্শনিক গান। যেমন—”খাঁচার ভিতর অচিন পাখি”। সুনীল কর্মকার এই গানগুলো গাওয়ার সময় শ্রোতাদের এক আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যেতেন।
- বিচ্ছেদ (Bichched): প্রেম ও বিরহের গান। তাঁর ভরাট কণ্ঠে বিচ্ছেদের সুর শুনলে পাষাণ হৃদয়ও গলে যেত।
- পরমতত্ত্ব (Paramtattva): স্রষ্টার সন্ধানে মানুষের আকুতি। অন্ধ হওয়ার কারণে হয়তো তাঁর গানে স্রষ্টার প্রতি এক অভিমান ও আত্মসমর্পণের সুর সবসময় বেজে উঠত।
স্বীকৃতি ও সম্মাননা: দেরিতে হলেও যথার্থ মূল্যায়ন
বাংলাদেশে অনেক গুণী শিল্পীই জীবদ্দশায় যথাযথ সম্মান পান না, কিন্তু সুনীল কর্মকার কিছুটা ভাগ্যবান ছিলেন। তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান করে। এটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। লোকসংস্কৃতি ক্যাটাগরিতে এই পদক প্রাপ্তি তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় স্থানীয় ও জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন:
- নেত্রকোনা জেলা বাউল সমিতির আজীবন সম্মাননা।
- বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত লোকসংগীত উৎসবে বিশেষ সম্মাননা।
- চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ বাউল উৎসবে অতিথি শিল্পী হিসেবে সম্মাননা।
প্রয়াণ ও শেষকৃত্য: শোকস্তব্ধ ভক্তকুল
গত কয়েকদিন ধরে নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সুনীল কর্মকার। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার ভোরে তিনি পরলোকগমন করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ময়মনসিংহের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ময়মনসিংহ জেলা বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম এবং সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হাসপাতালে ছুটে যান।
শেষকৃত্যের আয়োজন:
তাঁর মরদেহ প্রথমে ময়মনসিংহের নগরের আঠারোবাড়ি এলাকায় রাখা হয়। সেখানে স্থানীয় মানুষ ও ভক্তরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর দুপুরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য মরদেহ নেওয়া হয় টাউন হল মাঠে। সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সহশিল্পী এবং শিষ্যরা অশ্রুসজল চোখে তাঁদের গুরুকে বিদায় জানান। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় তাঁকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আশা রানী কর্মকার, দুই ছেলে এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী আশা রানী কর্মকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “উনি গানের পাগল ছিলেন, গানেই বাঁচতেন। গান ছাড়া উনি কিচ্ছু বুঝতেন না। এভাবে চলে যাবেন ভাবি নাই।”
তথ্য সারণী: এক নজরে বাউল সুনীল কর্মকার
| তথ্যের ধরন | বিবরণ |
| নাম | সুনীল কর্মকার |
| পরিচিতি | প্রখ্যাত বাউল শিল্পী ও গীতিকার |
| জন্ম তারিখ | ১৫ জানুয়ারি ১৯৫৯ |
| জন্মস্থান | বার্নাল গ্রাম, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা |
| মৃত্যু তারিখ | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| মৃত্যুস্থান | ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| মৃত্যুর কারণ | নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সংক্রমণ |
| বয়স | ৬৭ বছর |
| দৃষ্টিশক্তি | ৭ বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে অন্ধ হন |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার | শিল্পকলা পদক (২০২২), বাউল সমিতি সম্মাননা |
| বিখ্যাত গান | “কুল নাই দরিয়ার পারে”, “অন্ধকারে ঘিরিল”, “এপার আমি ওপার তুমি” |
| গুরু | ইসরাইল মিয়া, বাদল পণ্ডিত, মীর হোসেন |
| প্রকাশিত অ্যালবাম | মন ব্যাপারী |
বাউল দর্শনে সুনীল কর্মকারের অবদান
বাউল দর্শন হলো মাটির গান, মানুষের গান। সুনীল কর্মকার এই দর্শনকে তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, চর্মচক্ষু না থাকলেও অন্তরের চোখ দিয়ে ঈশ্বর এবং মানুষকে চেনা যায়। তাঁর গানে প্রেম, বিচ্ছেদ, দেহতত্ত্ব এবং পরমতত্ত্বের এক অপূর্ব মেলবন্ধন পাওয়া যেত। জালাল উদ্দিন খাঁ-র গান গাওয়ার সময় তিনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন যে, তাঁর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ত। এই আবেগই তাঁকে শ্রোতাদের কাছে অমর করে রেখেছে।
তিনি আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ভিড়েও দেশীয় যন্ত্রের (দোতারা, বেহালা) ব্যবহার ধরে রেখেছিলেন, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক শিক্ষণীয় বিষয়। তাঁর শিষ্য নয়ন শেখ এবং অন্যদের মাধ্যমে তাঁর এই সুর-সাধনা আগামী প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকবে।
শেষ কথা: নক্ষত্রের পতন, কিন্তু সুরের মৃত্যু নেই
সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে বাংলা লোকসংগীতের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধিদের একজন, যারা বাউল গানকে কেবল পেশা নয়, বরং সাধনা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের দাপটে যখন লোকগান তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে, তখন সুনীল কর্মকার দোতারা আর বেহালা আঁকড়ে ধরে শেকড়ের গান গেয়ে গেছেন।
তাঁর মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণের গুরুত্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে সুনীল কর্মকারের জীবন এক বড় শিক্ষার উৎস—কীভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মনের আলো দিয়ে বিশ্বকে দেখা যায়। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু নেত্রকোনার বাউল আখড়ায়, গ্রামবাংলার চায়ের দোকানে, কিংবা কোনো এক নিঃসঙ্গ পথিকের হেডফোনে তাঁর গান বেজে চলবে অনন্তকাল।
আমরা এই মহান শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। বাউল সুনীল কর্মকার, আপনি শান্তিতে ঘুমান। আপনার সুর আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে চিরকাল।

