মানব মস্তিষ্ক এক অবিশ্বাস্য জটিল অঙ্গ। মানুষের চিন্তাভাবনা, স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব অনেকটাই এর ওপর নির্ভর করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বার্ধক্যজনিত মানসিক অবক্ষয় বা কগনিটিভ ডিক্লাইন বলা হয়।
তবে মস্তিষ্কের বার্ধক্যের গতি কমানো এবং আলঝেইমারস বা ডিমেনশিয়ার মতো গুরুতর স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ল্যানসেট কমিশনের ২০২৪ সালের বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের জীবনযাত্রার প্রায় ১৪টি সংশোধনযোগ্য ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৫ শতাংশ ডিমেনশিয়ার ঘটনা প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব।
ভারতের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতার নগরজীবনে স্ট্রোক এবং মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রোকের কারণে প্রতিবন্ধকতা বা অকাল মৃত্যুর হার, অর্থাৎ ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার বা ড্যালি, ভারতের অনেক রাজ্যের তুলনায় উদ্বেগজনক। অনিয়মিত জীবনযাত্রা, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং বায়ুদূষণ এর অন্যতম প্রধান কারণ।
এই পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে এবং এর কর্মক্ষমতা দীর্ঘদিন সচল রাখতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা-ভিত্তিক ৩টি প্রধান উপায়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। নিচে সেই ৩টি উপায় এবং তাদের পেছনের বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
প্রথম উপায়: নিয়মিত শারীরিক কসরত ও অ্যারোবিক ব্যায়াম
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা মস্তিষ্কের বার্ধক্যকে দ্রুত করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত শারীরিক কসরত মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, নতুন স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমায়। চিকিৎসকদের মতে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কগনিটিভ ডিক্লাইন বা মানসিক অবক্ষয়ের হার সক্রিয় ব্যক্তিদের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে।
বিডিএনএফ এবং নিউরোপ্লাস্টিসিটির আণবিক কার্যপ্রণালী
শারীরিক ব্যায়াম সরাসরি মস্তিষ্কের আণবিক পরিবর্তন ঘটায়। ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্কে ‘ব্রেইন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর’ বা বিডিএনএফ নামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের ক্ষরণ বাড়ে। এই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষের “সার” বলা যায়। এটি বিদ্যমান নিউরনগুলোকে রক্ষা করে এবং নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়া, অর্থাৎ নিউরোজেনেসিস, সক্রিয় করতে সাহায্য করে।
আণবিক স্তরে বিডিএনএফ ট্রোপোমায়োসিন রিসেপ্টর কাইনেজ বি নামের নির্দিষ্ট কোষ-পৃষ্ঠের রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।
প্রথমত, এটি গ্লুটামেটার্জিক নিউরোট্রান্সমিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভিজিলুটু-টু অণুর প্রকাশ বাড়ায়। এর ফলে সিন্যাপটিক উত্তেজনা দ্রুত হয়।
দ্বিতীয়ত, পোস্ট-সিন্যাপটিক নিউরনে বিডিএনএফ-ট্রোপোমায়োসিন রিসেপ্টর কাইনেজ বি সক্রিয় হলে এএমপিএ এবং এনএমডিএ নামের গ্লুটামেট রিসেপ্টরগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ে। এর ফলে কোষে ক্যালসিয়াম আয়নের প্রবেশ বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতির ভিত্তি বা লং-টার্ম পোটেনশিয়েশন তৈরিতে অপরিহার্য।
তৃতীয়ত, ব্যায়ামের সময় পেশী থেকে নিঃসৃত ল্যাকটেট এবং পিজিসি-ওয়ান-আলফা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এফএনডিসি-ফাইভ বা মায়োকাইন প্রোটিন রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা অতিক্রম করে হিপোক্যাম্পাসে বিডিএনএফ-এর উৎপাদন বাড়ায়।
ব্রেইন-প্যাড এবং সর্বোচ্চ অক্সিজেন গ্রহণ ক্ষমতা
আধুনিক নিউরোইমেজিং গবেষণায় মস্তিষ্কের বয়স নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ সূচক ব্যবহার করা হয়। একে বলা হয় ব্রেইন-প্রেডিক্টেড এজ ডিফারেন্স বা ব্রেইন-প্যাড। এটি দেখায়, একজন মানুষের প্রকৃত বয়সের তুলনায় তার মস্তিষ্ক কতটা তরুণ বা প্রবীণ দেখাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ মাস ধরে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম করলে ব্রেইন-প্যাড প্রায় ০.৬০ বছর কমে। অন্যদিকে ব্যায়াম না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি বাড়ে। সর্বোচ্চ অক্সিজেন গ্রহণ ক্ষমতা বা কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস, অর্থাৎ ভিওটু ম্যাক্স, প্রতি ১ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন বা প্রায় ৭ মিলিলিটার/কেজি/মিনিট বাড়লে মস্তিষ্কের বয়স প্রায় ১.৮৩ বছর কমে।
ব্যায়ামের ধরন এবং সমন্বিত কার্যকারিতা
মস্তিষ্কের বার্ধক্য ঠেকাতে সব ধরনের ব্যায়ামই উপকারী। তবে অ্যারোবিক ব্যায়াম বা কার্ডিওভাসকুলার কসরত সবচেয়ে কার্যকর। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত ২ দিন পেশী শক্তিশালী করার ব্যায়াম করা ভালো।
প্রবীণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কম থেকে মাঝারি তীব্রতার অল্প সময়ের হাঁটাও বিডিএনএফ-এর মাত্রা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি মস্তিষ্কের সমন্বয় ক্ষমতা বাড়াতে ‘ব্রেইন জিম’ বা শরীরের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়কারী কিছু ব্যায়াম জনপ্রিয় হয়েছে। যেমন ক্রস-ক্রল, যেখানে বাম কনুই দিয়ে ডান হাঁটু এবং ডান কনুই দিয়ে বাম হাঁটু স্পর্শ করতে হয়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জাগলিং করার মতো জটিল সমন্বয়মূলক কাজ মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটার বা শ্বেতবস্তুর পরিমাণ বাড়াতে পারে।
| ব্যায়ামের ধরন | প্রস্তাবিত সময়কাল | মস্তিষ্কে প্রভাবের প্রক্রিয়া | প্রধান বৈজ্ঞানিক সুফল |
|---|---|---|---|
| মাঝারি অ্যারোবিক ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, জগিং, সাঁতার | সপ্তাহে ১৫০ মিনিট | রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং রক্তনালীর মসৃণতা বজায় রাখা | কার্ডিওভাসকুলার সুস্থতা বৃদ্ধি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস |
| পেশী শক্তিশালী করার ব্যায়াম | সপ্তাহে ২ দিন | ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ | ডায়াবেটিসজনিত কগনিটিভ অবক্ষয় প্রতিরোধ |
| সমন্বয়মূলক ব্যায়াম, যেমন জাগলিং, নাচ, ক্রস-ক্রল | দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট | নিউরোপ্লাস্টিসিটি এবং মোটর কর্টেক্সের উদ্দীপনা | মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটার বৃদ্ধি এবং মনোযোগের উন্নতি |
দ্বিতীয় উপায়: মাইন্ড ডায়েট এবং পশ্চিমবঙ্গীয় খাদ্যশৈলীর অভিযোজন
মস্তিষ্কের বার্ধক্য এবং আলঝেইমারস রোগের ঝুঁকি কমাতে পুষ্টিবিজ্ঞানে মাইন্ড ডায়েট অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। মাইন্ড ডায়েটের পূর্ণ অর্থ হলো মেডিটেরেনিয়ান-ড্যাশ ইন্টারভেনশন ফর নিউরোডিজেনারেটিভ ডিলে। এটি মূলত হার্টের জন্য উপকারী মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ড্যাশ ডায়েটের একটি সমন্বিত রূপ।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কঠোরভাবে এই খাদ্যতালিকা মেনে চলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে। মাঝারিভাবে মেনে চললেও এই ঝুঁকি প্রায় ৩৫ শতাংশ কমতে পারে।
অটোফ্যাজি এবং অন্ত্র-মস্তিষ্ক সংযোগ
মাইন্ড ডায়েটের কার্যকারিতার পেছনে প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো, এটি মস্তিষ্কে বিটা-অ্যামাইলয়েড এবং টাউ প্রোটিনের মতো ক্ষতিকারক বর্জ্য জমা কমাতে সাহায্য করে। এই খাদ্যাভ্যাসে থাকা নির্দিষ্ট পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়া বা অটোফ্যাজি সক্রিয় করে।
অটোফ্যাজি হলো কোষের প্রাকৃতিক পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ক্ষতিকারক প্রোটিন কণাগুলো ধ্বংস হয়। পাশাপাশি উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্ট করে। সেই ব্যাকটেরিয়া শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। এই উপাদানগুলো অন্ত্র-মস্তিষ্ক সংযোগের মাধ্যমে মস্তিষ্কের মাইক্রোগ্লিয়াল কোষের কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ু-প্রদাহ কমায়।
ভারতীয় ও বাঙালি রান্নাঘরের উপযোগী রূপান্তর
পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালি খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে মাইন্ড ডায়েটের মূল নীতির ভালো সামঞ্জস্য রয়েছে। পশ্চিমা উপাদানের বদলে সহজলভ্য স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করেই এই ডায়েটের সুফল পাওয়া সম্ভব।
বিদেশি ব্লুবেরির পরিবর্তে আমলকী, পেয়ারা বা কালোজাম খাওয়া যায়। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত দামের অলিভ অয়েলের বদলে দৈনন্দিন বাঙালি রান্নায় কোল্ড-প্রেসড বা ঘানির খাঁটি সরষের তেল পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা যায়। এটি রক্তনালীর স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করতে পারে।
বিদেশি স্যালমন বা টুনা মাছের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় রুই, কাতলা, ইলিশ বা ছোট মৌরলা মাছের চচ্চড়ি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস হতে পারে। পালং শাক, মেথি শাক, সজনে শাক বা পুঁই শাকের মতো সবুজ শাকসবজি মস্তিষ্কে ফোলেট এবং লুটেনের দৈনিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। ডাল ও গোটা শস্যদানা, যেমন লাল চালের ভাত, ওটস বা জোয়ার-বাজরা-রাগির রুটি মস্তিষ্কে শর্করার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে।
বর্জনীয় খাবার: মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকারক উপাদান
মস্তিষ্কের বার্ধক্য দ্রুত করতে কিছু সাধারণ খাবার ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলো এড়িয়ে চলা বা অত্যন্ত সীমিত করা জরুরি।
স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ ঘি ও মাখনের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়ানো উচিত। চিজ বা পনিরের ব্যবহার সপ্তাহে ১ বারের কম রাখা ভালো। সিঙ্গাড়া, সমোসা, চপ, আলুর দম, রাস্তার গভীর তেলে ভাজা খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত ফাস্ট ফুড সপ্তাহে ১ বারের বেশি খাওয়া উচিত নয়।
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, কেক এবং পরিশোধিত ময়দার বিস্কুট এড়ানো দরকার। মদ্যপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা বা অত্যন্ত সীমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অ্যালকোহল সরাসরি মস্তিষ্কের কোষের জন্য ক্ষতিকর নিউরোটক্সিন হিসেবে কাজ করতে পারে। তামাক বা ধূমপান রক্তনালী সংকুচিত করে স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। তাই এটি পুরোপুরি বর্জনীয়।
৭ দিনের বাঙালি ধাঁচের মাইন্ড ডায়েট খাদ্যতালিকা
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা জরুরি। নিচে সাধারণ বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের উপযোগী একটি সাপ্তাহিক খাদ্যতালিকার খসড়া দেওয়া হলো।
| দিন | প্রাতরাশ | মধ্যাহ্নভোজ | বিকেলের জলখাবার | নৈশভোজ |
|---|---|---|---|---|
| ১ম দিন | আমলকী ও চূর্ণ করা কাঠবাদাম সহযোগে ওটস পোরিজ | লাল চালের ভাত, পালং শাকের তরকারি, মুসুর ডাল এবং শসার রায়তা | এক মুঠো ভাজা ছোলা বা চানা | জোয়ার বা আটার রুটি, ডাল তরকা এবং মিশ্র সবজি তরকারি |
| ২য় দিন | পালং শাক ও কুচোনো সবজি মেশানো বেসন চিলা বা পুড়লা | ব্রাউন রাইস, সজনে ডাঁটা ও সবজি দিয়ে পাতলা রুই মাছের ঝোল এবং লেবু | একটি আপেল এবং কয়েকটি আমন্ড | রাগির রুটি এবং মিশ্র ডাল বা চানা মসলা |
| ৩য় দিন | মটরশুটি ও চিনেবাদাম দিয়ে তৈরি চিঁড়ের পোলাও | লাল চালের ভাত, রাজমা কারি এবং ব্রকলি বা বাঁধাকপির ভাপানো তরকারি | টক দইয়ের সঙ্গে ব্ল্যাকবেরি বা জাম | বাজরার রুটি এবং কম চর্বিযুক্ত পনিরের হালকা তরকারি |
| ৪র্থ দিন | ওটস ও মিশ্র সবজির উপমা | ব্রাউন রাইস, ছোলার ডাল এবং গাজর-টমেটোর সালাদ | এক মুঠো শুকনো ভাজা মাখনা | আটার রুটি, পেঁপে-আলু দিয়ে মুরগির হালকা ঝোল |
| ৫ম দিন | মুগ ডালের চিলা বা প্যানকেক | লাল চালের ভাত, মেথি শাকের তরকারি এবং ঘন মুগ ডাল | পেয়ারা বা পেঁপের টুকরো | আটার রুটি এবং অল্প তেলে রান্না করা ডিমের তরকারি |
| ৬ষ্ঠ দিন | অঙ্কুরিত মুগ ডাল, শসা ও লেবু দিয়ে তৈরি সালাদ | ব্রাউন রাইস, পুঁই শাকের চচ্চড়ি এবং কাতলা মাছের ঝাল | এক গ্লাস ঘোল বা বাটারমিল্ক | রাগির রুটি এবং পটল বা তরকার ডাল |
| ৭ম দিন | জোয়ার বা রাগির পোরিজ কাঠবাদামসহ | লাল চালের ভাত, করলার তেতো এবং হালকা মৌরলা মাছের চচ্চড়ি | কয়েকটি আখরোট এবং সামান্য গুড় | আটার রুটি এবং ফুলকপি-কড়াইশুঁটির ডালনা |
তৃতীয় উপায়: কগনিটিভ রিজার্ভ বৃদ্ধি, সামাজিক সক্রিয়তা এবং নির্মল ঘুম
মস্তিষ্কের বার্ধক্য কেবল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না। বৌদ্ধিক কার্যকলাপও এতে বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো কগনিটিভ রিজার্ভ বা বৌদ্ধিক সঞ্চয়। এর অর্থ হলো মস্তিষ্কের সেই নমনীয়তা ও অভিযোজন ক্ষমতা, যার ফলে বার্ধক্যজনিত বা রোগজনিত ক্ষতি হলেও মস্তিষ্ক বিকল্প পথ তৈরি করে নিজের কার্যক্ষমতা সচল রাখতে পারে।
কগনিটিভ রিজার্ভ এবং মানসিক উদ্দীপনা
বৌদ্ধিক সঞ্চয় সারাজীবন ধরে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে গড়ে তোলা যায়। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে নতুন কোনো কাজ শেখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে নিউরনের নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ বা সার্কিট সক্রিয় হয়।
যেমন নতুন ভাষা শেখা, কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা বা ফটোগ্রাফির মতো নতুন কোনো শিল্প শেখা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সুডোকু মেলানো, পাজল সমাধান করা বা শব্দছক পূরণ করা মস্তিষ্কের স্মৃতি-অঞ্চলগুলোকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
জটিল তথ্য সহজে মনে রাখার জন্য প্রাচীন গ্রিক পদ্ধতি ‘স্মৃতির প্রাসাদ’ বা লোকাই পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে স্থানিক স্মৃতির সাহায্য নিয়ে তথ্য মনে রাখতে শেখানো হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কগনিটিভ স্বাস্থ্য: কলকাতার চিকিৎসকদের বিতর্ক
বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে কলকাতার প্রথম সারির নিউরোলজিস্টদের মধ্যে দ্বিমুখী আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব ব্রেইন দিবসে কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডক্টর দীপ দাসের মতে, মস্তিষ্ক এমন একটি জটিল অঙ্গ যা অন্য কোনো অঙ্গ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় না। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সহানুভূতি, কল্পনা বা মানসিক স্থিতিস্থাপকতাকে কখনো প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
তবে চার্নক হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডক্টর রোহিত মিশ্র মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের নতুন জিনিস শিখতে এবং মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ককে চ্যালেঞ্জ করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে পরোক্ষভাবে কগনিটিভ অবক্ষয় রোধে সাহায্য হতে পারে।
ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতার নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ডক্টর হৃষিকেশ কুমারের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সুডোকুর মতো নতুন যেকোনো তথ্য যখন মস্তিষ্ক গ্রহণ করে, তখন তা নিউরনের বৈদ্যুতিক সার্কিটকে সচল রাখে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে অলস চিন্তাভাবনা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম এবং ঘুমের গভীরতা
ঘুমকে শুধু বিশ্রামের সময় ভাবা ভুল। এটি আসলে মস্তিষ্কের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতার প্রধান সময়। ঘুমের সময় সাম্প্রতিক ঘটনা বা স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়।
শারীরবৃত্তীয় স্তরে গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম বা বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা দশগুণ বেশি সক্রিয় হয়। এই সময় সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আলঝেইমারস রোগের জন্য দায়ী বিটা-অ্যামাইলয়েড এবং টাউ প্রোটিনের মতো ক্ষতিকারক বিষাক্ত পদার্থ ধুয়ে পরিষ্কার করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে যারা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ে। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের ঘাটতি হলে দিনের বেলাতেও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড তরঙ্গের অস্বাভাবিক অনুপ্রবেশ ঘটে। এর ফলে মনোযোগের আকস্মিক বিচ্যুতি, চোখের মণির সংকোচন এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতার গুরুতর অবনতি ঘটতে পারে।
সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার অবিচ্ছিন্ন ও গভীর ঘুম জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগ এবং বিষণ্নতার চিকিৎসা
সামাজিক একাকীত্ব বা বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধ বয়সে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়া, পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখা এবং সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ সচল রাখে।
এর পাশাপাশি ডিপ্রেশন বা দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতার দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। ডিপ্রেশন মস্তিষ্কের প্রধান স্মৃতি কেন্দ্র হিপোক্যাম্পাসকে সংকুচিত করে এবং কর্টিসলের মতো ক্ষতিকারক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। তাই বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত থেরাপি বা চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে মানুষ ধীরে ধীরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে আলঝেইমারসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডক্টর প্রিয়দর্শিনী পাণ্ডার মতে, শ্রবণশক্তির ঘাটতি বা পর্যাপ্ত শ্রবণ উদ্দীপনার অভাব ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
| কগনিটিভ কৌশল | বিজ্ঞানসম্মত কার্যপ্রণালী | লক্ষ্য ও প্রভাব | দৈনন্দিন অনুশীলনের উপায় |
|---|---|---|---|
| স্মৃতির প্রাসাদ | স্থানিক ও দৃশ্যমান স্মৃতির মেলবন্ধন | হিপোক্যাম্পাসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জটিল স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী করা | পরিচিত কোনো ঘরের আসবাবপত্রের সঙ্গে নতুন তথ্য যুক্ত করে মনে রাখা |
| ৭ মিনিট ধ্যান | কর্টিসলের মাত্রা কমানো এবং অ্যামিগডালাকে শান্ত রাখা | মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হিপোক্যাম্পাসকে রক্ষা করা | প্রতিদিন সকালে শান্ত হয়ে বসে নিজের শ্বাসের ওপর মনোযোগ দেওয়া |
| দ্বিভাষিকতা বা নতুন ভাষা শেখা | মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্সে অতিরিক্ত সিন্যাপটিক সংযোগ তৈরি | কগনিটিভ রিজার্ভ মজবুত করা এবং ডিমেনশিয়ার লক্ষণ চার থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দেওয়া | প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট কোনো অ্যাপ বা বইয়ের মাধ্যমে নতুন ভাষা চর্চা করা |
জীবনচক্রের ঝুঁকি এবং জনস্বাস্থ্যগত মাত্রা
মস্তিষ্কের বার্ধক্য প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বব্যাপী এবং বিশেষ করে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য, অপুষ্টি এবং সামাজিক বৈষম্য মস্তিষ্কের বার্ধক্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের সামাজিক প্রভাব
শৈশবে দারিদ্র্য ও অপুষ্টির শিকার শিশুরা পর্যাপ্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টি উপাদান পায় না। এর ফলে তাদের প্রাথমিক মস্তিষ্কের গঠনে ব্যাঘাত ঘটে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবের দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১.৫৮ থেকে ১.৬৪ গুণ বাড়ায়। সমাজের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈষম্য বা গিনি সূচক বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের অবনতির সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য কম, সেখানে মানুষের ডিমেনশিয়া-মুক্ত জীবন কাটানোর গড় আয়ু বেশি হয়।
এইচআইভি এবং ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের ভূমিকা
গুরুতর কিছু শারীরিক রোগ সরাসরি কগনিটিভ স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। যেমন, এইচআইভি সংক্রমণের ফলে শরীরে সিডি-ফোর সেল কাউন্ট যদি গড়ে ৪০৭.৮ সেল/ঘন মিলিমিটার বা তার কম হয়, তাহলে মৃদু ডিমেনশিয়ার লক্ষণ বা নিউরো-কগনিটিভ জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা এবং জীবনের প্রতি উদাসীনতা শুধু মানসিক অবসাদের ফল নয়। এর পেছনে গভীর শারীরবৃত্তীয় কার্যকারণও রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের ক্যানসার টিউমারগুলো রক্তে সাইটোকাইন নামের প্রদাহ সৃষ্টিকারী কণা নিঃসরণ করে। মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল, যাকে পোস্টরেমা বলা হয়, সেখানে কোনো রক্ত-মস্তিষ্ক প্রাচীর থাকে না। ফলে পোস্টরেমা সরাসরি রক্তে ছড়িয়ে থাকা সাইটোকাইনের সংস্পর্শে আসে।
এর ফলে একটি স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা মস্তিষ্কের অনুপ্রেরণা বা মোটিভেশন কেন্দ্র নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেন্সে ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। কলকাতার অনকোলজিস্ট ডক্টর দীপ্তেন্দ্র সরকার এবং ডক্টর সঞ্জয় রায়ের মতে, ক্যানসার রোগীদের এই নিস্পৃহতা বা অবসাদ ক্লিনিক্যালি শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে তাঁদের আরোগ্য লাভের হার এবং জীবনের মান উন্নত হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রোকের মহামারি এবং সচেতনতা
পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতায় যুবকদের মধ্যে স্ট্রোকের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ইন্ডিয়ান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পি. বিজয়ার মতে, স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা না করা।
স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা ফাস্ট সূত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
ফেস বা মুখ: মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া।
আর্ম বা হাত: একটি হাত তুলতে দুর্বলতা অনুভব করা।
স্পিচ বা কথা: কথা অস্পষ্ট বা জড়িয়ে যাওয়া।
টাইম বা সময়: দ্রুত রোগীকে স্ট্রোক-রেডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, কারণ প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টা হলো গোল্ডেন আওয়ার্স।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৭৩ শতাংশ ভারতীয় স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে পৌঁছাতে ১১ ঘণ্টার বেশি দেরি করে ফেলেন। এর ফলে প্রতি এক মিনিটে প্রায় ১৮ লক্ষ মূল্যবান মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরন মারা যায়।
| জীবনচক্রের স্তর | সংশোধনযোগ্য ঝুঁকির কারণ | ডিমেনশিয়ার সঙ্গে আপেক্ষিক ঝুঁকি | জনস্বাস্থ্যগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|
| প্রাথমিক জীবন, ৪৫ বছরের কম | কম শিক্ষা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব | ১.৬ | শৈশবে গুণগত মানসম্পন্ন অবৈতনিক শিক্ষা এবং কগনিটিভ উদ্দীপনা নিশ্চিত করা |
| মধ্য জীবন, ৪৫ থেকে ৬৫ বছর | শ্রবণশক্তি হ্রাস | ১.৯ | ক্ষতিকর শব্দের সংস্পর্শ কমানো এবং সহজলভ্য শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র দেওয়া |
| মধ্য জীবন, ৪৫ থেকে ৬৫ বছর | উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল বা খারাপ কোলেস্টেরল | কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি রক্তনালীতে চর্বি জমায় | ৪০ বছর বয়স থেকেই লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা এবং খাদ্যতালিকা নিয়ন্ত্রণ |
| মধ্য জীবন, ৪৫ থেকে ৬৫ বছর | মাথায় গুরুতর আঘাত বা ট্রমা | ১.৮ | খেলাধুলো বা বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা |
| মধ্য জীবন, ৪৫ থেকে ৬৫ বছর | উচ্চ রক্তচাপ | ১.৬ | খাবারে নুনের ব্যবহার কমানো এবং প্রাথমিক স্তরে রক্তচাপের ওষুধ সেবন |
| মধ্য জীবন, ৪৫ থেকে ৬৫ বছর | স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন | ১.৬ | স্বাস্থ্যকর বিএমআই বজায় রাখা এবং ফাস্ট ফুড বর্জন |
| শেষ জীবন, ৬৫ বছরের বেশি | ধূমপান বা তামাকের ব্যবহার | ১.৬ | জনসমক্ষে ধূমপান নিষিদ্ধ করা এবং তামাকের ওপর কর বৃদ্ধি |
| শেষ জীবন, ৬৫ বছরের বেশি | বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন | ১.৯ | সময়মতো সাইকোথেরাপি বা সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া |
| শেষ জীবন, ৬৫ বছরের বেশি | সামাজিক একাকীত্ব বা বিচ্ছিন্নতা | ১.৬ | বয়স্কদের জন্য পাড়ায় ক্লাব ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র তৈরি করা |
| শেষ জীবন, ৬৫ বছরের বেশি | টাইপ-২ ডায়াবেটিস | ১.৫ | রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস |
| শেষ জীবন, ৬৫ বছরের বেশি | বায়ুদূষণ | ১.১ | কড়া পরিবেশ নীতি বাস্তবায়ন এবং জনবহুল রাস্তায় মাস্ক ব্যবহার |
ছোট ছোট অভ্যাস দিয়ে ধরে রাখুন মস্তিষ্কের তারুণ্য
মস্তিষ্কের বার্ধক্য বা মানসিক অবক্ষয় প্রতিরোধে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এক শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে। বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ এবং ল্যানসেট কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে স্পষ্ট, বার্ধক্য রুখতে কোনো অলৌকিক সুপারফুড বা জাদুকরী ওষুধের প্রয়োজন নেই। আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিবর্তন আনলেই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম বা শরীরচর্চার মাধ্যমে বিডিএনএফ ক্ষরণ বাড়ানো, পশ্চিমবঙ্গীয় সহজলভ্য উপাদানে তৈরি পুষ্টিকর মাইন্ড ডায়েট মেনে চলা, পর্যাপ্ত গভীর ঘুম, কগনিটিভ রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং সামাজিক বন্ধন সচল রাখা মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতার দ্রুত বদলে যাওয়া জীবনযাত্রায় স্ট্রোক এবং ভাস্কুলার ডিমেনশিয়ার বাড়তে থাকা ঝুঁকি কমাতে এই অভ্যাসগুলো দৈনন্দিন জীবনের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত। নিজের শরীর ও মস্তিষ্কের সঠিক যত্ন নেওয়া কোনো সাময়িক ফ্যাশন নয়। এটি সুস্থ, সক্রিয় এবং মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য অর্জনের এক জরুরি বৈজ্ঞানিক প্রতিশ্রুতি।



