আজকের এই দিনে – ২৪ সেপ্টেম্বর: ইতিহাস, বিখ্যাত জন্মদিন, মৃত্যু এবং বিশ্বব্যাপী ঘটনাবলি। মানব ইতিহাসের বিশাল ক্যানভাসে বোনা রয়েছে এমন সব অসাধারণ মুহূর্ত, যা আজকের বিশ্বকে রূপ দিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর দিনটিও এমন অসংখ্য উল্লেখযোগ্য মাইলফলক, গভীর ট্র্যাজেডি এবং স্মরণীয় অর্জনে ভরপুর। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক জাগরণ থেকে শুরু করে মহাকাশ অভিযানের বিশাল স্বপ্ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং বিশ্বের বড় বড় অটোমোবাইল সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন—সব মিলিয়ে এই দিনটি আমাদের মানবসভ্যতার এক চমৎকার প্রতিচ্ছবি।
আপনি যদি ইতিহাসের অনুরাগী হন, সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে আগ্রহী হন, অথবা নিজের জন্মদিনে কী ঘটেছিল তা জানার কৌতূহল রাখেন, তবে এই বিস্তারিত “আজকের এই দিনে” গাইডটি আপনার জন্য। এখানে আমরা বাঙালি পরিমণ্ডল, আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের উত্থান-পতনের এক গভীর ও বিশ্লেষণমূলক যাত্রা করব।
বাঙালি পরিমণ্ডল ও ভারতীয় উপমহাদেশ
বর্তমান ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান নিয়ে গঠিত এই ভারতীয় উপমহাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই উপনিবেশবাদ বিরোধী প্রতিরোধ, রাজনৈতিক বিবর্তন এবং বৈজ্ঞানিক সফলতার কেন্দ্রবিন্দু। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ২৪ সেপ্টেম্বর এক গভীর তাৎপর্য বহন করে।
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি: ঔপনিবেশিক প্রতিরোধ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত
-
১৬৭৪ – ছত্রপতি শিবাজীর দ্বিতীয় তান্ত্রিক রাজ্যাভিষেক: মারাঠা সাম্রাজ্যের কিংবদন্তি প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ তাঁর দ্বিতীয় রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন করেন। নিশ্চল পুরী গোস্বামীর পরিচালনায় তান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কিছু জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ত্রুটি দূর করা এবং মুঘল সাম্রাজ্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শিবাজীর সার্বভৌম কর্তৃত্বকে আরও সুদৃঢ় ও পাকাপোক্ত করা।
-
১৯৩২ – ঐতিহাসিক পুনা চুক্তি স্বাক্ষর: আধুনিক ভারতের সামাজিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি ঘটে যখন মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে ‘পুনা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। ব্রিটিশ সরকার পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (বর্তমান দলিত) জন্য “স্বতন্ত্র নির্বাচকমণ্ডলী” প্রস্তাব করেছিল। গান্ধীজি এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন এটি হিন্দু সম্প্রদায়কে বিভক্ত করবে এবং পুনের ইয়েরওয়াড়া সেন্ট্রাল জেলে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। গান্ধীর জীবন বাঁচাতে এবং একইসাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে ড. আম্বেদকর একটি আপস রফায় সম্মত হন: সাধারণ নির্বাচকমণ্ডলীর ভেতরেই পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য আসন সংরক্ষিত থাকবে। এই চুক্তিটিই ভারতের ভবিষ্যৎ ইতিবাচক বৈষম্য এবং সংরক্ষণ নীতির মূল ভিত্তি তৈরি করেছিল।
-
১৯৭২ – বোম্বেতে ভুল বিমানবন্দরে অবতরণ: বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক অদ্ভুত দুর্ঘটনার সাক্ষী হয় এই দিন। যাত্রীদের নিয়ে বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) অভিমুখী জাপান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৪৭২ ভুল করে আন্তর্জাতিক সান্তাক্রুজ বিমানবন্দরের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত অনেক ছোট জুহু অ্যারোড্রোমে অবতরণ করে। বিমানটি ছোট রানওয়ে ছাড়িয়ে চলে যায়, যার ফলে ১১ জন আহত হলেও আশ্চর্যের বিষয় হলো কেউ নিহত হয়নি।
-
২০১৪ – মঙ্গলে ভারতের ইতিহাস রচনা (মঙ্গলযান): ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করে যখন তাদের মার্স অরবিটার মিশন (MOM), যা ‘মঙ্গলযান’ নামে সমধিক পরিচিত, সফলভাবে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করে। ভারত এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গলে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করে এবং গোটা বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে নিজেদের প্রথম প্রচেষ্টাতেই এই অসাধ্য সাধন করে। মাত্র ৭৪ মিলিয়ন ডলারের অত্যন্ত সীমিত বাজেটে সম্পন্ন হওয়া এই মিশনটি মহাকাশ প্রকৌশলে উপমহাদেশের বিশাল সক্ষমতার অকাট্য প্রমাণ দেয়।
বিখ্যাত জন্ম ও অবদান
-
১৫৩৪ – গুরু রাম দাস: শিখ সম্প্রদায়ের দশ জন গুরুর মধ্যে তিনি চতুর্থ। পবিত্র শহর অমৃতসর প্রতিষ্ঠা করা এবং শিখ উপাসনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকা অসংখ্য স্তোত্র রচনার জন্য তিনি গভীরভাবে পূজনীয়।
-
১৮৬১ – ভিকাইজি কামা: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রবাদপ্রতিম নারী। মাদাম কামা ১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে ভারতের জাতীয় পতাকার একটি প্রাথমিক রূপ উন্মোচনের জন্য অমর হয়ে আছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি এবং মানবাধিকারের দাবি তুলে ধরেছিলেন।
বিখ্যাত মৃত্যু ও আত্মত্যাগ
-
১৯৩২ – প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: চট্টগ্রামের (বর্তমান বাংলাদেশে) এক অকুতোভয় বাঙালি বিপ্লবী। ২৪ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২১ বছর বয়সে, তিনি পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে এক সশস্ত্র আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। এই ক্লাবটি তার প্রবেশদ্বারে একটি কুখ্যাত সাইনবোর্ডের জন্য পরিচিত ছিল, যেখানে লেখা ছিল “কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ।” সফল অভিযানের পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পুলিশের হাতে কোণঠাসা হয়ে পড়লে, আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেওয়াকে বেছে নেন। তাঁকে বাংলার প্রথম নারী বিপ্লবী শহীদ হিসেবে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক দিবস ও ছুটির দিন

বিশ্বজুড়ে ২৪ সেপ্টেম্বর দিনটি স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় পরিচয়ের নানা উদযাপনের মাধ্যমে পালিত হয়।
২৪ সেপ্টেম্বরের প্রভাব অনুভূত হয়েছে মহাদেশ থেকে মহাদেশে, যা ভূ-রাজনীতি, বিমান চলাচল, নাগরিক অধিকার এবং আধুনিক বাণিজ্যের গতিপথ নির্ধারণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র: নাগরিক অধিকার, সংরক্ষণ ও সংকট
-
১৭৮৯ – বিচার বিভাগীয় আইন পাস: মার্কিন কংগ্রেস ‘জুডিশিয়ারি অ্যাক্ট’ পাস করে, যার মাধ্যমে ফেডারেল বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আইনের অধীনে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ সৃষ্টি করা হয় এবং সুপ্রিম কোর্ট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা মার্কিন সরকারের আইনি মেরুদণ্ড শক্ত করে।
-
১৮৬৯ – ব্ল্যাক ফ্রাইডে (স্বর্ণ আতঙ্ক): পুঁজিপতি জে গুল্ড এবং জিম ফিস্ক মার্কিন স্বর্ণের বাজার নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেন, যা চরম আর্থিক আতঙ্কের সৃষ্টি করে। প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস. গ্রান্ট হস্তক্ষেপ করে ট্রেজারিকে বিপুল পরিমাণ সোনা বিক্রি করার নির্দেশ দেন, ফলে সোনার দাম ধসে পড়ে এবং অনেক বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হন।
-
১৯০৬ – প্রথম জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ: প্রখ্যাত সংরক্ষণবাদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট নতুন প্রণীত ‘অ্যান্টিকুইটিজ অ্যাক্ট’-এর অধীনে ওয়াইমিং-এর ‘ডেভিলস টাওয়ার’কে দেশের প্রথম জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেন।
-
১৯০৬ – আটলান্টা রেস রায়ট: সংবাদপত্রগুলোর মিথ্যা ও উসকানিমূলক খবরের জেরে ভয়াবহ জাতিগত উত্তেজনা আটলান্টা দাঙ্গায় রূপ নেয়। শ্বেতাঙ্গ উন্মত্ত জনতা কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে ডজন ডজন মানুষ নিহত হয় এবং আমেরিকান দক্ষিণাঞ্চলে জাতিগত বিভাজন আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
-
১৯৫৭ – দ্য লিটল রক নাইন: নাগরিক অধিকার আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার আরকানসাস ন্যাশনাল গার্ডকে ফেডারেলাইজ করেন এবং ১০১তম এয়ারবর্ন ডিভিশনকে আরকানসাসের লিটল রকে মোতায়েন করেন। তাদের মিশন ছিল সেন্ট্রাল হাই স্কুলে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ নিশ্চিত করা এবং নয়জন কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীকে সহিংস জনতার হাত থেকে রক্ষা করা।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ: সাম্রাজ্য, চুক্তি এবং পরিবহন
-
১৫৬৮ – সান জুয়ান দে উলুয়ার যুদ্ধ: মেক্সিকোর ভেরাক্রুজের কাছে স্প্যানিশ নৌবাহিনী জন হকিন্সের (এবং তরুণ ফ্রান্সিস ড্রেকের) নেতৃত্বাধীন একটি ইংরেজ বহরকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে। এই সংঘাত এমন এক উত্তেজনা তৈরি করে যা পরবর্তীতে অ্যাংলো-স্প্যানিশ যুদ্ধের রূপ নেয়।
-
১৮৩০ – বেলজিয়ান বিপ্লব: বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি বিপ্লবী কমিটি ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের অস্থায়ী সরকার গঠন করে, যা নেদারল্যান্ডস যুক্তরাজ্য থেকে তাদের সফল স্বাধীনতার পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
-
১৮৫২ – প্রথম যাত্রীবাহী এয়ারশিপ: ফরাসি প্রকৌশলী হেনরি গিফার্ড বাষ্পচালিত ডিরিজিবলে চড়ে প্যারিস থেকে ট্রাপস পর্যন্ত ১৭ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে প্রথম শক্তিচালিত, যাত্রীবাহী এয়ারশিপ ফ্লাইট সম্পন্ন করেন।
-
১৯১১ – মেফ্লাইয়ের ধ্বংসযজ্ঞ: রিজিড এয়ারশিপ নির্মাণে ব্রিটেনের উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট ‘হিজ মেজেস্টিস এয়ারশিপ নং ১’ (যার ডাকনাম ছিল মেফ্লাই), এর প্রথম উড্ডয়নের আগেই প্রবল বাতাসের তোড়ে মর্মান্তিকভাবে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
-
১৯৫৪ – রুটমাস্টারের আত্মপ্রকাশ: বিখ্যাত AEC রুটমাস্টার—সেই ক্লাসিক লাল দোতলা বাস, যা পরবর্তীতে লন্ডনের সমার্থক হয়ে ওঠে—আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
চীন, জাপান ও এশিয়া: বাণিজ্য এবং রাজতন্ত্র
-
১৮৭৭ – শিরোয়ামার যুদ্ধ: এই চূড়ান্ত সংঘাতটি ছিল জাপানে সাতসুমা বিদ্রোহের শেষ যুদ্ধ। ইম্পেরিয়াল জাপানিজ আর্মি প্রথাগত সামুরাই যোদ্ধাদের শেষ অংশকেও নির্মূল করে, যা মেইজি রেস্টোরেশনের আধুনিকীকরণকে সুনিশ্চিত করে।
-
১৯৪৬ – ক্যাথে প্যাসিফিকের জন্ম: হংকং-এর ফ্ল্যাগশিপ ক্যারিয়ার, ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ, আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকান রয় ফারেল এবং অস্ট্রেলিয়ান সিডনি ডি কান্টজোর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
-
১৯৪৮ – হোন্ডার প্রতিষ্ঠা: উদ্ভাবক সোইচিরো হোন্ডা এবং তাকেও ফুজিসাওয়া জাপানের হামামাৎসুতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হোন্ডা মোটর কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন। মোটরচালিত সাইকেল দিয়ে শুরু করে এটি পরবর্তীতে স্বয়ংচালিত প্রকৌশলের এক বিশ্বব্যাপী দৈত্যে পরিণত হয়।
-
১৯৯৩ – কম্বোডিয়ান রাজতন্ত্রের পুনরুদ্ধার: বছরের পর বছর ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাত এবং খেমার রুজ গণহত্যার পর, নরোদম সিহানুককে রাজা হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে কম্বোডিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তার রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য প্রান্ত
-
১৮৪১ – সারাওয়াক হস্তান্তর: ব্রুনাইয়ের সুলতান আনুষ্ঠানিকভাবে সারাওয়াক ভূখণ্ডটি (বোর্নিও দ্বীপে) ব্রিটিশ অভিযাত্রী জেমস ব্রুকের কাছে হস্তান্তর করেন, যিনি এক অনন্য রাজবংশীয় শাসনের প্রথম “হোয়াইট রাজা” হয়ে ওঠেন যা এক শতাব্দী ধরে স্থায়ী ছিল।
-
১৯৫০ – চিঞ্চাগা অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়াশা: উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ডকৃত অন্যতম বড় দাবানল, যা উত্তর ব্রিটিশ কলম্বিয়া এবং কানাডার আলবার্টায় জ্বলছিল, এতোটাই বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি করেছিল যে তা হাজার হাজার মাইল পর্যন্ত ভেসে যায়। ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, এটি “নীল সূর্য” নামক একটি ঘটনার জন্ম দেয় এবং পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু অংশে এক ভীতিকর, ঘন ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে।
-
১৯৭৫ – এভারেস্টের দক্ষিণ-পশ্চিম মুখ জয়: একটি ব্রিটিশ অভিযাত্রী দল পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করে যখন ডুগাল হ্যাস্টন এবং ডগ স্কট প্রথম মানুষ হিসেবে অত্যন্ত দুর্গম ও খাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম মুখ দিয়ে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন।
বিখ্যাত জন্মদিন ও মৃত্যু (বিশ্বব্যাপী)
ইতিহাস মূলত ব্যক্তিগত অর্জনেরই গল্প। ২৪ সেপ্টেম্বর এমন অনেক দূরদর্শী লেখক, প্রতিভাবান বিজ্ঞানী এবং ব্যবসায়িক প্রভাবশালীদের জন্মের সাক্ষী, পাশাপাশি অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের বিদায়েরও দিন।
২৪ সেপ্টেম্বরের বিখ্যাত জন্ম
২৪ সেপ্টেম্বরের বিখ্যাত মৃত্যু
-
অন্ধ হয়ে ওড়া: ১৯২৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, বিমান চালনার অগ্রদূত জিমি ডুলিটল প্রমাণ করেছিলেন যে “ব্লাইন্ড ফ্লাইং” বা অন্ধভাবে উড্ডয়ন পুরোপুরি সম্ভব। তিনি ককপিটের বাইরে একবারও না তাকিয়ে, শুধুমাত্র ইনস্ট্রুমেন্ট বা যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করে টেকঅফ থেকে ল্যান্ডিং পর্যন্ত প্রথম সফল ফ্লাইটটি সম্পন্ন করেন। এই যুগান্তকারী অর্জন এভিয়েশন নিরাপত্তাকে চিরতরে বদলে দেয়।
-
আলোর নিচে রোডিও: রাতে রোডিও খেলার প্রিয় ঐতিহ্যটি এই দিনেই ১৯৩৫ সালে শুরু হয়েছিল, যখন আর্ল এবং ওয়েলডন বাসকম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক আলোর নিচে অনুষ্ঠিত প্রথম আউটডোর রোডিওর আয়োজন করেছিলেন।
-
মহাকাশ থেকে ডেলিভারি: ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, নাসা একটি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে যখন OSIRIS-REx ক্যাপসুলটি প্যারাস্যুটের সাহায্যে উটাহ মরুভূমিতে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এটি সরাসরি পৃথিবীর নিকটবর্তী গ্রহাণু ‘বেন্নু’ থেকে সংগৃহীত বিরল পাথর এবং ধূলিকণা বহন করে এনেছিল, যা বিজ্ঞানীদের সৌরজগতের উৎপত্তির রহস্য সমাধানে নতুন সূত্র প্রদান করছে।
শেষ কথা
আমাদের মানুষের অবিরাম অগ্রগতি এবং আমাদের লড়াইয়ের চক্রাকার প্রকৃতির কথা মনে করিয়ে দেয় এই দিনটি। ভারতে সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন সংজ্ঞা দেওয়া পুনা চুক্তি স্বাক্ষর থেকে শুরু করে লিটল রক সেন্ট্রাল হাই স্কুলের সাহসী একত্রীকরণ, কিংবা মঙ্গল গ্রহে ভারতের প্রযুক্তিগত বিস্ময় পৌঁছানো এবং শুধুমাত্র যন্ত্রের সাহায্যে পাইলটদের বিমান চালানো শেখা—এই তারিখটি প্রচলিত অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার সাহসিকতায় খোদাই করা আছে। এফ. স্কট ফিটজেরাল্ড এবং জিম হেনসনের মতো দূরদর্শীদের জন্ম, অথবা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের দিকে ফিরে তাকালে, আমরা আমাদের বৈশ্বিক ইতিহাসের জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত আখ্যানের প্রতি আরও গভীর উপলব্ধি অর্জন করি। প্রতিটি দিনই একটি গল্প ধারণ করে; কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর যেন একটি আস্ত লাইব্রেরি নিজের ভেতরে ধারণ করে আছে।

