মানব ইতিহাসের দীর্ঘ ও বর্ণিল পথপরিক্রমায় প্রতিটি দিনেরই নিজস্ব একটি আলাদা গুরুত্ব ও ওজন রয়েছে। তবে ২৮শে সেপ্টেম্বর দিনটি যেন একটু বেশিই বিশেষ। এই দিনটি এমন কিছু যুগান্তকারী সূচনা, হৃদয়বিদারক সমাপ্তি এবং বিশ্বজগতকে বদলে দেওয়া আবিষ্কারের সাক্ষী, যা আজকের পৃথিবী গঠনে বিশাল ভূমিকা রেখেছে। প্রাচীন মিশরের সৈকতে সাম্রাজ্যের পতন থেকে শুরু করে লন্ডনের এক নিভৃত গবেষণাগারে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্ম—এই দিনের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের বর্তমান জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
আপনি ইতিহাস অনুরাগী হোন, সাধারণ জ্ঞান পিপাসু হোন, অথবা আপনার জন্মদিনের সঙ্গী আর কোন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা আছেন তা জানার কৌতূহলী হোন না কেন, এই বিস্তৃত “আজকের এই দিনে” নির্দেশিকাটি ২৮শে সেপ্টেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্যের গভীরে আপনাকে নিয়ে যাবে। চলুন, বাঙালি পরিমণ্ডল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক দিবস এবং বৈশ্বিক ইতিহাসের পাতা থেকে ঘুরে আসি, এবং জেনে নিই সেইসব ঘটনা যা আমাদের পৃথিবীকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।
বাঙালি পরিমণ্ডল ও ভারতীয় উপমহাদেশ
ভারতীয় উপমহাদেশ তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক বিবর্তনের এক বিশাল ক্যানভাস। এই ভূখণ্ড, যা বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারত জুড়ে বিস্তৃত, ২৮শে সেপ্টেম্বরে বেশ কিছু গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। এই অঞ্চল জন্ম দিয়েছে বিপ্লবী বীর, কিংবদন্তি শিল্পী এবং যুগান্তকারী রাজনৈতিক পালাবদলের।
ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ
-
১৯৮৪ (বাংলাদেশে গণআন্দোলন): বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জারিকৃত সামরিক আইন অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে ২৩টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের জোট দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল পালন করে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দেশব্যাপী ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। এই দিনের ঘটনাপ্রবাহ ছিল নব্বইয়ের দশকের সেই বিশাল গণঅভ্যুত্থানের একটি অন্যতম সোপান, যা অবশেষে ১৯৯০ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করেছিল।
-
১৮২৭ (ইন্ডিয়ান আর্মি আর্টিলারি রেইজিং ডে): রয়্যাল আর্টিলারির অংশ হিসেবে কয়েকটি মাউন্টেন ব্যাটারি ট্রেনের মাধ্যমে ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই দিনে ‘৮ কোম্পানি বোম্বে আর্টিলারি’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন পুনর্গঠন পেরিয়ে ‘৫ (বোম্বে) মাউন্টেন ব্যাটারি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। আজ পর্যন্ত ২৮শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘রেজিমেন্ট অফ আর্টিলারির রেইজিং ডে’ বা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হিসেবে অত্যন্ত গর্বের সাথে উদযাপন করা হয়।
-
১৯৮৪ (ভারতে প্রথম ফ্লাডলাইটে ওডিআই): উপমহাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হয় এই দিনে। নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ফ্লাডলাইটের আলোয় আলোকিত ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল (ODI) ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে এটিই ছিল প্রথম দিবা-রাত্রির ক্রিকেট ম্যাচ, যা দর্শকদের এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী করেছিল।
উপমহাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জন্ম
উপমহাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের মৃত্যু
-
পণ্ডিত সুন্দর লাল শর্মা (১৯৪০): একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং সমাজ সংস্কারক। তাঁকে প্রায়শই “ছত্তিশগড়ের গান্ধী” বলা হতো। তিনি তার পুরো জীবন অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ এবং ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে উৎসর্গ করেছিলেন।
-
শঙ্কর গুহ নিয়োগী (১৯৯১): মধ্যপ্রদেশের একজন সক্রিয় এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়ন নেতা। তিনি প্রান্তিক শ্রমিক ও খনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য নিরলস সংগ্রাম করেছেন। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে মধ্য ভারত জুড়ে ব্যাপক শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক দিবস ও উদযাপন
বিশ্বজুড়ে ২৮শে সেপ্টেম্বর দিনটিতে জনস্বাস্থ্য, মানবাধিকার এবং স্বচ্ছতার প্রসারের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালিত হয়।
-
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস (World Rabies Day): গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর র্যাবিস কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) উদ্যোগে পালিত এই দিবসটি জলাতঙ্ক প্রতিরোধ এবং এই ভয়াবহ রোগ নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। ফরাসি অণুজীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুর, যিনি প্রথম অত্যন্ত কার্যকরী জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে সম্মান জানাতেই ২৮শে সেপ্টেম্বরকে এই দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
-
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস (International Day for Universal Access to Information): ২০১৫ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত এবং ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এই দিবসটি জোর দেয় যে, রাষ্ট্রীয় তথ্যে সর্বজনীন প্রবেশাধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সরকারকে জবাবদিহি করতে এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।
-
বিশ্ব নৌ দিবস (World Maritime Day): এটি পরিবর্তনশীল একটি দিন হলেও প্রায়শই সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই তারিখের কাছাকাছি পালিত হয়। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) কর্তৃক নির্ধারিত এই দিনটি জাহাজের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বৈশ্বিক ইতিহাস

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন ইতিহাস তৈরি হয়। অঞ্চলভেদে ২৮শে সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া পৃথিবী বদলে দেওয়া ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর একটি চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
যুক্তরাষ্ট্র
-
১৭৮১ (আমেরিকান বিপ্লব): ইয়র্কটাউনের চূড়ান্ত অবরোধ শুরু হয় এই দিনে। জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটন, শক্তিশালী ফরাসি নৌ ও পদাতিক বাহিনীর সহায়তায়, ব্রিটিশ জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস এবং তার ৯,০০০ সৈন্যকে অবরুদ্ধ করেন। এই অবরোধ শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করে, যা কার্যত আমেরিকার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল।
-
১৮৫০ (নৌবাহিনীর সংস্কার): মার্কিন কংগ্রেস নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজে বেত্রাঘাতের নির্মম প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার পক্ষে ভোট দেয়। এর ফলে ভয়ঙ্কর “ক্যাট ও’ নাইন টেইলস” (এক প্রকার চাবুক) নিষিদ্ধ হয় এবং সামরিক শৃঙ্খলায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে।
-
১৯২৪ (উড্ডয়নের মাইলফলক): ইউ.এস. আর্মি এয়ার সার্ভিস প্রথমবারের মতো আকাশপথে পুরো বিশ্ব প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে। ১৭৫ দিন এবং ২৭,৫০০ মাইল পাড়ি দেওয়ার পর, দুটি ডগলাস ওয়ার্ল্ড ক্রুজার বিমান সিয়াটলে নিরাপদে অবতরণ করে, যা আন্তঃমহাদেশীয় বিমান চলাচলের ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে প্রমাণ করেছিল।
যুক্তরাজ্য
-
১০৬৬ (নর্মান বিজয়): উইলিয়াম দ্য কনকারার (উইলিয়াম, ডিউক অফ নরম্যান্ডি) ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের পেভেনসিতে তার আক্রমণকারী বহর নিয়ে অবতরণ করেন। এরপর তিনি হেস্টিংসের যুদ্ধে রাজা দ্বিতীয় হ্যারল্ডকে পরাজিত করে ইংল্যান্ডের ভাষা, আইনি ব্যবস্থা এবং অভিজাত বংশানুক্রমকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন।
-
১৯২৮ (চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব): লন্ডনের একটি গবেষণাগারে কাজ করার সময় স্কটিশ গবেষক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত ‘পেনিসিলিন’ আবিষ্কার করেন। ছুটি থেকে ফিরে তিনি লক্ষ্য করেন যে একটি পেট্রি ডিশে স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ফেলেছে অজানা এক পেনিসিলিয়াম ছাঁচ (mold)। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের যুগের সূচনা করে, যা পরবর্তীতে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে।
ইউরোপ
-
৪৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (পম্পেইর পতন): রোমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং জুলিয়াস সিজারের একসময়ের মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া ‘পম্পেই দ্য গ্রেট’ মিশরে পৌঁছানোর পরপরই রাজা ত্রয়োদশ টলেমির নির্দেশে গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হন। তাঁর এই মৃত্যু রোমান প্রজাতন্ত্রের চূড়ান্ত পতনকে চিহ্নিত করেছিল।
-
১৯৩৯ (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ): পোল্যান্ডে যৌথ আক্রমণের পর, নাৎসি জার্মানি এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সীমান্ত ও বন্ধুত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এটি পোল্যান্ডের নির্মম বিভাজনকে চূড়ান্ত করে এবং পূর্ব ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে আঁকে।
-
১৯৯৪ (সামুদ্রিক ট্র্যাজেডি): বাল্টিক সাগরে এক ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে ‘এমএস এস্তোনিয়া’ নামক ক্রুজ ফেরি ডুবে যায়, যাতে ৮৫২ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বিংশ শতাব্দীর শান্তিকালীন সময়ে এটি অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয়, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী যাত্রীবাহী ফেরির নিরাপত্তা বিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছিল।
চীন
-
২০০৮ (মহাকাশ অভিযান): শেনঝৌ ৭ মহাকাশযানের নভোচারীরা পৃথিবীতে নিরাপদে ফিরে আসেন। এই মিশনটি চীনের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল, কারণ এতে প্রথমবারের মতো কোনো চীনা নভোচারী মহাকাশে হেঁটেছিলেন (এক্সট্রাভেহিকুলার অ্যাক্টিভিটি), যা চীনকে একটি প্রধান মহাকাশ পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
কানাডা
-
১৮৬৭ (রাজধানী নির্ধারণ): কানাডিয়ান কনফেডারেশন গঠিত হওয়ার পরপরই টরন্টো আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত অন্টারিও প্রদেশের রাজধানী হয়ে ওঠে। ১৭৯৬ সাল থেকে পূর্বসূরি উপনিবেশগুলোর রাজধানী হিসেবে কাজ করার সুবাদে, এই স্বীকৃতি টরন্টোকে ইংরেজিভাষী কানাডার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত
-
১৯৬৫ (কিউবানদের দেশত্যাগ): কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ঘোষণা করেন যে, কোনো কিউবান নাগরিক চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে দেশান্তর হতে পারবে। এর ফলে হাজার হাজার নাগরিকের এক বিশাল দেশত্যাগের ঢল নামে, যা দক্ষিণ ফ্লোরিডার জনমিতিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।
-
১৯৯৫ (মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া): ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়েটজহ্যাক রবিন এবং পিএলও চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত ওয়াশিংটন ডিসিতে ঐতিহাসিক ‘অসলো ২ চুক্তি’ (তাবা চুক্তি) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকাকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে এবং ফিলিস্তিনি নির্বাচনের একটি রূপরেখা তৈরি করে।
বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের জন্ম ও মৃত্যু
বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জন্ম (বিশ্বজুড়ে)
বন্ধুদের আড্ডায় সবাইকে চমকে দেওয়ার মতো ২৮শে সেপ্টেম্বর সম্পর্কিত কয়েকটি চিত্তকর্ষক ও স্বল্প-পরিচিত তথ্য:
-
অনিচ্ছাকৃত জীবনরক্ষক: আলেকজান্ডার ফ্লেমিং যখন ১৯২৮ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন, সেটি ছিল সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত। এক মাসের লম্বা ছুটিতে যাওয়ার আগে তিনি তার অপরিষ্কার গবেষণাগারের এক কোণে স্ট্যাফাইলোকক্কাস কালচারের কয়েকটি পাত্র রেখে গিয়েছিলেন। খোলা জানালা দিয়ে বাতাসে ভেসে আসা একটি ছাঁচের রেণু (mold spore) সেখানে পড়ে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্ম দেয়।
-
বিজয়ীর হোঁচট খাওয়া: ঐতিহাসিক লোককথা অনুযায়ী, ১০৬৬ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর উইলিয়াম দ্য কনকারার যখন ইংল্যান্ডে জাহাজ থেকে নামছিলেন, তখন তিনি হোঁচট খেয়ে সৈকতে মুখ থুবড়ে পড়েন। তার কুসংস্কারাচ্ছন্ন সৈন্যরা যেন এই পতনকে কোনো অশুভ লক্ষণ হিসেবে না দেখে, সেজন্য তিনি সাথে সাথে মুঠি ভরে বালি আঁকড়ে ধরে লাফিয়ে ওঠেন এবং চিৎকার করে বলেন, “দেখো, আমি আমার রাজ্য দখল করে নিয়েছি!”
-
ক্ষমা প্রদর্শনের এক বিতর্কিত মিথ: একটি প্রচলিত ঐতিহাসিক কিংবদন্তি রয়েছে যে, ১৯১৮ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ট্রেঞ্চ যুদ্ধের সময়, হেনরি ট্যান্ডি নামক একজন ব্রিটিশ সৈনিক তার রাইফেলের নিশানায় একজন আহত, নিরস্ত্র জার্মান সৈন্যকে পেয়েও গুলি না করার সিদ্ধান্ত নেন। কথিত আছে, সেই ২৯ বছর বয়সী জার্মান সৈন্যটি ছিলেন স্বয়ং অ্যাডলফ হিটলার। যদিও ঐতিহাসিকরা এই নির্দিষ্ট ঘটনার সত্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক করেন, তবে এই মিথটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম হাড়হিম করা “what-if” বা “কী হতো যদি” হিসেবে রয়ে গেছে।
শেষ কথা
২৮শে সেপ্টেম্বর দিনটি যেন মানব অভিজ্ঞতার এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি—এমন একটি দিন যা সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন দেখেছে, প্রতিভাধর মস্তিষ্কগুলোর মর্মান্তিক প্রয়াণ দেখেছে, এবং দেখেছে এমন সব বৈজ্ঞানিক দুর্ঘটনা যা শেষ পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। প্রাচীন মিশরের সৈকতে পম্পেইর পতন থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে ঢাকার উত্তাল রাজপথ—ইতিহাস সর্বদা তাদের দ্বারাই লিখিত হয় যারা পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস রাখে। আজকের এই দিনে ঘটে যাওয়া বিখ্যাত জন্ম, মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বৈশ্বিক মাইলফলকগুলোর দিকে ফিরে তাকালে, আমরা আমাদের এই পৃথিবীর জটিল এবং সদা-পরিবর্তনশীল সময়রেখার প্রতি এক গভীর উপলব্ধি অর্জন করতে পারি।

