একটি লেখা প্রকাশ করার কয়েক মাস পর দেখা গেল সেটি গুগলে আছে, এক্সএমএল সাইটম্যাপেও রয়েছে, কিন্তু নিজের সাইটের ভেতর থেকে সেই লেখায় যাওয়ার কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। ক্যাটাগরি পেজে নেই, সম্পর্কিত লেখা থেকে লিংক নেই, পুরোনো কোনো লেখাতেও উল্লেখ নেই। এমন ইউআরএলই অরফান পেজ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
অরফান পেজেস এসইও অডিটে এই জায়গাটিই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পেজটি ইনডেক্স হয়েছে কি না দেখলে পুরো সমস্যাটা ধরা পড়ে না। দেখতে হবে, সাইটের অন্য ক্রলযোগ্য পেজ থেকে গুগল এবং পাঠক—দুজনেই সেখানে পৌঁছাতে পারছে কি না।
গুগল গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলোকে অন্তত অন্য একটি পেজ থেকে লিংক করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু বাস্তবে অরফান পেজ খুঁজে বের করার কাজটা একটু বেশি ঝামেলার। কারণ ক্রলার স্বাভাবিক ইন্টারনাল লিংক অনুসরণ করে এগোয়। যে ইউআরএলের দিকে সেই পথই নেই, সেটিকে ক্রলার নিজে থেকে খুঁজে নাও পেতে পারে। সেই কারণেই একটি ক্রল প্রতিবেদন যথেষ্ট নয়।
অরফান পেজ বলতে আসলে কী বোঝায়?
সহজভাবে বললে, এমন ইউআরএল যেটিতে সাইটের স্বাভাবিক ক্রল পথ থেকে পৌঁছানো যায় না। তবে এখানে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। কোনো অরফান পেজে আরেকটি অরফান পেজ থেকে লিংক থাকতে পারে। তবু যদি ওই পুরো অংশটি মূল সাইট কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, হোমপেজ থেকে ক্রল শুরু করলে ক্রলার সেখানে পৌঁছাতে পারবে না।
অরফান পেজ মানেই গুগল পেজটিকে চেনে না—এমনও নয়।
গুগল একটি ইউআরএল জানতে পারে এক্সএমএল সাইটম্যাপ থেকে, অন্য কোনো ওয়েবসাইটের বাহ্যিক লিংক থেকে, পুরোনো ক্রলের মাধ্যমে বা আগে থেকে জানা ইউআরএল হিসেবে। তাই কোনো পেজ গুগল সার্চে ইনডেক্স হয়েও আপনার সাইটের বর্তমান ইন্টারনাল লিংক কাঠামোয় বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে।
এ কারণেই সাইটম্যাপে ইউআরএল দেখে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। সাইটম্যাপ গুগলকে ইউআরএল খুঁজে পেতে সাহায্য করে, কিন্তু সেটি ইন্টারনাল লিংকিংয়ের বিকল্প নয়। সাইটম্যাপে থাকা প্রতিটি ইউআরএল ক্রল বা ইনডেক্স হবেই—এমন নিশ্চয়তাও নেই।
কেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত
অরফান পেজ নিয়ে কথা উঠলেই এসইও সামনে আসে, কিন্তু সমস্যাটা শুধু সার্চ ইঞ্জিনের নয়। ধরুন আপনার একটি ভালো কারিগরি নির্দেশিকা আছে। সার্চ থেকে সরাসরি আসা পাঠক সেটি পড়তে পারছেন, কিন্তু একই বিষয়ে অন্য একটি লেখা পড়া পাঠক আপনার সাইটের ভেতর থেকে সেই নির্দেশিকায় যেতে পারছেন না। লেখা আছে, কিন্তু সাইটে পাঠকের স্বাভাবিক চলাচলের অংশ নয়।
গুগলের ক্ষেত্রেও ইন্টারনাল লিংক একইভাবে দরকারি। ক্রলযোগ্য লিংক নতুন পেজ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। অ্যাঙ্কর টেক্সট ও লিংকের আশপাশের লেখা লক্ষ্য পেজটি কী নিয়ে, তারও কিছু ধারণা দেয়।
অরফান পেজ অডিট করতে গিয়ে আরেক ধরনের সমস্যা সামনে আসে। সব বিচ্ছিন্ন ইউআরএলই যে উদ্ধার করা দরকার, তা নয়। অনেক সময় এগুলো হয় পুরোনো প্রচারণার পেজ, শেষ হয়ে যাওয়া চাকরির বিজ্ঞপ্তি, সদৃশ কনটেন্ট, রিডাইরেক্ট করা ইউআরএল অথবা সাইটম্যাপে ভুল করে থেকে যাওয়া পুরোনো পেজ।
অতএব প্রথম কাজ লিংক দেওয়া নয়। আগে বুঝতে হবে পেজটি এখনও দরকারি কি না।
শুধু ক্রলার দিয়ে পুরো তালিকা পাওয়া যাবে না

এখানেই অনেক অডিট অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সাইট ক্রল আপনাকে দেখাবে ইন্টারনাল লিংক অনুসরণ করে কোন ইউআরএলগুলো পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অরফান ইউআরএল তো সেই পথের বাইরেই থাকতে পারে। তাই অন্য উৎস যোগ করতে হয়।
বাস্তবে কয়েকটি তালিকা পাশাপাশি রাখলে কাজটা পরিষ্কার হয়:
| তথ্যের উৎস | কী জানা যায় |
| সাইট ক্রল | ইন্টারনাল লিংক অনুসরণ করে পাওয়া ইউআরএল |
| এক্সএমএল সাইটম্যাপ | সার্চের জন্য জমা দেওয়া ইউআরএল |
| সার্চ কনসোল পেজ ইনডেক্সিং | গুগলের জানা ইউআরএলের ইনডেক্সিং অবস্থা |
| সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স | সার্চ ফলাফলে ইমপ্রেশন পাওয়া ইউআরএল |
| অ্যানালিটিক্স বা সিএমএস | অন্যভাবে ব্যবহৃত বা জানা ইউআরএল |
পেজ ইনডেক্সিং এবং পারফরম্যান্স প্রতিবেদন একই তথ্যভান্ডার নয়। অডিট করার সময় কোন ইউআরএল কোন উৎস থেকে এসেছে, সেটি আলাদা রাখা ভালো। বড় বা পুরোনো সাইটে অ্যানালিটিক্সের তথ্য বা সিএমএস থেকে নেওয়া তালিকা বেশ কাজে লাগে। কোনো অরফান পেজ সাইটম্যাপ থেকে বাদ পড়লেও আগে ভিজিটর বা সার্চ ইমপ্রেশন পেয়ে থাকতে পারে। তখন শুধু সাইটম্যাপ ও ক্রল তুলনা করলে ইউআরএলটি বাদ পড়ে যাবে।
একটি সহজ উদাহরণ ধরা যাক। সাইটম্যাপে একটি নিবন্ধের ইউআরএল আছে, কিন্তু হোমপেজ থেকে ক্রল শুরু করে সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। ইউআরএলটি তখন অরফান হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী। এরপর পরীক্ষা করতে হবে এটি সচল কি না, এইচটিটিপি স্ট্যাটাস ঠিক আছে কি না, ইনডেক্সযোগ্য কি না, ক্যানোনিক্যাল কোথায় যাচ্ছে এবং লেখাটি আদৌ রাখার মতো কি না।
গুগল সার্চ কনসোল কীভাবে কাজে লাগবে
গুগল সার্চ কনসোলে আলাদা পূর্ণাঙ্গ “অরফান পেজেস” প্রতিবেদন নেই। তাই এটিকে অরফান পেজ খোঁজার একক ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং সহায়ক তথ্যের উৎস হিসেবে দেখা ভালো।
ইনডেক্সিং > পেজেস অংশে গুগলের জানা ইনডেক্স করা ও ইনডেক্স না করা ইউআরএলের সামগ্রিক অবস্থা দেখা যায়। তবে গুগল কোনো ইউআরএল না জানলে সেটি এখানে থাকবে না। আবার প্রতিবেদনে দেখানো নমুনা ইউআরএলও পুরো সাইটের ইউআরএল তালিকা নয়।
একটি নির্দিষ্ট ইউআরএল নিয়ে সন্দেহ থাকলে ইউআরএল ইনস্পেকশন বেশি কার্যকর। পেজ ইনডেক্সিং প্রতিবেদন দেখার সময় সাইটম্যাপে থাকা কিন্তু ইনডেক্স না হওয়া ইউআরএল, সদৃশ বা ক্যানোনিক্যাল-সম্পর্কিত ইউআরএল, পুরোনো ইউআরএল এবং রিডাইরেক্ট হওয়া পেজগুলো আলাদা করে নজরে রাখা যায়।
কোনো ইউআরএল সার্চ কনসোলের তথ্যে আছে, অথচ সঠিকভাবে কনফিগার করা সাইট ক্রল সেটিকে ইন্টারনাল লিংক অনুসরণ করে খুঁজে পাচ্ছে না—সেক্ষেত্রে পেজটি আরও খতিয়ে দেখা উচিত।
সার্চ কনসোলের লিংকস প্রতিবেদনও কাজে আসে, কিন্তু এটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ইন্টারনাল লিংকের তথ্যভান্ডার নয়। একটি ইউআরএল সেখানে না থাকলেই সেটি অরফান—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
ছোট সাইটে স্ক্রিমিং ফ্রগ দিয়ে শুরু করার উপায়
স্ক্রিমিং ফ্রগ এসইও স্পাইডার ব্যবহার করে এই অডিট করা যায়। বিনামূল্যের সংস্করণে প্রতি ক্রলে সর্বোচ্চ ৫০০ ইউআরএল ক্রল করা যায়। গুগল অ্যানালিটিক্স বা গুগল সার্চ কনসোল সংযুক্ত করার মতো উন্নত সুবিধাগুলো লাইসেন্স করা সংস্করণের অংশ।
সাইট ছোট হলে একটি সাধারণ ক্রল দিয়েই শুরু করা যায়। হোমপেজ বা ডোমেইন থেকে ক্রল চালিয়ে ইন্টারনাল লিংকের মাধ্যমে পাওয়া এইচটিএমএল ইউআরএলগুলো এক্সপোর্ট করুন। এরপর এক্সএমএল সাইটম্যাপের ইউআরএল তালিকা আলাদা নিন।
এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় ইউআরএলের বিন্যাস না মেলার কারণে।
একই পেজ এক জায়গায় যদি থাকে:
https://example.com/page/
আর অন্য জায়গায় থাকে:
https://example.com/page
তাহলে স্প্রেডশিট সেটিকে আলাদা মান হিসেবে ধরতে পারে। http ও https, www ও www-বিহীন ঠিকানা, ট্র্যাকিং প্যারামিটার, ফ্র্যাগমেন্ট বা বড় ও ছোট হাতের অক্ষরের পার্থক্যও ভুল অরফান প্রার্থী তৈরি করতে পারে।
তাই আগে ইউআরএলগুলোর বিন্যাস এক করুন। তারপর সাইটম্যাপের ইউআরএল এবং ক্রলে পাওয়া ইউআরএল পাশাপাশি রেখে তুলনা করুন। ধরুন কলাম ক-তে সাইটম্যাপের ইউআরএল, কলাম খ-তে ক্রলে পাওয়া ইউআরএল। তখন COUNTIF সূত্র দিয়ে একটি প্রাথমিক তুলনা করা যায়:
=IF(COUNTIF(B:B,A2)=0,”অরফান প্রার্থী”,”পাওয়া গেছে”)
এই সূত্র কোনো ইউআরএলকে অরফান ঘোষণা করে না। এটি শুধু বলে, সাইটম্যাপের ইউআরএলটি ক্রল তালিকায় পাওয়া যায়নি। এখান থেকেই হাতে ধরে যাচাই শুরু হবে।
ইউআরএলটি ব্রাউজারে খুলুন। দেখুন ২০০ স্ট্যাটাস পাচ্ছে কি না, রিডাইরেক্ট হচ্ছে কি না, noindex আছে কি না, ক্যানোনিক্যাল অন্য ইউআরএলে যাচ্ছে কি না এবং পেজটি এখনও রাখা দরকার কি না। এই পদ্ধতির সীমাটাও মনে রাখা দরকার। সাইটম্যাপের বাইরে থাকা অরফান পেজ এভাবে ধরা পড়বে না।
বড় সাইটে একই কাজ একটু ভিন্ন
স্ক্রিমিং ফ্রগের লাইসেন্স করা সংস্করণ ব্যবহার করলে আলাদা তথ্যের উৎস একসঙ্গে নেওয়া সহজ হয়। এক্সএমএল সাইটম্যাপের পাশাপাশি গুগল অ্যানালিটিক্স ও গুগল সার্চ কনসোলের তথ্য যুক্ত করা যায়। সার্চ কনসোলের পারফরম্যান্স তথ্য থেকে পাওয়া ইউআরএল স্বাভাবিক ক্রলে না থাকলে সেটিও অরফান হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আসতে পারে।
ক্রল শেষ হওয়ার পর ক্রল অ্যানালাইসিস চালালে সাইটম্যাপ, অ্যানালিটিক্স বা সার্চ কনসোল থেকে পাওয়া অরফান ইউআরএল আলাদা করে দেখা যায়। সবগুলো মিলিয়ে প্রতিবেদন এক্সপোর্ট করার ব্যবস্থাও আছে।
ফাঁকা ক্রল গভীরতাও এখানে আরেকটি সহায়ক সংকেত। কোনো ইউআরএল যদি স্বাভাবিক ইন্টারনাল লিংক অনুসরণ করে না আসে কিন্তু অন্য উৎস থেকে ক্রলে যোগ হয়, তার ক্রল গভীরতা ফাঁকা থাকতে পারে।
তবে স্ক্রিমিং ফ্রগের ইন্টারফেস স্থির নয়। সংস্করণ বদলালে মেনুর নাম বা বিকল্পের অবস্থানও বদলাতে পারে। তাই পুরোনো স্ক্রিনশট বা নির্দেশিকার সঙ্গে ইন্টারফেস না মিললে বর্তমান ডকুমেন্টেশন দেখা ভালো।
আরও পড়ুন: Technical SEO Audit কোথা থেকে শুরু করবেন: ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড
পেজটি রাখবেন, নাকি সরাবেন?

অরফান পেজ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্তটাই আসল। ভালো এবং প্রয়োজনীয় কনটেন্ট হলে প্রাসঙ্গিক লেখা থেকে ইন্টারনাল লিংক দিন। পেজটি কোনো হাব বা ক্যাটাগরির স্বাভাবিক অংশ হলে সেখানেও যুক্ত করা যেতে পারে।
কনটেন্ট দরকারি, কিন্তু তথ্য পুরোনো? আগে হালনাগাদ করুন। শুধু লিংক দিয়ে পুরোনো কনটেন্ট সামনে আনা ঠিক হবে না।
আর যদি একই সার্চ উদ্দেশ্য নিয়ে আরও ভালো একটি পেজ ইতিমধ্যে থাকে, তাহলে দুটি পেজ পাশাপাশি রাখার প্রয়োজন আছে কি না দেখুন। প্রকৃত সদৃশ বা সমতুল্য ইউআরএল হলে ক্যানোনিক্যাল নির্ধারণ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কনটেন্ট একত্র করলে পুরোনো ইউআরএল থেকে উপযুক্ত রিডাইরেক্ট প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু ইউআরএল আবার সরিয়ে দেওয়াই ভালো। মেয়াদ শেষ, অপ্রয়োজনীয় বা আর প্রকাশযোগ্য নয়—এমন পেজ শুধু অরফান বলে নতুন করে ইন্টারনাল লিংক পাওয়ার প্রয়োজন নেই। সাইটম্যাপে থাকলে সেটিও পরিষ্কার করতে হবে। এই জায়গায় যান্ত্রিকভাবে “প্রতি অরফান পেজে দুই বা তিনটি লিংক দিন” ধরনের নিয়ম খুব একটা কাজে আসে না।
ইন্টারনাল লিংক কোথা থেকে আসবে
লক্ষ্য পেজের সঙ্গে বিষয়গত সম্পর্ক আছে—এমন পেজ থেকেই লিংক দেওয়া সবচেয়ে স্বাভাবিক। ধরা যাক অরফান নিবন্ধটি গুগল সার্চ কনসোলের পেজ ইনডেক্সিং প্রতিবেদন নিয়ে। সেটিকে হোমপেজের কোনো অপ্রাসঙ্গিক জায়গা থেকে লিংক দেওয়ার চেয়ে টেকনিক্যাল এসইও, ক্রলিং, ইনডেক্সিং বা সার্চ কনসোল-সংক্রান্ত অন্য নিবন্ধ থেকে লিংক দেওয়া অনেক বেশি অর্থপূর্ণ।
একইভাবে, উৎস পেজ নিজেও যদি সাইট কাঠামোর মধ্যে ভালোভাবে যুক্ত থাকে, লিংকটির ব্যবহারিক মূল্য বাড়ে।
গুগল কোনো নির্দিষ্ট “আদর্শ” ইন্টারনাল লিংকের সংখ্যা দেয় না। তাই সংখ্যা পূরণ করার জন্য লিংক যোগ করার দরকার নেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো লক্ষ্য পেজটি যেন অন্তত অন্য একটি ক্রলযোগ্য পেজ থেকে পাওয়া যায় এবং লিংকটি প্রসঙ্গের সঙ্গে খাপ খায়।
অ্যাঙ্কর টেক্সট নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই ভালো
“এখানে ক্লিক করুন” বা “আরও পড়ুন” ধরনের অ্যাঙ্কর লক্ষ্য পেজ সম্পর্কে খুব কম ধারণা দেয়।
যেমন, লক্ষ্য নিবন্ধ যদি হয়:
ই-কমার্স সাইটের এক্সএমএল সাইটম্যাপ ঠিক করার পদ্ধতি
তাহলে:
আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন
এর চেয়ে:
এক্সএমএল সাইটম্যাপ ঠিক করার পদ্ধতি
অনেক বেশি পরিষ্কার।
প্রসঙ্গ অনুযায়ী ই-কমার্স এক্সএমএল সাইটম্যাপ তৈরির নিয়ম-এর মতো ভিন্ন রূপও ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি জায়গায় একই হুবহু কীওয়ার্ড বসানোর দরকার নেই। অ্যাঙ্কর টেক্সট বাক্যের অংশ হিসেবেই স্বাভাবিক থাকা উচিত।
ক্লিক করা গেলেই লিংক ক্রলযোগ্য নয়
এই ভুলটি বিশেষ করে নিজস্ব নেভিগেশন বা জাভাস্ক্রিপ্টনির্ভর সাইটে দেখা যায়।
গুগল সাধারণ <a> এলিমেন্টের সঙ্গে বৈধ href অ্যাট্রিবিউট থাকা লিংক নির্ভরযোগ্যভাবে ক্রল করতে পারে। শুধু স্ক্রিপ্ট ইভেন্ট দিয়ে ক্লিকযোগ্য এলিমেন্ট বানানো হলে, কিন্তু সেখানে ক্রলযোগ্য <a href> না থাকলে, গুগল ইউআরএলটি নির্ভরযোগ্যভাবে পাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে লিংক তৈরি হলে রেন্ডার করা এইচটিএমএলে সঠিক <a href> আছে কি না পরীক্ষা করা ভালো। ইউআরএল ইনস্পেকশন দিয়েও পেজটি গুগল কীভাবে দেখছে তার ধারণা পাওয়া যায়।
লিংক দেওয়ার পর আবার পরীক্ষা করুন
ইন্টারনাল লিংক যোগ করার পর লক্ষ্য ইউআরএল আর অরফান আছে কি না, সেটি আবার ক্রল করে নিশ্চিত করুন। এর সঙ্গে কয়েকটি বিষয় একবার দেখে নেওয়া ভালো। ইউআরএল প্রত্যাশিত এইচটিটিপি স্ট্যাটাস দিচ্ছে কি না, ক্যানোনিক্যাল লক্ষ্য ঠিক আছে কি না, ভুল করে noindex দেওয়া আছে কি না এবং robots.txt ক্রল আটকে দিচ্ছে কি না।
পেজটি সাইটম্যাপে থাকা উচিত হলে সেখানেও সঠিক ইউআরএল আছে কি না দেখুন। প্রতিটি পেজে নিজের দিকেই নির্দেশ করা ক্যানোনিক্যাল থাকতেই হবে—এমন নয়। আসল বিষয় হলো ক্যানোনিক্যাল সংকেতটি আপনার নির্ধারিত ইউআরএলের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করছে কি না।
গুরুত্বপূর্ণ কোনো পেজ পরিবর্তন করলে গুগল সার্চ কনসোলের ইউআরএল ইনস্পেকশন থেকে ইনডেক্সিংয়ের অনুরোধ করা যায়। তবে অনুরোধ করার অর্থ এই নয় যে গুগল সঙ্গে সঙ্গে পেজটি ক্রল বা ইনডেক্স করবে। অনেক ইউআরএল পরিবর্তিত হলে সাইটম্যাপ ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।
যেসব ভুল অডিটকে দুর্বল করে
একটি সাধারণ ভুল হলো সার্চ কনসোলে ইউআরএল নেই দেখে সেটিকে অরফান বলা। ইউআরএলটি হয়তো গুগল এখনও জানেই না। লিংকস প্রতিবেদনে নেই—এটিও যথেষ্ট প্রমাণ নয়, কারণ প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ইন্টারনাল লিংক তালিকা নয়।
আর সাইটম্যাপ আছে মানেই ইন্টারনাল লিংকিং ঠিক আছে—এই ধারণাটিও ভুল। সাইটম্যাপ ইউআরএল খুঁজে পেতে সাহায্য করে; প্রসঙ্গভিত্তিক লিংক এবং নেভিগেশন আলাদা কাজ করে।
পুরোনো বা সদৃশ পেজকে শুধু অরফান বলে আবার লিংক দেওয়া আরেকটি সমস্যা। অডিটের উদ্দেশ্য সব ইউআরএল বাঁচানো নয়। রিডাইরেক্ট হওয়া ইউআরএলের দিকে পুরোনো ইন্টারনাল লিংক থাকলে সুযোগমতো সেটিকে চূড়ান্ত গন্তব্যের ইউআরএলে হালনাগাদ করাও ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় রিডাইরেক্ট ধাপ কমে।
কত ঘন ঘন এই অডিট করা দরকার?
এর কোনো সবার জন্য একই সময়সূচি নেই। ছোট এবং খুব কম পরিবর্তিত সাইটে প্রতি সপ্তাহে আলাদা অরফান পেজ অডিট চালানোর প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। নতুন কনটেন্ট প্রকাশের সময় ইন্টারনাল লিংক পরীক্ষা রাখাই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট।
বড় সংবাদভিত্তিক সাইট, ই-কমার্স সাইট বা বহু লেখকসম্পন্ন প্রকাশনায় পরিস্থিতি আলাদা। সেখানে নিয়মিত নতুন ইউআরএল তৈরি হয়, কনটেন্ট সরানো হয়, ক্যাটাগরি বদলায় এবং সাইট স্থানান্তর হতে পারে। ফলে সময় সময় ক্রলের ফল তুলনা করা যুক্তিযুক্ত।
সাইট স্থানান্তর, নেভিগেশন নতুন করে সাজানো, ক্যাটাগরির কাঠামো পরিবর্তন বা বড় ধরনের কনটেন্ট পরিষ্কারের পর অরফান পেজ পরীক্ষা করা বিশেষভাবে দরকারি।
শুরুতে যা করবেন
ছোট সাইট হলে কাজটা জটিল করার দরকার নেই। প্রথমে একটি সাধারণ ক্রল চালান। এক্সএমএল সাইটম্যাপের ইউআরএল তালিকার সঙ্গে সেটি তুলনা করুন। যেগুলো পাওয়া যায়নি, সেগুলো গুগল সার্চ কনসোল এবং হাতে ধরে পরীক্ষা করে যাচাই করুন।
বড় সাইট হলে শুধু সাইটম্যাপ যথেষ্ট নয়। গুগল সার্চ কনসোলের পারফরম্যান্স তথ্য, অ্যানালিটিক্স এবং প্রয়োজন হলে সিএমএসের ইউআরএল তালিকা যোগ করলে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন পেজ ধরা সম্ভব। অরফান পেজেস এসইও ঠিক করার উদ্দেশ্য যত বেশি সম্ভব ইন্টারনাল লিংক তৈরি করা নয়। দরকারি পেজ যেন সাইটের কাঠামোর বাইরে পড়ে না থাকে—এটাই মূল বিষয়।
তাই কোনো ইউআরএল পাওয়া মাত্র লিংক বসানোর আগে একটি প্রশ্ন করুন: এই পেজটি এখনও সাইটে থাকা উচিত কি? উত্তর হ্যাঁ হলে, তারপর সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক পেজ থেকে স্বাভাবিক অ্যাঙ্কর টেক্সট দিয়ে একটি ক্রলযোগ্য ইন্টারনাল লিংক দিন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
অরফান পেজ কি গুগলে ইনডেক্স হতে পারে?
হ্যাঁ। কোনো পেজ সাইটের স্বাভাবিক ইন্টারনাল লিংক কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও গুগল সেটিকে এক্সএমএল সাইটম্যাপ, বাহ্যিক লিংক বা আগের ক্রলের মাধ্যমে জানতে পারে। তাই ইনডেক্স হওয়া মানেই পেজটির ইন্টারনাল লিংকিং ঠিক আছে—এমন নয়।
এক্সএমএল সাইটম্যাপে থাকা পেজ কি অরফান হতে পারে?
হ্যাঁ। সাইটম্যাপ গুগলকে ইউআরএল খুঁজে পেতে সাহায্য করে, কিন্তু সেটি ইন্টারনাল লিংকের বিকল্প নয়। কোনো ইউআরএল সাইটম্যাপে থাকলেও সাইটের অন্য ক্রলযোগ্য পেজ থেকে সেখানে যাওয়ার পথ না থাকলে সেটি অরফান হতে পারে।
গুগল সার্চ কনসোল দিয়ে কি সব অরফান পেজ খুঁজে পাওয়া যায়?
না। গুগল সার্চ কনসোলে পূর্ণাঙ্গ অরফান পেজ প্রতিবেদন নেই। পেজ ইনডেক্সিং, পারফরম্যান্স এবং লিংকস তথ্য কাজে লাগানো যায়, তবে একটি পূর্ণ অডিটের জন্য সাইট ক্রল, সাইটম্যাপ এবং প্রয়োজনে অ্যানালিটিক্স বা সিএমএসের ইউআরএল তালিকাও মিলিয়ে দেখা উচিত।
একটি অরফান পেজে কতটি ইন্টারনাল লিংক দেওয়া উচিত?
এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন প্রাসঙ্গিক পেজ থেকে লিংক দেওয়া, যেখান থেকে পাঠকের ওই কনটেন্টে যাওয়া স্বাভাবিক। শুধু সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অপ্রাসঙ্গিক লিংক যোগ করার দরকার নেই।
অরফান পেজ পেলেই কি সেটিতে ইন্টারনাল লিংক দিতে হবে?
না। আগে দেখতে হবে পেজটি এখনও দরকারি, হালনাগাদ এবং আলাদা উদ্দেশ্য পূরণ করছে কি না। পুরোনো, সদৃশ, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অপ্রয়োজনীয় পেজ হলে লিংক দেওয়ার বদলে হালনাগাদ, একত্র করা, রিডাইরেক্ট বা সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বেশি উপযুক্ত হতে পারে।

