গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন

সর্বাধিক আলোচিত

গুগল সার্চ কনসোলের পারফরম্যান্স রিপোর্ট দেখে সবচেয়ে সহজ ভুলটি হলো একটি সংখ্যায় আটকে যাওয়া। গড় অবস্থান কমেছে, তাই র‍্যাঙ্কিং খারাপ। ইমপ্রেশন বেড়েছে, তাই এসইও ভালো চলছে। সিটিআর কমেছে, তাই শিরোনাম বদলাতে হবে। বাস্তবে কোনোটিই এত সরল নয়।

গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স বুঝতে হলে আগে দেখতে হবে পরিবর্তনটা কোথায় ঘটেছে। কোন সার্চ প্রশ্নে আপনার পেজ বেশি দেখা যাচ্ছে? সেই দৃশ্যমানতা থেকে ক্লিক আসছে কি? পরিবর্তনটি পুরো সাইটে, নাকি কয়েকটি পেজ বা ডিভাইসে সীমিত? রিপোর্টটি তখনই কাজে লাগে, যখন সংখ্যা দেখার পর আপনি পরের প্রশ্নটি করতে পারেন।

নতুন ব্লগার বা এসইও শিক্ষানবিশদের জন্য তাই চারটি পরিমাপক মুখস্থ করার চেয়ে তাদের সম্পর্ক বোঝা বেশি জরুরি।

রিপোর্ট খুলে কোথা থেকে শুরু করবেন

সার্চ কনসোলে সঠিক প্রপার্টি নির্বাচন করে পারফরম্যান্স > সার্চ রেজাল্টস-এ গেলে সাধারণত গত তিন মাসের তথ্য সামনে আসে। সার্চের ধরন হিসেবে সাধারণত ওয়েব থাকে। প্রয়োজন হলে ছবি, ভিডিও বা সংবাদ সার্চ আলাদাভাবে দেখা যায়।

প্রথমবার রিপোর্ট খুললে সব ফিল্টার নিয়ে কাজ করার দরকার নেই। ক্লিক এবং ইমপ্রেশনের রেখা আগে দেখুন। আগের সমান সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে পরিবর্তনটি আরও পরিষ্কার হয়। এরপর পেজ ও সার্চ প্রশ্নের অংশে যান।

এই ক্রমটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাইটের মোট ট্রাফিক কমেছে দেখে কোনো নির্দিষ্ট নিবন্ধ সম্পাদনা শুরু করা তাড়াহুড়া হয়ে যেতে পারে। পতনটি হয়তো কয়েকটি ইউআরএলে সীমিত। আবার কোনো পেজের ক্লিক কমলেও তার ইমপ্রেশন একই থাকতে পারে। তখন সমস্যাটি র‍্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে সিটিআর বা সার্চ প্রশ্নের ধরনের দিকে বেশি ইঙ্গিত করতে পারে।

পারফরম্যান্স রিপোর্টে ঘণ্টাভিত্তিক, দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক সময়ভাগ রয়েছে। ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য ২৪ ঘণ্টার ভিউতে পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময়ের প্রবণতা দেখতে গেলে প্রতিদিনের ওঠানামার বদলে সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিউ অনেক সময় বেশি পরিষ্কার ছবি দেয়।

ক্লিক, ইমপ্রেশন, সিটিআর এবং অবস্থান—চারটির সম্পর্কটাই আসল

ক্লিক সবচেয়ে সহজ পরিমাপক। গুগল সার্চের ফলাফল থেকে কতবার আপনার সাইটে ক্লিক এসেছে, সেটি দেখায়। ইমপ্রেশন একটু বেশি সতর্কভাবে পড়তে হয়। কোনো ফলাফল ইমপ্রেশন পেয়েছে মানে সেটি গুগল সার্চে দেখানোর জন্য গণনা হয়েছে। ইমপ্রেশন বাড়া ভালো লক্ষণ হতে পারে, কারণ সাইট আরও বেশি সার্চে দৃশ্যমান হচ্ছে। কিন্তু সেটি ট্রাফিক বাড়ার নিশ্চয়তা নয়।

সিটিআর হলো ইমপ্রেশনের মধ্যে কত শতাংশ ক্লিকে পরিণত হয়েছে। ১,০০০ ইমপ্রেশন থেকে ৫০ ক্লিক এলে সিটিআর হবে ৫ শতাংশ। এই ৫ শতাংশ সংখ্যাটি একা খুব বেশি কিছু বলে না।

একটি ব্র্যান্ড-সংশ্লিষ্ট সার্চ প্রশ্নের সিটিআর এবং একটি বিস্তৃত তথ্যভিত্তিক সার্চ প্রশ্নের সিটিআর একই হওয়ার কথা নয়। অবস্থান, সার্চের উদ্দেশ্য, ডিভাইস এবং সার্চের ফলাফলে কী ধরনের অন্য ফলাফল আছে—সবকিছুই ক্লিকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গড় অবস্থানও একই কারণে সাবধানে পড়তে হয়।

ধরা যাক, একটি পেজ আগে অল্প কয়েকটি সার্চ প্রশ্নে ভালো অবস্থানে ছিল। পরে সেটি আরও অনেক নতুন সার্চ প্রশ্নে ইমপ্রেশন পেতে শুরু করল, কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগে অবস্থান কিছুটা নিচে। গড় অবস্থান তখন খারাপ দেখাতে পারে, অথচ মোট ইমপ্রেশন এবং ক্লিক দুটোই বেড়েছে।

এমন ক্ষেত্রে “অবস্থান কমেছে” বললে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে না।

সার্চ প্রশ্নের অংশ অনেক সময় প্রধান সংখ্যাগুলোর চেয়ে বেশি কিছু বলে

সার্চ প্রশ্নের অংশ অনেক সময় প্রধান সংখ্যাগুলোর চেয়ে বেশি কিছু বলে

সার্চ কনসোলের সবচেয়ে কাজে লাগা জায়গাগুলোর একটি হলো কোয়েরিজ অংশ। এখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন, মানুষ কী লিখে সার্চ করার সময় আপনার সাইটের ফলাফল পেয়েছে। ইমপ্রেশন বেশি এমন সার্চ প্রশ্ন থেকে শুরু করা সুবিধাজনক। এরপর একই সার্চ প্রশ্নের ক্লিক, সিটিআর এবং গড় অবস্থান দেখুন।

ধরা যাক, একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্চ প্রশ্নে ইমপ্রেশন কয়েক মাস ধরে বাড়ছে, কিন্তু ক্লিক প্রায় একই। প্রথমে শিরোনাম বদলে দেওয়ার আগে গুগল সার্চে ওই প্রশ্নটি নিজে দেখে নেওয়া দরকার। ব্যবহারকারী আসলে কী ধরনের উত্তর পাচ্ছে? আপনার পেজ কি সেই প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে? নাকি একটি তথ্যভিত্তিক নিবন্ধ এমন সার্চ প্রশ্নে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারী আসলে কোনো টুল, পণ্য বা খুব নির্দিষ্ট উত্তর খুঁজছে?

এখানেই সার্চ কনসোল শুধু “কীওয়ার্ড ট্র্যাকিং” টুল থাকে না। এটি কনটেন্ট এবং সার্চের উদ্দেশ্যের মধ্যে দূরত্ব ধরতেও সাহায্য করে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। সার্চ প্রশ্নের টেবিলে আপনার সাইটের প্রতিটি সার্চ প্রশ্ন দেখা যাবে না। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কিছু বিরল সার্চ প্রশ্ন বেনামী করা হয়। ব্যবহারকারী ইন্টারফেসের টেবিলেও সর্বোচ্চ ১,০০০ সারি দেখানো হয়। তাই চার্টের মোট তথ্য এবং চোখে দেখা সার্চ প্রশ্নের সারি যোগ করে একই সংখ্যা না পেলে সেটিকে সরাসরি তথ্যগত ত্রুটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

আরও বিস্তৃত সার্চ প্রশ্নের তথ্য প্রয়োজন হলে বাল্ক ডেটা এক্সপোর্ট বিবেচনা করা যায়।

ব্র্যান্ড-সংশ্লিষ্ট ও ব্র্যান্ড-বহির্ভূত তথ্য আলাদা করলে ছবি বদলে যেতে পারে

যেসব প্রপার্টিতে সুবিধাটি পাওয়া যায়, সেখানে ব্র্যান্ড-সংশ্লিষ্ট এবং ব্র্যান্ড-বহির্ভূত সার্চ প্রশ্ন আলাদা করে দেখা যায়। এটি বেশ কাজে লাগে। কারণ ব্র্যান্ডের নাম লিখে আসা সার্চ সাধারণত এমন ব্যক্তির কাছ থেকে আসে, যিনি আগে থেকেই সাইট বা ব্র্যান্ড সম্পর্কে কিছুটা জানেন। সেই ট্রাফিককে সাধারণ সার্চ ট্রাফিকের সঙ্গে একসঙ্গে রাখলে সামগ্রিক সিটিআর বাস্তবের চেয়ে অনেক শক্তিশালী মনে হতে পারে।

তবে এই ফিল্টারকে নিখুঁত শ্রেণিবিন্যাস ধরে নেওয়া উচিত নয়। কম ইমপ্রেশন থাকা সাইটে এটি নাও পাওয়া যেতে পারে, সাব-প্রপার্টিতে পাওয়া যায় না এবং গুগলের শ্রেণিবিন্যাস সব সার্চ প্রশ্নে নির্ভুল নাও হতে পারে।

অর্থাৎ এটি বিশ্লেষণের সহায়ক, চূড়ান্ত সত্য নয়।

পেজের অংশে “কম ট্রাফিক” নয়, “অস্বাভাবিক পরিবর্তন” খুঁজুন

পেজের অংশ খুলে শুধু সবচেয়ে ভালো ফল করা নিবন্ধ দেখলে খুব বেশি কার্যকর তথ্য পাওয়া যায় না। বরং আগের সময়ের তুলনায় কোন ইউআরএলের আচরণ বদলেছে, সেটি খুঁজুন। একটি পেজের ইমপ্রেশন বাড়ছে কিন্তু ক্লিক বাড়ছে না—এটি দেখার মতো বিষয়। আবার কোনো ইউআরএলের ক্লিক কমেছে, কিন্তু ইমপ্রেশন মোটামুটি একই—সেখানেও সিটিআর বা সার্চ প্রশ্নের স্তরে পরিবর্তন খোঁজা যুক্তিযুক্ত।

পেজে ক্লিক করে ফিল্টার করার পর সার্চ প্রশ্নের অংশ খুললে বিষয়টি অনেক পরিষ্কার হয়। তখন আর পুরো সাইটের সার্চ প্রশ্ন দেখছেন না; ওই নির্দিষ্ট ইউআরএল কোন সার্চ শব্দ বা বাক্যে দৃশ্যমান হচ্ছে, সেটিই সামনে আসে।

এই জায়গায় একটি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা দরকার: কম ট্রাফিককে দুর্বল কনটেন্ট ধরে নেওয়া।

সব বিষয়ের সার্চ চাহিদা সমান নয়। খুব নির্দিষ্ট কোনো নিবন্ধ ভালোভাবে র‍্যাঙ্ক করেও স্বাভাবিকভাবে কম ট্রাফিক পেতে পারে। অন্যদিকে হাজার হাজার ইমপ্রেশন পাওয়া একটি পেজ যদি খুব কম ক্লিক আনে, সেখানে কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি হতে পারে।

কনটেন্ট হালনাগাদের অগ্রাধিকার তাই শুধু মোট ট্রাফিক দিয়ে ঠিক না করে দৃশ্যমানতা, ক্লিক এবং সার্চ প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতা একসঙ্গে দেখে ঠিক করা বেশি যুক্তিযুক্ত।

সিটিআর কম দেখলেই শিরোনাম পাল্টাবেন না

সিটিআর নিয়ে কাজ করার সময় শিরোনাম স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে। কিন্তু কম সিটিআর মানেই শিরোনাম খারাপ—এই সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত নেওয়া হয়।

প্রথমে পেজটিকে সার্চ প্রশ্ন অনুযায়ী ভাঙুন।

একই ইউআরএল হয়তো কয়েক ডজন আলাদা সার্চের জন্য দেখা যাচ্ছে। কিছু সার্চ প্রশ্নে সিটিআর ভালো, কিছুতে খারাপ। পেজের সামগ্রিক গড় সেই পার্থক্য আড়াল করে ফেলতে পারে।

শিরোনামে সমস্যা আছে কি না দেখুন, তবে তার সঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে নিন। ব্যবহারকারী যে উত্তর চাইছে সেটি পেজ দিচ্ছে কি না, সার্চ ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেজটিকে ঠিকভাবে বোঝাচ্ছে কি না, মোবাইল ও ডেস্কটপে আচরণ আলাদা কি না এবং ব্র্যান্ড-সংশ্লিষ্ট সার্চ সামগ্রিক সিটিআর বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না—এসবও গুরুত্বপূর্ণ।

সার্চের ফলাফল নিজে না দেখে শুধু সার্চ কনসোলের একটি সিটিআর সংখ্যা থেকে কনটেন্ট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া তাই যথেষ্ট নয়।

গড় অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি হয়

গড় অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি হয়

সার্চ কনসোলের গড় অবস্থানকে অনেকেই একটি স্থির গুগল র‍্যাঙ্ক হিসেবে পড়েন। এখান থেকেই বিভ্রান্তির শুরু। গুগল একটি ইমপ্রেশনের ক্ষেত্রে আপনার প্রপার্টি বা পেজের সবচেয়ে ওপরের ফলাফলের অবস্থান বিবেচনা করে। পরে সেই তথ্য থেকে গড় তৈরি হয়।

একই সার্চ প্রশ্ন দুইজন মানুষের কাছে একই ফলাফলের ক্রমে দেখাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অবস্থান, ডিভাইস, সময় এবং সার্চের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ফলাফল বদলাতে পারে। ফলে সার্চ কনসোলে গড় অবস্থান ৫ মানে এই নয় যে আপনি “গুগলে পাঁচ নম্বরে আছেন”।

এই পরিমাপক সবচেয়ে ভালো কাজে লাগে প্রবণতা বোঝার জন্য।

দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান, ইমপ্রেশন এবং ক্লিক তিনটিই খারাপের দিকে গেলে সেটি তদন্ত করার কারণ আছে। কিন্তু অবস্থান সামান্য কমেছে, আর একই সময়ে ইমপ্রেশন ও ক্লিক বেড়েছে—সেখানে শুধু অবস্থান দেখে কনটেন্ট পরিবর্তন করা উল্টো ক্ষতি করতে পারে।

ফিল্টার ব্যবহার করুন প্রশ্ন ছোট করার জন্য

পারফরম্যান্স রিপোর্টে অনেক ফিল্টার আছে। সবগুলো ব্যবহার করাই লক্ষ্য নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্যের পরিধি ছোট করাই আসল কাজ। ধরা যাক, সাইটের ক্লিক কমেছে। প্রথমে ডিভাইস অনুযায়ী দেখলেন পতনটি শুধু মোবাইলে। এরপর পেজের অংশে গিয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট ইউআরএল বের হলো। ওই ইউআরএল ফিল্টার করে সার্চ প্রশ্ন দেখলেন একই ধরনের সার্চ শব্দে সমস্যাটি বেশি। এখন তদন্তের জায়গাটি অনেক ছোট।

দেশভিত্তিক ফিল্টারও একইভাবে কাজে লাগে। তবে এখানে “দেশ” ব্যবহারকারীর জাতীয়তা বোঝায় না। সার্চ কোন দেশ থেকে হয়েছে, সেই অনুযায়ী তথ্য ভাগ করা হয়।

সার্চ প্রশ্ন এবং পেজ ফিল্টার দিয়ে নির্দিষ্ট শব্দ বা ইউআরএল আলাদা করা যায়। আরও জটিল ধরন খুঁজতে কাস্টম রেগুলার এক্সপ্রেশন ব্যবহার করা যায়, যা আরই২ সিনট্যাক্স অনুসরণ করে। একাধিক শব্দ ধরতে | অপারেটরও ব্যবহার করা যায়।

রেগুলার এক্সপ্রেশন নতুন ব্যবহারকারীর প্রথম কাজ হওয়া উচিত নয়। সাধারণ ফিল্টার দিয়েই যদি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়, সেটাই সহজ পথ। অনেক সম্পর্কিত সার্চ প্রশ্ন বা ইউআরএল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হলে এটি বেশি কাজে লাগে।

সার্চ কনসোল আর গুগল অ্যানালিটিক্সের সংখ্যা এক না হলেও সমস্যা নাও থাকতে পারে

সার্চ কনসোলের ক্লিক এবং গুগল অ্যানালিটিক্সের অর্গানিক ট্রাফিক পাশাপাশি রাখলে পার্থক্য দেখা খুবই স্বাভাবিক।

দুটি প্ল্যাটফর্ম একই জিনিস মাপে না।

সার্চ কনসোল গুগল সার্চের ফলাফলে ইমপ্রেশন এবং ক্লিক নিয়ে কাজ করে। গুগল অ্যানালিটিক্স সাইটে আসার পরের কার্যক্রম জাভাস্ক্রিপ্টভিত্তিক পরিমাপের মাধ্যমে ধরে। গোপনীয়তা রক্ষার প্রক্রিয়া, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রতিবেদন তৈরির বিলম্ব এবং সময় অঞ্চলের কারণেও সংখ্যায় পার্থক্য আসতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে তথ্য বিশ্লেষণের সময় সময় অঞ্চলের বিষয়টি বিশেষভাবে চোখে রাখা দরকার। ২৪ ঘণ্টার ভিউ ছাড়া সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্টের তারিখ প্যাসিফিক সময় অনুযায়ী ভাগ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার ভিউ ব্রাউজারের স্থানীয় সময় অঞ্চল ব্যবহার করে।

গুগল অ্যানালিটিক্স অ্যাকাউন্ট অন্য সময় অঞ্চলে সেট করা থাকলে একই “দিন” দুই প্ল্যাটফর্মে ঠিক একই সময়সীমা নাও বোঝাতে পারে। আর একেবারে সাম্প্রতিক তথ্য দেখলে ২৪ ঘণ্টার ভিউয়ের তথ্য প্রাথমিক হতে পারে। পরে সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই সদ্য প্রকাশিত নিবন্ধ বা হঠাৎ ট্রাফিক পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খুব নতুন তথ্যকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

আরও পড়ুন: ইনডেক্স ব্লোট কমাতে ট্যাগ, সার্চ ও আর্কাইভ পেজ অডিট

তথ্য দেখে কোন কাজটি আগে করবেন

সার্চ কনসোল সবচেয়ে বেশি মূল্য দেয় তখন, যখন এটি আপনার কাজের অগ্রাধিকার বদলে দেয়। ধরা যাক, একটি পেজের ইমপ্রেশন এবং ক্লিক দুটোই বাড়ছে। সেখানে শুধু “আরও অপ্টিমাইজ করতে হবে” ভেবে বড় পরিবর্তন করার কারণ নাও থাকতে পারে। বরং প্রবণতা আরও কিছুদিন দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে ইমপ্রেশন দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু ক্লিক প্রায় স্থির। এবার সার্চ প্রশ্নের অংশে গিয়ে দেখতে হবে নতুন দৃশ্যমানতা কোথা থেকে এসেছে। প্রাসঙ্গিক সার্চ প্রশ্ন হলে সিটিআর এবং সার্চ ফলাফলে উপস্থাপন কেমন, সেটি দেখুন। অপ্রাসঙ্গিক সার্চ প্রশ্ন হলে শিরোনাম পাল্টানোর চেয়ে কনটেন্ট ও সার্চ প্রশ্নের সামঞ্জস্য বোঝা বেশি জরুরি।

ইমপ্রেশন প্রায় একই, কিন্তু ক্লিক কমে গেলে সিটিআর, ডিভাইস এবং সার্চ প্রশ্নভিত্তিক বিশ্লেষণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর ক্লিক ও ইমপ্রেশন দুটোই কমলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত: এটি পুরো সাইটের সমস্যা, নাকি কয়েকটি পেজের?

এই পার্থক্য না করে সরাসরি কনটেন্ট নতুন করে লেখা, শিরোনাম পরিবর্তন বা প্রযুক্তিগত সংশোধন শুরু করলে এসইও কাজ সহজেই অনুমানের ওপর চলে যায়। পারফরম্যান্স রিপোর্ট এখানে কোনো চূড়ান্ত রোগনির্ণয় দেয় না। এটি আপনাকে বলে কোথায় পরিবর্তন হয়েছে। কারণ বের করার কাজটি এখনও আপনার।

নিয়মিত দেখবেন, কিন্তু প্রতিটি ওঠানামায় প্রতিক্রিয়া দেবেন না

পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রতিদিন খোলা যায় বলে প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। একই ধরনের সময়সীমা ধরে আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রবণতা বোঝা সহজ হয়। প্রথমে মোট ক্লিক ও ইমপ্রেশন দেখুন। এরপর যেসব পেজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আছে, সেগুলো আলাদা করুন। সেখান থেকে সার্চ প্রশ্ন, ডিভাইস বা দেশের তথ্য দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ পেজে কী পরিবর্তন করেছেন, তারিখসহ ছোট একটি নথি রাখলে পরে সার্চ কনসোলের তথ্য ব্যাখ্যা করা অনেক সহজ হয়। একটি শিরোনাম কখন বদলেছেন বা বড় কনটেন্ট হালনাগাদ কবে হয়েছে—কয়েক মাস পর এগুলো মনে রাখা কঠিন।

তারিখভিত্তিক তুলনায়ও একই ধরনের সময়সীমা নিন। পূর্ণ সাত দিনের সঙ্গে তিন দিন, অথবা মৌসুমি সর্বোচ্চ সময়ের সঙ্গে সাধারণ সপ্তাহ তুলনা করলে শতাংশের পরিবর্তন বড় দেখাতে পারে, কিন্তু সেই তুলনা খুব বেশি কাজে নাও লাগতে পারে।

শেষ পর্যন্ত যে প্রশ্নটি কাজে লাগে

গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট পড়ার সময় “আমার র‍্যাঙ্কিং কত?” দিয়ে শুরু করলে অনেক তথ্য চোখ এড়িয়ে যায়।

এর চেয়ে ভালো প্রশ্ন হলো: আমার কোন পেজ কোন সার্চ প্রশ্নে দেখা যাচ্ছে, সেই দৃশ্যমানতা থেকে ক্লিক আসছে কি, এবং আগের সময়ের তুলনায় কী বদলেছে?

এই তিনটি বিষয় পরিষ্কার হলে পরের কাজটিও পরিষ্কার হতে শুরু করে। কোথাও শিরোনাম বা সার্চ ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পরীক্ষা করতে হবে, কোথাও সার্চের উদ্দেশ্যের সঙ্গে কনটেন্ট মিলিয়ে দেখতে হবে, কোথাও প্রযুক্তিগত সমস্যা খুঁজতে হবে, আবার কোনো পেজ হয়তো একেবারেই না ছোঁয়াই ভালো।

সার্চ কনসোলের প্রতিটি ওঠানামার ব্যাখ্যা রিপোর্টের ভেতরে পাওয়া যাবে না। কিন্তু সমস্যার পরিধি ছোট করতে এটি যথেষ্ট কার্যকর। নতুন ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত অভ্যাস হলো—একটি পরিমাপক দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে পেজ ও সার্চ প্রশ্নের স্তরে গিয়ে ঘটনাটি বোঝা।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

গুগল সার্চ কনসোলের পারফরম্যান্স রিপোর্ট কত ঘন ঘন দেখা উচিত?

প্রতিদিন রিপোর্ট খোলা সম্ভব হলেও প্রতিদিন ছোটখাটো পরিবর্তনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন নেই। সাপ্তাহিক বা নির্দিষ্ট সময় পরপর একই ধরনের সময়সীমা তুলনা করলে প্রবণতা বেশি পরিষ্কার বোঝা যায়। বড় কোনো পরিবর্তন, নতুন কনটেন্ট প্রকাশ বা ট্রাফিক কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অবশ্য আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।

ইমপ্রেশন বাড়ছে কিন্তু ক্লিক বাড়ছে না কেন?

এর একাধিক কারণ থাকতে পারে। আপনার পেজ হয়তো নতুন কিছু সার্চ প্রশ্নে দেখা শুরু করেছে, কিন্তু সেগুলোতে অবস্থান নিচের দিকে। আবার শিরোনাম বা সার্চ ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে যথেষ্ট উৎসাহিত নাও করতে পারে। কোন কারণটি প্রযোজ্য, সেটি বুঝতে সার্চ প্রশ্ন, সিটিআর এবং গড় অবস্থান একসঙ্গে দেখা দরকার।

গড় অবস্থান কমে গেলে কি এসইও খারাপ হচ্ছে?

অবশ্যই নয়। একটি পেজ নতুন অনেক সার্চ প্রশ্নে দেখা শুরু করলে সেগুলোর তুলনামূলক নিচের অবস্থান সামগ্রিক গড়কে কমিয়ে দিতে পারে। একই সময়ে ইমপ্রেশন ও ক্লিক বাড়লেও এমন হতে পারে। তাই গড় অবস্থান একা না দেখে ক্লিক, ইমপ্রেশন ও সার্চ প্রশ্নের পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

সার্চ কনসোল ও গুগল অ্যানালিটিক্সের ট্রাফিক সংখ্যা কেন এক হয় না?

দুটি প্ল্যাটফর্ম একই জিনিস একইভাবে মাপে না। সার্চ কনসোল গুগল সার্চের ফলাফলে ইমপ্রেশন ও ক্লিকের তথ্য দেয়, আর গুগল অ্যানালিটিক্স সাইটে প্রবেশের পর ব্যবহারকারীর কার্যক্রম পরিমাপ করে। সময় অঞ্চল, তথ্য প্রক্রিয়াকরণের বিলম্ব এবং পরিমাপের পদ্ধতির পার্থক্যের কারণেও সংখ্যা আলাদা হতে পারে।

সার্চ কনসোলে সব সার্চ প্রশ্ন দেখা যায় কি?

না। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কিছু বিরল সার্চ প্রশ্ন বেনামী করা হয় এবং সেগুলো আলাদাভাবে টেবিলে দেখা যায় না। পাশাপাশি ব্যবহারকারী ইন্টারফেসের টেবিলে সর্বোচ্চ ১,০০০ সারি দেখা যায়। তাই চার্টে দেখানো মোট তথ্য এবং দৃশ্যমান সার্চ প্রশ্নের যোগফল সব সময় মিলবে না।

সর্বশেষ