ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার নামটি শুনে কাজটা আন্দাজ করা সহজ নয়। কেউ ভাবেন এটি মূলত অনলাইন কোর্স বানানোর চাকরি, কেউ আবার ই-লার্নিং সফটওয়্যার চালানোর কাজ হিসেবেই দেখেন।
দুটোর মধ্যেই কিছু সত্য আছে, কিন্তু পুরোটা নয়।
একজন ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনারের আসল কাজ হলো শেখানোর আগে শেখার সমস্যাটি বোঝা। মানুষ কী জানে না, কোথায় ভুল করছে, কাজ শেষ করতে কী তথ্য দরকার—এসব পরিষ্কার না হলে ভালো ভিডিও বা সুন্দর স্লাইড বানিয়েও খুব লাভ নেই।
এই জায়গাটাই ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার ক্যারিয়ারকে সাধারণ কনটেন্ট তৈরির কাজ থেকে আলাদা করে।
কাজটা শুরু হয় কোর্স বানানোর আগেই
ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বারবার ভুল করছেন।
প্রথম প্রতিক্রিয়া হতে পারে, “এটা নিয়ে একটা প্রশিক্ষণ কোর্স বানানো দরকার।”
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনারের কাজ হলো এখানেই একটু থামা। কর্মীরা কি প্রক্রিয়াটি জানেন না? নাকি জানেন, কিন্তু কাজের সময় ছয়টি ধাপ মনে রাখা কঠিন? দ্বিতীয়টি সত্য হলে ৪৫ মিনিটের কোর্সের চেয়ে ডেস্কের পাশে রাখা একটি যাচাইতালিকা হয়তো বেশি কাজে দেবে।
এই পার্থক্যটাই গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট বা এটিডি ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনকে শেখার অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ, নকশা, তৈরি, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করে। বাস্তব কাজে তার মানে দাঁড়ায়—আগে সমস্যা বুঝুন, তারপর সমাধানের ধরন ঠিক করুন।
কখনো সেই সমাধান কোর্স হবে। কখনো ভিডিও, কুইজ, অনুকরণভিত্তিক অনুশীলন, কাজের সহায়ক নির্দেশিকা বা প্রশিক্ষক নির্দেশিকা। আবার কখনো নতুন প্রশিক্ষণ বানানোর প্রয়োজনই নাও থাকতে পারে।
এডিআইই জানা দরকার, কিন্তু মুখস্থ করার জন্য নয়
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইন শেখা শুরু করলে এডিআইই খুব দ্রুত সামনে আসবে। বিশ্লেষণ, নকশা, উন্নয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন—এই পাঁচটি ধাপ নিয়ে মডেলটি তৈরি। বইয়ে দেখলে মনে হতে পারে, একটি ধাপ শেষ করে পরেরটিতে যেতে হয়। বাস্তবে কাজটি অনেক বেশি এলোমেলো।
কোর্স বানাতে গিয়ে বোঝা গেল শেখার উদ্দেশ্য খুব বিস্তৃত। তখন আবার নকশার ধাপে ফিরতে হবে। কুইজ লিখে দেখা গেল বিষয়বস্তু আর মূল্যায়ন একে অপরের সঙ্গে মিলছে না। সেটাও ঠিক করতে হবে।
তাই এডিআইইকে পাঁচটি বাক্স হিসেবে না দেখে পাঁচ ধরনের প্রশ্ন হিসেবে ভাবলে বেশি কাজে লাগে:
কাদের জন্য বানাচ্ছেন?
কী শেখাতে চান?
কীভাবে শেখাবেন?
কীভাবে পৌঁছাবেন?
শেষে কীভাবে বুঝবেন কাজ হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পরিষ্কার থাকলে মডেলটির নাম মনে না থাকলেও নকশা অনেকটা সঠিক পথে থাকে।
সফটওয়্যার জানলেই ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার হওয়া যায় না

এই পেশায় ঢুকতে চাইলে নতুনদের মধ্যে সফটওয়্যার নিয়ে অস্বাভাবিক রকম দুশ্চিন্তা দেখা যায়। স্টোরিলাইন শিখব, নাকি ক্যাপটিভেট? রাইজ লাগবে? মুডল জানা দরকার? এইচটিএমএল শিখতে হবে? এসব প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক নয়। কিন্তু এগুলো একটু পরে আসা উচিত।
একজন মানুষ স্টোরিলাইনের ট্রিগার, স্তর আর অ্যানিমেশন ভালো জানতেই পারেন। তাতে তিনি ভালো ই-লার্নিং ডেভেলপার হতে পারেন। কিন্তু শিক্ষার্থী কী শিখবে বা মূল্যায়ন কী মাপবে সেটি যদি পরিষ্কার না থাকে, তাহলে সেই প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভালো ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইন নিশ্চিত করে না।
শুরুতে বরং তিনটি বিষয় শক্ত করুন:
- শেখার সমস্যাটি ধরতে পারা;
- মাপা যায় এমন শেখার উদ্দেশ্য লেখা;
- উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন মিলিয়ে নেওয়া।
এরপর টুল শেখা অনেক বেশি অর্থবহ হবে।
একটি ভালো শেখার উদ্দেশ্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
“এই মডিউল শেষে শিক্ষার্থী ফিশিং সম্পর্কে বুঝবে।” বাক্যটি দেখতে স্বাভাবিক। সমস্যা হলো, “বুঝবে” কীভাবে মাপবেন? তার বদলে যদি লেখা হয়, “পাঁচটি ই-মেইলের মধ্যে সম্ভাব্য ফিশিং বার্তা শনাক্ত করতে পারবে”, তাহলে নকশার অনেক সিদ্ধান্ত সহজ হয়ে যায়।
এখন জানা যাচ্ছে কোর্সে কী ধরনের উদাহরণ দরকার। অনুশীলন কেমন হবে, সেটাও বোঝা যাচ্ছে। শেষে মূল্যায়নে কী করতে দিতে হবে তাও প্রায় পরিষ্কার।
এটিডি পরিমাপযোগ্য শেখার উদ্দেশ্যকে ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনের মৌলিক দক্ষতার অংশ হিসেবে রাখে। কাজের ক্ষেত্রেও এর মূল্য এখানেই। উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হলে কোর্স খুব সহজেই তথ্যের গুদামে পরিণত হয়।
বিষয়বিশেষজ্ঞ সব জানেন, কিন্তু সবকিছু কোর্সে ঢুকবে না
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার প্রায়ই এমন কারও সঙ্গে কাজ করেন যিনি বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বেশি জানেন। এটাই স্বাভাবিক। সমস্যা হয় যখন বিশেষজ্ঞের দেওয়া প্রতিটি তথ্য কোর্সে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়।
একজন নতুন কর্মীর জন্য যে তথ্য দরকার, পাঁচ বছরের অভিজ্ঞ কর্মীর জন্য সেটি খুবই সাধারণ হতে পারে। আবার বিশেষজ্ঞের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি পটভূমিগত তথ্য শিক্ষার্থীর কাজের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নাও রাখতে পারে।
এই জায়গায় ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার কিছুটা সম্পাদক।
কী রাখবেন, কী বাদ দেবেন, কোন তথ্য এখন দরকার আর কোনটি তথ্যসূত্র হিসেবে দেওয়া যায়—এসব সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ কারণেই লেখার পাশাপাশি মনোযোগ দিয়ে শোনা, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং পরিষ্কার যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ও*নেটের সংশ্লিষ্ট পেশাগত প্রোফাইলেও এসব দক্ষতার উল্লেখ আছে।
এলএমএস শিখুন, কিন্তু প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহ করবেন না
ক্যানভাস, মুডল বা অন্য কোনো লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এলএমএস নিয়ে কাজ জানা সুবিধাজনক। কোর্স কীভাবে সাজানো হয়, মডিউল কোথায় থাকে, কুইজ কীভাবে দেওয়া হয়, শিক্ষার্থীর কার্যক্রম কোথায় দেখা যায়—এসব বোঝা দরকার।
কিন্তু একসঙ্গে তিন-চারটি এলএমএস শেখার বিশেষ কারণ নেই। একটি প্ল্যাটফর্মে ভালোভাবে কাজ করুন। অন্যটিতে গেলে মেনু আলাদা হবে, কিন্তু কোর্স কাঠামোর মূল ধারণা পুরো বদলে যাবে না।
কোর্স তৈরির সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আর্টিকুলেট ৩৬০-এর রাইজ ৩৬০ ও স্টোরিলাইন ৩৬০ পরিচিত নাম। অ্যাডোবি ক্যাপটিভেটও ইন্টার্যাকটিভ ই-লার্নিং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
রাইজ তুলনামূলক দ্রুত বিভিন্ন পর্দায় মানিয়ে নেওয়া কোর্স তৈরির জন্য সুবিধাজনক। স্টোরিলাইন বেশি কাস্টম ইন্টার্যাকশন তৈরির সুযোগ দেয়। কোনটি শিখবেন, তার উত্তর ইউটিউবের জনপ্রিয়তার তালিকা থেকে না নিয়ে চাকরির বিজ্ঞাপন থেকে নেওয়াই ভালো।
আপনি যে ধরনের চাকরিতে আবেদন করতে চান, সেখানে কোন টুল চাওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নটির উত্তর সাবস্ক্রিপশন কেনার আগে পাওয়া উচিত।
কোডিং নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার দরকার নেই

ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার হওয়ার আগে প্রোগ্রামিং কোর্স শেষ করতে হবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। এইচটিএমএল ও সিএসএস জানলে ওয়েবভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ে কাজের সময় সুবিধা হয়। জাভাস্ক্রিপ্ট জানলে আরও কাস্টম ইন্টার্যাকশন তৈরি করা যায়। ও*নেটের সফটওয়্যার-দক্ষতার তালিকায় এগুলোর উল্লেখও আছে।
কিন্তু কোডিং এখানে বাড়তি সক্ষমতা, সব পদের মূল শর্ত নয়।
যদি কোনো চাকরিতে প্রযুক্তিনির্ভর ই-লার্নিং তৈরির কাজ বেশি থাকে, তখন কোডিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আর যদি কাজের বড় অংশ পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন বা কোর্স নকশা হয়, অন্য দক্ষতাগুলো আগে আসবে।
চাকরির পদবি দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দায়িত্বের অংশ পড়ার আরেকটি কারণ এটি।
ডিগ্রি নিয়ে যে ভুলটি সহজেই হয়
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস “ইনস্ট্রাকশনাল কো-অর্ডিনেটরস” নামে স্কুলকেন্দ্রিক একটি পেশা আলাদাভাবে অনুসরণ করে। সেখানে সাধারণত মাস্টার্স ডিগ্রি এবং শিক্ষকতা বা স্কুল প্রশাসনের অভিজ্ঞতার কথা বলা আছে। কিছু সরকারি স্কুলের পদে লাইসেন্সও প্রয়োজন হতে পারে।
এই তথ্য দেখে “ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার হতে মাস্টার্স লাগবেই” বলা ঠিক নয়। করপোরেট প্রশিক্ষণ, বেসরকারি এডটেক এবং ডিজিটাল লার্নিং দলের চাকরিগুলো একই ধরনের পদ নয়। বাংলাদেশ বা ভারতেও যোগ্যতা প্রতিষ্ঠানভেদে বদলাবে। কোথাও শিক্ষা-সংক্রান্ত পটভূমি কাজে লাগবে, কোথাও প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা, কোথাও আবার পোর্টফোলিও ও কোর্স তৈরির টুলের দক্ষতা বেশি গুরুত্ব পাবে।
তাই নতুন ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটে টাকা দেওয়ার আগে আপনার লক্ষ্য করা অন্তত ১০–১৫টি চাকরির বিবরণ খুলে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত।
একটি ছোট তালিকা বানান।
কোন দক্ষতা বারবার এসেছে?
কোন সফটওয়্যার চাওয়া হচ্ছে?
অভিজ্ঞতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
পোর্টফোলিও চাওয়া হচ্ছে কি?
এরপর শেখার সিদ্ধান্ত নিলে অপ্রয়োজনীয় কোর্স কেনার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
পোর্টফোলিওতে সুন্দর পর্দার চেয়ে চিন্তার যুক্তি বেশি মূল্যবান
প্রথম চাকরির আগে গ্রাহকের জন্য করা প্রকল্প না থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। অনুশীলনের প্রকল্প বানানো যায়। তবে সেটিকে বাস্তব গ্রাহকের কাজ হিসেবে দেখানো উচিত নয়। ধরুন, নতুন কর্মীদের জন্য তথ্যনিরাপত্তা-বিষয়ক পরিচিতিমূলক মডিউল তৈরি করলেন। পোর্টফোলিওতে চূড়ান্ত পর্দা রাখলেন। ভালো।
কিন্তু সেখানেই শেষ করলে দর্শক শুধু দেখবেন আপনি সফটওয়্যার চালাতে পারেন।
আরও কাজে লাগবে যদি সঙ্গে দেখান:
কারা শিক্ষার্থী ছিল, উদ্দেশ্য কী ছিল, কোন তথ্য বাদ দিয়েছিলেন এবং মূল্যায়ন কেন ওইভাবে তৈরি করেছিলেন। একটি পরিস্থিতিভিত্তিক শেখার প্রকল্পও ভালো নমুনা হতে পারে। গ্রাহকের অভিযোগ নিয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্তের জায়গা তৈরি করুন। শুধু “সঠিক” বা “ভুল” না লিখে প্রতিক্রিয়া দিন—এই সিদ্ধান্ত নিলে কী হতে পারে।
আরেকটি উপায় হলো একটি অতিরিক্ত দীর্ঘ উপস্থাপনাকে ছোট শেখার মডিউলে রূপান্তর করা। এখানে আগে-পরে কেমন দেখাচ্ছে তার চেয়ে “কেন বদলালেন” অংশটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: কোন Career আপনার জন্য মানানসই: আগ্রহ, দক্ষতা ও জীবনযাপন মিলিয়ে দেখুন
তিন মাসের পরিকল্পনা বানানো যায়, কিন্তু তিন মাসে পেশাটি শেষ হয়ে যায় না
নতুন কিছু শেখার সময় “১২ সপ্তাহের পরিকল্পনা” দেখতে ভালো লাগে। সমস্যা হলো, এমন পরিকল্পনা অনেক সময় ধারণা দেয় যেন নির্দিষ্ট সময় শেষ হলেই আপনি চাকরির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
বাস্তবে বিষয়টি এত পরিষ্কার নয়।
তবু শুরুর দিকের তিন মাসকে কাজে লাগানোর একটি সহজ উপায় আছে।
প্রথমে প্রয়োজন বিশ্লেষণ, শেখার উদ্দেশ্য ও মূল্যায়ন বুঝুন। ছোট কোর্সের কাঠামো লিখুন।
তারপর একটি এলএমএস ও একটি কোর্স তৈরির টুল বেছে নিয়ে হাতে-কলমে কিছু তৈরি করুন।
এরপর দুই-তিনটি পোর্টফোলিও নমুনা বানিয়ে বাস্তব চাকরির বিবরণের সঙ্গে নিজের দক্ষতা মিলিয়ে দেখুন।
এখানে সময়ের চেয়ে কাজের ফল গুরুত্বপূর্ণ। চার সপ্তাহে একটি ভালো প্রকল্প তৈরি হলে সেটি আট সপ্তাহে দশটি টিউটোরিয়াল শেষ করার চেয়ে বেশি কাজে লাগতে পারে।
শুধু এডটেক লিখে চাকরি খুঁজলে কিছু সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনের সঙ্গে এডটেকের সম্পর্ক আছে, কিন্তু কাজটি এডটেকেই আটকে নেই। করপোরেট শিক্ষা ও উন্নয়ন, কর্মী প্রশিক্ষণ, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার অনলাইন শেখার দলেও একই ধরনের দক্ষতা দরকার হতে পারে।
চাকরির পদবিও বদলে যেতে পারে।
ও*নেটের প্রোফাইলে ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনারের পাশাপাশি ইনস্ট্রাকশনাল টেকনোলজিস্ট ও লার্নিং ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্টের মতো নাম দেখা যায়।
তাই অনুসন্ধানের ঘরে একটি পদবি লিখে থেমে না থেকে কাজের বর্ণনা পড়ুন।
কোনো প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার নিজেই কোর্স বানাবেন। অন্য প্রতিষ্ঠানে আপনার কাজ নকশা পর্যন্ত; তৈরির কাজ করবেন আলাদা ব্যক্তি।
এই পার্থক্য চাকরিতে ঢোকার পর নয়, আবেদন করার আগেই বোঝা ভালো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসেছে, তাই টুল শেখা সহজ; বিচার করার কাজ সহজ হয়নি
আর্টিকুলেট ও অ্যাডোবির ই-লার্নিং টুলে এখন উৎপাদক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নানা সুবিধা আছে। খসড়া লেখা, ছবি তৈরি, অডিও বা কুইজ তৈরির কাজের কিছু অংশ দ্রুত করা যায়।
এখানে প্রলোভনটা পরিষ্কার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পাঁচ মিনিটে পাঁচটি কুইজের প্রশ্ন লিখে দিল। কাজ শেষ?
না।
প্রশ্নগুলো শেখার উদ্দেশ্য মাপছে কি না, ভুল উত্তরের বিকল্পগুলো খুব সহজ কি না, তৈরি করা তথ্য ঠিক আছে কি না—এসব এখনও পরীক্ষা করতে হবে।
কোর্সের কাঠামোর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো সুন্দর কাঠামো দেবে। কিন্তু সমস্যাটি যদি প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাধান করার মতোই না হয়, তাহলে সুন্দর কাঠামোর কোনো মূল্য নেই।
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনে তাই টুল দ্রুত বদলাচ্ছে, কিন্তু বিচার করার দক্ষতা এখনও কেন্দ্রে রয়েছে।
ব্যবহারযোগ্যতা ও প্রবেশগম্যতা শেষে যোগ করার বিষয় নয়
কোর্স প্রায় শেষ, এখন ক্যাপশন বসাই—এই পদ্ধতিতে প্রবেশগম্যতা দেখলে পরে অনেক কিছু আবার করতে হতে পারে।
ডব্লিউ৩সি-এর ওয়েব কনটেন্ট অ্যাক্সেসিবিলিটি গাইডলাইনে অ-লিখিত কনটেন্টের জন্য বিকল্প লেখা, মাল্টিমিডিয়ার ক্যাপশন, কিবোর্ড দিয়ে ব্যবহার এবং সহজে পড়া যায় এমন কনটেন্টের মতো বিষয় রয়েছে।
সব নির্দেশনা একদিনে মুখস্থ করতে হবে না। কিন্তু কোর্স নকশার শুরু থেকেই ভাবা দরকার—মাউস ছাড়া ব্যবহার করা যাবে কি না, ভিডিওতে ক্যাপশন লাগবে কি না, পর্দার লেখা পড়তে অসুবিধা হচ্ছে কি না।
এগুলো সাজসজ্জা নয়। শেখার উপকরণ ব্যবহার করতে পারার অংশ।
পেশাটি আপনার সঙ্গে মানাবে কি না, সেটি টুল দেখে বোঝা যাবে না
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনে অনেক সময় কাটে প্রশ্ন করতে, লেখা কাটতে, মতামত নিতে এবং আবার নকশা বদলাতে। একটি বিষয় খুব ভালো লাগলেও শেখার উদ্দেশ্যের কাজে না এলে সেটি বাদ দিতে হতে পারে।
বিষয়বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মত মিলবে না সব সময়। কোনো অংশীজন কোর্স চাইবেন, আপনি হয়তো দেখবেন সমস্যার সমাধান অন্যভাবে করা যায়। এই ধরনের কাজ যদি আকর্ষণীয় লাগে, তাহলে পেশাটি আরও গভীরভাবে দেখা যেতে পারে।
কিন্তু যদি আপনার আসল আগ্রহ দৃশ্যমান নকশায় হয়, গ্রাফিক ডিজাইন বা মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন হয়তো বেশি মানাবে। ইন্টার্যাকশন তৈরি ও প্রযুক্তিগত নির্মাণ বেশি ভালো লাগলে ই-লার্নিং ডেভেলপমেন্ট আলাদা করে দেখা যায়।
“এডটেকে যেতে চাই”—এটি পেশা বেছে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নির্দিষ্ট নয়।
কাজের দিনের বেশির ভাগ সময় কী করতে হবে, সেটাই আসল প্রশ্ন।
শুরুতে এত কিছু করার দরকার নেই
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার ক্যারিয়ার শুরু করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হলো প্রস্তুতির তালিকাটাই খুব বড় করে ফেলা। ডিগ্রি। সার্টিফিকেট। স্টোরিলাইন। ক্যাপটিভেট। মুডল। এইচটিএমএল। জাভাস্ক্রিপ্ট। শেখার তত্ত্ব। পোর্টফোলিও।
- সব একসঙ্গে শুরু করলে এগোনো কঠিন।
- এর বদলে ছোট একটি ক্রম রাখুন।
- প্রথমে শেখার সমস্যা, উদ্দেশ্য ও মূল্যায়ন বোঝার চেষ্টা করুন।
- তারপর একটি এলএমএস দেখুন।
- একটি কোর্স তৈরির টুল দিয়ে ছোট প্রকল্প বানান।
- দুই-তিনটি পোর্টফোলিও নমুনা তৈরি করুন।
এরপর চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে ঠিক করুন পরের দক্ষতা কোনটি হওয়া উচিত।
এই পেশায় শুরু করার ভালো লক্ষণ হলো আপনি সব টুল জানেন কি না, সেটা নয়। বরং একটি শেখার সমস্যা দেখে আপনি কি বলতে পারেন—এখানে আসলে কী শেখানো দরকার, কীভাবে শেখানো যায় এবং শেষে কীভাবে বোঝা যাবে শেখাটা হয়েছে? ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর যত পরিষ্কার হবে, ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনে আপনার ভিত্তিও তত শক্ত হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার হতে কি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দরকার?
সব চাকরিতে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। তবে শেখার উদ্দেশ্য নির্ধারণ, মূল্যায়ন তৈরি এবং শিক্ষার্থীর সমস্যা বোঝার অভিজ্ঞতা থাকলে সুবিধা হয়। আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট চাকরির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত দেখে নেওয়া উচিত।
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার হতে কোন ডিগ্রি সবচেয়ে উপযোগী?
সবার জন্য নির্দিষ্ট একটি ডিগ্রি নেই। শিক্ষা, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি, ব্যবসা, কম্পিউটার বিজ্ঞান বা অন্য ক্ষেত্র থেকেও এই পেশায় আসা সম্ভব। কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা চাওয়া হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার হতে কি কোডিং জানা জরুরি?
সাধারণভাবে কোডিং সব পদের বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। তবে এইচটিএমএল ও সিএসএসের মৌলিক ধারণা ওয়েবভিত্তিক শেখার উপকরণ নিয়ে কাজের সময় কাজে লাগতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর ই-লার্নিং তৈরির পদে জাভাস্ক্রিপ্টের মতো দক্ষতার গুরুত্ব আরও বেশি হতে পারে।
নতুনদের কোন সফটওয়্যার আগে শেখা উচিত?
একসঙ্গে অনেক সফটওয়্যার শেখার চেয়ে একটি এলএমএস এবং একটি কোর্স তৈরির টুল দিয়ে শুরু করা বেশি বাস্তবসম্মত। মুডল বা ক্যানভাসের মতো একটি এলএমএসের পাশাপাশি রাইজ, স্টোরিলাইন বা ক্যাপটিভেটের মতো একটি টুল হাতে-কলমে শেখা যেতে পারে। কোনটি আগে শিখবেন, তা লক্ষ্য করা চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে ঠিক করা ভালো।
অভিজ্ঞতা না থাকলে ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনের পোর্টফোলিও কীভাবে তৈরি করবেন?
কাল্পনিক বা অনুশীলনভিত্তিক প্রকল্প দিয়ে শুরু করা যায়। একটি ছোট পরিচিতিমূলক কোর্স, পরিস্থিতিভিত্তিক শেখার নমুনা বা দীর্ঘ উপস্থাপনাকে ছোট শেখার মডিউলে রূপান্তরের উদাহরণ রাখতে পারেন। প্রকল্পটি বাস্তব গ্রাহকের জন্য করা না হলে সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।

