আপনি কি ভরদুপুরেও ফ্যান বা এসি বন্ধ রাখতে বলেন? অফিসের সহকর্মীরা যখন আরামে কাজ করছেন, তখন আপনার হয়তো সোয়েটার বা শাল খুঁজছেন। এমন পরিস্থিতি আপনার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কিন্তু এটি কেবল আবহাওয়া বা আপনার অভ্যাসের বিষয় নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, যদি আপনার সব সময় ঠান্ডা লাগে, তবে এটি শরীরের ভেতরের কোনো জটিল সমস্যার সংকেত হতে পারে।
মানবদেহ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা (৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বজায় রাখার জন্য ডিজাইন করা। যখন বাইরের তাপমাত্রা কমে যায়, শরীর কাঁপুনি দিয়ে বা রক্তনালী সংকুচিত করে নিজেকে গরম রাখে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই যদি আপনি সবসময় শীতে জবুথবু হয়ে থাকেন, তবে আপনার শরীরের “ইন্টারনাল থার্মোস্ট্যাট” বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনো গোলমাল হয়েছে। চলুন, এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবিক কারণগুলো গভীরভাবে জেনে নিই।
১. হাইপোথাইরয়েডিজম: বিপাকক্রিয়ার নীরব ঘাতক
যাদের সব সময় ঠান্ডা লাগে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা প্রথমেই থাইরয়েড পরীক্ষার কথা বলেন। এটি নারীদের মধ্যে খুব সাধারণ একটি সমস্যা। গলার নিচে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির এই গ্রন্থিটি শরীরের হরমোন উৎপাদন ও শক্তি নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র।
ধীর বিপাকক্রিয়া বা স্লো মেটাবলিজম
হাইপোথাইরয়েডিজম হলে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করতে পারে না। এই হরমোনের অভাবে মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। সহজ কথায়, আপনার শরীর খাবারকে শক্তিতে বা তাপে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বাইরের আবহাওয়া গরম থাকলেও আপনার শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা হয়ে থাকে।
অন্যান্য লক্ষণ যা খেয়াল করবেন
শুধু শীত লাগাই নয়, এর সাথে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন—অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া, ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পাতলা হওয়া এবং সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা। অনেক সময় রোগীরা বিষণ্নতাতেও ভোগেন। হাশিমোটো’স ডিজিজ (Hashimoto’s disease) নামক একটি অটোইমিউন রোগের কারণেও এমনটা হতে পারে।
থাইরয়েড ও তাপমাত্রার সম্পর্ক
| লক্ষণের ধরন | বিস্তারিত বিবরণ |
| তাপ উৎপাদন | মেটাবলিজম কমে যাওয়ায় শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি পোড়াতে পারে না। |
| শারীরিক পরিবর্তন | মুখ ফোলা ভাব, গলার স্বর বসে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য। |
| সমাধান | রক্তে TSH লেভেল পরীক্ষা করা এবং নিয়মিত হরমোনের ওষুধ গ্রহণ। |
২. রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া: অক্সিজেনের অভাব
অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা বিশ্বজুড়ে একটি বড় সমস্যা, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের মধ্যে। রক্তস্বল্পতা থাকলে সব সময় ঠান্ডা লাগে, কারণ শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না।
লোহিত রক্তকণিকার ভূমিকা
লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। যখন শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়, তখন কোষগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। অক্সিজেন ছাড়া কোষগুলো শক্তি উৎপাদন করতে পারে না, আর শক্তি বা ‘হিট’ তৈরি না হলে শরীর গরম থাকে না।
আয়রনের অভাবজনিত সমস্যা
শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে, যা দ্বিগুণভাবে আপনাকে ঠান্ডার অনুভূতি দেয়। গর্ভাবস্থায়, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত বা পাইলসের কারণে রক্তক্ষরণ হলে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে হাত ও পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায় এবং বুক ধড়ফড় করতে পারে।
রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করণীয়
| উপাদান | উৎস ও কাজ |
| আয়রন সমৃদ্ধ খাবার | কলিজা, লাল মাংস, কচু শাক, খেজুর, ডালিম। |
| শোষণ বৃদ্ধি | ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার (লেবু, কমলা) খেলে আয়রন দ্রুত শোষিত হয়। |
| সতর্কতা | চা বা কফি খাবারের সাথে সাথে না খাওয়া, কারণ এটি আয়রন শোষণে বাধা দেয়। |

৩. ভিটামিন বি১২-এর অভাব ও স্নায়ুবিক সমস্যা
আমরা অনেকেই জানি না যে ভিটামিনের অভাবেও শরীর ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য।
স্নায়ুর ওপর প্রভাব
ভিটামিন বি১২-এর অভাব হলে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর যে আবরণ থাকে (মায়েলিন শিথ), তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অংশের যোগাযোগে সমস্যা হয়। স্নায়ুগুলো তখন ভুল সংকেত পাঠায়, যার ফলে আপনার মনে হতে পারে যে আপনার হাত-পা জমে যাচ্ছে বা অবশ হয়ে আসছে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি।
নিরামিষভোজীদের ঝুঁকি
যারা কড়া নিরামিষভোজী (Vegan) বা যারা মাছ-মাংস একেবারেই খান না, তাদের শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ উদ্ভিজ্জ খাবারে বি১২ প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না। এছাড়া পেটের কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা (যেমন আইবিএস বা ক্রোনস ডিজিজ) থাকলেও শরীর খাবার থেকে এই ভিটামিন শোষণ করতে পারে না।
ভিটামিন বি১২ এর গুরুত্ব
| উৎস | বিবরণ |
| প্রাণীজ উৎস | ডিমের কুসুম, পনির, দই, সামুদ্রিক মাছ, মাংস। |
| লক্ষণ | জিহ্বায় ঘা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা। |
| প্রতিকার | চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ বা ইনজেকশন নেওয়া। |
৪. ডায়াবেটিস এবং রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা
ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। রক্তে সুগারের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও স্নায়ুর ক্ষতি করে, যা পরোক্ষভাবে সব সময় ঠান্ডা লাগে এমন অনুভূতির জন্ম দেয়।
ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি ও ভুল সংকেত
উচ্চ রক্তচিনির কারণে পায়ের ও হাতের সরু স্নায়ুগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক সঠিক তাপমাত্রার সংকেত পায় না। হয়তো বাইরের আবহাওয়া আরামদায়ক, কিন্তু আপনার স্নায়ু মস্তিষ্কে বার্তা পাঠাচ্ছে যে “খুব ঠান্ডা”। একে বলা হয় ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি। এর সাথে হাত-পায়ে জ্বালাপোড়া বা ব্যথাজুক্ত অসাড়তাও থাকতে পারে।
কিডনি রোগ বা নেফ্রোপ্যাথি
কিডনি শরীরের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের হতে পারে না। এই বিষাক্ত পদার্থ জমে গেলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। ডায়ালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি খুব প্রকট আকার ধারণ করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কবার্তা
| অবস্থা | প্রভাব |
| রক্তনালী সরু হওয়া | হাই ব্লাড সুগার রক্তনালীকে শক্ত ও সরু করে দেয়, রক্ত প্রবাহ কমে যায়। |
| ক্ষত ও সংক্রমণ | পায়ে অনুভূতি না থাকায় ঠান্ডা বা গরম কিছুই বোঝা যায় না, যা বিপজ্জনক। |
| পরামর্শ | নিয়মিত HbA1c পরীক্ষা করা এবং পায়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া। |
৫. রেনড’স ডিজিজ: হাতের আঙুল নীল হয়ে যাওয়া
এটি একটি বিশেষ ধরনের ভাস্কুলার বা রক্তনালীর রোগ। যদি দেখেন ঠান্ডায় বা টেনশনে আপনার হাতের আঙুলগুলো প্রথমে সাদা, পরে নীল এবং শেষে লাল হয়ে যাচ্ছে—তবে এটি রেনড’স ডিজিজ হতে পারে।
রক্তনালীর তীব্র সংকোচন (Vasospasm)
স্বাভাবিক মানুষের রক্তনালী ঠান্ডায় সংকুচিত হয়, কিন্তু রেনড’স রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া হয় খুব তীব্র। সামান্য ঠান্ডাতেই হাতের ধমনীগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এটি প্রাইমারি (বংশগত) বা সেকেন্ডারি (অন্য রোগের কারণে) হতে পারে।
কাদের বেশি হয়?
শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি যারা দীর্ঘক্ষণ টাইপিং বা হাতের কাজ করেন, তাদের এটি হতে পারে। নারীদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এই রোগের লক্ষণগুলোকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
রেনড’স রোগের ধাপসমূহ
| ধাপ | লক্ষণ |
| সাদা হওয়া | রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। |
| নীল হওয়া | অক্সিজেনের অভাবে টিস্যু নীল বর্ণ ধারণ করা। |
| লাল ও ব্যথা | রক্ত ফিরে আসার সময় তীব্র ব্যথা ও ঝিনঝিন অনুভূতি। |
৬. শরীরের কম ওজন (Low BMI) ও অ্যানোরেক্সিয়া
বর্তমান যুগে অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। শরীরের ফ্যাট বা চর্বি আমাদের জন্য ইনসুলেশন বা কম্বলের কাজ করে। চর্বি না থাকলে তাপ বেরিয়ে যায়।
কম বিএমআই ও মেটাবলিজম
বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ১৮.৫-এর নিচে হলে শরীর নিজেকে গরম রাখার মতো পর্যাপ্ত টিস্যু পায় না। এছাড়া কম ওজনের মানুষের শরীরে পেশীর পরিমাণও কম থাকে। আমাদের শরীরের তাপের একটি বড় অংশ আসে পেশীর বিপাকক্রিয়া থেকে। তাই পেশী কম থাকলে সব সময় ঠান্ডা লাগে।
অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা
এটি একটি গুরুতর মানসিক ও শারীরিক সমস্যা। এতে আক্রান্তরা না খেয়ে ওজন অতিরিক্ত কমিয়ে ফেলেন। ক্যালোরির অভাবে শরীর শক্তি বাঁচানোর জন্য ‘পাওয়ার সেভিং মোড’-এ চলে যায়, যার ফলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যায়।
ওজন ও তাপমাত্রার বিজ্ঞান
| উপাদান | কাজ |
| এডিপোজ টিস্যু (ফ্যাট) | শরীরের ভেতরের তাপ বাইরে যেতে বাধা দেয়। |
| মাসল মাস | ক্যালোরি পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করে। |
| পরামর্শ | সুষম প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাবার খেয়ে ওজন স্বাভাবিক রাখা। |
৭. পুরুষ বনাম নারী: কারা বেশি শীতে ভোগেন?
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের সব সময় ঠান্ডা লাগে বা শীতের অনুভূতি বেশি হয়। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কিছু কারণ রয়েছে।
হরমোনের প্রভাব
নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেশি থাকে। এই হরমোন রক্তকে ঘন করে এবং হাত-পায়ের সরু রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। ফলে নারীদের হাত ও পা পুরুষদের তুলনায় দ্রুত ঠান্ডা হয়। অন্যদিকে, পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেশি থাকায় তাদের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক হার বেশি থাকে, যা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।
পেশী বনাম চর্বি
পুরুষদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে পেশীর পরিমাণ বেশি। পেশী বিশ্রামের সময়ও তাপ উৎপাদন করে। অন্যদিকে নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকলেও, পেশী কম থাকায় তাপ উৎপাদনের হার কিছুটা কম।
ঘরোয়া সমাধান ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন করে আপনি শরীরকে গরম রাখতে পারেন:
-
লেয়ারিং বা স্তরে স্তরে পোশাক পরা: একটি মোটা সোয়েটারের চেয়ে পাতলা কয়েকটি কাপড় পরলে শরীরের তাপ বেশি ধরে রাখা যায়।
-
গরম মশলাযুক্ত খাবার: খাবারে আদা, রসুন, গোলমরিচ এবং দারুচিনি যোগ করুন। এগুলো শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে গা গরম করে।
-
পর্যাপ্ত পানি পান: শীতে আমরা পানি কম খাই, কিন্তু পানিশূন্যতা শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করে দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
-
ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। এতে পেশী সক্রিয় হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ
ওপরের কারণগুলো ছাড়াও আরও কিছু বিষয় আছে যার জন্য আপনার অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগতে পারে:
-
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপের জন্য ব্যবহৃত বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধ হাত-পা ঠান্ডা করে দিতে পারে।
-
বার্ধক্য: বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেটাবলিজম কমে যায় এবং পেশী কমে যায়, ফলে বয়স্কদের শীত বেশি লাগে।
-
পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ: পায়ের ধমনীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল কমে গেলে পা সবসময় ঠান্ডা থাকে।
শেষ কথা
শীতের দিনে শীত লাগাটা স্বাভাবিক, কিন্তু যদি দেখেন আপনার সব সময় ঠান্ডা লাগে এবং তা আপনার দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, তবে একে অবহেলা করবেন না। এটি হয়তো আপনার শরীর আপনাকে কোনো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। থাইরয়েড, রক্তস্বল্পতা বা ভিটামিনের অভাবের মতো সমস্যাগুলো সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই ধরা পড়ে এবং সঠিক চিকিৎসায় পুরোপুরি ভালো হওয়া সম্ভব।
সুস্থ থাকতে হলে নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হন। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন আপনাকে ভেতর থেকে উষ্ণ ও সতেজ রাখবে। যদি উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো আপনার বা আপনার পরিচিত কারোর মধ্যে দেখেন, তবে আজই একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

