নতুন আইফোন কেনার পর দেখলেন, সিম কার্ড ঢোকানোর জায়গাই নেই। কিংবা আপনার বর্তমান ফোনে ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে, কিন্তু সেটি চালু করলে কী লাভ হবে, তা ঠিক বুঝতে পারছেন না। বাংলাদেশে ই-সিম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পেছনে এমন কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে।
ই-সিম ব্যবহার করতে আলাদা প্লাস্টিকের সিম কার্ড লাগে না। ফোনের ভেতরে থাকা একটি চিপের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরের সংযোগ চালু করা যায়। বাংলাদেশে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক এই সেবা দিচ্ছে। টেলিটকও ই-সিম সেবা উদ্বোধন করেছে। শুনতে সহজ মনে হলেও কিছু জটিলতা আছে। সব ফোনে ই-সিম চলে না। আবার ই-সিম সমর্থিত ফোন থাকলেই বাংলাদেশের যেকোনো অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, সেটি কোন দেশের বাজারের জন্য তৈরি এবং অপারেটরের সমর্থন মিলিয়ে দেখতে হয়।
আর সাধারণ সিম থেকে ই-সিমে পরিবর্তন করলেই ইন্টারনেটের গতি বাড়বে, এমন ধারণারও ভিত্তি নেই। ই-সিমের সুবিধা অন্য জায়গায়, বিশেষ করে একাধিক নম্বর ব্যবহার ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে।
সাধারণ সিম থাকতে আবার ই-সিম কেন?
প্রচলিত সিম কার্ডের ভেতরে একটি ছোট চিপ থাকে। মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে সংযোগ শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সেখানে সংরক্ষিত থাকে। কার্ডটি ফোনে ঢোকালে সেই তথ্য ব্যবহার করে মোবাইল সংযোগ চালু হয়। ই-সিমেও একই কাজ হয়। পার্থক্য হচ্ছে, চিপটি ফোনের ভেতরেই স্থায়ীভাবে বসানো থাকে। আলাদা কার্ড ঢোকানোর বদলে অপারেটরের দেওয়া সংযোগের তথ্য ফোনে সংরক্ষণ করতে হয়।
ই-সিমের পূর্ণরূপ এমবেডেড সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল। বাংলায় একে ফোনের ভেতরে স্থায়ীভাবে যুক্ত গ্রাহক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বলা যায়। বাংলাদেশে সাধারণত অপারেটরের দেওয়া কিউআর সংকেত স্ক্যান করে সংযোগ চালু করা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ সিমে যখন কল, খুদে বার্তা ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে, তখন ই-সিমের প্রয়োজন কোথায়?
এখানে একাধিক সংযোগ ব্যবহারের সুবিধাটি সামনে আসে। ফোনে সমর্থন থাকলে একটি সাধারণ সিমের পাশাপাশি ই-সিম ব্যবহার করা যায়। ব্যক্তিগত নম্বরের জন্য একটি সংযোগ এবং কাজের জন্য আরেকটি নম্বর রাখা সম্ভব। কিছু ফোনে একই সঙ্গে দুটি ই-সিমও সচল রাখা যায়। তবে ফোনে একাধিক ই-সিমের তথ্য সংরক্ষণ করা আর সেগুলো একসঙ্গে চালু রাখা আলাদা বিষয়। কতটি সংযোগ সচল থাকবে, তা নির্ভর করে ফোনের মডেল ও পরিচালনব্যবস্থার ওপর।
সাধারণ সিমেরও একটি সুবিধা রয়েছে, যেটি অনেকেই ফোন বদলানোর সময় বুঝতে পারেন। পুরোনো ফোন থেকে সিম কার্ড খুলে নতুন ফোনে বসানো যায়। ই-সিমের ক্ষেত্রে নতুন ফোনে সংযোগের তথ্য স্থানান্তর করতে হতে পারে। কখনো অপারেটরের সহায়তাও দরকার হয়। অর্থাৎ ই-সিম প্রযুক্তিগতভাবে নতুন হলেও প্রতিটি পরিস্থিতিতে সাধারণ সিমের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক নয়।
বাংলাদেশে ই-সিম কোন অপারেটরের কাছে পাওয়া যাবে?
দেশে ই-সিমের ব্যবস্থা চালু হয়েছে কয়েক বছর আগেই। এখন মূল প্রশ্ন হলো, কোন অপারেটরের কাছে কী ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে এবং পুরোনো নম্বরটি পরিবর্তন করা সম্ভব কি না। গ্রামীণফোন নতুন ই-সিম সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান সাধারণ সিম ই-সিমে রূপান্তরের সুবিধা দেয়। এ জন্য গ্রাহকের পরিচয় ও আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাই করতে হয়। এরপর কিউআর সংকেত ব্যবহার করে সংযোগ চালু করা যায়।
গ্রামীণফোনের নির্দিষ্ট গ্রাহকসেবাকেন্দ্রে গিয়ে রূপান্তরের আবেদন করা সম্ভব। তবে বাড়িতে সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় আলাদা শর্ত রয়েছে। গ্রামীণফোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িতে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকার সীমাবদ্ধতার উল্লেখ রয়েছে।
রবির ক্ষেত্রেও নতুন সংযোগ এবং পুরোনো নম্বর ই-সিমে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। রবির অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্রে দুটি সেবাই তালিকাভুক্ত। তবে অনলাইনে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে দেখেই নিজের এলাকায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পরিচয় যাচাই কোথায় হবে, সেটিও জেনে নেওয়া দরকার।
বাংলালিংকের বিদ্যমান নম্বরও ই-সিমে পরিবর্তন করা যায়। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবাকেন্দ্রে আবেদন ও পরিচয় যাচাইয়ের পর সংযোগ চালুর ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলালিংকের ই-সিম নির্দেশনায় কিউআর সংকেত ব্যবহারের নিয়ম পাওয়া যায়। এখানে একটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। পুরোনো নম্বর ই-সিমে রূপান্তর হয়ে গেলে আগের সাধারণ সিমটি আর সচল থাকে না। একই নম্বর দুটি সিমে একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না।
টেলিটক ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে ই-সিম সেবা উদ্বোধন করে। তবে নতুন সংযোগ বা পুরোনো নম্বর রূপান্তরের সুবিধা কোন কোন সেবাকেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। টেলিটকের সংযোগ নিতে চাইলে সরাসরি গ্রাহকসেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ করাই ভালো। অপারেটর ই-সিম চালু করেছে, এমন তথ্য পাওয়া আর নির্দিষ্ট এলাকায় সেটি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা এক নয়। এ কারণে সেবাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে যোগাযোগ করে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ফোনে ই-সিম চলবে কি না, সেটি বুঝবেন কীভাবে?

একই মডেলের ফোন হলেও সব দেশের সংস্করণে সিম ব্যবস্থার মিল থাকে না। বিশেষ করে বিদেশ থেকে ফোন কেনার সময় এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আইফোন এক্সএস, এক্সএস ম্যাক্স, এক্সআর এবং পরবর্তী অনেক মডেলে ই-সিম সমর্থন রয়েছে। তবে কিছু আঞ্চলিক সংস্করণে ব্যতিক্রম আছে।
নিজের আইফোনে সুবিধাটি খুঁজতে ফোনের সেটিংস খুলুন। এরপর মোবাইল সংযোগ অথবা মোবাইল ইন্টারনেট বিভাগে গিয়ে ই-সিম যোগ করুন বা নতুন সংযোগ যোগ করার অনুরূপ বিকল্প দেখুন। বিকল্পটি থাকলে ফোনের সঠিক মডেল এবং কোন অঞ্চলের জন্য তৈরি, তা মিলিয়ে নিন। অ্যাপলের ই-সিম চালুর নির্দেশনায় সমর্থিত মডেল ও সংযোগ চালু করার নিয়ম পাওয়া যায়।
বিদেশ থেকে কেনা আইফোনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জরুরি। কিছু সংস্করণে প্রচলিত সিম কার্ডের জায়গা নেই। আবার কিছু সংস্করণে দুটি সাধারণ সিম ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনের ক্ষেত্রেও সব মডেলে ই-সিম নেই। নির্বাচিত গ্যালাক্সি এস, গ্যালাক্সি জেড এবং আরও কিছু মডেলে সুবিধাটি পাওয়া যায়।
স্যামসাং ফোনে সেটিংস > সংযোগ > সিম ব্যবস্থাপনা > ই-সিম যোগ করুন বিকল্পটি খুঁজুন। না পেলে ফোনের মডেল নম্বর মিলিয়ে স্যামসাংয়ের সমর্থিত ফোনের তালিকা দেখতে পারেন।
গুগল পিক্সেলের সমর্থিত মডেলে সাধারণত সেটিংস > নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট > সিম > সিম যোগ করুন > ই-সিম চালু করুন পথে যেতে হয়। অন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংসের নাম আলাদা হতে পারে।
কিছু ফোনে *#০৬# নম্বরের সংকেতটি ডায়াল করলে ইআইডি নামে একটি শনাক্তকারী নম্বর দেখা যায়। এটি ই-সিম-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। কিন্তু ইআইডি পাওয়া মানেই বাংলাদেশের নির্দিষ্ট অপারেটরের সংযোগ সেই ফোনে চলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিদেশি ফোন কেনার সময় আরও একটি সমস্যা মাথায় রাখা দরকার। ফোনটি কোনো বিদেশি অপারেটরের জন্য সীমাবদ্ধ করে রাখা থাকলে অন্য অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করতে বাধা আসতে পারে। ফলে শুধু ই-সিম সমর্থন আছে লেখা দেখেই ফোন কেনা উচিত নয়। সঠিক মডেল, আঞ্চলিক সংস্করণ এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অপারেটরের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা দরকার।
পুরোনো নম্বর রেখে ই-সিম নেওয়ার নিয়ম
দীর্ঘদিন ব্যবহার করা নম্বরটি বদলাতে অনেকেই চান না। বিশেষ করে নম্বরটি ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ইমেইল কিংবা অন্যান্য জরুরি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকলে। অপারেটর রূপান্তরের সুবিধা দিলে সেই নম্বর রেখেই ই-সিম ব্যবহার করা যায়। নতুন নম্বর কেনার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশে সাধারণত প্রথমে অপারেটরের অনুমোদিত মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। পরিচয় যাচাই ও প্রযোজ্য আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংযোগ চালুর জন্য কিউআর সংকেত দেওয়া হয়।
এরপর ফোনের সিম সেটিংস থেকে সংকেতটি স্ক্যান করে সংযোগের তথ্য ইনস্টল করতে হয়। এই পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হতে পারে। তাই তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখলে সুবিধা হয়। আইফোনে মোবাইল সংযোগ বা মোবাইল ইন্টারনেট বিভাগ থেকে ই-সিম যোগ করুন নির্বাচন করে কিউআর সংকেত স্ক্যান করা যায়।
স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে সাধারণত সেটিংস > সংযোগ > সিম ব্যবস্থাপনা > ই-সিম যোগ করুন > কিউআর সংকেত স্ক্যান করুন বিকল্পটি ব্যবহার করতে হয়।
সংযোগ চালু হয়ে গেলে নতুন নম্বরটি ফোনের সিম ব্যবস্থাপনা বিভাগে দেখা উচিত। এরপর কল, খুদে বার্তা ও মোবাইল ইন্টারনেট পরীক্ষা করুন। একই ফোনে দুটি নম্বর থাকলে কোনটি দিয়ে কল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, সেটিও নির্ধারণ করে নিতে পারবেন। তবে কিউআর সংকেত নিয়ে একটি ভুল ধারণা রয়েছে।
অনেকে মনে করেন, সংকেতটি একবার সংগ্রহ করলেই পরে যেকোনো ফোনে বারবার ব্যবহার করা যাবে। বাস্তবে এর নিয়ম অপারেটরভেদে আলাদা। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের প্রকাশিত কিছু নির্দেশনায়ও সংকেত পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে অসংগতি রয়েছে। এ কারণে নতুন ফোনে সংযোগ নেওয়ার আগে পুরোনো ফোন থেকে ই-সিমের সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলা ঠিক হবে না। প্রথমে অপারেটরের স্থানান্তর পদ্ধতি নিশ্চিত করুন।
ই-সিমের সুবিধা সবচেয়ে বেশি কোথায়?
ই-সিমের ব্যবহারিক সুবিধা বোঝার জন্য দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা যায়। একজনের ব্যক্তিগত নম্বরের পাশাপাশি কাজের জন্য আলাদা নম্বর দরকার। ফোনে সমর্থন থাকলে একটি সাধারণ সিম রেখে অন্য নম্বরটি ই-সিমে ব্যবহার করা সম্ভব। দ্বিতীয় ফোন বহনের প্রয়োজন কমে যেতে পারে। আরেকজন নিয়মিত বিদেশে যান। তিনি বাংলাদেশের নম্বরটি রেখে ভ্রমণের জন্য স্থানীয় অপারেটর বা আন্তর্জাতিক ই-সিম সরবরাহকারীর ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারেন।
তবে ভ্রমণের ই-সিম কেনার সময় সতর্ক হতে হয়। সব প্যাকেজে সাধারণ ফোনকল বা খুদে বার্তা পাঠানোর সুবিধা থাকে না। কিছু প্যাকেজ শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য। কেনার আগে কোন দেশে চলবে, ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ কত, মেয়াদ কত দিন এবং ফোনের ইন্টারনেট অন্য যন্ত্রে ভাগ করে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
আরেকটি ছোট সুবিধা হলো সিম কার্ড খুলে রাখা বা হারিয়ে ফেলার চিন্তা থাকে না। আলাদা প্লাস্টিকের কার্ডের প্রয়োজন কমে, যদিও এ কারণে ই-সিমকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বলা যায় না। কিন্তু যাঁরা একটি নম্বর ব্যবহার করেন, বিদেশে তেমন যান না এবং সাধারণ সিম নিয়ে কোনো সমস্যায় নেই, তাঁদের কাছে ই-সিমের সুবিধা সীমিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ই-সিম ব্যবহারের জন্য নতুন ফোন কেনার প্রয়োজন নেই।
ফোন বদলানোর সময় ই-সিম কেন অসুবিধায় ফেলতে পারে?

সাধারণ সিমের সুবিধা সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় পুরোনো ফোন নষ্ট হলে। কার্ডটি খুলে অন্য উপযুক্ত ফোনে বসানো যায়। ই-সিমের ক্ষেত্রে কাজটি সব সময় এত সরল নয়। পুরোনো সংযোগের তথ্য নতুন ফোনে স্থানান্তর করতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নতুন কিউআর সংকেত বা অপারেটরের সহায়তা প্রয়োজন হয়। সমস্যা তৈরি হতে পারে ফোনের সব তথ্য মুছে সেটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার সময়ও। কিছু ফোনে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ই-সিমের তথ্য মুছে যেতে পারে।
আইফোনে ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলার সময় ই-সিমের তথ্য রেখে দেওয়ার বিকল্প রয়েছে। অন্য ফোনে নিয়ম আলাদা হতে পারে। ভুল করে সংযোগের তথ্য মুছে গেলে আবার সংযোগ চালু করার প্রয়োজন হতে পারে। যে নম্বরে ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের যাচাইকরণ বার্তা আসে, সেটির ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি বিশেষ অসুবিধাজনক হতে পারে।
তবে ই-সিম ব্যবহার করলে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। রূপান্তরের সময় সাময়িকভাবে কল বা খুদে বার্তা বন্ধ থাকলে যাচাইকরণে সমস্যা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক সেবার নিজস্ব নিরাপত্তানীতিও প্রযোজ্য হবে। ফোন পরিবর্তনের অভ্যাস যাঁদের বেশি, তাঁদের কাছে সাধারণ সিমের সহজে স্থানান্তর করার সুবিধাটি এখনো মূল্যবান।
ই-সিম কি সাধারণ সিমের চেয়ে নিরাপদ?
ই-সিমের একটি নিরাপত্তাসুবিধা আছে, যা সরাসরি বোঝা যায়। ফোন চুরি হলে চোর সাধারণ সিম কার্ডের মতো ই-সিম খুলে অন্য ফোনে বসাতে পারে না। কিন্তু মোবাইল নম্বর চুরি বা দখলের সব ঝুঁকি এতে দূর হয় না। প্রতারক পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা অপব্যবহার করে নম্বর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের প্রতারণাকে সিম অদলবদল জালিয়াতি বলা হয়।
মার্কিন ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা ফেডারেল ট্রেড কমিশন এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে মোবাইল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভব হলে খুদে বার্তার পরিবর্তে শক্তিশালী পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে যে নম্বরটি ব্যাংক, ইমেইল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত, সেটির নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিম অদলবদল জালিয়াতি থেকে মোবাইল নম্বর সুরক্ষিত রাখার উপায় পড়তে পারেন। ই-সিমের কিউআর সংকেত অপরিচিত কাউকে পাঠানো উচিত নয়। ফোনে শক্তিশালী পর্দা-তালা রাখুন এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে সম্ভব হলে আলাদা পরিচয় যাচাইয়ের অ্যাপ বা প্রবেশচাবি ব্যবহার করুন।
ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত অপারেটরকে জানান। আর ফোন বিক্রির সময় ই-সিমের সংরক্ষিত তথ্য মুছে দেওয়ার কথা ভুলবেন না। তবে ফোন থেকে সংযোগের তথ্য মুছে ফেলা এবং অপারেটরের সংযোগ বাতিল করা আলাদা কাজ। ফোন বিক্রির আগে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদে মুছে ফেলার নিয়ম অনুসরণ করা ভালো।
বাংলাদেশে ই-সিম নিতে কত খরচ হতে পারে?
ই-সিম নেওয়ার খরচ নির্ভর করে নতুন সংযোগ নিচ্ছেন, নাকি পুরোনো নম্বর রূপান্তর করছেন, তার ওপর। প্যাকেজের ধরনেও দাম বদলায়। গ্রামীণফোনের প্রকাশিত তালিকায় ই-সিম রূপান্তরের মূল্য ২৪৯ টাকা। নতুন প্রাইম ই-সিমের মূল্য ৪০০ টাকা এবং ১ নম্বর প্যাকেজের মূল্য ৪৯৭ টাকা।
তবে নতুন নিশ্চিন্ত ই-সিমের মূল্য নিয়ে গ্রামীণফোনের বাংলা ও ইংরেজি পেজে পার্থক্য রয়েছে। বাংলা পেজে ৩০০ টাকা, ইংরেজি পেজে ৪০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই সংযোগ কেনার আগে কার্যকর মূল্য জেনে নেওয়া দরকার।
রবির ক্ষেত্রে তাদের অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্রে নতুন প্রিপেইড ই-সিমের তালিকাভুক্ত মূল্য ২২০ টাকা এবং পুরোনো নম্বর রূপান্তরের মূল্য ২৯০ টাকা। এগুলো প্রকাশিত তালিকামূল্য। সময়ের সঙ্গে মূল্য বা শর্ত বদলাতে পারে। বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার খরচ কিংবা অন্য কোনো খরচ আছে কি না, আবেদন করার সময় নিশ্চিত হওয়া উচিত। বাংলালিংক ও টেলিটকের রূপান্তর খরচের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ অঙ্ক নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের গ্রাহকসেবাকেন্দ্র থেকে সরাসরি জেনে নেওয়া ভালো।
আরও পড়ুন: অ্যান্ড্রয়েড ফোন ধীর হয়ে গেলে কোন ১০টি সেটিংস আগে পরীক্ষা করবেন
নতুন ফোনে ই-সিম থাকা কি জরুরি?
ফোন কেনার সময় ই-সিম সমর্থন একটি বাড়তি সুবিধা। কিন্তু সেটিকে প্রধান শর্ত বানানোর প্রয়োজন সবার নেই। নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন, ব্যক্তিগত ও কাজের জন্য আলাদা নম্বর রাখেন কিংবা একই ফোনে একাধিক সংযোগ পরিচালনা করতে চান, এমন ব্যবহারকারীদের জন্য ই-সিম বেশি কাজে আসতে পারে।
অন্যদিকে, একটি নম্বরেই সব কাজ চলে গেলে এবং সাধারণ সিম ব্যবহারে কোনো সমস্যা না থাকলে পরিবর্তনের তেমন কারণ নেই। ফোনের ব্যাটারি, পরিচালনব্যবস্থার হালনাগাদ সুবিধা, নেটওয়ার্ক সামঞ্জস্য, দাম এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়গুলোও দেখা দরকার।
বিশেষ করে বিদেশ থেকে সাধারণ সিম কার্ড ঢোকানোর জায়গাবিহীন ফোন আনতে চাইলে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অপারেটরের সংযোগ সেটিতে চলবে কি না, তা আগে নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশে ই-সিম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি তথ্য সবচেয়ে কাজে আসে। আপনার ফোনটি সমর্থিত কি না, অপারেটর সংযোগটি দিতে পারবে কি না এবং পরে ফোন পরিবর্তনের সময় কী করতে হবে।
এই বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকলে ই-সিম নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্ত নয়। যাঁদের কাজে এর সুবিধা প্রয়োজন, তাঁরা পরিবর্তন করতে পারেন। আর প্রচলিত সিমে সব কাজ ঠিকঠাক চললে সেটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়াতেও কোনো অসুবিধা নেই।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ই-সিম চালু করতে কি ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন?
ই-সিমের তথ্য প্রথমবার ফোনে সংরক্ষণ ও সংযোগ চালু করার সময় সাধারণত ইন্টারনেট প্রয়োজন হয়। এ জন্য ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সুবিধাজনক। তবে সংযোগ চালু হয়ে গেলে সাধারণ ফোনকল ও খুদে বার্তা ব্যবহারের জন্য আলাদা ইন্টারনেটের প্রয়োজন নেই।
ই-সিম থেকে আবার সাধারণ সিমে ফিরে যাওয়া যাবে?
হ্যাঁ। সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিয়ম মেনে ই-সিম থেকে আবার সাধারণ সিমে ফিরে যাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই করতে হতে পারে এবং সিম পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
ই-সিমের কিউআর সংকেত হারিয়ে গেলে কী করবেন?
কিউআর সংকেত হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের গ্রাহকসেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ের পর নতুন সংকেত বা সংযোগ পুনরায় চালুর ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। আগের সংকেত আবার ব্যবহার করা যাবে কি না, তা অপারেটরের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
ফোন থেকে ই-সিম মুছে ফেললে কি মোবাইল নম্বর বাতিল হয়ে যায়?
না। ফোন থেকে ই-সিমের তথ্য মুছে ফেলা এবং অপারেটরের কাছে নম্বর বাতিল করা আলাদা বিষয়। তবে তথ্য মুছে গেলে ফোনে সেই সংযোগ আর ব্যবহার করা যাবে না। পুনরায় চালু করতে অপারেটরের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
ই-সিম ব্যবহার করলে কি বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকিং সেবায় সমস্যা হবে?
শুধু ই-সিম ব্যবহারের কারণে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হওয়ার কথা নয়। তবে সাধারণ সিম থেকে ই-সিমে পরিবর্তনের সময় সাময়িকভাবে কল বা খুদে বার্তা বন্ধ থাকলে যাচাইকরণে অসুবিধা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক সেবার নিজস্ব নিরাপত্তানীতিও প্রযোজ্য হবে।


