লিংক বিল্ডিং ও লিংক আর্নিং-এর পার্থক্য: কোন পথে এগোবেন?

সর্বাধিক আলোচিত

ব্যাকলিংক বাড়ানোর জন্য কোনো এসইও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বললে হয়তো নির্দিষ্টসংখ্যক লিংক সংগ্রহের প্রস্তাব পাবেন। অন্যদিকে কনটেন্ট নিয়ে কাজ করা অনেকের পরামর্শ, লিংক কেনার পেছনে না ছুটে এমন কিছু প্রকাশ করুন, যা অন্যরা নিজেরাই ব্যবহার করতে চাইবে।

দ্বিতীয় পরামর্শটি শুনতে ভালো। কিন্তু নতুন ওয়েবসাইটে একটি বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশ করার পর কয়েক মাসেও কেউ সেটির লিংক না দিলে কী করবেন? আবার শুধু লিংকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অর্থ খরচ করাও কি যুক্তিসংগত?

এই দ্বিধা থেকেই লিংক বিল্ডিং ও লিংক আর্নিং-এর আলোচনা আসে। লিংক বিল্ডিং বলতে অন্য ওয়েবসাইট থেকে পরিকল্পিতভাবে ব্যাকলিংক পাওয়ার চেষ্টা বোঝায়। লিংক আর্নিং-এর ক্ষেত্রে অন্য প্রকাশক নিজের প্রয়োজনেই আপনার কনটেন্টের লিংক দেন। অর্থাৎ একটি পদ্ধতিতে লিংক সংগ্রহের উদ্যোগ বেশি গুরুত্ব পায়, অন্যটিতে কনটেন্টের উপযোগিতা।

তবে লিংক বিল্ডিং ও লিংক আর্নিং-এর পার্থক্য কেবল এই সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধ নয়। পরিকল্পিত যোগাযোগের মাধ্যমেও স্বাভাবিক সম্পাদকীয় লিংক পাওয়া যায়। আবার ভালো কনটেন্ট তৈরি করলেই যে ব্যাকলিংক আসবে, তার নিশ্চয়তা নেই। ওয়েবসাইটের জন্য কোন পদ্ধতিতে সময় ও অর্থ ব্যয় করবেন, তা নির্ভর করবে লিংকের উদ্দেশ্য, কনটেন্টের মান এবং আপনার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর।

লিংক সংগ্রহ করা আর লিংক অর্জনের মধ্যে তফাত কোথায়?

লিংক বিল্ডিং-এর প্রচলিত কাজগুলো মোটামুটি পরিচিত। অন্য ওয়েবসাইটের সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা, অতিথি নিবন্ধ প্রকাশ করা, অকার্যকর লিংকের বদলে নিজের তথ্যসূত্রের প্রস্তাব দেওয়া কিংবা প্রাসঙ্গিক ডিরেক্টরিতে ব্যবসার তথ্য যুক্ত করা। এখানে ওয়েবসাইটের মালিক বা এসইও দল নিজে থেকে উদ্যোগ নেয়।

অন্যদিকে লিংক আর্নিং-এর ক্ষেত্রে লিংক আসে কনটেন্টের প্রয়োজনীয়তা থেকে। কোনো সাংবাদিক, ব্লগার বা অন্য প্রকাশক আপনার গবেষণা, নির্দেশিকা কিংবা তথ্যসংকলন ব্যবহার করে মূল উৎসের লিংক দিতে পারেন। একটি উদাহরণ বিষয়টি পরিষ্কার করবে। আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন স্মার্টফোনের তুলনামূলক তথ্য নিয়ে একটি নিবন্ধ রয়েছে। সেখানে প্রকাশিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এবং কেনার আগে যাচাই করার বিষয়গুলো সাজানো হয়েছে।

এই নিবন্ধের কথা কয়েকটি প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনাকে জানালেন। কোনো সম্পাদক তথ্যগুলো নিজের পাঠকদের জন্য প্রয়োজনীয় মনে করে নিবন্ধটির লিংক দিলেন। এটি পরিকল্পিত যোগাযোগের ফল। আবার সম্পাদক নিজের বিবেচনায় লিংকটি দিয়েছেন। ফলে একই ঘটনার মধ্যে লিংক বিল্ডিং ও লিংক আর্নিং-এর বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।

এখানে পার্থক্য বোঝার জন্য আরেকটি প্রশ্ন করা যায়। ওই প্রকাশক লিংকটি না দিলে কি তাঁর কোনো ক্ষতি হতো? অথবা লিংকটি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন? সব সম্পাদকীয় লিংকের পেছনে একই কারণ থাকে না। কিন্তু পাঠককে তথ্যসূত্র দেখানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া লিংক এবং কেবল সার্চ র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত করার জন্য তৈরি লিংককে একভাবে দেখা যায় না।

কোন পদ্ধতিতে খরচ বেশি?

এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর নেই। লিংক বিল্ডিং-এর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, যোগাযোগ করা এবং সম্পর্ক বজায় রাখতে সময় ও জনবল লাগে। কোনো প্রকাশক প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। লিংক আর্নিং-এর জন্য মৌলিক গবেষণা, বিস্তারিত তথ্যসংকলন বা ব্যবহারিক অনলাইন উপকরণ তৈরি করতে হয়তো বেশি প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে। প্রকাশের পর তথ্য হালনাগাদ রাখার দায়িত্বও রয়েছে।

দুটি পদ্ধতির কোনোটিই নির্দিষ্টসংখ্যক লিংকের নিশ্চয়তা দেয় না। তাই শুধু লিংক পাওয়ার খরচ তুলনা না করে দেখতে হবে, সেই কাজের মাধ্যমে পাঠক ও ওয়েবসাইটের জন্য কী মূল্য তৈরি হচ্ছে।

গুগল কি লিংক বিল্ডিং পছন্দ করে না?

গুগল কি লিংক বিল্ডিং পছন্দ করে না?

লিংক বিল্ডিং নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো, অন্য ওয়েবসাইট থেকে লিংক সংগ্রহের উদ্যোগ নিলেই গুগলের নীতিমালা লঙ্ঘন হয়। বিষয়টি এমন নয়। গুগলের স্প্যাম নীতিমালায় মূল আপত্তি সার্চ র‍্যাঙ্কিং কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে লিংক তৈরির বিরুদ্ধে। এ ধরনের কার্যক্রমকে লিংক স্প্যাম হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

এখানে লিংক কীভাবে পাওয়া হলো, তার পাশাপাশি কেন তৈরি করা হলো, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে অর্থের বিনিময়ে ব্যাকলিংক কেনার কথা ধরা যায়। কোনো ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিংক বিক্রি করছে। এমন প্রস্তাব গ্রহণ করলে গুগলের নীতিমালা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে।

অবশ্য অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন বা স্পনসরশিপ প্রকাশ করা নিষিদ্ধ নয়। বাণিজ্যিক লিংকের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনসূচক নির্দেশক ব্যবহার করা গুগলের সুপারিশকৃত পদ্ধতি। বিকল্প হিসেবে লিংক অনুসরণ না করার নির্দেশকও গ্রহণযোগ্য।

অতিথি নিবন্ধ প্রকাশের ক্ষেত্রেও একই পার্থক্য রয়েছে। অন্য প্রকাশনার পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক ও মৌলিক নিবন্ধ লেখা স্বাভাবিক কাজ। কিন্তু বিপুলসংখ্যক অতিথি নিবন্ধে একই ধরনের কীওয়ার্ডযুক্ত লিংক বসিয়ে র‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর চেষ্টা সমস্যার কারণ হতে পারে।

কিছু পদ্ধতির ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও স্পষ্ট। যেমন:

  • কেবল ব্যাকলিংকের সংখ্যা বাড়াতে অতিরিক্ত লিংক বিনিময় করা।
  • পাঠকদের জন্য বিশেষ উপযোগিতা নেই, এমন নিম্নমানের ডিরেক্টরিতে অসংখ্য লিংক তৈরি করা।
  • স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার দিয়ে ফোরাম, ব্লগের মন্তব্য কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লিংক ছড়িয়ে দেওয়া।

গুগল এসব ধরনের কার্যক্রমকে সম্ভাব্য লিংক স্প্যামের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এসব কারণে লিংক বিল্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোন কাজটি পাঠকের জন্য উপযোগী এবং কোনটি শুধু র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত করার চেষ্টা, সেই পার্থক্য ধরে এগোনো উচিত।

ভালো কনটেন্ট থাকলেই কি অন্যরা লিংক দেবে?

লিংক আর্নিং-এর পক্ষে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরামর্শ হলো, এত ভালো কনটেন্ট তৈরি করুন যাতে অন্যরা নিজেরাই লিংক দিতে চায়। পরামর্শটি পুরোপুরি ভুল নয়। কিন্তু এখানে একটি বড় শর্ত অনেকে এড়িয়ে যান। আপনার কনটেন্টের কথা অন্য প্রকাশকেরা জানবেন কীভাবে?

ধরা যাক, বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে একটি বিস্তারিত তুলনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্যাকেজের মূল্য, মেয়াদ, শর্ত এবং ব্যবহারসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা যাচাই করে সাজানো হয়েছে।

অন্য কোনো প্রযুক্তি প্রকাশনা মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রতিবেদনটি ব্যবহার করতে পারে। পাঠকদের বিস্তারিত তথ্য দেখানোর জন্য মূল প্রতিবেদনের লিংক দেওয়াও স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিবেদনটি অন্য প্রকাশকের নজরে না এলে সেই সুযোগ তৈরি হবে না।

এই জায়গায় কনটেন্ট প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। কোনো গবেষণা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের জানানো যায়। একটি ব্যবহারিক অনলাইন উপকরণ তৈরি করলে সেটি নিয়ে কাজ করা ব্লগারদের কাছে পাঠানো যেতে পারে। গবেষক বা শিল্পসংস্থার সঙ্গেও প্রাসঙ্গিক তথ্য ভাগ করে নেওয়া সম্ভব।

যোগাযোগ করার অর্থ এই নয় যে তাঁদের লিংক দিতেই হবে। তাঁরা তথ্যটি ব্যবহার করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের। লিংক আর্নিং-এর আরেকটি বাস্তব সমস্যা হলো, সব ধরনের কনটেন্ট সমানভাবে লিংক পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে না।

সাধারণ তথ্য নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধ পাঠকের উপকারে আসতে পারে। কিন্তু অন্য প্রকাশক সেটির লিংক দেওয়ার বিশেষ প্রয়োজন নাও দেখতে পারেন। বিপরীতে মৌলিক তথ্যসংকলন বা বিস্তারিত তুলনামূলক প্রতিবেদন কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্যসূত্র হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

এ জন্য কনটেন্টের দৈর্ঘ্যের চেয়ে তার ব্যবহারিক মূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোন ধরনের কনটেন্টে লিংক আর্নিং-এর সুযোগ বেশি?

নতুন নিবন্ধ লেখার আগে নিজের ওয়েবসাইটের পুরোনো কনটেন্টগুলো দেখুন। হয়তো সেখানে এমন কিছু পৃষ্ঠা রয়েছে, যেগুলো সামান্য উন্নত করলেই অন্য প্রকাশকদের জন্য বেশি উপযোগী হয়ে উঠবে। ধরা যাক, ছোট ব্যবসার জন্য অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে একটি নিবন্ধ রয়েছে। সেখানে কয়েকটি সেবার সাধারণ সুবিধা-অসুবিধা লেখা আছে।

এই তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন সেবার প্রকাশিত শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং ব্যবহারসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা যাচাই করে যোগ করা হলে নিবন্ধটির উপযোগিতা বাড়তে পারে। অন্য কোনো প্রকাশক একই বিষয়ে লিখতে গিয়ে ওই তুলনামূলক তথ্যকে সহায়ক মনে করতে পারেন। তবে তথ্য যোগ করার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো পণ্যের দাম, সফটওয়্যারের সুবিধা কিংবা সেবার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এসব তথ্যের উৎস ও হালনাগাদের তারিখ পরিষ্কার রাখা ভালো।

একইভাবে অন্য ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করে সেটিকে নিজের গবেষণা হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। নিজে পরীক্ষা না করলে পরীক্ষার দাবি করা যাবে না। কোনো পরিসংখ্যান ব্যবহার করলে সংখ্যাটি কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে পাওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। শুধু আকর্ষণীয় তথ্য দেখানোর জন্য পরিসংখ্যান ব্যবহার করলে কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তথ্য খুঁজে পাওয়ার সুবিধাটিও বিবেচনায় রাখুন। পাঠককে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য পুরো নিবন্ধ বারবার পড়তে হলে সেটি ব্যবহার করা অসুবিধাজনক হয়ে যায়। স্পষ্ট শিরোনাম, সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলক ছক ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিটি কনটেন্টকে একই কাঠামোয় সাজানোর প্রয়োজন নেই। যে তথ্য যেভাবে সহজে বোঝানো যায়, সেই বিন্যাসই ভালো।

প্রচারের সময় কী এড়িয়ে চলবেন?

কনটেন্ট প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে সবাইকে একই ধরনের বার্তা পাঠানো ভালো পদ্ধতি নয়। প্রথমে দেখুন, প্রকাশনাটি কোন বিষয় নিয়ে কাজ করে। আপনার কনটেন্টে এমন কী আছে, যা তাদের পাঠকদের কাজে আসতে পারে?

যোগাযোগের বার্তায় সেটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন। সরাসরি ব্যাকলিংক দাবি করার প্রয়োজন নেই। গুগলের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের প্রাথমিক নির্দেশিকায় কনটেন্ট প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রাসঙ্গিক অনলাইন গোষ্ঠীর মাধ্যমে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছানোর পরামর্শ রয়েছে।

নিজের ওয়েবসাইটের সম্পর্কিত নিবন্ধগুলোর মধ্যেও প্রাসঙ্গিক লিংক রাখুন। এতে পাঠকেরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে খুঁজে পাবেন। ব্যাকলিংকের মান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন ব্যাকলিংক কী: সব লিংক কেন সমান মূল্যবান নয়।

গুগলের লিংক ব্যবহারের নির্দেশনায় সার্চ ইঞ্জিনের পক্ষে অনুসরণযোগ্য লিংক এবং অর্থবহ লিংক-পাঠ্য ব্যবহারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে নিজের ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ লিংক আর অন্য ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া ব্যাকলিংক এক বিষয় নয়। দুটির উদ্দেশ্য ও ব্যবহার আলাদা।

নতুন ওয়েবসাইটের জন্য কোন পদ্ধতি বেশি বাস্তবসম্মত?

নতুন ওয়েবসাইটের জন্য কোন পদ্ধতি বেশি বাস্তবসম্মত?

নতুন ওয়েবসাইটে ভালো কনটেন্ট প্রকাশ করলেও শুরুতে সেটি খুব কম মানুষের নজরে আসতে পারে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিষয়ে পরিচিতি তৈরি করতে সময় লাগে। এ অবস্থায় শুধু স্বাভাবিকভাবে ব্যাকলিংক আসার অপেক্ষায় থাকার প্রয়োজন নেই। প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের সম্পাদক, ব্লগার বা সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে যোগাযোগের আগে দেখতে হবে, আপনার প্রকাশিত তথ্য তাঁদের পাঠকদের জন্য আদৌ উপযোগী কি না।

একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ছোট ব্যবসার জন্য বিনামূল্যের হিসাব তৈরির অনলাইন উপকরণ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ছোট ব্যবসা নিয়ে কাজ করা প্রকাশনাগুলোকে সেটির কথা জানাতে পারে। প্রকাশকেরা যাচাই করে প্রয়োজনীয় মনে করলে নিজেদের নিবন্ধে সেটির লিংক দিতে পারেন।

এখানে যোগাযোগের উদ্যোগটি পরিকল্পিত লিংক বিল্ডিং। অথচ প্রকাশক স্বাধীনভাবে লিংক দিলে সেটি অর্জিত সম্পাদকীয় লিংকও হতে পারে। নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এই সমন্বয় বাস্তবসম্মত। তবে খরচের বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। প্রকাশক খুঁজে বের করা, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সময় লাগে। অনেক প্রস্তাবের উত্তর পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে মৌলিক গবেষণা বা বিস্তারিত তথ্যসংকলন তৈরির জন্যও দক্ষতা ও জনবল প্রয়োজন। তাই সীমিত বাজেটের ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে শুরুতেই ব্যয়বহুল লিংক সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার বদলে বিদ্যমান কনটেন্ট উন্নত করে প্রাসঙ্গিক প্রচারে মনোযোগ দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে।

আরও পড়ুন: ব্যাকলিংক কী: সব লিংক কেন সমান মূল্যবান নয়

ব্যাকলিংক বাড়ছে, কিন্তু উপকার হচ্ছে কি?

এসইও কার্যক্রমের অগ্রগতি বোঝাতে অনেক সময় শুধু নতুন ব্যাকলিংকের সংখ্যা দেখানো হয়। কিন্তু একটি লিংক কতটা প্রাসঙ্গিক এবং সেখান থেকে কোনো পাঠক আসছেন কি না, সেটিও পরীক্ষা করা দরকার। গুগল সার্চ কনসোলের লিংক প্রতিবেদন দিয়ে কাজটি শুরু করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের প্রপার্টি নির্বাচন করে লিংক প্রতিবেদনে গেলে বাহ্যিক লিংক বিভাগে কয়েকটি তথ্য পাওয়া যায়।

সর্বাধিক লিংক পাওয়া পৃষ্ঠা থেকে বোঝা যায় কোন পৃষ্ঠাগুলো বেশি ব্যাকলিংক পেয়েছে। লিংক প্রদানকারী ওয়েবসাইট বিভাগে কোন কোন ওয়েবসাইট বা ডোমেইন থেকে লিংক আসছে, তা দেখা যায়। আর লিংকে ব্যবহৃত পাঠ্য বিভাগে লিংকের জন্য ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যাংশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

গুগলের লিংক প্রতিবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনায় এসব বিভাগের ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটিকে সব ব্যাকলিংকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মনে করা ঠিক হবে না। এখানে নমুনাভিত্তিক তথ্য দেখানো হয়। আগে শনাক্ত হওয়া কিছু সরানো লিংকও প্রতিবেদনে থাকতে পারে।

কোনো লিংকে অনুসরণ না করার নির্দেশক ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও এই প্রতিবেদন থেকে সরাসরি জানা যায় না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবপেজের লিংক পরীক্ষা করতে হবে। এরপর ওয়েবসাইটের দর্শনার্থী বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে অন্য ওয়েবসাইটের লিংক থেকে আসা পাঠকদের তথ্য দেখুন। কোন ওয়েবসাইট থেকে দর্শনার্থী আসছেন এবং তাঁরা কী করছেন, তা বোঝার চেষ্টা করুন।

ধরা যাক, ব্যবসা পরিচালনাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট থেকে আপনার হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যারের তুলনামূলক নিবন্ধে লিংক দেওয়া হয়েছে। সেই লিংক ধরে সম্ভাব্য গ্রাহক আসতে পারেন। কিন্তু কতজন এসেছেন এবং তাঁরা কোনো প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন কি না, তা না দেখলে প্রকৃত ফলাফল বোঝা যাবে না।

অপ্রাসঙ্গিক অনেক লিংকের তুলনায় একটি প্রাসঙ্গিক লিংক বেশি কাজে আসতে পারে। তবে সেটিও ফলাফল দেখে মূল্যায়ন করা উচিত। আর ব্যাকলিংক পাওয়ার পর সার্চ র‍্যাঙ্কিং বাড়লে পুরো উন্নতির কৃতিত্ব ওই লিংককে দেওয়া যাবে না। কনটেন্টের পরিবর্তন, প্রতিযোগিতা এবং সার্চ ইঞ্জিনের অন্যান্য সংকেতও প্রভাব ফেলতে পারে।

আগে তৈরি করা ক্ষতিকর ব্যাকলিংক নিয়ে কী করবেন?

পুরোনো কোনো এসইও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ব্যাকলিংক সংগ্রহ করা হয়ে থাকলে প্রথমে সেগুলোর উৎস ও প্রকৃতি পরীক্ষা করুন। গুগল সার্চ কনসোলের ম্যানুয়াল অ্যাকশন প্রতিবেদনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও দেখুন। সার্চ র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি অস্বাভাবিক লিংকের কারণে ম্যানুয়াল অ্যাকশন থাকলে সেগুলো সরানো অথবা র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়া বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিংক সরানোর অনুরোধ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী লিংক অনুসরণ না করার নির্দেশক বা অন্য উপযুক্ত নির্দেশক যুক্ত করার অনুরোধও করা যেতে পারে। তবে কয়েকটি সন্দেহজনক লিংক দেখেই গুগলের লিংক অগ্রাহ্য করার সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত নয়।

গুগলের নির্দেশনা অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্প্যাম, কৃত্রিম বা নিম্নমানের ব্যাকলিংক থাকার পাশাপাশি সেগুলোর কারণে ম্যানুয়াল অ্যাকশন হয়েছে বা হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকলেই লিংক অগ্রাহ্য করার সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

ভুলভাবে ব্যবহার করলে উপকারী লিংকও গুগলের মূল্যায়ন থেকে বাদ পড়তে পারে। এতে ওয়েবসাইটের সার্চ পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সরঞ্জাম সরাসরি পুরো ডোমেইনভিত্তিক প্রপার্টি সমর্থন করে না। সংশ্লিষ্ট ওয়েব ঠিকানার উপসর্গভিত্তিক প্রপার্টি নির্বাচন করে কাজ করতে হয়।

ম্যানুয়াল অ্যাকশন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ প্রস্তুত করে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন সার্চ কনসোলে ম্যানুয়াল অ্যাকশন এলে কী করবেন।

তাহলে কোন কৌশলে মনোযোগ দেবেন?

লিংক বিল্ডিং ও লিংক আর্নিং-এর আলোচনায় একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার। পরিকল্পিতভাবে কনটেন্ট প্রচার করা আর কৃত্রিমভাবে লিংক তৈরি করা এক কাজ নয়। প্রাসঙ্গিক প্রকাশকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন এখনো রয়েছে। নতুন ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে পরিচিতি তৈরির জন্য এটি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে। কিন্তু কেবল লিংকের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অর্থ খরচ করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত।

দীর্ঘমেয়াদি কনটেন্ট কৌশলে লিংক আর্নিং-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার যুক্তি রয়েছে। বিশেষ করে যেসব ওয়েবসাইট নিয়মিত তথ্যভিত্তিক নিবন্ধ, গবেষণা ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা প্রকাশ করে, তাদের জন্য অন্য প্রকাশকের কাজে লাগার মতো তথ্য তৈরি করা একটি বাস্তবসম্মত পথ।

শুরুতে নিজের ওয়েবসাইটের কয়েকটি ভালো নিবন্ধ বেছে নিন। সেখানে এমন তথ্য আছে কি না দেখুন, যা অন্য প্রকাশকের কাজে লাগতে পারে। প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণ করুন, পুরোনো তথ্য সংশোধন করুন এবং কনটেন্টটি সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছে দিন।

লিংক পাওয়ার পর সেটি থেকে পাঠক আসছেন কি না, তাও পরীক্ষা করুন। ব্যাকলিংকের সংখ্যা বাড়ানোকে একমাত্র লক্ষ্য বানালে কনটেন্টের মানের দিকে মনোযোগ কমে যেতে পারে। অথচ অন্য প্রকাশক কেন আপনার ওয়েবসাইটকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন, সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তৈরি করতে পারলে লিংক অর্জনের সুযোগও বাড়তে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. লিংক বিল্ডিং ও লিংক আর্নিং-এর মধ্যে কোনটি এসইওর জন্য বেশি কার্যকর?

দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত কনটেন্টের মাধ্যমে লিংক অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়া যুক্তিসংগত। তবে নতুন ওয়েবসাইটের পরিচিতি বাড়াতে পরিকল্পিত লিংক বিল্ডিংও কাজে আসতে পারে। গুগল লিংক পাওয়ার পদ্ধতির নামের ভিত্তিতে র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণ করে না। লিংকের প্রাসঙ্গিকতা, প্রকৃতি এবং স্প্যাম নীতিমালা মেনে চলার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

২. নোফলো ব্যাকলিংক কি লিংক আর্নিং-এর অংশ হতে পারে?

হ্যাঁ। অন্য কোনো প্রকাশক নিজের প্রয়োজন থেকে আপনার কনটেন্টের লিংক দিতে পারেন এবং সেখানে নোফলো নির্দেশক ব্যবহার করতে পারেন। গুগল এ ধরনের নির্দেশককে লিংক মূল্যায়নের একটি সংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তবে সার্চ র‍্যাঙ্কিংয়ে নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এমন লিংক থেকেও পাঠক সরাসরি ওয়েবসাইটে আসতে পারেন।

৩. লিংক আর্নিং-এর মাধ্যমে ব্যাকলিংক পেতে কতদিন লাগে?

এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কনটেন্টের বিষয়, তথ্যের উপযোগিতা, প্রচার এবং অন্য প্রকাশকদের আগ্রহের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। কোনো নিবন্ধ দ্রুত ব্যাকলিংক পেতে পারে, আবার ভালো কনটেন্টও দীর্ঘদিন কোনো লিংক না পেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিংক পাওয়ার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

৪. অন্য ওয়েবসাইটে ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করলেই কি ব্যাকলিংক পাওয়া যায়?

না। কোনো প্রকাশনা আপনার প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ করলেও সেখানে ক্লিকযোগ্য লিংক না থাকলে সেটি ব্যাকলিংক হিসেবে গণ্য হবে না। একে লিংকবিহীন ব্র্যান্ড উল্লেখ বলা হয়। এমন উল্লেখ ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সরাসরি ব্যাকলিংকের বিকল্প নয়।

৫. ব্যাকলিংক ছাড়া কি নতুন ওয়েবসাইট গুগলে র‍্যাঙ্ক করতে পারে?

হ্যাঁ। ব্যাকলিংক ছাড়া কোনো ওয়েবপৃষ্ঠা গুগলের সার্চ ফলাফলে আসতে পারবে না, এমন নিয়ম নেই। গুগল বিভিন্ন সংকেতের ভিত্তিতে পৃষ্ঠার প্রাসঙ্গিকতা মূল্যায়ন করে। নতুন ওয়েবসাইটের জন্য উপযোগী কনটেন্ট, কার্যকর অভ্যন্তরীণ লিংক এবং সার্চ ইঞ্জিনের পক্ষে পৃষ্ঠা খুঁজে পাওয়া ও সূচিভুক্ত করার উপযোগী কারিগরি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এগুলো থাকলেই ভালো র‍্যাঙ্কিং নিশ্চিত হয় না।

সর্বশেষ