ওয়েবসাইটে নতুন নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু গুগলে সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না। গুগল সার্চ কনসোল খুলে দেখলেন, পেজটি ইনডেক্স হয়নি। পুরোনো কভারেজ রিপোর্টে সমস্যার কারণ খোঁজার অভ্যাস থাকলে এখন কিছুটা বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক।
গুগল সার্চ কনসোলে এখন পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্ট ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের ইনডেক্সিং অবস্থা দেখতে হয়। এটি পাবেন ইনডেক্সিং → পেজসমূহ বিভাগে। এখানে গুগল কোন পেজ ইনডেক্স করেছে, কোনগুলো করেনি এবং ইনডেক্স না করার কী কারণ শনাক্ত করেছে, তা দেখা যায়।
তবে রিপোর্টে ইনডেক্স না হওয়া পেজের সংখ্যা বেশি দেখালেই ওয়েবসাইটে বড় সমস্যা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। অনেক ওয়েব ঠিকানা ইনডেক্স না হওয়াই স্বাভাবিক। আসল প্রশ্ন হলো, আপনার গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলো গুগলের ইনডেক্সে আছে কি না। এই পার্থক্যটি বুঝতে পারলে রিপোর্টের সংখ্যা নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হতে হবে না। বরং কোথায় সত্যিই সমস্যা হয়েছে এবং সেটি সমাধানে কী করতে হবে, তার একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
পুরোনো কভারেজ রিপোর্ট কোথায় গেল?
গুগল সার্চ কনসোলের আগের ইনডেক্স কভারেজ রিপোর্টে পেজের অবস্থা চারটি শ্রেণিতে দেখানো হতো।
- ত্রুটি
- সতর্কতাসহ বৈধ
- বৈধ
- বাদ দেওয়া হয়েছে
২০২২ সালে গুগল সার্চ কনসোলের বিভিন্ন রিপোর্টে সমস্যার শ্রেণিবিন্যাস সরল করার উদ্যোগ নেয়। পরিবর্তিত পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টে পেজগুলো প্রধানত দুটি ভাগে দেখানো হয়।
- ইনডেক্স হয়েছে: গুগল পেজটি ইনডেক্স করেছে।
- ইনডেক্স হয়নি: গুগল ওই ওয়েব ঠিকানাটি ইনডেক্স করেনি।
আগের বাদ দেওয়া হয়েছে বিভাগের অনেক কারণ এখন ইনডেক্স হয়নি বিভাগের মধ্যে পাওয়া যায়। ফলে যাঁরা পুরোনো রিপোর্টে অভ্যস্ত, তাঁদের কাছে নতুন বিন্যাস প্রথমে কিছুটা অপরিচিত লাগতে পারে। তবে পরিবর্তনটি মূলত তথ্য দেখানোর পদ্ধতিতে। গুগল ইনডেক্সিংয়ের সম্পূর্ণ আলাদা কোনো ব্যবস্থা চালু করেনি। বরং এখন প্রতিটি পেজ ইনডেক্স না হওয়ার পেছনে গুগল কী কারণ শনাক্ত করেছে, সেটি বোঝার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হয়।
পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্ট খুলবেন যেভাবে
রিপোর্টটি দেখতে গুগল সার্চ কনসোলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের প্রপার্টিতে আপনার প্রবেশাধিকার থাকতে হবে।
১. গুগল সার্চ কনসোল খুলে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন।
২. ওপরের প্রপার্টি নির্বাচন করার অপশন থেকে সঠিক ওয়েবসাইট বেছে নিন।
৩. বাঁ পাশের মেনুতে ইনডেক্সিং → পেজসমূহ বিভাগ খুলুন।
৪. ইনডেক্স হয়েছে এবং ইনডেক্স হয়নি, এমন পেজের সংখ্যা দেখুন। রেখাচিত্রে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করুন।
৫. নিচের কেন পেজগুলো ইনডেক্স হয়নি অংশে যান। সেখানে সমস্যার কারণ অনুযায়ী ওয়েব ঠিকানাগুলো সাজানো থাকবে।
৬. কোনো কারণের বিস্তারিত দেখতে সেটিতে ক্লিক করুন। এরপর প্রয়োজনীয় ওয়েব ঠিকানা নির্বাচন করে পরিদর্শনের সুবিধাটি ব্যবহার করুন।
এখানে প্রপার্টি নির্বাচনের বিষয়টি ছোট মনে হলেও গুরুত্বপূর্ণ। ডোমেইন প্রপার্টিতে সংশ্লিষ্ট সাবডোমেইন ও বিভিন্ন প্রোটোকলের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানার উপসর্গভিত্তিক প্রপার্টিতে সেই উপসর্গ দিয়ে শুরু হওয়া ঠিকানাগুলোর তথ্য দেখানো হয়। ভুল প্রপার্টি নির্বাচন করলে কাঙ্ক্ষিত পেজের তথ্য খুঁজে না-ও পেতে পারেন। নতুন প্রপার্টি যোগ করার পর তথ্য তৈরি হতেও কিছু সময় লাগতে পারে।
ইনডেক্স না হওয়া পেজের সংখ্যা বেশি দেখালেই কি চিন্তার কারণ?

একটি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটের কথাই বিবেচনা করুন। সেখানে নিয়মিত নতুন নিবন্ধ প্রকাশ হচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগ, ট্যাগ, পুরোনো পুনর্নির্দেশ এবং একই বিষয়বস্তুর বিকল্প ওয়েব ঠিকানাও থাকতে পারে।
এসব ঠিকানার সবগুলো গুগলের ইনডেক্সে থাকা জরুরি নয়। গুগল সাধারণত একই বা খুব কাছাকাছি বিষয়বস্তুর একাধিক ওয়েব ঠিকানা থেকে একটি প্রধান সংস্করণ নির্বাচন করে। এই ঠিকানাকে বলা হয় ক্যানোনিক্যাল ওয়েব ঠিকানা। ফলে কোনো বিকল্প ঠিকানা ইনডেক্স না হলেও মূল পেজটি ঠিকভাবে ইনডেক্স হয়ে থাকতে পারে।
এ কারণে পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টের মোট সংখ্যা দেখে ওয়েবসাইটের অবস্থা ভালো বা খারাপ বলা কঠিন। বরং তিনটি বিষয় আগে দেখুন। গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ ইনডেক্স হচ্ছে কি না, আগে ইনডেক্স থাকা কোনো পেজ হঠাৎ বাদ পড়েছে কি না এবং একই ধরনের সমস্যায় একসঙ্গে অনেক পেজ আক্রান্ত হয়েছে কি না।
আরও পড়ুন: গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন
ইনডেক্স হওয়া পেজের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে
রেখাচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখলে প্রথমেই ওয়েবসাইটের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখুন। কোনো এসইও প্লাগইনের সেটিং বদলানো হয়েছে? নতুন নকশার টেমপ্লেট চালু হয়েছে? ওয়েব ঠিকানা পরিবর্তন বা পুনর্নির্দেশের কাজ হয়েছে? সার্ভার-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে?
ভুল করে গুরুত্বপূর্ণ পেজে ইনডেক্স না করার নির্দেশনা যুক্ত হয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা দরকার। একই সময়ে ইনডেক্স হয়নি বিভাগের কোন কারণের সংখ্যা বেড়েছে, তা দেখলে সমস্যার উৎস খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
তবে রেখাচিত্রের প্রতিটি ওঠানামাকে বিপদের সংকেত মনে করার কারণ নেই। রিপোর্টে গুগলের জানা ওয়েব ঠিকানাগুলোর হিসাব থাকে। কোনো পেজ সম্পর্কে গুগল এখনও না জানলে সেটি এই সংখ্যার মধ্যেও থাকবে না।
কোন ইনডেক্সিং অবস্থায় কী করবেন?
পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টের সবচেয়ে দরকারি অংশ হলো কেন পেজগুলো ইনডেক্স হয়নি। এখানে বিভিন্ন অবস্থার অর্থ বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। সব পেজে একই সমাধান প্রয়োগ করলে সময় নষ্ট হবে, কখনো নতুন সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
রিপোর্টের উৎস কলামও খেয়াল করুন। কোনো কারণ ওয়েবসাইট হিসেবে চিহ্নিত থাকলে সাধারণত ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে সংশোধনের সুযোগ থাকে। গুগল হিসেবে চিহ্নিত থাকলে সমস্যাটি কোনো একটি সেটিং পরিবর্তন করেই সমাধান করা নাও যেতে পারে।
ক্রল করা হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে ইনডেক্স হয়নি
এই অবস্থার অর্থ হলো, গুগল পেজটি ক্রল করেছে, কিন্তু ইনডেক্সে যুক্ত করেনি। এখানে একটি সাধারণ ভুল হয়। অনেকে ধরে নেন, পেজটি ইনডেক্স না হওয়ার অর্থ বিষয়বস্তুর মান খারাপ। বিষয়টি এত সরল নয়। গুগল কোনো পেজ ক্রল করলেই সেটি ইনডেক্স করবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আবার এই অবস্থা দেখেও নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না যে বিষয়বস্তুর মানই সমস্যার কারণ।
তবে দীর্ঘদিন একই অবস্থা থাকলে কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করা যুক্তিযুক্ত। নিবন্ধটি কি পাঠকের প্রশ্নের যথেষ্ট উত্তর দিচ্ছে? ওয়েবসাইটে প্রায় একই তথ্য নিয়ে একাধিক পেজ রয়েছে? সংশ্লিষ্ট পেজটির সঙ্গে অন্য গুরুত্বপূর্ণ পেজের অভ্যন্তরীণ সংযোগ রয়েছে?
ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শনের মাধ্যমে গুগলের নির্বাচিত প্রধান ঠিকানা এবং সর্বশেষ ক্রলের তারিখও দেখুন। এসব পরীক্ষা না করে শুধু বারবার ইনডেক্স করার অনুরোধ পাঠানোর তেমন লাভ নেই। গুগলের নির্দেশনাতেও এই অবস্থায় ওয়েব ঠিকানা পুনরায় জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। পেজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করার পর গুগল দীর্ঘদিন সেটি শনাক্ত না করলে পুনঃক্রলের অনুরোধ বিবেচনা করা যেতে পারে।
ওয়েব ঠিকানা শনাক্ত হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে ইনডেক্স হয়নি
এখানে পরিস্থিতি আলাদা। গুগল পেজের ঠিকানা সম্পর্কে জানে, কিন্তু এখনও সেটি ক্রল করেনি। সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে কখনো ক্রল পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানার ক্ষেত্রে এটাই একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
নতুন প্রকাশিত পেজে এই অবস্থা দেখা গেলে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করা যুক্তিসংগত। দীর্ঘদিন পরিবর্তন না হলে এক্সএমএল সাইটম্যাপ পরীক্ষা করুন। পেজটি গুরুত্বপূর্ণ অন্য পেজ থেকে সংযুক্ত আছে কি না, দেখুন। একই সঙ্গে সার্ভার গুগলের অনুরোধ গ্রহণ করতে পারছে কি না, সেটিও যাচাই করুন।
বড় ওয়েবসাইটে অপ্রয়োজনীয় ওয়েব ঠিকানা বেশি থাকলে ক্রল ব্যবস্থাপনা আলাদাভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে। ক্রল করা হয়েছে এবং শনাক্ত হয়েছে—এই দুই অবস্থার পার্থক্যটি মনে রাখা দরকার। প্রথম ক্ষেত্রে গুগল ইতিমধ্যে পেজ ক্রল করেছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এখনও ক্রল করেনি। ফলে সমস্যা খোঁজার জায়গাও এক নয়।
ইনডেক্স না করার নির্দেশনা রয়েছে
কোনো পেজে ইনডেক্স না করার নির্দেশনা থাকলে গুগল সেটিকে ইনডেক্স না করার সংকেত পায়। প্রযুক্তিগতভাবে এই নির্দেশনাটি ‘নোইনডেক্স’ নামে পরিচিত। এই নির্দেশনা এইচটিএমএলের রোবটস মেটা ট্যাগ অথবা এইচটিটিপি প্রতিক্রিয়ার শিরোনামের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে।
পরীক্ষামূলক বা সার্চ ফলাফলে দেখানোর প্রয়োজন নেই এমন পেজে এই নির্দেশনা ব্যবহার যুক্তিযুক্ত। কিন্তু প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধে ভুল করে এটি যুক্ত থাকলে সেটি অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট পেজের এসইও প্লাগইনের সেটিং দেখুন। পাশাপাশি পেজের এইচটিএমএল এবং প্রয়োজনে এক্স-রোবটস-ট্যাগ প্রতিক্রিয়ার শিরোনাম পরীক্ষা করুন।
এখানে রোবটস নির্দেশনা ফাইল ও ইনডেক্স না করার নির্দেশনার পার্থক্য বোঝা জরুরি। রোবটস ডট টিএক্সটি ফাইল দিয়ে ক্রল বন্ধ করা আর নোইনডেক্স নির্দেশনা দিয়ে ইনডেক্সিং বন্ধ করা একই কাজ নয়।
রোবটস নির্দেশনা ফাইলের কারণে ওয়েব ঠিকানা ব্লক হয়েছে
রোবটস ডট টিএক্সটি ফাইলে এমন নিয়ম থাকলে এই অবস্থা দেখা যায়, যা গুগলকে সংশ্লিষ্ট পেজ ক্রল করতে বাধা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ ভুল করে ব্লক হয়ে থাকলে নিয়মটি সংশোধন করতে হবে।
তবে শুধু এই ফাইল দিয়ে ক্রল বন্ধ করলেই ওয়েব ঠিকানাটি গুগলের ইনডেক্স থেকে নিশ্চিতভাবে বাদ পড়বে না। অন্য পেজের সংযোগ থেকে ঠিকানাটি জানতে পারলে গুগল কিছু ক্ষেত্রে সেটি ইনডেক্স করতে পারে।
পেজ সার্চ ফলাফলে না রাখার উদ্দেশ্য থাকলে উপযুক্ত নোইনডেক্স নির্দেশনা ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে গুগল যেন নির্দেশনাটি পড়তে পারে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধান ওয়েব ঠিকানা ও ডুপ্লিকেট পেজ নিয়ে অযথা সংশোধন করবেন না
ইনডেক্সিং রিপোর্টে কিছু অবস্থা আছে, যেগুলো দেখলেই ওয়েবসাইটে ত্রুটি হয়েছে ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক ক্যানোনিক্যাল নির্দেশনাযুক্ত বিকল্প পেজ এর একটি উদাহরণ। এ ক্ষেত্রে একটি ওয়েব ঠিকানা অন্য ঠিকানাকে প্রধান সংস্করণ হিসেবে নির্দেশ করছে এবং গুগল সেই প্রধান সংস্করণ ইনডেক্স করেছে।
আপনার উদ্দেশ্যও যদি সেটিই হয়ে থাকে, তাহলে ওই বিকল্প ঠিকানা ইনডেক্স করানোর জন্য বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু ব্যবহারকারীর নির্ধারিত প্রধান ঠিকানার পরিবর্তে গুগল অন্য প্রধান ঠিকানা নির্বাচন করেছে—এমন অবস্থা কিছুটা বেশি মনোযোগ দাবি করে।
এখানে ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে যে ঠিকানাকে প্রধান হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, গুগল তার বদলে অন্য ঠিকানা নির্বাচন করেছে। ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের ঘোষিত প্রধান ঠিকানা এবং গুগলের নির্বাচিত প্রধান ঠিকানা তুলনা করুন।
পেজের বিষয়বস্তু, অভ্যন্তরীণ সংযোগ, সাইটম্যাপ এবং পুনর্নির্দেশও মিলিয়ে দেখা দরকার। একই বিষয়বস্তুর একাধিক সংস্করণ থাকলে কোনটি প্রধান হওয়া উচিত, তা পরিষ্কার করুন। তবে ক্যানোনিক্যাল ট্যাগ বসালেই গুগল সেটি মেনে নেবে, এমন নয়। এটি গুগলকে দেওয়া একটি সংকেত। বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করে গুগল অন্য ঠিকানা নির্বাচন করতে পারে।
পুনর্নির্দেশ, ৪০৪ ও সার্ভারের ত্রুটি: কখন ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি?
সব ইনডেক্স না হওয়া পেজের সমস্যা সমান গুরুত্বের নয়। বিশেষ করে সার্ভারের ত্রুটি এবং গুরুত্বপূর্ণ পেজের ভুল পুনর্নির্দেশ দ্রুত খতিয়ে দেখা উচিত।
পুনর্নির্দেশযুক্ত পেজ
পুরোনো কোনো নিবন্ধ নতুন ওয়েব ঠিকানায় স্থানান্তর করলে আগের ঠিকানার জন্য পুনর্নির্দেশযুক্ত পেজের অবস্থা দেখা স্বাভাবিক। সেই পুরোনো ঠিকানা আলাদাভাবে ইনডেক্স না হলেও সমস্যা নেই।
কিন্তু নতুন ঠিকানাটি ইনডেক্স হয়েছে কি না, তা দেখা জরুরি। পুনর্নির্দেশ ঠিকভাবে কাজ করলেই গন্তব্য পেজ ইনডেক্স হয়েছে, এমন নয়। পুনর্নির্দেশের ধারাবাহিকতা অস্বাভাবিক দীর্ঘ হলে অথবা একই ঠিকানায় বারবার ফিরে এলে সংশোধন করতে হবে।
পেজ পাওয়া যায়নি (৪০৪) এবং সফট ৪০৪
কোনো পেজ সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং তার উপযুক্ত বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে ৪০৪ অবস্থা দেখানো স্বাভাবিক। কিন্তু প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ হঠাৎ ৪০৪ দেখালে বিষয়টি আলাদা। পেজের ঠিকানা, প্রকাশনার অবস্থা এবং সার্ভারের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে হবে।
সফট ৪০৪ একটু ভিন্ন সমস্যা। পেজটি কার্যত অনুপস্থিত হলেও সার্ভার সঠিক ৪০৪ অবস্থা না জানিয়ে সফল প্রতিক্রিয়া পাঠালে গুগল সেটিকে সফট ৪০৪ হিসেবে শনাক্ত করতে পারে। খুব সীমিত বা কার্যত অকার্যকর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে।
সত্যিই অনুপস্থিত পেজে উপযুক্ত এইচটিটিপি অবস্থা ব্যবহার করুন। আর পেজটি থাকার কথা হলে তার বিষয়বস্তু ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
সার্ভারের ত্রুটি ও পুনর্নির্দেশের সমস্যা
৫০০ থেকে ৫৯৯ শ্রেণির সার্ভার ত্রুটি দেখালে বুঝতে হবে, গুগল পেজটি আনতে গিয়ে সার্ভার থেকে সংশ্লিষ্ট ত্রুটির প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। হোস্টিং সমস্যা, সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ, ভুল কনফিগারেশন অথবা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা এর পেছনে থাকতে পারে।
পুনর্নির্দেশের ত্রুটি হলে একই ঠিকানায় ঘুরে আসা, অতিরিক্ত দীর্ঘ ধারাবাহিকতা কিংবা অকার্যকর গন্তব্য রয়েছে কি না, পরীক্ষা করুন। একসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পেজে এসব সমস্যা দেখা দিলে শুধু সার্চ কনসোলের রিপোর্ট দেখেই থেমে থাকবেন না। ওয়েব ডেভেলপার বা হোস্টিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
সব ওয়েব ঠিকানা একসঙ্গে না দেখে সাইটম্যাপ দিয়ে আলাদা করুন

বড় ওয়েবসাইটে পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টের একটি ব্যবহারিক অসুবিধা হলো, বিপুলসংখ্যক ওয়েব ঠিকানার মধ্যে কোনগুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, তা আলাদা করা। এই কাজে সাইটম্যাপ ফিল্টার সাহায্য করে। রিপোর্টে নিচের বিকল্পগুলো ব্যবহার করা যায়।
| বিকল্প | কী দেখায় |
| সব পরিচিত পেজ | গুগলের জানা সব ওয়েব ঠিকানা |
| জমা দেওয়া সব পেজ | জমা দেওয়া সাইটম্যাপের ওয়েব ঠিকানা |
| জমা দেওয়া হয়নি এমন পেজ | জমা দেওয়া সাইটম্যাপের বাইরে থাকা ঠিকানা |
| নির্দিষ্ট সাইটম্যাপ | নির্বাচিত সাইটম্যাপের ওয়েব ঠিকানা |
এখানে জমা দেওয়া সাইটম্যাপ বলতে সার্চ কনসোলের সাইটম্যাপ প্রতিবেদন অথবা রোবটস নির্দেশনা ফাইলে উল্লেখ করা সাইটম্যাপ বোঝায়। সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটে নিবন্ধের জন্য আলাদা সাইটম্যাপ থাকলে সেটি নির্বাচন করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে অপ্রয়োজনীয় বিকল্প ঠিকানার ভিড় এড়িয়ে মূল নিবন্ধগুলোর অবস্থা দেখা সহজ হয়।
তবে সাইটম্যাপে ওয়েব ঠিকানা রাখলেই গুগল সেটি ইনডেক্স করবে না। সাইটম্যাপ পেজ আবিষ্কারে সাহায্য করে, ইনডেক্সিং নিশ্চিত করে না।
নির্দিষ্ট একটি পেজের সমস্যা খুঁজতে ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শন করুন
পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্ট সামগ্রিক অবস্থা দেখায়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়েব ঠিকানা কেন ইনডেক্স হচ্ছে না, সেটি বুঝতে হলে ঠিকানাটি আলাদাভাবে পরিদর্শন করতে হবে। সার্চ কনসোলের ওপরের পরিদর্শন বক্সে সম্পূর্ণ ওয়েব ঠিকানাটি লিখুন।
এখানে গুগলের সংরক্ষিত তথ্য থেকে পেজটির অবস্থা দেখা যাবে। বিশেষ করে পাঁচটি বিষয় খেয়াল করুন।
- সর্বশেষ ক্রল: গুগল সর্বশেষ কখন পেজটি ক্রল করেছে। সম্প্রতি বিষয়বস্তু বা সেটিং পরিবর্তন করে থাকলে পুরোনো ক্রলের তথ্যে সেটি প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
- ক্রল করার অনুমতি: রোবটস নির্দেশনা ফাইলের কারণে ক্রল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না।
- ইনডেক্সিংয়ের অনুমতি: পেজে ইনডেক্সিং বন্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে কি না।
- পেজ সংগ্রহের অবস্থা: গুগল পেজটি আনতে পেরেছে কি না।
- গুগলের নির্বাচিত প্রধান ঠিকানা: গুগল কোন ওয়েব ঠিকানাকে প্রধান সংস্করণ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
সব ওয়েব ঠিকানার জন্য সব তথ্য পাওয়া যায় না। বিশেষ করে এখনও ক্রল না হওয়া পেজে কিছু বিবরণ অনুপস্থিত থাকতে পারে।
সরাসরি পেজ পরীক্ষা কেন দরকার?
ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শনে দেখা তথ্য সব সময় পেজের এই মুহূর্তের অবস্থা নয়। তাই কোনো সমস্যা সংশোধন করার পর সরাসরি ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষা ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত। এটি পেজের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে। আগে শনাক্ত হওয়া কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে কি না, তা বুঝতে সাহায্য করে।
তবে এখানে একটি সীমাবদ্ধতা আছে। সরাসরি পরীক্ষায় পেজ ইনডেক্সযোগ্য মনে হলেও গুগল সেটিকে ইনডেক্স করবেই, এমন নয়। এমনকি গুগল শেষ পর্যন্ত কোন ঠিকানাকে প্রধান সংস্করণ হিসেবে নির্বাচন করবে, সেটিও এই পরীক্ষা নির্ধারণ করতে পারে না।
পেজের সামগ্রিক বিষয়বস্তুর মান, সব নিরাপত্তা সমস্যা কিংবা গুগলের প্রতিটি নীতিগত মূল্যায়নও এখানে যাচাই হয় না। ফলে সরাসরি পরীক্ষার ফল সফল হলে সেটিকে একটি ইতিবাচক প্রযুক্তিগত সংকেত হিসেবে দেখুন, ইনডেক্সিংয়ের নিশ্চয়তা হিসেবে নয়।
সংশোধন যাচাই ও ইনডেক্স করার অনুরোধ এক কাজ করে না
ইনডেক্সিং সমস্যা সমাধানের সময় সার্চ কনসোলে দুটি আলাদা সুবিধা ব্যবহার করা যায়।
একটি হলো সংশোধন যাচাইয়ের অনুরোধ। অন্যটি ইনডেক্স করার অনুরোধ।
দুটিই গুগলকে কোনো না কোনোভাবে পুনরায় পরীক্ষা করতে জানানোর ব্যবস্থা, কিন্তু উদ্দেশ্য আলাদা। সংশোধন যাচাইয়ের সুবিধাটি ব্যবহার করা হয় রিপোর্টে শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট সমস্যার সংশোধন গুগলকে পরীক্ষা করতে বলার জন্য।
অন্যদিকে ইনডেক্স করার অনুরোধ দিয়ে নির্দিষ্ট একটি ওয়েব ঠিকানা ক্রল বা পুনঃক্রলের আবেদন পাঠানো হয়। কোনটি ব্যবহার করবেন, তা সমস্যার ধরন ও সংশোধনের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
সংশোধন যাচাইয়ের অনুরোধ পাঠানোর আগে যা করবেন
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পেজে ভুল নোইনডেক্স নির্দেশনা পাওয়া গেলে প্রথম কাজ হলো নির্দেশনাটি সরানো। এরপর একই সমস্যায় আক্রান্ত অন্য পরিচিত ওয়েব ঠিকানাগুলোও পরীক্ষা করুন। কয়েকটি পেজ ঠিক করে বাকিগুলোতে সমস্যা রেখে দিলে যাচাই ব্যর্থ হতে পারে।
সংশোধন শেষ হলে পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টের কেন পেজগুলো ইনডেক্স হয়নি অংশ থেকে সংশ্লিষ্ট সমস্যার বিস্তারিত খুলুন।
সেখানে সংশোধন যাচাই করুন অপশন পাওয়া গেলে সেটি ব্যবহার করুন।
গুগল সংশ্লিষ্ট সমস্যার পরিচিত ওয়েব ঠিকানাগুলো পুনরায় পরীক্ষা করবে। যাচাইয়ের অগ্রগতি ও ফলাফল রিপোর্টে দেখা যায়। এই প্রক্রিয়া সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে, তবে কখনো আরও বেশি সময় লাগে। যাচাই চলাকালে বারবার একই অনুরোধ পাঠানোর দরকার নেই।
যাচাই ব্যর্থ হলে বিস্তারিত তথ্য দেখে কোন ঠিকানায় সমস্যা রয়ে গেছে, তা শনাক্ত করুন। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর আবার যাচাই শুরু করা যাবে। আরেকটি বিষয় হলো, গুগল নিয়মিত ক্রল করার সময় নিজে থেকেও সংশোধিত সমস্যা শনাক্ত করতে পারে। প্রতিটি সংশোধনের পর আলাদা যাচাইয়ের অনুরোধ পাঠানো বাধ্যতামূলক নয়।
এমনকি সংশোধন যাচাই সফল হলেও সংশ্লিষ্ট সব পেজ ইনডেক্স হয়েছে, সেটি নিশ্চিত করা যায় না। কারণ এই প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সমস্যার সংশোধন যাচাই করে।
ইনডেক্স করার অনুরোধ কখন করবেন?
গুরুত্বপূর্ণ নতুন পেজ প্রকাশ করেছেন, অথবা আগে সমস্যায় থাকা একটি ওয়েব ঠিকানা সংশোধন করেছেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শন থেকে ইনডেক্স করার অনুরোধ পাঠানো যেতে পারে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সার্চ কনসোল প্রপার্টিতে মালিক অথবা পূর্ণ প্রবেশাধিকারের অনুমতি থাকতে হবে।
তবে অনুরোধ পাঠানোর সংখ্যায় সীমা রয়েছে। একই ঠিকানা বারবার জমা দিলেও দ্রুত ইনডেক্স হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অনেকগুলো নতুন বা পরিবর্তিত পেজ থাকলে যথাযথ সাইটম্যাপ ব্যবহার করাই বেশি বাস্তবসম্মত। পরিবর্তিত পেজের ক্ষেত্রে সর্বশেষ পরিবর্তনের সঠিক তারিখ সাইটম্যাপে যুক্ত করাও কাজে আসতে পারে।
পেজ ইনডেক্স হয়েছে, তবু সার্চ থেকে পাঠক আসছে না কেন?
এখানে ইনডেক্সিং ও সার্চ পারফরম্যান্সের পার্থক্যটি পরিষ্কার করা দরকার। পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্ট জানায় পেজটি গুগলের ইনডেক্সে আছে কি না। কিন্তু পেজটি কতবার সার্চ ফলাফলে দেখানো হচ্ছে কিংবা কতজন ক্লিক করছেন, তা এই রিপোর্টের কাজ নয়।
সে তথ্য দেখতে হবে পারফরম্যান্স → সার্চ ফলাফল বিভাগে।
সেখানে ক্লিক, ইমপ্রেশন বা প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিকের হার এবং গড় অবস্থান দেখা যায়।
কোনো নিবন্ধ ইনডেক্স হয়েছে দেখালেও সার্চ থেকে খুব কম পাঠক আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু ইনডেক্সিং নিয়ে কাজ করলে মূল সমস্যাটি অমীমাংসিত থেকে যাবে। সার্চ ফলাফলে প্রদর্শনের সংখ্যা, ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা ও সার্চ ফলাফলে অবস্থান বিশ্লেষণ করা দরকার।
অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পেজ ইনডেক্স না হয়ে থাকলে আগে সেটির ইনডেক্সিং অবস্থা পরীক্ষা করুন। গুগলে ইনডেক্স হওয়া আর ভালো অবস্থান পাওয়া এক বিষয় নয়। একইভাবে ইনডেক্সিং সমস্যার সমাধান করলেই পাঠকসংখ্যা বাড়বে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
নিয়মিত রিপোর্ট দেখবেন, কিন্তু সব সমস্যার পেছনে ছুটবেন না
পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্ট ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিন প্রতিটি ইনডেক্স না হওয়া ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং কোন সমস্যাটি ওয়েবসাইটের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি নির্ধারণ করুন।
যে পেজ আগে ইনডেক্স ছিল কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়েছে, সেটি আগে দেখার যুক্তি আছে। এরপর হোমপেজ, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, প্রয়োজনীয় নিবন্ধ এবং ব্যবসাসংশ্লিষ্ট পেজগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করুন।
একাধিক ওয়েব ঠিকানায় একই সমস্যা দেখা গেলে প্রতিটি পেজ আলাদাভাবে সংশোধনের আগে কারণটি খুঁজুন। একটি টেমপ্লেট, প্লাগইন বা সার্ভার সেটিংয়ের ভুল বহু পেজকে প্রভাবিত করতে পারে।
ছোট ওয়েবসাইটে গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলো সরাসরি পরীক্ষা করাই অনেক সময় যথেষ্ট। তবে নিয়মিত নতুন নিবন্ধ প্রকাশ করে এমন সংবাদমাধ্যম, বড় অনলাইন বিপণন সাইট কিংবা বিপুলসংখ্যক পেজের ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট সময় পরপর রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ বেশি কার্যকর।
আরেকটি সীমাবদ্ধতা ভুলে গেলে চলবে না। একটি সমস্যার জন্য গুগল সর্বোচ্চ ১,০০০টি উদাহরণ ওয়েব ঠিকানা দেখাতে পারে। প্রকৃত সমস্যার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তাই উদাহরণ ঠিকানার তালিকাকে সম্পূর্ণ তালিকা ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
ইনডেক্সিং সমস্যা সমাধানের সময় তিনটি ভুল বেশি ক্ষতি করতে পারে
প্রথম ভুল হলো, সব ইনডেক্স না হওয়া পেজ ইনডেক্স করানোর চেষ্টা করা। একই বিষয়বস্তুর বিকল্প পেজ, পুরোনো পুনর্নির্দেশ কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া ওয়েব ঠিকানা ইনডেক্স না হওয়া স্বাভাবিক। এসব নিয়ে সময় দেওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলোর অবস্থা দেখুন।
দ্বিতীয় ভুল, কারণ না বুঝে রোবটস নির্দেশনা ফাইল পরিবর্তন করা। ক্রল বন্ধ করা এবং ইনডেক্সিং বন্ধ করার উদ্দেশ্য আলাদা। ভুল নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ পেজের ক্রল বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তৃতীয় ভুল, সংশোধন যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সমস্যার সমাধান মনে করা। এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিজে থেকে ঠিক করে দেয় না। আগে ওয়েবসাইটের সমস্যাটি সংশোধন করতে হবে। তারপর প্রয়োজন হলে গুগলকে যাচাই করতে জানাতে হবে।
একই কারণে ইনডেক্সিং সমস্যা দেখা দিলেই পুরো ওয়েবসাইটের ঠিকানার কাঠামো বদলে ফেলা উচিত নয়। আগে কয়েকটি প্রভাবিত পেজ পরীক্ষা করে সমস্যার উৎস শনাক্ত করুন।
তাহলে প্রথমে কোন কাজটি করবেন?
আপনার ওয়েবসাইটে গুরুত্বপূর্ণ কোনো নিবন্ধ ইনডেক্স না হলে পুরো রিপোর্ট নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই। প্রথমে ওই ওয়েব ঠিকানার পরিদর্শন প্রতিবেদন খুলুন। দেখুন গুগল পেজটি ক্রল করেছে কি না। ক্রল করে থাকলে ইনডেক্স না করার নির্দেশনা, প্রধান ওয়েব ঠিকানা, সার্ভারের প্রতিক্রিয়া এবং অন্য প্রযুক্তিগত তথ্য মিলিয়ে নিন।
কোনো প্রযুক্তিগত বাধা না পেলে বিষয়বস্তু ও অভ্যন্তরীণ সংযোগ পর্যালোচনা করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করুন এবং গুগলের পরবর্তী মূল্যায়ন পর্যবেক্ষণ করুন। আর যদি অনেকগুলো পেজে একই সমস্যা থাকে, তাহলে আলাদা ঠিকানা ধরে কাজ না করে সেটিং, টেমপ্লেট বা সার্ভারে সাধারণ কোনো কারণ রয়েছে কি না, খুঁজুন।
পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টের মূল কাজ সব ওয়েব ঠিকানা ইনডেক্স করানো নয়। কোন পেজ ইনডেক্স হওয়া দরকার, কোনটি বাদ থাকাই স্বাভাবিক এবং কোথায় প্রকৃত সমস্যা তৈরি হয়েছে—এই সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারলেই রিপোর্টটি কাজে লাগবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. নতুন ওয়েবসাইটের পেজ গুগলে ইনডেক্স হতে কত দিন লাগে?
নতুন পেজ গুগলে ইনডেক্স হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। ওয়েবসাইটের অবস্থা, পেজ আবিষ্কারের সুযোগ এবং গুগলের ক্রল প্রক্রিয়ার ওপর সময় নির্ভর করে। সাইটম্যাপে পেজ যুক্ত করা ও ইনডেক্স করার অনুরোধ পাঠানো যেতে পারে, তবে তাতে দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
২. কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টে একেবারেই দেখা না গেলে কী করবেন?
প্রথমে নিশ্চিত করুন, গুগল পেজটির ঠিকানা সম্পর্কে জানে কি না। নতুন পেজ হলে সেটি এখনও গুগলের নজরে না-ও আসতে পারে। সাইটম্যাপে ঠিকানা রয়েছে কি না এবং অন্য পেজ থেকে সেখানে যাওয়ার সংযোগ আছে কি না, পরীক্ষা করুন। এরপর ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শন করে বর্তমান অবস্থা দেখুন। পেজটি সবার জন্য উন্মুক্ত কি না, সেটিও যাচাই করা দরকার।
৩. ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শনে ইনডেক্স হয়েছে দেখালেও মূল রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে না কেন?
গুগলের দুটি প্রতিবেদনের তথ্য হালনাগাদ হওয়ার সময় আলাদা হতে পারে। কোনো পেজ সম্প্রতি ইনডেক্স হয়ে থাকলে ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শনে সেটি দেখা গেলেও মূল পেজ ইনডেক্সিং রিপোর্টে প্রতিফলিত হতে কিছু সময় লাগতে পারে। এ অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটের সেটিং পরিবর্তন না করে পরবর্তী হালনাগাদের জন্য অপেক্ষা করা যুক্তিযুক্ত।
৪. সাইটম্যাপে কি ওয়েবসাইটের সব ঠিকানা রাখা উচিত?
না। সাধারণত সার্চ ফলাফলে দেখাতে চান এমন গুরুত্বপূর্ণ পেজের প্রধান ঠিকানাগুলো সাইটম্যাপে রাখা উচিত। একই বিষয়বস্তুর একাধিক বিকল্প ঠিকানা থাকলে পছন্দের প্রধান সংস্করণটি নির্বাচন করুন। অপ্রয়োজনীয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া পেজ সাইটম্যাপে রাখার দরকার নেই। এতে গুগলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলো শনাক্ত করা সহজ হয়।
৫. নিবন্ধ হালনাগাদ করার পরও গুগলে পুরোনো তথ্য দেখা গেলে কী করবেন?
প্রথমে ওয়েব ঠিকানা পরিদর্শনে গুগলের সর্বশেষ ক্রলের তারিখ দেখুন। নিবন্ধ পরিবর্তনের আগের তারিখ থাকলে গুগল সম্ভবত নতুন সংস্করণটি এখনও ক্রল করেনি। প্রয়োজন হলে পুনঃক্রলের অনুরোধ পাঠাতে পারেন। সাইটম্যাপে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের তারিখও সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। তবে গুগল কখন নতুন তথ্য সার্চ ফলাফলে দেখাবে, তার নিশ্চয়তা নেই।

