সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে মানুষের জীবনযাত্রা, মনস্তত্ত্ব এবং শখের জায়গায় একটি বড় ও লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের মতো বড় বড় শহরাঞ্চলে কুকুর-বিড়াল বা অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণী পালনের প্রবণতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সামাজিক পরিবর্তনের হাত ধরেই পোষা প্রাণীর খাবারের শিল্পে বা ব্যবসায়ে তৈরি হচ্ছে অভাবনীয় এবং অত্যন্ত লাভজনক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। একসময় গৃহপালিত প্রাণীর খাবার বলতে মূলত বাড়ির উদ্বৃত্ত বা মানুষের জন্য রান্না করা খাবারকেই বোঝানো হতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এবং প্রাণীদের পুষ্টিগত চাহিদা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ায় বর্তমানে প্রক্রিয়াজাত এবং সুষম পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ পোষা প্রাণীর খাবারের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
এই সম্ভাবনাময় খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সুযোগ নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই লেখায়।
বাংলাদেশে কুকুর-বিড়াল পালনের বর্তমান পরিসংখ্যান ও প্রবণতা

পোষা প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের একটি পরিষ্কার চিত্র সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে। এসিআই (ACI)-এর ২০২৪ সালের এক সমীক্ষা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘Pet ownership in Bangladesh’-এর হার গত তিন বছরে প্রায় ১৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিড়াল এবং কুকুরের সংখ্যা:
‘Dog cat population Bangladesh’-এর সর্বশেষ অনুমান এবং গবেষণা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ বিড়াল রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪৮টি বিড়াল পোষা হিসেবে লালন-পালন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশে প্রায় ১৭ লাখ কুকুর থাকলেও, পোষা কুকুরের সংখ্যা আনুমানিক ২ লাখ ৮৯ হাজার।
| প্রাণীর ধরন | মোট সংখ্যা (আনুমানিক) | পোষা হিসেবে লালন-পালন (আনুমানিক) |
| বিড়াল | প্রায় ৪০ লাখ | প্রায় ৫,৬৪,৮৪৮ |
| কুকুর | প্রায় ১৭ লাখ | প্রায় ২,৮৯,০০০ |
বিড়ালের জনপ্রিয়তা বেশি:
উপরোক্ত তথ্য থেকে এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে, কুকুর পালনের তুলনায় মানুষের মধ্যে বিড়াল পালনের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। মোট পোষা প্রাণী পালনকারীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে বিড়াল পালন করেন। এর প্রধান কারণ হলো, বহুতল ভবন বা ছোট আকারের বাসাবাড়িতে কুকুর পালনের তুলনায় বিড়াল রাখা অনেক বেশি সহজ ও সুবিধাজনক।
শহর বনাম গ্রাম :
সমীক্ষায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণী পালনকারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই শহরাঞ্চলের বাসিন্দা। এছাড়া ২১ শতাংশ শহরতলী এবং ১৬ শতাংশ গ্রামাঞ্চলের মানুষ পোষা প্রাণী পালন করছেন।
| অবস্থান | পোষা প্রাণী পালনকারীর হার |
| শহরাঞ্চল (Urban) | ৬২% |
| শহরতলী | ২১% |
| গ্রামাঞ্চল (Rural) | ১৬% |
এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে এটি স্পষ্ট যে, পোষা প্রাণীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যা সরাসরি পেট ফুডের চাহিদাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।
পোষা প্রাণীর সংখ্যা অভাবনীয় হারে বৃদ্ধির মূল কারণসমূহ
বাংলাদেশে কুকুর ও বিড়াল পালনের এই আকস্মিক উত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে বেশ কয়েকটি গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
- নগরায়ন এবং একক পরিবারের প্রসার: নগরায়নের প্রভাবে আমাদের চিরায়ত যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে প্রতিনিয়ত ছোট বা একক পরিবার তৈরি হচ্ছে। কর্মব্যস্ত জীবনে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যখন বাড়ির বাইরে কাজ করেন, তখন পরিবারে একাকীত্ব বাড়তে থাকে। এই একাকীত্ব দূর করতে অনেকেই পোষা প্রাণীকে নিজেদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
- বৈশ্বিক মহামারীর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব: বৈশ্বিক মহামারীর সময় দীর্ঘকাল ঘরবন্দী থাকার কারণে মানুষের মধ্যে মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। সেই সময়ে মানসিক প্রশান্তির খোঁজে পোষা প্রাণী দত্তক নেওয়ার একটি বিশাল প্রবণতা শুরু হয়। মহামারীর প্রকোপ শেষ হলেও মানুষের প্রাণী পালনের সেই অভ্যাসটি এখন একটি স্থায়ী জীবনযাত্রায় পরিণত হয়েছে।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব: বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোষা প্রাণীর আনন্দদায়ক চলমান চিত্র শেয়ার করার একটি বিশাল চল তৈরি হয়েছে। এটি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে প্রাণী পালনে দারুণভাবে উৎসাহিত করছে।
সাধারণ মানুষ ঠিক কী কারণে প্রাণী পালনে বেশি উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন, তার একটি তুলনামূলক চিত্র নিচের সারণিতে দেওয়া হলো।
| প্রাণী পালনের প্রধান কারণ | শতকরা হার |
| একাকীত্ব দূর করা ও মানসিক প্রশান্তি | ৪০% |
| ব্যক্তিগত শখ ও ভালোবাসা | ৩৫% |
| সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব | ১৫% |
| বাড়ির নিরাপত্তা (প্রধানত কুকুরের ক্ষেত্রে) | ১০% |
পেট ফুড মার্কেটের আকার ও সম্ভাবনার বিশ্লেষণ

পোষা প্রাণীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তার চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে রেডিমেড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা। pet food market Bangladesh এখন আর কোনো ছোট বা নিস (niche) মার্কেট নয়, বরং এটি একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে।
মার্কেটের আকার:
এসিআই-এর রিপোর্ট এবং বিভিন্ন শিল্প খাতের অনুমান অনুযায়ী, দেশে পোষা প্রাণীর পণ্য সামগ্রীর বাজার বছরে ২৩০ কোটি টাকারও বেশি। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ট্রেডারদের মতে, শুধুমাত্র ক্যাট ফুডের বাজারই প্রায় ৫০০ কোটি টাকা (প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ইউএসডি) ছুঁয়েছে।
বৃদ্ধির হার: pet food demand growth Bangladesh-এর হার বার্ষিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
| খাতের নাম / বিবরণ | আর্থিক আকার / হার |
| পোষা প্রাণীর পণ্য সামগ্রীর মোট বাজার | বছরে ২৩০ কোটি টাকার বেশি |
| শুধুমাত্র ক্যাট ফুডের বাজার | প্রায় ৫০০ কোটি টাকা (৪৩ মিলিয়ন ইউএসডি) |
| পেট ফুড চাহিদার বার্ষিক বৃদ্ধির হার | ১০ – ১৫% |
চাহিদা বাড়ার কারণ:
মানুষ এখন তাদের পোষা প্রাণীর পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ঘরে তৈরি খাবারের চেয়ে সুষম পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ড্রাই কিবল (Dry kibble) বা ওয়েট ফুডের (Wet food) প্রতি তাদের নির্ভরতা বাড়ছে। তাছাড়া কর্মব্যস্ত জীবনে রেডিমেড খাবার পরিবেশন করাটা অত্যন্ত সুবিধাজনক।
ভোক্তারা তাদের প্রাণীদের জন্য বর্তমানে কোন ধরনের খাবার সবচেয়ে বেশি কিনছেন, তার একটি পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো।
| খাবারের ধরন | বর্তমান চাহিদার হার |
| শুকনো খাবার | ৭৫% |
| ভেজা খাবার | ১৫% |
| মুখরোচক স্ন্যাকস | ১০% |
আমদানি বনাম দেশীয় উৎপাদন: বর্তমান বাজারের চালচিত্র
আমাদের দেশের পোষা প্রাণীর খাবারের বাজার বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণভাবেই আমদানিনির্ভর। তবে এই প্রবল আমদানিনির্ভরশীলতাই দূরদর্শী স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
- বিদেশি পণ্যের একচেটিয়া আধিপত্য: দেশে বর্তমানে বিড়ালের খাবারের যে বিশাল চাহিদা রয়েছে, তার প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের খাবারই প্রতি বছর চীন, থাইল্যান্ড এবং তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয়।
- উচ্চ কর কাঠামো: বাংলাদেশ সরকারের শুল্ক নীতি অনুযায়ী, পোষা প্রাণীর খাবারকে বিলাসবহুল সামগ্রী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এই ধরনের পণ্য আমদানির ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়।
- দেশীয় উৎপাদনের সম্ভাবনাময় সূচনা: অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে কিছু দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে খাবার উৎপাদন শুরু করেছে। দেশে তৈরি হওয়ায় এদের কোনো আমদানি শুল্ক দিতে হয় না, ফলে তারা অনেক কম দামে মানসম্মত খাবার ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হচ্ছে।
আমদানি করা খাবার এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত খাবারের মূল্যের একটি তুলনামূলক পার্থক্য নিচে উপস্থাপন করা হলো।
| পণ্যের ধরন | প্রতি কেজির গড় বাজার মূল্য |
| আমদানি করা মানসম্মত শুকনো খাবার | ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা |
| দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মানসম্মত শুকনো খাবার | ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা |
স্থানীয় পর্যায়ে এই উৎপাদনের প্রাথমিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, এই খাতে নতুন বিনিয়োগের কত বড় সুযোগ লুকিয়ে আছে।
ব্যবসায়ের বিভিন্ন ধরন ও উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ
এই খাতে নতুন উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ধাপে ব্যবসা করার সুযোগ রয়েছে। পুঁজির পরিমাণ ও কারিগরি দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে একজন উদ্যোক্তা নিচের যেকোনো একটি মডেল বেছে নিতে পারেন।
এই খাতের প্রধান তিনটি ব্যবসায়িক মডেল নিচে আলোচনা করা হলো।
১. শুকনো খাবার উৎপাদন
কাদের জন্য সবচেয়ে ভালো: মাঝারি থেকে বড় বাজেটের বিনিয়োগকারী এবং যাদের কারিগরি উৎপাদন সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে।
আমরা কেন এটি নির্বাচন করেছি: পোষা প্রাণীর মোট খাবারের বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই হলো শুকনো খাবার, তাই এর বাজার সবচেয়ে বড়।
অনন্য বৈশিষ্ট্য: দীর্ঘ মেয়াদকাল, উচ্চ চাহিদা এবং মজুত করার সুবিধা।
বিবেচ্য বিষয়সমূহ: এই খাবার তৈরির জন্য বিদেশ থেকে উচ্চ চাপের মিশ্রণ যন্ত্র আমদানি করতে হয়।
২. ভেজা খাবার তৈরি
কাদের জন্য সবচেয়ে ভালো: স্বল্প পুঁজির উদ্যোক্তা এবং যারা দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে চান।
আমরা কেন এটি নির্বাচন করেছি: প্রাণীদের শরীরে জলের চাহিদা পূরণে চিকিৎসকরা ভেজা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন এবং এটি স্থানীয় মুরগি বা মাছ দিয়ে সহজেই তৈরি সম্ভব।
অনন্য বৈশিষ্ট্য: স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে সহজে তৈরি করা যায় এবং লাভের পরিমাণ বেশি।
বিবেচ্য বিষয়সমূহ: এই খাবারের মেয়াদকাল শুকনো খাবারের চেয়ে অনেক কম হয়, তাই মোড়কজাতকরণ বায়ুরোধী হতে হবে।
৩. স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বা মুখরোচক খাবার তৈরি
কাদের জন্য সবচেয়ে ভালো: যারা একেবারে ক্ষুদ্র পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবসা শুরু করতে ইচ্ছুক।
আমরা কেন এটি নির্বাচন করেছি: প্রাণীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বা আদর করার সময় ছোট ছোট স্ন্যাকস দেওয়া হয়, যার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
অনন্য বৈশিষ্ট্য: খুব অল্প খরচে তৈরি করে বেশি লাভে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রি করা যায়।
বিবেচ্য বিষয়সমূহ: দেখতে আকর্ষণীয় করার জন্য প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার এবং গুণগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই তিন ধরনের ব্যবসায়িক মডেলে আনুমানিক প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য লাভের একটি ধারণা নিচের সারণিতে দেওয়া হলো।
| ব্যবসায়ের ধরন | আনুমানিক প্রাথমিক বিনিয়োগ | সম্ভাব্য লাভের হার |
| শুকনো খাবার কারখানা | ৫০ লাখ টাকার বেশি | ২০% থেকে ২৫% |
| ভেজা খাবার তৈরি | ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা | ৩০% থেকে ৪০% |
| স্ন্যাকস বা মুখরোচক খাবার | ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা | ৪০% এর বেশি |
এই ব্যবসায়ের প্রধান অন্তরায় ও চ্যালেঞ্জসমূহ
বাংলাদেশে এই উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত ও মানসিক বাধা রয়েছে, যা অতিক্রম করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
- উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির অভাব: আন্তর্জাতিক মানের খাবার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি এখনো আমাদের দেশে তৈরি হয় না। নির্দিষ্ট কিছু অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন মিশ্রণ বিদেশ থেকেই আনতে হয়।
- ভোক্তাদের আস্থার অভাব: অনেক ক্রেতা এখনো দেশীয় পণ্যের মানের ওপর আস্থা রাখতে ভয় পান। এই ভুল ধারণা ভাঙাতে পণ্যের গুণগত মান স্বীকৃত গবেষণাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে মোড়কের গায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- সরবরাহকারী চক্রের বাধা: স্থানীয় বাজার বা দোকানগুলোতে প্রতিষ্ঠিত বিদেশি পণ্যগুলোর আধিপত্য রয়েছে। অনেক সরবরাহকারী নতুন দেশীয় পণ্য দোকানে রাখতে চান না।
এতসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, আমাদের দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ এই ব্যবসাকে লাভজনক করে তোলে।
স্থানীয় কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও অর্থনৈতিক চক্র
আমাদের দেশের কৃষি ও মৎস্য খাত অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পোষা প্রাণীর খাবারের প্রধান উপাদান হলো প্রোটিন বা আমিষ। পোল্ট্রি শিল্প এবং মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উচ্ছিষ্টাংশগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে কুকুর-বিড়ালের জন্য উচ্চ মানের প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তৈরি করা সম্ভব। এর পাশাপাশি চালের গুঁড়ো, ভুট্টা এবং সয়াবিন আমাদের দেশেই প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়।
দেশীয়ভাবে এই খাবার তৈরিতে কোন কোন কাঁচামাল সহজে পাওয়া যায় এবং কোনগুলো আমদানি করতে হয়, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
| উপাদানের ধরন | সহজলভ্যতা |
| মুরগি, মাছ ও গরুর মাংস | সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে প্রাপ্ত |
| চাল, ভুট্টা ও গম | সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে প্রাপ্ত |
| প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ | আমদানিনির্ভর |
| উচ্চমানের স্বাদ বৃদ্ধিকারী উপাদান | আংশিক আমদানিনির্ভর |
এই দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বর্জ্য থেকে বাড়তি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব, অন্যদিকে দেশের ভেতরেই একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক চক্র তৈরি হবে।
আগামীর বিনিয়োগ: পেট ফুড ইন্ডাস্ট্রির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
পরিশেষে বলা যায়, নগরায়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে পোষা প্রাণী আজ পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে পোষা প্রাণীর সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে গুণগত মানসম্পন্ন খাবারের চাহিদা কখনোই কমবে না, বরং দিন দিন বাড়বে। যারা এখন এই আমদানিনির্ভর বাজারে দেশীয় প্রযুক্তিতে স্বাস্থ্যসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পেট ফুড নিয়ে হাজির হতে পারবেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে তারাই এই শিল্পের নেতৃত্ব দেবেন। সঠিক গবেষণা, পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণ এবং চমৎকার অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পেট ফুড ব্যবসা আগামী দিনের অন্যতম সফল ও লাভজনক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত হতে যাচ্ছে।

