দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্ব শাসন করেছেন লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাদের জাদুকরী মুহূর্ত, অবিশ্বাস্য গোল এবং দ্বৈরথ ফুটবলপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সোনালি অধ্যায়ের পর্দা নামতে শুরু করেছে। ফুটবল এখন দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে।
সামনেই আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, যা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায়। এই মেগা আসরটি শুধু ৪৮টি দলের নতুন ফরম্যাটের জন্যই নয়, বরং একঝাঁক নতুন ফুটবল প্রতিভা বা ‘ওয়ান্ডারকিড’-দের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সেরা সুযোগ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবল পাগল ভক্তদের মনেও এখন একটাই প্রশ্ন— মেসি-নেইমার-রোনালদোদের পর কারা হবেন এই নতুন ফুটবল সাম্রাজ্যের রাজা? কারা হবেন সেই উঠতি ফুটবল তারকা, যারা পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করবেন?
চলুন, এমন ১০ জন তরুণ এবং প্রতিভাবান ফুটবলারের কথা জেনে নিই, যারা ২০২৬ বিশ্বকাপে বড়সড় বিশ্বকাপ চমক দেখাতে প্রস্তুত।
১. লামিন ইয়ামাল (স্পেন – বার্সেলোনা)
লামিন ইয়ামালকে বলা হচ্ছে লা মাসিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের সেরা আবিষ্কার। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হওয়ার পর থেকে তিনি একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন। ডান প্রান্তে তার বল পায়ে ছুটে চলা, ডিফেন্ডারদের বোকা বানানোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতা এবং নিখুঁত পাসিংয়ের কারণে তাকে স্প্যানিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ ধরা হচ্ছে।
ইউরো ২০২৪-এ তার জাদুকরী পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে যে তিনি বড় মঞ্চের চাপ সামলাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারেন এই তরুণ।
লামিন ইয়ামাল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ১৮-১৯ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | স্পেন, বার্সেলোনা |
| খেলার পজিশন: | রাইট উইঙ্গার |
| মূল দক্ষতা: | ড্রিবলিং, ভিশন, নিখুঁত ক্রস এবং প্লেমেকিং |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | বার্সেলোনার নিয়মিত স্টার্টার এবং ইউরো ২০২৪-এ স্পেনের হয়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। |
| কেন চমক হতে পারেন: | তার বয়স কম হলেও খেলার মাঠে তার পরিণতবোধ এবং যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা স্পেনের জন্য ট্রাম্পকার্ড হতে পারে। |
২. এনড্রিক (ব্রাজিল – রিয়াল মাদ্রিদ)
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে একসময় রাজত্ব করতেন পেলে, রোনাল্ডো নাজারিও কিংবা রোমারিওরা। সেই ধারায় সর্বশেষ সংযোজন বলা হচ্ছে এনড্রিককে। পালমেইরাস থেকে বিশ্ব ফুটবলের নজরে আসা এই তরুণ স্ট্রাইকার ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন।
তার শারীরিক গঠন, গতি এবং বক্সের ভেতরে নিখুঁত ফিনিশিং তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। অনেকেই তার খেলার ধরনে কিংবদন্তি রোনাল্ডো নাজারিওর ছায়া দেখতে পান। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের স্ট্রাইকিং সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান হতে পারেন তিনি।
এনড্রিকের বর্তমান প্রোফাইল এবং পরিসংখ্যানের দিকে একনজর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ১৯-২০ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ |
| খেলার পজিশন: | সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড / স্ট্রাইকার |
| মূল দক্ষতা: | পাওয়ারফুল শট, গতি, ফিনিশিং এবং শারীরিক শক্তি |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | জাতীয় দলের জার্সিতে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে ইতিমধ্যেই বড় মঞ্চের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। |
| কেন চমক হতে পারেন: | সেলেসাওদের আক্রমণভাগে নম্বর নাইন পজিশনে তিনি হতে পারেন সবচেয়ে বড় ভরসা এবং গোলের প্রধান উৎস। |
৩. পাউ কুবারসি (স্পেন – বার্সেলোনা)
বার্সেলোনা সাধারণত তাদের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারদের জন্য পরিচিত হলেও, পাউ কুবারসির উত্থান স্প্যানিশ ফুটবলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়েন।
আধুনিক ফুটবলে একজন ‘বল-প্লেয়িং’ ডিফেন্ডারের যে ধরনের গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, কুবারসির মধ্যে তার সবটাই রয়েছে। শান্ত মেজাজে বল ডিস্ট্রিবিউট করা এবং নিখুঁত ট্যাকলে তিনি ইতিমধ্যেই বেশ পারদর্শী।
পাউ কুবারসির কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ১৯ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | স্পেন, বার্সেলোনা |
| খেলার পজিশন: | সেন্টার ব্যাক |
| মূল দক্ষতা: | পাসিং রেঞ্জ, খেলা পড়ার ক্ষমতা (গেম রিডিং) এবং পজিশনিং |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | বার্সেলোনার মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া এবং লা লিগায় ধারাবাহিক ভালো খেলা। |
| কেন চমক হতে পারেন: | স্পেনের পজেশন-ভিত্তিক খেলার স্টাইলে পেছন থেকে আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে তিনি হবেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। |
৪. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড – রিয়াল মাদ্রিদ)
জুড বেলিংহামকে ‘উঠতি তারকা’ বলাটা হয়তো এখন আর পুরোপুরি মানানসই নয়, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন এবং ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার বয়স হবে মাত্র ২২-২৩ বছর, যা তাকে তরুণদের কাতারেই রাখে।
বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার থেকে রিয়াল মাদ্রিদে তিনি রীতিমতো গোলমেশিনে পরিণত হয়েছেন। তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা ইংল্যান্ড দলকে দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ খরা ঘোচাতে সাহায্য করতে পারে।
বেলিংহামের খেলার ধরন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিচে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ২২-২৩ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | ইংল্যান্ড, রিয়াল মাদ্রিদ |
| খেলার পজিশন: | অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার / সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার |
| মূল দক্ষতা: | গোল স্কোরিং, ফিজিক্যালিটি, বল কন্ট্রোল এবং লিডারশিপ |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রথম মৌসুমেই লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে থাকা। |
| কেন চমক হতে পারেন: | ইংল্যান্ড দলের নিউক্লিয়াস হিসেবে তিনি পুরো দলের পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং গোল করে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারবেন। |
৫. ফ্লোরিয়ান ভিরটজ (জার্মানি – বায়ার লেভারকুজেন)
বায়ার লেভারকুজেনের অপরাজিত বুন্দেসলিগা জয়ের পেছনে জাবি আলোনসোর ট্যাকটিকসের পাশাপাশি যার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল, তিনি হলেন ফ্লোরিয়ান ভিরটজ। ভয়াবহ এক এসিএল (ACL) ইনজুরি থেকে ফিরে এসে তিনি যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তা রীতিমতো অনুপ্রেরণাদায়ক।
তার পাসিং ভিশন, টাইট স্পেসে বল ড্রিবল করার ক্ষমতা এবং প্লেমেকিং জার্মান দলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
ফ্লোরিয়ান ভিরটজের প্রোফাইল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের তালিকাটি দেখুন:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ২৩ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | জার্মানি, বায়ার লেভারকুজেন |
| খেলার পজিশন: | অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার |
| মূল দক্ষতা: | প্লেমেকিং, ক্রিয়েটিভিটি, ড্রিবলিং এবং দূরপাল্লার শট |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | বুন্দেসলিগায় লেভারকুজেনের ঐতিহাসিক জয়ে মূল কারিগর এবং লিগের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি লাভ। |
| কেন চমক হতে পারেন: | জামাল মুসিয়ালার সাথে তার জুটি ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানির আক্রমণভাগকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর রূপে পরিণত করবে। |
৬. আরদা গুলের (তুরস্ক – রিয়াল মাদ্রিদ)
আরদা গুলেরের বাঁ পা যেন এক জাদুকরী তুলি। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ইনজুরির কারণে প্রথম দিকে ভুগলেও, মৌসুমের শেষ দিকে সুযোগ পেয়েই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই তুর্কি তরুণ। বল পায়ে তার কারুকাজ এবং ফ্রি-কিক থেকে গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে বিশেষ করে তুলেছে।
ইউরো ২০২৪-এ তুরস্কের হয়ে তার দুর্দান্ত গোল প্রমাণ করেছে যে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলো ছড়াতে প্রস্তুত।
আরদা গুলেরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ২১ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | তুরস্ক, রিয়াল মাদ্রিদ |
| খেলার পজিশন: | অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার / রাইট উইঙ্গার |
| মূল দক্ষতা: | বাঁ পায়ের জাদুকরী ড্রিবলিং, লং রেঞ্জ শট এবং সেট পিস |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | লা লিগায় অল্প ম্যাচ খেলেই দারুণ গোল রেশিও এবং ইউরোর মঞ্চে নজরকাড়া পারফরম্যান্স। |
| কেন চমক হতে পারেন: | তুরস্কের আক্রমণভাগের মূল সুর বেঁধে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধেই। তার একক নৈপুণ্য যেকোনো দলের রক্ষণভাগকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে। |
৭. দেজিরে দুয়ে (ফ্রান্স – পিএসজি)
আপনি হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে তিনি রেনেঁ-তে খেলেন কি না। হ্যাঁ, তিনি ফরাসি ক্লাব রেনেঁ-এর হয়েই নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন এবং সেখানে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে। তবে, এই অসামান্য প্রতিভার কারণে তিনি সম্প্রতি ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (PSG) যোগ দিয়েছেন, যা তার ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ।
অসাধারণ ফিজিক্যালিটি এবং ড্রিবলিংয়ের দারুণ এক সমন্বয় দেখা যায় দুয়ের খেলায়। তিনি একাই বল টেনে নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তছনছ করে দিতে পারেন।
দেজিরে দুয়ে সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ২০-২১ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | ফ্রান্স, পিএসজি |
| খেলার পজিশন: | লেফট উইঙ্গার / অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার |
| মূল দক্ষতা: | গতিশীলতা, ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিং এবং শারীরিক শক্তি |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | রেনেঁ-এর হয়ে নজরকাড়া মৌসুম কাটানোর পর পিএসজিতে যোগ দিয়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের লড়াইয়ে আছেন। |
| কেন চমক হতে পারেন: | কিলিয়ান এমবাপ্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করতে তিনি দারুণ কার্যকরী হবেন। |
৮. কোবি মাইনো (ইংল্যান্ড – ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কঠিন একটি মৌসুমে আশার আলো হয়ে এসেছিলেন কোবি মাইনো। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও চাপের মুখে তার বল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং শান্ত মেজাজ ফুটবল পণ্ডিতদের মুগ্ধ করেছে।
এফএ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তার গোল এবং ডিকলান রাইসের সাথে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে তার পার্টনারশিপ তাকে বিশ্বমঞ্চে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কোবি মাইনোর শক্তির জায়গাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ২১ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | ইংল্যান্ড, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
| খেলার পজিশন: | সেন্ট্রাল / ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার |
| মূল দক্ষতা: | প্রেস-রেজিস্ট্যান্স, বল কন্ট্রোল, ইন্টারসেপশন এবং ক্লিন পাসিং |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | ইউনাইটেডের মাঝমাঠের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠা এবং ইংল্যান্ডের হয়ে বড় ম্যাচগুলোতে পরিণত পারফরম্যান্স। |
| কেন চমক হতে পারেন: | ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের ভারসাম্য ধরে রাখা এবং আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির কাজটা নিখুঁতভাবে করতে পারবেন তিনি। |
৯. কেনান ইলদিজ (তুরস্ক – জুভেন্টাস)
ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে খেলার সুযোগ পাওয়া এমনিতেই সহজ নয়, আর সেখানে এত কম বয়সে নজর কাড়া তো আরও কঠিন। তবে কেনান ইলদিজ তার ডাইরেক্ট রানিং এবং টেকনিক্যাল স্কিল দিয়ে ঠিক সেটাই করেছেন।
তুরস্কের আক্রমণভাগে আরদা গুলেরের সাথে তার বোঝাপড়া আগামী দিনে ইউরোপের অনেক বড় দলের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
কেনান ইলদিজের ফুটবল প্রোফাইল নিচে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ২১ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | তুরস্ক, জুভেন্টাস |
| খেলার পজিশন: | সেকেন্ড স্ট্রাইকার / উইঙ্গার |
| মূল দক্ষতা: | দ্রুত গতি, ডিফেন্ডারদের ভেদ করে দৌড়ানো এবং ফিনিশিং |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | জুভেন্টাসের হয়ে সিরি আ-তে নিয়মিত প্রভাব ফেলা এবং তুরস্কের জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করা। |
| কেন চমক হতে পারেন: | কাউন্টার অ্যাটাকে তার দ্রুতগতির দৌড় এবং গোলমুখে ক্ষিপ্রতা তুরস্ককে বিশ্বকাপে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। |
১০. এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা (ফ্রান্স – রিয়াল মাদ্রিদ)
এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার বহুমুখী প্রতিভা বা ভার্সেটাইল খেলা। রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ফ্রান্স জাতীয় দল— যেখানে যখন প্রয়োজন, তিনি মিডফিল্ড থেকে শুরু করে লেফট-ব্যাক পজিশন পর্যন্ত সমান দক্ষতায় খেলতে পারেন।
অসাধারণ স্ট্যামিনা, ট্যাকলিং এবং বল রিকভার করার দক্ষতার জন্য কোচদের কাছে তিনি অত্যন্ত পছন্দের একজন খেলোয়াড়।
কামাভিঙ্গার ক্যারিয়ারের কিছু দিক নিচে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বয়স (২০২৬ সালে): | ২৩ বছর |
| দেশ ও ক্লাব: | ফ্রান্স, রিয়াল মাদ্রিদ |
| খেলার পজিশন: | সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার (প্রয়োজনে লেফট-ব্যাক) |
| মূল দক্ষতা: | ট্যাকলিং, এনার্জি, বল রিকভারি এবং ভার্সেটিলিটি |
| সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: | রিয়াল মাদ্রিদের সব বড় সাফল্যের পেছনের নীরব কারিগর হিসেবে কাজ করা। |
| কেন চমক হতে পারেন: | ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মিডফিল্ডের ইঞ্জিন হিসেবে তিনি কাজ করবেন এবং যেকোনো ট্যাকটিকাল ফরমেশনে সহজেই মানিয়ে নিয়ে দলকে সুবিধা এনে দেবেন। |
শীর্ষ ৫ তরুণ তারকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ
নিচের সারণিতে এই নতুন ফুটবল প্রতিভাদের মধ্যে শীর্ষ ৫ জনের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা থেকে আপনি তাদের প্রভাব সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন:
| খেলোয়াড় | দেশ | পজিশন | মূল শক্তি | প্রত্যাশিত প্রভাব (২০২৬ বিশ্বকাপ) |
| লামিন ইয়ামাল | স্পেন | রাইট উইঙ্গার | প্লেমেকিং ও স্কিল | স্পেনের মূল অ্যাটাকিং থ্রেট |
| এনড্রিক | ব্রাজিল | স্ট্রাইকার | ফিনিশিং ও গতি | ব্রাজিলের গোল খরা দূর করা |
| জুড বেলিংহাম | ইংল্যান্ড | অ্যাটাকিং মিড | লিডারশিপ ও গোল | ইংল্যান্ডের গেম-চেঞ্জার |
| ফ্লোরিয়ান ভিরটজ | জার্মানি | অ্যাটাকিং মিড | ক্রিয়েটিভিটি | জার্মানির মাঝমাঠের প্রাণভোমরা |
| এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা | ফ্রান্স | সেন্ট্রাল মিড | বল রিকভারি | ফরাসি দলের ট্যাকটিকাল ইঞ্জিন |
ফুটবলের নতুন দিগন্ত: আগামী দিনের রাজত্ব
ফুটবল সবসময়ই পালাবদলের খেলা। একটা সময় যখন ম্যারাডোনা বা পেলের বিদায় হয়েছিল, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন ফুটবলের জৌলুস হয়তো কমে যাবে। কিন্তু ঠিকই নতুন তারকারা এসে শূন্যস্থান পূরণ করেছেন। মেসি-রোনালদো যুগের সমাপ্তি ফুটবল ভক্তদের জন্য আবেগঘন হলেও, লামিন ইয়ামাল, এনড্রিক কিংবা জুড বেলিংহামদের মতো তরুণ প্রতিভারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নিরাপদ হাতেই রয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু একটি টুর্নামেন্ট হবে না; এটি হবে এই নতুন প্রজন্মের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বমঞ্চের রাজত্ব বুঝে নেওয়ার আসর। কে বলতে পারে, হয়তো এই দশ জন তরুণের মাঝখান থেকেই আমরা পেয়ে যাবো আগামী দশকের নতুন কোনো ফুটবল ঈশ্বরকে! বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের জন্য তাই আসন্ন এই বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে চরম উত্তেজনা ও নতুন উন্মাদনার এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা।


