ফোনের চার্জ আগের মতো টিকছে না। সকালে পুরো চার্জ দিয়েও বিকেলের মধ্যে আবার চার্জার খুঁজতে হচ্ছে। এমন সমস্যা শুরু হলে অনেকেই ধরে নেন, ব্যাটারির আয়ু শেষ হয়ে এসেছে। বিশেষ করে ফোনটি দুই-তিন বছর ধরে ব্যবহার করলে সন্দেহটা আরও বাড়ে।
কিন্তু ব্যাটারি বদলানোর আগে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করা দরকার। কারণ চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে পুরোনো ব্যাটারি যেমন দায়ী হতে পারে, তেমনি কোনো অ্যাপের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার, সফটওয়্যারের সমস্যা কিংবা দুর্বল নেটওয়ার্কও কারণ হতে পারে।
ফোনের ব্যাটারির স্বাস্থ্য বলতে ব্যাটারি নতুন অবস্থার তুলনায় এখন কতটা চার্জ ধরে রাখতে পারছে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে পারছে, সেই সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। আইফোনে ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা দেখা যায়। কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও এই সুবিধা রয়েছে। তবে সব ফোন একইভাবে ব্যাটারির তথ্য দেখায় না। সেটিংসে ভালো শতাংশ দেখালেও ব্যাটারি পুরোপুরি সমস্যামুক্ত, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ব্যাটারির সমস্যা বোঝার আগে চার্জ কোথায় খরচ হচ্ছে দেখুন
ফোনের চার্জ কম সময় টিকছে বলেই ব্যাটারি নষ্ট হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। আগে দেখতে হবে ফোনটি আগের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ খরচ করছে কি না। একটি সাধারণ পরিস্থিতি ধরা যাক। আগে ফোনে মূলত কল, বার্তা আদান-প্রদান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হতো। এখন নিয়মিত ভিডিও দেখা হচ্ছে, গেম খেলা হচ্ছে কিংবা ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ অন্য যন্ত্রে ভাগ করে দিতে হচ্ছে। ব্যবহারের এই পরিবর্তনের কারণে চার্জ কম সময় টিকতে পারে। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে না কমলেও এমনটি সম্ভব।
আবার একই ধরনের ব্যবহারে আগে যেখানে প্রায় সারা দিন চার্জ থাকত, সেখানে এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার্জ ফুরিয়ে যাচ্ছে। নতুন কোনো অ্যাপ যোগ হয়নি, ব্যবহারের সময়ও বাড়েনি। এমন পরিবর্তন নিয়মিত ঘটতে থাকলে ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কোন অ্যাপ কতটা চার্জ খরচ করছে, তা ফোনের সেটিংসে দেখা যায়। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত সেটিংস → ব্যাটারি → ব্যাটারির ব্যবহার বিভাগে এই তথ্য পাওয়া যায়। আইফোনে সেটিংস → ব্যাটারি খুলতে হবে। সমর্থিত আইওএস সংস্করণে ব্যাটারি ব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ থেকে আগের কয়েক দিনের হিসাবও দেখা সম্ভব।
অ্যাপের তালিকা দেখার সময় শুধু শতাংশের দিকে তাকালে ভুল হতে পারে। দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ বেশি চার্জ খরচ করবে, এটাই স্বাভাবিক। বরং খেয়াল করুন, যে অ্যাপটি খুব কম ব্যবহার করছেন, সেটি অস্বাভাবিক পরিমাণে চার্জ খরচ করছে কি না। প্রয়োজনে অ্যাপটির পটভূমিতে চলমান কার্যক্রম পরীক্ষা করুন।
সম্প্রতি সফটওয়্যার হালনাগাদ দিয়ে থাকলেও সেটি মনে রাখা দরকার। বড় হালনাগাদের পর ফোনে কিছু অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণ চলতে পারে। এতে সাময়িকভাবে চার্জ বেশি খরচ হয়। গুগল পিক্সেল ফোনের ক্ষেত্রেও হালনাগাদের পর কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। সমস্যা দীর্ঘদিন চললে অবশ্য সেটিকে হালনাগাদের স্বাভাবিক প্রভাব ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে ব্যাটারি নিয়ে সত্যিই চিন্তা করবেন?

ব্যাটারি পুরোনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে। স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য এটি স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাটারি কতটা দুর্বল হয়েছে, সেটি বোঝার জন্য শুধু চার্জের স্থায়িত্ব দেখলে পুরো ধারণা পাওয়া যায় না।
বিশেষ করে চার্জ থাকা অবস্থায় ফোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ধরা যাক, ফোনে ৩০ শতাংশ চার্জ রয়েছে। ক্যামেরা চালু করলেন, আর ফোন বন্ধ হয়ে গেল। আবার চার্জারে লাগানোর পর চালু হচ্ছে। ব্যাটারি পুরোনো হয়ে গেলে কখনো প্রয়োজনের মুহূর্তে পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করতে পারে না। ক্যামেরা বা বেশি শক্তি প্রয়োজন হয় এমন অ্যাপ ব্যবহারের সময় সমস্যাটি বেশি চোখে পড়তে পারে।
অবশ্য এমন ঘটনার পেছনে সফটওয়্যার বা অন্য যন্ত্রাংশের সমস্যাও থাকতে পারে। একবার ফোন বন্ধ হওয়ার পরই নতুন ব্যাটারি কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে সমস্যাটি বারবার হচ্ছে কি না দেখুন। চার্জের শতাংশ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়াও খেয়াল করার মতো। কিছুক্ষণ আগে ৬০ শতাংশ ছিল, হঠাৎ ৪০ শতাংশ দেখাচ্ছে। কিংবা ফোন পুনরায় চালু করার পর চার্জের পরিমাণ অনেক কম দেখা যাচ্ছে। ব্যাটারির অবশিষ্ট চার্জের হিসাব নির্ধারণে অসংগতি থাকলে এমন হতে পারে।
ফোন ধীর হয়ে যাওয়ার সঙ্গেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যাটারির সম্পর্ক থাকে। দুর্বল ব্যাটারির কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হওয়া ঠেকাতে কিছু ফোন কর্মক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে সংরক্ষণাগারে জায়গা কম থাকা, সফটওয়্যার সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণেও ফোন ধীর হয়। শুধু গতি কমেছে বলে ব্যাটারিকে দায়ী করা ঠিক নয়।
এর বাইরে একটি লক্ষণ রয়েছে, যেটিকে সাধারণ ব্যাটারি সমস্যার সঙ্গে মেলানো যাবে না।
ফোনের পেছনের অংশ ফুলে উঠলে, পর্দা আলগা হয়ে গেলে বা কাঠামোয় অস্বাভাবিক ফাঁক দেখা দিলে ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় ফোন ব্যবহার ও চার্জ দেওয়া বন্ধ করুন। নিজে ব্যাটারি খুলবেন না, চাপ দেবেন না কিংবা ফুটো করার চেষ্টা করবেন না।
নিরাপদে করা সম্ভব হলে ফোনটি দাহ্য বস্তু থেকে দূরে রাখুন এবং দক্ষ মেরামতকর্মীর সহায়তা নিন। ধোঁয়া, অস্বাভাবিক গন্ধ বা শব্দ বের হলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে স্থানীয় জরুরি সেবার সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
ফোনে ১০০ শতাংশ চার্জ, অথচ ব্যাটারির স্বাস্থ্য ৮০ শতাংশ কেন?
এখানে দুটি আলাদা হিসাব রয়েছে। একটি হলো ফোনে এখন কতটা চার্জ আছে। অন্যটি হলো ব্যাটারি নতুন অবস্থার তুলনায় কতটা চার্জ ধরে রাখতে পারছে। ফোনের পর্দায় ১০০ শতাংশ দেখানোর অর্থ ব্যাটারি তার বর্তমান সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পূর্ণ চার্জ হয়েছে। কিন্তু সেই ধারণক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গিয়ে থাকতে পারে।
ধরা যাক, নতুন অবস্থায় ফোনের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ছিল ৫,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা। কয়েক বছর ব্যবহারের পর সেটি আনুমানিক ৪,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা হয়েছে। ফোন এখনো ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হবে। কিন্তু নতুন অবস্থায় যতটা শক্তি সংরক্ষণ করত, ততটা আর পারবে না। এই উদাহরণে ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ শতাংশ।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য বলতে অবশ্য শুধু ধারণক্ষমতা বোঝায় না। প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই ভালো ব্যাটারি স্বাস্থ্য দেখালেও কোনো ফোনে অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা থাকলে সেটিকে উপেক্ষা করা যাবে না। আর একটি বিষয় মনে রাখুন। সফটওয়্যার ব্যাটারির ধারণক্ষমতা অনুমান করে দেখায়। প্রদর্শিত শতাংশকে একেবারে নিখুঁত পরিমাপ ধরে নেওয়া উচিত নয়।
আইফোনে ব্যাটারির স্বাস্থ্য দেখবেন যেভাবে
আইফোনে ব্যাটারির স্বাস্থ্য দেখার জন্য আলাদা অ্যাপের প্রয়োজন হয় না। তবে মডেল ও আইওএস সংস্করণ অনুযায়ী মেনুর কিছু পার্থক্য রয়েছে। আইফোন ১৪ বা তার আগের সমর্থিত মডেল ব্যবহার করলে সেটিংস খুলে ব্যাটারি বিভাগে যান। এরপর ব্যাটারির স্বাস্থ্য ও চার্জিং নির্বাচন করুন। সেখানে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা নামে একটি অপশন পাওয়া যাবে।
সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৮৭ শতাংশ দেখানোর অর্থ, ব্যাটারিটি নতুন অবস্থার তুলনায় আনুমানিক ৮৭ শতাংশ ধারণক্ষমতা ধরে রেখেছে।
একই অংশে ব্যাটারির সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা বজায় রাখার সক্ষমতা সম্পর্কেও তথ্য থাকতে পারে। ব্যাটারি প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে পারছে কি না, সে বিষয়ে এই অংশে ধারণা পাওয়া যায়। ব্যাটারি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হলে মেরামতসংক্রান্ত সতর্কবার্তাও দেখা যেতে পারে।
আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলে কিছু বাড়তি তথ্য পাওয়া যায়। আইওএস ১৭.৪ বা পরবর্তী সংস্করণে সেটিংস → ব্যাটারি → ব্যাটারির স্বাস্থ্য খুললে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ছাড়াও চার্জিং চক্রের সংখ্যা, ব্যাটারি তৈরির তারিখ এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ দেখা সম্ভব।
চার্জিং চক্রের হিসাবটি একটু আলাদা। অনেকেই মনে করেন, প্রতিবার চার্জারে লাগালেই একটি চক্র পূর্ণ হয়। বাস্তবে তা নয়। একদিন ব্যাটারির ৫০ শতাংশ চার্জ ব্যবহার করলেন। পরে আরেকবার ৫০ শতাংশ ব্যবহার করলেন। মোট ব্যবহৃত চার্জ একটি পূর্ণ চার্জের সমান হলে সেটিকে একটি চক্র হিসেবে গণনা করা হয়।
অ্যাপলের নির্ধারিত পরীক্ষাগত মান অনুযায়ী, আইফোন ১৪ ও আগের মডেলের ব্যাটারি আদর্শ পরিস্থিতিতে ৫০০ পূর্ণ চার্জিং চক্র শেষে মূল ধারণক্ষমতার ৮০ শতাংশ ধরে রাখার জন্য তৈরি। আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১,০০০ চক্র।
এই সংখ্যার অর্থ ব্যাটারির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ৫০০ বা ১,০০০ চক্রের পরই ব্যাটারি নষ্ট হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহারের ধরন, চার্জিং অভ্যাস ও তাপমাত্রার ওপর প্রকৃত অবস্থা নির্ভর করে। আগে ব্যাটারি পরিবর্তন করা হয়েছে এমন কোনো আইফোনে ব্যাটারি যাচাই করা যাচ্ছে না বলে সতর্কবার্তা দেখালে তথ্য নির্ভুল না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মেরামতকেন্দ্রে পরীক্ষা করানো ভালো।
আরও পড়ুন: অ্যান্ড্রয়েড ফোন ধীর হয়ে গেলে কোন ১০টি সেটিংস আগে পরীক্ষা করবেন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যাটারির অবস্থা জানার উপায়

অ্যান্ড্রয়েডে কাজটি কিছুটা জটিল। কারণ সব নির্মাতা ব্যাটারির স্বাস্থ্যের একই ধরনের তথ্য দেখায় না। গুগল পিক্সেলের কিছু মডেলে ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা দেখা যায়। স্যামসাং গ্যালাক্সিতে পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাটারির সামগ্রিক অবস্থা জানা যায়। অন্য কিছু ফোনে সরাসরি এই সুবিধা নাও থাকতে পারে।
গুগল পিক্সেল ৮এ এবং পরবর্তী সমর্থিত মডেলে সেটিংস → ব্যাটারি → ব্যাটারির স্বাস্থ্য খুলুন।
এখানে স্বাভাবিক, কমে গেছে অথবা তথ্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়—এমন অবস্থা দেখাতে পারে। স্বাভাবিক মানে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে রয়েছে। কমে গেছে দেখালে ধারণক্ষমতা ৮০ শতাংশের নিচে নেমেছে এবং ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাটারির ধারণক্ষমতা অংশ থেকে আনুমানিক অবশিষ্ট ধারণক্ষমতাও জানা যায়। পিক্সেল ৮এ ও পরবর্তী সমর্থিত মডেলে সেটিংস → ফোন সম্পর্কে → ব্যাটারির তথ্য থেকে চার্জিং চক্রের সংখ্যাও পাওয়া যায়। তবে পিক্সেল ৬এ, পিক্সেল ৭ সিরিজ এবং পিক্সেল ৮ ও পিক্সেল ৮ প্রো-তে একই ব্যাটারি স্বাস্থ্য যাচাইয়ের সুবিধা নেই। ফলে এসব ফোনে অপশনটি না পাওয়া কোনো ত্রুটির প্রমাণ নয়।
স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনের ব্যবস্থা কিছুটা ভিন্ন।
এখানে স্যামসাং মেম্বারস অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করা যায়। অ্যাপটি খুলে ত্রুটি শনাক্তকরণ পরীক্ষা → ফোন পরীক্ষা → ব্যাটারির অবস্থা নির্বাচন করুন। কিছু সংস্করণে সহায়তা বিভাগ থেকে ফোনের পরীক্ষা চালাতে হয়। সমর্থিত কিছু ফোনে সেটিংসের যন্ত্রের পরিচর্যা বিভাগ থেকেও পরীক্ষার সুবিধা পাওয়া যায়।
পরীক্ষায় সাধারণত তিন ধরনের ফলাফল পাওয়া যায়।
- স্বাভাবিক: ব্যাটারির কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য সমস্যা শনাক্ত হয়নি।
- দুর্বল: ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে থাকতে পারে।
- খারাপ: ব্যাটারি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল; মেরামতকেন্দ্রে পরীক্ষা প্রয়োজন।
এই পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা হলো, সব গ্যালাক্সি ফোনে আইফোনের মতো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার শতাংশ দেখানো হয় না। শাওমি, রেডমি, রিয়েলমি, ভিভো ও অপোর মতো ফোনে ব্যাটারির স্বাস্থ্য দেখার সুবিধা মডেল এবং সফটওয়্যার সংস্করণের ওপর নির্ভর করে। প্রথমে সেটিংসের অনুসন্ধান অপশনে ব্যাটারির স্বাস্থ্য লিখে দেখুন। সুবিধাটি না থাকলে নির্মাতার পরীক্ষাব্যবস্থা বা আনুষ্ঠানিক সহায়তা সেবার সাহায্য নিতে পারেন।
তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ দিয়েও ব্যাটারির স্বাস্থ্য জানার চেষ্টা করা যায়। কিন্তু অনেক অ্যাপ সরাসরি ব্যাটারির প্রকৃত অবস্থা পরিমাপ করে না। চার্জিং ও ব্যবহারের তথ্য থেকে ধারণক্ষমতা অনুমান করে। এ কারণে শুধু কোনো অ্যাপের দেখানো শতাংশের ওপর নির্ভর করে ব্যাটারি কেনা ঠিক হবে না। অপরিচিত অ্যাপকে অপ্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়াও এড়িয়ে চলুন।
ব্যাটারি ভালো রাখতে চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বদলানো দরকার কি?
দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কিছুটা কমবেই। তবে কিছু অভ্যাস এই ক্ষয়ের গতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর মধ্যে অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপল বিশেষভাবে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি পরিবেশগত তাপমাত্রায় আইফোন ব্যবহার বা চার্জ দেওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। উচ্চ তাপমাত্রা ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমাতে পারে।
গরমের দিনে ফোন সরাসরি রোদে রেখে চার্জ দেওয়া, গরম গাড়ির ভেতর ফেলে রাখা কিংবা চার্জ দেওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ ভারী গেম খেলা এড়িয়ে চলুন। কভারের কারণে তাপ আটকে গেলে কভার খুলে রাখা যেতে পারে।
বালিশ বা বিছানার নিচে ফোন রেখে চার্জ দেওয়াও নিরাপদ অভ্যাস নয়। চার্জের সময় ফোন কিছুটা উষ্ণ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
চার্জ ৮০ শতাংশে থামিয়ে রাখবেন?
অনেক নতুন ফোনে চার্জিংয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের ব্যবস্থা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ব্যাটারিকে দীর্ঘ সময় পূর্ণ চার্জে রাখার অভ্যাস কমানো। আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলে সেটিংস → ব্যাটারি → চার্জিং থেকে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ করে সীমা নির্ধারণ করা যায়।
সমর্থিত স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে সেটিংস → ব্যাটারি → ব্যাটারি সুরক্ষা থেকে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ওয়ান ইউআই ৭.০ থেকে সমর্থিত সংস্করণে সর্বোচ্চ সুরক্ষা ব্যবস্থায় ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশের সীমা বেছে নেওয়া যায়। গুগল পিক্সেল ৬এ ও পরবর্তী সমর্থিত মডেলে সেটিংস → ব্যাটারি → ব্যাটারির স্বাস্থ্য → চার্জিং নিয়ন্ত্রণ থেকে ৮০ শতাংশে চার্জ সীমিত রাখার সুবিধা নির্বাচন করা যায়।
তবে প্রতিদিন ৮০ শতাংশে চার্জ থামিয়ে রাখা সবার জন্য সুবিধাজনক হবে না। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে বা বারবার চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকলে বেশি চার্জ প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৮০ শতাংশে চার্জ থামানোর জন্য অযথা অসুবিধায় পড়ার দরকার নেই। ব্যবহারিক প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিসংগত।
চার্জিং সীমা চালু থাকার পরও কিছু ফোন মাঝেমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হতে পারে। ব্যাটারির চার্জের হিসাব নির্ভুল রাখতে নির্মাতারা এমন ব্যবস্থা রেখেছে। আবার চার্জ পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা করাও জরুরি নয়। আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে ৩০ বা ৪০ শতাংশ চার্জ থাকা অবস্থাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী চার্জ দেওয়া যায়।
কিছু ফোন মাঝেমধ্যে চার্জের হিসাব নির্ভুল রাখতে পূর্ণ চার্জিং সম্পন্ন করে। গুগল পিক্সেলের সমর্থিত চার্জিং ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট বিরতিতে এমন প্রক্রিয়া দেখা যায়। তবে নিয়মিত শূন্য থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারির প্রকৃত স্বাস্থ্য বেড়ে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
চার্জার ও কেবলের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। নষ্ট কেবল, ঢিলা সংযোগ কিংবা নিম্নমানের চার্জিং সরঞ্জাম থেকে সমস্যা হতে পারে। দ্রুত চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে ফোন ও চার্জারের সামঞ্জস্য এবং তাপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দেখতে হবে। শুধু চার্জিংয়ের গতি দেখে ব্যাটারির ক্ষয়ের হার বোঝা যায় না।
ফোনে ৮০ শতাংশের বেশি চার্জ হচ্ছে না? আগে সেটিংস দেখুন
ফোন ৮০ বা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হচ্ছে, তারপর আর বাড়ছে না। এমন অবস্থায় সরাসরি ব্যাটারি নষ্ট হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক ফোনে ব্যাটারি সুরক্ষা, চার্জের সীমা বা চার্জিং নিয়ন্ত্রণ চালু থাকলে নির্ধারিত সীমায় চার্জ নেওয়া বন্ধ হয়।
গুগল পিক্সেলের কিছু মডেলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা চার্জিং সাময়িকভাবে সীমিত করতে পারে। আইফোনেও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে চার্জিং ধীর বা বন্ধ হতে পারে।
ফোন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পরও সমস্যা চলতে থাকলে চার্জার ও কেবল পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে মেরামতকেন্দ্রের সাহায্য নিন। এখানে একটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। ব্যাটারির স্বাস্থ্য ৮০ শতাংশ হওয়া মানে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা কমেছে। আর চার্জ ৮০ শতাংশে থেমে যাওয়া ফোনের চার্জিং নিয়ন্ত্রণের কারণে হতে পারে। দুটি এক বিষয় নয়।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য কত শতাংশ হলে পরিবর্তনের কথা ভাববেন?
ব্যাটারির স্বাস্থ্য ৮০ শতাংশের নিচে নামলে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু এই শতাংশকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক সীমা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ধরা যাক, ব্যাটারির স্বাস্থ্য ৭৯ শতাংশ। তবু ফোন স্বাভাবিকভাবে চলছে, চার্জ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাচ্ছে এবং হঠাৎ বন্ধ হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটারির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।
অন্যদিকে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ৮৫ শতাংশ দেখালেও ফোন বারবার ২০ বা ৩০ শতাংশ চার্জ থাকা অবস্থায় বন্ধ হয়ে গেলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কিছু নির্মাতা চার্জিং চক্র বা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেও ব্যাটারি পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়।
তাই শুধু শতাংশ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ফোনের বাস্তব সমস্যার দিকে নজর দিন। চার্জ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সময় টিকছে কি না, ফোন অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হচ্ছে কি না, কিংবা নির্মাতার নিজস্ব পরীক্ষায় ব্যাটারির অবস্থা খারাপ দেখাচ্ছে কি না—এসব তথ্য বেশি কাজে আসবে।
ব্যাটারি পরিবর্তনের আগে উপযুক্ত যন্ত্রাংশ পাওয়া যাবে কি না, মেরামতের খরচ কত এবং নিশ্চয়তার শর্ত কী, তা জেনে নিন। সম্ভব হলে নির্মাতার অনুমোদিত মেরামতকেন্দ্রে মেরামত করান। নিম্নমানের বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাটারি নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। মেরামতের আগে প্রয়োজনীয় তথ্যের নিরাপদ অনুলিপি সংরক্ষণ করুন। তবে ব্যাটারি ফুলে গেলে বা গুরুতর ক্ষতির লক্ষণ থাকলে তথ্য সংরক্ষণের জন্যও ফোন চালু বা চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
ব্যাটারি বদলানো, নাকি পুরোনো ফোনেই আরও কিছুদিন চলবে?
এই সিদ্ধান্তের জন্য শুধু ব্যাটারির স্বাস্থ্যের শতাংশ যথেষ্ট নয়। ফোনটি কত দিনের পুরোনো, চার্জ কতক্ষণ টিকছে, অন্য কোনো যন্ত্রাংশে সমস্যা রয়েছে কি না এবং ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ কত—এসবও দেখতে হবে। ফোনের বাকি অংশ ভালো থাকলে উপযুক্ত ব্যাটারি পরিবর্তন করে আরও কিছুদিন ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু পর্দা, চার্জিং সংযোগ বা অন্য যন্ত্রাংশেও সমস্যা থাকলে মোট মেরামতের খরচ বিবেচনা করা দরকার।
চার্জ দ্রুত শেষ হচ্ছে অথচ ব্যাটারির স্বাস্থ্য স্বাভাবিক—এমন হলে আগে অ্যাপ ও সফটওয়্যারের সমস্যাগুলো পরীক্ষা করুন। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারে অসুবিধা হলে মেরামতকেন্দ্রে পরীক্ষা করানো যুক্তিসংগত।
আর ব্যাটারি ফুলে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ থাকলে অর্থ সাশ্রয়ের কথা ভেবে ব্যবহার চালিয়ে যাবেন না। ব্যাটারি কতটা ভালো আছে, সেটির একটি ধারণা ফোনের সেটিংস থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু পরিবর্তনের প্রয়োজন সত্যিই হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য ফোনের ব্যবহার ও সমস্যার ধরন মিলিয়ে দেখার বিকল্প নেই।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. ফোনের Battery Health কত দিন ১০০ শতাংশ থাকে?
এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ফোনের ব্যবহার, চার্জিংয়ের অভ্যাস, তাপমাত্রা এবং ব্যাটারির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ওপর এটি নির্ভর করে। কারও ফোনে কয়েক মাস পরই ব্যাটারির স্বাস্থ্য ৯৯ শতাংশ দেখাতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় ১০০ শতাংশ থাকতে পারে। ব্যাটারির স্বাস্থ্য সামান্য কমলেই সেটিকে ত্রুটি মনে করার প্রয়োজন নেই।
২. কোনো অ্যাপ ব্যবহার করে কি ব্যাটারির স্বাস্থ্য আবার বাড়ানো যায়?
না। ব্যাটারির রাসায়নিক ক্ষয়ের কারণে যে ধারণক্ষমতা কমেছে, কোনো অ্যাপ দিয়ে তা ফিরিয়ে আনা যায় না। কিছু অ্যাপ ব্যাটারির চার্জের হিসাব বা আনুমানিক ধারণক্ষমতা দেখাতে পারে। হিসাবের পরিবর্তনে প্রদর্শিত শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারে, কিন্তু তার অর্থ ব্যাটারির প্রকৃত ধারণক্ষমতা বেড়েছে নয়। ব্যাটারি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হলে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
৩. ফোন দীর্ঘদিন বন্ধ রাখলে কি ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো থাকে?
ফোন বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ খরচ কমে, কিন্তু ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয় পুরোপুরি বন্ধ হয় না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার পরিকল্পনা থাকলে ফোনটি অতিরিক্ত গরম জায়গায় রাখবেন না। ব্যাটারি একেবারে শূন্য বা দীর্ঘ সময় পূর্ণ চার্জে রেখে সংরক্ষণ করাও এড়িয়ে চলা ভালো। কিছুটা চার্জ রেখে ঠান্ডা ও শুষ্ক পরিবেশে সংরক্ষণ করা বেশি উপযোগী।
৪. ব্যাটারি পরিবর্তন করলে কি ফোনের ছবি ও অন্যান্য তথ্য মুছে যায়?
সাধারণভাবে শুধু ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য ফোনের ছবি, পরিচিতি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার প্রয়োজন হয় না। তবে মেরামতের সময় অন্য সমস্যা দেখা দিলে অথবা ফোন পুনরায় সেট করতে হলে তথ্য হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ব্যাটারি পরিবর্তনের আগে প্রয়োজনীয় তথ্যের নিরাপদ অনুলিপি সংরক্ষণ করুন। তবে ব্যাটারি ফুলে গেলে বা গুরুতর ক্ষতির লক্ষণ থাকলে তথ্য সংরক্ষণের জন্য ফোন চালু বা চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।

