গুগল সার্চ কনসোলে ক্লিক বাড়ছে। অথচ গুগল অ্যানালিটিক্স ৪-এ দর্শনার্থীদের সেশন খুব একটা বাড়েনি। মাস শেষে দেখা গেল, কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার হারও কমেছে। একই ওয়েবসাইটের তিনটি সংখ্যা তিন রকম ছবি দেখাচ্ছে। তাহলে এসইওর ফল আসলে ভালো, না খারাপ?
এমন বিভ্রান্তির কারণ অনেক সময় তথ্যের ভুল নয়, বরং ভুলভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করা। স্বাভাবিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে আসা দর্শনার্থী বাড়লেই সার্চে অবস্থান উন্নত হয়েছে কিংবা ব্যবসার আয় বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
একটি কার্যকর এসইও ড্যাশবোর্ডে সার্চ ফলাফলে প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিক, ক্লিকের হার, গড় অবস্থান, অর্গানিক সেশন, ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা এবং কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য একসঙ্গে দেখতে হয়। তবে সব সংখ্যা এক জায়গায় রাখলেই ভালো ড্যাশবোর্ড তৈরি হয় না। কোন সূচকের সঙ্গে কোনটি তুলনা করা যায়, সেটি জানা জরুরি।
এসইও ড্যাশবোর্ডের সূচকের তালিকা বড় করার চেয়ে সঠিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার ব্যবস্থা করা বেশি প্রয়োজন। সার্চে ওয়েবসাইটের উপস্থিতি বাড়ছে কি না, মানুষ এসে কী করছেন এবং সেই দর্শনার্থীদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে কি না, এই তিনটি বিষয় বোঝা গেলেই অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
সার্চে উপস্থিতি বাড়ছে, কিন্তু ক্লিক আসছে কি?
এসইও ড্যাশবোর্ড তৈরির সময় গুগল সার্চ কনসোলের চারটি সূচক দিয়ে শুরু করা যুক্তিসংগত। এগুলো হলো সার্চ ফলাফলে প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিক, ক্লিকের হার এবং গড় অবস্থান। চারটি সংখ্যা একসঙ্গে না দেখলে ওয়েবসাইটের সার্চ পারফরম্যান্স সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
প্রদর্শনের সংখ্যা জানায় গুগল সার্চে আপনার ওয়েবসাইটের ফলাফল কতবার দেখানো হয়েছে। ক্লিক থেকে বোঝা যায়, সেই ফলাফল থেকে কতবার ওয়েবসাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করা হয়েছে। ক্লিকের হার বা সিটিআর হলো প্রদর্শনের সংখ্যার তুলনায় ক্লিকের শতাংশ।
ধরা যাক, একটি পৃষ্ঠা ১০,০০০ বার প্রদর্শিত হয়ে ৫০০ ক্লিক পেয়েছে। ক্লিকের হার হবে ৫ শতাংশ। পরের মাসে প্রদর্শনের সংখ্যা বেড়ে ২০,০০০ হলো, কিন্তু ক্লিক আগের মতোই ৫০০। তখন ক্লিকের হার নেমে আসবে ২.৫ শতাংশে।
এখানে ক্লিকের হার অর্ধেক হয়েছে। অথচ ক্লিকের সংখ্যা কমেনি।
এমন পরিবর্তন দেখেই পৃষ্ঠার শিরোনাম পাল্টানো বা লেখা নতুন করে তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আগে দেখতে হবে নতুন প্রদর্শনগুলো কোন অনুসন্ধান থেকে আসছে। পৃষ্ঠাটি হয়তো এমন কিছু অনুসন্ধানে দেখানো হচ্ছে, যেখানে আগে তার উপস্থিতি ছিল না। এসব অনুসন্ধানে অবস্থান নিচের দিকে থাকলেও সামগ্রিক ক্লিকের হার কমতে পারে।
গড় অবস্থান এখানে বাড়তি ধারণা দিতে পারে। তবে এই সূচকেরও সীমাবদ্ধতা আছে।
গুগল সার্চ কনসোলের গড় অবস্থান কোনো একটি নির্দিষ্ট অনুসন্ধান শব্দের স্থায়ী অবস্থান নয়। ওয়েবসাইটভিত্তিক প্রতিবেদনে একই অনুসন্ধানে ওয়েবসাইটের একাধিক ফলাফল থাকলে সর্বোচ্চ অবস্থানের ফলাফল বিবেচিত হয়। পৃষ্ঠাভিত্তিক হিসাব আবার সংশ্লিষ্ট ওয়েব ঠিকানার ভিত্তিতে তৈরি হয়।
তাই পুরো ওয়েবসাইটের গড় অবস্থান উন্নত হয়েছে বলে গুরুত্বপূর্ণ সব পৃষ্ঠার অবস্থান বেড়েছে, এমন ধরে নেওয়া ভুল। সার্চ পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে পৃষ্ঠা ও অনুসন্ধানভিত্তিক তথ্য দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী দেশ ও ডিভাইসের তথ্যও আলাদা করুন। সামগ্রিক গড়ের আড়ালে থাকা পরিবর্তন তখন অনেকটা পরিষ্কার হবে।
সার্চ কনসোলের ক্লিক আর অ্যানালিটিক্সের সেশন মিলছে না কেন?
দুটি সেবার সংখ্যা এক না হওয়া এসইও প্রতিবেদন তৈরির পরিচিত একটি সমস্যা। তবে এই অমিল দেখলেই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থায় ত্রুটি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। গুগল সার্চ কনসোল সার্চ ফলাফল থেকে আসা ক্লিক গণনা করে। অন্যদিকে গুগল অ্যানালিটিক্স ৪ বা জিএ৪ ব্যবহারকারীর ওয়েবসাইট বা অ্যাপের কার্যক্রম থেকে সেশন হিসাব করে।
ধরা যাক, কেউ সার্চ ফলাফল থেকে ওয়েবসাইটে ক্লিক করেছেন। সেই ক্লিক সার্চ কনসোলে গণনা হতে পারে। কিন্তু ওয়েবসাইটে জিএ৪-এর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ না হলে সংশ্লিষ্ট সেশন একইভাবে নথিভুক্ত নাও হতে পারে। তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা, ব্যবহারকারীর সম্মতি, সময় অঞ্চল এবং দর্শনার্থীর উৎস শনাক্তকরণের পার্থক্যও দুই প্রতিবেদনের সংখ্যাকে প্রভাবিত করে।
আরও একটি সাধারণ ভুল হয় অর্গানিক সার্চ বা স্বাভাবিক অনুসন্ধান থেকে আসা দর্শনার্থীদের তথ্য নিয়ে। জিএ৪-এর স্বাভাবিক অনুসন্ধান বিভাগে গুগল ছাড়াও অন্য সার্চ ইঞ্জিন থেকে আসা সেশন থাকতে পারে। অথচ গুগল সার্চ কনসোল শুধু গুগলের সার্চ পারফরম্যান্স দেখায়।
তাই দুই সেবার তথ্য তুলনা করার সময় জিএ৪-এ সেশনের উৎস ও মাধ্যম নির্বাচন করে গুগল থেকে স্বাভাবিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে আসা সেশনগুলোর সারি দেখা বেশি যুক্তিসংগত। এতেও সংখ্যা পুরোপুরি মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ ক্লিক ও সেশন আলাদা সূচক।
পৃষ্ঠাভিত্তিক তুলনায় আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। সার্চ কনসোল সাধারণত গুগলের নির্বাচিত মূল ওয়েব ঠিকানার ভিত্তিতে সার্চ পারফরম্যান্স দেখায়। জিএ৪-এ ভিন্ন প্রবেশপৃষ্ঠার ঠিকানা থেকেও তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। ফলে একই লেখার তথ্য দুই জায়গায় ভিন্নভাবে দেখা সম্ভব। এই পার্থক্যগুলো না বুঝে দুটি সংখ্যার মধ্যে যোগ-বিয়োগ করে প্রতিবেদন তৈরি করলে বিভ্রান্তি আরও বাড়বে।
অর্গানিক ট্রাফিক বাড়লেও পাঠক থাকছেন তো?

সার্চ থেকে মানুষ ওয়েবসাইটে আসছেন, কিন্তু এসে কী করছেন? এখানে জিএ৪-এর ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততার হার কাজে আসে। ধরা যাক, কোনো ওয়েবসাইটে স্বাভাবিক অনুসন্ধান থেকে আসা সেশন বেড়েছে। একই সময়ে সম্পৃক্ততার হার কমছে। এর অর্থ হতে পারে নতুন দর্শনার্থীদের একটি অংশ প্রত্যাশিতভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন না। তবে কেন এমন হচ্ছে, তা জানতে পৃষ্ঠাভিত্তিক তথ্য দেখতে হবে।
জিএ৪-এর সাধারণ নিয়মে কোনো সেশন ১০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হলে, অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ঘটলে অথবা দুই বা তার বেশি পৃষ্ঠা বা পর্দা দেখা হলে সেটিকে সম্পৃক্ত সেশন হিসেবে গণনা করা হয়। ১০ সেকেন্ডের সময়সীমা সেটিংস থেকে পরিবর্তন করা যায়।
সম্পৃক্ততার হার হলো মোট সেশনের মধ্যে এমন সম্পৃক্ত সেশনের শতাংশ।
এই সূচক নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগেরও প্রয়োজন নেই। একজন পাঠক হয়তো কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে ওয়েবসাইটে এসেছেন। কয়েক সেকেন্ডে উত্তর পেয়ে চলে গেলেন। এতে তাঁর প্রয়োজন মিটেছে কি না, সেটি সম্পৃক্ততার হার একা বলে দিতে পারে না।
আবার কেউ অনেকক্ষণ একটি পৃষ্ঠায় থাকলেও প্রয়োজনীয় ফরম জমা দেননি কিংবা পণ্য কেনেননি। সেই সেশন দীর্ঘ হওয়া মানেই ব্যবসায়িক সাফল্য নয়। সেজন্য সম্পৃক্ততার হারের সঙ্গে প্রবেশপৃষ্ঠার বিষয়, ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটে সব পৃষ্ঠার কাছ থেকে একই ধরনের সম্পৃক্ততা প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
আরও পড়ুন: গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন
দর্শনার্থী বাড়ছে, কিন্তু ব্যবসার ফল কোথায়?
অনেক এসইও প্রতিবেদনের দুর্বলতা এখানেই। কতজন দর্শনার্থী এসেছেন, কোন অনুসন্ধান শব্দে অবস্থান বেড়েছে, এসব তথ্য থাকে। কিন্তু সেই দর্শনার্থীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত কাজ কতটা সম্পন্ন হয়েছে, তার হিসাব অনুপস্থিত।
একটি অনলাইন দোকানের জন্য বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ। সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কাছে যোগাযোগ ফরম জমা দেওয়া বা পরামর্শের আবেদন মূল্যবান হতে পারে। সংবাদমাধ্যমে সংবাদপত্রের নিয়মিত ই-মেইল পাঠক হিসেবে নিবন্ধন কিংবা সদস্যপদ গ্রহণ আলাদা লক্ষ্য হতে পারে।
জিএ৪-এ এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজকে বিশেষ কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
তবে এখানেও একটি পার্থক্য বোঝা দরকার। গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মোট সংখ্যা এবং সেশনের ভিত্তিতে সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার হার একই জিনিস নয়। গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সংখ্যা দেখায় নির্বাচিত কাজ কতবার ঘটেছে। অন্যদিকে সেশনভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের হার জানায় মোট সেশনের কত শতাংশে অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে।
এই হার গণনা করা হয় এভাবে:
গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া সেশনের হার = (অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ঘটেছে এমন সেশন ÷ মোট সেশন) × ১০০
সব ধরনের কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার হার অবশ্য একইভাবে গণনা করা হয় না। সেশনভিত্তিক ও ব্যবহারকারীভিত্তিক হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আরও জরুরি বিষয় হলো, সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের ব্যবসায়িক মূল্য সমান নয়।
একজন দর্শনার্থী ফরম খুলেছেন, আরেকজন ফরম জমা দিয়েছেন। এই দুটি কাজকে সমান ফল হিসেবে দেখানো যুক্তিসংগত হবে না। পৃষ্ঠা নিচের দিকে সরানো কিংবা বোতামে ক্লিকের মতো ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করলেও সেগুলো প্রকৃত বিক্রি বা সফল সম্ভাব্য গ্রাহকের বিকল্প নয়।
কোন কাজটি ব্যবসার জন্য সত্যিই মূল্যবান, তা আগে নির্ধারণ করুন। এরপর দেখুন অর্গানিক দর্শনার্থীদের কাছ থেকে সেই কাজ কতবার সম্পন্ন হচ্ছে। সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে সম্ভাব্য গ্রাহক পরে ক্রেতায় পরিণত হয়েছেন কি না জানতে গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা বা বিক্রয় ব্যবস্থার তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। শুধু জিএ৪-এর প্রতিবেদনে সেই পুরো প্রক্রিয়া বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে।
পুরো ওয়েবসাইটের গড়ের আড়ালে কোন পৃষ্ঠাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে?
বড় ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে সামগ্রিক অর্গানিক ট্রাফিক অনেক সময় বিভ্রান্তিকর ছবি দেখায়। কয়েকটি জনপ্রিয় পৃষ্ঠা বেশি দর্শনার্থী আনছে। ফলে মোট দর্শনার্থী বাড়ছে। অথচ ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্য কিছু পৃষ্ঠা হয়তো আগের তুলনায় কম ক্লিক পাচ্ছে।
এই পরিবর্তন ধরতে ওয়েবসাইটে প্রবেশের প্রথম পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দরকার। কোন পৃষ্ঠাগুলো বেশি অর্গানিক দর্শনার্থী আনছে, কোন পৃষ্ঠার প্রদর্শন বাড়লেও ক্লিক বাড়ছে না এবং কোন পৃষ্ঠায় দর্শনার্থীরা কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন করছেন, এসব তথ্য পাশাপাশি দেখুন।
পৃষ্ঠার সঙ্গে অনুসন্ধানের সম্পর্কও পরীক্ষা করা উচিত। একটি পৃষ্ঠা বেশি দর্শনার্থী আনছে, কিন্তু তাঁরা এমন অনুসন্ধান থেকে আসছেন যার সঙ্গে ওয়েবসাইটের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের মিল কম। সে ক্ষেত্রে দর্শনার্থী বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।
এখানে প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের নামযুক্ত এবং নাম ছাড়া সাধারণ অনুসন্ধান আলাদা করা উপকারী। কেউ প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে খুঁজলে সেটি ব্র্যান্ডভিত্তিক অনুসন্ধান। অন্যদিকে সাধারণ পণ্য, সেবা কিংবা সমস্যার নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলে সেটি ব্র্যান্ডের নামবিহীন অনুসন্ধান হতে পারে।
ধরা যাক, প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে অনুসন্ধান বেড়েছে। এতে অর্গানিক দর্শনার্থীও বাড়তে পারে। অথচ সাধারণ পণ্য বা সেবাসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে ওয়েবসাইটের উপস্থিতি আগের জায়গাতেই রয়েছে।
সামগ্রিক দর্শনার্থীর সংখ্যা থেকে এই পার্থক্য বোঝা যাবে না।
গুগল সার্চ কনসোলের কার্যকারিতা প্রতিবেদনে ব্র্যান্ডভিত্তিক ও ব্র্যান্ডের নামবিহীন অনুসন্ধান আলাদা করার সুবিধা রয়েছে। তবে কম প্রদর্শন পাওয়া কিছু ওয়েবসাইটসহ সব প্রপার্টিতে সুবিধাটি পাওয়া যায় না। সার্চ কনসোলের অন্তর্দৃষ্টি প্রতিবেদনেও নির্দিষ্ট যোগ্যতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় শ্রেণিবিন্যাস সব সময় নির্ভুল নাও হতে পারে। বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নামযুক্ত অনুসন্ধান আলাদা করার ফিল্টার ব্যবহার করা যায়।
তবে সার্চ কনসোল গোপনীয়তার কারণে সব অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ করে না। কিছু তথ্যসারি বাদও পড়তে পারে। ফলে ফিল্টার করা তথ্যকে পুরো ওয়েবসাইটের সব ক্লিক বা প্রদর্শনের পূর্ণ হিসাব হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। সংবাদমাধ্যমের জন্য এখানে আরেকটি বিবেচনা রয়েছে। গুগল সার্চ, গুগল নিউজ ও গুগল ডিসকভারের তথ্য আলাদা রাখা ভালো। কারণ সব দর্শনার্থী একই ধরনের অনুসন্ধান থেকে আসেন না।
প্রযুক্তিগত সূচক কতটা গুরুত্ব পাবে?

এসইও ড্যাশবোর্ডে প্রযুক্তিগত তথ্য থাকা দরকার। কিন্তু প্রতিদিনের মূল প্রতিবেদনে অসংখ্য প্রযুক্তিগত সূচক রাখলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। প্রথমে দেখুন ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠাগুলো গুগলের অনুসন্ধানযোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না।
সার্চ কনসোলের পৃষ্ঠা অন্তর্ভুক্তির প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া যায়। তবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন সব ওয়েব ঠিকানাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করবেন না। একই ধরনের একাধিক পৃষ্ঠা, অন্য ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া পৃষ্ঠা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সার্চের বাইরে রাখা ঠিকানা থাকতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কোনো পৃষ্ঠা অন্তর্ভুক্ত না হলে ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষার সুবিধা দিয়ে কারণ যাচাই করুন। মনে রাখতে হবে, পৃষ্ঠা অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই সব অনুসন্ধানে সেটি দেখানো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওয়েবসাইট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বোঝার জন্য গুগলের মূল ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার সূচকগুলোও প্রাসঙ্গিক।
এখানে তিনটি বিষয় দেখা হয়।
- সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান উপাদান প্রদর্শনের সময় (এলসিপি): পৃষ্ঠার দৃশ্যমান অংশের সবচেয়ে বড় বিষয়বস্তু প্রদর্শিত হতে কত সময় লাগে।
- ব্যবহারকারীর কার্যক্রমের পর সাড়া দেওয়ার সময় (আইএনপি): ব্যবহারকারীর ক্লিক, স্পর্শ কিংবা কিবোর্ডের কার্যক্রমের পর পৃষ্ঠার সাড়া দেওয়ার সময়।
- দৃশ্যমান উপাদানের অপ্রত্যাশিত স্থান পরিবর্তন (সিএলএস): পৃষ্ঠার বিভিন্ন উপাদান কতটা অপ্রত্যাশিতভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে।
সার্চ কনসোলের এই প্রতিবেদন ক্রোম ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়। এতে সাম্প্রতিক ২৮ দিনের তথ্য ব্যবহার করা হয়। পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে অনুরূপ পৃষ্ঠাগুলোকে একসঙ্গে দেখানো হতে পারে।
তাই প্রতিদিন এই সংখ্যাগুলো বদলাচ্ছে কি না দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার সমস্যা খুঁজতে গুগলের পেজস্পিড ইনসাইটস দিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে। প্রধান ড্যাশবোর্ডে প্রযুক্তিগত সমস্যার সংক্ষিপ্ত অবস্থা রাখুন। বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য আলাদা প্রতিবেদন ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনক।
সার্চ কনসোল ও অ্যানালিটিক্সের তথ্য এক জায়গায় আনবেন যেভাবে
শুরুতেই অর্থ খরচ করে আলাদা এসইও সফটওয়্যার কেনার প্রয়োজন নেই। গুগল সার্চ কনসোল ও গুগল অ্যানালিটিক্স ৪-এর তথ্য দিয়ে প্রাথমিক ড্যাশবোর্ড তৈরি করা যায়। একাধিক উৎসের তথ্য একই প্রতিবেদনে দেখতে গুগল লুকার স্টুডিও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে ড্যাশবোর্ড তৈরির আগে দুটি সেবার মূল প্রতিবেদন ভালোভাবে বুঝে নেওয়া উচিত।
সার্চ কনসোলে ওয়েবসাইটের প্রপার্টি নির্বাচন করে কার্যকারিতা → সার্চ ফলাফল প্রতিবেদন খুলুন। সেখানে ক্লিক, প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিকের হার ও গড় অবস্থান পাওয়া যাবে। সময়সীমা, দেশ, ডিভাইস কিংবা পৃষ্ঠা অনুযায়ী তথ্য দেখা যায়।
অন্যদিকে জিএ৪-এর প্রতিবেদন → দর্শনার্থী সংগ্রহ → ট্রাফিক সংগ্রহ অংশে অর্গানিক সেশন, সম্পৃক্ততার হার ও প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম দেখুন। প্রপার্টির প্রতিবেদন বিন্যাস অনুযায়ী মেনুর অবস্থান আলাদা হতে পারে।
জিএ৪-এর প্রবেশপৃষ্ঠার প্রতিবেদনে অর্গানিক সেশনের উপযুক্ত ফিল্টার ব্যবহার করে কোন পৃষ্ঠায় দর্শনার্থীরা প্রথম প্রবেশ করছেন, তা পরীক্ষা করা যায়। এরপর গুগল লুকার স্টুডিওতে তৈরি করুন → তথ্যের উৎস নির্বাচন করে সার্চ কনসোলের সংযোগকারী যুক্ত করুন।
এখানে ওয়েবসাইটভিত্তিক প্রদর্শন এবং ওয়েব ঠিকানাভিত্তিক প্রদর্শনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। পৃষ্ঠাভিত্তিক বিশ্লেষণের জন্য ওয়েব ঠিকানাভিত্তিক প্রদর্শনের তথ্য উপযোগী। ওয়েবসাইট ও অনুসন্ধানের সামগ্রিক পারফরম্যান্স দেখতে ওয়েবসাইটভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করা যায়।
একটি সার্চ কনসোল তথ্যের উৎসে এই দুই ধরনের সারণি একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। দুটিই প্রয়োজন হলে আলাদা তথ্যের উৎস তৈরি করতে হবে। পরে গুগল অ্যানালিটিক্সের সংযোগকারী দিয়ে জিএ৪ প্রপার্টি যুক্ত করুন। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকলে প্রপার্টি নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
এখানে সব সূচক একটি লেখচিত্রে মেশানোর চেষ্টা না করাই ভালো।
ড্যাশবোর্ডের একটি অংশে সার্চ কনসোলের প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিক, ক্লিকের হার ও গড় অবস্থান রাখুন। আরেক অংশে জিএ৪-এর অর্গানিক সেশন, সম্পৃক্ততার হার ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপৃষ্ঠার তথ্য রাখুন। ব্যবসায়িক ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বা প্রাসঙ্গিক কনভার্সনের তথ্য আলাদা রাখুন।
এভাবে তথ্য পাশাপাশি দেখলে পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা যায়, অথচ ভিন্ন গণনাপদ্ধতির সংখ্যা এক করে ফেলার ঝুঁকি কমে। ড্যাশবোর্ড তৈরি হয়ে গেলে মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে কয়েকটি সংখ্যা মিলিয়ে দেখুন। একই সময়সীমা ও ফিল্টার ব্যবহার করা জরুরি।
সার্চ কনসোলের ওয়েবসাইটভিত্তিক ও ওয়েব ঠিকানাভিত্তিক প্রদর্শনের গণনাপদ্ধতি আলাদা হতে পারে। আবার জিএ৪ ও সার্চ কনসোলের সময় অঞ্চলও এক নাও হতে পারে। সার্চ কনসোলের সাধারণ প্রতিবেদন প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় অনুযায়ী পরিচালিত হয়, কিন্তু জিএ৪ প্রপার্টির সময় অঞ্চল আলাদাভাবে নির্ধারণ করা যায়।
বাংলাদেশ বা ভারতের সময় অনুযায়ী পরিচালিত জিএ৪ প্রপার্টির দৈনিক তথ্য তুলনা করার সময় এই পার্থক্য বিবেচনা করতে হবে। ভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করার ক্ষেত্রে ওয়েব ঠিকানা বা তারিখের মতো মিলিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো ভুল হলে প্রতিবেদনেও ভুল সংখ্যা আসতে পারে। তাই শুরুতে তথ্য পাশাপাশি রাখুন। গণনাপদ্ধতি ও তথ্যের মাত্রা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী একত্র করুন।
ড্যাশবোর্ডে সমস্যা দেখা গেলে প্রথমে কোথায় তাকাবেন?
একটি ভালো ড্যাশবোর্ড শুধু মাস শেষে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নয়। কোন সমস্যাটি আগে পরীক্ষা করা প্রয়োজন, সেটি বুঝতেও সাহায্য করা উচিত। প্রদর্শনের সংখ্যা বাড়ছে অথচ ক্লিকের হার কমছে? প্রথমেই সব শিরোনাম বদলাবেন না। নতুন প্রদর্শন আসছে কোন অনুসন্ধান থেকে এবং সেগুলোতে পৃষ্ঠার গড় অবস্থান কত, তা দেখুন।
ক্লিক কমছে এবং গড় অবস্থানও খারাপ হচ্ছে? কোন পৃষ্ঠা বা অনুসন্ধানে পরিবর্তন বেশি হয়েছে, তা শনাক্ত করুন। এরপর লেখার প্রাসঙ্গিকতা, সার্চের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অবস্থা কিংবা প্রযুক্তিগত সমস্যা পরীক্ষা করুন।
অর্গানিক সেশন বেড়েছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার হার কমেছে? দর্শনার্থীরা কোন প্রবেশপৃষ্ঠায় যাচ্ছেন এবং ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে পৃষ্ঠার বিষয় মিলছে কি না দেখুন। গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সঠিকভাবে নথিভুক্ত হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন।
মোবাইলের দর্শনার্থী কমছেন, অথচ ডেস্কটপের দর্শনার্থী প্রায় একই রয়েছেন? ডিভাইস অনুযায়ী সার্চ কনসোল ও জিএ৪-এর তথ্য আলাদা করে দেখুন। মোবাইল পৃষ্ঠার ব্যবহারযোগ্যতা, পৃষ্ঠা প্রদর্শনের গতি এবং অনুসন্ধানের পরিবর্তন পরীক্ষা করুন।
তবে এই পরিস্থিতিগুলোর কোনো একটিই সমস্যার কারণ নিশ্চিত করে না। এসইওর বাইরের কারণেও সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে। মৌসুমি অনুসন্ধান, প্রতিষ্ঠানের প্রচার, নতুন পণ্য, সংবাদঘটনা কিংবা ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থায় পরিবর্তন, সবই প্রাসঙ্গিক হতে পারে। যে কারণের যথেষ্ট প্রমাণ নেই, সেটিকে নিশ্চিত ব্যাখ্যা হিসেবে প্রতিবেদনে লেখা উচিত নয়।
বেশি সূচক মানেই ভালো ড্যাশবোর্ড নয়
এসইও প্রতিবেদনে গড় অবস্থান, দ্রুত ওয়েবসাইট ছেড়ে যাওয়ার হার, বাইরের লিংকের সংখ্যা কিংবা মোট দর্শনার্থীর মধ্যে অর্গানিক দর্শনার্থীর শতাংশের মতো তথ্য প্রায়ই গুরুত্ব পায়। এগুলো কার্যকর হতে পারে, কিন্তু এককভাবে কোনোটি দিয়ে ওয়েবসাইটের সাফল্য বিচার করা যায় না।
গড় অবস্থান কোনো একটি অনুসন্ধান শব্দের স্থায়ী অবস্থান নয়। জিএ৪-এর বাউন্স রেট বা সম্পৃক্ত নয় এমন সেশনের হার বেশি হলেই লেখা ব্যর্থ বলা যায় না। একইভাবে বাইরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া লিংকের সংখ্যা বেশি থাকলেই এসইও পারফরম্যান্স ভালো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। লিংকের প্রাসঙ্গিকতা ও গুণমান গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন সেবার শনাক্ত করা লিংকের সংখ্যাও এক নাও হতে পারে।
মোট দর্শনার্থীর মধ্যে অর্গানিক দর্শনার্থীর শতাংশও সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হয়। এই শতাংশ কমার কারণ অন্য কোনো উৎসের দর্শনার্থী বেড়ে যাওয়া হতে পারে। অথচ অর্গানিক সেশনের প্রকৃত সংখ্যা আগের মতোই থাকতে পারে। এ কারণে সব ওয়েবসাইটের জন্য একই ভালো ফলের মানদণ্ড খোঁজা অর্থহীন। একটি সংবাদমাধ্যম, অনলাইন দোকান এবং সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের দর্শনার্থী ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের উদ্দেশ্য এক নয়।
ছোট ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে সার্চ কনসোলের চারটি মৌলিক সূচকের সঙ্গে জিএ৪-এর অর্গানিক সেশন, সম্পৃক্ততার হার এবং একটি প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম রাখলেই শুরু করা যায়। বড় কনটেন্টভিত্তিক ওয়েবসাইটে বিভাগ, পৃষ্ঠা, দেশ ও ডিভাইসভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। অনলাইন দোকান বা সম্ভাব্য গ্রাহক সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন হওয়া ও ব্যবসায়িক ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বড় পরিবর্তন শনাক্ত করুন। মাসিক পর্যালোচনায় দেখুন, কী পরিবর্তন হয়েছে, সম্ভাব্য কারণ কী এবং নেওয়া পদক্ষেপের পর ফলাফলে কী ঘটেছে। মৌসুমি ব্যবসার ক্ষেত্রে আগের বছরের একই সময়ের তুলনাও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
এসইও ড্যাশবোর্ডের সূচক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি সহজ নিয়ম কাজে আসে: যে সংখ্যাটি দেখে কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না বা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা যায় না, সেটি প্রধান প্রতিবেদনে রাখার প্রয়োজন আছে কি না ভেবে দেখুন।
ড্যাশবোর্ড ছোট হলেও সমস্যা নেই। বরং প্রথমে সীমিত কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূচক নিয়ে কাজ শুরু করুন। সেগুলোর সংজ্ঞা, সময়সীমা ও তথ্যের উৎস ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন। কোনো পৃষ্ঠা বা দর্শনার্থী আসার উৎসে সমস্যা দেখা দিলে তখন বিস্তারিত তথ্য খুলুন।
এতে অপ্রয়োজনীয় প্রতিবেদন তৈরিতে সময় কম যাবে। সবচেয়ে দরকারি কাজের জন্য সময় পাওয়া যাবে—কোন লেখা উন্নত করা প্রয়োজন, কোথায় প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে এবং এসইও বাজেটের কোন অংশকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, তা নির্ধারণে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. নতুন ওয়েবসাইটের এসইও ড্যাশবোর্ডে কোন তথ্যগুলো আগে রাখবেন?
নতুন ওয়েবসাইটে শুরুতেই অনেক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। গুগল সার্চ কনসোল থেকে সার্চ ফলাফলে প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিক, ক্লিকের হার ও গড় অবস্থান দেখুন। পাশাপাশি গুগল অ্যানালিটিক্স ৪ থেকে অর্গানিক সেশন ও ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততার তথ্য রাখুন। শুরুতে তথ্য কম থাকলে কয়েক দিনের পরিবর্তন দেখে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় কিছু প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনও খালি থাকতে পারে। দর্শনার্থী বাড়ার সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সূচক যুক্ত করুন।
২. একই ওয়েবসাইটের বাংলাদেশ ও ভারতের এসইও পারফরম্যান্স কি আলাদাভাবে দেখা উচিত?
হ্যাঁ, দুই দেশের দর্শনার্থীদের আচরণ ও অনুসন্ধানের ফলাফল আলাদা হতে পারে। একই বাংলা লেখা বাংলাদেশ ও ভারতের পাঠকদের কাছে ভিন্নভাবে পৌঁছাতে পারে। গুগল সার্চ কনসোলে দেশ অনুযায়ী ক্লিক, প্রদর্শনের সংখ্যা ও গড় অবস্থান দেখুন। গুগল অ্যানালিটিক্স ৪-এও দেশের ভিত্তিতে দর্শনার্থীদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করুন। এতে কোনো একটি দেশের ভালো ফল অন্য দেশের দুর্বল পারফরম্যান্স আড়াল করতে পারবে না।
৩. লুকার স্টুডিওর সঙ্গে সার্চ কনসোলের তথ্য না মিললে কী পরীক্ষা করবেন?
প্রথমে দুই প্রতিবেদনের সময়সীমা, দেশ, ডিভাইস এবং অনুসন্ধানের ধরন একই আছে কি না দেখুন। এরপর লুকার স্টুডিওতে ওয়েবসাইটভিত্তিক নাকি ওয়েব ঠিকানাভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরীক্ষা করুন। এই দুই ধরনের তথ্যের গণনাপদ্ধতি আলাদা হতে পারে। একাধিক তথ্যের উৎস যুক্ত থাকলে সেগুলো কীভাবে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেটিও যাচাই করতে হবে। শুধু সংখ্যা না মেলার কারণে মূল ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই।
৪. সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটে গুগল সার্চ, গুগল নিউজ ও ডিসকভারের তথ্য কি একসঙ্গে রাখা উচিত?
একই ড্যাশবোর্ডে রাখা যায়, তবে তিনটি উৎসের ফলাফল আলাদাভাবে দেখানো ভালো। গুগল সার্চের তথ্য থেকে বোঝা যায় পাঠকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে ওয়েবসাইট কতটা দেখা হচ্ছে। গুগল নিউজ ও ডিসকভার থেকে আসা দর্শনার্থীদের তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করলে কনটেন্টের বিভিন্ন উৎসের কার্যকারিতা বোঝা সহজ হয়। তিনটির ক্লিক একসঙ্গে যোগ করে একটি সাধারণ এসইও সূচক হিসেবে ব্যবহার না করে প্রতিটির পরিবর্তন আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করাই বেশি কার্যকর।

