ফোন থেকে কোনো অ্যাপ মুছে ফেলেছেন কয়েক বছর আগে। সেবাটির কথা এখন আর মনে নেই। কিন্তু সেখানে খোলা অ্যাকাউন্টটি হয়তো এখনো চালু রয়েছে। আপনার ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, জন্মতারিখ, পুরোনো ছবি কিংবা অন্য ব্যক্তিগত তথ্যও রয়ে যেতে পারে সেই অ্যাকাউন্টে।
সমস্যা হলো, ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া আর অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা এক বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না, এমন অ্যাকাউন্টে তথ্য থেকে গেলে তা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে একই পাসওয়ার্ড একাধিক সেবায় ব্যবহার করলে। পুরোনো অনলাইন অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার কাজ শুরু করতে পারেন নিজের ইমেইল ও সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডের তালিকা থেকে। সেখানে খুঁজে পাওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কোনটি আর প্রয়োজন নেই, তা ঠিক করতে হবে। এরপর জরুরি তথ্য সংরক্ষণ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পালা।
অবশ্য সব সেবায় কাজটি সমান সহজ নয়। কোথাও কয়েকটি ধাপেই অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা যায়। আবার কোথাও পুরোনো ফোন নম্বর, হারিয়ে যাওয়া ইমেইল কিংবা পরিচয় যাচাইয়ের কারণে আটকে যেতে পারেন। তাই অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি সেটি নিরাপদে বন্ধ করার প্রস্তুতিও জরুরি।
পুরোনো অ্যাকাউন্ট চালু থাকলে কী ধরনের ঝুঁকি থাকে?
অব্যবহৃত অ্যাকাউন্টের সমস্যা অনেক সময় চোখে পড়ে না। ব্যবহারকারী সেখানে আর প্রবেশ করেন না। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য কী অবস্থায় আছে কিংবা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা বদলানো দরকার কি না, তা অজানাই থেকে যায়। কয়েক বছর আগে খোলা একটি অনলাইন ফোরামের অ্যাকাউন্টের কথাই ভাবুন। সেখানে যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেছিলেন, একই পাসওয়ার্ড যদি এখনো অন্য কোনো সেবায় ব্যবহার করেন, তাহলে ঝুঁকি রয়েছে।
পুরোনো ফোরামটির তথ্য ফাঁস হয়ে প্রবেশ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হলে সেই তথ্য দিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা হতে পারে। ফাঁস হওয়া ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ডের সমন্বয় বিভিন্ন সেবায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করার এই কৌশলকে চুরি হওয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা বা ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং বলা হয়।
তবে তথ্য ফাঁস হলেই মূল পাসওয়ার্ড প্রকাশিত হবে, এমন নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান পাসওয়ার্ড নিরাপদ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে। সেক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের পরও পাসওয়ার্ড সরাসরি পড়া সম্ভব না-ও হতে পারে। ঝুঁকি কেবল পাসওয়ার্ডে সীমাবদ্ধ নয়। পুরোনো ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ঠিকানা, ছবি, চাকরির ইতিহাস কিংবা ফোন নম্বর প্রকাশ্যে থাকতে পারে। এসব তথ্য প্রতারণামূলক বার্তা তৈরি বা কারও পরিচয় নকল করার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে অ্যাকাউন্ট পুরোনো মানেই সেটি অনিরাপদ বা ইতিমধ্যে অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, এমন ভাবার কারণ নেই। সংশ্লিষ্ট সেবার নিরাপত্তা, সেখানে থাকা তথ্যের ধরন এবং অ্যাকাউন্টের সুরক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তার কমানোর একটি বাস্তবসম্মত উপায়। কিন্তু আগে কোথাও তথ্য ফাঁস হয়ে থাকলে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেই সেই তথ্য ইন্টারনেট থেকে হারিয়ে যাবে না।
আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন
ভুলে যাওয়া অ্যাকাউন্টের খোঁজ শুরু করবেন কোথা থেকে?
পুরোনো সব অ্যাকাউন্ট এক জায়গায় খুঁজে পাওয়ার কোনো সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই। তবে ইমেইল, পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক এবং অন্য অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত প্রবেশের তথ্য মিলিয়ে দেখলে অনেক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রথমে পুরোনো ইমেইল খুলুন

বেশির ভাগ ব্যবহারকারীর জন্য ইমেইলের প্রাপ্ত বার্তার তালিকা দিয়েই অনুসন্ধান শুরু করা সুবিধাজনক। অনেক অনলাইন সেবায় নিবন্ধনের পর স্বাগত বার্তা, ইমেইল যাচাইয়ের অনুরোধ কিংবা অ্যাকাউন্ট তৈরির নিশ্চিতকরণ পাঠানো হয়।
জিমেইল বা আউটলুকের অনুসন্ধান বাক্সে নিচের ধরনের শব্দ ও বাক্য লিখে খুঁজতে পারেন:
- স্বাগতম
- আপনার ইমেইল যাচাই করুন
- আপনার অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করুন
- অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে
- পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার
- নিবন্ধনের জন্য ধন্যবাদ
এগুলো অনুসন্ধানের বাংলা উদাহরণ। পুরোনো বার্তা ইংরেজিতে লেখা থাকলে সংশ্লিষ্ট ইংরেজি শব্দ দিয়ে খুঁজতে হবে। কারণ ইমেইলের অনুসন্ধানব্যবস্থা সাধারণত বার্তায় থাকা শব্দের ভিত্তিতে ফলাফল দেখায়। একসঙ্গে অনেক ফলাফল এলে আলাদা আলাদা শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান করুন। বাংলা ভাষায় নিবন্ধন করা কোনো সেবার ক্ষেত্রে ‘অ্যাকাউন্ট তৈরি’, ‘ইমেইল যাচাই’ বা ‘নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ’ লিখেও দেখা যেতে পারে।
কেবল প্রাপ্ত বার্তায় খুঁজলে কিছু তথ্য বাদ পড়তে পারে। পুরোনো সংরক্ষিত বার্তা ও অন্যান্য ফোল্ডারও পরীক্ষা করুন। একাধিক ইমেইল ব্যবহার করে থাকলে প্রতিটির ক্ষেত্রেই অনুসন্ধান চালাতে হবে। কোনো নিবন্ধনের বার্তা পাওয়ার অর্থ অবশ্য এই নয় যে অ্যাকাউন্টটি এখনো চালু আছে। সেটি আগেই বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। তাই বার্তা থেকে সেবাটির নাম শনাক্ত করার পর অ্যাকাউন্টের অবস্থা যাচাই করুন।
ব্রাউজারে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড দেখুন
ইমেইলে কোনো সূত্র না পেলেও ব্রাউজারে পুরোনো প্রবেশের তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গুগল ক্রোম: কম্পিউটারে ক্রোমের মেনু থেকে ‘পাসওয়ার্ড ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য পূরণ’ বিভাগে যান। সেখান থেকে ‘গুগল পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক’ খুলুন। গুগল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড দেখতে passwords.google.com ঠিকানায়ও যেতে পারেন।
তবে ডিভাইসে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষিত সব পাসওয়ার্ড গুগল অ্যাকাউন্টে পাওয়া যাবে, এমন নয়।
মোজিলা ফায়ারফক্স: ব্রাউজারের মেনু থেকে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার বিভাগ নির্বাচন করুন। সরাসরি about:logins ঠিকানাতেও এই ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। সেখানে ওয়েবসাইটের নাম ও ব্যবহারকারীর নাম দিয়ে খোঁজা সম্ভব।
আইফোন ও ম্যাক: আইওএস ১৮ এবং ম্যাকওএস সেকোইয়া থেকে অ্যাপলের স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। পুরোনো সংস্করণে সংশ্লিষ্ট পাসওয়ার্ড সেটিংস পরীক্ষা করতে হবে।
এই তালিকায় এমন ওয়েবসাইটের নাম থাকতে পারে, যেগুলো বহুদিন ব্যবহার করেননি। তবে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক থেকে কোনো সংরক্ষিত প্রবেশের তথ্য মুছে ফেলার আগে সেটির ওয়েবসাইটের নাম লিখে রাখুন। কারণ সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড মুছে দিলেও মূল অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হয় না।
গুগল বা অ্যাপল দিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিলেন?
অনেক সেবায় আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি না করেই গুগল কিংবা অ্যাপল অ্যাকাউন্ট দিয়ে নিবন্ধন করা যায়। এ ধরনের অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাসওয়ার্ডের তালিকায় না-ও থাকতে পারে। গুগল ব্যবহারকারীরা myaccount.google.com/connections ঠিকানায় গিয়ে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপ ও ওয়েবসাইটগুলো পর্যালোচনা করতে পারেন।
অ্যাপল ব্যবহারকারীরা আইফোনের সেটিংস থেকে নিজের নাম নির্বাচন করে অ্যাপল দিয়ে প্রবেশের বিভাগে সংযুক্ত অ্যাপের তথ্য দেখতে পারেন। account.apple.com-এ প্রবেশ করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগ থেকেও এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।
ডিভাইস ও সফটওয়্যারের সংস্করণ অনুযায়ী মেনুর নাম বা অবস্থান কিছুটা বদলাতে পারে। এই তালিকায় অচেনা কোনো সেবার নাম পেলেই সংযোগ সরিয়ে দেবেন না। আগে দেখুন, সেখানে আপনার আলাদা কোনো অ্যাকাউন্ট রয়েছে কি না।
নিজের পুরোনো ব্যবহারকারীর নামও কাজে লাগতে পারে
ইমেইল ও পাসওয়ার্ডের তালিকায় সব অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলবে না। পুরোনো ব্লগ, অনলাইন আলোচনা ফোরাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল খুঁজতে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারেন।
নিজের পুরো নাম, পুরোনো ব্যবহারকারীর নাম অথবা পরিচিত ডাকনাম উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখে অনুসন্ধান করুন।
এতে সেই নামে প্রকাশ্যে থাকা কিছু প্রোফাইল পাওয়া যেতে পারে। তবে সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে না পেলেই অ্যাকাউন্টটি নেই, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অনেক ব্যক্তিগত প্রোফাইল সার্চ ফলাফলে দেখানো হয় না।
সব পুরোনো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার দরকার নেই
অ্যাকাউন্টের তালিকা তৈরি হওয়ার পর পরের কাজ হলো কোনটি রাখবেন আর কোনটি বন্ধ করবেন, তা ঠিক করা। যেসব অব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, সেগুলো আগে পরীক্ষা করুন। পুরোনো বা অন্য সেবায় পুনর্ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড থাকলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করে থাকলে প্রথমেই অন্য চালু অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড বদলান। বিশেষ করে কোনো একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়ার প্রমাণ থাকলে। এরপর সাধারণ ফোরাম, পুরোনো বিনামূল্যের সেবা কিংবা আর ব্যবহার করেন না এমন অ্যাপের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারেন।
ব্যাংকিং, সরকারি সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি আলাদা। এসব অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় নথি, লেনদেনের ইতিহাস কিংবা পরিচয় যাচাইয়ের তথ্য থাকতে পারে। ভবিষ্যতে দরকার হতে পারে এমন অ্যাকাউন্ট কেবল অব্যবহৃত বলে বন্ধ করা ঠিক হবে না। কোনো অ্যাকাউন্ট রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সেটির পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করুন।
অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগে একটু সময় নিন
স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার অনুরোধ জানানোর পর কিছু তথ্য আর ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় কিছু রয়ে গেছে কি না, আগে দেখে নেওয়া ভালো। পুরোনো ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত নথি, কেনাকাটার রসিদ, বিল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বার্তার কপি সংরক্ষণ করুন। অন্য কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করেছেন কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন।
গুগল অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললে সংশ্লিষ্ট জিমেইল, গুগল ড্রাইভ, গুগল ফটোজ এবং অন্যান্য সেবার তথ্য হারাতে পারেন। মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে আউটলুক, ওয়ানড্রাইভ ও সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার তথ্যও প্রভাবিত হতে পারে।
আরেকটি বিষয় অনেকের নজর এড়িয়ে যায়। কোনো পুরোনো ইমেইল ঠিকানা অন্য অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহার করা থাকতে পারে। সেই ইমেইল বন্ধ করার আগে অন্য সেবাগুলোতে নতুন পুনরুদ্ধারের ঠিকানা যুক্ত করুন।
নিয়মিত অর্থপ্রদানের সেবা চালু থাকলে সেটির অবস্থাও দেখে নিন। গুগল প্লে বা অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে এমন সেবা চালু করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা বিভাগে গিয়ে সেটি বাতিল হয়েছে কি না, পরীক্ষা করুন। অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার অনুরোধ জানানো মানেই প্রতিটি ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের বিল বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়।
পুরোনো অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করবেন যেভাবে

অনেক সেবায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার প্রক্রিয়া কাছাকাছি হলেও সেটিংসের নাম ও অবস্থান আলাদা হতে পারে।
১. প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। নিজের সংরক্ষিত ঠিকানা অথবা প্রতিষ্ঠানের পরিচিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। অচেনা ইমেইলে পাওয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার লিংকে সরাসরি ক্লিক করবেন না।
২. অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন। পুরোনো পাসওয়ার্ড কাজ না করলে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ইমেইল বা ফোনে কোড পাঠানো হতে পারে।
৩. অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার ব্যবস্থা খুঁজুন। সাধারণত সেটিংস, অ্যাকাউন্ট সেটিংস, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা কিংবা অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা বিভাগে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার বিকল্প থাকতে পারে। খুঁজে না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তা কেন্দ্রের নির্দেশনা দেখুন।
৪. স্থায়ীভাবে বন্ধ করার অনুরোধ নিশ্চিত করুন। অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা ও মুছে ফেলা এক বিষয় নয়। সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করার পরিবর্তে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার বিকল্প নির্বাচন করেছেন কি না, দেখে নিন। পাসওয়ার্ড বা অতিরিক্ত যাচাইকরণ লাগতে পারে।
৫. নিশ্চিতকরণ বার্তা সংরক্ষণ করুন। অনুরোধ জমা হলে ইমেইল, অনুরোধ নম্বর কিংবা নিশ্চিতকরণ বার্তা রেখে দিন। কিছু সেবায় নির্দিষ্ট অপেক্ষার সময় থাকে। এই সময়ের মধ্যে আবার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে সেটি মুছে ফেলার অনুরোধ বাতিল হতে পারে।
অ্যাপ আনইনস্টল করে দেওয়াকে এই প্রক্রিয়ার বিকল্প ভাববেন না। ফোন থেকে অ্যাপ সরালেও প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে অ্যাকাউন্ট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে যেতে পারে।
গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট ও অ্যাপলের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
বড় অনলাইন সেবাগুলোর অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার ব্যবস্থা আলাদা। ফলে একটি সেবার নির্দেশনা অন্যটির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
গুগল অ্যাকাউন্ট
গুগল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে তথ্য ও গোপনীয়তা বিভাগ খুলুন। এরপর তথ্য ও গোপনীয়তার বিকল্প → আরও বিকল্প → গুগল অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন নির্বাচন করুন।
পরবর্তী নির্দেশনা ও সতর্কতাগুলো পড়ে অনুরোধ নিশ্চিত করতে হবে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। আপনি যদি শুধু জিমেইল ব্যবহার বন্ধ করতে চান, তাহলে পুরো গুগল অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার প্রয়োজন নেই।
তথ্য ও গোপনীয়তা বিভাগের গুগলের একটি সেবা মুছে ফেলুন বিকল্প থেকে জিমেইল নির্বাচন করা যায়। এক্ষেত্রে অন্য একটি ইমেইল ঠিকানা যুক্ত করে সেটি যাচাই করতে হয়।
যাঁরা গুগল ড্রাইভ, গুগল ফটোজ কিংবা অন্য গুগল সেবা ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য পুরো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সেবা বন্ধ করা বেশি উপযোগী হতে পারে।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ব্যবস্থা অ্যাকাউন্টস সেন্টারে রয়েছে।
ফেসবুকের সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্টস সেন্টার খুলুন। এরপর ব্যক্তিগত বিবরণ → অ্যাকাউন্টের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ → নিষ্ক্রিয়করণ বা মুছে ফেলা বিভাগে যান।
সেখানে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার বিকল্প ব্যবহার করা যায়।
ইনস্টাগ্রামের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার ব্যবস্থাও অ্যাকাউন্টস সেন্টারের মাধ্যমে পাওয়া যায়। তবে মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব সংস্করণে মেনুর অবস্থান আলাদা হতে পারে। ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার অনুরোধ সাধারণত প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল করা যায়। অঞ্চলভেদে সময়সীমা বদলাতে পারে।
কিন্তু ৩০ দিন পার হওয়ার অর্থ সব তথ্য ততক্ষণে মুছে গেছে, এমন নয়। ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী, পোস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু মুছে ফেলতে প্রক্রিয়া শুরুর পর ৯০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। সংরক্ষিত অতিরিক্ত অনুলিপিতে কিছু তথ্য আরও বেশি সময় থাকতে পারে। আইনি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারণেও নির্দিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা হতে পারে।
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে অন্য সেবায় প্রবেশ করে থাকলে সেটিও আগে পরীক্ষা করুন। অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে মেসেঞ্জার কিংবা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রবেশের সুবিধা ব্যবহার করা অন্য সেবায় প্রবেশের সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে।
মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট
মাইক্রোসফটের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পেজে যেতে হবে। সেখানে পরিচয় যাচাই ও সতর্কতাগুলো পড়ে প্রয়োজনীয় সম্মতি দেওয়ার পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য চিহ্নিত করুন বিকল্প নির্বাচন করা যায়।
মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালুর জন্য ৩০ অথবা ৬০ দিনের সময়সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে বন্ধ করার অনুরোধ বাতিল করা সম্ভব হতে পারে।
তবে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত সব যাচাইকরণ তথ্য নতুন করে সেট করে থাকলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগে ৬০ দিনের অপেক্ষার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
অ্যাপল অ্যাকাউন্ট
অ্যাপল অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার জন্য privacy.apple.com ঠিকানায় প্রবেশ করুন। সেখানে অ্যাপল অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্রবেশ করার পর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্পগুলো পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার অনুরোধও সেখান থেকে জানানো সম্ভব।
অনুরোধ জানানোর আগে আইক্লাউডের তথ্য, কেনাকাটার ইতিহাস, নিয়মিত অর্থপ্রদানের সেবা এবং ডিভাইসের সঙ্গে অ্যাকাউন্টের সম্পর্ক পরীক্ষা করা জরুরি।
এসব সেবার মেনু অ্যাপের সংস্করণ, ডিভাইস ও অঞ্চলভেদে বদলাতে পারে। কোনো বিকল্প না পেলে প্রতিষ্ঠানের সহায়তা কেন্দ্রের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
গুগল বা অ্যাপলের প্রবেশের সংযোগ সরালেই কাজ শেষ নয়
পুরোনো অ্যাকাউন্ট পরিষ্কার করতে গিয়ে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেকেই গুগল বা অ্যাপলের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের কোনো অ্যাপের সংযোগ সরিয়ে দিয়ে ধরে নেন, অ্যাকাউন্টটিও মুছে গেছে।
আসলে তা নয়। আপনি কোনো ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্রবেশের সুবিধা ব্যবহার করে নিবন্ধন করেছিলেন। পরে গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে সেই ওয়েবসাইটের সংযোগ সরিয়ে দিলেন। এতে গুগলের মাধ্যমে প্রবেশের সংযোগ বন্ধ হতে পারে, কিন্তু ওয়েবসাইটটির নিজস্ব সার্ভারে আপনার পুরোনো প্রোফাইল থেকে যেতে পারে।
অ্যাপল অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় না। কিছু ক্ষেত্রে পরে আবার অ্যাপলের মাধ্যমে প্রবেশ করে আগের অ্যাকাউন্টে যাওয়াও সম্ভব হতে পারে।
তাই আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। তারপর গুগল বা অ্যাপলের সঙ্গে থাকা অপ্রয়োজনীয় সংযোগগুলো সরিয়ে ফেলুন।
অ্যাকাউন্টে আর প্রবেশ করতে না পারলে কী করবেন?
পুরোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে গিয়ে পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সমস্যা আরও বাড়ে যখন নিবন্ধনের সময় ব্যবহার করা ইমেইল বা ফোন নম্বরেও আর প্রবেশ করা যায় না।
প্রথমে সংশ্লিষ্ট সেবার পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা ব্যবহার করুন।
পুরোনো ইমেইল বা ফোন নম্বর সচল থাকলে সেই মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা সহজ হতে পারে। কোনোটিই ব্যবহার করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গ্রাহক সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারকারীর নাম ও প্রোফাইল ঠিকানা জানিয়ে অ্যাকাউন্টের মালিকানা প্রমাণের পদ্ধতি জানতে চান।
অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা সম্ভব না হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার আলাদা অনুরোধ জানাতে পারেন। এ অবস্থায় প্রতারণার ঝুঁকিও মাথায় রাখা দরকার। অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের নামে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাসওয়ার্ড, এককালীন যাচাইকরণ কোড কিংবা পরিচয়পত্র চাইলে তা দেবেন না।
পরিচয়পত্র জমা দেওয়া সত্যিই প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের যাচাইকৃত ও নিরাপদ প্রক্রিয়া ব্যবহার করুন। পুরোনো সেবাটি বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকলে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা কঠিন হতে পারে। সব ক্ষেত্রে সমাধান পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
আপনার পুরোনো তথ্য কোথাও ফাঁস হয়েছে কি না, দেখুন
পুরোনো অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়ার পর সেটির সঙ্গে যুক্ত ইমেইল ঠিকানা কোনো পরিচিত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, পরীক্ষা করতে পারেন।
এ কাজে ‘হ্যাভ আই বিন পনড’ নামের সেবাটি ব্যবহার করা যায়। haveibeenpwned.com ওয়েবসাইটে নিজের ইমেইল ঠিকানা দিয়ে অনুসন্ধান করলে সেটি সেবাটির তালিকাভুক্ত কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পাওয়া গেছে কি না, দেখা যায়।
তবে ফলাফল বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কোনো ইমেইল ঠিকানা তথ্য ফাঁসের তালিকায় পাওয়া মানেই তার পাসওয়ার্ডও প্রকাশিত হয়েছে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণে কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা দেখতে হবে।
আবার কোনো তথ্য না পাওয়া মানেই অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। সব তথ্য ফাঁসের ঘটনা এই সেবার তালিকায় থাকে না। পাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পেলে সেটি পরিবর্তন করুন। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করে থাকলে সেগুলোও বদলাতে হবে।
যেসব অ্যাকাউন্ট চালু রাখছেন, সেগুলোতে সম্ভব হলে দুই ধাপে পরিচয় যাচাই চালু করুন। বিশেষ করে ইমেইল, ব্যাংকিং ও গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবায়। সুযোগ থাকলে যাচাইকরণ অ্যাপ বা নিরাপত্তা চাবি ব্যবহার করা তুলনামূলক ভালো সুরক্ষা দিতে পারে।
অ্যাকাউন্ট বন্ধ, তবু গুগল সার্চে তথ্য দেখা যাচ্ছে?
অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পরও সার্চ ইঞ্জিনে পুরোনো প্রোফাইলের নাম, ছবি কিংবা কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দেখা যেতে পারে।
প্রথমে মূল ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন তথ্যটি এখনো রয়েছে কি না।
মূল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সরানো হয়েছে, কিন্তু গুগল সার্চে পুরোনো বিবরণ রয়ে গেছে—এমন হলে পুরোনো তথ্য হালনাগাদ করার অনুরোধ ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা যায়।
এটি মূলত সার্চ ফলাফলে রয়ে যাওয়া পুরোনো তথ্য হালনাগাদের জন্য। অন্যদিকে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, ঠিকানা কিংবা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশিত থাকলে প্রযোজ্য শর্তে গুগল সার্চ থেকে অপসারণের অনুরোধ জানানো সম্ভব।
তবে সার্চ ফলাফল থেকে তথ্য সরানো আর মূল ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা এক নয়। গুগল সার্চে কোনো তথ্য আর না দেখা গেলেও সেটি অন্য কোথাও থাকতে পারে। মূল ওয়েবসাইটে তথ্য রয়ে গেলে সাইটটির পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
পুরোনো অ্যাকাউন্ট পরিষ্কার করতে গিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবেন না
অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তৃতীয় পক্ষের কোনো অ্যাকাউন্ট পরিষ্কারের সেবা ব্যবহার করতে ইচ্ছা হতে পারে।
এ ধরনের সেবা বেছে নেওয়ার আগে সেটি কী তথ্য চাইছে, খেয়াল করুন। বিশেষ করে সম্পূর্ণ ইমেইলের বার্তা পড়ার অনুমতি চাইলে সতর্ক থাকুন। প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতি, তথ্য ব্যবহারের শর্ত এবং অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকারের পরিধি না বুঝে অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না।
অ্যাকাউন্ট পরিষ্কারের জন্য অর্থপ্রদানের সেবা ব্যবহার করতেই হবে, এমন নয়। নিজের ইমেইল, পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্ট সেটিংস দিয়েই অনেক কাজ করা সম্ভব। তাড়াহুড়ো করে গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল বা অন্য সেবায় প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলাও ঝুঁকিপূর্ণ। আগে নির্ভরশীল সেবাগুলোর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ ও পুনরুদ্ধারের ঠিকানা বদলে নিন।
অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগে প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় অর্থপ্রদানের অবস্থা যাচাই করার বিষয়টিও বাদ দেবেন না।
নিজের অনলাইন পরিচয় গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন
একবার পুরোনো অ্যাকাউন্ট পরিষ্কার করার পরও নতুন করে অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট জমতে পারে। কোনো সেবা ব্যবহার বন্ধ করলে সেখানে খোলা অ্যাকাউন্টটি চালু রাখার দরকার আছে কি না, ভেবে দেখুন। চাইলে একটি নিরাপদ তালিকায় সেবার নাম, নিবন্ধিত ইমেইল এবং অ্যাকাউন্টের অবস্থা লিখে রাখতে পারেন। সেখানে পাসওয়ার্ড রাখার প্রয়োজন নেই।
সব পুরোনো অ্যাকাউন্ট একদিনে খুঁজে বের করারও দরকার নেই। প্রথমে প্রধান ইমেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক পরীক্ষা করুন। সেখান থেকে অপ্রয়োজনীয় কয়েকটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন। পরে পুরোনো ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্য অ্যাপের প্রবেশের সংযোগগুলো দেখুন। অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুযোগ না থাকলে অন্তত সেটির নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করুন। কোনো সেবা ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে আলাদা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখুন।
পুরোনো অনলাইন অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার উদ্দেশ্য ইন্টারনেট থেকে নিজের সব পরিচয় নিশ্চিহ্ন করা নয়। বরং কোথায় ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, কোন অ্যাকাউন্টের সত্যিই প্রয়োজন এবং কোনটি বন্ধ করা উচিত, সেই নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. একটি ইমেইল ঠিকানা দিয়ে খোলা সব পুরোনো অ্যাকাউন্ট কি একসঙ্গে খুঁজে পাওয়া যায়?
না। একটি ইমেইল ঠিকানা দিয়ে খোলা সব অনলাইন অ্যাকাউন্ট দেখার কোনো সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই। তবে পুরোনো নিবন্ধনের বার্তা, পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক এবং গুগল বা অ্যাপলের সঙ্গে সংযুক্ত সেবার তালিকা পরীক্ষা করলে অনেক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সম্ভব। একাধিক ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে থাকলে প্রতিটিতে আলাদাভাবে অনুসন্ধান করতে হবে।
২. পুরোনো ইমেইল বা ফোন নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে অ্যাকাউন্ট মুছব কীভাবে?
প্রথমে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। সেটি কাজ না করলে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাইয়ের বিকল্প পদ্ধতি জানতে চান। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার আলাদা অনুরোধ জানাতে পারেন। তবে সব প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ ছাড়া সেটি মুছে ফেলার অনুমতি দেয় না।
৩. পুরোনো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললে আগের পোস্ট, মন্তব্য ও বার্তাগুলোও কি মুছে যাবে?
সব ক্ষেত্রে নয়। এটি সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের তথ্য সংরক্ষণ ও মুছে ফেলার নীতির ওপর নির্ভর করে। অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পরও অন্য ব্যবহারকারীর কাছে পাঠানো বার্তা, অন্যের প্রকাশনায় থাকা তথ্য কিংবা সংরক্ষিত অতিরিক্ত অনুলিপিতে কিছু তথ্য থেকে যেতে পারে। অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার আগে সংশ্লিষ্ট সেবার নিয়ম পরীক্ষা করা উচিত।
৪. স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা অ্যাকাউন্ট কি আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব?
কিছু অনলাইন সেবা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার অনুরোধ জানানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। তবে সেই সময় শেষ হলে অ্যাকাউন্ট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ফেরত পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। পুনরুদ্ধারের সময়সীমা ও শর্ত সেবাভেদে আলাদা। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ না করে স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা উচিত নয়।
৫. পুরোনো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললে কি আগে ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ হয়ে যাবে?
না। অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললে সংশ্লিষ্ট সেবায় সংরক্ষিত কিছু তথ্য অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। কিন্তু আগে ফাঁস হয়ে যাওয়া তথ্য অন্য কোথাও সংরক্ষিত থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় না। পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়ে থাকলে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অন্য অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ডও পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপে পরিচয় যাচাই চালু রাখা উচিত।

