একটি ওয়েবসাইটে শত শত লেখা থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু লেখা নিয়মিত পাঠক পাচ্ছে, আবার একই বিষয়ের অন্য কিছু পৃষ্ঠা গুগল সার্চে তেমন দেখা যাচ্ছে না। সমস্যার কারণ খুঁজতে সাধারণত লেখার মান, মূল অনুসন্ধান শব্দ কিংবা গুগলের সূচিতে পৃষ্ঠাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়েবসাইটের ভেতরে একটি পৃষ্ঠার সঙ্গে অন্য পৃষ্ঠার সংযোগ কেমন, সেটিও পরীক্ষা করা দরকার।
বিশেষ করে পুরোনো লেখার সঙ্গে নতুন লেখার সম্পর্ক না থাকলে পাঠকের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। সার্চ ইঞ্জিনের জন্যও ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পৃষ্ঠা খুঁজে পাওয়ার একটি পথ হলো অভ্যন্তরীণ লিংক।
এই সংযোগগুলো সম্পর্কে ধারণা পেতে গুগল সার্চ কনসোলের জিএসসি লিংক রিপোর্ট কাজে আসে। কোন পৃষ্ঠায় বেশি অভ্যন্তরীণ লিংক রয়েছে, কোথা থেকে সেগুলো এসেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কোন পৃষ্ঠায় আরও নজর দেওয়া দরকার, তা বোঝার সূত্র পাওয়া যায় এখানে। তবে রিপোর্টের প্রতিটি সংখ্যাকে সরাসরি এসইও সমস্যার প্রমাণ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গুগল এখানে সব লিংকের পূর্ণ তালিকা দেখায় না। রিপোর্টের তথ্যের সঙ্গে ওয়েবসাইটের প্রকৃত কাঠামো মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
লিংক রিপোর্টে প্রথম কোথায় নজর দেবেন?
গুগল সার্চ কনসোল খুলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট নির্বাচন করুন। এরপর বাঁ পাশের তালিকা থেকে লিংকস বিভাগে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটটি আগে থেকেই সার্চ কনসোলে যুক্ত ও যাচাইকৃত থাকতে হবে। রিপোর্ট দেখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকারও দরকার।
এখানে দুটি প্রধান ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। এক্সটারনাল লিংকস বিভাগে নির্বাচিত ওয়েবসাইট প্রপার্টির বাইরে থেকে আসা লিংক দেখানো হয়। আর ইন্টারনাল লিংকস বিভাগে নিজের ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে থাকা লিংকের তথ্য পাওয়া যায়। অভ্যন্তরীণ লিংকের সমস্যা খুঁজতে ইন্টারনাল লিংকস বিভাগের টপ লিংকড পেজেস তালিকা খুলুন। মোর নির্বাচন করলে বিস্তারিত তালিকা পাওয়া যাবে।
রিপোর্টে বেশি লিংক পাওয়া পৃষ্ঠাগুলোর অবস্থান ওপরের দিকে থাকে। কোনো পৃষ্ঠা নির্বাচন করলে কোন কোন পৃষ্ঠা থেকে সেটিতে লিংক দেওয়া হয়েছে, তাও দেখা যায়। এই দ্বিতীয় তথ্যটি অনেক ক্ষেত্রে লিংকের মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি কাজে লাগে।
কারণ একটি পৃষ্ঠায় প্রচুর লিংক থাকতে পারে, কিন্তু সেগুলোর অধিকাংশ যদি ওয়েবসাইটের সাধারণ চলাচলের পথ বা নিচের অংশ থেকে আসে, তাহলে বিষয়ভিত্তিক অন্যান্য লেখার সঙ্গে পৃষ্ঠাটির সম্পর্ক কেমন, তা আলাদাভাবে দেখতে হবে। অন্যদিকে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকায় তুলনামূলক কম লিংক থাকলেও সেগুলো যদি যথাযথ প্রাসঙ্গিক লেখা থেকে আসে, তাহলে শুধু সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নতুন লিংক বসানোর প্রয়োজন নেই। এখানে মূল কাজ হলো রিপোর্টের সংখ্যার সঙ্গে লিংকের উৎস মিলিয়ে দেখা।
আরও পড়ুন: গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন
কোন পৃষ্ঠাগুলোতে অভ্যন্তরীণ লিংক কম রয়েছে?

সব পৃষ্ঠা সমান গুরুত্ব পায় না। ওয়েবসাইটের যোগাযোগ পৃষ্ঠা, প্রধান বিভাগ, বিস্তারিত নির্দেশিকা কিংবা স্বল্পমেয়াদি সংবাদ প্রতিবেদনের লিংকিং ব্যবস্থা একরকম হওয়ার কথাও নয়। পর্যালোচনার শুরুতে তাই পুরো ওয়েবসাইটের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো বেছে নেওয়া সুবিধাজনক।
যেসব নির্দেশিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়, যেসব বিষয়ভিত্তিক পৃষ্ঠায় পাঠকদের বারবার ফেরার প্রয়োজন হতে পারে কিংবা ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও পণ্যের পৃষ্ঠা, সেগুলো আগে পরীক্ষা করা যায়। এবার নির্বাচিত পৃষ্ঠাগুলোর ওয়েব ঠিকানা সার্চ কনসোলের রিপোর্টে খুঁজুন।
কোনো গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠায় তুলনামূলক কম লিংক পাওয়া গেলে দেখুন, একই বিষয়ে প্রকাশিত অন্যান্য লেখা থেকে সেখানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না। প্রাসঙ্গিক বিভাগ বা ওয়েবসাইটের প্রধান চলাচলের পথ থেকেও পৃষ্ঠাটিতে পৌঁছানো যায় কি না পরীক্ষা করুন।
বিশেষভাবে পুরোনো লেখাগুলোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। নতুন লেখা প্রকাশের সময় অনেকেই সেখানে আগের লেখার লিংক দেন। কিন্তু পুরোনো লেখায় ফিরে গিয়ে নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের লিংক যোগ করার কাজটি বাদ পড়ে যেতে পারে।
এতে নতুন পৃষ্ঠাটি ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠিত বিষয়ভিত্তিক লেখাগুলো থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থেকে যায়। তবে কম লিংক দেখলেই যে সমস্যা রয়েছে, তা নয়। গুগল কোনো পৃষ্ঠার জন্য কতটি অভ্যন্তরীণ লিংক থাকা উচিত, এমন নির্দিষ্ট সর্বজনীন সংখ্যা নির্ধারণ করেনি। লিংকের প্রয়োজন নির্ভর করে লেখার বিষয়, পাঠকের চাহিদা এবং ওয়েবসাইটের কাঠামোর ওপর।
আরেকটি বিষয় হলো, সার্চ কনসোল একই উৎস ওয়েব ঠিকানা থেকে একই গন্তব্য ঠিকানায় থাকা একাধিক লিংককে একত্রে গণনা করতে পারে। ফলে রিপোর্টের সংখ্যা ওয়েবপৃষ্ঠার এইচটিএমএলে থাকা লিংকের প্রকৃত সংখ্যার সঙ্গে সব সময় মিলবে না।
এই কারণে কোনো পৃষ্ঠায় পাঁচটি লিংক রয়েছে, নাকি পঞ্চাশটি, সেই তুলনা দিয়ে একা লিংকিংয়ের মান বিচার করা উচিত নয়। লিংকগুলো যথাযথ জায়গায় রয়েছে কি না, সেটিই বেশি প্রাসঙ্গিক।
অরফান পৃষ্ঠা শনাক্ত করতে বাড়তি পরীক্ষা প্রয়োজন
অভ্যন্তরীণ লিংক পর্যালোচনায় অরফান পৃষ্ঠা একটি পরিচিত সমস্যা। সাধারণভাবে এমন পৃষ্ঠাকে অরফান বলা হয়, যেখানে একই ওয়েবসাইটের অন্য কোনো পৃষ্ঠা থেকে অভ্যন্তরীণ লিংক নেই।
পৃষ্ঠাটি সরাসরি ওয়েব ঠিকানা লিখে খোলা যেতে পারে। এমনকি সাইটম্যাপেও থাকতে পারে। কিন্তু ওয়েবসাইটের অন্য পৃষ্ঠার লিংক অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছানো যায় না। এখানে একটি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা দরকার। জিএসসি লিংক রিপোর্টে কোনো পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকলেই সেটিকে অরফান পৃষ্ঠা বলা যাবে না।
কারণ সার্চ কনসোলের রিপোর্ট সম্পূর্ণ লিংক তালিকা নয়। কোনো পৃষ্ঠা গুগলের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া, একাধিক ওয়েব ঠিকানা একত্র করা কিংবা অন্যান্য কারণে রিপোর্টে অনুপস্থিত থাকতে পারে।
অরফান পৃষ্ঠা খুঁজতে প্রথমে ওয়েবসাইটের প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠাগুলোর একটি তালিকা সংগ্রহ করুন। ওয়েবসাইটের লেখা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার এবং এক্সএমএল সাইটম্যাপ এ কাজে ব্যবহার করা যায়।
তবে সাইটম্যাপে সব প্রকাশিত পৃষ্ঠা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। শুধু সাইটম্যাপ ব্যবহার করলে কিছু ওয়েব ঠিকানা বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে। এরপর সংগ্রহ করা পৃষ্ঠাগুলোর সঙ্গে জিএসসির অভ্যন্তরীণ লিংক রিপোর্ট মিলিয়ে দেখুন। যেসব গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলো আলাদা করে রাখুন।
পরবর্তী কাজ হলো ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান করা। উপযুক্ত অনুসন্ধান সফটওয়্যার দিয়ে প্রথম পৃষ্ঠা ও প্রধান চলাচলের পথ থেকে লিংক অনুসরণ করলে কোন কোন পৃষ্ঠা পাওয়া যাচ্ছে, তা বোঝা যায়। কোনো গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা সাইটম্যাপে থাকলেও স্বাভাবিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাওয়া না গেলে সেটির লিংকিং ব্যবস্থা আরও পরীক্ষা করতে হবে।
অনুসন্ধান সফটওয়্যারের নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও এখানে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। জাভাস্ক্রিপ্টনির্ভর লিংক, প্রবেশাধিকার কিংবা অনুসন্ধানের নির্ধারিত পরিসরের কারণে কোনো পৃষ্ঠা বাদ পড়তে পারে। সন্দেহজনক ওয়েব ঠিকানার দিকে অন্য কোথাও লিংক রয়েছে কি না নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ওয়েবসাইটের মূল সংকেত, লেখা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার অথবা বিস্তারিত অনুসন্ধানের তথ্য দেখতে হবে।
যথেষ্ট পরিসরে অনুসন্ধানের পর কোনো অভ্যন্তরীণ লিংক পাওয়া না গেলে পৃষ্ঠাটি অরফান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এমনও হতে পারে, কোনো পৃষ্ঠায় অভ্যন্তরীণ লিংক রয়েছে, কিন্তু প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সাধারণ চলাচলের পথ অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছানো কঠিন। সেটিকে অগত্যা অরফান বলা যাবে না। তবে ওয়েবসাইটের সংযোগপথ দুর্বল কি না, তা পরীক্ষা করা উচিত।
বেশি লিংক থাকলেও কাঠামোয় সমস্যা থাকতে পারে
অভ্যন্তরীণ লিংকের দুর্বলতা শুধু কম লিংক পাওয়া পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নয়। ভুল জায়গায় লিংক থাকা, অকার্যকর গন্তব্য কিংবা সম্পর্কহীন লেখার মধ্যে সংযোগ তৈরি করাও সমস্যা হতে পারে। প্রথমে বিষয়ভিত্তিক লেখাগুলোর দিকে তাকানো যাক।
একটি ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা, প্রতারণামূলক ইমেইল, ভুয়া ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্রতারণা নিয়ে আলাদা লেখা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরি করা যায়। পাঠক একটি সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে সম্পর্কিত অন্য তথ্যও পেতে পারেন।
এর অর্থ অবশ্য প্রতিটি লেখা থেকে একই বিষয়ের সব লেখায় লিংক দিতে হবে, এমন নয়। একটি লেখার নির্দিষ্ট অংশে অন্য কোনো নির্দেশিকার প্রয়োজন তৈরি হলে সেখানে লিংক দেওয়া স্বাভাবিক। প্রসঙ্গের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে শুধু এসইওর জন্য লিংক বসানো পাঠকের কাজে আসবে না।
ওয়েবসাইটের প্রধান বিভাগ কিংবা চলাচলের তালিকায় থাকা পৃষ্ঠাগুলোতে বেশি লিংক পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বিস্তারিত নির্দেশিকাগুলো যদি সংশ্লিষ্ট পুরোনো লেখা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে, তাহলে সেগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরির সুযোগ রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক মূল নির্দেশিকা ও সহায়ক লেখাগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনা করা এখানে কার্যকর পদ্ধতি। এতে কোথায় নতুন লিংক প্রয়োজন, আর কোথায় আগের লিংকই যথেষ্ট, তা বোঝা সহজ হয়।
লিংকের লেখা কি গন্তব্যের ধারণা দিচ্ছে?
অভ্যন্তরীণ লিংক বসানোর সময় লিংকের দৃশ্যমান লেখার দিকেও নজর দেওয়া দরকার। প্রযুক্তিগত ভাষায় একে অ্যাঙ্কর টেক্সট বলা হয়। ‘এখানে ক্লিক করুন’ কিংবা ‘আরও পড়ুন’ ধরনের লেখা সব ক্ষেত্রে লিংকের গন্তব্য পরিষ্কার করে না। প্রাসঙ্গিক বর্ণনামূলক লেখা পাঠককে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে।
যেমন, ‘প্রতারণামূলক ইমেইল শনাক্ত করার উপায়’ লেখা থেকে বোঝা যায় লিংকে গেলে কী ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। তবে গুগল সার্চ কনসোলের টপ লিংকিং টেক্সট বিভাগ দেখে নিজের ওয়েবসাইটের সব অভ্যন্তরীণ লিংকের লেখা যাচাই করা যাবে না। এই বিভাগে নির্বাচিত ওয়েবসাইট প্রপার্টির বাইরে থেকে আসা লিংকের লেখা দেখানো হয়।
নিজের ওয়েবসাইটের লিংকের দৃশ্যমান লেখা পরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা অথবা স্বয়ংক্রিয় অনুসন্ধানের তথ্য ব্যবহার করতে হবে।
পুরোনো ওয়েব ঠিকানা ও পুনর্নির্দেশ পরীক্ষা করুন

ওয়েবসাইটে কোনো পৃষ্ঠার ঠিকানা পরিবর্তন হলে পুরোনো ঠিকানার লিংক ব্যবহারকারীকে পুনর্নির্দেশের মাধ্যমে নতুন পৃষ্ঠায় নিয়ে যেতে পারে।
সঠিক পুনর্নির্দেশ থাকলেই সেটি সমস্যা নয়। তবে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা অভ্যন্তরীণ লিংকগুলোতে সম্ভব হলে সরাসরি চূড়ান্ত ওয়েব ঠিকানা ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ করে অকার্যকর পৃষ্ঠায় যাওয়া লিংক, ভুল গন্তব্য কিংবা অপ্রয়োজনীয় একাধিক পুনর্নির্দেশ সংশোধন করা উচিত।
এ কাজে জিএসসি লিংক রিপোর্ট একা যথেষ্ট নয়। রিপোর্টে অতীতে পাওয়া লিংকও থেকে যেতে পারে। কোনো ওয়েব ঠিকানা এখনও অকার্যকর কি না, তা সরাসরি পরীক্ষা অথবা ওয়েবসাইট অনুসন্ধান করে নিশ্চিত করতে হবে। একই লেখার একাধিক ওয়েব ঠিকানা থাকলে কোনটি মূল বা ক্যানোনিক্যাল ঠিকানা, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
লিংক দেখা গেলেও গুগল সেটি অনুসরণ করতে পারছে কি?
ওয়েবসাইটের দৃশ্যমান সব বাটন বা চলাচলের উপাদানকে গুগল স্বাভাবিক লিংক হিসেবে শনাক্ত করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গুগল সাধারণত এইচটিএমএলের অ্যাঙ্কর উপাদানে কার্যকর ওয়েব ঠিকানা দেওয়া থাকলে সেই লিংক অনুসরণ করতে পারে।
কিছু ওয়েবসাইটে জাভাস্ক্রিপ্টনির্ভর বাটন কিংবা বিশেষ চলাচলের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এসব ক্ষেত্রে কোনো উপাদান ব্যবহারকারীর জন্য কাজ করলেও গুগল সেটিকে নির্ভরযোগ্যভাবে লিংক হিসেবে শনাক্ত নাও করতে পারে।
তার মানে জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে তৈরি সব লিংক সমস্যাযুক্ত নয়। জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করেও সঠিক এইচটিএমএল কাঠামোয় কার্যকর অ্যাঙ্কর লিংক তৈরি করা সম্ভব। কোনো গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠার লিংক নিয়ে সন্দেহ থাকলে গুগল সার্চ কনসোলের ইউআরএল ইনস্পেকশন সুবিধা ব্যবহার করা যায়।
সংশ্লিষ্ট ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষা করে টেস্ট লাইভ ইউআরএল নির্বাচন করুন। পরীক্ষা শেষ হলে ভিউ টেস্টেড পেজ থেকে গুগলের কাছে পৃষ্ঠাটি কীভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, তার এইচটিএমএল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করা যায়। মোবাইল সংস্করণেও গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের ব্যবস্থা ও লিংক রয়েছে কি না দেখা উচিত। গুগলের মোবাইলভিত্তিক সূচিবদ্ধকরণ ব্যবস্থায় মোবাইল সংস্করণের লেখা ও লিংকের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এসব পরীক্ষা প্রতিটি পৃষ্ঠার জন্য একইভাবে করার প্রয়োজন নেই। যে পৃষ্ঠায় লিংক দেখা যাচ্ছে না, স্বাভাবিক স্বয়ংক্রিয় অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে না কিংবা জাভাস্ক্রিপ্টনির্ভর চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, সেগুলো আগে পরীক্ষা করা বেশি যুক্তিসংগত।
রিপোর্টের সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসাব ধরে নেওয়া যাবে না
জিএসসি লিংক রিপোর্ট বিশ্লেষণের সময় কয়েকটি সীমাবদ্ধতা মাথায় রাখা দরকার। গুগল একই পৃষ্ঠার বিকল্প ওয়েব ঠিকানাগুলোকে মূল বা ক্যানোনিক্যাল ঠিকানা অনুযায়ী একত্র করতে পারে। ওয়েব ঠিকানার কিছু অতিরিক্ত অংশ বাদ দেওয়া এবং অন্যান্য স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াও লিংক গণনায় ব্যবহৃত হয়।
ফলে রিপোর্টের সংখ্যার সঙ্গে ওয়েবসাইটের এইচটিএমএলে পাওয়া লিংকের সংখ্যা না মিললেও সেটি অস্বাভাবিক নয়। কিছু ওয়েব ঠিকানা গুগলের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণে রিপোর্টে অনুপস্থিত থাকতে পারে। আবার আগে সরিয়ে ফেলা কোনো লিংকও গুগলের সংগ্রহ করা পুরোনো তথ্যের কারণে দেখা যেতে পারে।
লিংক রিপোর্ট থেকে কোনো লিংকের নোফলো বৈশিষ্ট্যও আলাদাভাবে জানা যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ওয়েবসাইটে রিপোর্টটি ব্যবহার করা ভালো সম্ভাব্য সমস্যার প্রাথমিক তালিকা তৈরির জন্য। সম্পূর্ণ লিংকিং কাঠামো, অকার্যকর ওয়েব ঠিকানা কিংবা অরফান পৃষ্ঠা নিশ্চিত করতে আলাদা পরীক্ষা প্রয়োজন।
অভ্যন্তরীণ লিংক পরিবর্তনের ফল কীভাবে বুঝবেন?
কোনো গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠায় নতুন লিংক যুক্ত করার পর সেটির সার্চ পারফরম্যান্স বদলেছে কি না, তা জানতে গুগল সার্চ কনসোলের পারফরম্যান্স রিপোর্ট দেখতে হবে। লিংক রিপোর্টে সরাসরি ওয়েবসাইটের পাঠকসংখ্যা বা সার্চ ফলাফলে অবস্থানের পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না।
পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাগুলোর সার্চ পারফরম্যান্স সংরক্ষণ করা ভালো। এতে পরে তুলনা করা সহজ হয়। পারফরম্যান্স রিপোর্টে ক্লিকস থেকে গুগল সার্চ ফলাফল থেকে আসা ক্লিকের সংখ্যা জানা যায়। ইমপ্রেশনস দেখায় সার্চ ফলাফলে পৃষ্ঠা কতবার প্রদর্শিত হয়েছে। অ্যাভারেজ পজিশন দিয়ে গড় অবস্থান এবং সিটিআর দিয়ে প্রদর্শনের তুলনায় ক্লিকের হার বোঝা যায়।
লিংক পরিবর্তনের তারিখ লিখে রাখুন। পর্যাপ্ত সময় পর একই পৃষ্ঠার আগের ও পরের তথ্য তুলনা করুন। তুলনার জন্য সমান দৈর্ঘ্যের সময়সীমা ব্যবহার করা ভালো। এখানে অবশ্য ফলাফলের ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকতে হবে।
কোনো পৃষ্ঠায় নতুন লিংক দেওয়ার পর ক্লিক বেড়েছে মানেই সেই লিংকের কারণে বৃদ্ধি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। লেখার মান, প্রতিযোগিতা, মৌসুমি অনুসন্ধানের চাহিদা এবং ওয়েবসাইটের অন্যান্য পরিবর্তনও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
একইভাবে সংশোধনের পরপরই উন্নতি না দেখালেও কাজটি ব্যর্থ হয়েছে বলা যাবে না। পৃষ্ঠাটি গুগলের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে ইউআরএল ইনস্পেকশন দিয়ে পরীক্ষা করুন। অভ্যন্তরীণ লিংক যোগ করা কিংবা সাইটম্যাপে ওয়েব ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে গুগলের সূচিতে স্থান পাওয়া বা সার্চ ফলাফলে ভালো অবস্থান নিশ্চিত করা যায় না।
নিজের ওয়েবসাইটে প্রথমে কোন সমস্যাটি ধরবেন?
অভ্যন্তরীণ লিংকের সমস্যা পরীক্ষা করতে গিয়ে একসঙ্গে পুরো ওয়েবসাইটের কাঠামো বদলানোর প্রয়োজন নেই। কাজের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পৃষ্ঠা নির্বাচন করাই বেশি বাস্তবসম্মত। এসব পৃষ্ঠায় কোথা থেকে লিংক এসেছে, সেই তথ্য জিএসসি লিংক রিপোর্টে দেখুন। তারপর সংশ্লিষ্ট পুরোনো লেখা এবং ওয়েবসাইটের চলাচলের পথ পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনীয় লেখা বা তথ্যের পৃষ্ঠায় পৌঁছানোর পথ না থাকলে উপযুক্ত জায়গায় লিংক যুক্ত করুন।
অকার্যকর ওয়েব ঠিকানা, ভুল গন্তব্য কিংবা অপ্রয়োজনীয় পুনর্নির্দেশ পাওয়া গেলে সেগুলোও সংশোধনের তালিকায় রাখুন। তবে ওয়েবসাইটের সব পৃষ্ঠাকে সমান অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরোনো প্রচারাভিযানের পৃষ্ঠা, ইচ্ছাকৃতভাবে সার্চের বাইরে রাখা লেখা কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিকল্প ওয়েব ঠিকানায় নতুন লিংক বসানোর আগে সেগুলোর উদ্দেশ্য যাচাই করুন।
ছোট ওয়েবসাইটে হাতে ধরে প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। কয়েক হাজার পৃষ্ঠার ওয়েবসাইটে স্বয়ংক্রিয় অনুসন্ধান ও তথ্য তুলনার ব্যবস্থা ব্যবহার করা বেশি বাস্তবসম্মত। লিংকিংয়ের কাজ শেষ করার পর কোন পৃষ্ঠায় কী পরিবর্তন করেছেন, সেই তথ্য সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে সার্চ ফলাফলের অবস্থা পর্যালোচনায় এটি কাজে আসবে।
অভ্যন্তরীণ লিংকের মান উন্নত করার জন্য প্রতিটি পৃষ্ঠার লিংকসংখ্যা বাড়াতে হবে, এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বরং যে পৃষ্ঠায় পাঠক আরও প্রাসঙ্গিক তথ্য পেতে পারেন, সেখানে প্রয়োজনীয় সংযোগ রয়েছে কি না দেখুন। জিএসসি লিংক রিপোর্ট সেই অনুসন্ধানের একটি সূচনা। রিপোর্টে সমস্যা সন্দেহ হলে ওয়েবসাইটের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করুন, তারপর পরিবর্তন আনুন। এতে লিংকের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে লেখাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংযোগ তৈরিতে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. নতুন অভ্যন্তরীণ লিংক যোগ করার কত দিন পর জিএসসি রিপোর্টে দেখা যায়?
এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। গুগল নতুন লিংক শনাক্ত করার পরও সেটি লিংক রিপোর্টে দেখাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। রিপোর্টটি তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ হয় না। তাই লিংক যোগ করার পরপরই রিপোর্টে পরিবর্তন না দেখালে সেটিকে সমস্যা ধরে নেওয়া উচিত নয়।
২. জিএসসি লিংক রিপোর্টে আগের মাসের সঙ্গে বর্তমান মাসের তথ্য তুলনা করা যায় কি?
লিংক রিপোর্টে পারফরম্যান্স রিপোর্টের মতো সরাসরি তারিখ নির্বাচন করে তুলনা করার ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত রিপোর্ট ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করলে বিভিন্ন সময়ের তথ্য আলাদাভাবে তুলনা করা যায়। তবে গুগলের লিংক গণনা ও তথ্য একত্র করার পদ্ধতির কারণে সংখ্যার পার্থক্যকে সরাসরি নতুন বা সরিয়ে ফেলা লিংকের সংখ্যা হিসেবে ধরা যাবে না।
৩. একই ওয়েবসাইটের আলাদা সাবডোমেইনের লিংক কি অভ্যন্তরীণ হিসেবে গণনা হয়?
এটি নির্বাচিত সার্চ কনসোল প্রপার্টির আওতার ওপর নির্ভর করতে পারে। নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানাভিত্তিক প্রপার্টির বাইরে থাকা সাবডোমেইনের লিংক বহিরাগত হিসেবে দেখানো হতে পারে। লিংক রিপোর্টে আবার কিছু ডোমেইন-সংক্রান্ত তথ্য মূল ডোমেইন অনুযায়ী একত্র করা হয়। তাই একাধিক সাবডোমেইন থাকলে রিপোর্টের শ্রেণিবিন্যাস যাচাই করা প্রয়োজন।
৪. অভ্যন্তরীণ লিংক পরিবর্তনের পর কি গুগলকে আবার পৃষ্ঠা অনুসন্ধানের অনুরোধ করতে হবে?
প্রতিটি লিংক পরিবর্তনের পর আলাদাভাবে অনুরোধ করা বাধ্যতামূলক নয়। গুগল নিয়মিত ওয়েবপেজ পুনরায় অনুসন্ধান করে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সার্চ কনসোলের ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষার সুবিধা ব্যবহার করে পুনরায় অনুসন্ধানের অনুরোধ করা যায়। তবে অনুরোধ করলেই পৃষ্ঠা সঙ্গে সঙ্গে অনুসন্ধান বা সূচিভুক্ত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

