রিমোট জব খোঁজার আগে নিজের টাইম জোন ও যোগাযোগের দক্ষতা যাচাই করুন

সর্বাধিক আলোচিত

রিমোট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নিজের দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা মিলে গেল। কাজের ধরনও পছন্দ হয়েছে। কিন্তু আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা দেখেছেন? বাংলাদেশের সময়ের সঙ্গে সেই সময়সূচি না মিললে চাকরিটি পাওয়া যতটা আনন্দের, নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়া ততটাই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে সময়ের পার্থক্যের পাশাপাশি যোগাযোগের ধরনও বিবেচনা করা প্রয়োজন। অফিসে কোনো নির্দেশনা বুঝতে অসুবিধা হলে সহকর্মীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা যায়। রিমোট কাজে একই সমস্যার উত্তর পেতে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে সহকর্মীরা ভিন্ন সময় অঞ্চলে থাকলে এই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

এ কারণেই রিমোট চাকরির প্রস্তুতি যাচাইয়ের সময় প্রযুক্তিগত দক্ষতার বাইরে আরও কিছু বিষয় দেখতে হয়। আপনি কখন কাজ করতে পারবেন, লিখিত নির্দেশনা কতটা ভালো বোঝেন, নিজের কাজের অগ্রগতি কীভাবে জানান এবং সহকর্মীরা অনলাইনে না থাকলে কাজ এগিয়ে নিতে পারেন কি না, সেগুলো আগেই পরীক্ষা করা উচিত। বাংলাদেশ বা ভারত থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাইলে কয়েকটি সাধারণ অনুশীলনের মাধ্যমেই নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

রিমোট চাকরি মানেই নিজের সুবিধামতো কাজের সময় নয়

কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে দূর থেকে কাজের সুযোগের কথা উল্লেখ থাকলে সেটিকে অনেকেই নমনীয় কর্মঘণ্টার সুবিধা মনে করেন। অথচ রিমোট কাজের অনুমতি থাকলেও প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। বিষয়টি বোঝার জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কাজের সময় কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা দেখতে হবে।

কিছু প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা থাকে। সেখানে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করতে হয়। যেমন, কোনো প্রতিষ্ঠান তার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মীদের উপস্থিতি চাইতে পারে। আবার একযোগে উপস্থিতির নির্ধারিত সময় ব্যবস্থায় পুরো কর্মদিবস একই সময়ে কাজ করার প্রয়োজন হয় না। দলের সদস্যরা দিনের কয়েক ঘণ্টা একসঙ্গে অনলাইনে থাকেন। বাকি কাজ নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে শেষ করার সুযোগ থাকতে পারে।

নমনীয় কর্মঘণ্টার চাকরিতে কাজের সময় নির্বাচনের স্বাধীনতা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে কাজ জমা দেওয়ার সময়সীমা, নির্ধারিত সভা কিংবা জরুরি বার্তার উত্তর দেওয়ার নিয়ম এখানেও প্রযোজ্য হতে পারে।

সব প্রতিষ্ঠান অবশ্য একই শব্দ বা নিয়ম অনুসরণ করে না। তাই বিজ্ঞপ্তিতে নমনীয় সময়সূচি বা দূর থেকে কাজের সুযোগের কথা লেখা থাকলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, দলের সঙ্গে একই সময়ে উপস্থিত থাকার শর্ত, বার্তার উত্তর দেওয়ার সময়সীমা এবং জরুরি প্রয়োজনে কাজ করার দায়িত্বও খেয়াল করুন।

বিশেষ করে নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে জরুরি দায়িত্ব পালন করতে হলে কখন উপস্থিত থাকতে হবে, সেটি জানা প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। রিমোট চাকরি মানেই পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে কাজের সুযোগ নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট দেশের সীমাবদ্ধতা থাকে। ফলে আবেদন করার আগেই বাংলাদেশ বা ভারত থেকে প্রার্থী গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

সময় অঞ্চলের পার্থক্য ঠিকভাবে হিসাব করছেন তো?

সময় অঞ্চলের পার্থক্য ঠিকভাবে হিসাব করছেন তো?

বাংলাদেশের সময় সমন্বিত সর্বজনীন সময়ের চেয়ে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে এবং ভারতের সময় ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ঘড়ি ভারতের তুলনায় ৩০ মিনিট এগিয়ে। কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বাই একই ভারতীয় মানসময় অনুসরণ করে।

কিন্তু ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সময় মেলানোর ক্ষেত্রে হিসাব এত সরল নয়। এসব অঞ্চলের অনেক জায়গায় বছরের নির্দিষ্ট সময়ে গ্রীষ্মকালীন সময় পরিবর্তনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়। এতে স্থানীয় ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা পরিবর্তিত হতে পারে।

লন্ডনের একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মকালীন সময়ে লন্ডনে সকাল ৯টা হলে বাংলাদেশে দুপুর ২টা এবং ভারতে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট। শীতকালীন সময়ে একই লন্ডন সময় বাংলাদেশের বিকেল ৩টা এবং ভারতের দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের সমান।

২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের গ্রীষ্মকালীন সময় শুরু হয়েছে ২৯ মার্চ। এটি শেষ হবে ২৫ অক্টোবর। সে হিসাবে ২৩ অক্টোবর লন্ডনে সকাল ৯টায় সভা থাকলে বাংলাদেশে সেটি দুপুর ২টায় পড়বে। অথচ ২৬ অক্টোবর একই স্থানীয় সময়ে সভা হলে বাংলাদেশের ঘড়িতে হবে বিকেল ৩টা।

যারা আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত সভা করেন, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তন জানা প্রয়োজন। আগের মাসের সময়ের পার্থক্য ধরে পরবর্তী সভার হিসাব করলে ভুল হতে পারে। সময় অঞ্চলের সংক্ষিপ্ত নাম নিয়েও সতর্ক থাকুন। যুক্তরাজ্যের গ্রীষ্মকালীন সময় এবং বাংলাদেশের মানসময় বোঝাতে কখনো একই ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়। তাই শুধু সংক্ষিপ্ত নাম নয়, নির্দিষ্ট শহর ও সময়ের পার্থক্য মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক সময় অঞ্চল রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করবেন শুনেই কর্মঘণ্টা হিসাব করা যাবে না। প্রতিষ্ঠান কোন শহরের সময় অনুসরণ করে, সেটি আগে জানতে হবে।

নিজের দৈনন্দিন সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন

বাংলাদেশে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, এমন কারও জন্য লন্ডনের পূর্ণ কর্মদিবস অনুসরণ করা সহজ নাও হতে পারে। ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর লন্ডনের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা বাংলাদেশের দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পড়বে। যুক্তরাজ্যের সময় পরিবর্তনের পর একই কর্মঘণ্টা হবে বাংলাদেশের বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা।

এখানে কয়েক ঘণ্টা সময় মিললেও পুরো কর্মদিবসে উপস্থিত থাকতে হলে রাত পর্যন্ত কাজ চালাতে হবে। কোনো এক দিন রাত জেগে কাজ করা আর মাসের পর মাস একই সময়সূচি মেনে চলা এক ব্যাপার নয়। ঘুম, পরিবার, পড়াশোনা কিংবা অন্যান্য দায়িত্বের কারণে নিয়মিত রাতের কাজ অসুবিধাজনক হতে পারে।

তাই চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার সময় কর্মঘণ্টার পাশাপাশি এটিও জানুন, পুরো কর্মসময়ে উপস্থিত থাকতে হবে, নাকি নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা দলের সঙ্গে কাজ করলেই চলবে। আন্তর্জাতিক চাকরির জন্য সময় অঞ্চল মিলিয়ে দেখার মূল উদ্দেশ্য সময়ের পার্থক্য জানা নয়; সেই সময়সূচিতে নিয়মিত কাজ করা আপনার পক্ষে সম্ভব কি না, তা বোঝা।

গুগল ক্যালেন্ডার দিয়ে কাজের সময় মিলিয়ে নিন

আন্তর্জাতিক সভার সময় নির্ধারণে গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা যায়। এতে নিজের সময় অঞ্চলের পাশাপাশি অন্য অঞ্চলের সময় দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

কম্পিউটার থেকে সেটিংস পরীক্ষা করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

১. গুগল ক্যালেন্ডার খুলে ওপরের ডান পাশের সেটিংস মেনু থেকে মূল সেটিংস পাতায় যান।

২. সাধারণ সেটিংস বিভাগের মধ্যে সময় অঞ্চলসংক্রান্ত বিকল্পটি খুঁজুন।

৩. প্রধান সময় অঞ্চল সঠিকভাবে নির্ধারিত আছে কি না, দেখুন।

৪. অতিরিক্ত সময় অঞ্চল দেখানোর সুবিধা চালু করুন। এরপর দ্বিতীয় সময় অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় শহর বা অঞ্চল নির্বাচন করুন। সুবিধা থাকলে তৃতীয় সময় অঞ্চলও যুক্ত করা যায়।

৫. এবার ক্যালেন্ডারে পরীক্ষামূলক একটি সভা তৈরি করুন। সভার সময় নির্ধারণের অংশ থেকে অন্য অঞ্চলের সময় নির্বাচন করুন।

৬. সভাটি সংরক্ষণের পর নিজের স্থানীয় সময়ে সেটি কখন দেখাচ্ছে, মিলিয়ে নিন।

গুগল ক্যালেন্ডারের বিশ্বঘড়ি সুবিধাও কাজে লাগতে পারে। সেটিংসের বিশ্বঘড়ি বিভাগে গিয়ে প্রয়োজনীয় সময় অঞ্চল যুক্ত করা যায়।

কাজের সময় নির্ধারণের সুবিধা না পেলে কী করবেন?

গুগল ক্যালেন্ডারে নিয়মিত কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সুবিধাটি মূলত যোগ্য কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক এটি বন্ধ রাখলেও বিকল্পটি দেখা যাবে না। সাধারণ ব্যক্তিগত গুগল অ্যাকাউন্টে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সে ক্ষেত্রে নিজের কাজের সময় বোঝার জন্য ক্যালেন্ডারে আলাদা সময়সূচি তৈরি করে রাখতে পারেন।

সফটওয়্যারের ভাষা ও সংস্করণ অনুযায়ী মেনুর নাম বা অবস্থানে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে নিজের ক্যালেন্ডারে বিকল্পগুলো বাংলায় না দেখালে সেগুলোর সমতুল্য সেটিংস খুঁজতে হবে। পরীক্ষামূলক সভা তৈরির সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখুন। সভার দিন অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য দেখাতে হবে। ডিভাইসের সময় অঞ্চলসংক্রান্ত সেটিংস ভুল থাকলেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সময় পরিবর্তনের কাছাকাছি সময়ে কোনো সভা থাকলে সেটির স্থানীয় সময় আবার যাচাই করুন। ভবিষ্যতে কোনো অঞ্চলের সময়সংক্রান্ত নিয়ম বদলালে আগে তৈরি করা সভার সময়ও পুনরায় পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

যোগাযোগ দক্ষতায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে, বুঝবেন কীভাবে?

রিমোট চাকরির জন্য ভালো ইংরেজি জানা উপকারী। তবে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারলেই কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত হয় না।

কাজের নির্দেশনা বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা, নিজের অগ্রগতি জানানো এবং সমস্যা হলে যথাসময়ে সহায়তা চাওয়া—এসব অভ্যাসও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

কাজের ধরন অনুযায়ী যোগাযোগের চাহিদা বদলায়। গ্রাহকসেবার চাকরিতে সরাসরি কথোপকথনের দক্ষতা বেশি প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে সফটওয়্যার উন্নয়ন বা প্রযুক্তিগত কিছু পদে লিখিত যোগাযোগের গুরুত্ব বেশি থাকে।

কাজের অগ্রগতি কি অন্যরা সহজে বুঝতে পারছেন?

রিমোট দলে অস্পষ্ট লিখিত বার্তা থেকে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। কোনো সফটওয়্যার নির্মাতা ব্যবস্থাপককে শুধু লিখলেন, ‘কাজে সমস্যা হচ্ছে।’ এমন বার্তা থেকে বোঝা যায় না, কোন কাজটি আটকে আছে কিংবা কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন।

একই তথ্য একটু পরিষ্কারভাবে জানালে পরিস্থিতি বদলে যায়। যেমন:

প্রবেশপৃষ্ঠার হালনাগাদের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে যাচাইয়ের কাজ আটকে আছে। নির্ধারিত পর্যালোচনার আগে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন?

বার্তাটিতে কোন কাজ শেষ হয়েছে, কোথায় বাধা এসেছে এবং কী সাহায্য প্রয়োজন, সবই রয়েছে। প্রকৃত কাজের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও সময় অঞ্চলও উল্লেখ করা ভালো। নিজের যোগাযোগ দক্ষতা পরীক্ষা করতে আগে করা কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে এমন একটি বার্তা লিখে দেখুন। কাজটির সঙ্গে পরিচিত নন এমন কাউকে পড়তে দিন।

তিনি যদি বার্তা পড়ে বুঝতে না পারেন কোন কাজ শেষ হয়েছে, কোনটি বাকি কিংবা কী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তাহলে লেখাটি আরও পরিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে। একই বিষয় বারবার বুঝিয়ে বলতে হলে শুধু ইংরেজি শব্দভান্ডার বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে তথ্য সাজানোর পদ্ধতিটিও বদলানো প্রয়োজন।

ভিডিও সভায় সব নির্দেশনা বুঝতে পারছেন?

আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে কাজের সময় ভিন্ন উচ্চারণে ইংরেজি শুনতে হতে পারে। নিজের কথা ভালোভাবে বলতে পারলেও অন্যের নির্দেশনা বুঝতে সমস্যা হলে কাজের ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনুশীলনের জন্য কাজসংক্রান্ত একটি ইংরেজি আলোচনা শুনুন। এরপর কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, কার কী দায়িত্ব এবং কখন কাজ শেষ করতে হবে, তা লিখে ফেলুন।

সব তথ্য মনে না থাকলে আবার শুনুন। বিশেষ করে দায়িত্ব ও সময়সীমাসংক্রান্ত অংশে মনোযোগ দিন। কোনো নির্দেশনা অস্পষ্ট হলে প্রশ্ন করার অভ্যাসও জরুরি। সভায় কিছু না বুঝে সম্মতি জানানোর চেয়ে ঠিক কোন বিষয়টি পরিষ্কার নয়, সেটি জিজ্ঞাসা করা বেশি কার্যকর।

সভা শেষে নিজের দায়িত্ব সংক্ষেপে নিশ্চিত করে নেওয়া যেতে পারে। এতে একই কাজ সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে। অবশ্য সব চাকরিতে একই মাত্রার মৌখিক ইংরেজি প্রয়োজন হয় না। তাই নিজের দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে ভাষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে কী চাওয়া হয়েছে, সেটিও দেখতে হবে।

সহকর্মীরা অনলাইনে না থাকলে কাজ আটকে যাচ্ছে?

সহকর্মীরা অনলাইনে না থাকলে কাজ আটকে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক রিমোট দলে সবাই একই সময়ে কাজ করবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের একজন কর্মী দিনের কাজ শেষ করে অগ্রগতির বিবরণ দিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সহকর্মী নিজের কর্মঘণ্টায় সেটি পড়ে মন্তব্য করলেন। বাংলাদেশের কর্মী পরবর্তী কর্মদিবসে সেই মন্তব্য অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিলেন।

এ ধরনের যোগাযোগকে অসমকালীন যোগাযোগ বলা হয়। এখানে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সবার একই সময়ে অনলাইনে থাকার প্রয়োজন নেই। পদ্ধতিটি কার্যকর রাখতে লিখিত বার্তায় যথেষ্ট তথ্য দিতে হয়। কোন ফাইল নিয়ে কাজ হচ্ছে, সমস্যাটি কোথায়, আগে কী চেষ্টা করা হয়েছে এবং কখন উত্তর প্রয়োজন—এসব বিষয় স্পষ্ট না থাকলে সহকর্মীর পরবর্তী বার্তার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অন্য অঞ্চলের কর্মঘণ্টা শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর যদি নতুন করে আবার সমস্যাটি ব্যাখ্যা করতে হয়, তাহলে কাজ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এ কারণে প্রয়োজনীয় নথি, নির্দেশনা ও আগের সিদ্ধান্ত এমনভাবে সংরক্ষণ করা ভালো, যাতে অন্য সদস্যরা পরে সেগুলো দেখে কাজের অবস্থা বুঝতে পারেন।

তবে অসমকালীন যোগাযোগ মানেই সব সভা বাদ দেওয়া নয়। জরুরি সমস্যা, সংবেদনশীল আলোচনা কিংবা দ্রুত যৌথ সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে সরাসরি কথা বলাই বেশি কার্যকর হতে পারে। রিমোট কাজে যোগাযোগের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সময় তাই লিখিত ও মৌখিক—দুই ধরনের যোগাযোগের অভ্যাসই পরীক্ষা করা উচিত।

আরও পড়ুন: চাকরির বিবরণ থেকে নিয়োগকারী কোন দক্ষতা খুঁজছেন বুঝবেন কীভাবে

এক সপ্তাহ সময় নিয়ে নিজের প্রস্তুতি পরীক্ষা করুন

আবেদন করার আগে নিজের কাজের অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পেতে সাত দিনের একটি অনুশীলন করা যায়। এটি কোনো স্বীকৃত দক্ষতা পরীক্ষা নয়। বরং সম্ভাব্য রিমোট কর্মপরিবেশে কোথায় অসুবিধা হতে পারে, তা চিহ্নিত করার একটি উপায়।

প্রথম দুই দিন সময়সূচি পরীক্ষা করুন। যে অঞ্চলে চাকরি খুঁজছেন, সেই অঞ্চলের সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নিজের ক্যালেন্ডারে বসান। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করার চেষ্টা করুন। রাতের কর্মঘণ্টা হলে ঘুম ও অন্যান্য দায়িত্বে কী প্রভাব পড়ছে, লিখে রাখুন।

তৃতীয় দিন লিখিত যোগাযোগের অনুশীলন করুন। কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি, বাধা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি করুন। সেটি পড়েই অন্য কেউ কাজের অবস্থা বুঝতে পারছেন কি না, দেখুন।

চতুর্থ দিনে কাজসংক্রান্ত একটি ইংরেজি আলোচনা শুনে প্রধান নির্দেশনা ও সময়সীমা লিখুন। কী বুঝেছেন, আর কোন বিষয়ে প্রশ্ন করা প্রয়োজন, তা আলাদা করুন।

পঞ্চম দিনে ছোট একটি প্রকল্পে অসমকালীন যোগাযোগের অভ্যাস পরীক্ষা করতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথি ও নির্দেশনা লিখে রেখে কয়েক ঘণ্টা বিরতি দিন। পরে সেই নোট পড়েই কাজ এগিয়ে নিতে অসুবিধা হচ্ছে কি না, দেখুন।

ষষ্ঠ দিনে পরিচিত কারও সঙ্গে পরীক্ষামূলক ভিডিও সভা করুন। মাইক্রোফোন, ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগের মান পরীক্ষা করার পাশাপাশি সভা শেষে আলোচনার সিদ্ধান্ত লিখে পাঠানোর অনুশীলন করুন।

সপ্তম দিন আগের ছয় দিনের পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করুন।

রাতের কাজ নিয়মিত করতে সমস্যা হলে বাধ্যতামূলক উপস্থিতির সময় কম এমন চাকরি খুঁজতে পারেন। লিখিত বার্তা অস্পষ্ট হলে নিয়মিত ছোট কাজের প্রতিবেদন লেখার অভ্যাস গড়ুন। ইংরেজি নির্দেশনা বুঝতে সমস্যা হলে সেই দক্ষতার অনুশীলনে বেশি মনোযোগ দিন। সাত দিনের অনুশীলনে ভালো ফল পাওয়া আন্তর্জাতিক রিমোট চাকরির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। তবে কোন জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন, তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

শিক্ষার্থী ও নতুন চাকরিপ্রার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য রিমোট চাকরির প্রস্তুতিতে সময়ের সামঞ্জস্য একটি বড় বিবেচনা। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পূর্ণকালীন কর্মঘণ্টা মেলানো কঠিন হতে পারে। এ অবস্থায় খণ্ডকালীন চাকরি, নির্দিষ্ট প্রকল্প বা নমনীয় সময়সূচির সুযোগ খোঁজা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।

পূর্ববর্তী রিমোট চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকলেও যোগাযোগ ও কাজ পরিচালনার সক্ষমতা দেখানোর সুযোগ রয়েছে। দলগত শিক্ষামূলক প্রকল্পে দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করা, গিটহাবে সফটওয়্যারের পরিবর্তনের বিবরণ লেখা কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প জমা দেওয়ার অভিজ্ঞতা জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা যায়।

তবে শিক্ষামূলক অনুশীলনকে বেতনভুক্ত চাকরির অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোনটি ব্যক্তিগত প্রকল্প, কোনটি দলগত শিক্ষামূলক কাজ এবং কোনটি প্রতিষ্ঠানের জন্য করা কাজ, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করুন। এ ধরনের তথ্য নতুন প্রার্থীর কাজের ধরন সম্পর্কে নিয়োগদাতাকে ধারণা দিতে পারে। যদিও শিক্ষামূলক প্রকল্পে ভালো কাজ করলেই চাকরিতে একই ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না?

অনেক চাকরিতে আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ না পেলে শুধু যোগাযোগ দক্ষতা কিংবা সময় অঞ্চলের পার্থক্যকে দায়ী করা ঠিক হবে না। প্রথমে চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে নিজের যোগ্যতা মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কাজের ধরন সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান যা চেয়েছে, আপনার জীবনবৃত্তান্তে সেগুলো পরিষ্কারভাবে রয়েছে কি না, যাচাই করুন।

এরপর নিয়োগের দেশসংক্রান্ত শর্ত দেখুন। কোনো প্রতিষ্ঠান রিমোট কর্মী নিয়োগ করলেও সব দেশের আবেদনকারীদের গ্রহণ নাও করতে পারে। কর্মঘণ্টার শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ে কাজ করার সুযোগ না থাকলে পদটি আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।

জীবনবৃত্তান্তে দায়িত্বের অস্পষ্ট বর্ণনা এবং পদের সঙ্গে সম্পর্কহীন কাজের নমুনাও পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে কাজের নমুনার সংগ্রহে যে ধরনের কাজের জন্য আবেদন করছেন, তার প্রাসঙ্গিক উদাহরণ থাকা ভালো। আবেদনপত্র বা সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে প্রয়োজন হলে নিজের সময় অঞ্চল এবং দলের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করতে পারেন।

তবে চাকরি পাওয়ার আশায় অবাস্তব উপস্থিতির প্রতিশ্রুতি দেবেন না। নিয়োগের পর সেই সময়সূচি মেনে চলতে না পারলে কর্মসম্পর্কে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

ইন্টারনেট, ডিভাইস ও চাকরির প্রস্তাবও যাচাই করুন

যোগাযোগ দক্ষতা ভালো হলেও দুর্বল ইন্টারনেট, অনির্ভরযোগ্য যন্ত্র কিংবা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট রিমোট কাজের ধারাবাহিকতায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবেদনের আগে নিজের কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার চালানো যায় কি না, ভিডিও কলে শব্দ পরিষ্কার শোনা যায় কি না এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব কি না, পরীক্ষা করুন।

বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে কিছু পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে। তবে মুঠোফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ও সংযোগের মানও বিবেচনা করতে হবে। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি চাকরির প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য বা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত নথি পাঠাবেন না। বিশেষ করে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া, চাকরি নিশ্চিত করার জন্য আগাম অর্থ দাবি করা কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো চেকের অর্থ অন্যত্র পাঠাতে বলা প্রতারণার লক্ষণ হতে পারে। সন্দেহ হলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে কি না, দেখুন। যোগাযোগের জন্য নিয়োগদাতার পাঠানো নম্বরের পরিবর্তে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করুন।

কোন ধরনের রিমোট চাকরি আপনার জন্য বাস্তবসম্মত?

সব রিমোট চাকরির কর্মপরিবেশ এক নয়। তাই প্রযুক্তিগত যোগ্যতা থাকলেই সব ধরনের পদে সমানভাবে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারলে স্থির কর্মঘণ্টার চাকরি বিবেচনা করা যায়। অন্যদিকে প্রতিদিন সীমিত সময় দলের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হলে একযোগে উপস্থিতির নির্ধারিত সময় রয়েছে এমন পদ বেশি মানানসই হতে পারে।

পড়াশোনা, পরিবার কিংবা অন্যান্য দায়িত্বের কারণে সময়সূচি পরিবর্তিত হলে অসমকালীন যোগাযোগনির্ভর কাজের সুযোগ খুঁজতে পারেন। তবে এ ধরনের চাকরিতেও কাজ জমা দেওয়ার সময়সীমা এবং যোগাযোগের নিয়ম মানতে হবে।

রিমোট চাকরির প্রস্তুতি যাচাইয়ের পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত নিজের পক্ষে নিয়মিত বজায় রাখা সম্ভব এমন কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা। এরপর সেই সময়সূচির সঙ্গে মানানসই চাকরির বিজ্ঞপ্তি বাছাই করুন।

আবেদন পাঠানোর আগে নিজের কাছে তিনটি প্রশ্ন রাখুন। কোন সময়ে নিয়মিত কাজ করতে পারবেন? কাজের অগ্রগতি বা সমস্যা কীভাবে জানাবেন? সহকর্মীরা অনলাইনে না থাকলে নিজের দায়িত্ব কতটা এগিয়ে নিতে পারবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার না হলে আগে সংশ্লিষ্ট দক্ষতা ও অভ্যাস নিয়ে কাজ করুন। আর উত্তর জানা থাকলে সেই অনুযায়ী চাকরি বাছাই করুন। এতে অযথা আবেদন কমিয়ে উপযুক্ত পদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

১. রিমোট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কাজের সময় উল্লেখ না থাকলে কী করবেন?

আবেদন করার আগে বা নিয়োগদাতার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় কাজের সময় সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে প্রতিদিন কত ঘণ্টা অনলাইনে থাকতে হবে, দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একই সময়ে কাজ করা বাধ্যতামূলক কি না এবং জরুরি বার্তার উত্তর কত দ্রুত দিতে হবে, তা পরিষ্কার করুন। শুধু নমনীয় কর্মঘণ্টার কথা শুনে নিজের সুবিধামতো কাজ করা যাবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

২. আন্তর্জাতিক রিমোট চাকরির জন্য ইংরেজি ভাষার সনদ কি বাধ্যতামূলক?

সব আন্তর্জাতিক রিমোট চাকরিতে ইংরেজি ভাষার সনদ বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনীয় ভাষাগত যোগ্যতা প্রতিষ্ঠান ও পদের ধরন অনুযায়ী বদলায়। কোনো নিয়োগদাতা সাক্ষাৎকার বা লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা যাচাই করতে পারেন। আবার নির্দিষ্ট পদে ভাষাগত সনদ চাওয়া হতে পারে। তাই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এমন কোনো শর্ত রয়েছে কি না, আগে দেখে নিন।

৩. রিমোট চাকরির সাক্ষাৎকারে যোগাযোগ দক্ষতার প্রমাণ কীভাবে দেবেন?

আগের কোনো প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি কীভাবে জানিয়েছেন, সমস্যা হলে কীভাবে সহায়তা চেয়েছেন কিংবা দলের সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করেছেন, তার বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরতে পারেন। অভিজ্ঞতা না থাকলে শিক্ষামূলক বা ব্যক্তিগত প্রকল্পের প্রাসঙ্গিক কাজ দেখানো যায়। তবে নিজের করা কাজ এবং অন্যের সহযোগিতায় সম্পন্ন কাজের পার্থক্য পরিষ্কার রাখতে হবে।

৪. রিমোট চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে কোন বিষয়গুলো লিখিতভাবে নিশ্চিত করা উচিত?

নিয়োগের প্রস্তাব গ্রহণের আগে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, অনুসরণ করতে হবে এমন সময় অঞ্চল, বাধ্যতামূলক সভার সময় এবং নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে কাজের প্রত্যাশা সম্পর্কে লিখিতভাবে নিশ্চিত হওয়া ভালো। পাশাপাশি দায়িত্ব, পারিশ্রমিক, অর্থ প্রদানের নিয়ম এবং চুক্তির শর্তও পরীক্ষা করুন। এতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সময়সূচি বা দায়িত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা কমতে পারে।

সর্বশেষ