ব্যাকলিংক কী: সব লিংক কেন সমান মূল্যবান নয়

সর্বাধিক আলোচিত

ওয়েবসাইটের জন্য ৫০০টি ব্যাকলিংক তৈরির প্রস্তাব পেলেন। সংখ্যাটি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু লিংকগুলো কোথায় থাকবে, কোন ধরনের ওয়েবসাইট থেকে আসবে কিংবা পাঠকের কোনো কাজে লাগবে কি না, এসব না জেনে প্রস্তাবটির মূল্য বোঝা কঠিন। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে (এসইও) ব্যাকলিংক নিয়ে ভুল সিদ্ধান্তের শুরু প্রায়ই এখান থেকে।

অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটে আসার লিংককে ব্যাকলিংক বলা হয়। এর মাধ্যমে নতুন পাঠক আসতে পারেন। গুগলও ওয়েবপাতাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝতে লিংক ব্যবহার করে। তবে একটি লিংক পাওয়া মানেই সার্চ ফলাফলে অবস্থান উন্নত হওয়া নয়।

কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনার প্রাসঙ্গিক নিবন্ধে আপনার ওয়েবসাইটের উল্লেখ আর অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইটে শত শত লিংকের মধ্যে আপনার ঠিকানা থাকা এক বিষয় নয়। পার্থক্যটি বুঝতে হলে ব্যাকলিংক কীভাবে কাজ করে, ডুফলো ও নোফলো লিংকের অর্থ কী এবং গুগল কোন ধরনের লিংক তৈরিকে স্প্যাম হিসেবে দেখে, তা জানা প্রয়োজন।

ব্যাকলিংক কীভাবে কাজ করে?

ধরা যাক, আপনার একটি ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখানে সুন্দরবন ভ্রমণের প্রস্তুতি, যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। অন্য একটি ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে সুন্দরবন নিয়ে লেখা প্রকাশিত হলো। লেখক পাঠকদের বাড়তি তথ্য দিতে আপনার নিবন্ধটির লিংক যুক্ত করলেন। ওই ওয়েবসাইটের পাঠকেরা এখন সরাসরি আপনার পাতায় যেতে পারবেন।

এটিই ব্যাকলিংকের একটি সাধারণ উদাহরণ। এখানে লিংকটির দুটি পরিচয় রয়েছে। যে ওয়েবসাইট থেকে লিংক দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে এটি বহির্গামী লিংক। আর আপনার ওয়েবসাইটের জন্য এটি ব্যাকলিংক বা আগত লিংক।

অন্যদিকে, নিজের ওয়েবসাইটের একটি নিবন্ধ থেকে একই ওয়েবসাইটের অন্য নিবন্ধে লিংক দিলে সেটিকে অভ্যন্তরীণ লিংক বলা হয়। এই পার্থক্য জানা প্রয়োজন, কারণ তিন ধরনের লিংকের ব্যবহার ও উদ্দেশ্য এক নয়।

আরও পড়ুন: পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী?

গুগল কেন অন্য ওয়েবসাইটের লিংক দেখে?

গুগল ওয়েবের বিভিন্ন পাতা খুঁজে পেতে লিংক ব্যবহার করে। একটি পাতা অন্য কোন পাতার সঙ্গে যুক্ত এবং সংযুক্ত পাতায় কী ধরনের তথ্য থাকতে পারে, তা বুঝতেও লিংক সহায়তা করে। গুগলের পরিচিত র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থাগুলোর একটি পেজর‍্যাঙ্ক। ওয়েবপাতাগুলোর মধ্যে থাকা লিংকের সম্পর্ক বিশ্লেষণ এর ভিত্তি। তবে গুগলের সার্চ র‍্যাঙ্কিং এখন বহু ব্যবস্থা ও সংকেতের ওপর নির্ভর করে। পেজর‍্যাঙ্ক সেই ব্যবস্থার একটি অংশ।

এসইওতে লিংকের মাধ্যমে সম্ভাব্য র‍্যাঙ্কিং মূল্য স্থানান্তরের একটি ধারণা রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি লিংক থেকে অন্য পাতায় র‍্যাঙ্কিং মূল্য পৌঁছানোর সম্ভাবনা বোঝানো হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ব্যাকলিংক কতটা মূল্য দিচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে হিসাব করার সুযোগ নেই।

ব্যাকলিংক থেকে মূলত তিন ধরনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

১. নতুন পাঠক পাওয়া: অন্য ওয়েবসাইটের পাঠকেরা লিংকে ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটে আসতে পারেন।

২. নতুন পাতা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ: সার্চ ইঞ্জিন উপযুক্ত লিংক অনুসরণ করে আগে শনাক্ত না করা ওয়েবপাতার সন্ধান পেতে পারে।

৩. বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা বোঝা: সম্পর্কিত কোনো ওয়েবপাতা থেকে পাওয়া লিংক সার্চ ইঞ্জিনকে সংযুক্ত পাতার বিষয় বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

তবে ব্যাকলিংকের মাধ্যমে সরাসরি পাঠক আসা এবং গুগল সার্চে অবস্থান উন্নত হওয়া এক বিষয় নয়। একটি লিংক থেকে নিয়মিত পাঠক আসতে পারেন, অথচ সার্চ র‍্যাঙ্কিংয়ে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব না-ও থাকতে পারে।

কোন ব্যাকলিংক মূল্যবান, আর কোনটি এড়িয়ে চলা ভালো?

কোন ব্যাকলিংক মূল্যবান, আর কোনটি এড়িয়ে চলা ভালো?

একটি লিংকের মান বিচার করতে গিয়ে শুধু ওয়েবসাইটটির পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা দেখলে ভুল হতে পারে। লিংকটি যে পাতায় রয়েছে, সেখানে কী আলোচনা হচ্ছে এবং সেই আলোচনায় আপনার ওয়েবসাইটের প্রয়োজন কেন, তা দেখা বেশি যুক্তিসংগত।

ধরা যাক, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসার অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে আপনার একটি তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধ রয়েছে। কোনো ব্যবসাবিষয়ক প্রকাশনা তাদের পাঠকদের জন্য নিবন্ধটিকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করল। এখানে লিংক দেওয়ার যৌক্তিক কারণ আছে।

এবার ভাবুন, একই নিবন্ধের লিংক কোনো অপ্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের এমন একটি পাতায় রাখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত লিংক রয়েছে। পাঠকের জন্য সেখানে আপনার নিবন্ধের প্রয়োজন স্পষ্ট নয়। এই উদাহরণ দিয়ে গুগলের র‍্যাঙ্কিংয়ের ফলাফল নির্ধারণ করা যায় না। তবে লিংকের সম্পাদকীয় মান এবং পাঠকের সম্ভাব্য উপকার বোঝা যায়।

শুধু ওয়েবসাইট নয়, নির্দিষ্ট পাতাটিও দেখুন

বড় সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া লিংক প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি থাকলেই প্রতিটি লিংক মূল্যবান হবে, এমন নয়। আবার ছোট কোনো বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের ভালো নিবন্ধ থেকেও যথার্থ লিংক পাওয়া সম্ভব।

লিংক যাচাইয়ের সময় মূলত তিনটি বিষয় দেখুন।

  • বিষয়গত সম্পর্ক: লিংক দেওয়া পাতার আলোচনার সঙ্গে আপনার তথ্যের সম্পর্ক রয়েছে কি না।
  • লিংকের অবস্থান: নিবন্ধের প্রাসঙ্গিক অংশে লিংকটি ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি অপ্রাসঙ্গিক অসংখ্য লিংকের মধ্যে রাখা হয়েছে।
  • সম্পাদকীয় যুক্তি: পাঠককে বাড়তি তথ্য দেওয়ার জন্য লিংকটি যুক্ত করা হয়েছে, নাকি এর উদ্দেশ্য কেবল সার্চ র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত করা।

এসব বিষয় বিচার করতে কোনো নির্দিষ্ট এসইও স্কোরের প্রয়োজন নেই। তবে এগুলো গুগলের প্রকাশিত কোনো লিংক মূল্যায়ন সূত্রও নয়। এগুলোর সাহায্যে লিংকের সম্ভাব্য উপযোগিতা এবং সন্দেহজনক ব্যবহার চেনা যায়।

লিংকের দৃশ্যমান লেখায় একই মূল শব্দ বারবার বসানোর প্রয়োজন নেই

কোনো লিংকে ক্লিক করার জন্য যে শব্দ বা বাক্যাংশ দেখা যায়, সেটিকে অ্যাঙ্কর টেক্সট বলা হয়। যেমন, ‘সুন্দরবন ভ্রমণের প্রস্তুতি’ কথাটিতে লিংক থাকলে পাঠক বুঝতে পারবেন ক্লিক করে কী ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে।

কিন্তু বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পরিকল্পিতভাবে একই বাণিজ্যিক মূল শব্দ দিয়ে লিংক বসানো অস্বাভাবিক হতে পারে। বিশেষ করে সার্চ র‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা হলে গুগলের লিংক স্প্যাম নীতি লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে।

স্বাভাবিকভাবে কোথাও নিবন্ধের শিরোনাম, কোথাও প্রতিষ্ঠানের নাম, আবার কোথাও বর্ণনামূলক শব্দ লিংক হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিটি লিংকের দৃশ্যমান লেখা নিজের পছন্দের মূল শব্দ দিয়ে সাজানোর চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই।

ডুফলো ও নোফলো লিংকের পার্থক্য কী?

ব্যাকলিংক নিয়ে আলোচনায় ডুফলো ও নোফলো শব্দ দুটি নিয়মিত আসে। অনেকেই মনে করেন, ডুফলো হলে লিংক ভালো এবং নোফলো হলে সেটির কোনো কাজ নেই। বিষয়টি এতটা সরল নয়। সাধারণ এইচটিএমএল লিংকে বিশেষ কোনো সম্পর্ক নির্দেশক বৈশিষ্ট্য না থাকলে এসইওর ভাষায় সেটিকে ডুফলো বলা হয়। তবে ডুফলো নামে আলাদা কোনো এইচটিএমএল বৈশিষ্ট্য যোগ করতে হয় না।

অন্যদিকে, নোফলো ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের মালিক গুগলকে জানাতে পারেন যে তিনি সংযুক্ত পাতাটিকে সমর্থনের সংকেত দিতে চান না। গুগল আরও দুটি নির্দেশক ব্যবহার করে। এগুলো হলো স্পনসরড ও ইউজিসি। প্রথমটি বিজ্ঞাপন বা অর্থের বিনিময়ে তৈরি লিংক বোঝায়। দ্বিতীয়টি ব্যবহারকারীর তৈরি বিষয়বস্তুতে থাকা লিংক শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

নিচের তুলনাটি দেখলে পার্থক্য পরিষ্কার হবে।

লিংকের ধরন অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়
ডুফলো বিশেষ সম্পর্ক নির্দেশক বৈশিষ্ট্য ছাড়া সাধারণ লিংক স্বাভাবিক সম্পাদকীয় লিংক
নোফলো সংযুক্ত পাতাকে সমর্থন না করার সংকেত সমর্থন করতে না চাওয়া উৎস
স্পনসরড অর্থের বিনিময়ে তৈরি লিংক শনাক্ত করার সংকেত বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ
ইউজিসি ব্যবহারকারীর তৈরি বিষয়বস্তুর লিংক শনাক্ত করার সংকেত মন্তব্য ও আলোচনা ফোরাম

এই পার্থক্য জানার পরও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। নোফলো লিংক কি এসইওতে একেবারেই মূল্যহীন? তা নয়।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে গুগল জানায়, নোফলো, স্পনসরড ও ইউজিসি নির্দেশককে লিংক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নির্দেশনামূলক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি তখন থেকেই কার্যকর হয়। আর ওয়েবপাতা খুঁজে দেখা ও অনুসন্ধানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নোফলোকে এমন সংকেত হিসেবে বিবেচনার পরিবর্তন কার্যকর হয় ১ মার্চ, ২০২০ থেকে।

গুগল সাধারণত নোফলো লিংককে সরাসরি র‍্যাঙ্কিং মূল্য দেওয়ার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে না। তবে নির্দিষ্ট লিংক কীভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে, সেটি বাইরে থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আর পাঠকের দিকটি আলাদা। কোনো জনপ্রিয় আলোচনা ফোরামে আপনার তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধের নোফলো লিংক থাকলে আগ্রহী পাঠকেরা সেটিতে ক্লিক করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লিংকটি র‍্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব না ফেললেও নতুন পাঠক পাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তাই শুধু ডুফলো লিংক সংগ্রহ করাকেই ব্যাকলিংক তৈরির একমাত্র লক্ষ্য বানানো যুক্তিসংগত নয়।

ডোমেইন অথরিটি বেশি হলেই কি ব্যাকলিংক ভালো?

লিংক কেনাবেচার প্রস্তাবে প্রায়ই ডোমেইন অথরিটি বা ডোমেইন রেটিংয়ের উল্লেখ থাকে। এগুলো এসইও বিশ্লেষণে পরিচিত দুটি স্কোর। মজের তৈরি স্কোর হলো ডোমেইন অথরিটি। আর ডোমেইন রেটিং তৈরি করেছে আহরেফস। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক প্রোফাইল তুলনা করতে এসব স্কোর ব্যবহার করা যায়।

কিন্তু এগুলো গুগলের নিজস্ব পেজর‍্যাঙ্ক নয়। ডোমেইন অথরিটি বেশি দেখালেই কোনো ওয়েবসাইটের লিংক আপনার সার্চ র‍্যাঙ্কিং বাড়াবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে ডোমেইন রেটিং কম থাকা মানেই কোনো ওয়েবসাইট স্প্যাম নয়।

ধরা যাক, নতুন একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটে ভালো মানের তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি খুব পরিচিত না হওয়ায় তৃতীয় পক্ষের কোনো এসইও টুলে তার স্কোর কম থাকতে পারে। অথচ নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে সেই ওয়েবসাইটের লেখা পাঠকের জন্য বেশ প্রাসঙ্গিক।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু স্কোর দেখে লিংকের মান বিচার করা ঠিক হবে না। বিশেষ করে কোনো সেবাদাতা যদি নির্দিষ্ট ডোমেইন অথরিটি বা ডোমেইন রেটিংয়ের বিনিময়ে গুগল র‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর নিশ্চয়তা দেন, তাহলে অর্থ ব্যয়ের আগে লিংকগুলো কোথায় এবং কীভাবে তৈরি হবে, তা যাচাই করুন।

শত শত ব্যাকলিংক তৈরির প্রস্তাবে ঝুঁকি কোথায়?

শত শত ব্যাকলিংক তৈরির প্রস্তাবে ঝুঁকি কোথায়?

একটি ওয়েবসাইটের জন্য অনেক ব্যাকলিংক থাকা নিজে কোনো অপরাধ নয়। সমস্যা তৈরি হয় যখন সার্চ র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে লিংক তৈরি করা হয়। গুগলের স্প্যাম নীতিতে কয়েকটি কার্যক্রম স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। যেমন, র‍্যাঙ্কিং মূল্য স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে লিংক কেনাবেচা, অতিরিক্ত লিংক বিনিময়, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার দিয়ে লিংক তৈরি এবং নিম্নমানের ওয়েবসাইট নির্দেশিকায় ব্যাপকভাবে লিংক ছড়ানো।

আলোচনা ফোরামের মন্তব্যে অতিরিক্ত মূল শব্দযুক্ত লিংক বসানো কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নিচের অংশ বা পূর্বনির্ধারিত পাতার কাঠামোয় পরিকল্পিতভাবে লিংক ছড়িয়ে দেওয়াও সমস্যাজনক হতে পারে। তবে ওয়েবসাইটের নিচে থাকা সাধারণ লিংক বা স্বাভাবিকভাবে এক পাতা থেকে অন্য পাতায় যাওয়ার লিংককে স্প্যাম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের ধরন এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

গুগল কৃত্রিম লিংকের সম্ভাব্য র‍্যাঙ্কিং প্রভাব অকার্যকর করতে পারে। নীতি লঙ্ঘনের কারণে সরাসরি পর্যালোচনার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ওয়েবসাইটের সার্চ র‍্যাঙ্কিং কমে যেতে পারে। কিছু পাতা সার্চ ফলাফল থেকে বাদও পড়তে পারে। গুগলের পরিভাষায় এই ব্যবস্থাকে ম্যানুয়াল অ্যাকশন বলা হয়।

অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট আপনার পাতায় লিংক দিলেই অবশ্য এমন শাস্তি হবে না। গুগলের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অনেক অস্বাভাবিক লিংকের প্রভাব উপেক্ষা করতে পারে। নিজে পরিকল্পিত লিংক স্প্যামে অংশ নেওয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্প্যাম লিংক পাওয়া এক বিষয় নয়।

তাহলে অর্থের বিনিময়ে লিংক ব্যবহার করা যাবে না?

বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ দেওয়া এবং র‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর জন্য লিংক কেনা আলাদা বিষয়। গুগল বিজ্ঞাপন বা স্পনসরশিপের লিংক নিষিদ্ধ করেনি। এ ধরনের লিংকে স্পনসরড নির্দেশক ব্যবহার করা উচিত। গুগল নোফলো নির্দেশকও গ্রহণ করে, যদিও স্পনসরড ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেয়।

এখানে প্রকাশকদের একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। লেখার পাশে ‘স্পনসরড’ লিখে দিলেই এইচটিএমএল লিংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশক যুক্ত হয় না। লিংকের প্রযুক্তিগত বিন্যাসও ঠিক থাকতে হবে। অর্থাৎ কোনো বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সেটি কীভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

ভালো ব্যাকলিংক পেতে প্রথমে কী করবেন?

লিংক সংগ্রহের জন্য আলাদা বাজেট না থাকলেও কাজ শুরু করা যায়। তবে প্রথম কাজটি লিংক খোঁজা নয়। আগে এমন বিষয়বস্তু তৈরি করতে হবে, যেটির উল্লেখ করার যুক্তিসংগত কারণ অন্য প্রকাশকের রয়েছে।

ব্যবহারযোগ্য তথ্য প্রকাশ করুন। কোনো জটিল বিষয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা, তুলনা কিংবা বিস্তারিত নির্দেশিকা অন্য লেখকের কাজে আসতে পারে। যেমন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতির তুলনামূলক নির্দেশিকায় সেবার শর্ত, সীমাবদ্ধতা ও যাচাই করা তথ্য থাকলে সেটি প্রাসঙ্গিক প্রকাশনায় উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

ভালো লেখা তৈরি হলেই অবশ্য লিংক পাওয়া নিশ্চিত নয়। লেখাটি সংশ্লিষ্ট পাঠক ও প্রকাশকদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

নিজস্ব তথ্য থাকলে তার উৎস পরিষ্কার রাখুন। সঠিক পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপ, পর্যবেক্ষণ বা নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ অন্যদের জন্য ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। তবে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, নমুনা, সীমাবদ্ধতা ও প্রকাশের সময় উল্লেখ করা প্রয়োজন। গবেষণা না করে গবেষণার দাবি করলে সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রাসঙ্গিক প্রকাশনার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনার লেখাটি কোনো প্রকাশনার পাঠকের কাজে লাগতে পারে মনে হলে সংক্ষেপে তার কারণ জানাতে পারেন। শুধু ব্যাকলিংক চেয়ে একই বার্তা অসংখ্য ওয়েবসাইটে পাঠানোর চেয়ে নির্দিষ্ট লেখার উপযোগিতা বোঝানো ভালো। লিংক ব্যবহার করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রকাশকের।

আরেকটি কাজ অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। আগে প্রকাশিত লেখার তথ্য হালনাগাদ রাখা। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও অনলাইন পরিষেবা নিয়ে লেখা হলে পুরোনো শর্ত, বন্ধ হয়ে যাওয়া সেবা কিংবা অকার্যকর লিংক সংশোধন করতে হয়। নিয়মিত সংশোধিত তথ্য দীর্ঘ সময় অন্য প্রকাশকের কাজে লাগতে পারে।

আপনার ওয়েবসাইটে কোন কোন ব্যাকলিংক রয়েছে, দেখবেন কীভাবে?

ব্যাকলিংক দেখতে শুরুতেই অর্থের বিনিময়ে এসইও টুল কেনার প্রয়োজন নেই। গুগল সার্চ কনসোল ব্যবহার করে নিজের ওয়েবসাইটে আসা লিংক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। এ জন্য ওয়েবসাইটটি গুগল সার্চ কনসোলে যুক্ত ও যাচাই করা থাকতে হবে।

এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

১. লিংক প্রতিবেদন খুলুন। গুগল সার্চ কনসোলে আপনার ওয়েবসাইট নির্বাচন করে লিংক বিভাগে যান।

২. বাইরের ওয়েবসাইট থেকে আসা লিংক দেখুন। কোন পাতাগুলো বেশি লিংক পাচ্ছে এবং কোন ওয়েবসাইটগুলো আপনার পাতার লিংক দিচ্ছে, তার তথ্য পাওয়া যাবে।

৩. সবচেয়ে বেশি লিংক দেওয়া ওয়েবসাইটগুলো পরীক্ষা করুন। পরিচিত ও অপরিচিত ওয়েবসাইটগুলো শনাক্ত করুন। কোনো উৎস সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট পাতা পরীক্ষা করার চেষ্টা করুন।

৪. লিংকে ব্যবহৃত শব্দগুলো দেখুন। অন্য ওয়েবসাইটগুলো কোন শব্দ বা বাক্যাংশ ব্যবহার করে আপনার পাতায় লিংক দিয়েছে, তা বুঝতে পারবেন। একই বাণিজ্যিক মূল শব্দের অস্বাভাবিক পুনরাবৃত্তি থাকলে বিস্তারিত খোঁজ নিন।

৫. প্রয়োজন হলে তথ্য সংরক্ষণ করুন। লিংকের তালিকা রপ্তানি করে পরে তুলনা করা যায়।

তবে গুগল সার্চ কনসোলকে আপনার সব ব্যাকলিংকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মনে করা যাবে না। লিংক প্রতিবেদনে গুগলের শনাক্ত করা লিংকগুলোর একটি নমুনা দেখানো হয়। কোন লিংকে নোফলো নির্দেশক রয়েছে, সেই তথ্যও এখানে আলাদাভাবে পাওয়া যায় না।

কোনো লিংক ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলার পরও সেটি কিছু সময় প্রতিবেদনে থাকতে পারে। ফলে তালিকায় নাম দেখেই লিংকটি এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। লিংক থেকে পাঠক আসছেন কি না, তা দেখতে গুগল অ্যানালিটিকসের দর্শনার্থীর উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদন কাজে আসতে পারে। তবে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা, এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীর উৎস শনাক্ত করার নিয়মের কারণে সব ক্লিক বাইরের ওয়েবসাইট থেকে আসা দর্শনার্থী হিসেবে দেখা না-ও যেতে পারে।

সন্দেহজনক ব্যাকলিংক পেলে কি সরিয়ে ফেলতে হবে?

গুগল সার্চ কনসোলে অপরিচিত কোনো ডোমেইন দেখলে অনেকের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়, লিংকটি সরিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু অপরিচিত মানেই ক্ষতিকর নয়। আগে বোঝার চেষ্টা করুন, লিংকটি কোন পাতায় রয়েছে এবং সেখানে আপনার ওয়েবসাইটের উল্লেখ করার কোনো যৌক্তিক কারণ আছে কি না।

নিজে বা কোনো এসইও সেবাদাতার মাধ্যমে আগে কৃত্রিম লিংক তৈরি করা হয়ে থাকলে বিষয়টি আলাদা। সে ক্ষেত্রে সমস্যাজনক লিংক শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মালিককে অপসারণের অনুরোধ জানানো যেতে পারে। গুগলের ডিসঅ্যাভাউ লিংকস নামে একটি ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট লিংক মূল্যায়নে উপেক্ষা করার অনুরোধ করা যায়। তবে সাধারণ ব্যাকলিংক পরিষ্কার করার জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি হয়নি।

গুগলের নির্দেশনায় ডিসঅ্যাভাউ ব্যবহারের আগে দুটি শর্ত বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। ওয়েবসাইটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্প্যাম, কৃত্রিম বা নিম্নমানের ব্যাকলিংক থাকতে হবে। পাশাপাশি সেসব লিংকের কারণে গুগলের সরাসরি পর্যালোচনাভিত্তিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে থাকতে হবে অথবা হওয়ার বাস্তব আশঙ্কা থাকতে হবে।

সাধারণত দুটি শর্তই পূরণ হলে ডিসঅ্যাভাউ ব্যবহার বিবেচনা করা উচিত। ভুলভাবে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করলে উপকারী লিংকের সম্ভাব্য মূল্যও হারাতে পারেন। তাই গুগলের ডিসঅ্যাভাউ ব্যবহারের নির্দেশনা না বুঝে সব অপরিচিত ডোমেইন বাদ দেওয়া ঠিক নয়।

ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে সরাসরি পর্যালোচনাভিত্তিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা গুগল সার্চ কনসোলের ম্যানুয়াল অ্যাকশন প্রতিবেদনে পরীক্ষা করা যায়। গুরুতর লিংক স্প্যাম সমস্যা থাকলে অভিজ্ঞ এসইও বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া যুক্তিসংগত।

নতুন ওয়েবসাইট হলে কোথা থেকে শুরু করবেন?

ব্যাকলিংক কী, সেটি জানার পরপরই শত শত লিংক সংগ্রহের পরিকল্পনা করার প্রয়োজন নেই। আগে নিজের ওয়েবসাইটের কয়েকটি ভালো নিবন্ধ বেছে নিন। দেখুন, সেগুলোতে এমন তথ্য রয়েছে কি না, যা অন্য প্রকাশক তাদের পাঠকদের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

এরপর বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রকাশনাগুলো শনাক্ত করুন। কোথায় আপনার লেখাটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তা বিবেচনা করে যোগাযোগ করুন। লিংক পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলেও এই পদ্ধতিতে পাঠকের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর পুরোনো ওয়েবসাইট হলে নতুন লিংকের পেছনে অর্থ ব্যয়ের আগে গুগল সার্চ কনসোলে বিদ্যমান লিংকগুলো দেখে নিন। কোনো অস্বাভাবিক প্রবণতা থাকলে তার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।

ব্যাকলিংকের মূল্য বিচার করার সময় একটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি কাজে আসে: এই লিংকটি কি পাঠককে প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে? এর উত্তর স্পষ্ট না হলে শুধু লিংকের সংখ্যা বা কোনো এসইও টুলের স্কোরের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

নতুন ওয়েবসাইটের কতটি ব্যাকলিংক প্রয়োজন?

এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। ওয়েবসাইটের বিষয়, প্রতিযোগিতা, প্রকাশিত তথ্যের মান এবং অন্যান্য এসইও বিষয়ের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করে। নতুন ওয়েবসাইট হলে আগে তথ্যসমৃদ্ধ লেখা, সার্চ ইঞ্জিনের তালিকায় পাতাগুলোর সঠিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রাসঙ্গিক অভ্যন্তরীণ লিংক তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়া বাস্তবসম্মত। এরপর অন্য প্রকাশনার কাছে আপনার তথ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

একই ওয়েবসাইট থেকে একাধিক ব্যাকলিংক পাওয়া কি খারাপ?

সব ক্ষেত্রে নয়। একটি ওয়েবসাইটের একাধিক প্রাসঙ্গিক নিবন্ধ থেকে স্বাভাবিকভাবে লিংক আসতে পারে। কিন্তু র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বহু পাতায় একই লিংক বসানো হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রতিযোগীর ব্যাকলিংক অনুকরণ করা কি ভালো কৌশল?

প্রতিযোগীর ব্যাকলিংক বিশ্লেষণ করে প্রাসঙ্গিক প্রকাশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের প্রতিটি লিংকের মান বা উদ্দেশ্য একই নয়। নিজের বিষয়বস্তুর সঙ্গে কোন প্রকাশনার সম্পর্ক রয়েছে, সেটি বোঝাই বেশি কার্যকর।

সর্বশেষ