কনটেন্ট ক্যালেন্ডারে ট্রাফিক, অথরিটি ও কনভার্সন টপিকের সঠিক ভারসাম্য

সর্বাধিক আলোচিত

একটি ওয়েবসাইটে মাসে ২০টি নতুন নিবন্ধ প্রকাশ হচ্ছে। সম্পাদকীয় দলের কাজও সময়মতো শেষ হচ্ছে। গুগলে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাঠক আসছেন, কিন্তু ব্যবসার জন্য নতুন সম্ভাব্য গ্রাহকের সংখ্যা তেমন বাড়ছে না। তখন আরও বেশি লেখা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার। এত দিন যেসব বিষয়ে লেখা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ব্যবসার লক্ষ্যের সম্পর্ক কতটা?

এটি শুধু সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়। বিজ্ঞাপননির্ভর প্রকাশনার ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। কোনো বিষয়ে নিয়মিত অনেক পাঠক এলেও তাঁরা প্রকাশনার অন্য লেখা পড়ছেন না। আবার বিস্তারিত ও গবেষণাভিত্তিক নিবন্ধ প্রকাশিত হলেও নতুন পাঠকের কাছে সেগুলো পৌঁছাচ্ছে না। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এসইও কনটেন্ট ক্যালেন্ডার সাজাতে হয়। ক্যালেন্ডারে এমন বিষয় থাকা দরকার, যেগুলো নতুন পাঠক আনবে, নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং আগ্রহী পাঠককে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

শুরুতে ৫০ শতাংশ পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির, ৩০ শতাংশ বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির এবং ২০ শতাংশ গ্রাহক রূপান্তর বা কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপে উৎসাহিত করার মতো বিষয় রাখা যেতে পারে। তবে এই অনুপাত গুগলের কোনো নিয়ম নয়। এটি কাজ শুরু করার একটি নমুনা হিসাব। নিজের ওয়েবসাইটের অবস্থা না জেনে শুধু এই সংখ্যা অনুসরণ করলে লাভের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজ বাড়তে পারে।

বেশি পাঠক পেলেই কি কনটেন্ট সফল?

একটি এসইও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ‘বিনামূল্যে কীওয়ার্ড গবেষণা করার নিয়ম’ নিয়ে লেখা আছে। অন্য একটি নিবন্ধের বিষয় ‘ছোট ব্যবসার জন্য এসইও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের পদ্ধতি’। প্রথম নিবন্ধটি সাধারণ পাঠক, শিক্ষার্থী, নতুন ব্লগারসহ বিভিন্ন ধরনের মানুষের কাজে আসতে পারে। দ্বিতীয়টির পাঠকসংখ্যা কম হলেও সেখানে এমন উদ্যোক্তারা আসতে পারেন, যাঁরা সত্যিই এসইও সেবা নেওয়ার কথা ভাবছেন।

দুটি নিবন্ধের উদ্দেশ্য আলাদা। তাই শুধু পাঠকসংখ্যা দিয়ে তাদের তুলনা করা ঠিক হবে না। কনটেন্ট পরিকল্পনায় সাধারণত এখানেই একটি ভুল হয়। বেশি অনুসন্ধান হয় এমন বিষয়গুলো আগে বেছে নেওয়া হয়। তারপর সেই তালিকা দিয়ে মাসের প্রকাশনা ক্যালেন্ডার পূরণ করা হয়। কিন্তু পাঠক কী জানতে চাইছেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের সঙ্গে সেই চাহিদা মিলছে কি না, সেটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।

অবশ্য কম পাঠক পাওয়া নিবন্ধকে কেবল সম্ভাব্য বিক্রির কারণে বেশি মূল্যবান ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। যে ওয়েবসাইটের প্রধান আয় বিজ্ঞাপন থেকে আসে, সেখানে প্রাসঙ্গিক পাঠকসংখ্যা বাড়ানোই বড় লক্ষ্য হতে পারে। কাজেই প্রথম সিদ্ধান্তটি হওয়া উচিত, ওয়েবসাইটের কনটেন্ট থেকে ঠিক কী ফল আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী?

কনটেন্টের তিনটি উদ্দেশ্য আলাদা করে বুঝুন

সব নিবন্ধকে কঠোরভাবে তিনটি শ্রেণিতে আটকে রাখার প্রয়োজন নেই। একটি লেখা একাধিক উদ্দেশ্যে কাজে আসতে পারে। তবে প্রকাশের পরিকল্পনা করার সময় প্রধান উদ্দেশ্য নির্ধারণ করলে বিষয় বাছাই ও ফলাফল পর্যালোচনা সহজ হয়।

পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির কনটেন্ট: পাঠক যে সমস্যার সমাধান খুঁজছেন

ধরা যাক, কেউ গুগলে লিখলেন, ‘ওয়েবসাইটে পাঠক আসা হঠাৎ কমে গেছে’। তিনি প্রথমে জানতে চাইবেন সমস্যাটি কেন হচ্ছে এবং কীভাবে পরীক্ষা করবেন। এই চাহিদা থেকে তৈরি হতে পারে ‘গুগল সার্চ কনসোলে পাঠকপ্রবাহ কমার কারণ খোঁজার পদ্ধতি’ শিরোনামের নিবন্ধ। একইভাবে ছোট ব্যবসার জন্য এসইও শুরু করার নিয়ম, বিনামূল্যে কীওয়ার্ড গবেষণা কিংবা ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠা খুলতে দেরি হলে করণীয় নিয়ে লেখা পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করা যায়।

এ ধরনের নিবন্ধের বিষয় নির্বাচনে অনুসন্ধানের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি বিষয় কতবার খোঁজা হয়, সেটিই শেষ বিবেচনা হওয়া উচিত নয়। অনুসন্ধানকারী আসলে কী জানতে চাইছেন, ইতিমধ্যে কী ধরনের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে এবং নতুন নিবন্ধে বাড়তি কী দেওয়া সম্ভব, তা দেখতে হবে।

তথ্য খুঁজতে আসা পাঠক সব সময় পণ্য বা সেবা কিনতে চান না। প্রয়োজনীয় উত্তর পাওয়ার পর তিনি চলে যেতে পারেন। এর অর্থ এই নয় যে লেখাটি কোনো কাজে আসেনি। তবে নিবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তথ্য ওয়েবসাইটে থাকলে সেই পাঠকের সামনে পরবর্তী বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ থাকে।

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির কনটেন্ট: সাধারণ তথ্যের বাইরে যাওয়ার জায়গা

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির কনটেন্ট: সাধারণ তথ্যের বাইরে যাওয়ার জায়গা

একটি ওয়েবসাইটে এসইও নিয়ে ৫০টি ছোট নিবন্ধ থাকতে পারে। কিন্তু কোনো জটিল সমস্যার বিস্তারিত বিশ্লেষণ না থাকলে পাঠক সেখানে প্রয়োজনীয় গভীরতা নাও পেতে পারেন। বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির কনটেন্টে সেই গভীরতার দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। যেমন, শুধু ‘এসইও নিরীক্ষা কী’ ব্যাখ্যা না করে ছোট ব্যবসার এসইও নিরীক্ষায় কোন সমস্যাগুলো আগে সমাধান করা উচিত, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়।

আরও কিছু সম্ভাব্য বিষয় হলো স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের এসইও কৌশলের পার্থক্য, স্বাভাবিক অনুসন্ধান থেকে আসা পাঠক কমে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ এবং পুরোনো কনটেন্ট কখন হালনাগাদ বা একীভূত করা উচিত। এ ধরনের লেখায় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কোন সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কেন, সেটি পাঠককে বুঝিয়ে বলতে হবে। কোনো পদ্ধতি সব পরিস্থিতিতে কাজ না করলে তার সীমাবদ্ধতাও উল্লেখ করা দরকার।

প্রয়োজনে বিষয়বিশেষজ্ঞের পর্যালোচনা, নিজস্ব তথ্য বা নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার করতে হবে। গুগলের সহায়ক ও নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট তৈরির নির্দেশনায় মৌলিক তথ্য, যথাযথ বিশ্লেষণ, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পাঠকের উপকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে গুগলের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, কর্তৃত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতার ধারণা সম্পর্কেও একটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। এই চারটি বিষয়কে গুগল কনটেন্টের গুণমান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করে। তবে এগুলো একত্রে কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান ফলাফলের অবস্থান নির্ধারণকারী উপাদান নয়। গুগলের বিভিন্ন ব্যবস্থা এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে একাধিক সংকেত ব্যবহার করে।

বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির কনটেন্ট বলতে পাঠকের কাছে আস্থা অর্জনের কথা বোঝানো হচ্ছে। এটি কোনো এসইও বিশ্লেষণ সফটওয়্যারের ওয়েবসাইটের কর্তৃত্বসূচক নম্বরের সমান নয়। বেশি গভীর নিবন্ধ প্রকাশ করলেই গুগলে ভালো অবস্থান পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।

গ্রাহক রূপান্তরের কনটেন্ট: সিদ্ধান্তের আগে যে তথ্য প্রয়োজন

একজন উদ্যোক্তা এসইও সম্পর্কে কিছুটা জেনেছেন। নিজের ওয়েবসাইটের সমস্যাও বুঝেছেন। এখন তিনি ঠিক করতে চাইছেন, স্বাধীন পেশাজীবীর সাহায্য নেবেন, নাকি কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেবেন। এই পর্যায়ে তাঁর জন্য ‘এসইও কীভাবে কাজ করে’ ধরনের সাধারণ লেখা যথেষ্ট নয়। তাঁর প্রয়োজন হতে পারে বিভিন্ন সেবার খরচের তুলনা, কাজের পরিধি, বিকল্পগুলোর পার্থক্য এবং সেবা নেওয়ার আগে কী যাচাই করতে হবে, সেই ব্যাখ্যা।

এ ধরনের পাঠকের জন্য লেখা যায়:

  • ছোট ব্যবসার জন্য এসইও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নাকি স্বাধীন পেশাজীবী ভালো?
  • এসইও নিরীক্ষা সেবা নেওয়ার আগে কী যাচাই করবেন?
  • নিজস্ব এসইও দল ও বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানোর খরচের তুলনা
  • এসইও পরামর্শসেবায় সাধারণত কোন কাজগুলো থাকে?

গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে তৈরি লেখায় বিক্রির ভাষা বেশি ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার তথ্য, বাস্তব সীমাবদ্ধতা এবং বিকল্পগুলোর তুলনা অনেক ক্ষেত্রে পাঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বেশি উপযোগী। কোনো সেবা ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হলে সেটি গোপন করার কারণ নেই। এমন তথ্য পাঠককে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

৫০:৩০:২০ অনুপাত কোথা থেকে শুরু করবেন?

ধরা যাক, একটি ওয়েবসাইটের মাসে ২০টি নিবন্ধ প্রকাশের সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে ৫০:৩০:২০ অনুপাত ব্যবহার করলে ১০টি পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির, ৬টি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির এবং ৪টি গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে নিবন্ধ পরিকল্পনা করা যায়।

কনটেন্টের ধরন অনুপাত মাসিক সংখ্যা
পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধি ৫০% ১০টি
বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা ৩০% ৬টি
গ্রাহক রূপান্তর ২০% ৪টি
মোট ১০০% ২০টি

হিসাবটি সহজ। বাস্তবে সমস্যা হতে পারে কাজের পরিমাণ নিয়ে। একটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক নিবন্ধে হয়তো পরিচিত সমস্যার কয়েকটি সমাধান যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যদিকে একটি বিস্তারিত গবেষণাভিত্তিক নিবন্ধের জন্য তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞের পর্যালোচনা প্রয়োজন হতে পারে। দুটিকে ক্যালেন্ডারে একটি করে নিবন্ধ হিসেবে গণনা করা হলেও কাজের চাপ সমান নয়।

গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্টেও বাড়তি প্রস্তুতি থাকতে পারে। পণ্য বা সেবার তথ্য সংগ্রহ, মূল্যসংক্রান্ত বিষয় যাচাই এবং বিক্রয় দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হতে পারে। সুতরাং অনুপাতের হিসাব মেলাতে গিয়ে লেখার মান কমানো উচিত নয়। কোনো মাসে ছয়টি বিস্তারিত গবেষণাভিত্তিক নিবন্ধ তৈরির মতো পর্যাপ্ত তথ্য বা সময় না থাকলে চারটি ভালো নিবন্ধ তৈরি করে বাকি সময় পুরোনো লেখা সংশোধন করা যেতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, একই নিবন্ধ পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধি ও গ্রাহক রূপান্তর, দুই উদ্দেশ্যেই কাজে আসতে পারে। যেমন, দুটি সফটওয়্যারের তুলনামূলক নিবন্ধ নতুন পাঠক আনতে পারে, আবার কেনার সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করতে পারে। এমন লেখার ক্ষেত্রে ক্যালেন্ডারে প্রধান উদ্দেশ্যটি লিখুন। প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় উদ্দেশ্যের জন্য আলাদা ঘর রাখুন।

কোন ওয়েবসাইটে কোন অনুপাত বেশি যুক্তিসংগত?

সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০:৩০:২০ ধরে রাখার বিশেষ কারণ নেই।

বিজ্ঞাপননির্ভর প্রকাশনা: পাঠকসংখ্যা এখানে আয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই নতুন পাঠক আনার উপযোগী লেখার অংশ বেশি রাখার যুক্তি রয়েছে। পরীক্ষামূলক পরিকল্পনায় ৭০ শতাংশ পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধি, ২০ শতাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি এবং ১০ শতাংশ গ্রাহক রূপান্তর বা কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের উদ্দেশ্যে কনটেন্ট রাখা যায়।

এ ধরনের প্রকাশনায় কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ বলতে ইমেইলে নিয়মিত সংবাদ বা তথ্য পাওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন, ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধন বা সদস্যপদ গ্রহণও বোঝাতে পারে। তবে অনুসন্ধানের চাহিদা বেশি দেখেই প্রকাশনার মূল বিষয়ের বাইরে নিয়মিত লেখা প্রকাশ করা ঠিক হবে না। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনায় অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যোগ করলে সাময়িকভাবে পাঠক বাড়লেও সেই পাঠকেরা প্রকাশনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের সঙ্গে নাও মিলতে পারেন।

সেবাভিত্তিক ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান: এখানে সম্ভাব্য যোগ্য গ্রাহক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন। সে কারণে ৩৫ শতাংশ পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধি, ২৫ শতাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি এবং ৪০ শতাংশ গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে বিষয় নিয়ে পরীক্ষা শুরু করা যায়।

কিন্তু পাঠক থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য গ্রাহকের যোগাযোগ কম এলেই নতুন বিক্রয়মুখী নিবন্ধ প্রকাশ করতে হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। আগে সেবার বিবরণ, মূল্য, প্রস্তাব এবং যোগাযোগের ফর্ম পরীক্ষা করতে হবে। সমস্যাটি সেখানেও থাকতে পারে।

নতুন বা বিশেষায়িত ওয়েবসাইট: শুরুতে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ভালো কনটেন্টভান্ডার তৈরির প্রয়োজন থাকতে পারে। এ ধরনের ওয়েবসাইটে ৪০ শতাংশ পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধি, ৪০ শতাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি এবং ২০ শতাংশ গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে বিষয় নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক পরিকল্পনা করা যায়।

বিশেষায়িত ব্যবসায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুসন্ধানের সংখ্যা কম হলেও সেটি লক্ষ্য পাঠকের কাছে উপযোগী হতে পারে। এখানে উল্লেখ করা অনুপাতগুলো প্রকাশনা পরিকল্পনার উদাহরণ। এগুলোর কোনোটি গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত আদর্শ অনুপাত নয়। কোন পদ্ধতি কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের তথ্য ও ব্যবসার ফলাফল দিয়ে বিচার করতে হবে।

ক্যালেন্ডার বানানোর আগে গুগল সার্চ কনসোল খুলুন

ক্যালেন্ডার বানানোর আগে গুগল সার্চ কনসোল খুলুন

নতুন কীওয়ার্ড খোঁজার আগে পুরোনো নিবন্ধগুলোর অবস্থা দেখা ভালো। একই বিষয়ে একাধিক লেখা থাকতে পারে। কোনো নিবন্ধে তথ্য পুরোনো হয়ে গেছে। আবার এমন লেখাও থাকতে পারে, যেটি গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তুলনামূলক কম ক্লিক পাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নতুন নিবন্ধ প্রকাশের বদলে পুরোনো কনটেন্ট সংশোধন বা একীভূত করা বেশি উপযোগী হতে পারে।

গুগল সার্চ কনসোলের কার্যসম্পাদন প্রতিবেদনে গুগলের অনুসন্ধান থেকে পাওয়া ক্লিক, প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিকের হার এবং গড় অবস্থানের তথ্য দেখা যায়। শুরুতে কার্যসম্পাদন বিভাগের অনুসন্ধান ফলাফল প্রতিবেদনে গিয়ে বিগত তিন বা ছয় মাসের সময় নির্বাচন করুন। অনুসন্ধানসংক্রান্ত অংশে দেখুন, কোন শব্দ বা বাক্য লিখে অনুসন্ধান করলে ওয়েবসাইট দেখা যাচ্ছে এবং কোন অনুসন্ধান থেকে ক্লিক আসছে। এরপর পৃষ্ঠাসংক্রান্ত অংশে গিয়ে বেশি প্রদর্শিত হলেও তুলনামূলক কম ক্লিক পাওয়া পৃষ্ঠাগুলো খুঁজুন।

এখানে একটি ভুল এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। কম ক্লিকের হার মানেই দুর্বল শিরোনাম বা খারাপ কনটেন্ট নয়। অনুসন্ধান ফলাফলের অন্যান্য উপাদান, অনুসন্ধানের ধরন এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজনও ক্লিকের হারকে প্রভাবিত করতে পারে। গুগল সার্চ কনসোলের তথ্যও সম্পূর্ণ নয়। গোপনীয়তার কারণে কিছু বিরল অনুসন্ধান দেখানো হয় না। তথ্যের সীমাবদ্ধতায় অনুসন্ধানের তালিকায় সব তথ্য নাও থাকতে পারে।

তাই এই প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করুন, ওয়েবসাইটের সব অনুসন্ধানের পূর্ণাঙ্গ হিসাব হিসেবে নয়। গুগল সার্চ কনসোলের এই প্রতিবেদন গুগলের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য দেখায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল বা অন্য উৎস থেকে আসা পাঠকের তথ্য বিশ্লেষণে আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

গুগল অ্যানালিটিক্সে পাঠকের পরবর্তী কাজ দেখুন

গুগল সার্চ কনসোল থেকে বোঝা যায়, গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলে কোন লেখা কীভাবে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু পাঠক ওয়েবসাইটে এসে ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করছেন কি না, সেটিও জানা প্রয়োজন। গুগল অ্যানালিটিক্স ৪-এর পাঠক আসার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন উৎস থেকে আসা পাঠকপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা যায়। এটি মূলত ওয়েবসাইটে প্রতিবার প্রবেশ বা পরিদর্শনের ভিত্তিতে পাঠকের উৎস বোঝার জন্য তৈরি।

সাধারণভাবে প্রতিবেদন বিভাগ থেকে পাঠক সংগ্রহসংক্রান্ত অংশে এবং তারপর পাঠক আসার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদনে যাওয়া যায়। তবে অ্যাকাউন্টের প্রতিবেদন বিন্যাস পরিবর্তিত থাকলে এটি অন্য জায়গায় থাকতে পারে বা মূল তালিকায় নাও দেখা যেতে পারে।

ধরা যাক, একটি নিবন্ধ থেকে পাঠক এসে যোগাযোগ ফর্ম জমা দিচ্ছেন। সেই কাজটি সঠিকভাবে একটি ঘটনা হিসেবে অনুসরণ করার ব্যবস্থা থাকলে গুগল অ্যানালিটিক্সে সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। গুগল অ্যানালিটিক্সের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং গুগল অ্যাডসের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পরিমাপের ব্যবস্থা এক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় না। গুগল অ্যাডসের ব্যবস্থাটি মূলত বিজ্ঞাপন প্রচারাভিযানের ফলাফল পরিমাপ ও উন্নত করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে গুগল অ্যানালিটিক্সের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকে গুগল অ্যাডসের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পরিমাপের ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। তবে উভয়ের প্রতিবেদন তৈরি, ফলাফলের কৃতিত্ব নির্ধারণ এবং গণনার নিয়ম আলাদা হতে পারে।

এখানে শুধু শেষবার দেখা পৃষ্ঠার ভিত্তিতে কোনো বিক্রির পুরো কৃতিত্ব নির্ধারণ করা ঠিক নয়। একজন পাঠক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একাধিক নিবন্ধ পড়তে পারেন। সেই যাত্রা বুঝতে উপযুক্ত তথ্য অনুসরণ ও ফলাফলের কৃতিত্ব নির্ধারণের বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বিষয় বাছাইয়ে অনুসন্ধানের সংখ্যার বাইরেও দেখুন

কোনো কনটেন্ট দলের কাছে অনেক লেখার ধারণা থাকতে পারে। কিন্তু প্রকাশের সময় ও বাজেট সীমিত হলে কোনটি আগে করা হবে, সেটি ঠিক করাই কঠিন কাজ।

ধরা যাক, দুটি সম্ভাব্য বিষয় রয়েছে।

প্রথমটির অনুসন্ধানের সংখ্যা বেশি, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সেবার সঙ্গে সম্পর্ক কম। দ্বিতীয়টি কম মানুষ খোঁজেন, অথচ সেটি সম্ভাব্য গ্রাহকের নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান দেয়। প্রথম বিষয়টিকে শুধু অনুসন্ধানের সংখ্যার কারণে অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিসংগত হবে না। বিষয় নির্বাচন করার সময় কয়েকটি প্রশ্ন কাজে আসে।

লেখাটি প্রতিষ্ঠানের মূল বিষয় বা সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটি আগে দেখুন। তারপর পাঠকের চাহিদার প্রমাণ খুঁজুন। অনুসন্ধানের তথ্য, গ্রাহকের প্রশ্ন কিংবা অন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য এখানে সহায়তা করতে পারে। ওয়েবসাইটে একই বিষয়ে ভালো লেখা আছে কি না, তা দেখতে হবে। আগে থেকেই পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে নতুন লেখা তৈরির প্রয়োজন নাও থাকতে পারে।

আর সবচেয়ে ব্যবহারিক প্রশ্নটি হলো, লেখাটি বিশ্বাসযোগ্যভাবে তৈরি করার মতো তথ্য ও সময় আছে কি না। প্রয়োজনে এসব বিষয়কে ১ থেকে ৫ নম্বর দিয়ে প্রাথমিক অগ্রাধিকার তালিকা করা যায়। ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্ক, পাঠকের চাহিদা, বিদ্যমান কনটেন্টের ঘাটতি এবং তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতায় বেশি উপযোগী বিষয় বেশি নম্বর পাবে। বেশি খরচ বা সময় প্রয়োজন হলে সেই বিবেচনায় নম্বর কম দেওয়া যায়।

এটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি সহায়ক পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনো ক্রম নির্ধারণ ব্যবস্থা নয়। কখনো কোনো পুরোনো নিবন্ধে ভুল তথ্য সংশোধনের কাজ নতুন উচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া নিবন্ধের আগেও করতে হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাসের ২০টি নিবন্ধ চার সপ্তাহে ভাগ করবেন যেভাবে

ধরা যাক, একটি ডিজিটাল বিপণন প্রতিষ্ঠানের মাসে ২০টি নিবন্ধ প্রকাশের সক্ষমতা আছে। তারা ৫০:৩০:২০ অনুপাত দিয়ে কাজ শুরু করতে চায়। প্রথম সপ্তাহে দুটি পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির, দুটি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির এবং একটি গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে নিবন্ধ রাখা যায়। দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনটি পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির, একটি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির ও একটি গ্রাহক রূপান্তরের নিবন্ধ প্রকাশের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

তৃতীয় সপ্তাহের ভাগ প্রথম সপ্তাহের মতো রাখা যায়। চতুর্থ সপ্তাহে তিনটি পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির, একটি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির এবং একটি গ্রাহক রূপান্তরের নিবন্ধ রাখলে মাসিক হিসাব পূরণ হবে। এভাবে ১০টি পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির, ৬টি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির এবং ৪টি গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে নিবন্ধের পরিকল্পনা সম্পন্ন হবে।

তবে ক্যালেন্ডারে শুধু প্রকাশের তারিখ লিখে রাখলে যথেষ্ট হবে না। প্রতিটি নিবন্ধের সঙ্গে প্রধান কীওয়ার্ড, পাঠকের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, লেখার লক্ষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গবেষণা ও সম্পাদনার সময়সীমা সংরক্ষণ করুন। অভ্যন্তরীণ সংযোগ বা লিংক এবং প্রকাশের পর কোন ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে, সেটিও লিখে রাখা দরকার।

গুগল শিটস, নোশন বা অন্য উপযুক্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব তথ্য রাখা যায়। ছোট দলের জন্য আলাদা ব্যয়বহুল সফটওয়্যার প্রয়োজন নাও হতে পারে। কোন লেখাটি পরিকল্পনাধীন, কোনটির খসড়া তৈরি হচ্ছে আর কোনটি সম্পাদনায় আছে, তা আলাদা করে রাখলে কাজের অগ্রগতি বুঝতে সুবিধা হয়।

পাঠক একটি লেখা পড়ার পর কোথায় যাবেন?

একটি ওয়েবসাইটে তিন ধরনের কনটেন্টই আছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিক সংযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে পাঠক প্রয়োজনীয় পরবর্তী তথ্য খুঁজে পেতে অসুবিধায় পড়তে পারেন। ধরা যাক, একজন পাঠক ওয়েবসাইটে পাঠক কমে যাওয়ার কারণ জানতে এসেছেন। প্রথম নিবন্ধে সমস্যার প্রাথমিক কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো। সেখানে বিস্তারিত এসইও নিরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আরেকটি লেখার লিংক থাকতে পারে।

নিরীক্ষার নিবন্ধে বোঝানো যায়, কোন কাজগুলো নিজে করা সম্ভব এবং কখন পেশাদার সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। এরপর আগ্রহী পাঠক এসইও সেবা বাছাইয়ের তুলনামূলক নিবন্ধে যেতে পারবেন। এই সংযোগ তৈরির জন্য সব লেখাকে বিক্রয় পৃষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি নয়। গুগলের এসইওর প্রাথমিক নির্দেশিকায় প্রাসঙ্গিক লিংক ও অর্থপূর্ণ সংযোগকারী শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ রয়েছে। এতে পাঠক ও অনুসন্ধান ব্যবস্থা উভয়ের কাছে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার বিষয় পরিষ্কার হতে পারে।

তবে অভ্যন্তরীণ লিংক যোগ করলেই গ্রাহক রূপান্তর বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একজন পাঠক যখন সাধারণ সমস্যার উত্তর খুঁজছেন, তখন তাঁর জন্য আরেকটি ব্যাখ্যামূলক নিবন্ধ বেশি উপযোগী হতে পারে। অপ্রাসঙ্গিক বিক্রয় লিংক যোগ করার চেয়ে পরবর্তী প্রয়োজনটি বোঝা ভালো।

ফলাফল দেখার সময় সব নিবন্ধকে এক হিসাবে ফেলবেন না

মাস শেষে প্রকাশিত সব লেখার মোট পাঠকসংখ্যা যোগ করলে ওয়েবসাইটের একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু কোন ধরনের কনটেন্ট প্রত্যাশিত কাজ করছে, সেটি বোঝা কঠিন। পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি নিবন্ধে স্বাভাবিক অনুসন্ধান থেকে আসা ক্লিক, প্রদর্শনের সংখ্যা ও প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধানে দৃশ্যমানতা পর্যবেক্ষণ করুন।

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির কনটেন্টের ক্ষেত্রে অন্য প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট থেকে আসা পাঠক, স্বাভাবিকভাবে পাওয়া লিংক, পাঠকের সম্পৃক্ততা এবং বিষয়ভিত্তিক কনটেন্টের ব্যবহার দেখা যায়। এগুলোর কোনো একটিই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার পূর্ণ পরিমাপ নয়।

গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে তৈরি নিবন্ধে যোগাযোগ ফর্ম জমা, যোগ্য সম্ভাব্য গ্রাহক, পণ্য কেনা কিংবা নিবন্ধনের মতো কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলাফল তুলনা করার সময় আগের সমতুল্য সময়ের তথ্য ব্যবহার করুন। মৌসুমি পরিবর্তন, প্রচারাভিযান এবং তথ্য অনুসরণ ব্যবস্থার সমস্যাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

নতুন পরিকল্পনা চালুর ৩০ দিন পর প্রাথমিক অবস্থা, ৬০ দিন পর প্রকাশিত নিবন্ধগুলোর অগ্রগতি এবং ৯০ দিন পর সামগ্রিক প্রবণতা পর্যালোচনা করা যেতে পারে। এটি কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলে অবস্থান, পাঠকসংখ্যা বা গ্রাহক রূপান্তর বাড়ার নিশ্চয়তা নয়। পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়া গেলে আরও দীর্ঘ সময়ের ফলাফল দেখতে হতে পারে।

কখন প্রকাশনার অনুপাত বদলানো যুক্তিসংগত?

কয়েক মাসের ফলাফল দেখার পর কনটেন্টের অনুপাত বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, পাঠকসংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে কিন্তু সম্ভাব্য নতুন গ্রাহকের যোগাযোগ কম। এ অবস্থায় প্রথমেই নতুন পাঠক আনার উপযোগী লেখা কমিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আগে দেখতে হবে, পাঠকেরা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য গ্রাহক কি না, সেবার বিবরণ যথেষ্ট পরিষ্কার কি না এবং যোগাযোগের ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না।

এসব ঠিক থাকার পরও সমস্যা থাকলে গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে বিষয় বাড়ানো যেতে পারে। আবার ওয়েবসাইটে সেবা ও পণ্যের তুলনামূলক অনেক লেখা থাকা সত্ত্বেও নতুন পাঠক কম এলে প্রাথমিক সমস্যাভিত্তিক বিষয় খুঁজতে হবে। বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশের পরও অনুসন্ধান ফলাফলে দৃশ্যমানতা কম থাকলে নতুন লেখা বাড়ানোর আগে অনুসন্ধান ব্যবস্থার তালিকায় পৃষ্ঠা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অবস্থা, প্রযুক্তিগত এসইও, অভ্যন্তরীণ লিংক এবং বিষয় নির্বাচন পরীক্ষা করুন।

আর পুরোনো নিবন্ধের তথ্য হালনাগাদ করার সময় না থাকলে কিছুদিন নতুন প্রকাশনার সংখ্যা কমানো যেতে পারে। কয়েকটি লেখার দুর্বল ফলাফল দেখে পুরো পরিকল্পনা বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। যথেষ্ট তথ্য, প্রকাশের সময় এবং ব্যবসায়িক ফলাফল বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

ছোট কনটেন্ট দলের জন্য কতটি নিবন্ধ যথেষ্ট?

একজন লেখক ও একজন সম্পাদকের ছোট দলের পক্ষে মাসে ২০টি মানসম্পন্ন নিবন্ধ তৈরি করা সম্ভব নাও হতে পারে। নতুন লেখা তৈরির পাশাপাশি গবেষণা, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা এবং পুরোনো কনটেন্ট সংশোধনের কাজও থাকে। ফলে প্রকাশের সংখ্যা নির্ধারণের সময় এসব কাজের হিসাব ধরতে হবে। এমন একটি দল সক্ষমতা অনুযায়ী মাসে আটটি নতুন নিবন্ধের পরিকল্পনা করতে পারে।

চারটি পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধির, দুটি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির এবং দুটি গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে বিষয় রাখলে অনুপাত দাঁড়াবে ৫০:২৫:২৫। কিন্তু আটটি নিবন্ধও যদি যথাযথভাবে গবেষণা ও সম্পাদনা করা সম্ভব না হয়, তাহলে লক্ষ্য কমাতে হবে। সীমিত বাজেটের ব্যবসার জন্য শুরুতেই বড় কনটেন্ট পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোন বিষয়টি সম্ভাব্য পাঠকের বাস্তব সমস্যার উত্তর দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেটি আগে নির্ধারণ করা বেশি যুক্তিসংগত। প্রকাশনার সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো নিবন্ধগুলো অবহেলিত হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।

নতুন মাসের ক্যালেন্ডার তৈরির আগে

পরবর্তী মাসের এসইও কনটেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরির আগে গত তিন মাসের নিবন্ধগুলো এক জায়গায় আনুন। কোন লেখাটি পাঠকপ্রবাহ বৃদ্ধি, কোনটি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি এবং কোনটি গ্রাহক রূপান্তরের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছিল, তা চিহ্নিত করুন।

এরপর গুগল সার্চ কনসোল ও গুগল অ্যানালিটিক্সের প্রাসঙ্গিক তথ্যের সঙ্গে তালিকাটি মিলিয়ে দেখুন। কোন ধরনের লেখা বেশি প্রকাশিত হয়েছে, কোনগুলো পাঠকের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ব্যবসার কোন লক্ষ্য যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না, তা বোঝার চেষ্টা করুন।

পুরোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ সংশোধনের প্রয়োজন থাকলে সেটিকেও পরবর্তী মাসের কাজের মধ্যে রাখুন। ৫০:৩০:২০ অনুপাত দিয়ে পরিকল্পনা শুরু করা যায়। কিন্তু অনুপাত ধরে রাখার জন্য অপ্রয়োজনীয় লেখা প্রকাশ করার দরকার নেই। কয়েক মাসের ফলাফল দেখে পরিবর্তন আনাই যুক্তিসংগত।

একটি কনটেন্ট ক্যালেন্ডার থেকে বোঝা উচিত, কোন বিষয়ে লেখা হচ্ছে, সেই বিষয়টি কেন বেছে নেওয়া হয়েছে এবং প্রকাশের পর কী ফল পাওয়া যাচ্ছে। পরের মাসে আরও কতটি নিবন্ধ প্রকাশ করবেন, সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত এই তথ্যগুলোই।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

১. এসইও কনটেন্ট ক্যালেন্ডার কত দিন পরপর হালনাগাদ করা উচিত?

প্রতি মাসে কনটেন্ট ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করা ভালো। নতুন বিষয় যোগ করার পাশাপাশি পুরোনো নিবন্ধের ফলাফল, পাঠকের চাহিদা এবং ব্যবসার লক্ষ্যও দেখতে হবে। তবে জরুরি তথ্য সংশোধন বা নতুন ব্যবসায়িক প্রয়োজন দেখা দিলে মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

২. একটি কনটেন্ট কি একই সঙ্গে পাঠকপ্রবাহ ও গ্রাহক রূপান্তর বাড়াতে পারে?

হ্যাঁ। যেমন, দুটি সফটওয়্যারের তুলনামূলক নিবন্ধ গুগল থেকে নতুন পাঠক আনতে পারে। আবার সেই নিবন্ধের তথ্য ব্যবহার করে কেউ একটি সফটওয়্যার কেনার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। ক্যালেন্ডারে হিসাব রাখার সুবিধার জন্য নিবন্ধটির প্রধান উদ্দেশ্য নির্ধারণ করুন।

৩. নতুন ওয়েবসাইটের জন্য কি ৫০:৩০:২০ অনুপাত অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক?

না। ৫০:৩০:২০ অনুপাত একটি পরীক্ষামূলক পরিকল্পনা, গুগলের নির্ধারিত নিয়ম নয়। নতুন ওয়েবসাইটে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধের ঘাটতি থাকলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির কনটেন্টে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। পরে পাঠকের আচরণ ও ফলাফল দেখে অনুপাত পরিবর্তন করা সম্ভব।

৪. এসইও কনটেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরির জন্য কি অর্থ খরচ করে সফটওয়্যার কিনতে হবে?

না। ছোট দল গুগল শিটস বা অন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা ব্যবস্থার মাধ্যমেই কাজ শুরু করতে পারে। ক্যালেন্ডারে বিষয়, কীওয়ার্ড, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রকাশের সময়সীমা ও ফলাফল পর্যালোচনার তারিখ রাখলেই প্রাথমিক পরিকল্পনা পরিচালনা করা সম্ভব। দলের কাজ জটিল হলে পরে অতিরিক্ত সুবিধাসম্পন্ন সফটওয়্যারের প্রয়োজন বিবেচনা করা যেতে পারে।

৫. বেশি নিবন্ধ প্রকাশ করলে কি গুগলে ওয়েবসাইটের অবস্থান দ্রুত উন্নত হয়?

বেশি নিবন্ধ প্রকাশ করলেই অনুসন্ধান ফলাফলে ভালো অবস্থান পাওয়া যায় না। লেখার প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যের মান, পাঠকের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য এবং ওয়েবসাইটের প্রযুক্তিগত অবস্থাও বিবেচ্য। তাই শুধু প্রকাশনার সংখ্যা বাড়ানোর বদলে প্রয়োজনীয় বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট তৈরি ও পুরোনো লেখা উন্নত করার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

সর্বশেষ