ইনকগনিটো মোড কী লুকায়, আর কী লুকায় না

সর্বাধিক আলোচিত

ইনকগনিটো মোড নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির বড় কারণ সম্ভবত এর নামটাই। “ইনকগনিটো” শুনলে মনে হতে পারে, ব্রাউজারে এই মোড চালু করলেই অনলাইনে পরিচয় গোপন হয়ে গেল। বাস্তবে এটি এত বড় কোনো গোপনীয়তা ব্যবস্থা নয়।

এর কাজ অনেক নির্দিষ্ট। আপনি একটি ব্যক্তিগত সেশনে কোন কোন ওয়েবসাইট দেখলেন, সাময়িক কুকি তৈরি হলো কি না, কোনো ফরমে কী লিখলেন—এসবের কিছু অংশ ব্রাউজার পরে স্থানীয় ইতিহাস হিসেবে রেখে না দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

তাই পরিবারের সবাই ব্যবহার করে এমন ল্যাপটপে কোনো উপহার খুঁজছেন, সাময়িকভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকতে চান বা শুধু চান না পরের ব্যবহারকারী ব্রাউজিং ইতিহাস খুলে ওই সেশনের পেজগুলো দেখুক—ইনকগনিটো সেখানে কাজে আসে। কিন্তু ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী, অফিসের নেটওয়ার্ক কিংবা ওয়েবসাইটের কাছ থেকে ব্রাউজিং গোপন করার প্রশ্ন এলে বিষয়টি আর ইনকগনিটোর মধ্যে থাকে না।

ব্রাউজার কী মনে রাখবে, ইনকগনিটো মূলত সেটাই বদলায়

ক্রোমে সব ইনকগনিটো উইন্ডো বন্ধ করলে ওই সেশনে দেখা ওয়েবসাইটের সাধারণ ব্রাউজিং রেকর্ড ও সাইটের তথ্য রাখা হয় না। ফায়ারফক্স প্রাইভেট ব্রাউজিং ও মাইক্রোসফট এজ ইনপ্রাইভেটও একই ধরনের স্থানীয় তথ্য সংরক্ষণ সীমিত করে।

এখানে একটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ—স্থানীয়।

অর্থাৎ তথ্যটি আপনার ব্রাউজার বা যন্ত্রে পরে থেকে যাবে কি না। ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে তথ্য কোথায় যাচ্ছে বা নেটওয়ার্কের অন্য কেউ কী দেখতে পাচ্ছে, সেটি অন্য প্রশ্ন।

আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ে কুকি থাকে না। সেটিও পুরোপুরি ঠিক নয়। ওয়েবসাইট চালানোর জন্য ব্যক্তিগত সেশনের মধ্যেও কুকি ও সাইটের তথ্য তৈরি হতে পারে। সেশন শেষ হওয়ার পর সেগুলো সাধারণ ব্রাউজিং সেশনের মতো থেকে যায় না। ক্রোম ইনকগনিটোতে তৃতীয় পক্ষের কুকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকে। ফায়ারফক্সও ব্যক্তিগত সেশনের কুকি সাধারণ সেশন থেকে আলাদা রাখে।

একই কারণে ব্যক্তিগত উইন্ডো দিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করাও সুবিধাজনক। সাধারণ ব্রাউজার উইন্ডোতে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট খোলা থাকলেও ব্যক্তিগত উইন্ডোতে অন্য অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়, মূল সেশন থেকে বের না হয়েই। এই ব্যবহারগুলো বাস্তব এবং দরকারি। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই অজ্ঞাতপরিচয়ে ব্রাউজিং নয়।

যেগুলো ইনকগনিটো লুকিয়ে দিতে পারে না

যেগুলো ইনকগনিটো লুকিয়ে দিতে পারে না

প্রথমেই আইপি ঠিকানা। ব্যক্তিগত উইন্ডো খুললে আপনার প্রকাশ্য আইপি ঠিকানা বদলে যায় না। আপনি যে ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন, সেটি সেই সংযোগের আইপি দেখতে পারে। আইপি থেকে একেবারে নির্ভুল ঠিকানা পাওয়া যায় না, তবে আনুমানিক অবস্থান বা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কিছু তথ্য বোঝা যেতে পারে।

প্রবেশ করা অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও একই কথা। ইনকগনিটো উইন্ডো থেকে নিজের গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে সেই সেবার কাছে অ্যাকাউন্ট পরিচিতই থাকে। ব্রাউজিং ইতিহাস স্থানীয় যন্ত্রে রাখা হচ্ছে না—এর অর্থ সেবাটির কাছেও কার্যকলাপ অচেনা হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়।

অনুসরণের ক্ষেত্রেও ইনকগনিটোকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া ঠিক হবে না। কুকি অনলাইন অনুসরণের একটি পথ, একমাত্র পথ নয়। আইপি ঠিকানা, অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, ব্রাউজার ও যন্ত্রের নানা সংকেত এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টিংও ব্যবহার করা হতে পারে। কিছু ব্রাউজার ব্যক্তিগত মোডে এসবের বিরুদ্ধে বাড়তি সুরক্ষা দেয়, কিন্তু “প্রাইভেট ব্রাউজিং চালিয়েছি, তাই আর অনুসরণ করা যাবে না”—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সাফারি এই জায়গায় সাধারণ ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের চেয়ে কিছু বাড়তি ব্যবস্থা দেয়। পরিচিত ট্র্যাকার আটকে দেওয়া, ইউআরএলের কিছু অনুসরণকারী উপাদান সরানো এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের বিরুদ্ধে সুরক্ষা তার মধ্যে পড়ে। ফায়ারফক্সেরও উন্নত অনুসরণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে। এগুলো উপকারী। কিন্তু অজ্ঞাতপরিচয় নিশ্চিত করে না।

আইএসপি কী দেখতে পারে, আর ওয়াই-ফাই মালিকই বা কতটা দেখতে পারে?

এখানেই আলোচনা একটু জটিল হয়, কারণ দুই ধরনের অতিরঞ্জিত দাবি প্রায়ই শোনা যায়। একটি হলো, “ইনকগনিটো ব্যবহার করলে আইএসপি কিছুই দেখতে পায় না।” অন্যটি, “ওয়াই-ফাই মালিক আপনার ব্রাউজারে যা করছেন সব দেখতে পারে।”

দুটিই অতিরিক্ত সরল। ইনকগনিটো আইএসপির কাছ থেকে নেটওয়ার্ক ট্রাফিক লুকায় না। কিন্তু এখন অধিকাংশ সাধারণ ওয়েবসাইট এইচটিটিপিএস ব্যবহার করে। এইচটিটিপিএস থাকলে ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের মধ্যে যে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে, সেটি এনক্রিপ্ট করা থাকে।

ফলে সাধারণ অবস্থায় আইএসপি বা ওয়াই-ফাই প্রশাসক আপনার পাসওয়ার্ড, বার্তা, পেজের লেখা বা পুরো ইউআরএল পথ সরাসরি পড়ে ফেলতে পারে না। তারপরও সংযোগ সম্পর্কে কিছু অতিরিক্ত তথ্য দৃশ্যমান থাকতে পারে। অনেক পরিস্থিতিতে কোন ডোমেইন বা সেবার সঙ্গে সংযোগ তৈরি হচ্ছে, সেটি বোঝাও সম্ভব।

ইনকগনিটো এই জায়গায় কিছু যোগ করে না। এ কারণে গোপনীয়তা নিয়ে কথা বলার সময় তিনটি বিষয় গুলিয়ে না ফেলাই ভালো:

  • ইনকগনিটো — ব্রাউজার পরে স্থানীয় সেশনের কতটা তথ্য মনে রাখবে।
  • এইচটিটিপিএস — ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের মধ্যে পাঠানো তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
  • ভিপিএন — নেটওয়ার্ক ট্রাফিক কোন পথে যাবে এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক বা আইএসপি কী দেখতে পারবে।

একটি অন্যটির বিকল্প নয়।

ডিএনএসের বিষয়টাও আলাদা

ওয়েবসাইট খোলার আগে ব্রাউজারকে সাধারণত ডোমেইনের ঠিকানা খুঁজতে ডিএনএস ব্যবহার করতে হয়। সাধারণ ডিএনএস অনুরোধ এনক্রিপ্ট করা না থাকলে নেটওয়ার্কের অন্য পক্ষ সেই অনুসন্ধান দেখতে পারে। ডিএনএস ওভার এইচটিটিপিএস বা ডিএনএস ওভার টিএলএস এ ধরনের অনুরোধ এনক্রিপ্ট করতে পারে।

কিন্তু এখানেও “চালু করলেই কেউ আর বুঝতে পারবে না কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করছি”—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। সংযোগের অন্য তথ্য থেকেও গন্তব্য সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এনক্রিপ্টেড ডিএনএস তাই মূলত ডিএনএস অনুরোধের গোপনীয়তা বাড়ায়। পুরো ব্রাউজিং সেশন অদৃশ্য করে না।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

ইনকগনিটো বন্ধ করেও যে চিহ্ন রেখে যেতে পারেন

এটি ছোট মনে হলেও ভাগাভাগি করা কম্পিউটারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইনকগনিটো উইন্ডো থেকে একটি পিডিএফ নামালেন। উইন্ডো বন্ধ করলেন। ব্রাউজিং ইতিহাসে পেজটি আর নেই। কিন্তু পিডিএফটি ডাউনলোড ফোল্ডারে রয়ে যেতে পারে।

ক্রোমে নামানো ফাইল ও সংরক্ষণ করা বুকমার্ক থেকে যায়। এজের নামানো ফাইল ও ফেভারিটও থাকে। ফায়ারফক্স ব্যক্তিগত সেশন থেকে নামানো ফাইল নিজে থেকে মুছে দেয় না।

তাই কোনো সংবেদনশীল ফাইল নামালে শুধু ব্যক্তিগত উইন্ডো বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। ইনকগনিটো মূলত ব্রাউজারের রেকর্ড সীমিত রাখে; আপনার হয়ে হার্ডডিস্ক গোছায় না।

আরেকটি ভুল: ইনকগনিটো মানেই নিরাপদ ব্রাউজিং

আরেকটি ভুল: ইনকগনিটো মানেই নিরাপদ ব্রাউজিং

ব্যক্তিগত উইন্ডোর চিহ্ন দেখে অনেক ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিতে পারেন ব্রাউজার এখন কোনো বিশেষ নিরাপত্তা মোডে আছে। কিন্তু একটি ফিশিং ওয়েবসাইট ইনকগনিটোতেও ফিশিং ওয়েবসাইট।

কোনো নকল প্রবেশ পেজে পাসওয়ার্ড দিলে ইনকগনিটো সেই পাসওয়ার্ড বাঁচাতে পারবে না। যন্ত্রে স্পাইওয়্যার বা কীলগার থাকলেও ব্যক্তিগত ব্রাউজিং সেটির সমাধান নয়।

ব্রাউজারের ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও ফিশিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা আলাদা। ক্রোমের সেফ ব্রাউজিং তার একটি উদাহরণ। এ কারণেই ব্যক্তিগত ব্রাউজিং আর নিরাপদ ব্রাউজিংকে একই জিনিস ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

ব্রাউজার বদলালে ব্যক্তিগত ব্রাউজিংও কিছুটা বদলায়

ক্রোম, ফায়ারফক্স, এজ ও সাফারিতে ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মূল ধারণা একই হলেও কাজের ধরন এক নয়। ক্রোম ইনকগনিটো মূলত স্থানীয় ব্রাউজিং রেকর্ড ও সেশনের তথ্য আলাদা রাখে এবং তৃতীয় পক্ষের কুকি বন্ধ করে।

ফায়ারফক্স একই স্থানীয় গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচিত ট্র্যাকারের বিরুদ্ধে উন্নত অনুসরণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ব্যবহার করে। এজ ইনপ্রাইভেট সেশন শেষ হলে ইতিহাস, কুকি, ক্যাশ, ফরমের তথ্য এবং ডাউনলোড ইতিহাসের ব্রাউজার রেকর্ড সরায়। নামানো আসল ফাইল কিন্তু থেকে যায়।

সাফারি ইতিহাস ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করা তথ্য না রাখার পাশাপাশি ট্র্যাকার প্রতিরোধ, ইউআরএলভিত্তিক অনুসরণ সুরক্ষা এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের বিরুদ্ধে বাড়তি সুবিধা দেয়। সমর্থিত সংস্করণে ব্যক্তিগত ট্যাব বা উইন্ডো লক করার ব্যবস্থাও আছে।

তাই “সব ব্রাউজারের ব্যক্তিগত মোড একই”—এমন ধরে নিয়ে গোপনীয়তার সেটিং নির্বাচন করা ভালো অভ্যাস নয়।

তাহলে ভিপিএন কোথায় আসে?

ভিপিএনকে ইনকগনিটোর “আরও শক্তিশালী সংস্করণ” বলা সুবিধাজনক হলেও প্রযুক্তিগতভাবে ঠিক নয়।

দুটির কাজ আলাদা।

সাধারণ পূর্ণ-টানেল ভিপিএনে যন্ত্র থেকে ভিপিএন সার্ভার পর্যন্ত ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করা টানেলের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে স্থানীয় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বা আইএসপি সাধারণত দেখতে পারে যে ভিপিএন সংযোগ আছে, কিন্তু টানেলের ভেতরের গন্তব্য ট্রাফিক সরাসরি দেখতে পারে না।

ওয়েবসাইটের কাছে তখন আপনার স্বাভাবিক প্রকাশ্য আইপির বদলে ভিপিএন সার্ভারের আইপি দেখা যায়।

শুনতে বেশ সোজা। বাস্তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়: ভিপিএন সেবাদাতাকে কতটা বিশ্বাস করছেন?

কারণ আইএসপির জায়গা থেকে ট্রাফিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তখন ভিপিএন সেবাদাতার হাতে চলে যায়। গোপনীয়তা নীতি কী, লগ রাখে কি না, সেবাটির সুনাম কেমন—এসব না দেখে শুধু “বিনামূল্যের ভিপিএন” বা “আইপি লুকান” দেখে সেবা বেছে নেওয়া ভালো গোপনীয়তা কৌশল নয়।

ভিপিএন ব্যবহার করলেও অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, কুকি, জিপিএস তথ্য বা ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং হারিয়ে যায় না। নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকলে ওয়েবসাইট আপনাকে অ্যাকাউন্ট দিয়েই চিনতে পারে। আর স্প্লিট টানেলিং চালু থাকলে সব ট্রাফিক ভিপিএনের মধ্য দিয়েও নাও যেতে পারে।

পাবলিক ওয়াই-ফাই মানেই ভিপিএন—এ কথাটাও এখন একটু পুরোনো

একসময় বিমানবন্দর, ক্যাফে বা হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিপিএন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতো। এইচটিটিপিএস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার পর সেই পরামর্শকে এখন কিছুটা নির্দিষ্ট করে দেখা দরকার।

সাধারণ ওয়েব ব্রাউজিংয়ের বড় অংশ ইতিমধ্যে এইচটিটিপিএসে এনক্রিপ্ট করা। ফলে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করছেন বলেই সঙ্গে সঙ্গে অজানা একটি ভিপিএন ইনস্টল করা সব সময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

তবে স্থানীয় নেটওয়ার্ককে বিশ্বাস না করলে, গন্তব্য ট্রাফিক তাদের কাছ থেকে আরও আড়াল করতে চাইলে বা নির্দিষ্ট গোপনীয়তার প্রয়োজন থাকলে একটি বিশ্বস্ত ভিপিএন কাজে আসতে পারে। এখানে “ভিপিএন দরকার কি না” প্রশ্নের চেয়ে “কাকে বিশ্বাস করতে চাই?” প্রশ্নটি অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইনকগনিটো আর ভিপিএন দুটোই কি একসঙ্গে দরকার?

কখনো দরকার হতে পারে, বেশির ভাগ সময় প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। ভাগাভাগি করা ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন এবং স্থানীয় ইতিহাস রাখতে চান না—ইনকগনিটো যথেষ্ট হতে পারে।

একই সঙ্গে স্থানীয় নেটওয়ার্ক বা আইএসপির কাছ থেকে গন্তব্য ট্রাফিক আরও আড়াল করতে চান—তখন ভিপিএনের আলাদা ভূমিকা আছে।

কিন্তু দুটো একসঙ্গে চালালেই গোপনীয়তার সব সমস্যা শেষ হয়ে যায় না। প্রবেশ করা অ্যাকাউন্ট, কুকি, নামানো ফাইল, অনুসরণ, ফিঙ্গারপ্রিন্টিং এবং যন্ত্রের নিরাপত্তা তখনও আলাদা বিষয় হিসেবেই থাকে।

কোন সমস্যায় কী করবেন

গোপনীয়তার কোনো ব্যবস্থা বাছার আগে সবচেয়ে কাজে দেয় একটি সাধারণ প্রশ্ন:

আমি আসলে কার কাছ থেকে কোন তথ্য লুকাতে চাই?

পরিবারের অন্য কেউ কম্পিউটার ব্যবহার করবে এবং ব্রাউজিং ইতিহাস রাখতে চান না? ইনকগনিটো বা ব্যক্তিগত ব্রাউজিং যথেষ্ট হতে পারে। তৃতীয় পক্ষের অনুসরণ কমাতে চান? ব্রাউজারের অনুসরণ প্রতিরোধ ও কুকি সেটিং দেখুন।

ডিএনএস অনুসন্ধান এনক্রিপ্ট করতে চান? ডিএনএস ওভার এইচটিটিপিএস বা ডিএনএস ওভার টিএলএস প্রাসঙ্গিক। আইএসপি বা স্থানীয় নেটওয়ার্ক থেকে গন্তব্য ট্রাফিক আরও আড়াল করা দরকার? তখন বিশ্বস্ত ভিপিএন বিবেচনা করা যায়।

ফিশিং বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার নিয়ে উদ্বেগ? ইনকগনিটো নয়; ব্রাউজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং সতর্ক ব্রাউজিং সেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ব্যক্তিগত সেশনে কোনো সংবেদনশীল ফাইল নামালে উইন্ডো বন্ধ করার পর ডাউনলোড ফোল্ডারটাও দেখে নিন।

ইনকগনিটোকে যতটুকু কাজের, ততটুকুই ভাবুন

ইনকগনিটো মোড খারাপ গোপনীয়তা সুবিধা নয়। সমস্যা হয় যখন আমরা এর কাজের সীমার চেয়ে অনেক বেশি কিছু আশা করি। এটি ভাগাভাগি করা কম্পিউটারে ব্রাউজিং ইতিহাস না রাখা, আলাদা সাময়িক সেশন তৈরি করা বা সাময়িকভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য বেশ কার্যকর। এতটুকু কাজই অনেক ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট মূল্যবান।

কিন্তু আইএসপি, প্রকাশ্য আইপি ঠিকানা, কর্মস্থলের নেটওয়ার্ক বা বিস্তৃত অনলাইন অনুসরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে ইনকগনিটো সেই সমস্যাগুলোর সরাসরি সমাধান নয়।

ইনকগনিটো মোডের গোপনীয়তার সীমা বোঝার সহজ উপায় হলো: এটি আপনার ব্রাউজার কী মনে রাখবে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করে। ইন্টারনেটের অন্য পক্ষ আপনাকে কীভাবে দেখতে পাবে, সেটি নয়।

এই সীমাটা পরিষ্কার থাকলে অকারণে ভিপিএন কেনা, অজানা গোপনীয়তা অ্যাপ ইনস্টল করা কিংবা ইনকগনিটোকে নিরাপত্তার ঢাল ধরে নেওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করলে কি ব্রাউজিং ইতিহাস পুরোপুরি মুছে যায়?

না। ইনকগনিটো সেশন শেষ হলে ওই সেশনের সাধারণ ব্রাউজিং ইতিহাস ব্রাউজারে রাখা হয় না। তবে নামানো ফাইল, সংরক্ষিত বুকমার্ক বা নেটওয়ার্ক পর্যায়ের কিছু তথ্য থেকে যেতে পারে।

ইনকগনিটো মোডে গুগল সার্চ করলে কি গুগল আমাকে শনাক্ত করতে পারে?

সম্ভব। বিশেষ করে আপনি যদি গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা অবস্থায় কোনো সেবা ব্যবহার করেন, তাহলে সেই কার্যকলাপ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ইনকগনিটো মোড গুগল বা অন্য ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ নিজে থেকে বন্ধ করে না।

ইনকগনিটো মোড কি আমার অবস্থান লুকাতে পারে?

না। এটি আপনার প্রকাশ্য আইপি ঠিকানা পরিবর্তন করে না। ফলে কোনো ওয়েবসাইট আইপি ঠিকানা থেকে আনুমানিক অবস্থান বা নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানতে পারে।

ইনকগনিটো মোডে নামানো ফাইল কি উইন্ডো বন্ধ করলে মুছে যায়?

না। ক্রোম, ফায়ারফক্স ও এজে ব্যক্তিগত সেশন থেকে নামানো মূল ফাইল সাধারণত যন্ত্রে থেকেই যায়। প্রয়োজন হলে সেটি আলাদাভাবে মুছতে হবে।

ইনকগনিটো ও ভিপিএন কি একই কাজ করে?

না। ইনকগনিটো মূলত ব্রাউজারে স্থানীয় ইতিহাস ও সাময়িক সেশনের তথ্য সংরক্ষণ সীমিত করে। ভিপিএন নেটওয়ার্ক ট্রাফিকের পথ বদলায় এবং সাধারণ ব্যবহারে ওয়েবসাইটের কাছে আপনার স্বাভাবিক প্রকাশ্য আইপির বদলে ভিপিএন সার্ভারের আইপি দেখাতে পারে।

সর্বশেষ