পুরোনো ফোন বিক্রি করার সময় অনেকেই প্রথমে গ্যালারি খুলে ছবি মুছতে শুরু করেন। কেউ আবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ আনইনস্টল করে ফ্যাক্টরি রিসেট দিয়ে দেন। কিন্তু ফোন অন্যের হাতে দেওয়ার আগে কাজটি একটু অন্যভাবে করা ভালো।
সঠিকভাবে ফোনের ডেটা মুছে ফেলতে হলে প্রথম কাজ ডেটা মুছে ফেলা নয়। আগে নিশ্চিত করতে হবে, যেসব ছবি, পরিচিতির তথ্য, নথি, বার্তা বা অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুবিধা পরে দরকার হবে, সেগুলোর নিরাপদ কপি আছে। তারপর গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্ট, সিম বা ইসিম এবং ডিভাইসের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক করে রিসেট করতে হবে।
এখানে তাড়াহুড়ো করলে সমস্যাটা দুই দিকেই হতে পারে। নিজের প্রয়োজনীয় ডেটা হারাতে পারেন, আবার নতুন মালিকও ফোন চালু করার সময় পুরোনো অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের ধাপে আটকে যেতে পারেন।
রিসেট করার আগে নিজের ডেটা বাঁচান
ফ্যাক্টরি রিসেটের পর ফোনের নিজস্ব সংরক্ষণস্থলে থাকা অ্যাপ, সেটিংস এবং ব্যক্তিগত ডেটা মুছে যায়। তাই অন্য কোথাও কপি নেই—এমন তথ্য থাকলে রিসেটের আগেই সেটি সংরক্ষণ করতে হবে।
অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ব্যাকআপের মাধ্যমে কলের ইতিহাস, পরিচিতির তথ্য, ডিভাইসের সেটিংস, এসএমএস বা এমএমএস এবং কিছু অ্যাপের ডেটা সংরক্ষিত থাকতে পারে। গুগল ফটোস ব্যবহার করলে ছবি ও ভিডিও আলাদাভাবে ব্যাকআপ হয়। তবে সব অ্যাপ একইভাবে ব্যাকআপ নেয় না, আবার সব অ্যাপের ডেটা পুনরুদ্ধারও হয় না।
অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত ব্যাকআপের অপশন পাওয়া যায় এখানে:
সেটিংস > গুগল > অল সার্ভিসেস > ব্যাকআপ
সেখানে ব্যাকআপ ডিটেইলস খুলে কোন ধরনের ডেটা সংরক্ষিত হয়েছে দেখা যায়। প্রয়োজন হলে ব্যাক আপ নাউ ব্যবহার করুন। ব্যাকআপ সম্পূর্ণ হতে কিছু ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ও ফোনের নির্মাতাভেদে মেনুর নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্যও একই মূলনীতি প্রযোজ্য। আইক্লাউডে ব্যাকআপ নেওয়া যায়। নতুন আইফোন থাকলে কুইক স্টার্ট ব্যবহার করে সরাসরি ডেটা স্থানান্তর করা যায়, আবার ম্যাক বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারেও ব্যাকআপ রাখা সম্ভব।
ব্যাকআপ চালু আছে দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি খুলে দেখুন, পরিচিতির তথ্য ঠিক অ্যাকাউন্টে এসেছে কি না মিলিয়ে নিন, ডাউনলোড করা নথি বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অন্য কোথাও রাখা হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপের নিজস্ব ব্যাকআপ থাকলে সেটিও আলাদাভাবে দেখে নেওয়া দরকার।
প্রমাণীকরণকারী অ্যাপ বা পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা অ্যাপ থাকলে এই ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো ফোন মুছে ফেলার পর যেন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে গিয়ে আটকে যেতে না হয়।
ক্লাউডে রাখা ছবি একে একে মুছবেন না
ফোন বিক্রির আগে গ্যালারি পরিষ্কার করতে গিয়ে উল্টো ক্লাউডে থাকা ডেটাও মুছে ফেলতে পারেন। আইফোনে আইক্লাউডের সঙ্গে সমন্বিত ছবি, পরিচিতির তথ্য, ক্যালেন্ডার বা নথি ফোন থেকে মুছে দিলে সেগুলো একই অ্যাপল অ্যাকাউন্টের অন্য ডিভাইস এবং আইক্লাউড থেকেও সরে যেতে পারে।
তাই ব্যক্তিগত ফাইল একে একে মুছে ফেলার বদলে আগে ব্যাকআপ বা স্থানান্তর শেষ করুন। এরপর ইরেজ অল কনটেন্ট অ্যান্ড সেটিংস ব্যবহার করুন। এতে আইফোনের ভেতরের তথ্য মুছে যায়, কিন্তু শুধু এই প্রক্রিয়ার কারণে আইক্লাউডে রাখা ডেটা মুছে যায় না।
অ্যান্ড্রয়েডেও একই ধরনের সতর্কতা কাজে লাগে। গুগল ফটোস বা অন্য ক্লাউড সেবার সমন্বয় কীভাবে সেট করা আছে নিশ্চিত না হলে ছবি বা ফাইল ধরে ধরে মুছে না ফেলাই ভালো। ফোনের ডেটা মুছে ফেলার লক্ষ্য হওয়া উচিত ডিভাইসটি পরিষ্কার করা, ক্লাউডের সংগ্রহ পরিষ্কার করা নয়।
অ্যান্ড্রয়েডে গুগল অ্যাকাউন্ট সরানোর সময় সাবধান

অ্যান্ড্রয়েডের ফ্যাক্টরি রিসেট প্রোটেকশন বা এফআরপি অনেক ব্যবহারকারীর কাছে পরিচিত নয়, যতক্ষণ না ফোন রিসেট করার পর পুরোনো গুগল অ্যাকাউন্ট চাওয়া শুরু করে।
এফআরপির কাজ হলো অনুমতি ছাড়া রিসেট করা ফোন যেন অন্য কেউ সহজে ব্যবহার করতে না পারে। গুগল অ্যাকাউন্ট এবং পর্দার লক থাকা সুরক্ষিত অ্যান্ড্রয়েড ফোন রিসেট হলে মালিকানা যাচাই চাইতে পারে। বিশেষ করে রিকভারি মোড বা হার্ডওয়্যার বোতাম ব্যবহার করে রিসেট করলে আগে ব্যবহার করা গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা পর্দার লকের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
ফোন বিক্রি করার আগে গুগল অ্যাকাউন্ট সরানো তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই কাজটি ব্যাকআপ শেষ করার পর করুন। গুগল পিক্সেলের বর্তমান নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গুগল অ্যাকাউন্ট সরালে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস ব্যাকআপ মুছে যেতে পারে। ফলে ক্লাউড ব্যাকআপই যদি আপনার একমাত্র ভরসা হয়, আগে নতুন ফোনে ডেটা ফিরিয়ে নিন বা অন্য কোথাও কপি রাখুন।
অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাকাউন্টের সেটিংসের নাম সব ফোনে এক নয়। কোথাও পাসওয়ার্ডস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, কোথাও ইউজার্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, আবার স্যামসাংয়ে ম্যানেজ অ্যাকাউন্টস দেখা যায়।
স্যামসাং গ্যালাক্সির অনেক সফটওয়্যার সংস্করণে পথটি এমন:
সেটিংস > অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ব্যাকআপ > ম্যানেজ অ্যাকাউন্টস > গুগল অ্যাকাউন্ট > রিমুভ অ্যাকাউন্ট
অ্যাকাউন্ট সরানো মানে গুগল অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা নয়। শুধু ওই ফোন থেকে অ্যাকাউন্টটির সংযোগ সরানো হয়। স্যামসাং অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো নির্মাতার অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটিও দেখে নিন। অনেকেই গুগল অ্যাকাউন্ট সরিয়েই কাজ শেষ মনে করেন, কিন্তু ফোনে অন্য কোনো সংযুক্ত অ্যাকাউন্ট রয়ে গেছে কি না সেটিও দেখা দরকার।
অ্যান্ড্রয়েডে ফ্যাক্টরি রিসেট কোথা থেকে করবেন
বিক্রির জন্য ফোন প্রস্তুত করতে পারলে সেটিংস থেকেই রিসেট করা ভালো।
গুগল পিক্সেলে সাধারণত:
সেটিংস > সিস্টেম > রিসেট অপশনস > ইরেজ অল ডেটা বা ফ্যাক্টরি রিসেট
স্যামসাং গ্যালাক্সিতে:
সেটিংস > জেনারেল ম্যানেজমেন্ট > রিসেট > ফ্যাক্টরি ডেটা রিসেট
এরপর ফোন পিন, পাসওয়ার্ড বা নকশাভিত্তিক লক চাইতে পারে। রিকভারি মোড ব্যবহার করলেই এফআরপি এড়িয়ে যাওয়া যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং সুরক্ষিত ডিভাইসে রিকভারি মোড দিয়ে রিসেট করার পর মালিকানা যাচাই দেখা দিতে পারে। ফোন স্বাভাবিকভাবে খোলা গেলে সেটিংসের রিসেট অপশনই সহজ পথ।
আইফোনে রিসেট অল সেটিংস ব্যবহার করবেন না
আইফোনের রিসেট অল সেটিংস এবং ইরেজ অল কনটেন্ট অ্যান্ড সেটিংস এক কাজ করে না। রিসেট অল সেটিংস বিভিন্ন সিস্টেম সেটিংস আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু ছবি, বার্তা, অ্যাপ বা নথি মুছে দেয় না।
ফোন বিক্রি বা অন্য কাউকে দেওয়ার আগে প্রয়োজন হবে:
সেটিংস > জেনারেল > ট্রান্সফার অর রিসেট আইফোন > ইরেজ অল কনটেন্ট অ্যান্ড সেটিংস
মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করার সময় ডিভাইসের পাসকোড এবং অ্যাপল অ্যাকাউন্টের তথ্য চাইতে পারে। অ্যাপল ওয়াচ যুক্ত থাকলে সেটি আগে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া উচিত। ব্যাকআপ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট থেকে বের হওয়ার বিষয়টিও এই সময় শেষ করতে হবে।
ইরেজ অল কনটেন্ট অ্যান্ড সেটিংস সম্পন্ন হলে ফাইন্ড মাই এবং অ্যাক্টিভেশন লক বন্ধ হয় এবং আইফোন নতুন মালিকের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়। অ্যাপলের নিরাপত্তা নথি অনুযায়ী মুছে ফেলার প্রক্রিয়ার সময় সংশ্লিষ্ট এনক্রিপশন চাবি মুছে দেওয়া হয়। এর ফলে এনক্রিপ্ট করা ফাইলে আর ব্যবহারযোগ্যভাবে প্রবেশ করা যায় না।
সিম বের করলেন, ইসিমের কী হবে?
ফিজিক্যাল সিম ভুলে ফোনের সঙ্গে দিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বোঝা সহজ। তাই হস্তান্তরের আগে সিম ট্রে একবার দেখে নেওয়াই যথেষ্ট।
ইসিম একটু আলাদা।
আইফোনে ইরেজ অল কনটেন্ট অ্যান্ড সেটিংস চালানোর সময় ইসিম রাখবেন নাকি মুছবেন, সেই অপশন দেখা যেতে পারে। ফোনটি অন্য ব্যক্তির কাছে চলে গেলে ইসিমের প্রোফাইলও মুছে দেওয়া উচিত।
তবে ইসিম মুছে ফেলা আর মোবাইল সংযোগের পরিকল্পনা বাতিল করা এক বিষয় নয়। পরিকল্পনা বাতিল করতে অপারেটরের সঙ্গে আলাদা যোগাযোগ করতে হতে পারে। আবার একই নম্বর নতুন ফোনে নিতে চাইলে আগে স্থানান্তরের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।
মাইক্রোএসডি কার্ড থাকলে সেটিও ভুলবেন না। স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে ফ্যাক্টরি ডেটা রিসেট এসডি কার্ডের ডেটা মুছে দেয় না।
মেমোরি কার্ড নিজের কাছে রেখে দিলে ঝামেলা সবচেয়ে কম। কার্ডটিও বিক্রি করতে চাইলে প্রয়োজনীয় ফাইল আগে সরিয়ে নিয়ে কার্ড বা ডিভাইসের নির্ধারিত মুছে ফেলা বা ফরম্যাট করার পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
ব্যাংকিং অ্যাপ মুছে ফেললেই সব প্রবেশাধিকার শেষ হয় না

এখানে আরেকটি সাধারণ ভুল ধারণা আছে। ফ্যাক্টরি রিসেট ফোনে থাকা অ্যাপ ও স্থানীয় ডেটা সরিয়ে দেয়। কিন্তু কোনো অনলাইন সেবা তাদের সার্ভারে আপনার পুরোনো ফোনকে বিশ্বস্ত ডিভাইস বা সক্রিয় সেশন হিসেবে ধরে রাখলে সেটি আলাদা বিষয়।
তাই ফোন বিক্রির আগে বিশেষ করে এগুলো দেখে নেওয়া ভালো:
- মোবাইল ব্যাংকিং ও অর্থপ্রদানের অ্যাপ
- ই-মেইল
- পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা অ্যাপ
- প্রমাণীকরণকারী অ্যাপ
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
- প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রের অ্যাকাউন্ট
যে সেবায় সিকিউরিটি, ডিভাইসেস বা সেশনস বিভাগ আছে, সেখানে পুরোনো ফোনটির তথ্য রয়ে গেছে কি না দেখা যায়। ব্যাংকিং অ্যাপের ক্ষেত্রে সবার নিয়ম এক নয়। কোনো ব্যাংক ডিভাইস নিবন্ধন ব্যবহার করতে পারে, অন্যটি ভিন্ন পরিচয় যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
অফিসের ফোন হলে নিজে থেকে রিসেট করবেন না
প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত ফোনকে ব্যক্তিগত ফোনের মতো ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
এ ধরনের ডিভাইসে কর্মক্ষেত্রের প্রোফাইল, প্রশাসনিক নীতি বা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকতে পারে। ব্যাকআপ বা তথ্য ফিরিয়ে আনার নিয়মও আলাদা হতে পারে।
ফোনটি অফিসের হলে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশাসকের অনুমতি বা নির্দেশনা ছাড়া রিসেট করা উচিত নয়।
রিসেট শেষ হওয়ার পর ফোনটি একবার চালু করুন
ফ্যাক্টরি রিসেট হয়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ফোন বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। একবার চালু করে প্রাথমিক সেটআপের পর্দা পর্যন্ত আসতে দিন।
পুরোনো মূল পর্দা বা ব্যক্তিগত অ্যাপ যেন ফিরে না আসে। সিম বা মেমোরি কার্ড ভেতরে আছে কি না আরেকবার দেখুন। এরপর ফোনটি নতুন ব্যবহারকারীর সেটআপ শুরু করার অবস্থায় আছে কি না নিশ্চিত করুন।
অ্যান্ড্রয়েডের সেটআপের সময় যদি পুরোনো গুগল অ্যাকাউন্ট বা পর্দার লক চাওয়া হয়, তাহলে ডিভাইসের নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়নি। নিজের তথ্য দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করে নির্মাতার বিক্রি বা হস্তান্তরসংক্রান্ত নির্দেশনা আবার অনুসরণ করতে হবে।
নিজের অ্যাকাউন্ট দিয়ে আবার পুরো ফোন সেটআপ করার দরকার নেই।
আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন
ফোন ইতিমধ্যে অন্যের কাছে চলে গেলে
সব কাজ ফোন হাতে থাকা অবস্থায় শেষ করাই সহজ। তারপরও ভুল করে ফোন দিয়ে দিলে কিছু ক্ষেত্রে দূর থেকে ডেটা মুছে দেওয়া যায়।
অ্যান্ড্রয়েডে ফাইন্ড হাব ব্যবহার করে উপযুক্ত ডিভাইস দূর থেকে ফ্যাক্টরি রিসেট করা সম্ভব। তবে ফোনে চার্জ থাকতে হবে, মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত থাকতে হবে, গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা থাকতে হবে, ফাইন্ড হাব চালু থাকতে হবে এবং ডিভাইসটি গুগল প্লেতে দৃশ্যমান থাকতে হবে।
দূর থেকে ডেটা মুছে দেওয়ার পর ফাইন্ড হাবে ফোনের অবস্থান আর দেখা যাবে না। মাইক্রোএসডি কার্ডের ডেটাও এভাবে মুছে নাও যেতে পারে।
অ্যাপল ডিভাইসে ফাইন্ড মাই আগে চালু থাকলে দূর থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ পাঠানো যায়। ডিভাইস অফলাইনে থাকলে পরেরবার ওয়াই-ফাই বা মোবাইল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইতিমধ্যে বিক্রি বা অন্যকে দিয়ে দেওয়া আইফোনের অ্যাক্টিভেশন লক সরাতে মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রিমুভ দিস ডিভাইস অপশন ব্যবহার করতে হয়।
সাধারণ যে ভুলগুলো পরে ঝামেলা তৈরি করে
ফোনের ডেটা মুছে ফেলার সময় কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চললেই বেশির ভাগ সমস্যা কমে যায়। শুধু গ্যালারি পরিষ্কার করবেন না। শুধু অ্যাপ আনইনস্টল করেও ফোন দেবেন না। আইফোনের রিসেট অল সেটিংসকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলার ব্যবস্থা মনে করবেন না।
ব্যাকআপ না দেখে ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়া আরও বড় ভুল। অ্যান্ড্রয়েডে এফআরপি না বুঝে রিকভারি মোড ব্যবহার করলেও নতুন মালিক আটকে যেতে পারেন।
আর সিম, ইসিম ও মাইক্রোএসডি কার্ড ছোট বিষয় মনে হলেও হস্তান্তরের সময় এগুলোই সবচেয়ে সহজে চোখ এড়িয়ে যায়।
ফোনের ডেটা মুছবেন, কিন্তু আগে এই দুই বিষয় নিশ্চিত করুন
ফোন বিক্রির আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফ্যাক্টরি রিসেট নয়। রিসেটের আগে যাচাই করাটাই আসল। প্রয়োজনীয় ডেটা নতুন ফোন বা অন্য কোথাও আছে কি না আগে দেখুন। তারপর গুগল, অ্যাপল বা নির্মাতার অ্যাকাউন্ট এবং ডিভাইসের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক করুন। সিম, ইসিম ও মেমোরি কার্ড দেখে সবশেষে ফোনের নিজস্ব মুছে ফেলার অপশন ব্যবহার করুন।
অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাং—তিন প্রতিষ্ঠানই তাদের নিজস্ব রিসেট বা মুছে ফেলার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই শুধু ফোন বিক্রি করার জন্য আলাদা তৃতীয় পক্ষের ডেটা মুছে ফেলার অ্যাপ কিনতেই হবে, এমন কোনো প্রয়োজন নেই।
সঠিকভাবে ফোনের ডেটা মুছে ফেলা তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন পুরোনো ফোনে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য আর নেই, আবার প্রয়োজনীয় তথ্যও হারায়নি। একই সঙ্গে নতুন মালিক যেন আপনার অ্যাকাউন্ট বা নিরাপত্তা লকের কারণে ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে আটকে না যান।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করলে কি সব ব্যক্তিগত ডেটা মুছে যায়?
ফ্যাক্টরি রিসেট করলে সাধারণত ফোনের নিজস্ব সংরক্ষণস্থলে থাকা ব্যক্তিগত ডেটা, অ্যাপ ও সেটিংস মুছে যায়। তবে মাইক্রোএসডি কার্ডের মতো আলাদা সংরক্ষণমাধ্যমের ডেটা সব ফোনে মুছে যায় না। তাই রিসেটের আগে সিম ও মেমোরি কার্ড আলাদাভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
ফোন বিক্রির আগে গুগল অ্যাকাউন্ট সরানো কি জরুরি?
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটি গুরুত্বপূর্ণ। গুগল অ্যাকাউন্ট ও ডিভাইস সুরক্ষা সক্রিয় থাকা অবস্থায় কিছু ধরনের রিসেটের পর ফ্যাক্টরি রিসেট প্রোটেকশন মালিকানা যাচাই চাইতে পারে। তবে অ্যাকাউন্ট সরানোর আগে প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ বা ডেটা স্থানান্তর শেষ করে নিন।
আইফোনে রিসেট অল সেটিংস দিলেই কি ফোন বিক্রির জন্য প্রস্তুত হবে?
না। রিসেট অল সেটিংস মূলত বিভিন্ন সেটিংস আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়; ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা, অ্যাপ ও নথি মুছে দেয় না। ফোন বিক্রি বা অন্যকে দেওয়ার আগে ইরেজ অল কনটেন্ট অ্যান্ড সেটিংস ব্যবহার করতে হবে।
ইসিম মুছে ফেললে কি মোবাইল নম্বর বা সংযোগও বাতিল হয়ে যায়?
অবশ্যই নয়। ফোন থেকে ইসিম প্রোফাইল মুছে ফেলা এবং মোবাইল অপারেটরের সংযোগ বাতিল করা আলাদা বিষয়। একই নম্বর নতুন ফোনে নিতে চাইলে ইসিম মুছে ফেলার আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের স্থানান্তর প্রক্রিয়া দেখে নেওয়া উচিত।
ফোন ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিলে ব্যক্তিগত ডেটা কি দূর থেকে মুছতে পারি?
কিছু ক্ষেত্রে পারেন। অ্যান্ড্রয়েডে ফাইন্ড হাব এবং অ্যাপল ডিভাইসে ফাইন্ড মাই আগে চালু থাকলে দূর থেকে ডিভাইস মুছে ফেলার সুযোগ থাকতে পারে। তবে ফোন অনলাইনে থাকা এবং সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা ফিচার আগে থেকে সক্রিয় থাকার মতো শর্ত প্রযোজ্য।

