কুকি মুছে দিয়েছেন। তৃতীয় পক্ষের কুকিও সীমিত। মনে হতে পারে, এখানেই ট্র্যাকিংয়ের বড় অংশ শেষ। বাস্তবে ব্যাপারটি একটু আলাদা। কোনো ওয়েবসাইট আপনার ব্রাউজারে নতুন ট্র্যাকিং কুকি না রেখেও কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে পরের ভিজিটে সেটিকে চিনতে চেষ্টা করতে পারে। এই পদ্ধতিই ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং।
এখানে একটি ভুল শুরুতেই পরিষ্কার করা দরকার: ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোনো গোপন ফাইল নয়, যেটি সেটিংস থেকে মুছে দেওয়া যায়। এটি তৈরি হয় ব্রাউজার ও ডিভাইস কী কী তথ্য প্রকাশ করছে, তার সমন্বয় থেকে।
কুকি বন্ধ রাখা তাই অর্থহীন নয়। বরং দরকারি। কিন্তু সেটিই পুরো গোপনীয়তা রক্ষার কৌশল নয়।
ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে
একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সময় ব্রাউজার নিজের সম্পর্কে কিছু তথ্য দিতেই হয়। কোন ব্রাউজার চলছে, কোন অপারেটিং সিস্টেম, স্ক্রিনের মাপ, ভাষা, কিছু গ্রাফিকস সক্ষমতা—এসবের অন্তত একটি অংশ ওয়েবসাইট স্বাভাবিকভাবেই জানতে পারে। একটি তথ্য দিয়ে সাধারণত কিছু বোঝা যায় না। সমস্যা তৈরি হয় যখন কয়েকটি তথ্য পাশাপাশি বসে।
ধরা যাক, একই ব্রাউজার সংস্করণ অনেকেই ব্যবহার করছেন। কিন্তু তার সঙ্গে যদি একটি কম দেখা স্ক্রিনের মাপ, নির্দিষ্ট ভাষা সেটিং, কয়েকটি বিশেষ ফন্ট এবং আলাদা গ্রাফিকস রেন্ডারার মিলে যায়, তাহলে ব্রাউজারটি আর এত সাধারণ থাকে না।
এই মিলটিই ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের ভিত্তি।
সম্ভাব্য সংকেতের মধ্যে থাকতে পারে:
- ব্রাউজার ও তার সংস্করণ
- অপারেটিং সিস্টেম
- স্ক্রিনের মাপ ও রেজোলিউশন
- ভাষা ও লোকেল
- সময় অঞ্চল
- স্পর্শ-সক্ষমতা
- প্রসেসর সম্পর্কিত কিছু তথ্য
- ব্রাউজারের কাছে দৃশ্যমান ফন্ট
- ক্যানভাস রেন্ডারিং
- ওয়েবজিএল ও গ্রাফিকস-সংক্রান্ত তথ্য
- অডিও প্রক্রিয়াকরণের কিছু বৈশিষ্ট্য
- এইচটিটিপি হেডার
- ব্রাউজারের বিভিন্ন সুবিধা ও গোপনীয়তা সেটিং
ডব্লিউ৩সি ফিঙ্গারপ্রিন্টিংকে বেশ বিস্তৃতভাবে দেখে। সেই শ্রেণিবিন্যাসে আইপি ঠিকানা, এইচটিটিপি হেডার, এমনকি কুকিও কিছু ক্ষেত্রে প্যাসিভ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং সংকেতের অংশ হতে পারে। তাই “কুকি ট্র্যাকিং এক জিনিস, ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একেবারে অন্য জিনিস”—এভাবে দেয়াল তুলে বোঝালে বিষয়টি অতিরিক্ত সরল হয়ে যায়।
ট্র্যাকিংয়ের জায়গাটা কোথায়

ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং নিয়ে আলোচনা অনেক সময় এমনভাবে লেখা হয় যেন ওয়েবসাইট কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একজন মানুষকে নিশ্চিতভাবে চিনে ফেলছে। বাস্তবে বিষয়টি এত নির্ভুল নয়।
ট্র্যাকার প্রথম ভিজিটে কিছু সংকেত সংগ্রহ করতে পারে। পরে কাছাকাছি সংকেত এলে আগের প্রোফাইলের সঙ্গে মিল খোঁজে। কখনো হ্যাশ বা শনাক্তকারী তৈরি হতে পারে, কখনো মিল নির্ণয়ের অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
এখানে নিশ্চিত পরিচয়ের চেয়ে সম্ভাব্য সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট বদলাতে পারে। ব্রাউজার হালনাগাদ হলে কিছু মান পাল্টায়। ডিসপ্লে বদলালে আরেক অংশ বদলায়। নতুন ফন্ট যোগ হলেও পার্থক্য আসতে পারে। গোপনীয়তা সুরক্ষার ব্যবস্থাও কিছু সংকেত পরিবর্তন করতে পারে।
তারপরও অনেক বৈশিষ্ট্য একই থেকে গেলে ট্র্যাকার আগের ভিজিটের সঙ্গে নতুন কার্যকলাপের সম্পর্ক অনুমান করতে পারে। এই জায়গাতেই কুকি মুছে দেওয়ার সীমাবদ্ধতা। কুকিভিত্তিক শনাক্তকারী মুছে ফেললে সেই সংরক্ষিত মান আর থাকে না। কিন্তু ব্রাউজারের বৈশিষ্ট্য আবার নতুন করে দেখা যায়। তাই কুকি পরিষ্কার করেও আগের সেশনের সঙ্গে মিল পাওয়া অসম্ভব হয়ে যায় না।
প্যাসিভ আর অ্যাকটিভ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের পার্থক্যটা জানা দরকার
সব ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট লাগে না। ওয়েব অনুরোধ থেকেই কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এইচটিটিপি হেডার, ইউজার-এজেন্ট, আইপি ঠিকানা বা নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত কিছু সংকেত এর মধ্যে পড়ে। ডিভাইসে বাড়তি কোড না চালিয়ে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করাকে সাধারণত প্যাসিভ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বলা হয়।
অ্যাকটিভ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং আরেক ধাপ এগোয়। জাভাস্ক্রিপ্ট, সিএসএস বা বিভিন্ন ওয়েব এপিআই ব্যবহার করে উইন্ডোর মাপ, ফন্টের প্রাপ্যতা, গ্রাফিকস রেন্ডারিং বা ডিভাইসের সক্ষমতার মতো তথ্য পরীক্ষা করা হয়।
এই পার্থক্যটি পরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ “জাভাস্ক্রিপ্ট বন্ধ করলেই ফিঙ্গারপ্রিন্টিং শেষ”—এ কথাটি ঠিক নয়।
একাধিক ওয়েবসাইটে ট্র্যাকিং সম্ভব, তবে শর্ত আছে
একটি ওয়েবসাইটে দেখা ফিঙ্গারপ্রিন্ট আরেকটি ওয়েবসাইটের সঙ্গে মিলতে পারে—কিন্তু তার জন্য একই ট্র্যাকিং পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। অর্থাৎ একটি অচেনা ওয়েবসাইট আপনার পুরো ব্রাউজিং ইতিহাস জেনে ফেলবে, বিষয়টি এমন নয়।
কিন্তু একই তৃতীয় পক্ষ যদি একাধিক ওয়েবসাইটে উপস্থিত থাকে, তাহলে কাছাকাছি ফিঙ্গারপ্রিন্ট তুলনা করে কার্যকলাপের মধ্যে সম্পর্ক খোঁজা সম্ভব।
আরও বড় গোপনীয়তার সমস্যা হয় যখন এই প্রোফাইল পরে লগইন, ই-মেইল ঠিকানা বা অন্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। তখন আগে নামহীন বা ছদ্মনামভিত্তিক কার্যকলাপের সঙ্গে বাস্তব পরিচয়ের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এই অংশটি অনেক সময় গোপনীয়তা আলোচনায় বাদ পড়ে, অথচ এখানেই ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের ঝুঁকি সবচেয়ে সহজে বোঝা যায়।
ইনকগনিটো মোড নিয়ে প্রত্যাশা একটু কমানো দরকার
ইনকগনিটো বা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের কাজ মূলত স্থানীয় গোপনীয়তা রক্ষা করা। অর্থাৎ সেশন শেষ হওয়ার পর ব্রাউজিং ইতিহাস, কুকি বা ওয়েবসাইটের কিছু তথ্য ডিভাইসে না রাখা বা আলাদা রাখা। এতে একই কম্পিউটার ব্যবহারকারী অন্য কেউ আপনার ব্রাউজিং ইতিহাস সহজে দেখতে না-ও পারেন।
কিন্তু ওয়েবসাইট তখনও আপনার ব্রাউজারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ইনকগনিটো মোড স্ক্রিন রেজোলিউশন গায়েব করে না। ব্রাউজারের সক্ষমতা লুকিয়ে ফেলে না। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীর কাছেও আপনাকে অদৃশ্য করে না।
ফায়ারফক্সের মতো কিছু ব্রাউজার ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ে বাড়তি ট্র্যাকিং সুরক্ষা দেয়। সেটি উপকারী। কিন্তু ব্যক্তিগত ব্রাউজিং এবং পরিচয় গোপন রাখা একই বিষয় নয়। এই দুটোকে এক করে দেখা থেকেই বেশির ভাগ ভুল ধারণা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন
ভিপিএনও এখানে সীমিত
ভিপিএন নিয়ে একই ধরনের অতিরঞ্জন দেখা যায়। ভিপিএন আপনার দৃশ্যমান আইপি ঠিকানা এবং নেটওয়ার্ক পথ বদলাতে পারে। নেটওয়ার্ক গোপনীয়তার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু ভিপিএন স্ক্রিন রেজোলিউশন বদলায় না। ইনস্টল করা ফন্ট বদলায় না। ক্যানভাস রেন্ডারিং বা ওয়েবজিএল-সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যও নিজে থেকে পাল্টায় না।
এই কারণে ভিপিএন চালু থাকলেও ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টের অন্য অংশ আগের মতো থাকতে পারে। ডব্লিউ৩সিও কুকি পরিষ্কার করা বা ভিপিএন ব্যবহারের পর ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে কার্যকলাপের সম্পর্ক শনাক্ত হওয়া সম্ভব থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছে।
সুতরাং ভিপিএন ব্যবহার করলে সেটির কাজকে আইপি ও নেটওয়ার্ক গোপনীয়তার জায়গাতেই দেখা ভালো। ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের জন্য আলাদা সুরক্ষা দরকার।
ব্রেভ, ফায়ারফক্স আর টর—তিনটিকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়
এই তিনটি ব্রাউজারের গোপনীয়তা সুরক্ষার পদ্ধতি এক নয়।
ব্রেভ এমন ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক, যারা খুব বেশি সেটিং ঘাঁটতে চান না। ব্রেভ শিল্ডস পরিচিত ট্র্যাকার আটকে দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ফিঙ্গারপ্রিন্টিং-সংক্রান্ত মান এলোমেলো বা সীমিত করে। উদ্দেশ্য হলো একটি স্থিতিশীল ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করা কঠিন করা।
ফায়ারফক্স তুলনামূলকভাবে বেশি কাস্টমাইজ করা যায়। এর উন্নত ট্র্যাকিং সুরক্ষা পরিচিত ফিঙ্গারপ্রিন্টার আটকে দিতে পারে। ব্যক্তিগত ব্রাউজিং বা কঠোর সুরক্ষা চালু থাকলে সন্দেহভাজন ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশিত কিছু তথ্য আরও সীমিত করা হয়। ক্যানভাস, স্থানীয় ফন্ট, প্রসেসর বা স্পর্শ-সংক্রান্ত তথ্যের কিছু অংশ এতে প্রভাবিত হতে পারে।
এই বাড়তি সুরক্ষা কখনো ওয়েবসাইটের সামঞ্জস্যে প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো ওয়েবসাইট হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করলে গোপনীয়তা সেটিংও সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
টর ব্রাউজার অন্য ধরনের প্রয়োজনের জন্য তৈরি। এখানে লক্ষ্য শুধু ট্র্যাকিং কমানো নয়; ব্যবহারকারীদের ব্রাউজারের বৈশিষ্ট্য যতটা সম্ভব একে অন্যের কাছাকাছি রাখা।
লেটারবক্সিং, ফন্ট সীমিতকরণ, ইউজার-এজেন্ট মানসম্মত করা এবং ক্যানভাস সুরক্ষা এর অংশ।
এর বিনিময়ে কিছু অসুবিধাও আছে। টর রিলের মধ্য দিয়ে তথ্য আদান-প্রদান হলে ব্রাউজিং ধীর হতে পারে। একই বহির্গমন আইপি অনেক ব্যবহারকারী ভাগ করায় ক্যাপচা বা সাময়িক বাধাও দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ দৈনন্দিন ব্রাউজিংয়ের জন্য ব্রেভ বা ফায়ারফক্স নিয়ে ভাবা আর উচ্চতর পরিচয়-গোপনতার জন্য টর ব্রাউজার বিবেচনা করা একই সিদ্ধান্ত নয়।
বেশি গোপনীয়তা এক্সটেনশন মানেই বেশি গোপনীয়তা নয়

অনেক এক্সটেনশন, অস্বাভাবিক কনফিগারেশন বা ইউজার-এজেন্ট পরিবর্তন একসঙ্গে ব্যবহার করলে উল্টো ব্রাউজার আরও আলাদা হয়ে যেতে পারে।
ইএফএফ সতর্ক করেছে, গোপনীয়তা সুরক্ষার ব্যবস্থার উপস্থিতিও কখনো ফিঙ্গারপ্রিন্টের অংশ হয়ে উঠতে পারে। ব্রাউজার নিজেকে একভাবে পরিচয় দিলেও অন্য দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য তার সঙ্গে না মিললে সেই অসামঞ্জস্যও শনাক্তকারী সংকেত হতে পারে।
টর ব্রাউজারে তাই অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সংযোজন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গোপনীয়তা বাড়াতে গিয়ে ব্রাউজারকে আরও বিরল করে তোলা ভালো কৌশল নয়।
জাভাস্ক্রিপ্ট বন্ধ করা শক্তিশালী, কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের জন্য ঝামেলার
জাভাস্ক্রিপ্ট বন্ধ করলে অ্যাকটিভ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের কিছু পথ বন্ধ হয়ে যায়। ট্র্যাকার অনেক ব্রাউজার এপিআই ব্যবহার করতে পারে না।
শুনতে ভালো সমাধান।
সমস্যা হলো আধুনিক ওয়েবের বড় অংশ জাভাস্ক্রিপ্টের ওপর নির্ভরশীল। লগইন পৃষ্ঠা, অনলাইন কেনাকাটার ঝুড়ি, ফরম, মানচিত্র, ভিডিও প্লেয়ার, ওয়েব অ্যাপ—অনেক কিছু আংশিক বা পুরোপুরি কাজ বন্ধ করতে পারে।
এর পরও প্যাসিভ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং থেকে যায়। সিএসএসভিত্তিক কিছু কৌশলও সম্ভব। তাই গোপনীয়তার জন্য পুরো ওয়েবে জাভাস্ক্রিপ্ট বন্ধ রাখা প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারকারীর জন্য খুব আরামদায়ক সমাধান নয়।
ফিঙ্গারপ্রিন্টিং মানেই খারাপ উদ্দেশ্য নয়
একই ধরনের ডিভাইস সংকেত নিরাপত্তার কাজেও লাগে।
কোনো সেবা পরিচিত ডিভাইস থেকে লগইন হয়েছে কি না বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ ঘটছে কি না বোঝার জন্য ব্যবহারকারীর ডিভাইস-সংক্রান্ত তথ্য বিবেচনা করতে পারে। জালিয়াতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের সংকেত ব্যবহার হয়।
তাই শুধু “ফিঙ্গারপ্রিন্টিং” শব্দটি দেখেই কোনো সেবাকে ক্ষতিকর বলা যাবে না।
বরং তিনটি প্রশ্ন বেশি কাজে দেয়:
তথ্য কেন নেওয়া হচ্ছে?
কত দিন রাখা হচ্ছে?
অন্য ওয়েবসাইট বা সেশনের কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিয়ে প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে কি?
গোপনীয়তার উদ্বেগ মূলত এই জায়গাতেই।
নিজের ব্রাউজার সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন
ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের কভার ইয়োর ট্র্যাকস এ কাজে পরিচিত একটি পরীক্ষামূলক টুল। এটি ব্রাউজার কতটা আলাদা দেখাচ্ছে এবং কিছু ট্র্যাকিং সুরক্ষা কাজ করছে কি না, তার একটি ধারণা দেয়।
এটিকে চূড়ান্ত গোপনীয়তা নম্বর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
একটি ওয়েবসাইট সব ধরনের ফিঙ্গারপ্রিন্টিং কৌশল পরীক্ষা করতে পারে না। ট্র্যাকিং পদ্ধতিও বদলায়। তাই “আমার ব্রাউজার নিরাপদ” বা “অনিরাপদ”—এমন দুই ভাগে ফলাফল পড়লে টুলটির আসল উপকার পাওয়া যাবে না।
বরং সেটিং বদলানোর আগে ও পরে পার্থক্য দেখলে এটি বেশি কাজে লাগে।
তাহলে একজন সাধারণ ব্যবহারকারী কী করবেন
ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ঠেকাতে দশটি এক্সটেনশন বসানো দিয়ে শুরু করার দরকার নেই। প্রথমে ব্রাউজার হালনাগাদ রাখুন। ট্র্যাকিং সুরক্ষা বন্ধ থাকলে সেটি চালু করুন। ব্যবহার করছেন না এমন এক্সটেনশন সরিয়ে দিন।
এরপর প্রয়োজন বুঝে ব্রাউজার বেছে নেওয়া যায়। বিল্ট-ইন সুরক্ষা চাইলে ব্রেভ বা ফায়ারফক্স যুক্তিসঙ্গত জায়গা থেকে শুরু করার মতো। টর ব্রাউজার দরকার হয় অন্য ধরনের পরিস্থিতিতে, যেখানে পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন সাধারণ গোপনীয়তার চেয়ে বেশি।
ভিপিএন ব্যবহার করলে সেটি নেটওয়ার্ক গোপনীয়তার জন্য ব্যবহার করুন। ইনকগনিটো ব্যবহার করুন স্থানীয় ব্রাউজিং ইতিহাস আলাদা রাখার জন্য। এগুলোর কোনোটিকেই ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের পূর্ণ সমাধান ধরে নেবেন না।
আর একটি বিষয় মনে রাখলেই বাকি অংশ অনেক পরিষ্কার হয়ে যায়:
ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং কোনো কুকি নয়। তাই একবার মুছে দিয়ে সমস্যার শেষ করার উপায়ও নেই।
গোপনীয়তা বাড়ানোর বাস্তব উপায় হলো ব্রাউজারকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি স্থিতিশীল ও স্বতন্ত্র তথ্য প্রকাশ করতে না দেওয়া—তবে এমন অস্বাভাবিক কনফিগারেশনও তৈরি না করা, যা উল্টো আপনাকে আরও সহজে আলাদা করে তোলে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং কি কুকির মতো মুছে ফেলা যায়?
না। ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোনো একক সংরক্ষিত ফাইল নয়। এটি ব্রাউজার ও ডিভাইসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে তৈরি হতে পারে। তাই কুকি মুছে ফেললেও একই ধরনের তথ্য থেকে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি হওয়া সম্ভব।
ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করলে কি ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বন্ধ হয়?
না। ইনকগনিটো বা ব্যক্তিগত ব্রাউজিং মূলত ডিভাইসে স্থানীয় ব্রাউজিং ইতিহাস ও সেশনের কিছু তথ্য সংরক্ষণ সীমিত করে। ব্রাউজার থেকে প্রকাশিত সব বৈশিষ্ট্য এটি লুকিয়ে দেয় না, তাই ফিঙ্গারপ্রিন্টিং এখনও সম্ভব হতে পারে।
ভিপিএন কি ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং থেকে সুরক্ষা দেয়?
ভিপিএন আপনার দৃশ্যমান আইপি ঠিকানা ও নেটওয়ার্ক পথ বদলাতে পারে, কিন্তু স্ক্রিন রেজোলিউশন, ফন্ট, ক্যানভাস রেন্ডারিং বা ব্রাউজারের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিজে থেকে পরিবর্তন করে না। তাই ভিপিএনকে ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
মোবাইল ফোনেও কি ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং সম্ভব?
হ্যাঁ। মোবাইল ব্রাউজার থেকেও অপারেটিং সিস্টেম, স্ক্রিন, ভাষা, স্পর্শ-সক্ষমতা এবং অন্যান্য ডিভাইস-সংক্রান্ত সংকেত পাওয়া যেতে পারে। এসব তথ্যের সমন্বয়ও ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ে ব্যবহার করা সম্ভব।
ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং পুরোপুরি বন্ধ করা যায় কি?
পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো ব্রাউজার থেকে প্রকাশিত স্থিতিশীল ও স্বতন্ত্র তথ্য কমানো। বিল্ট-ইন ট্র্যাকিং সুরক্ষা ব্যবহার, ব্রাউজার হালনাগাদ রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় এক্সটেনশন এড়ানো এতে সাহায্য করতে পারে।

