ইমেইল এলিয়াস ব্যবহার করে স্প্যাম ও ট্র্যাকিং কমানোর উপায়

সর্বাধিক আলোচিত

একই ইমেইল ঠিকানা যদি অনলাইন দোকান, সংবাদপত্রের সদস্যতা, বিনামূল্যের ডাউনলোড কিংবা নতুন অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য বারবার ব্যবহার করেন, সমস্যা সাধারণত পরে ধরা পড়ে। একদিন হঠাৎ ইনবক্সে এমন সব প্রচারমূলক ইমেইল আসতে শুরু করতে পারে, যেগুলোর জন্য আপনি কখনো নিবন্ধনই করেননি। তখন বোঝা কঠিন হয়, ঠিকানাটি প্রথম কোথা থেকে ছড়িয়েছে।

ইমেইল এলিয়াসের মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষা এই জায়গায় কাজে আসে। মূল ইমেইল ঠিকানাটি সরাসরি না দিয়ে আলাদা একটি বিকল্প ঠিকানা ব্যবহার করা যায়, যেটি আপনার আসল ইনবক্সে ইমেইল পাঠিয়ে দেবে। ওয়েবসাইট আপনার স্থায়ী ঠিকানাটি জানতে পারবে না। আর কোনো নির্দিষ্ট এলিয়াসে স্প্যাম শুরু হলে পুরো ইমেইল অ্যাকাউন্ট বদলানোর বদলে শুধু ওই এলিয়াসটিই বন্ধ করা যায়।

তবে এলিয়াসকে ট্র্যাকিং প্রতিরোধের ব্যবস্থা ভাবলে ভুল হবে। এটি মূলত আপনার ইমেইল ঠিকানা গোপন রাখে এবং বিভিন্ন সেবাকে আলাদা করতে সাহায্য করে। প্রচারমূলক ইমেইলের ভেতরের ট্র্যাকিং পিক্সেল বা অনুসরণযোগ্য লিংক ঠেকাতে আলাদা গোপনীয়তা-সুরক্ষা সুবিধা প্রয়োজন হতে পারে।

ইমেইল এলিয়াস ব্যবহার করলে আসলে কী বদলায়

ধরা যাক আপনার একটি মূল ইমেইল ঠিকানা আছে। কোনো অনলাইন দোকানে সরাসরি সেই ঠিকানা না দিয়ে আপনি একটি এলোমেলো এলিয়াস ব্যবহার করলেন। দোকানটি ওই এলিয়াসে ইমেইল পাঠাবে, আর এলিয়াস সেবা সেটি আপনার আসল ইনবক্সে পৌঁছে দেবে।

ফলে দোকানটির তথ্যভান্ডারে আপনার স্থায়ী ইমেইল ঠিকানাটি থাকার প্রয়োজন পড়ে না। এই ব্যবস্থার আরেকটি সুবিধা হলো, ভালো এলিয়াস সেবাগুলো উত্তর দেওয়ার সময়ও আসল ঠিকানাটি আড়ালে রাখতে পারে। অ্যাপলের হাইড মাই ইমেইল এবং সিম্পললগইন—দুটিতেই এমন ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ শুধু ইমেইল গ্রহণ নয়, কিছু ক্ষেত্রে উত্তর দেওয়ার সময়ও একই এলিয়াস পরিচয় ধরে রাখা যায়।

এটিকে অস্থায়ী ইমেইলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। অস্থায়ী ঠিকানা সাধারণত অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বানানো হয়। গোপনীয়তার জন্য ব্যবহৃত এলিয়াস চাইলে একই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা এলিয়াস বেশি কার্যকর

প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা এলিয়াস বেশি কার্যকর

মূল ঠিকানা গোপন রাখাই যদি একমাত্র লক্ষ্য হয়, একটি এলিয়াস দিয়েও কাজ চালানো যায়। কিন্তু তাতে বড় একটি সুবিধা নষ্ট হয়—কোন সেবা থেকে সমস্যার শুরু হয়েছে তা বোঝা। ধরা যাক, একটি অনলাইন দোকানের জন্য এক ঠিকানা, সংবাদপত্রের সদস্যতার জন্য আরেকটি, আর কোনো নতুন অ্যাপের জন্য তৃতীয় একটি এলিয়াস ব্যবহার করেছেন।

কয়েক মাস পর অনলাইন দোকানের এলিয়াসে অচেনা প্রচারমূলক ইমেইল আসতে শুরু করল। এতে অন্তত এতটুকু জানা গেল, ঠিকানাটি কোন সেবার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ থেকে অবশ্য প্রমাণ হয় না যে ওই প্রতিষ্ঠান আপনার তথ্য বিক্রি করেছে। তৃতীয় পক্ষের বিপণন প্রতিষ্ঠান, সহযোগী বিপণন ব্যবস্থা, তথ্য ফাঁস কিংবা অন্য কোনো পথেও ঠিকানাটি ছড়াতে পারে।

কিন্তু প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা এলিয়াস থাকলে সমস্যার জায়গাটা ছোট হয়ে আসে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য এখানেই। ফায়ারফক্স রিলে-তে ছদ্ম ঠিকানায় ইমেইল পাঠানো বন্ধ করা যায়। সিম্পললগইন-এ এলিয়াস নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রেরককেও বন্ধ করার ব্যবস্থা আছে। ডাকডাকগো-এর ব্যক্তিগত ডাক ঠিকানাও বন্ধ করে পরে আবার চালু করা যায়।

অনেক এলিয়াস ব্যবহার করলে অবশ্য আরেকটি ছোট ঝামেলা শুরু হয়—কোন ঠিকানা কোথায় দেওয়া হয়েছিল তা মনে রাখা। তাই পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক বা নিরাপদ নোটে সেবার নামসহ এলিয়াস লিখে রাখা ভালো।

জিমেইলের “+” পদ্ধতি কাজে লাগে, কিন্তু এটি গোপনীয়তার সমাধান নয়

জিমেইলে মূল ঠিকানার ব্যবহারকারী নামের পর + চিহ্ন বসিয়ে আলাদা শব্দ যোগ করা যায়। এতে তৈরি ঠিকানায় পাঠানো ইমেইল একই ইনবক্সে আসে। ইমেইল ছাঁকনি তৈরি করা, সংবাদপত্রের সদস্যতার ইমেইল আলাদা করা বা কোন ঠিকানা কোথায় ব্যবহার করেছিলেন তা মনে রাখার জন্য পদ্ধতিটি বেশ কাজের।

কিন্তু গোপনীয়তার জায়গায় এর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।

+ চিহ্নের পরের অংশ সরিয়ে দিলেই মূল জিমেইল ঠিকানাটি অনুমান করা যায়। তাই মূল ইমেইল পরিচয় গোপন করার জন্য এটি প্রকৃত গোপনীয়তা-ভিত্তিক এলিয়াসের বিকল্প নয়। ইনবক্স গোছাতে জিমেইলের এই পদ্ধতি ভালো। কিন্তু ওয়েবসাইটকে স্থায়ী ইমেইল ঠিকানা না জানাতে চাইলে এলোমেলোভাবে তৈরি ফরওয়ার্ডিং এলিয়াস বেশি উপযোগী।

স্প্যাম কমানো আর ট্র্যাকিং কমানো এক বিষয় নয়

ইমেইল এলিয়াস নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি সম্ভবত এখানেই। একটি ফরওয়ার্ডিং এলিয়াস আপনার আসল ঠিকানা গোপন রাখতে পারে, কিন্তু আসা ইমেইলের ভেতরে থাকা ট্র্যাকার নিজে থেকে মুছে ফেলবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই।

প্রচারমূলক ইমেইলে অদৃশ্য ছবি, অনুসরণযোগ্য লিংক বা অন্য ওয়েব উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। এগুলোর সাহায্যে ইমেইল খোলা হয়েছে কি না, কোন ইমেইল অ্যাপ বা যন্ত্র ব্যবহার হয়েছে, এমনকি ইন্টারনেট ঠিকানা থেকে আনুমানিক অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা করা হতে পারে।

এই ধরনের ট্র্যাকিং নিয়ে চিন্তা থাকলে এলিয়াস সেবার পাশাপাশি আরেকটি বিষয় দেখতে হবে: সেবাটি ট্র্যাকার ছেঁকে বাদ দেওয়ার সুবিধা দেয় কি না। ডাকডাকগো ইমেইল প্রোটেকশন ফরওয়ার্ড করা ইমেইল থেকে শনাক্ত করা গোপন ট্র্যাকার সরায়। আলাদা ডাকডাকগো ইনবক্স খোলার দরকার হয় না; আপনার বিদ্যমান ইনবক্সেই ইমেইল আসে।

ফায়ারফক্স রিলে-তেও পরিচিত ট্র্যাকার সরানোর সুবিধা আছে। তবে এই গোপনীয়তা-ছাঁকনির একটি বাস্তব বিনিময়মূল্য আছে: কোনো কোনো এইচটিএমএল ইমেইলের ছবি বা লিংক ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। তাই “এলিয়াস ব্যবহার করলেই ইমেইল ট্র্যাকিং বন্ধ”—এই ধারণা বাদ দেওয়াই ভালো। এলিয়াস এবং ট্র্যাকার বন্ধ করা দুটি আলাদা কাজ।

কোন সেবা কার জন্য বেশি উপযোগী

সব ব্যবহারকারীর জন্য একই সেবা উপযুক্ত নয়। অ্যাপলের যন্ত্র ও সেবা নিয়মিত ব্যবহার করলে হাইড মাই ইমেইল স্বাভাবিক একটি পছন্দ। এটি আইক্লাউড+-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এলোমেলো ঠিকানা তৈরি করা, ইমেইল ফরওয়ার্ড করা, ঠিকানা বন্ধ করা বা পরে আবার চালু করার কাজ একই ব্যবস্থার মধ্যে করা যায়।

যাদের মূল চিন্তা ট্র্যাকিং, তাদের জন্য ডাকডাকগো ইমেইল প্রোটেকশন বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে। এটি ফরওয়ার্ডিংয়ের পাশাপাশি শনাক্ত গোপন ট্র্যাকার সরানোর দিকেও গুরুত্ব দেয়।

এলিয়াস ব্যবস্থাপনায় বেশি নিয়ন্ত্রণ চাইলে সিম্পললগইন বেশি মানানসই হতে পারে। এর বর্তমান বিনামূল্যের পরিকল্পনায় ১০টি এলিয়াস ব্যবহার করা যায়। অর্থের বিনিময়ের পরিকল্পনায় সীমাহীন এলিয়াস, নিজস্ব ডোমেইনসহ আরও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়।

ফায়ারফক্স রিলে-ও কার্যকর একটি বিকল্প। তবে এখানে একটি অস্বস্তিকর বিষয় আছে: মোজিলার নিজস্ব প্রকাশিত নথিতে বিনামূল্যের ছদ্ম ঠিকানার সংখ্যা নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। নতুন সহায়তা পৃষ্ঠা ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পণ্য পৃষ্ঠায় একই সংখ্যা নেই। তাই পুরোনো লেখা দেখে সংখ্যা ধরে নেওয়ার বদলে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নিয়ন্ত্রণপৃষ্ঠায় যা দেখায়, সেটিই অনুসরণ করা ভালো।

ফায়ারফক্স রিলের অর্থের বিনিময়ের সংস্করণ সব দেশেও পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ বা ভারত থেকে এটি নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অর্থ দেওয়ার আগে দেশভিত্তিক প্রাপ্যতা পরীক্ষা করা দরকার।

মূল সিদ্ধান্তটি সহজ: যে সুবিধার প্রয়োজন নেই, তার জন্য অর্থের বিনিময়ের পরিকল্পনা নেওয়ার দরকার নেই। শুধু কয়েকটি অনলাইন দোকান ও সংবাদপত্রের সদস্যতা আলাদা করতে চাইলে সাধারণ এলিয়াসই যথেষ্ট হতে পারে। নিজস্ব ডোমেইন, অনেক এলিয়াস বা বেশি নিয়ন্ত্রণ দরকার হলে তখন অর্থের বিনিময়ের বিকল্প বিবেচনা করা যৌক্তিক।

শুরুতেই পুরোনো সব অ্যাকাউন্ট বদলানোর দরকার নেই

শুরুতেই পুরোনো সব অ্যাকাউন্ট বদলানোর দরকার নেই

এলিয়াস ব্যবহার শুরু করতে গিয়ে প্রথম দিনেই বহু বছরের ইমেইল অ্যাকাউন্ট নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। বরং নতুন নিবন্ধন থেকে শুরু করুন।

একটি সংবাদপত্রের সদস্যতা, একটি অনলাইন দোকান আর একটি কম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপে আলাদা এলিয়াস ব্যবহার করে দেখুন। যাচাইকরণ ইমেইল আসে কি না, পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার ঠিকমতো কাজ করে কি না এবং উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হলে সেটি কীভাবে কাজ করে—এসব আগে বোঝা সহজ হবে।

তারপর ধীরে ধীরে কম গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলোতে এলিয়াস ব্যবহার করা যায়। আর একটি বিষয় অবশ্যই পরীক্ষা করুন: কোনো এলিয়াস বন্ধ বা মুছে ফেলার আগে সেটি কোনো অ্যাকাউন্টের প্রবেশ-ঠিকানা কিংবা পুনরুদ্ধারের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। কারণ স্প্যাম বন্ধ করতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার আটকে গেলে সমস্যাটি আরও বড় হবে।

ব্যাংক বা খুব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা সিদ্ধান্ত নিন

সব জায়গায় এলিয়াস ব্যবহার করাই গোপনীয়তা সচেতনতার প্রমাণ—এমন ভাবার প্রয়োজন নেই। ব্যাংকিং, সরকারি পরিচয় যাচাই, চিকিৎসাসংক্রান্ত যোগাযোগ, আইনগত নথি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইমেইল নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ফায়ারফক্স রিলে নিজেও কিছু সংবেদনশীল বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছদ্ম ঠিকানা ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলে। এর মানে এই নয় যে সেখানে এলিয়াস কাজ করবে না। বরং প্রশ্নটি হলো: কোনো যাচাইকরণ ইমেইল হারিয়ে গেলে বা ফরওয়ার্ডিং ব্যর্থ হলে ক্ষতির পরিমাণ কতটা হতে পারে?

যেখানে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে সংশ্লিষ্ট সেবা এলিয়াস গ্রহণ করে কি না এবং প্রয়োজনীয় ইমেইল নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছায় কি না আগে পরীক্ষা করা ভালো।

কিছু ওয়েবসাইট গোপনীয়তা-ভিত্তিক এলিয়াসের ডোমেইন গ্রহণই করে না। সিম্পললগইনের নথিতেও এমনভাবে ডোমেইন বন্ধ করার কথা উল্লেখ আছে। নিজস্ব ডোমেইন এই সমস্যার কিছু অংশ এড়াতে পারে। তবে তখন ডোমেইন নবায়নের দায়িত্বও আপনার। ডোমেইনের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার ওপর নির্ভরশীল এলিয়াসগুলোও সমস্যায় পড়তে পারে।

এলিয়াস ব্যবহার করেও যেসব ভুল সহজে হয়

সব ওয়েবসাইটে একই এলিয়াস ব্যবহার করা প্রথম ভুল। দ্বিতীয়টি হলো এলিয়াসকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ধরে নেওয়া। ইমেইল ঠিকানা গোপন থাকলেই অ্যাকাউন্ট নিরাপদ হয়ে যায় না। আলাদা পাসওয়ার্ড, বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই বা পাসকি ব্যবহারের প্রয়োজন তখনও থাকে।

আরেকটি অপ্রয়োজনীয় জটিলতা হলো এক ফরওয়ার্ডিং সেবার ওপর আরেক ফরওয়ার্ডিং সেবা বসানো। বিশেষ করে সিম্পললগইন সতর্ক করেছে, আরেকটি এলিয়াস বা ফরওয়ার্ডিং সেবাকে তার মেইলবক্স হিসেবে ব্যবহার করলে ইমেইলের সত্যতা যাচাই এবং উত্তর পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এটি সব ফরওয়ার্ডিং সেবার সমস্যা নয়, কিন্তু ধাপ যত বাড়বে, সমস্যা খুঁজে বের করা তত কঠিন হবে। স্প্যাম হলে তাই এলিয়াস সঙ্গে সঙ্গে স্থায়ীভাবে মুছে না ফেলাই ভালো। আগে নিষ্ক্রিয় করা বা ফরওয়ার্ডিং বন্ধ করা যায় কি না দেখুন। প্রয়োজন হলে পরে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।

ইমেইল কোথা থেকে ছড়িয়েছে, এলিয়াস কি তা জানাতে পারে?

পুরোপুরি নয়। তবে ভালো সূত্র দিতে পারে। ধরা যাক একটি নির্দিষ্ট অনলাইন দোকানের জন্য আলাদা এলিয়াস ব্যবহার করেছিলেন। পরে সেই ঠিকানায় অচেনা প্রচারমূলক ইমেইল আসছে।

এতে বলা যাবে না, “এই দোকান আমার ইমেইল বিক্রি করেছে।”

কিন্তু বলা যাবে, “এই ঠিকানাটি ওই সেবার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।”

গোপনীয়তার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ছোট নয়। একই ইমেইল ঠিকানা সব জায়গায় ব্যবহার করলে এই সূত্রটিও থাকে না।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

বাস্তবে কোথা থেকে শুরু করা সহজ

প্রথমে নতুন সংবাদপত্রের সদস্যতা, অনলাইন দোকান আর কম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা এলিয়াস ব্যবহার করুন। পুরোনো ইনবক্স এক দিনে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করবেন না।

শুধু ইমেইল গোছাতে চাইলে জিমেইলের + পদ্ধতি যথেষ্ট হতে পারে। মূল ঠিকানা গোপন রাখতে চাইলে এলোমেলো ফরওয়ার্ডিং এলিয়াস বেছে নিন। আর ট্র্যাকিং নিয়েও উদ্বেগ থাকলে ট্র্যাকার ছেঁকে বাদ দেওয়ার সুবিধা আছে কি না আলাদা করে দেখুন।

ইমেইল এলিয়াসের মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষার আসল সুবিধা সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকা নয়। এটি আপনার অনলাইন পরিচয়কে বিভিন্ন সেবার মধ্যে আলাদা করে রাখতে সাহায্য করে। একটি ঠিকানায় সমস্যা হলে অন্য অ্যাকাউন্টগুলো অক্ষত থাকে, আর স্থায়ী ইমেইল ঠিকানাও অপ্রয়োজনীয় জায়গায় কম ছড়ায়।

এটিকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না ভেবে ইনবক্স ও গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণের একটি ছোট কিন্তু কার্যকর স্তর হিসেবে দেখাই বেশি বাস্তবসম্মত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. ইমেইল এলিয়াস ব্যবহার করলে কি স্প্যাম পুরোপুরি বন্ধ হবে?

না। ইমেইল এলিয়াস স্প্যাম আসার সম্ভাবনা পুরোপুরি দূর করে না। তবে প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা এলিয়াস ব্যবহার করলে কোন ঠিকানায় স্প্যাম শুরু হয়েছে তা শনাক্ত করা সহজ হয়। প্রয়োজন হলে সেই এলিয়াসের ফরওয়ার্ডিং বন্ধ বা ঠিকানাটি নিষ্ক্রিয় করা যায়।

২. ইমেইল এলিয়াস কি ট্র্যাকিং পিক্সেল বন্ধ করতে পারে?

সাধারণ ইমেইল এলিয়াস নিজে ট্র্যাকিং পিক্সেল বন্ধ করে না। কিছু সেবা, যেমন ডাকডাকগো ইমেইল প্রোটেকশন ও ফায়ারফক্স রিলে, শনাক্ত করা কিছু ইমেইল ট্র্যাকার সরানোর আলাদা সুবিধা দেয়। তাই এলিয়াস এবং ট্র্যাকার প্রতিরোধকে দুটি আলাদা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত।

৩. জিমেইলের + ঠিকানা কি প্রকৃত ইমেইল এলিয়াস?

এটি একই জিমেইল ঠিকানার একটি ভিন্ন রূপ, কিন্তু গোপনীয়তা রক্ষার প্রকৃত এলিয়াস নয়। + চিহ্নের পরের অংশ সরালেই মূল জিমেইল ঠিকানা বোঝা যায়। এটি ইমেইল ছাঁকনি ও ইনবক্স গোছানোর জন্য কাজে লাগে, কিন্তু মূল ঠিকানা গোপন করে না।

৪. ব্যাংক বা সরকারি সেবায় ইমেইল এলিয়াস ব্যবহার করা উচিত কি?

ব্যবহার করার আগে সতর্ক হওয়া ভালো। ব্যাংকিং, সরকারি পরিচয় যাচাই বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে যাচাইকরণ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইমেইল নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সেবা এলিয়াস গ্রহণ করে কি না এবং প্রয়োজনীয় ইমেইল ঠিকমতো আসে কি না আগে পরীক্ষা করা উচিত।

৫. কোনো এলিয়াসে স্প্যাম শুরু হলে কী করা উচিত?

প্রথমে দেখুন এলিয়াসটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের প্রবেশ বা পুনরুদ্ধারের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। এরপর সেবা অনুমতি দিলে নির্দিষ্ট প্রেরক বন্ধ করা, ফরওয়ার্ডিং বন্ধ করা বা এলিয়াসটি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঠিকানা পরিবর্তন করার আগে এলিয়াস স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা ঠিক নয়।

সর্বশেষ