গুগল সার্চ কনসোল খুলে অনেকেই প্রথমে দুটি জায়গায় যান—কুয়েরি এবং পেজ। সমস্যা হলো, এগুলো আলাদা করে দেখলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ধরা পড়ে না। একটি পেজ হয়তো ভালো ইমপ্রেশন পাচ্ছে, কিন্তু কোন কুয়েরি সেই ইমপ্রেশন তৈরি করছে তা না জানলে পরের কাজ ঠিক করা কঠিন।
আবার কোনো মূল শব্দের ক্লিকের হার কম দেখলেই শিরোনাম বদলে ফেলাও ঠিক নয়। আগে বুঝতে হবে ওই কুয়েরি কোন পেজের সঙ্গে যুক্ত, অবস্থান কোথায় এবং পেজটি আসলে সেই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের উত্তর দিচ্ছে কি না।
এই জায়গাতেই জিএসসি পেজ-কুয়েরি বিশ্লেষণ কাজে লাগে। একটি নির্দিষ্ট ইউআরএল ধরে তার কুয়েরির ধরন দেখা গেলে এসইও সিদ্ধান্ত অনেক বেশি নির্দিষ্ট হয়। পুরোনো কনটেন্ট হালনাগাদ করা দরকার কি না, নতুন অংশ যোগ করা উচিত কি না, নাকি কিছুই পরিবর্তন না করাই ভালো—এসব প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে পাওয়া যায়।
চারটি সংখ্যাকে আলাদা করে দেখবেন না
সার্চ কনসোলের কার্যকারিতা প্রতিবেদনে সাধারণত চারটি পরিমাপক সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়: ক্লিক, ইমপ্রেশন, ক্লিকের হার এবং গড় অবস্থান। ক্লিক বলে অনুসন্ধান ফলাফল থেকে কতবার আপনার সাইটে যাওয়া হয়েছে। ইমপ্রেশন দেখায় ফলাফলটি কতবার গুগল অনুসন্ধানে দেখা গেছে। ক্লিকের হার হলো ক্লিক ও ইমপ্রেশনের অনুপাত।
গড় অবস্থান একটু বেশি সতর্ক হয়ে পড়তে হয়। এটি কোনো মূল শব্দের স্থির অবস্থান নয়। নির্বাচিত তথ্যের মধ্যে আপনার সাইট বা ইউআরএলের সর্বোচ্চ ফলাফলের গড় অবস্থান দেখানো হয়।
ধরা যাক, একটি পেজের গড় অবস্থান ৯.২। এই সংখ্যা দেখে মনে হতে পারে পেজটি মোটামুটি প্রথম পাতার আশপাশে আছে। কিন্তু একই ইউআরএল একটি কুয়েরিতে অবস্থান ৩, অন্যটিতে ১২, আর কিছু দীর্ঘ কুয়েরিতে আরও নিচে থাকতে পারে।
তাই “অবস্থান কমেছে” বা “ক্লিকের হার খারাপ”—এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কুয়েরিভিত্তিক তথ্য দেখা দরকার। ক্লিকের হারও একইভাবে প্রেক্ষাপট ছাড়া খুব বেশি কিছু বলে না। অবস্থান ২-এ থাকা একটি ফলাফল এবং অবস্থান ১২-এ থাকা ফলাফলের ক্লিকের হার একইভাবে বিচার করা অর্থপূর্ণ নয়।
তারিখের সীমা ভুল হলে পুরো বিশ্লেষণই দুর্বল হয়ে যায়
সার্চ কনসোলের অনুসন্ধান ফলাফলসংক্রান্ত কার্যকারিতা প্রতিবেদন বর্তমানে প্রাথমিকভাবে গত তিন মাসের তথ্য দেখায়। তবে তিন মাসই যে সব প্রশ্নের জন্য সঠিক সময়সীমা, তা নয়। সম্প্রতি কোনো পেজ হালনাগাদ করা হলে ২৮ দিন দেখা সুবিধাজনক হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ওঠানামা বুঝতে তিন মাস বা তার বেশি সময় দরকার হতে পারে। মৌসুমি কনটেন্ট হলে আগের একই মৌসুমের সঙ্গে তুলনা করা অনেক সময় বেশি অর্থবহ।
এখানে নির্দিষ্ট কোনো এসইও নিয়ম খোঁজার দরকার নেই। ভিজিটর কম হলে খুব ছোট সময়সীমা বিভ্রান্ত করতে পারে। বড় সাইটে আবার কয়েক সপ্তাহের তথ্যেই ধারা পরিষ্কার হতে পারে। আরেকটি ছোট কিন্তু বাস্তব বিষয় আছে। সার্চ কনসোলের নতুন তথ্য প্রাথমিক অবস্থায় থাকতে পারে এবং পরে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
সময় অঞ্চলের বিষয়টিও মাথায় রাখুন। ২৪ ঘণ্টার দৃশ্য ছাড়া কার্যকারিতা প্রতিবেদনের দৈনিক তথ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় অনুযায়ী চিহ্নিত করা হয়। তাই বাংলাদেশ বা ভারতের স্থানীয় সময় ধরে তৈরি গুগল অ্যানালিটিক্স প্রতিবেদনের সঙ্গে একই তারিখের সংখ্যা পুরোপুরি না মিললেও সেটি নিজে কোনো সমস্যা প্রমাণ করে না।
একটি নির্দিষ্ট পেজের কুয়েরি ডেটা বের করা

এই কাজটি জটিল নয়, তবে ছাঁকনি ঠিকভাবে বসানো জরুরি। সার্চ কনসোলের প্রপার্টি খুলে কার্যকারিতা > অনুসন্ধান ফলাফল-এ যান। ক্লিক, ইমপ্রেশন, ক্লিকের হার এবং গড় অবস্থান একসঙ্গে রাখলে শুরুতে চিত্রটি পরিষ্কার থাকে।
এরপর রেখাচিত্রের নিচে পেজ অংশ খুলুন। যে ইউআরএল বিশ্লেষণ করবেন, সেটির সারিতে ক্লিক করলে সার্চ কনসোল ওই পেজ অনুযায়ী প্রতিবেদন ছেঁকে দেখাতে পারে।
উপরের ছাঁকনি বার থেকেও পেজ বা ইউআরএল ছাঁকনি ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট ইউআরএল, ইউআরএলের অংশ কিংবা প্রয়োজনে কাস্টম রেগুলার এক্সপ্রেশন দিয়েও একাধিক ইউআরএলের দল আলাদা করা সম্ভব।
একটি নিবন্ধ নিয়ে কাজ করলে নির্দিষ্ট ইউআরএল ব্যবহার করাই সাধারণত সহজ।
তারপর কুয়েরি অংশে যান।
এখন আর পুরো সাইটের কুয়েরি তালিকা দেখছেন না। নির্বাচিত পেজের সঙ্গে মিলে যাওয়া কুয়েরির কার্যকারিতা দেখছেন। শুরুতে ইমপ্রেশন অনুযায়ী সাজান। এরপর ক্লিক, ক্লিকের হার এবং গড় অবস্থান পাশাপাশি দেখুন। এখানেই সাধারণত সবচেয়ে কাজের ধরনগুলো বের হতে শুরু করে।
বেশি ইমপ্রেশন, কম ক্লিক—কিন্তু তাড়াহুড়া করবেন না
কোনো প্রাসঙ্গিক কুয়েরি অনেক ইমপ্রেশন পাচ্ছে, অথচ ক্লিক তুলনামূলক কম। স্বাভাবিকভাবেই সেটি নজরে আসবে। কিন্তু এটিকে সঙ্গে সঙ্গে “শিরোনামের সমস্যা” ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রথমে অবস্থান দেখুন। তারপর কুয়েরিটির অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য বুঝুন। অনুসন্ধান ফলাফলে কী ধরনের পেজ বা বিশেষ ফলাফল প্রাধান্য পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ও ডেস্কটপের কার্যকারিতা একই কি না, তাও দেখে নিতে পারেন।
ধরা যাক, একটি তথ্যভিত্তিক কুয়েরিতে আপনার পেজের অবস্থান ১১। ক্লিকের হার কম হওয়া অস্বাভাবিক নয়। একই ক্লিকের হার যদি অবস্থান ২-এ থেকেও দেখা যায়, তখন প্রশ্নটা অন্যরকম হবে।
শিরোনাম ও ফলাফলে দেখা সংক্ষিপ্ত বিবরণ তখন পরীক্ষা করার মতো জায়গা হতে পারে। কিন্তু শুধু ক্লিকের হার কম বলেই সেগুলো বদলানোর দরকার নেই।
অবস্থান ৫–১৫ দেখলেই “সহজ সুযোগ” নয়
এসইও আলোচনায় অবস্থান ৫–১৫-এর কুয়েরিকে প্রায়ই তুলনামূলক সহজ উন্নতির সুযোগ বলা হয়। ধারণাটি কাজে লাগতে পারে, তবে এটিকে গুগলের নিয়ম ভাবার কারণ নেই। দেখার বিষয় হলো কুয়েরিটি প্রাসঙ্গিক কি না এবং পেজে সেই প্রশ্নের উত্তর কতটা ভালোভাবে দেওয়া হয়েছে।
ধরা যাক, একটি পেজ “টেকনিক্যাল এসইও অডিট চেকলিস্ট” কুয়েরিতে অবস্থান ৯.৪ পাচ্ছে, কিন্তু নিবন্ধে কোনো পরিষ্কার যাচাইতালিকা নেই। এখানে কনটেন্টের ঘাটতি থাকার যুক্তি আছে।
অন্যদিকে “এসইও অডিট টুলস” কুয়েরিতে অবস্থান ১৭.১ দেখলেই দশটি টুল যোগ করে দেওয়া ঠিক হবে না। নিবন্ধের মূল উদ্দেশ্য যদি টুল তুলনা না হয়, তাহলে সেই পরিবর্তন বরং লেখার মূল ফোকাস নষ্ট করতে পারে।
একইভাবে “টেকনিক্যাল এসইও ত্রুটি” কুয়েরি ভালো ইমপ্রেশন পাচ্ছে এবং পেজে ত্রুটি নিয়ে খুব ছোট অংশ আছে—সেখানে বিদ্যমান অংশটি উন্নত করা নতুন নিবন্ধ লেখার চেয়ে বেশি যৌক্তিক হতে পারে।
অর্থাৎ সার্চ কনসোল সুযোগ দেখায়। কী লিখবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনও সম্পাদককেই নিতে হয়।
অপ্রত্যাশিত কুয়েরি অনেক সময় বেশি কাজের
কখনো এমন কুয়েরি দেখা যায় যেটি কনটেন্ট তৈরির সময় লক্ষ্য করা হয়নি।
এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকে।
প্রথমটি ভালো: কুয়েরিটি মূল বিষয়ের স্বাভাবিক সম্প্রসারণ। তখন নতুন উপ-অংশ, উদাহরণ বা ব্যাখ্যা যোগ করার কারণ থাকতে পারে।
দ্বিতীয়টি কম গুরুত্বপূর্ণ: কুয়েরিটির সঙ্গে পেজের সম্পর্ক দুর্বল। শুধু ইমপ্রেশন দেখেই নিবন্ধকে নতুন দিকে টেনে নেওয়া উচিত নয়।
এই পার্থক্য না করলে সার্চ কনসোলনির্ভর সম্পাদনা খুব দ্রুত মূল শব্দের পেছনে ছোটার অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
এবার উল্টো দিক থেকে দেখুন: কুয়েরি থেকে পেজ

একই বিশ্লেষণ উল্টোভাবেও করা যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ কুয়েরি দিয়ে ছাঁকনি দিন। এরপর পেজ অংশ খুলুন।
এতে ওই কুয়েরির জন্য কোন কোন ইউআরএল কার্যকারিতার তথ্য পাচ্ছে, তা দেখা যায়।
একাধিক ইউআরএল দেখলেই “কীওয়ার্ড ক্যানিবালাইজেশন” হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার দরকার নেই। বরং আগে দেখুন পেজ দুটির উদ্দেশ্য আসলে একই কি না। একই বিষয়ের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি আছে কি না। কোন ইউআরএলের ক্লিক ও ইমপ্রেশন বাড়ছে। আর সাইটের কাঠামো অনুযায়ী কোন পেজটি মূল রিসোর্স হওয়ার কথা।
এই জায়গায় সার্চ কনসোলের তথ্যের পাশাপাশি গুগলের প্রকৃত অনুসন্ধান ফলাফল এবং পেজের কনটেন্ট দেখা জরুরি। একই কুয়েরির জন্য একাধিক পেজের অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা কখনো বাস্তব সমস্যা হতে পারে। আবার অনেক সময় একাধিক পেজ স্বাভাবিকভাবেই একই বিস্তৃত কুয়েরিতে দৃশ্যমানতা পেতে পারে।
আরও পড়ুন: গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন
ডিভাইস ও দেশভিত্তিক ছাঁকনি কোথায় কাজে লাগে
সামগ্রিক ক্লিকের হার দেখে কোনো পেজ দুর্বল মনে হতে পারে, কিন্তু সমস্যাটি হয়তো শুধু মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পেজ ছাঁকনি চালু রেখেই ডিভাইস অংশে মোবাইল, ডেস্কটপ ও ট্যাবলেট আলাদা করে দেখা যায়। দেশ অংশ দিয়েও একইভাবে তথ্য ভাগ করা যায়।
ধরা যাক, ডেস্কটপে ক্লিকের হার মোটামুটি স্থির, কিন্তু মোবাইলে ইমপ্রেশন বাড়ার সঙ্গে ক্লিকের হার কমেছে। তখন কনটেন্ট পুনর্লিখনের আগে মোবাইল অনুসন্ধান ফলাফলে শিরোনাম কীভাবে দেখা যাচ্ছে, অবস্থান কোথায় এবং কুয়েরির ধরন বদলেছে কি না—এসব দেখা যুক্তিসংগত।
তবে ছাঁকনিরও সীমা আছে। অনেকগুলো ভাগ একসঙ্গে ব্যবহার করলে নমুনা এত ছোট হয়ে যেতে পারে যে বাস্তব ধারা এবং আকস্মিক ওঠানামা আলাদা করা কঠিন হয়।
তাই ছাঁকনি যোগ করার আগে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকা ভালো।
একটি সংখ্যা নয়, পরিবর্তনের দিক দেখুন
কোনো কুয়েরি আজ ৫০০ ইমপ্রেশন পাচ্ছে—এটি নিজে খুব বেশি তথ্য নয়। আগের তুলনাযোগ্য সময়ে যদি ইমপ্রেশন ছিল ২০০, পরিস্থিতি একরকম। যদি ছিল ৮০০, ব্যাখ্যা অন্যরকম হবে।
সার্চ কনসোলের তারিখ তুলনার সুবিধা ব্যবহার করে ক্লিক, ইমপ্রেশন, ক্লিকের হার এবং অবস্থান একসঙ্গে দেখুন। অবস্থান প্রায় একই থাকলেও ইমপ্রেশন কমতে পারে। সেটি অনুসন্ধানের চাহিদা কমার ফল হতে পারে, কুয়েরির ধরন বদলাতে পারে, কিংবা অন্য কোনো কারণে দৃশ্যমানতার পরিমাণ কমতে পারে।
আবার ইমপ্রেশন একই রেখে ক্লিকের হার কমে গেলে অনুসন্ধান ফলাফলে উপস্থাপন বা অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে অমিল পরীক্ষা করা যেতে পারে।
তবে এখানেও একটি সতর্কতা দরকার। একই সময়ে দুটি পরিমাপক বদলেছে মানেই একটি অন্যটির কারণ নয়। অনুসন্ধানের চাহিদা, মৌসুমি পরিবর্তন, প্রতিযোগীদের কার্যক্রম বা গুগল অনুসন্ধানের অন্য পরিবর্তন একই সময়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
সহজ উন্নতির সুযোগ বের করার সময় কী দেখবেন
এখানে কোনো একটি সংখ্যা দিয়ে সূত্র বানানোর প্রয়োজন নেই।
বরং এমন কুয়েরি আগে দেখা বেশি যুক্তিসংগত যেখানে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে মিলছে: ইমপ্রেশন আছে, কিছু দৃশ্যমানতা ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, কুয়েরি মূল বিষয়টির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক, পেজে উত্তর আছে কিন্তু দুর্বল, এবং কাছাকাছি ধরনের কুয়েরির তুলনায় ক্লিকের হার পিছিয়ে।
এরপর সার্চ কনসোল থেকে আসল পেজে ফিরে যান।
এই ধাপটি অনেকেই বাদ দেন।
কুয়েরি তালিকায় কোনো শব্দ আছে বলেই নতুন অনুচ্ছেদ দরকার—এমন নয়। পেজটি পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন, পাঠকের প্রশ্নটি সত্যিই অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে কি না।
অনেক ক্ষেত্রে একটি শিরোনাম পরিষ্কার করাই যথেষ্ট। কোথাও দুইটি বাক্য বাড়ালেই চলে। আবার কোথাও নতুন অংশ সত্যিই দরকার হতে পারে।
সার্চ কনসোলের ডেটা পুরো ছবি নয়
পেজ ও কুয়েরি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সার্চ কনসোলের দৃশ্যমান প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ কাঁচা অনুসন্ধান নথি ধরে নেওয়া যাবে না। গুগল গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কিছু কম-সংখ্যক কুয়েরি গোপন রাখে। এগুলো কুয়েরি তালিকায় দেখা যায় না।
এই গোপন কুয়েরিগুলো রেখাচিত্রের মোট সংখ্যার অংশ হতে পারে। কুয়েরি ছাঁকনি ব্যবহার করলে এগুলো বাদ যাওয়ার কারণে ছাঁকা এবং না-ছাঁকা মোট সংখ্যা সব সময় সরাসরি মেলানো যায় না।
কার্যকারিতা প্রতিবেদনের আরেকটি সীমা আছে: এটি সর্বোচ্চ ১,০০০ সারি দেখায়। বড় সাইট বা অনেক দীর্ঘ কুয়েরি থাকা পেজের ক্ষেত্রে তাই এখানে দেখা কুয়েরির তালিকাকে পূর্ণ তালিকা মনে করা ঠিক হবে না।
আরও বড় তথ্যভান্ডার দরকার হলে সার্চ কনসোল এপিআই ব্যবহার করা যায়। বর্তমান নথি অনুযায়ী কার্যকারিতা তথ্যের এপিআই সীমা হলো প্রতি প্রপার্টি, প্রতি অনুসন্ধান ধরন, প্রতি দিনে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ সারি। এপিআই ব্যবহারের আলাদা সীমাও রয়েছে।
আরও বিস্তৃত তথ্য দরকার হলে বৃহৎ ডেটা রপ্তানি সুবিধা ব্যবহার করে বিগকুয়েরিতে দৈনিক কার্যকারিতা তথ্য পাঠানো যায়। তবে গোপন কুয়েরি সেখানেও পাওয়া যায় না। বৃহৎ ডেটা রপ্তানি চালু করার আগের ঐতিহাসিক তথ্যও পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয় না। পুরোনো তথ্য প্রয়োজন হলে প্রতিবেদন বা এপিআই ব্যবহার করতে হবে। বিগকুয়েরি ব্যবহারে গুগল ক্লাউডের সংরক্ষণ ও অনুসন্ধান খরচও হতে পারে।
ছোট ও মাঝারি সাইটের নিয়মিত কনটেন্ট বিশ্লেষণের জন্য অবশ্য বেশির ভাগ সময় সার্চ কনসোলের সাধারণ প্রতিবেদনই যথেষ্ট। তথ্যের পরিমাণ বা প্রতিবেদন তৈরির কাজ সত্যিই বড় হলে তবেই এপিআই বা বিগকুয়েরির প্রয়োজন পড়ে।
ইউআরএল ঠিক, তবু ডেটা নেই—ক্যানোনিক্যাল পরীক্ষা করুন
কার্যকারিতা প্রতিবেদনের অধিকাংশ পেজভিত্তিক তথ্য নকল ইউআরএলের বদলে ক্যানোনিক্যাল ইউআরএলের সঙ্গে যুক্ত হয়। একই কনটেন্টের একাধিক ইউআরএল থাকলে গুগল একটি ক্যানোনিক্যাল বেছে নিতে পারে। নকল ইউআরএল অনুসন্ধান ফলাফলে ব্যবহৃত হলেও কার্যকারিতার তথ্য ক্যানোনিক্যাল ইউআরএলে দেখা যেতে পারে।
তাই কোনো ইউআরএলে প্রত্যাশিত তথ্য না পেলে ইউআরএল পরিদর্শন থেকে গুগল নির্বাচিত ক্যানোনিক্যাল দেখা একটি যৌক্তিক পরীক্ষা।
তবে সার্চ কনসোলের সব প্রতিবেদনে একইভাবে তথ্য একত্র করা হয়—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়। এখানে অনুসন্ধান ফলাফলের কার্যকারিতা প্রতিবেদনের কথাই বলা হচ্ছে।
কয়েকটি ভুল বিশ্লেষণকে দ্রুত নষ্ট করে
গড় অবস্থানকে সরাসরি অবস্থান পর্যবেক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা এর মধ্যে একটি। আরেকটি হলো কম ক্লিকের হার দেখেই শিরোনাম পাল্টে দেওয়া। খুব অল্প দিনের তথ্য নিয়ে বড় কনটেন্ট পরিবর্তন করাও সমস্যা তৈরি করতে পারে। কয়েক দিনের ওঠানামা সব সময় দীর্ঘমেয়াদি ধারা নয়।
একই কুয়েরিতে একাধিক ইউআরএল দেখে সঙ্গে সঙ্গে কীওয়ার্ড ক্যানিবালাইজেশন বলাও তাড়াহুড়ো।
আর সার্চ কনসোলের ক্লিক এবং গুগল অ্যানালিটিক্সের সেশন কখনোই একই পরিমাপক নয়। গোপনীয়তা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকরণ, প্রতিবেদন তৈরিতে বিলম্ব, সময় অঞ্চল এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে সংখ্যা আলাদা হতে পারে।
রেখাচিত্রের মোট সংখ্যা এবং তালিকার মোট সংখ্যা না মিললেও প্রথমেই তথ্যের ভুল ধরে নেবেন না। গোপন কুয়েরি, তথ্য একত্র করার পদ্ধতি, তথ্য কাটছাঁট এবং ১,০০০ সারির সীমা এর পেছনে থাকতে পারে।
ডেটা দেখে আসলে কী পরিবর্তন করবেন
এটাই পুরো বিশ্লেষণের সবচেয়ে ব্যবহারিক অংশ। প্রাসঙ্গিক কুয়েরিতে অবস্থান ভালো, ইমপ্রেশন যথেষ্ট, কিন্তু ক্লিকের হার তুলনামূলক দুর্বল—শিরোনাম এবং অনুসন্ধান ফলাফলে পেজটি কীভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে তা দেখুন।
দৃশ্যমানতা আছে, কিন্তু পেজে বিষয়টি প্রায় নেই—কনটেন্ট বাড়ানো দরকার হতে পারে। উত্তর আছে কিন্তু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে—নতুন অংশ বাড়ানোর বদলে কাঠামো পরিষ্কার করুন। গুরুত্বপূর্ণ পেজ হলেও সাইটের অন্য প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট থেকে খুব কম অভ্যন্তরীণ লিংক যাচ্ছে—লিংক কাঠামো দেখুন।
আর যদি কুয়েরি প্রাসঙ্গিক হয়, পেজ ভালোভাবেই উত্তর দেয় এবং কার্যকারিতায় পরিষ্কার সমস্যা না থাকে, তাহলে কিছু না করাই ভালো হতে পারে। এসইওতে এই শেষ সিদ্ধান্তটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি তথ্য পরিবর্তন দাবি করে না।
নিয়মিত জিএসসি পেজ-কুয়েরি বিশ্লেষণের একটি বাস্তব পদ্ধতি
প্রতি সপ্তাহে পুরো সাইটের প্রতিটি ইউআরএল খুঁটিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। আগে এমন পেজ বেছে নিন যেখানে ক্লিক, ইমপ্রেশন বা দৃশ্যমানতায় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আছে। তারপর সময়সীমা ঠিক করুন, পেজ ছাঁকনি বসান এবং কুয়েরিগুলো দেখুন।
যে কুয়েরিগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে, তাদের ইমপ্রেশন, ক্লিক, ক্লিকের হার এবং অবস্থান একসঙ্গে দেখুন। প্রয়োজনে আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করুন। তারপর আসল পেজ খুলে দেখুন, তথ্য যে সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে কনটেন্টে সেটি সত্যিই আছে কি না।
পরিবর্তন করলে একসঙ্গে অকারণে অনেক কিছু বদলাবেন না। তাহলে পরে কোন পরিবর্তনের সঙ্গে কার্যকারিতার পরিবর্তনের সম্পর্ক ছিল, সেটি বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
কিছুটা নতুন তথ্য জমার পর একই ছাঁকনি আবার খুলুন। এখানেও কারণ নির্ধারণে সতর্ক থাকুন। সম্পাদনার পর ভিজিটর বেড়েছে মানেই সম্পাদনাটিই একমাত্র কারণ নয়।
কোথা থেকে শুরু করা সবচেয়ে যুক্তিসংগত
প্রথম বিশ্লেষণের জন্য পুরো সাইট ধরার প্রয়োজন নেই। এমন তিন থেকে পাঁচটি পেজ নিন যেগুলো ইতিমধ্যে অর্থপূর্ণ ইমপ্রেশন পাচ্ছে, কিন্তু ক্লিক বা ক্লিকের হার দেখে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। প্রতিটির জন্য পেজ ছাঁকনি বসিয়ে কুয়েরির ধরন দেখুন।
তারপর তিনটি সাধারণ প্রশ্ন করুন:
- পেজটি কোন কুয়েরিতে বাস্তবে দৃশ্যমানতা পাচ্ছে?
- সেই কুয়েরিগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যবসায়িক বা কনটেন্টের লক্ষ্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ?
- আর পেজে কী এমন ঘাটতি আছে, যেটি তথ্য ও কনটেন্ট—দুই জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে?
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার হলে জিএসসি পেজ-কুয়েরি বিশ্লেষণ তার কাজ করছে। সার্চ কনসোল আপনাকে কী লিখতে হবে তা বলে না। তবে কোথায় সময় দেওয়া উচিত, কোথায় ছোট সম্পাদনা যথেষ্ট এবং কোথায় কিছু না করাই বুদ্ধিমানের—সেটি বুঝতে যথেষ্ট ভালো সংকেত দেয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সার্চ কনসোলে পেজ ও কুয়েরি একসঙ্গে বিশ্লেষণ করার সুবিধা কী?
এতে বোঝা যায় একটি নির্দিষ্ট পেজ কোন কোন কুয়েরিতে ইমপ্রেশন ও ক্লিক পাচ্ছে, কোথায় ক্লিকের হার কম এবং কোন কুয়েরিতে উন্নতির সুযোগ আছে। শুধু পেজ বা শুধু কুয়েরি আলাদাভাবে দেখলে এই সম্পর্ক পরিষ্কার হয় না।
একটি পেজের জন্য কোন কুয়েরিগুলো আগে বিশ্লেষণ করা উচিত?
যেসব প্রাসঙ্গিক কুয়েরিতে যথেষ্ট ইমপ্রেশন আছে, কিছু দৃশ্যমানতা তৈরি হয়েছে, কিন্তু ক্লিকের হার তুলনামূলক কম—সেগুলো আগে দেখা যেতে পারে। তবে শুধু একটি সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবস্থান, অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য এবং পেজের কনটেন্টও একসঙ্গে যাচাই করা উচিত।
কম ক্লিকের হার দেখলেই কি শিরোনাম পরিবর্তন করা উচিত?
না। কম ক্লিকের হারের কারণ শুধু শিরোনাম নাও হতে পারে। গড় অবস্থান, অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, মোবাইল ও ডেস্কটপের পার্থক্য এবং অনুসন্ধান ফলাফলে অন্য ধরনের ফলাফলের উপস্থিতিও প্রভাব ফেলতে পারে।
একই কুয়েরিতে একাধিক পেজ দেখা গেলে কি কীওয়ার্ড ক্যানিবালাইজেশন হচ্ছে?
সব সময় নয়। একই কুয়েরির জন্য একাধিক পেজ কার্যকারিতার তথ্য পেতে পারে। পেজগুলোর উদ্দেশ্য, বিষয়গত মিল, ক্লিক ও ইমপ্রেশনের ধারা এবং গুগলের প্রকৃত অনুসন্ধান ফলাফল দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সার্চ কনসোলে সব কুয়েরি দেখা যায় না কেন?
গুগল গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কিছু কম-সংখ্যক কুয়েরি গোপন রাখে। পাশাপাশি কার্যকারিতা প্রতিবেদনের তালিকায় সর্বোচ্চ ১,০০০ সারি দেখা যায়। তাই রেখাচিত্রে দেখা মোট তথ্য এবং দৃশ্যমান কুয়েরির তালিকা সব সময় পুরোপুরি মিলবে না।

