ভাঙন, প্রত্যাবর্তন, মহিমা: মেসির আর্জেন্টিনা যাত্রা যেভাবে আমাকে শিখিয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস

সর্বাধিক আলোচিত

২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর, বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে যখন রাত ৮টা বাজবে, আর্জেন্টিনা ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু পৃথিবীর অপর প্রান্তে, বাংলাদেশে আমার ঘরের জানলা দিয়ে তখন হয়তো ভোরের প্রথম আলো উঁকি দেবে। নিঝুম ভোরে জেনারেটর বা টিভির ধিমে আলোয় চোখ রেখে আমি আর লাখো সমর্থক দেখব—লা আলবিসেলেস্তে কীভাবে বিদায় জানাচ্ছে তাদের সর্বকালের সেরা সন্তানকে।

ঢাকার ভোর: মেসির বিদায় কেন এত ব্যক্তিগত?

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা দলকে ভালোবাসার একমাত্র মানেই হলো অসময়ের ঘুম বিসর্জন দেওয়া। রেফারি যখন মনুমেন্টালে প্রথম বাঁশি বাজাবেন, ঢাকায় তখনো সূর্য ওঠেনি।

আমাদের দেশে বিশ্বমানের কোনো ফুটবল অবকাঠামো নেই, নেই এমন কোনো ঘরোয়া লিগ যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়তে পারে। আমাদের যা আছে, তা হলো কেবলই এক অন্ধ ও গভীর আবেগ—যে আবেগ গড়ে তুলেছেন লিওনেল মেসি। রাতের পর রাত, ঘামের দুর্গন্ধ আর মশার গুনগুনের মাঝে জ্বলজ্বলে মনিটরের পর্দায় চোখ রেখে যে ভালোবাসার সূচনা হয়েছিল, আজ তার চূড়ান্ত বিসর্জনের সময়।

বুয়েনস আইরেসের স্টেডিয়ামে সেদিন ৮৫,০০০ সমর্থকের ভিড় জমবে। ২০২৬ সালের ‘সুপার বোল LX’-এর উপস্থিতির রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাবে এই বিপুল সমাবেশ। সাধারণ কোনো ক্লাব ম্যাচ বা সাধারণ ফুটবল লড়াই এমন বাঁধভাঙা ভিড় টানতে পারে না। কেবল একটি পুরো জাতি যখন কোনো গভীর শোক বা বিদায়ের জন্য প্রস্তুত হয়, তখনই এমন দৃশ্যের জন্ম হয়।

পরাজয় কখনোই গল্পের শেষ হতে পারে না

ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনেক আগেই মেসিকে চারটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে চরম পরাজয়ের তিক্ততা গিলতে হয়েছিল। ২০১৬ সালের চতুর্থ ফাইনাল হার তাকে এতটাই চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল যে, তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই ফিরে আসাটাই পরবর্তী সব ইতিহাসকে নতুন করে লিখেছিল। সেদিন জাতীয় দল ছেড়ে চলে যাওয়া কি কোনো শেষ ছিল, নাকি কেবলই একটি বিরতি? ফুটবল ইতিহাস আজও সেই উত্তর খুঁজছে।

একটি ১৯ বছরের তরুণ, বুদাপেস্টের ড্রেসিংরুমে একা বসে কাঁদছে—সালটা ২০০৫। সেটি ছিল আর্জেন্টিনার মূল দলে মেসির অভিষেক ম্যাচ, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। যে ম্যাচটি একটি স্বপ্নের সূচনা হতে পারত, তা রূপান্তরিত হয়েছিল এক দুঃস্বপ্নে। মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।

সেই মুহূর্তেই অপমান তার কাঁধে চেপে বসেছিল। আজকের বিশ্ব হয়তো ভুলে গেছে জাতীয় দলের হয়ে তার যাত্রার শুরুটা কতটা বিষাদময় ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যের সেই কালো মেঘ সেদিন থেকেই তার মাথার ওপর জমা হতে শুরু করেছিল।

তার ওপর ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশালাকার ছায়া। আর্জেন্টিনার অনেকেই দাবি করেছিলেন ১০ নম্বর জার্সিটি ম্যারাডোনার সম্মানে চিরতরে তুলে রাখা উচিত। তাদের মতে, ম্যারাডোনাকে স্পর্শ করার সাধ্য আর কারও হতে পারে না। মেসি সেই ১০ নম্বর জার্সিটি গায়ে জড়ালেন, এবং পরবর্তী ২০টি বছর সেই তুলনার নির্মম বোঝা বহন করলেন।

বার্সেলোনার হয়ে তিনি জেতেননি এমন কোনো ট্রফি ছিল না। অথচ আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে বছরের পর বছর তার ঝুড়ি ছিল শূন্য। এই বৈষম্যই দেশের মানুষের মনে সংশয় তৈরি করেছিল—মেসি কি সত্যিই তার দেশকে ভালোবাসেন? ২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার টুর্নামেন্ট রেকর্ডের দিকে তাকালেই সেই নির্মম বাস্তবতার চিত্র ভেসে ওঠে।

পাঁচটি ফাইনাল পরাজয়: যে বেদনার কথা আমরা আজ ভুলে যেতে চাই

Lionel Messi

পাঁচটি ভিন্ন টুর্নামেন্টে আমি তাকে নিঃশব্দে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখেছি। প্রথমবার যখন দেখেছিলাম, তার বয়স ছিল মাত্র ২০। আর শেষবার যখন দেখলাম, তার বয়স ৩৯—তার ক্যারিয়ারের সোধালী দিনগুলো তখন অনেক পেছনে ফেলে এসেছেন।

  • ২০০৭ কোপা আমেরিকা ফাইনাল: মারাকাইবোতে ব্রাজিল ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে। ২০ বছরের মেসি ট্রফি মঞ্চে ব্রাজিলের নাচ দেখেছিলেন নিঃশব্দে। তার প্রথম বড় ফাইনাল শেষ হয়েছিল জনসমক্ষে চরম পরাজয়ের পাঠ নিয়ে।

  • ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল: দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার পর মারাকানায় সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছিল। অতিরিক্ত সময়ের গোলে জার্মানি আর্জেন্টাইনদের হৃদয় ভেঙে চুরমার করে দেয়। জীবনের প্রতিটি হারের চেয়ে এই হারটি তাকে সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত করেছিল। হাতের স্পর্শ পাওয়ার আগেই স্বপ্নের ট্রফিটি হাতছাড়া হয়ে যায়।

  • ২০১৫ কোপা আমেরিকা ফাইনাল: সান্তিয়াগোতে গোলশূন্য ম্যাচের পর টাইব্রেকারে হার। বানেগা আর হিগুয়াইন পেনাল্টি মিস করলেন, ট্রফি জিতল চিলি। পর পর দুই বছর ফাইনাল হার—এক দমবন্ধ করা হতাশায় ঢেকে যাচ্ছিল চারপাশ।

  • ২০১৬ কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিও ফাইনাল: শাপমুক্তির পণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটল সেই নিউ জার্সিতেই। টানা চতুর্থ ফাইনাল হারের দুঃস্বপ্ন নিয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হলো।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল: নিউ জার্সির সেই একই প্রান্তর ১০ বছর পর আবার তাকে আঘাত করল। ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারিয়ে দিল আর্জেন্টিনাকে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী মেসি নিজের মুখ শার্ট দিয়ে ঢেকে ফেললেন, যেন স্টেডিয়ামের আলো থেকেও নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাইছিলেন।

নিউ জার্সির সেই অভিশপ্ত রাত এবং অবসর

২০১৬ সালের সেই রাতে আমেরিকান মাটি মেসিকে কোনো সান্ত্বনা দিতে পারেনি। চিলির কাছে পরপর দুটি ফাইনাল টাইব্রেকারে হারার ওজন তিনি পুরো ১২০ মিনিট বয়ে বেড়িয়েছেন। টাইব্রেকারে তার নিজের নেওয়া পেনাল্টি শটটি যখন বারের অনেক ওপর দিয়ে গ্যালারিতে গিয়ে পড়ল, তখন স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল—মেসির ভেতরে কিছু একটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শান্ত কিন্তু চূড়ান্ত গলায় তিনি বললেন, “আর্জেন্টিনা দল আমার জন্য নয়। আমি অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার দ্বারা হলো না।” তার কণ্ঠে কোনো দ্বিধা ছিল না। সেদিন যারা তার কথা শুনেছিল, তারা জানত—এই সিদ্ধান্ত কতখানি চূড়ান্ত।

কিন্তু এই নাটকীয় প্রস্থানই পরবর্তীতে অর্জিত সবকিছুর অর্থ বদলে দিয়েছিল। যদি ২০১৬ সালের সেই হাঁটু মুড়ে বসে পড়া আর বিদায় না থাকত, তবে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা বা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ কেবল দুটি ট্রফি জয়ের পরিসংখ্যান হয়ে থাকত। পদত্যাগ করে আবার ফিরে আসার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করেছিল—ট্রফি কেবল মেধার জোরে পাওয়া যায় না, তা অর্জন করতে হয় আত্মত্যাগ আর অদম্য মানসিকতার আগুনে পুড়ে।

প্রত্যাবর্তন: জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

অবসরের সিদ্ধান্ত বেশিদিন টেকেনি। ২০১৬ সালের শেষের দিকেই মেসি আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন। তিনি বলেছিলেন, দেশ ও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা সব যন্ত্রণার চেয়ে বড়। এটি কোনো সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। দূরে থাকলে তিনি সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পেতেন; কিন্তু ফিরে আসার অর্থ ছিল আবার সেই নিষ্ঠুর জাতীয় প্রত্যাশার মুখে নিজেকে দাঁড় করানো।

ফিরে এসেই যে সব বদলে গিয়েছিল, তা নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায়, ২০১৯ কোপা আমেরিকায় আবার ব্যর্থতা—হতাশার কালো মেঘ কাটার কোনো লক্ষণই ছিল না।

কিন্তু ২০২১ সালের দিকে এসে ৩৪ বছরের মেসি বদলে গেলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, একা পুরো দলের বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তার চারপাশের তরুণ খেলোয়াড়রাও পরিণত হয়ে উঠেছিল। লিওনেল স্কালোনি এমন এক দল গঠন করলেন, যারা একে অপরকে বিশ্বাস করতে জানত। মেসি অবশেষে সেই সমর্থন পেলেন, যার জন্য তিনি দেড় দশক অপেক্ষা করেছিলেন। (যদিও ২০২৬ সালের এই বিদায়বেলায় দিবালা বা আলেহান্দ্রো গোমেজের মতো দু-একজন অনুপস্থিত, কিন্তু ২০২২-এর প্রায় পুরো বিশ্বকাপজয়ী দলটাই মনুমেন্টালে তাদের অধিনায়ককে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছে)।

ভাঙন থেকে পূর্ণতা: ইতিহাস পুনর্লিখন

তিনটি টুর্নামেন্ট পুরো চিত্রপট বদলে দিল:

১. ২০২১ কোপা আমেরিকা: যে মারাকানা তাকে ২০১৪ সালে গভীরতম আঘাত দিয়েছিল, সাত বছর পর সেই একই মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে তিনি তার প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন।

২. ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ: ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফাইনালে জয়। যা কিছু বাকি ছিল, তা পূর্ণ হলো। তিনি ফুটবলকে সম্পূর্ণ করলেন।

৩. ২০২৪ কোপা আমেরিকা: এই জয় প্রমাণ করল যে কাতার বিশ্বকাপ কোনো কাকতালীয় সাফল্য ছিল না, বরং এটি ছিল এক অপরাজেয় সাম্রাজ্যের চূড়া।

প্রতিভা নাকি কেবলই অদম্য মানসিকতা?

এমনকি ৩৯ বছর বয়সে ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা তাকে থামাতে পারেনি। ৭.৯১ নন-পেনাল্টি এক্সপেক্টেড গোল ও অ্যাসিস্ট (xG+xA) নিয়ে তিনি পুরো টুর্নামেন্টের শীর্ষে ছিলেন—যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপের চেয়ে ১০ শতাংশেরও বেশি। এমন পরিসংখ্যান কোনো সাধারণ ফুটবলারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এটি নিখাদ জাদুকরী প্রতিভার প্রমাণ।

৩৯ বছর বয়সে যখন অধিকাংশ ফুটবলার অবসর নেন বা অপেক্ষাকৃত সহজ লিগে খেলেন, তখনো তিনি ভিনিসিয়াস জুনিয়র বা ব্র্যাডলি বারকোলার চেয়ে বেশি সফল ড্রিবল করছিলেন। তার শারীরিক সামর্থ্যে হয়তো ভাঁটা পড়েছিল, কিন্তু মেধা ছিল অমলিন।

তবে কেবল মেধা দিয়ে মেসির এই গল্প ব্যাখ্যা করা যায় না। মেধা দিয়ে গোল বা অ্যাসিস্টের ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, কিন্তু ২০১৬ সালে ভেঙে পড়ে চলে যাওয়া এবং আবার ফিরে আসার গল্পের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। কিংবা কেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে, শরীর সায় না দেওয়া সত্ত্বেও তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে গেলেন—তার ব্যাখ্যা প্রতিভায় মেলে না।

তিনি আবার হেরেছিলেন ২০২৬-এর জুলাইয়ে। তবুও তিনি দমে যাননি। তিনি জানতেন আবার হেরে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, তবুও তিনি বাবার মুখের এক চিলতে হাসির জন্য, দেশের ভালোবাসার জন্য মাঠে নেমেছিলেন। ২০১৬ সালে দল ত্যাগ, ২০২৩-এ আবার বিশ্বমুকুট রক্ষার লড়াইয়ে ফেরা, এবং ৩৯ বছর বয়সে ফাইনালের ট্র্যাজেডি—সবকিছুর পরও তিনি ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ বেনিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছেন। কারণ, জয় বা পরাজয় দিয়ে তার গল্পের শেষ নির্ধারিত হতে পারে না।

মনুমেন্টালে শেষ পদক্ষেপ

বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আবহ কোনো টুর্নামেন্টের মতো উত্তপ্ত নয়। এখানে কোনো ট্রফির চাপ নেই, নেই কোনো পয়েন্টের হিসেব। কিন্তু দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের সামনে বিদায় নেওয়ার চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না।

৮৫,০০০ মানুষের গর্জনের মাঝে মেসি তার অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি তুলে দেবেন উত্তরসূরিদের হাতে। আর্জেন্টিনা দল ইতিমধ্যেই মেসিকে ছাড়া খেলতে শিখে গেছে—তার অনুপস্থিতিতেও তারা বলিভিয়াকে ৪-০ এবং বুর্কিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে মানসিকতা রেখে যাচ্ছেন, তা পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বড়। ২০৭ ম্যাচে ১২৫টি গোল এবং ৬৮টি অ্যাসিস্টের এক অবিশ্বাস্য খাতা বন্ধ করে ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ তিনি শেষবারের মতো নামছেন আলবিসেলেস্তেদের হয়ে।

শেষ কথা

ভোরের আলো যখন ঢাকায় পুরোপুরি ফুটে উঠবে, তখন আমি অনুভব করব—একটি যুগের অবসান ঘটল। এতদিন ধরে যে মানুষটার জয়-পরাজয় দিয়ে আমার রাত আর ভোরের সময় নির্ধারিত হতো, তিনি আর কখনো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন না।

আমার জীবনের ছোট-বড় ব্যর্থতার মুহূর্তে আমি সবসময় এই মানুষটার দিকে তাকিয়েছি। ২০০৫-এর সেই লাল কার্ড থেকে ২০১৬-এর পেনাল্টি মিস, তারপর ২০২১ ও ২০২২-এর পরম প্রাপ্তি—প্রতিটি ধাপ আমাকে শিখিয়েছে যে, ক্লান্ত হয়ে সাময়িক সরে যাওয়া মানুষের স্বভাব, কিন্তু চূড়ান্ত পরাজয় হলো আর কখনো ফিরে না আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া।

মেসি হেরেছিলেন, ভেঙে পড়েছিলেন, সরে গিয়েছিলেন—কিন্তু তিনি ফিরে এসেছিলেন। আর সেই ফিরে আসার সাহসাই তাকে অমর করে তুলেছে। ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর এই ভোরে, যখন তিনি মনুমেন্টালের ঘাস স্পর্শ করে বিদায় নেবেন, আমার মনে থাকবে—গল্প কীভাবে শেষ হবে, তা কোনো পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে না; তা নির্ধারণ করে কেবল আপনার ফিরে আসার সাহস।

সর্বশেষ