অনলাইন ফর্মে এনআইডি বা পাসপোর্টের কপি দেওয়ার আগে কী যাচাই করবেন

সর্বাধিক আলোচিত

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম নিবন্ধন, ভিসার আবেদন কিংবা কোনো চাকরির ফর্ম—অনলাইনে এনআইডি বা পাসপোর্টের কপি চাওয়ার পরিস্থিতি এখন খুবই পরিচিত। ঝামেলাটা কপি চাওয়ার মধ্যে নয়। আসল সমস্যা হলো, আপনি ঠিক কার কাছে সেই কপি দিচ্ছেন এবং কেন দিচ্ছেন, সেটি সব সময় পরিষ্কার থাকে না।

এনআইডি বা পাসপোর্টে এমন কিছু তথ্য থাকে, যেগুলো আলাদা আলাদা জায়গায় পরিচয় যাচাইয়ে ব্যবহার করা হয়। নাম, ছবি, জন্মতারিখ, পরিচয়পত্র নম্বর—এসব একসঙ্গে ভুল হাতে গেলে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই পরিচয়পত্রের গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপলোডের আগে তিনটি বিষয় মিলিয়ে নেওয়া: প্রতিষ্ঠানটি আসল কি না, ওয়েব ঠিকানাটি ঠিক কি না এবং পরিচয়পত্রের কপি চাওয়ার কারণটি যৌক্তিক কি না। একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে। ওয়েবসাইটে এইচটিটিপিএস থাকলেই সেটি নিরাপদ বা আসল প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হয়ে যায় না।

এসএমএস বা ইমেইলের লিংক দেখেই এনআইডি আপলোড করবেন না

ধরা যাক, ব্যাংকের নামে একটি এসএমএস এলো। সেখানে বলা হয়েছে কেওয়াইসি হালনাগাদ করতে এনআইডির কপি দিতে হবে এবং সঙ্গে একটি লিংক দেওয়া আছে। লিংকে ঢুকে আপনি ব্যাংকের পরিচিত লোগো দেখতে পারেন। পেজের রং, ফন্ট, এমনকি লেখার ধরনও পরিচিত লাগতে পারে। ওয়েবসাইটটি এইচটিটিপিএসও ব্যবহার করতে পারে।

এগুলোর কোনোটিই আলাদাভাবে প্রমাণ করে না যে পেজটি সত্যিই ব্যাংকের। এ ধরনের অনুরোধ এলে বার্তার ভেতরের লিংক ধরে এগোনোর চেয়ে নিজে ব্যাংকের অ্যাপ খুলুন বা পরিচিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। প্রয়োজনে সেই ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করুন।

একই নিয়ম চাকরির ক্ষেত্রেও কাজে দেয়। কোনো কোম্পানি গুগল ফর্মসে এনআইডি চাইলে আগে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা পরিচিত অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে দেখে নিন, ফর্মটি সত্যিই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ কি না। বিশেষ করে “আজকের মধ্যে না দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে”, “এখনই যাচাই সম্পন্ন করুন” ধরনের চাপ থাকলে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

ইউআরএল একটু সময় নিয়ে পড়ুন

ফিশিং সাইটের ঠিকানা অনেক সময় আসল প্রতিষ্ঠানের ওয়েব ঠিকানার খুব কাছাকাছি রাখা হয়। ধরা যাক, একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের আসল ডোমেইন:

examplebank.com

কিন্তু আপনি পেয়েছেন:

example-bank.com

অথবা:

examplebank.verify-something.com

দ্বিতীয় ঠিকানাটিতে examplebank দেখেই ভুল হতে পারে। আসল ডোমেইন সেখানে verify-something.com। examplebank শুধু তার আগের একটি সাবডোমেইন।

মোবাইলে পুরো ইউআরএল দেখা না গেলে ঠিকানা বারে ট্যাপ করুন। বানানে অদলবদল আছে কি না, অস্বাভাবিক শব্দ যোগ হয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানের নামের পরে আসলে কোন ডোমেইন রয়েছে—এসব দেখুন। লোগো বা ওয়েবসাইটের নকশা দিয়ে এই যাচাই করা যায় না। এগুলো সহজেই নকল করা সম্ভব।

এইচটিটিপিএস দরকার, কিন্তু সেটি পরিচয়ের প্রমাণ নয়

এইচটিটিপিএস দরকার, কিন্তু সেটি পরিচয়ের প্রমাণ নয়

এইচটিটিপিএসের কাজ হলো আপনার ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সংযোগ এনক্রিপ্ট করা। সংবেদনশীল তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই দরকারি। কিন্তু এইচটিটিপিএস দেখে আপনি শুধু সংযোগ সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। ওয়েবসাইটটির পেছনে সত্যিই যে প্রতিষ্ঠান থাকার কথা, সেটিই আছে—এ কথা এইচটিটিপিএস বলে না।

তাই দুই ধরনের যাচাই আলাদা রাখুন।

ব্রাউজার কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা দেখাচ্ছে কি না দেখুন। একই সঙ্গে ঠিকানা বারে থাকা ডোমেইনটিও মিলিয়ে নিন। ক্রোম বা অন্য আধুনিক ব্রাউজার কোনো সাইটকে বিপজ্জনক বা অনিরাপদ বলে সতর্ক করলে সেখানে এনআইডি, পাসপোর্ট, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক তথ্য দেওয়া উচিত নয়। আবার সতর্কতা না দেখালেই যে সাইটটি শতভাগ নিরাপদ, সেটিও ধরে নেওয়া যাবে না।

সত্যিই পুরো পরিচয়পত্রটি দরকার কি না দেখুন

একটি বৈধ প্রতিষ্ঠানও কখনো এমন তথ্য চাইতে পারে, যার প্রয়োজন আপনার কাছে স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে চাকরির প্রাথমিক ফর্মে যদি এনআইডির দুই পাশ, পাসপোর্টের কপি, ব্যাংক তথ্য এবং পরিবারের তথ্য একসঙ্গে চাওয়া হয়, তাহলে কারণ জিজ্ঞেস করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

জানতে পারেন:

  • এই পর্যায়েই পরিচয়পত্র কেন দরকার?
  • পরে যাচাইয়ের সময় দেওয়া যাবে কি না
  • পুরো কপি দরকার, নাকি নির্দিষ্ট তথ্য যথেষ্ট
  • তথ্যটি কত দিন রাখা হবে
  • অন্য কোনো সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে এটি ভাগ করা হবে কি না

তবে সরকারি আবেদন, ব্যাংক কেওয়াইসি বা ভিসার ক্ষেত্রে নিজের মতো করে প্রয়োজনীয় তথ্য কেটে বা ঢেকে দেওয়া ঠিক হবে না। সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।

গোপনীয়তা নীতিতে কী দেখবেন

কোনো সাইটে গোপনীয়তা নীতি বা গোপনীয়তা বিজ্ঞপ্তি থাকলে সেটি অন্তত একবার দেখা উচিত। কিন্তু শুধু এমন একটি পেজ থাকার কারণে সাইটকে বিশ্বাসযোগ্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বরং দেখুন, নীতিমালায় কয়েকটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় কি না। তারা কী তথ্য নিচ্ছে? কেন নিচ্ছে? অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করতে পারে কি না? কত দিন রাখবে? গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন?

দেশভেদে এসব তথ্য প্রকাশের আইনি নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই গোপনীয়তা নীতিকে চূড়ান্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা হিসেবে নয়, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বোঝার একটি উপায় হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। যে প্রতিষ্ঠান পরিচয়পত্র নিচ্ছে, অথচ তথ্য ব্যবহারের কারণ বা নিজের পরিচয়ই পরিষ্কার করছে না, সেখানে আপলোড থামিয়ে আরও যাচাই করা যুক্তিসংগত।

জলছাপ ব্যবহার করবেন কি না, সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে

পরিচয়পত্রের কপি অন্য কাজে ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কেউ কেউ কপির ওপর উদ্দেশ্য লিখে জলছাপ ব্যবহার করেন। যেমন:

“শুধু এবিসি লিমিটেডের চাকরির আবেদনের জন্য”

চাইলে সঙ্গে তারিখও লেখা যায়। এ ধরনের জলছাপের উদ্দেশ্য হলো কপিটি কেন তৈরি হয়েছিল, সেটি দৃশ্যমান রাখা। কিন্তু এটিকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা মনে করা যাবে না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব প্রতিষ্ঠান জলছাপ দেওয়া বা পরিবর্তিত কপি গ্রহণ করে না। ব্যাংক, ভিসা, সরকারি যাচাই কিংবা অন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় মূল বা অপরিবর্তিত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আগে জেনে নিন, গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান এমন কপি গ্রহণ করবে কি না। অনুমতি থাকলে তবেই ব্যবহার করুন।

গুগল ফর্মস বা মাইক্রোসফট ফর্মস হলেই বিশ্বাস করবেন?

গুগল ফর্মস বা মাইক্রোসফট ফর্মস

না। গুগল ফর্মস বা মাইক্রোসফট ফর্মস বৈধ ও বহুল ব্যবহৃত সেবা। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট ফর্ম কে তৈরি করেছে, সেটি আলাদা বিষয়।

অচেনা কেউও এমন একটি ফর্ম তৈরি করতে পারে এবং সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে। তাই ফর্মের ঠিকানা গুগল বা মাইক্রোসফটের হলেই এনআইডি বা পাসপোর্টের কপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

কোম্পানির চাকরির ফর্ম হলে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা পরিচিত মানবসম্পদ বিভাগের যোগাযোগের মাধ্যমে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

আপলোডের আগে এই কয়েকটি প্রশ্ন যথেষ্ট

প্রতিটি ফর্মের জন্য দীর্ঘ নিরাপত্তা পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে এনআইডি বা পাসপোর্টের কপির মতো নথির ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্ন করলে অনেক সন্দেহ আগেই ধরা পড়ে।

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:

১. প্রতিষ্ঠানটিকে কি আমি অন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে শনাক্ত করেছি?
২. যে ইউআরএলে আছি, সেটি কি তাদের আসল ডোমেইন?
৩. পরিচয়পত্র কেন চাওয়া হচ্ছে, সেটি কি পরিষ্কার?
৪. পুরো কপিটিই কি দরকার?
৫. তথ্যটি পরে কীভাবে ব্যবহার বা সংরক্ষণ করা হবে, সে সম্পর্কে অন্তত কিছু ব্যাখ্যা আছে?
৬. ব্রাউজার কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা দেখাচ্ছে কি?

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটির উত্তর না পেলে তখনই আপলোড করা জরুরি নয়। আগে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

কপি আপলোড করার পর নিজের ডিভাইসটাও দেখুন

অনেক সময় ঝুঁকিটা ওয়েবসাইটে নয়, নিজের ফোন বা কম্পিউটারেই থেকে যায়। এনআইডি বা পাসপোর্ট স্ক্যান করার পর একই ছবি ডাউনলোডস ফোল্ডার, গ্যালারি, ক্লাউড সংরক্ষণাগার বা বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপে একাধিক জায়গায় পড়ে থাকতে পারে।

কাজ শেষ হলে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কপি আছে কি না দেখুন। সবার ব্যবহারের কম্পিউটার ব্যবহার করলে সেখানে ফাইল রেখে যাবেন না। ক্লাউড ফোল্ডার বা শেয়ার করা লিংক ব্যবহার করলে কারা সেখানে প্রবেশ করতে পারে সেটিও দেখে নিন।

অচেনা ব্যক্তিকে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইমেইলে পরিচয়পত্র পাঠানোর ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। শুধু যোগাযোগের মাধ্যম পরিচিত হলেই অপর পক্ষের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে যায় না।

ভুল জায়গায় কপি দিয়ে ফেললে কী করবেন

সন্দেহজনক কোনো সাইট বা ব্যক্তির কাছে পরিচয়পত্র দিয়ে ফেলেছেন বুঝতে পারলে প্রথমে ঘটনাটির প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করুন। ইউআরএল, ইমেইল, বার্তা বা যে যোগাযোগের মাধ্যমে নথিটি পাঠিয়েছেন, সেগুলো পরে অভিযোগ করার কাজে লাগতে পারে।

পাসওয়ার্ডও দিয়ে থাকলে সেটি দ্রুত বদলান। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করলে সেখানেও পরিবর্তন করুন। ব্যাংক বা কার্ডের তথ্য চলে গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার। অস্বাভাবিক লগইন, যাচাইয়ের অনুরোধ বা আর্থিক কার্যক্রমও নজরে রাখুন।

বাংলাদেশে এনআইডি-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংয়ের কল সেন্টার ১০৫। পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পাসপোর্ট বাতায়ন ১৬৪৪৫ নম্বর ব্যবহার করা যায়।

ভারতে সাইবার অপরাধের অভিযোগ করার জন্য ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল রয়েছে। আর্থিক সাইবার প্রতারণার দ্রুত অভিযোগের জন্য ১৯৩০ হেল্পলাইন ব্যবহার করা হয়। অন্য দেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র প্রদানকারী সংস্থা, ব্যাংক এবং সরকারি সাইবার অপরাধ অভিযোগ ব্যবস্থার অফিসিয়াল যোগাযোগ ব্যবহার করুন।

পরিচয়পত্রের গোপনীয়তায় শেষ সিদ্ধান্তটা তিনটি প্রশ্নে

অনলাইন ফর্মে এনআইডি বা পাসপোর্টের কপি দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভুল হয় একটি মাত্র লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নিলে।

এইচটিটিপিএস আছে—তাই নিরাপদ।
গুগল ফর্ম—তাই আসল।
পরিচিত লোগো—তাই কোম্পানির।

এগুলোর কোনোটিই একা যথেষ্ট নয়।

পরিচয়পত্রের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বরং তিনটি জিনিস মিলিয়ে দেখুন: যাকে নথি দিচ্ছেন সে কে, ঠিক কোন ওয়েব ঠিকানায় দিচ্ছেন এবং কেন পুরো পরিচয়পত্রটি প্রয়োজন। এই তিনটি বিষয় পরিষ্কার না হলে আপলোড না করাই ভালো। কয়েক মিনিট পরে নথি জমা দেওয়া যায়। কিন্তু ভুল জায়গায় পাঠানো একটি পরিচয়পত্রের কপি পরে আর সত্যিকার অর্থে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অনলাইনে এনআইডি বা পাসপোর্টের কপি দেওয়া কি নিরাপদ?

বৈধ প্রতিষ্ঠান ও সঠিক ওয়েবসাইটে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্রের কপি দেওয়া যেতে পারে। তবে আপলোডের আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, ওয়েব ঠিকানা, এইচটিটিপিএস এবং তথ্য চাওয়ার কারণ যাচাই করা দরকার। শুধু পরিচিত লোগো বা সুন্দর ওয়েবসাইট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

এইচটিটিপিএস থাকলে কি ওয়েবসাইটটি বিশ্বাসযোগ্য?

না। এইচটিটিপিএস আপনার ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সংযোগ সুরক্ষিত করতে সাহায্য করে। কিন্তু ওয়েবসাইটটি সত্যিই যে প্রতিষ্ঠানের দাবি করছে, সেটি এইচটিটিপিএস নিশ্চিত করে না। তাই ডোমেইন আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

এনআইডি বা পাসপোর্টের কপিতে জলছাপ দেওয়া উচিত কি?

গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান জলছাপ দেওয়া কপি গ্রহণ করলে উদ্দেশ্য উল্লেখ করে জলছাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ব্যাংক, ভিসা, সরকারি যাচাই বা অন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত কপি গ্রহণ না-ও করা হতে পারে। তাই আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা দেখে নিন।

গুগল ফর্মে এনআইডি চাইলে কি সেটি নিরাপদ?

গুগল ফর্মস একটি বৈধ সেবা, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ফর্ম কে তৈরি করেছে সেটি আলাদা বিষয়। ফর্মটি সত্যিই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কি না তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা পরিচিত যোগাযোগের মাধ্যমে যাচাই করুন।

সন্দেহজনক সাইটে পরিচয়পত্রের কপি দিয়ে ফেললে কী করবেন?

যে ওয়েব ঠিকানা, ইমেইল বা বার্তার মাধ্যমে তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো সংরক্ষণ করুন। পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকলে দ্রুত বদলান। ব্যাংক বা কার্ডের তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে পরিচয়পত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ও সরকারি সাইবার অপরাধ অভিযোগ ব্যবস্থায় জানান।

পরিচয়পত্র আপলোডের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় কী?

প্রথমে নিশ্চিত করুন প্রতিষ্ঠানটি আসল কি না। এরপর ওয়েব ঠিকানাটি সঠিক কি না দেখুন। সবশেষে বুঝুন কেন আপনার পরিচয়পত্রের সম্পূর্ণ কপি চাওয়া হচ্ছে। এই তিনটির কোনোটি পরিষ্কার না হলে আগে আরও যাচাই করুন।

সর্বশেষ