ফোনটি চার-পাঁচ বছর আগের। ব্যাটারি একটু দ্রুত শেষ হয়, মাঝেমধ্যে ধীরগতিতে চলে। তা ছাড়া তেমন সমস্যা নেই। কল করা যাচ্ছে, ইন্টারনেট চলছে, প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোও কাজ করছে। এমন একটি ফোন বদলে ফেলতে মন না চাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু ফোনটি শেষ কবে নিরাপত্তা হালনাগাদ পেয়েছে, সেটি কি জানা আছে?
এই প্রশ্নের উত্তর না জেনে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। বিশেষ করে ফোনে ব্যাংকিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত ইমেইল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকলে। নিরাপত্তা হালনাগাদ বন্ধ হওয়া মানেই ফোনে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছে, এমন নয়। তবে নতুন কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা ধরা পড়লে নির্মাতার কাছ থেকে সংশোধনী পাওয়ার নিশ্চয়তা আর থাকে না। এখানেই পুরোনো ফোন ব্যবহারের মূল ঝুঁকি।
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা নিয়ে তাই ফোনের বয়সের পাশাপাশি আরও দুটি বিষয় দেখতে হবে। নির্মাতা এখনো নিরাপত্তা হালনাগাদ দিচ্ছে কি না এবং ফোনটি দিয়ে কী ধরনের কাজ করা হচ্ছে।
ফোন কত বছরের পুরোনো, সেটিই আসল হিসাব নয়
একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাটারি, প্রসেসর ও পর্দা ঠিক থাকলে সেটি অনেক বছর ব্যবহার করা যায়। পুরোনো ব্যাটারি বদলে কিংবা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফোনের ব্যবহারযোগ্য সময়ও বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু সফটওয়্যারের নিরাপত্তা এভাবে বাড়ানো যায় না। অ্যান্ড্রয়েডে কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়া গেলে গুগল সংশোধনী প্রকাশ করে। এরপর ফোন নির্মাতারা নিজেদের মডেলের উপযোগী হালনাগাদ সরবরাহ করে। এই প্রক্রিয়ায় চিপসেট নির্মাতা ও কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরেরও ভূমিকা থাকে।
কোনো মডেলের জন্য নির্মাতার নির্ধারিত সহায়তার মেয়াদ শেষ হলে নিয়মিত হালনাগাদ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন ফোনটি আগের মতো কাজ করলেও নতুন দুর্বলতা সংশোধনের নিশ্চয়তা থাকে না। কত দিন এই সহায়তা পাওয়া যাবে, তা আবার সব ফোনের ক্ষেত্রে এক নয়।
গুগলের পিক্সেল ৮ ও পরবর্তী পিক্সেল ফোনগুলোর জন্য সাত বছরের অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা হালনাগাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পিক্সেল ৬, পিক্সেল ৭, পিক্সেল ৭এ এবং প্রথম পিক্সেল ফোল্ডসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি পুরোনো মডেল পাঁচ বছরের সহায়তার আওতায় রয়েছে।
স্যামসাংও নির্বাচিত গ্যালাক্সি ফোনে সর্বোচ্চ সাত বছরের নিরাপত্তা হালনাগাদ দেয়। তবে সব গ্যালাক্সি ফোনে এই সুবিধা নেই। কিছু মডেলে মাসিক, কিছুতে তিন বা ছয় মাস অন্তর হালনাগাদ আসে। এখানে পুরোনো মডেলের নতুন ফোন কেনার একটি অসুবিধা রয়েছে। ধরুন, একটি ফোন ২০২৩ সালে বাজারে এসেছিল। আপনি সেটি ২০২৬ সালে দোকান থেকে নতুন অবস্থায় কিনলেন। নির্মাতা যদি বাজারে ছাড়ার সময় থেকে হালনাগাদের মেয়াদ গণনা করে, তাহলে কেনার পর পুরো প্রতিশ্রুত মেয়াদ আর পাবেন না।
গুগলের উল্লিখিত পিক্সেল ফোনগুলোর ক্ষেত্রে মেয়াদ গণনা শুরু হয় সংশ্লিষ্ট মডেল প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের গুগল স্টোরে পাওয়া যাওয়ার দিন থেকে। কাজেই দোকানে ফোনটি নতুন থাকলেও তার নিরাপত্তা সহায়তার বেশ কিছু সময় পেরিয়ে যেতে পারে। পুরোনো মডেল কম দামে কেনার আগে এই তথ্যটি জেনে নেওয়া ভালো।
নিজের ফোনের নিরাপত্তা হালনাগাদের অবস্থা দেখুন
ফোনে অ্যান্ড্রয়েডের কোন সংস্করণ চলছে, তা অনেকেই জানেন। কিন্তু শেষ নিরাপত্তা সংশোধনীর তারিখ সাধারণত নজরে পড়ে না। এটি দেখতে আলাদা কোনো অ্যাপ প্রয়োজন নেই। ফোনের সেটিংস খুলে ফোন সম্পর্কে অথবা যন্ত্র সম্পর্কে অংশে যান। সেখানে অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ বা সফটওয়্যার তথ্য খুঁজুন। অ্যান্ড্রয়েড নিরাপত্তা হালনাগাদ কিংবা নিরাপত্তা সংশোধনীর স্তর নামে একটি অপশন থাকার কথা।
ফোনের ব্র্যান্ড ও ভাষার সেটিংস অনুযায়ী মেনুর নাম ও অবস্থান আলাদা হতে পারে। স্যামসাং ফোনে সাধারণত সফটওয়্যার তথ্য অংশে সংশোধনীর তারিখ দেখা যায়। ধরা যাক, সেখানে ১ অক্টোবর ২০২৬ লেখা রয়েছে। এর অর্থ ফোনটিতে ওই তারিখের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংশোধনী রয়েছে। তবে তারিখটি দেখেই ফোনের সব উপাদানের সব নিরাপত্তা সমস্যা সংশোধিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
এবার নতুন হালনাগাদ পাওয়া যাচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন। সেটিংসের সিস্টেম বিভাগে গিয়ে সফটওয়্যার হালনাগাদ অপশন খুলুন। আপডেট থাকলে ইনস্টল করুন। গুগল হালনাগাদের আগে ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং অন্তত ৭৫ শতাংশ ব্যাটারি চার্জ রাখার পরামর্শ দেয়।
কয়েক মাস হালনাগাদ না এলে কি চিন্তার কারণ?

সেটি নির্ভর করছে ফোনের মডেলের ওপর। স্যামসাংয়ের মতো নির্মাতারা কিছু ফোনে মাসিক হালনাগাদ দেয়, অন্যগুলোতে তিন বা ছয় মাস অন্তর। ফলে তিন মাস হালনাগাদ না পাওয়া একটি ফোনের জন্য স্বাভাবিক হতে পারে, অন্যটির জন্য নয়।
হালনাগাদের তারিখ অনেক পুরোনো দেখালে আগে নির্মাতার ওয়েবসাইটে মডেলটির সহায়তা চালু আছে কি না দেখুন। শুধু ফোনে নতুন হালনাগাদ না দেখালেই সহায়তা শেষ হয়েছে, এমন নয়। অঞ্চল বা নির্ধারিত সময়সূচির কারণেও দেরি হতে পারে।
কিন্তু নির্মাতা যদি ইতিমধ্যে সহায়তা বন্ধ করে দিয়ে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা। সে ক্ষেত্রে নতুন নিরাপত্তা দুর্বলতা সংশোধনের ওপর আর নির্ভর করা যাবে না।
অ্যাপ ঠিকমতো চললে সমস্যা কোথায়?
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ না এলেও জিমেইল, ইউটিউব কিংবা অন্য অ্যাপ হালনাগাদ হতে দেখা যায়। এ কারণে অনেকেই মনে করেন, ফোনের নিরাপত্তা নিয়ে আর চিন্তার কিছু নেই। অ্যাপের হালনাগাদ আর অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তা হালনাগাদ কিন্তু একই কাজ করে না।
কোনো অ্যাপের নতুন সংস্করণে সেই অ্যাপের ত্রুটি সংশোধন হতে পারে। অন্যদিকে অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা হালনাগাদ ফোনের মূল সফটওয়্যারের দুর্বলতা ঠিক করতে সাহায্য করে। অ্যান্ড্রয়েডে গুগল প্লে সিস্টেম হালনাগাদ নামে আরেকটি ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু সিস্টেম উপাদান আলাদাভাবে হালনাগাদ করা যায়।
গুগল অ্যান্ড্রয়েড ১০ থেকে মেইনলাইন ব্যবস্থা চালু করে এই সুবিধা দেয়। তবে সব পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে এর সমর্থন চালু নেই। অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড ১১ ও তার আগের সংস্করণগুলোর জন্য মেইনলাইন সহায়তা ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে শেষ হয়েছে। এর অর্থ ওই ফোনগুলোর সব গুগল অ্যাপ একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে, তা নয়। বিভিন্ন পরিষেবার সমর্থন আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।
ফলে প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ হালনাগাদ হচ্ছে দেখে ফোনের পুরো সিস্টেম নিরাপদ রয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
নিরাপত্তা হালনাগাদ বন্ধ হলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে?
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তথ্য চুরি হবেই, এমন কোনো কথা নেই। তবে সফটওয়্যারের দুর্বলতা সংশোধন না হলে নির্দিষ্ট ধরনের সাইবার আক্রমণের সুযোগ থেকে যেতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তা বুলেটিনগুলোতে নিয়মিত বিভিন্ন দুর্বলতার তথ্য প্রকাশ করা হয়। যেমন, ৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এবং ৮ অক্টোবর হালনাগাদ করা বুলেটিনে কয়েকটি গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যার বিবরণ রয়েছে। কিছু দুর্বলতা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আক্রমণকারীকে ডিভাইসে বাড়তি ক্ষমতা পাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
অবশ্য বুলেটিনে উল্লেখ করা সব ত্রুটি সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকে না। কোনো দুর্বলতা কাজে লাগাতে কী শর্ত প্রয়োজন, সেটিও আলাদা বিষয়। ব্যবহারকারীর জন্য মূল উদ্বেগ হলো, নির্মাতার নিরাপত্তা সহায়তা শেষ হয়ে গেলে নতুন কোনো ত্রুটি সংশোধনের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। আর ফোনে ব্যক্তিগত ছবি, ইমেইল, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থাকলে নিরাপত্তা সমস্যার প্রভাবও বেশি হতে পারে।
তবে সব তথ্য চুরির ঘটনার জন্য পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ দায়ী নয়। ভুয়া ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড দেওয়া, সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার কারণে নতুন ফোনেও তথ্য চুরি হতে পারে। পুরোনো ফোনের ক্ষেত্রে এসব পরিচিত ঝুঁকির সঙ্গে সিস্টেমের অমীমাংসিত দুর্বলতাও যোগ হতে পারে।
ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা, ভারতে ইউপিআই এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য অনেকেই বছরের পর বছর একই ফোন ব্যবহার করেন। কোনো ব্যাংকিং অ্যাপ পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু হচ্ছে মানেই সেটি নিরাপদ, এমন নয়। অ্যাপ নির্মাতা পুরোনো সংস্করণ সমর্থন করলেও ফোনের নিজস্ব নিরাপত্তা হালনাগাদ বন্ধ থাকতে পারে।
যারা নিয়মিত আর্থিক লেনদেন করেন, তাদের জন্য নিরাপত্তা সহায়তা চালু থাকা ফোন ব্যবহার করাই যুক্তিসংগত। একই কথা অফিসের সংবেদনশীল তথ্য, প্রধান ইমেইল অ্যাকাউন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফোনের নিরাপত্তা সহায়তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেলে এসব কাজ অন্য ডিভাইসে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবুন।
নতুন ফোন কেনার সুযোগ না থাকলে কী করবেন?

সবার পক্ষে নিরাপত্তা সহায়তা শেষ হলেই নতুন ফোন কেনা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বর্তমান ফোনটি যখন দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কিছু অভ্যাস বদলে ঝুঁকি কমানো যায়। তবে এসব ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া সিস্টেম হালনাগাদের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়।
প্রথমে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরান। অনেক দিন ব্যবহার করেননি এমন অ্যাপ ফোনে রেখে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অপরিচিত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া এপিকে ফাইল কিংবা পরিবর্তিত অ্যাপ ইনস্টল করা এড়িয়ে চলুন।
প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো প্লে স্টোর থেকে হালনাগাদ করুন। বিশেষ করে ব্রাউজার, ইমেইল ও বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপের হালনাগাদ বাদ দেবেন না। কোনো অ্যাপ যদি আপনার অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ আর সমর্থন না করে, তাহলে পুরোনো এপিকে ফাইল খুঁজে চালিয়ে যাওয়াকে নিরাপদ সমাধান মনে করবেন না।
গুগল প্লে প্রোটেক্ট চালু রাখুন। প্লে স্টোরের প্রোফাইল মেনু থেকে প্লে প্রোটেক্ট বিভাগে গিয়ে সেটিংস খুলুন। সেখানে অ্যাপ পরীক্ষা করার সুবিধাটি চালু আছে কি না দেখুন। এটি সম্ভাব্য ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তবে ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের সব দুর্বলতা সংশোধন করতে পারে না।
অ্যাপের অনুমতিগুলোও একবার পরীক্ষা করুন। সাধারণত সেটিংস > অ্যাপ > সংশ্লিষ্ট অ্যাপ > অনুমতি থেকে তা দেখা যায়। কোনো অ্যাপের জন্য ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা কন্টাক্ট ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে সংশ্লিষ্ট অনুমতি বন্ধ করুন।
এসএমএস, বিশেষ সহায়ক প্রবেশাধিকার এবং বিজ্ঞপ্তি ব্যবহারের অনুমতির মতো সংবেদনশীল সুবিধা অপরিচিত অ্যাপকে দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকুন। ফোনভেদে কিছু অনুমতি অন্য মেনুতে পাওয়া যেতে পারে। প্রধান অ্যাকাউন্টগুলো সুরক্ষিত রাখুন। শক্তিশালী পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। গুগল অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু রাখুন।
ব্যাংক, পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিচিত কোনো সেবার নাম ব্যবহার করে পাঠানো সন্দেহজনক লিংকে পাসওয়ার্ড বা একবার ব্যবহারযোগ্য গোপন সংকেত দেবেন না। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে সরাসরি গিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
আরেকটি কাজ ফেলে রাখবেন না। গুরুত্বপূর্ণ ছবি, কন্টাক্ট ও নথির ব্যাকআপ করে রাখুন। অনেক ফোনে সেটিংস > গুগল > সব পরিষেবা > ব্যাকআপ অংশে ব্যাকআপের অবস্থা দেখা যায়। তবে সব অ্যাপের সব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হয় না। বিশেষ করে বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ ও অ্যাকাউন্ট যাচাইকরণের তথ্য নতুন ফোনে নেওয়ার আগে পরীক্ষা করা দরকার।
আরও পড়ুন: অ্যান্ড্রয়েড ফোন ধীর হয়ে গেলে কোন ১০টি সেটিংস আগে পরীক্ষা করবেন
পুরোনো ফোনটি অন্য কাজে রেখে দেওয়া যায়
নিরাপত্তা সহায়তা শেষ হওয়া ফোন মানেই সেটি আর কোনো কাজে লাগবে না, এমন নয়। আগে থেকে ডাউনলোড করা বই পড়া, ইন্টারনেট ছাড়াই গান শোনা কিংবা সাধারণ ছবি ও ভিডিও দেখার জন্য ফোনটি রাখা যেতে পারে। এসব কাজে ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে নিয়মিত প্রবেশের প্রয়োজন পড়ে না।
তবে ইন্টারনেট বন্ধ রাখলেও সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর হয় না। কিছু অনলাইন আক্রমণের সুযোগ কমে মাত্র। ফোনটি এভাবে ব্যবহার করতে চাইলে প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপ ও অ্যাকাউন্ট সরিয়ে রাখাই ভালো।
কারখানার নির্ধারিত অবস্থায় ফেরানো কিংবা বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম কি কাজে আসবে?
পুরোনো ফোনে সমস্যা হলে অনেকেই সেটিকে কারখানার নির্ধারিত অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ফোনে সংরক্ষিত স্থানীয় তথ্য, ইনস্টল করা অ্যাপ ও ব্যক্তিগত সেটিংস মুছে যায়। কিছু সফটওয়্যারজনিত সমস্যাও ঠিক হতে পারে।
কিন্তু এভাবে ফোনের সব সেটিংস আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিলে নির্মাতার বন্ধ হয়ে যাওয়া নিরাপত্তা সহায়তা ফিরে আসে না। বিকল্প রম ব্যবহার করে কিছু পুরোনো ফোনে নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ চালানো সম্ভব। তবে শুধু নতুন সংস্করণ ইনস্টল করলেই ফোনের সব নিরাপত্তা সমস্যা দূর হয় না।
বিকল্প সফটওয়্যার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না, নিরাপত্তা সংশোধনীর অবস্থা, ডিভাইসের মূল সফটওয়্যার ও বুটলোডারের নিরাপত্তা যাচাই করা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকিং বা নিরাপত্তা-সংবেদনশীল অ্যাপের কার্যকারিতাও প্রভাবিত হতে পারে। কারিগরি অভিজ্ঞতা না থাকলে বিকল্প রমকে সহজ নিরাপত্তা সমাধান হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না।
কখন নতুন ফোন কেনাই ভালো সিদ্ধান্ত?
শুধু চার-পাঁচ বছর পুরোনো হয়েছে বলে ফোন বদলানোর প্রয়োজন নেই। নির্মাতার সহায়তা চালু থাকলে, নিয়মিত নিরাপত্তা সংশোধনী পেলে এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো কাজ করলে ফোন ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
কিন্তু নিরাপত্তা সহায়তা শেষ হওয়ার পরও একই ফোনে ব্যাংকিং, প্রধান ইমেইল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য রাখা হলে নতুন ডিভাইসে যাওয়ার যুক্তি শক্ত হয়। আর প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো যদি পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ সমর্থন করা বন্ধ করে দেয়, তাহলে ফোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আরও স্পষ্ট।
নতুন ফোন কেনার জন্য দামি ও সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন মডেল বেছে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ পাওয়া তুলনামূলক সাশ্রয়ী ফোনও উপযুক্ত হতে পারে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র পুরোনো বা ব্যবহৃত ফোন কেনার সময় নির্মাতার সহায়তা শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা শিগগির শেষ হতে চলা মডেল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
তাই নতুন ফোনের দাম, ব্যাটারি ও ক্যামেরা দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা সহায়তার মেয়াদও জেনে নিন। বিশেষ করে পুরোনো মডেলের অব্যবহৃত ফোন কিনলে।
আপনার ফোনটি এখন কী অবস্থায় আছে?
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ফোনের সেটিংস থেকে শেষ নিরাপত্তা সংশোধনীর তারিখ দেখুন। এরপর নির্মাতার ওয়েবসাইটে মডেলটির সহায়তার মেয়াদ মিলিয়ে নিন। এই দুটি তথ্য পাওয়া গেলে অন্তত বোঝা যাবে, ফোনটি নিয়মিত নিরাপত্তা সংশোধনী পাচ্ছে কি না। নির্মাতার সহায়তা চালু থাকলে ফোন ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার যুক্তি রয়েছে। সহায়তা শেষ হয়ে গেলে ফোনটি কী কাজে ব্যবহার করছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শুধু সাধারণ কাজের জন্য পুরোনো ফোনটি আরও কিছুদিন রাখা যেতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ব্যাংকিং, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট ও সংবেদনশীল তথ্যের জন্য নিরাপত্তা হালনাগাদ পাওয়া ডিভাইস ব্যবহার করাই ভালো।
ফোনটি এখনো চলছে বলে সেটি বদলানোর তাড়া নাও থাকতে পারে। তবে তার নিরাপত্তা সহায়তা শেষ হয়ে গেছে কি না, অন্তত সেটি না জেনে ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ব্যবহার করলে কি নিরাপদ থাকা যায়?
অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ কিছু ক্ষতিকর সফটওয়্যার শনাক্ত করতে পারে। তবে ফোনের অপারেটিং সিস্টেমে থাকা নিরাপত্তা দুর্বলতা সংশোধন করতে পারে না। নির্মাতার নিরাপত্তা হালনাগাদ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
শুধু ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে কি পুরোনো ফোনের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে?
মোবাইল ইন্টারনেটের পরিবর্তে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলেই পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন নিরাপদ হয়ে যায় না। উভয় সংযোগেই অনলাইন হুমকি থাকতে পারে। বিশেষ করে ফোনের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ থাকলে সংযোগের ধরন বদলে সিস্টেমের দুর্বলতা দূর করা সম্ভব নয়।
পুরোনো ফোনের নিরাপত্তা সহায়তা কবে শেষ হবে, তা জানা না গেলে কী করবেন?
প্রথমে ফোনের সঠিক মডেল নম্বর ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ জেনে নিন। এরপর নির্মাতার ওয়েবসাইটে মডেলটির নিরাপত্তা হালনাগাদ সংক্রান্ত তথ্য খুঁজুন। স্পষ্ট তথ্য না পেলে নির্মাতার গ্রাহক সহায়তা বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন। শুধু ফোনে অ্যাপ চলছে দেখে নিরাপত্তা সহায়তা চালু রয়েছে বলে ধরে নেবেন না।
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন বিক্রি বা অন্য কাউকে দেওয়ার আগে কী করা উচিত?
প্রথমে প্রয়োজনীয় ছবি, যোগাযোগের তথ্য ও নথির ব্যাকআপ রাখুন। এরপর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলো সরিয়ে ফোনটি কারখানার নির্ধারিত অবস্থায় ফিরিয়ে নিন। সিম কার্ড ও আলাদা মেমোরি কার্ড থাকলে সেগুলো খুলে রাখুন। ফোন হস্তান্তরের আগে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে গেছে কি না পরীক্ষা করা উচিত।


