জাপিয়ার, মেক ও এন৮এন: নতুন ব্যবহারকারীর জন্য কোনটি সহজ?

সর্বাধিক আলোচিত

একটি ফর্মে নতুন গ্রাহকের তথ্য জমা পড়বে। সেই তথ্য গুগল শিটসে যাবে, আর নির্দিষ্ট ঠিকানায় একটি ইমেইল পৌঁছাবে। এতটুকু কাজের জন্য যদি সার্ভার চালানো, কোড লেখা কিংবা জটিল স্বয়ংক্রিয় কর্মপ্রবাহ তৈরি করা শিখতে হয়, তাহলে অটোমেশন ব্যবহারের উদ্দেশ্যটাই অনেকটা হারিয়ে যায়।

জাপিয়ার, মেক ও এন৮এন নিয়ে নতুনদের দ্বিধার জায়গা এখানেই। তিনটি সফটওয়্যার দিয়ে কাছাকাছি ধরনের অনেক কাজ করা যায়। কিন্তু কোনোটি সাধারণ কাজ দ্রুত চালু করার জন্য সুবিধাজনক, কোনোটি অনেক শর্তে তথ্য সাজাতে ভালো, আবার কোনোটির সুবিধা পেতে কিছুটা কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন।

জাপিয়ার বনাম মেক বনাম এন৮এন তুলনায় একেবারে নতুনদের জন্য জাপিয়ারকে প্রথম পছন্দ রাখা যায়। বিশেষ করে যাঁরা গুগল শিটস, জিমেইল কিংবা অন্য পরিচিত অ্যাপের মধ্যে সাধারণ অটোমেশন তৈরি করতে চান। তবে বড় কর্মপ্রবাহ, নিয়মিত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কিংবা নিজস্ব সফটওয়্যারের সঙ্গে কাজের প্রয়োজন থাকলে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। আর একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার থাকা ভালো। অটোমেশন তৈরি করতে সহজ লাগা এবং সেটি নিয়মিত কম খরচে চালাতে পারা এক নয়। কোন সফটওয়্যার শিখবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দুটোই দেখতে হবে।

প্রথম অটোমেশনটি তৈরির ঝামেলা কতটা?

জাপিয়ারের ব্যবহারব্যবস্থা নতুনদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। একটি কাজ শেষ করে পরের কাজ যুক্ত করা যায়। শুরুতেই পুরো অটোমেশনের সব শর্ত বুঝতে হয় না। ধরা যাক, গুগল শিটসে নতুন একটি সারি যোগ হলে জিমেইল থেকে ইমেইল পাঠাতে চান। জাপিয়ারে গুগল শিটসের ‘নতুন সারি যোগ হওয়া’ শর্তটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর জিমেইলের ‘ইমেইল পাঠান’ কাজটি যুক্ত করে প্রাপকের ঠিকানা ও ইমেইলের বিষয়বস্তু ঠিক করতে হবে।

জাপিয়ারে এমন অটোমেশনকে জ্যাপ বলা হয়। যে ঘটনা ঘটলে কাজ শুরু হয়, সেটি ট্রিগার। এরপর যে কাজটি সম্পন্ন হয়, সেটি অ্যাকশন। অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার পর নমুনা তথ্য দিয়ে পরীক্ষা করা যায়। সাধারণ কাজের জন্য কোড লেখার প্রয়োজনও হয় না। তবে প্রয়োজনীয় ট্রিগার বা অ্যাকশন অ্যাপের সংযোগব্যবস্থায় রয়েছে কি না, তা আগে দেখে নিতে হবে। কোনো অ্যাপ যুক্ত করা গেলেই তার সব সুবিধা ব্যবহার করা যায় না।

এ পর্যন্ত জাপিয়ার বেশ সুবিধাজনক। সমস্যা শুরু হতে পারে একই তথ্য নিয়ে কয়েকটি আলাদা কাজ করতে গেলে। যেমন, নতুন অর্ডার এলে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, গ্রাহককে ইমেইল পাঠাতে হবে এবং অর্ডারের ঠিকানা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহকারী দলের কাছে খবর পৌঁছাতে হবে।

এখানে একটি সাধারণ ট্রিগার ও অ্যাকশনের বাইরে আরও কিছু নিয়ম যোগ হচ্ছে। এই ধরনের কাজেই মেকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ার কারণ রয়েছে। মেকে অটোমেশনকে সিনারিও বলা হয়। এর বিভিন্ন কাজ মডিউল হিসেবে যুক্ত থাকে। পুরো কর্মপ্রবাহ পর্দায় দেখা যায়। কোথা থেকে তথ্য আসছে, কোন শর্তে পরের কাজটি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় পাঠানো হচ্ছে, তা অনুসরণ করা যায়।

ধরা যাক, একটি অনলাইন দোকান ঢাকার ভেতর ও বাইরের অর্ডার আলাদাভাবে পরিচালনা করে। মেকের রাউটার ব্যবহার করে ঠিকানার ভিত্তিতে অর্ডার আলাদা পথে পাঠানো সম্ভব। ফিল্টার দিয়ে নির্ধারণ করা যায়, কোন অর্ডার নির্দিষ্ট পথে যাবে। জাপিয়ারেও উপযুক্ত প্যাকেজ ও সুবিধা দিয়ে শর্তভিত্তিক কাজ করা যায়। তবে মেকের দৃশ্যমান কর্মপ্রবাহে অনেকগুলো শর্ত এক জায়গায় দেখতে পাওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।

এর জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। মেকে একটি মডিউল থেকে পাওয়া তথ্য পরের মডিউলে ঠিকভাবে পাঠাতে হয়। কখনো একটি মডিউল অনেক তথ্য ফেরত দেয়। ভুল অংশ নির্বাচন করলে অটোমেশন চললেও ফলাফল ঠিক নাও হতে পারে। ইটারেটর কিংবা অ্যাগ্রিগেটরের মতো সুবিধা ব্যবহার করতে চাইলে একাধিক তথ্য আলাদাভাবে প্রক্রিয়াকরণ বা একত্র করার নিয়মও শিখতে হবে।

ফলে প্রথম দিনেই মেক শেখা জাপিয়ারের মতো সহজ না-ও লাগতে পারে। কিন্তু নিয়মিত সম্ভাব্য গ্রাহকের তথ্য বাছাই, গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ কিংবা বিভিন্ন শর্তে প্রতিবেদন তৈরির কাজ থাকলে এই শেখার সময়টি কাজে আসবে।

আরও পড়ুন: পুনরাবৃত্তিমূলক কম্পিউটার কাজ চিহ্নিত করে অটোমেশন শুরু করবেন কীভাবে

বিনামূল্যের প্যাকেজের সংখ্যায় বড় একটি ফাঁদ আছে

বিনামূল্যের প্যাকেজের সংখ্যায় বড় একটি ফাঁদ আছে

জাপিয়ারের বিনামূল্যের প্যাকেজে মাসে ১০০টি টাস্ক পাওয়া যায়। মেকের বিনামূল্যের প্যাকেজে ১,০০০ ক্রেডিট। সংখ্যা দেখলে মেক অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে মনে হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটি টাস্ক আর একটি ক্রেডিট সমান নয়।

জাপিয়ারে সাধারণ অ্যাকশন সফলভাবে সম্পন্ন হলে টাস্ক গণনা হয়। ট্রিগার, ফিল্টার এবং কিছু নিজস্ব ধাপের জন্য টাস্ক লাগে না। নির্দিষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোড-সম্পর্কিত কাজে অবশ্য আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। বিনামূল্যের প্যাকেজে একটি ট্রিগার ও একটি অ্যাকশন নিয়ে দুই ধাপের জ্যাপ তৈরি করা যায়। একই ঘটনার পর কয়েকটি অ্যাকশন চালাতে চাইলে সাধারণত প্রফেশনাল বা উচ্চতর প্যাকেজ প্রয়োজন হয়।

মেকের হিসাব আলাদা। অনেক সাধারণ মডিউলের কাজ একটি ক্রেডিট ব্যবহার করে। কিছু উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধায় টোকেন ও অন্যান্য ব্যবহারের ভিত্তিতে আরও বেশি ক্রেডিট লাগতে পারে। এখানে নতুনদের সবচেয়ে বেশি ভুল হতে পারে একটি সিনারিও কতবার চালু হচ্ছে, তা নিয়ে।

ধরা যাক, গুগল শিটসে নতুন তথ্য যোগ হয়েছে কি না দেখতে মেকে একটি সিনারিও চালু করেছেন। সেটি প্রতি ১৫ মিনিটে নতুন তথ্য পরীক্ষা করবে। দিনে মোট ৯৬ বার পরীক্ষা হবে। প্রতিবার সংশ্লিষ্ট মডিউল চালাতে একটি ক্রেডিট লাগলে শুধু এই কাজেই দিনে ৯৬ ক্রেডিট খরচ হতে পারে। নতুন কোনো তথ্য না এলেও নির্ধারিত সময়ে মডিউল চালানোর জন্য ক্রেডিট লাগতে পারে।

এমন ব্যবহারে মাসের ১,০০০ ক্রেডিট দ্রুত শেষ হবে। অবশ্য সব সিনারিওতে একই খরচ হয় না। ওয়েবহুক বা অন্য ধরনের ট্রিগার ব্যবহার করলে হিসাব বদলাতে পারে। মেকের রাউটার নিজে ক্রেডিট ব্যবহার করে না, তবে তার বিভিন্ন পথে চালু হওয়া মডিউলের জন্য ক্রেডিট প্রয়োজন হতে পারে।

মেকের বিনামূল্যের প্যাকেজে সর্বোচ্চ ২টি সক্রিয় সিনারিও রাখা যায়। নির্দিষ্ট সময় পরপর চালানো সিনারিও অন্তত ১৫ মিনিটের ব্যবধানে চালানো যায়। জাপিয়ারের বিনামূল্যের প্যাকেজেও নির্দিষ্ট সময় পরপর তথ্য পরীক্ষাকারী ট্রিগার সাধারণত প্রতি ১৫ মিনিটে নতুন তথ্য পরীক্ষা করে। তবে অ্যাপে তাৎক্ষণিক ট্রিগারের সুবিধা থাকলে নতুন ঘটনার তথ্য সরাসরি পাঠানো সম্ভব। এগুলো ছোটখাটো পার্থক্য মনে হতে পারে। বাস্তবে নিয়মিত অটোমেশন চালাতে গেলে এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে কাজের সংখ্যা কম হলেও যদি বারবার নতুন তথ্য পরীক্ষা করতে হয়।

অর্থের বিনিময়ে পাওয়া প্যাকেজে কী খরচ হতে পারে

জাপিয়ার প্রফেশনাল প্যাকেজের প্রকাশিত শুরুর মূল্য বার্ষিক বিলের হিসাবে মাসে ১৯.৯৯ মার্কিন ডলার। মেকের ১০,০০০ ক্রেডিটের কোর প্যাকেজের প্রদর্শিত মূল্য মাসে ১২ মার্কিন ডলার। এন৮এন ক্লাউড স্টার্টার প্যাকেজের মূল্য বার্ষিক বিলের হিসাবে মাসে ২০ ইউরো। এতে মাসে ২,৫০০ বার কর্মপ্রবাহ সম্পাদনের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত।

এই তিনটি প্যাকেজের মূল্য পাশাপাশি রাখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। জাপিয়ার টাস্ক, মেক ক্রেডিট এবং এন৮এন ক্লাউড কর্মপ্রবাহ কতবার সম্পন্ন হচ্ছে, সেই হিসাবে ব্যবহার গণনা করে। এন৮এন ক্লাউডে একটি কর্মপ্রবাহে একাধিক ধাপ রাখা যায়। তবে কতবার কর্মপ্রবাহ চলতে পারবে, একই সময়ে কতটি কাজ চালানো যাবে এবং অন্যান্য প্যাকেজের সীমাও প্রযোজ্য।

ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠানে মাসে ২০০ জন সম্ভাব্য নতুন গ্রাহকের তথ্য আসে। প্রত্যেকের জন্য একটি ইমেইল পাঠাতে হবে এবং স্ল্যাকে একটি বার্তা দিতে হবে। জাপিয়ারে দুটি সাধারণ অ্যাকশন সফলভাবে চললে মাসে প্রায় ৪০০ টাস্ক লাগতে পারে। একাধিক ধাপের সুবিধাযুক্ত প্যাকেজও প্রয়োজন হবে।

মেকে কত ক্রেডিট ব্যবহার হবে, তা নির্ভর করবে মডিউলের সংখ্যা, কোনটি কতবার চলছে এবং নতুন তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার ওপর। এন৮এন ক্লাউডে প্রত্যেক সম্ভাব্য গ্রাহকের জন্য একটি পৃথক কর্মপ্রবাহ সম্পন্ন হলে প্রায় ২০০ বার কর্মপ্রবাহ চালাতে হতে পারে। তবে ট্রিগার, কর্মপ্রবাহের গঠন কিংবা পুনরায় চালানোর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৃত হিসাব বদলাবে।

এটি একটি সম্ভাব্য হিসাব। নির্দিষ্ট কর্মপ্রবাহ তৈরি না করে চূড়ান্ত খরচ নির্ধারণ করা যাবে না। বাংলাদেশ বা ভারত থেকে বিদেশি মুদ্রায় সাবস্ক্রিপশন কেনার সময় মুদ্রা রূপান্তর, প্রযোজ্য কর ও ব্যাংকের অতিরিক্ত চার্জ যোগ হতে পারে। প্যাকেজের মূল্যও পরিবর্তনশীল। তাই সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার আগে প্রকাশিত মূল্য ও বিলের শর্ত দেখে নেওয়া উচিত। কম দামের প্যাকেজ মানেই কম খরচে সব কাজ চালানো যাবে, এমন ধারণা নিয়ে এগোনো ঠিক হবে না।

এন৮এনের বাড়তি স্বাধীনতার সঙ্গে বাড়তি দায়িত্বও আসে

জাপিয়ার ও মেকের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে মূলত কাজ তৈরির পদ্ধতি এবং ব্যবহারের হিসাব দেখতে হয়। এন৮এনের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিজের সার্ভারে চালানো সম্ভব। এন৮এনের কমিউনিটি সংস্করণ নিজের অবকাঠামোয় বিনা লাইসেন্স ফিতে ব্যবহার করা যায়। তবে টেকসই ব্যবহারসংক্রান্ত লাইসেন্সের শর্ত মানতে হয়।

যাঁরা আগে থেকে সার্ভার পরিচালনা করেন, তাঁদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হতে পারে। সফটওয়্যারটি কোথায় চলবে এবং কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই বিষয়ে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়। কিন্তু সার্ভার চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকলে বিষয়টি এত সহজ নয়।

শেখার জন্য নিজের কম্পিউটারে এন৮এন চালানো আর ব্যবসার অর্ডার বা গ্রাহকের তথ্য নিয়ে সার্বক্ষণিক অটোমেশন পরিচালনা করা এক কাজ নয়। নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সার্ভার সচল রাখা, সফটওয়্যার হালনাগাদ, তথ্যের ব্যাকআপ এবং ত্রুটি সমাধানের ব্যবস্থা করতে হয়।

এসবের জন্য সময় ও খরচ দুটোই লাগতে পারে। তাই কমিউনিটি সংস্করণে লাইসেন্স ফি না থাকলেও পুরো অটোমেশন ব্যবস্থা বিনামূল্যে চলবে, এমন নয়। এন৮এন ক্লাউড ব্যবহার করলে সার্ভার পরিচালনার দায়িত্ব অনেকটা কমে যায়। তবে এটি স্থায়ী বিনামূল্যের পরিষেবা নয়। পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সুযোগ শেষে সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন।

নিজস্ব সফটওয়্যারের সঙ্গে কাজ করতে হলে

নিজস্ব সফটওয়্যারের সঙ্গে কাজ করতে হলে

এন৮এনের সুবিধা বেশি বোঝা যায় যখন প্রস্তুত অ্যাপ সংযোগ দিয়ে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার রয়েছে। সেটির জন্য প্রস্তুত সংযোগ নেই, তবে এপিআই রয়েছে। এন৮এনের এইচটিটিপি অনুরোধ বা ওয়েবহুক ব্যবহার করে অন্য অ্যাপের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।

এখানে নোড দিয়ে কর্মপ্রবাহ সাজানো হয়। প্রয়োজন হলে জাভাস্ক্রিপ্ট কিংবা পাইথন ব্যবহার করেও কিছু কাজ করা যায়। তবে এন৮এন ক্লাউড ও নিজস্ব সার্ভারে পরিচালিত সংস্করণে কোড নোডের সব সুবিধা এক নয়। যেমন, এন৮এন ক্লাউডে পাইথন ব্যবহার করা গেলেও ইচ্ছামতো বাইরের পাইথন লাইব্রেরি যুক্ত করা যায় না।

এই বিষয়গুলো সফটওয়্যার নির্মাতা বা কারিগরি দক্ষ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রথমবার অটোমেশন শিখতে গিয়ে সবকিছু জানার প্রয়োজন নেই। এন৮এনের লাইসেন্সেও কিছু ব্যবসায়িক শর্ত রয়েছে। সফটওয়্যারের উৎস কোড দেখা ও পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও এটি ওপেন সোর্স ইনিশিয়েটিভের সংজ্ঞা অনুযায়ী প্রচলিত মুক্ত উৎস লাইসেন্সের সফটওয়্যার নয়।

স্বাধীন পেশাজীবীরা এন৮এন দিয়ে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কর্মপ্রবাহ তৈরি করতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্তে নিজের এন৮এন ব্যবস্থায় গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের অটোমেশন চালানোও সম্ভব। তবে বাইরের ব্যবহারকারীকে কর্মপ্রবাহ তৈরি বা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া কিংবা এন৮এনকে আলাদা বাণিজ্যিক সেবা হিসেবে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে। গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের জন্য এন৮এন-ভিত্তিক সেবা তৈরির পরিকল্পনা থাকলে আগে লাইসেন্সের শর্ত মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

গ্রাহকের তথ্য নিয়ে কাজ করলে যা উপেক্ষা করা যাবে না

অটোমেশন চালানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে জিমেইল, গুগল শিটস, গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা অন্য অ্যাপের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিতে হয়। একটি কর্মপ্রবাহ গ্রাহকের নাম, ইমেইল ঠিকানা কিংবা অর্ডারের তথ্য পড়তে পারলে সেই তথ্য কোথায় যাচ্ছে, তা পরিষ্কার থাকা দরকার। ভুল অ্যাকাউন্ট বা ভুল গন্তব্য নির্বাচন করলে তথ্য অনিচ্ছাকৃত জায়গায় পাঠানো হতে পারে।

জাপিয়ার, মেক ও এন৮এন ক্লাউড ব্যবহার করলে সার্ভার পরিচালনার অনেক কাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সামলায়। নিজস্ব সার্ভারে এন৮এন চালানোর ক্ষেত্রে সার্ভারের নিরাপত্তা, এইচটিটিপিএস সংযোগ, তথ্যের ব্যাকআপ, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য এনক্রিপশনের গোপন চাবি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ব্যবহারকারীর।

নিজের সার্ভারে তথ্য রাখলেই সেটি বেশি নিরাপদ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অ্যাপ যুক্ত করার সময় প্রয়োজনের বেশি অনুমতি না দেওয়া, যেখানে সম্ভব দুই ধাপে পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং অব্যবহৃত এপিআই চাবি বাতিল করা উচিত। কর্মপ্রবাহের ইতিহাস বা কাজ সম্পাদনের বিবরণে সংবেদনশীল তথ্য জমা হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।

কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য সংরক্ষণের অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মেকে নতুন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্যকেন্দ্র নির্বাচন করা যায়। পরে ওই অ্যাকাউন্টের অঞ্চল পরিবর্তন করা যায় না। এন৮এন ক্লাউডের প্রকাশিত মূল্য পরিকল্পনায় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে অবস্থিত ইউরোপীয় সার্ভারে তথ্য সংরক্ষণের কথা উল্লেখ রয়েছে। নিজস্ব সার্ভারে পরিচালনার ক্ষেত্রে সার্ভারের অবস্থান নিজে নির্ধারণ করা সম্ভব।

তবে কর্মপ্রবাহ থেকে অন্য অ্যাপে তথ্য পাঠালে সেই অ্যাপের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নিয়মও প্রযোজ্য হবে। ব্যক্তিগত ছোটখাটো অটোমেশন আর নিয়মিত গ্রাহকের তথ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন এক নয়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এসব শর্ত আগে থেকে পরিষ্কার রাখা জরুরি।

নতুনদের জন্য কোন সিদ্ধান্তটি বেশি যুক্তিসংগত?

শুধু একটি ফর্ম থেকে তথ্য গুগল শিটসে রাখা বা ইমেইল পাঠানোর মতো কাজ থাকলে জাপিয়ার দিয়ে শুরু করা যায়। এর ব্যবস্থায় ধাপে ধাপে কাজ তৈরি করা সহজ, আর সাধারণ অটোমেশনের জন্য খুব বেশি কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই।

কিন্তু শুরু থেকেই যদি একই তথ্য বিভিন্ন শর্তে আলাদা জায়গায় পাঠাতে হয়, তাহলে মেক শেখার কথা ভাবা যেতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত সম্ভাব্য গ্রাহকের তথ্য ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ বা প্রতিবেদন তৈরির কাজে এর রাউটার ও ফিল্টার সুবিধা দেয়।

নিজস্ব সফটওয়্যার, এপিআই কিংবা বিশেষভাবে তৈরি কোড নিয়ে কাজ করতে হলে এন৮এন বেশি উপযোগী হতে পারে। তবে নিজের সার্ভারে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সার্ভার পরিচালনার দায়িত্ব ও খরচ হিসাব করা প্রয়োজন।

প্রথম অটোমেশনটি ছোট রাখুন। প্রয়োজনীয় ট্রিগার ও অ্যাকশন পাওয়া যাচ্ছে কি না দেখুন। প্রকৃত গ্রাহকের তথ্যের বদলে নমুনা তথ্য দিয়ে পরীক্ষা করুন। একই তথ্য দুবার এলে কী হচ্ছে, সেটিও দেখা দরকার। তা না হলে একই ব্যক্তিকে একাধিক ইমেইল পাঠানো কিংবা একই তথ্য বারবার সংরক্ষিত হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

এরপর কয়েক দিন টাস্ক, ক্রেডিট কিংবা কর্মপ্রবাহ সম্পাদনের হিসাব পর্যবেক্ষণ করুন। বিনামূল্যের প্যাকেজ যথেষ্ট কি না, তখন বোঝা সহজ হবে।

জাপিয়ার বনাম মেক বনাম এন৮এন তুলনায় নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য জাপিয়ার সাধারণত সবচেয়ে সহজ সূচনা। তবে কাজের ধরন ও পরিমাণ বাড়লে মেক বা এন৮এন বেছে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকতে পারে। প্রথমে একটি ছোট কাজ নিয়মিত চালিয়ে দেখলে কোন সুবিধাটি সত্যিই প্রয়োজন, তা নিয়ে আর অনুমান করতে হবে না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. জাপিয়ার, মেক ও এন৮এনের মধ্যে নতুনদের জন্য কোনটি সবচেয়ে সহজ?

সাধারণ অটোমেশন তৈরির ক্ষেত্রে জাপিয়ার নতুনদের জন্য তুলনামূলক সহজ। এখানে ধাপে ধাপে অ্যাপ যুক্ত করে কাজ সাজানো যায়। মেকে একাধিক শর্তে কাজ তৈরির সুবিধা বেশি, তবে শেখার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। এন৮এন মূলত এপিআই, কোড বা নিজস্ব সার্ভার নিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য বেশি উপযোগী।

২. জাপিয়ার ও মেক কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়?

দুটি সফটওয়্যারেরই বিনামূল্যের প্যাকেজ রয়েছে, তবে ব্যবহারের সীমা আছে। জাপিয়ারে মাসে ১০০টি টাস্ক এবং মেকে ১,০০০ ক্রেডিট পাওয়া যায়। মেকের বিনামূল্যের প্যাকেজে সর্বোচ্চ ২টি সক্রিয় সিনারিও রাখা যায়। নিয়মিত বেশি কাজ চালাতে হলে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া প্যাকেজের প্রয়োজন হতে পারে।

৩. কোডিং না জানলেও কি এন৮এন ব্যবহার করা সম্ভব?

হ্যাঁ, এন৮এনের অনেক অটোমেশন কোড না লিখেও তৈরি করা যায়। প্রস্তুত নোড ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপ যুক্ত করা সম্ভব। তবে বিশেষ ধরনের এপিআই সংযোগ, জটিল তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বা নিজস্ব সার্ভার পরিচালনার জন্য কারিগরি জ্ঞান প্রয়োজন হতে পারে।

৪. ছোট ব্যবসার জন্য জাপিয়ার ভালো, নাকি মেক?

ব্যবসার কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করবে। শুধু অর্ডারের তথ্য সংরক্ষণ, ইমেইল পাঠানো বা সাধারণ নোটিফিকেশনের জন্য জাপিয়ার সুবিধাজনক। অন্যদিকে অর্ডার বাছাই, একাধিক শর্তে তথ্য পাঠানো বা জটিল কর্মপ্রবাহ তৈরির প্রয়োজন হলে মেক বিবেচনা করা ভালো।

৫. এন৮এন নিজের সার্ভারে চালালে কি কোনো খরচ নেই?

এন৮এনের কমিউনিটি সংস্করণ নির্দিষ্ট লাইসেন্সের শর্ত মেনে বিনা লাইসেন্স ফিতে ব্যবহার করা যায়। তবে সার্ভার, তথ্য সংরক্ষণ, ব্যাকআপ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ থাকতে পারে। তাই সফটওয়্যারটি বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও নিয়মিত অটোমেশন পরিচালনা পুরোপুরি খরচমুক্ত নয়।

৬. অটোমেশন চালানোর মাসিক খরচ কীভাবে কমানো যায়?

প্রথমে অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দিন এবং একই তথ্য বারবার পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না দেখুন। যেখানে উপযুক্ত, সেখানে নির্দিষ্ট সময় পরপর তথ্য খোঁজার বদলে ওয়েবহুক ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি জাপিয়ারের টাস্ক, মেকের ক্রেডিট ও এন৮এনের কর্মপ্রবাহ সম্পাদনের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ চিহ্নিত করা সহজ হবে।

সর্বশেষ