একই বিষয়ের ওপর একাধিক নিবন্ধ প্রকাশ করেও অনেক ওয়েবসাইট অনুসন্ধান থেকে কাঙ্ক্ষিত পাঠক পায় না। প্রতিটি নিবন্ধে আলাদা মূলশব্দ থাকে, অভ্যন্তরীণ সংযোগও দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকটি পৃষ্ঠা একই ধরনের অনুসন্ধানের জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারে। আবার কোনো নিবন্ধে পাঠকের মূল প্রশ্নের যথাযথ উত্তর থাকে না।
এ ধরনের সমস্যা কমাতে বিষয়গুচ্ছ পরিকল্পনা শুরুর আগে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের একটি মানচিত্র তৈরি করা কার্যকর হতে পারে। এতে বোঝা যায়, মানুষ কোন উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান করছে, কোন প্রশ্নের জন্য আলাদা পৃষ্ঠা প্রয়োজন এবং কোন মূলশব্দগুলো একই নিবন্ধে রাখা যুক্তিসংগত।
কাজটি করতে প্রথমে প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধানবাক্য সংগ্রহ করতে হবে। এরপর গুগলের অনুসন্ধানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে উদ্দেশ্য শনাক্ত, কাছাকাছি মূলশব্দ একত্র এবং প্রতিটি বিষয়কে উপযুক্ত পৃষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এই পরিকল্পনা অনুসন্ধানের ফলাফলে ভালো অবস্থানের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে অপ্রয়োজনীয় নিবন্ধ তৈরি এবং একই উদ্দেশ্যের একাধিক পৃষ্ঠা প্রকাশের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র ও বিষয়গুচ্ছের মধ্যে পার্থক্য
বিষয়গুচ্ছ হলো একটি মূল বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক নিবন্ধ সাজানোর পদ্ধতি। সাধারণত এতে একটি বিস্তৃত মূল পৃষ্ঠা থাকে। সেটির সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা উপবিষয় নিয়ে লেখা সহায়ক নিবন্ধ যুক্ত থাকে। অন্যদিকে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র হলো একটি পরিকল্পনাপত্র, যেখানে অনুসন্ধানবাক্য, ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, প্রত্যাশিত তথ্য এবং উপযুক্ত পৃষ্ঠার সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
ধরা যাক, একটি ওয়েবসাইটে ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে। সম্ভাব্য বিষয়গুলো হলো:
- ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন কী
- ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন কীভাবে শুরু করবেন
- ইমেইল বিপণনের সফটওয়্যারের তুলনা
- ইমেইল বিপণনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরির নিয়ম
- নির্দিষ্ট ইমেইল বিপণন সফটওয়্যারের দাম
সবগুলো বিষয় একই বিষয়গুচ্ছের অংশ হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য এক নয়।
কেউ বিষয়টি বুঝতে চাইছেন, কেউ কাজ শেখার নির্দেশনা খুঁজছেন, আবার কেউ সফটওয়্যার কেনার আগে বিভিন্ন বিকল্প তুলনা করছেন। এই পার্থক্য মাথায় রেখে পৃষ্ঠা পরিকল্পনা করাই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র তৈরির কাজ।
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের চারটি ধরন আগে বুঝে নিন

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও বিশ্লেষণে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য সাধারণত চারটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এগুলো ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য বোঝার প্রচলিত পদ্ধতি। তবে প্রতিটি অনুসন্ধানকে নির্ভুলভাবে একটি শ্রেণিতে রাখা সম্ভব নয়।
তথ্য জানার উদ্দেশ্য
ব্যবহারকারী কোনো বিষয় বুঝতে, প্রশ্নের উত্তর পেতে বা কাজের পদ্ধতি শিখতে চান।
যেমন, ‘ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন কী’ কিংবা ‘স্বয়ংক্রিয় ইমেইল ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে’।
এ ধরনের অনুসন্ধানের জন্য ব্যাখ্যামূলক নিবন্ধ, ধাপে ধাপে নির্দেশনা বা শিক্ষামূলক ভিডিও উপযোগী হতে পারে।
তুলনা ও মূল্যায়নের উদ্দেশ্য
ব্যবহারকারী পণ্য বা সেবা বেছে নেওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
যেমন, ‘সেরা ইমেইল বিপণন সফটওয়্যার’ অথবা ‘মেইলচিম্প বনাম ব্রেভো’।
এখানে সাধারণ সংজ্ঞার পরিবর্তে সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য, সীমাবদ্ধতা, ব্যবহারযোগ্যতা ও মূল্য পরিকল্পনার তুলনা বেশি প্রাসঙ্গিক।
নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার উদ্দেশ্য
ব্যবহারকারী সফটওয়্যার কেনা, অর্থের বিনিময়ে সেবার সদস্যতা নেওয়া বা কোনো সেবায় নিবন্ধনের মতো কাজ করতে চান।
যেমন, ‘ব্রেভোর সদস্যতা’।
এ ধরনের অনুসন্ধানের জন্য পণ্য, মূল্য বা নিবন্ধনসংক্রান্ত পৃষ্ঠা উপযুক্ত হতে পারে।
নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যাওয়ার উদ্দেশ্য
ব্যবহারকারী আগে থেকেই একটি ওয়েবসাইট বা অনলাইন সেবা চেনেন এবং সেখানে যেতে চান।
যেমন, ‘মেইলচিম্পে প্রবেশ’।
এ ধরনের মূলশব্দ সাধারণ শিক্ষামূলক ব্লগের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। একটি অনুসন্ধানবাক্যে একাধিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। মূলশব্দ বিশ্লেষণের সফটওয়্যারগুলোও কখনো একাধিক উদ্দেশ্য শনাক্ত করে। ফলে শুধু উদ্দেশ্যের শ্রেণি দেখে নিবন্ধের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা ঠিক নয়।
ধাপ ১: মূল বিষয়, পাঠক ও নিবন্ধের সীমা নির্ধারণ করুন
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র তৈরির আগে ঠিক করুন, ওয়েবসাইট কোন পাঠকগোষ্ঠীর কী ধরনের সমস্যার সমাধান করবে। ধরা যাক, একটি ডিজিটাল বিপণনবিষয়ক ব্লগ ছোট ব্যবসার মালিকদের জন্য ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন নিয়ে একটি বিষয়গুচ্ছ তৈরি করতে চায়।
এখানে তিনটি প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার থাকা দরকার।
- পাঠক কারা? ছোট ব্যবসার মালিক, নতুন বিপণনকর্মী, নাকি স্বয়ংক্রিয় বিপণনব্যবস্থার অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ?
- তাঁদের প্রধান প্রয়োজন কী? ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন শেখা, সফটওয়্যার নির্বাচন করা, নাকি বিদ্যমান প্রচারণার ফল উন্নত করা?
- কোন বিষয়গুলো এই বিষয়গুচ্ছে থাকবে না? ব্যক্তিগত ইমেইল হিসাব খোলা বা সাধারণ ইমেইল সমস্যার সমাধান মূল পরিকল্পনার বাইরে রাখা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের লক্ষ্য করলে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় করা প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধান বিবেচনায় রাখুন। যেমন, ‘ইমেইল বিপণন সফটওয়্যার’ এবং একই বিষয়ের ইংরেজি অনুসন্ধানবাক্য কাছাকাছি প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারে। তবে অনুসন্ধানের ফলাফল না দেখে দুটি অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য অভিন্ন ধরে নেওয়া উচিত নয়।
ধাপ ২: সম্ভাব্য অনুসন্ধানবাক্যের তালিকা তৈরি করুন
এবার মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে মূলশব্দ সংগ্রহ করুন। শুরুতে পাঁচ থেকে দশটি সাধারণ শব্দ বা বাক্যাংশ নেওয়া যেতে পারে। এগুলো থেকে সম্পর্কিত প্রশ্ন, তুলনামূলক অনুসন্ধান এবং নির্দিষ্ট সমস্যার মূলশব্দ বের করুন। এই সংখ্যা কাজ শুরুর সুবিধার্থে দেওয়া, কোনো বাধ্যতামূলক এসইও নিয়ম নয়।
তথ্য সংগ্রহের জন্য কয়েকটি জায়গা ব্যবহার করতে পারেন।
- গুগল সার্চ কনসোল: বিদ্যমান ওয়েবসাইট কোন কোন অনুসন্ধানবাক্যের জন্য ফলাফলে প্রদর্শিত হচ্ছে, তা জানার জন্য।
- গুগল অনুসন্ধান: অনুসন্ধানের সময় দেখানো শব্দের পরামর্শ ও সম্পর্কিত অনুসন্ধান থেকে সম্ভাব্য বিষয় খুঁজতে।
- গুগল ট্রেন্ডস: সময় ও অঞ্চলভেদে অনুসন্ধানের আপেক্ষিক আগ্রহ বুঝতে।
- আহরেফস বা সেমরাশ: সম্পর্কিত মূলশব্দ, আনুমানিক অনুসন্ধানের পরিমাণ, প্রতিযোগিতা এবং অনুসন্ধানের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে।
- নিজস্ব ওয়েবসাইট: প্রকাশিত নিবন্ধ, পাঠকের প্রশ্ন ও ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের তথ্য থেকে নতুন বিষয় শনাক্ত করতে।
এখানে সফটওয়্যারগুলোর দেওয়া তথ্যের পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন।
গুগল ট্রেন্ডস সরাসরি মোট অনুসন্ধানের সংখ্যা দেখায় না। নির্দিষ্ট সময় ও অঞ্চলের অনুসন্ধানের আপেক্ষিক জনপ্রিয়তা বোঝাতে সাধারণত শূন্য থেকে একশর একটি সূচক ব্যবহার করে। অন্যদিকে আহরেফস ও সেমরাশের অনুসন্ধানের পরিমাণ এবং প্রতিযোগিতাসংক্রান্ত তথ্যও অনুমাননির্ভর। এগুলোকে নিশ্চিত পাঠকসংখ্যার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত নয়।
কোনো সফটওয়্যারে মূলশব্দ পাওয়া মানেই সেটি আপনার নিবন্ধ পরিকল্পনার জন্য উপযুক্ত নয়। ধরা যাক, ‘ইমেইল বিপণনের চাকরি’ একটি সম্পর্কিত অনুসন্ধানবাক্য হিসেবে পাওয়া গেল। কিন্তু ওয়েবসাইটের লক্ষ্য যদি ব্যবসায়ীদের ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন শেখানো হয়, তাহলে চাকরিসংক্রান্ত এই অনুসন্ধানকে আলাদা বিষয়গুচ্ছের জন্য রাখা ভালো। প্রথম তালিকায় সম্ভাব্য বিষয়গুলো রাখুন। পরবর্তী বিশ্লেষণে অপ্রাসঙ্গিক মূলশব্দ বাদ দিন।
ধাপ ৩: গুগল সার্চ কনসোল থেকে বিদ্যমান পৃষ্ঠা বিশ্লেষণ করুন
নতুন বিষয়গুচ্ছ তৈরির আগে ওয়েবসাইটে কোন বিষয়গুলো ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, তা দেখা প্রয়োজন। এতে নতুন নিবন্ধের সঙ্গে পুরোনো পৃষ্ঠার অপ্রয়োজনীয় মিল শনাক্ত করা সহজ হয়। গুগল সার্চ কনসোলে যাচাইকৃত ওয়েবসাইট নির্বাচন করে কার্যসম্পাদন → অনুসন্ধানের ফলাফল বিভাগে যান। গুগল সার্চ কনসোলের ইংরেজি ভাষার প্রদর্শনে এই বিভাগগুলোর নাম ইংরেজিতে থাকবে।
এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
১. অনুসন্ধানবাক্য বিভাগে গিয়ে মূল বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অনুসন্ধানগুলো খুঁজুন।
২. প্রয়োজন হলে ছাঁকনি যোগ করুন থেকে অনুসন্ধানবাক্য নির্বাচন করে নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যাংশের ফলাফল দেখুন।
৩. কোনো অনুসন্ধানবাক্য নির্বাচন করে পৃষ্ঠা বিভাগে যান।
৪. ওই অনুসন্ধানের জন্য কোন কোন ওয়েব ঠিকানা ফলাফলে দেখানো হয়েছে, তা পরীক্ষা করুন।
৫. সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাগুলোর ক্লিক, প্রদর্শনের সংখ্যা এবং গড় অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করুন।
বিশেষভাবে দেখুন, একই অনুসন্ধানবাক্যের জন্য একাধিক পৃষ্ঠা প্রদর্শিত হচ্ছে কি না। এমন হলে পৃষ্ঠাগুলোর বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য মিলিয়ে দেখুন।
তবে একই অনুসন্ধানে একাধিক ওয়েব ঠিকানা পাওয়া গেলেই নিজস্ব পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর প্রতিযোগিতা হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। গুগল সার্চ কনসোলের গড় অবস্থানও নির্দিষ্ট একটি স্থায়ী অবস্থান বোঝায় না। নির্বাচিত পৃষ্ঠা, অনুসন্ধানবাক্য বা প্রতিবেদনের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন অনুসন্ধানে প্রদর্শিত অবস্থান থেকে এই গড় হিসাব করা হয়।
এ ছাড়া গুগল সার্চ কনসোল সব অনুসন্ধানবাক্যের তথ্য দেখায় না। গোপনীয়তার কারণে কিছু অনুসন্ধান বাদ দেওয়া হয় এবং প্রতিবেদনে প্রদর্শিত সারির সংখ্যারও সীমা রয়েছে। ফলে রেখাচিত্রের মোট তথ্য ও সারণির হিসাব সব সময় এক নাও হতে পারে। নতুন ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত অনুসন্ধানের তথ্য না থাকলে প্রকাশিত পৃষ্ঠার তালিকা এবং সরাসরি অনুসন্ধানের ফলাফল বিশ্লেষণ দিয়েই কাজ শুরু করুন।
ধাপ ৪: প্রতিটি মূলশব্দের অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই করুন
একটি মূলশব্দ দেখে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু সেই ধারণা যথেষ্ট কি না, তা বোঝার জন্য অনুসন্ধানের ফলাফল পরীক্ষা করা দরকার। ধরা যাক, ‘ইমেইল বিপণনের সফটওয়্যার’ লিখে কেউ অনুসন্ধান করেছেন।
তিনি সফটওয়্যারের নাম জানতে চাইতে পারেন। আবার বিনামূল্যের সফটওয়্যার, মূল্য তুলনা অথবা সরাসরি ব্যবহারের উপযোগী কোনো সেবাও খুঁজতে পারেন। প্রাথমিক বিশ্লেষণে অনুসন্ধানের ফলাফলের প্রথম পাঁচ থেকে দশটি প্রাসঙ্গিক পৃষ্ঠা দেখতে পারেন। এটি গবেষণার একটি ব্যবহারিক পদ্ধতি, গুগলের নির্ধারিত নিয়ম নয়।
পর্যবেক্ষণের সময় তিনটি বিষয় লিখে রাখুন।
- কী ধরনের পৃষ্ঠা বেশি দেখা যাচ্ছে? তথ্যভিত্তিক নিবন্ধ, সফটওয়্যারের তালিকা, তুলনামূলক নির্দেশনা, পণ্যের পৃষ্ঠা নাকি ভিডিও?
- তথ্য কীভাবে সাজানো হয়েছে? ফলাফলগুলো ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিচ্ছে, বিস্তারিত ব্যাখ্যা করছে, নাকি বিভিন্ন বিকল্প তুলনা করছে?
- কোন তথ্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? দাম, বিনামূল্যের সুবিধা, নতুনদের উপযোগিতা, বাস্তব উদাহরণ অথবা নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান?
অনুসন্ধানের দেশ, ভাষা ও সময়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।
একই মূলশব্দে বাংলাদেশ ও ভারতের অনুসন্ধানের ফলাফল আলাদা হতে পারে। ব্যবহারকারীর অবস্থান, ভাষার সেটিং, যন্ত্র এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ফলাফল দেখানোর কারণেও পার্থক্য দেখা যায়।
গুগল অনুসন্ধানের দেশ ও ভাষার সেটিং পরিবর্তন করে প্রাসঙ্গিক ফলাফল তুলনা করা যায়। তবে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ফলাফল দেখানোর ব্যবস্থা বন্ধ করলেই সব ব্যবহারকারীর জন্য একই ফলাফল পাওয়া যাবে, এমন নয়। তাই একটি অনুসন্ধানের ফলাফল দেখে স্থায়ী সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য অঞ্চল বা সময়ের ফলাফলও মিলিয়ে দেখুন।
ধাপ ৫: একই উদ্দেশ্যের মূলশব্দ একত্র করুন

সব মূলশব্দের জন্য আলাদা নিবন্ধ তৈরি করলে অপ্রয়োজনীয় পৃষ্ঠার সংখ্যা বাড়তে পারে।
ধরা যাক, গবেষণায় দুটি অনুসন্ধান পাওয়া গেছে।
- ইমেইলের মাধ্যমে বিপণন কীভাবে শুরু করবেন
- নতুনদের জন্য ইমেইল বিপণন শুরু করার নিয়ম
দুটি অনুসন্ধানের ফলাফলে যদি একই ধরনের নির্দেশনামূলক নিবন্ধ বেশি দেখা যায়, তাহলে একটি বিস্তারিত নিবন্ধেই উভয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে ‘ইমেইল বিপণন কী’ এবং ‘ইমেইল বিপণন সফটওয়্যার তুলনা’ আলাদা উদ্দেশ্য প্রকাশ করতে পারে। একটি নিবন্ধে উভয় বিষয় বিস্তারিতভাবে রাখলে পাঠকের প্রয়োজনের সঙ্গে তথ্যের মিল দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মূলশব্দ একত্র করার সময় তিনটি প্রশ্ন করুন।
১. অনুসন্ধানকারীরা কি একই কাজ সম্পন্ন করতে চাইছেন?
২. অনুসন্ধানের ফলাফলে কি উল্লেখযোগ্যভাবে একই ধরনের পৃষ্ঠা দেখা যাচ্ছে?
৩. একটি নিবন্ধে কি উভয় প্রশ্নের যথেষ্ট ও স্বাভাবিক উত্তর দেওয়া সম্ভব?
তিনটির উত্তর ইতিবাচক হলে একই পৃষ্ঠায় মূলশব্দগুলো রাখা যুক্তিসংগত হতে পারে। তবে কয়েকটি অনুসন্ধানের ফলাফলে একই ওয়েব ঠিকানা দেখা যাওয়াই চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রতিটি অনুসন্ধানের মূল প্রয়োজনও বুঝতে হবে।
ধাপ ৬: একটি ব্যবহারযোগ্য অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র তৈরি করুন
সংগৃহীত তথ্য গুগল শিটস বা এক্সেলে সাজান। ছোট ওয়েবসাইটের জন্য সাধারণ সারণিভিত্তিক নথিই যথেষ্ট হতে পারে। প্রতিটি মূলশব্দের পাশে তার উদ্দেশ্য, অনুসন্ধানের ফলাফলে প্রাধান্য পাওয়া তথ্যের ধরন, প্রস্তাবিত পৃষ্ঠা বা বিদ্যমান ওয়েব ঠিকানা এবং কাজের অগ্রাধিকার লিখুন।
প্রয়োজনে লক্ষ্য অঞ্চল, সহায়ক মূলশব্দ, যাচাইয়ের তারিখ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম যোগ করা যায়। ইমেইল বিপণনের জন্য একটি নমুনা মানচিত্র নিচে দেওয়া হলো।
| সম্ভাব্য মূলশব্দ | অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য | নিবন্ধ পরিকল্পনা |
| ইমেইল বিপণন কী | তথ্যভিত্তিক | মূল পৃষ্ঠা |
| ইমেইল বিপণন শুরু করার নিয়ম | তথ্যভিত্তিক, নির্দেশনামূলক | আলাদা নির্দেশনামূলক নিবন্ধ |
| ইমেইল বিপণন সফটওয়্যার তুলনা | কেনার আগে মূল্যায়ন | তুলনামূলক নিবন্ধ |
| স্বয়ংক্রিয় ইমেইল বিপণনব্যবস্থা তৈরির নিয়ম | তথ্যভিত্তিক, নির্দেশনামূলক | সহায়ক নিবন্ধ |
| মেইলচিম্পে প্রবেশ | নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট খোঁজা | সাধারণ বিষয়গুচ্ছ থেকে বাদ |
এটি পরিকল্পনা বোঝানোর নমুনা। এখানে দেখানো মূলশব্দগুলোর প্রকৃত অনুসন্ধানের ফলাফল পরীক্ষা করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়নি। নিজের ওয়েবসাইটের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লক্ষ্য অঞ্চল অনুযায়ী ফলাফল যাচাই করতে হবে। প্রতিটি প্রস্তাবিত পৃষ্ঠার জন্য আলাদা পরিচিতি নম্বর রাখলেও সুবিধা হয়।
যেমন, ইএম-০১ মূল পৃষ্ঠা এবং ইএম-০২ ইমেইল বিপণন শুরুর নির্দেশনামূলক নিবন্ধ বোঝাতে পারে। পরবর্তী সময়ে নতুন মূলশব্দ যোগ হলে সেটি কোন পৃষ্ঠার অধীনে যাবে, তা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: পিলার কনটেন্ট ও ক্লাস্টার কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী?
ধাপ ৭: নিজস্ব পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার ঝুঁকি পরীক্ষা করুন
একই ওয়েবসাইটের একাধিক পৃষ্ঠা যখন একই বা কাছাকাছি মূলশব্দ ও অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য লক্ষ্য করে এবং তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুসন্ধান থেকে আসা সামগ্রিক পাঠকসংখ্যার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন সেটিকে নিজস্ব পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এটি শনাক্ত করতে শুধু একই মূলশব্দের উপস্থিতি দেখা যথেষ্ট নয়।
ধরা যাক, একটি ওয়েবসাইটে দুটি নিবন্ধ রয়েছে।
- ইমেইল বিপণন শুরুর সম্পূর্ণ নির্দেশনা
- নতুনদের জন্য ইমেইল বিপণন করার নিয়ম
দুটির বিষয়বস্তু প্রায় একই এবং পাঠকের উদ্দেশ্যও মিলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুটি পৃষ্ঠা আলাদাভাবে রাখার প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। প্রথমে দেখুন, পৃষ্ঠা দুটি একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে কি না। কোনো একটিতে স্বতন্ত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন।
এরপর অনুসন্ধানের ফলাফলে পৃষ্ঠাগুলোর কার্যকারিতা দেখুন। একই অনুসন্ধানে পৃষ্ঠাগুলোর অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে কি না এবং একত্র করলে অন্য মূলশব্দ থেকে আসা পাঠক বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ঝুঁকি আছে কি না, তা বিবেচনা করুন।
কখন দুটি পৃষ্ঠা একত্র করা যুক্তিসংগত?
দুটি পৃষ্ঠা প্রায় একই উদ্দেশ্য পূরণ করলে কার্যকর অংশগুলো নিয়ে একটি উন্নত নিবন্ধ তৈরি করা যেতে পারে। তবে একত্র করার আগে উভয় পৃষ্ঠার অন্য মূলশব্দ থেকে আসা পাঠক, বাইরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া সংযোগ এবং স্বতন্ত্র বিষয়বস্তু পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
পুরোনো কোনো ওয়েব ঠিকানা বন্ধ করে তার তথ্য নতুন বা বিদ্যমান প্রাসঙ্গিক পৃষ্ঠায় স্থানান্তর করলে স্থায়ীভাবে নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত সার্ভারের মাধ্যমে ৩০১ বা ৩০৮ সংকেত ব্যবহার উপযোগী। পুরোনো ঠিকানায় দেওয়া অভ্যন্তরীণ সংযোগগুলোও হালনাগাদ করতে হবে।
কিন্তু দুটি পৃষ্ঠা ভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করলে আলাদা রাখাই যুক্তিসংগত।
একই মূলশব্দে দুটি পৃষ্ঠা দেখা যাওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্যা মনে করবেন না। অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, পৃষ্ঠার পার্থক্য ও সামগ্রিক কার্যকারিতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। আরেকটি ভুল হলো, ভিন্ন উদ্দেশ্যের পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে বিষয়গত মিল কমাতে নির্বিচারে প্রধান ওয়েব ঠিকানা নির্দেশক ট্যাগ ব্যবহার করা।
এই নির্দেশক মূলত হুবহু এক বা অত্যন্ত সদৃশ তথ্যসমৃদ্ধ পৃষ্ঠাগুলোর ক্ষেত্রে পছন্দের ওয়েব ঠিকানা জানাতে ব্যবহৃত হয়। গুগল এটিকে একটি সংকেত হিসেবে বিবেচনা করে, বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে নয়। আলাদা উদ্দেশ্যের নিবন্ধ একত্র করার বিকল্প হিসেবে এই নির্দেশক ব্যবহার করা ঠিক নয়।
ধাপ ৮: অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র থেকে বিষয়গুচ্ছ সাজান
মানচিত্র তৈরি হয়ে গেলে কোন পৃষ্ঠাটি মূল হবে এবং কোনগুলো সহায়ক নিবন্ধ হবে, তা নির্ধারণ করুন। মূল পৃষ্ঠায় বিষয়ের বিস্তৃত ধারণা থাকবে। সহায়ক নিবন্ধগুলো নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা কাজ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবে।
ইমেইল বিপণনের উদাহরণে সম্ভাব্য কাঠামো হতে পারে:
মূল পৃষ্ঠা: ইমেইল বিপণন: শুরু থেকে প্রচারণা পরিচালনার নির্দেশনা
সহায়ক নিবন্ধ:
- ইমেইল ঠিকানার তালিকা তৈরির নিয়ম
- ইমেইল বিপণন সফটওয়্যারের তুলনা
- স্বয়ংক্রিয় ইমেইল ব্যবস্থা চালুর নিয়ম
- ইমেইল খোলার হার ও সংযোগে ক্লিকের হার বোঝার উপায়
- ইমেইল বিপণনের সাধারণ ভুল
প্রতিটি সহায়ক নিবন্ধ থেকে প্রাসঙ্গিক জায়গায় মূল পৃষ্ঠায় সংযোগ দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে মূল পৃষ্ঠা থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্তারিত নির্দেশনামূলক নিবন্ধে সংযোগ দিন। তবে সব নিবন্ধকে একইভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন নেই। দুটি সহায়ক নিবন্ধের মধ্যে সরাসরি বিষয়গত সম্পর্ক থাকলে সেখানেও সংযোগ দেওয়া পাঠকের জন্য উপকারী হতে পারে।
সংযোগের দৃশ্যমান লেখায় গন্তব্য পৃষ্ঠার বিষয় পরিষ্কার রাখুন। যেমন, ‘স্বয়ংক্রিয় ইমেইল ব্যবস্থা চালুর নিয়ম’। প্রাসঙ্গিক অভ্যন্তরীণ সংযোগ পাঠককে পরবর্তী তথ্য খুঁজতে সাহায্য করে এবং অনুসন্ধান ব্যবস্থাকে পৃষ্ঠাগুলোর সম্পর্ক বুঝতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু সংযোগ তৈরি করলেই বিষয়গুচ্ছের সব পৃষ্ঠা অনুসন্ধানের ফলাফলে ভালো অবস্থান পাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ধাপ ৯: কোন নিবন্ধ আগে প্রকাশ করবেন, তা ঠিক করুন
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র তৈরির পর সব নিবন্ধ একসঙ্গে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। আগে কোন বিষয়টি প্রকাশ করা উচিত, সেটি নির্ধারণ করুন।
অগ্রাধিকার ঠিক করতে চারটি বিষয় দেখুন।
- পাঠকের প্রয়োজন: নিবন্ধটি কি লক্ষ্য পাঠকের বাস্তব সমস্যার উত্তর দেবে?
- বিদ্যমান নিবন্ধের ঘাটতি: একই প্রয়োজন পূরণ করার মতো কার্যকর নিবন্ধ আগে থেকেই রয়েছে কি না।
- প্রস্তুতির সক্ষমতা: বিষয়টি নির্ভরযোগ্যভাবে লিখতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দক্ষতা আছে কি না।
- প্রকাশনাগত লক্ষ্য: নিবন্ধটি ওয়েবসাইটের মূল বিষয় ও পাঠকগোষ্ঠীর সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত।
এখানে শুধু অনুসন্ধানের পরিমাণকে গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। কোনো বিশেষায়িত প্রশ্নের অনুসন্ধান তুলনামূলক কম হলেও নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠীর জন্য সেটি বেশি উপযোগী হতে পারে। নতুন ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে প্রথমে এমন কয়েকটি নিবন্ধ প্রকাশ করা বাস্তবসম্মত, যেগুলো মূল বিষয় ব্যাখ্যা করে এবং পরবর্তী সহায়ক নিবন্ধের ভিত্তি তৈরি করে।
অবশ্য মূল পৃষ্ঠা আগে প্রকাশ করতেই হবে, এমন নিয়ম নেই। বিদ্যমান নিবন্ধ, প্রস্তুতি ও পাঠকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকাশনার ক্রম বদলানো যায়।
ধাপ ১০: প্রকাশের পর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র হালনাগাদ করুন
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র একবার তৈরি করে রেখে দেওয়ার নথি নয়। নতুন অনুসন্ধান, ফলাফলের পরিবর্তন এবং প্রকাশিত নিবন্ধের কার্যকারিতা অনুযায়ী এটি সংশোধন করতে হবে। গুগল সার্চ কনসোল থেকে নিয়মিত দেখুন, কোন অনুসন্ধানবাক্যে পৃষ্ঠার প্রদর্শন বাড়ছে বা কমছে। নির্দিষ্ট অনুসন্ধানে কোন ওয়েব ঠিকানা বেশি দেখা যাচ্ছে, সেটিও পর্যবেক্ষণ করুন।
কোনো নিবন্ধ অপ্রত্যাশিত মূলশব্দে প্রদর্শিত হলে দেখুন, সেটি নতুন নিবন্ধ তৈরির সুযোগ তৈরি করছে কি না। আবার প্রকাশিত নিবন্ধের বিষয় ও পাঠকের অনুসন্ধানের মধ্যে অমিল থাকলেও মানচিত্র সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। কোনো পৃষ্ঠা প্রত্যাশিত ফল না দিলে প্রথমেই নতুন নিবন্ধ প্রকাশ করবেন না।
আগের পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু, শিরোনাম, তথ্যের গভীরতা এবং অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিল পরীক্ষা করুন। অনুসন্ধান থেকে পাঠক কম আসার কারণ সব সময় নিবন্ধ পরিকল্পনা নয়। প্রতিযোগিতা, মৌসুমি চাহিদা, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং অনুসন্ধানের ফলাফলের পরিবর্তনও প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে আগের সমতুল্য সময়ের সঙ্গে কার্যকারিতা তুলনা করুন। নতুন পৃষ্ঠার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থপূর্ণ পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ হওয়া প্রয়োজন।
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র তৈরিতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
পরিকল্পনা তৈরির সময় কয়েকটি ভুল পরবর্তী নিবন্ধ ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
- প্রতিটি মূলশব্দের জন্য নতুন ওয়েব ঠিকানা তৈরি করা: এতে একই উদ্দেশ্যের একাধিক নিবন্ধ তৈরি হতে পারে। নতুন পৃষ্ঠা তৈরির আগে বিদ্যমান নিবন্ধে বিষয়টি যুক্ত করা সম্ভব কি না, দেখুন।
- শুধু মূলশব্দ বিশ্লেষণের সফটওয়্যারের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর নির্ভর করা: স্বয়ংক্রিয় শ্রেণিবিন্যাস কাজে লাগলেও প্রকৃত অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন। একই মূলশব্দে একাধিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
- প্রতিযোগীর পুরো কাঠামো অনুসরণ করা: অন্য ওয়েবসাইটের পাঠক, ব্যবসায়িক লক্ষ্য ও নিবন্ধের পরিধি আলাদা হতে পারে। প্রতিযোগীর কাঠামোকে গবেষণার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করুন, প্রস্তুত পরিকল্পনা হিসেবে নয়।
- পুরোনো পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা: এতে বিদ্যমান কার্যকর নিবন্ধের সঙ্গে নতুন নিবন্ধের অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
- শুধু অনুসন্ধানের ফলাফলে অবস্থান লক্ষ্য করা: অনুসন্ধান থেকে আসা পাঠকসংখ্যার পাশাপাশি পাঠক প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন কি না এবং ওয়েবসাইটের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা দরকার।
একটি ছোট বিষয়গুচ্ছ দিয়েই কাজ শুরু করুন
প্রথমবার অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র তৈরি করতে পুরো ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ শুরু করার প্রয়োজন নেই। একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিয়ে তার প্রাসঙ্গিক মূলশব্দ এবং বিদ্যমান পৃষ্ঠাগুলোর তালিকা তৈরি করুন। এরপর অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই করে প্রতিটি মূলশব্দ কোন পৃষ্ঠায় থাকবে, তা নির্ধারণ করুন।
বিষয়গুচ্ছ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হলো, কোন পাঠকের কোন সমস্যার সমাধান করতে একটি পৃষ্ঠা তৈরি করা হচ্ছে।
একই প্রয়োজনের জন্য নতুন নিবন্ধ প্রকাশ না করে পুরোনো নিবন্ধ উন্নত করার সুযোগ থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। আর যে প্রশ্নগুলোর জন্য আলাদা ও বিস্তারিত উত্তর প্রয়োজন, সেগুলোকে সহায়ক নিবন্ধ হিসেবে রাখুন। মানচিত্রটি নিয়মিত হালনাগাদ করলে পরবর্তী নিবন্ধ পরিকল্পনা, পুরোনো পৃষ্ঠার মূল্যায়ন এবং নতুন নিবন্ধের বিষয় নির্বাচনের সময় একই তথ্য আবার সংগ্রহ করতে হবে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র তৈরির জন্য কি অর্থের বিনিময়ে এসইও সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে?
না। গুগল অনুসন্ধান, গুগল সার্চ কনসোল, গুগল ট্রেন্ডস এবং একটি সাধারণ সারণিভিত্তিক নথি দিয়ে প্রাথমিক মানচিত্র তৈরি করা যায়। তবে গুগল সার্চ কনসোল থেকে নিজের ওয়েবসাইটের তথ্য দেখতে সেই ওয়েবসাইটে অনুমোদিত প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। বড় ওয়েবসাইটে অনেক মূলশব্দ বিশ্লেষণ করতে হলে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সফটওয়্যার কাজ সহজ করতে পারে। এসব সফটওয়্যারের তথ্য ও স্বয়ংক্রিয় শ্রেণিবিন্যাস যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একটি মূলশব্দের একাধিক অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য থাকলে কী করবেন?
অনুসন্ধানের ফলাফলে কোন উদ্দেশ্যটি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, তা শনাক্ত করুন। প্রয়োজন হলে মানচিত্রে মূল উদ্দেশ্যের পাশাপাশি দ্বিতীয় উদ্দেশ্যও লিখে রাখুন। দুটি উদ্দেশ্যের জন্য স্পষ্টভাবে আলাদা ধরনের নিবন্ধ প্রয়োজন হলে পৃথক পৃষ্ঠা তৈরির কথা বিবেচনা করা যায়। তবে নতুন পৃষ্ঠা তৈরির আগে বিদ্যমান নিবন্ধের সঙ্গে সম্ভাব্য মিল পরীক্ষা করুন।
অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের মানচিত্র কত দিন পরপর হালনাগাদ করা উচিত?
নির্দিষ্ট সময়সীমা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। নতুন নিবন্ধ পরিকল্পনা, অনুসন্ধানের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন অথবা বিদ্যমান পৃষ্ঠার কার্যকারিতা বদলালে মানচিত্র পর্যালোচনা করা উচিত। নিয়মিত প্রকাশনা চালু থাকা ওয়েবসাইটে মাসিক নিবন্ধ পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এটি রাখা যায়। এটি সম্পাদকীয় কাজের সম্ভাব্য সময়সূচি, অনুসন্ধান ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।


