অ্যাপ অনুমতি নিরীক্ষা: কোন অ্যাপ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও অবস্থান ব্যবহার করছে

সর্বাধিক আলোচিত

একটা অ্যাপ ছয় মাস আগে ইনস্টল করেছিলেন। প্রথমবার খুলতেই ক্যামেরা চেয়েছিল, অবস্থানও চেয়েছিল। তখন দরকার ছিল বলে অনুমতি দিয়েছেন। এখন অ্যাপটি হয়তো ফোনের দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্দায় পড়ে আছে, ব্যবহারই হয় না। অনুমতি কিন্তু থেকে যেতে পারে।

এ কারণেই মাঝে মাঝে অ্যাপ অনুমতি নিরীক্ষা করা কাজে দেয়। বিষয়টি খুব জটিলও নয়। মূলত দেখতে হবে—কোন অ্যাপ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা অবস্থান ব্যবহার করতে পারে, সেই অনুমতি কতটা বিস্তৃত, আর সাম্প্রতিক সময়ে সত্যিই সেটি ব্যবহার হয়েছে কি না।

সব অনুমতি বন্ধ করে দেওয়ার দরকার নেই। ভিডিও কলে মাইক্রোফোন লাগবেই, কিউআর কোড স্ক্যান করতে ক্যামেরা দরকার। প্রশ্নটা অন্য জায়গায়: যে অনুমতি দিয়েছিলেন, এখনও কি সেটুকু প্রয়োজন?

শুরু করুন তিনটি অনুমতি দিয়ে

ফোনের সব গোপনীয়তা সেটিং একসঙ্গে দেখতে গেলে কাজটা অকারণে বড় হয়ে যায়। ক্যামেরা, মাইক্রোফোন আর অবস্থান—এই তিনটি দিয়েই শুরু করা সহজ।

অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত:

সেটিংস > নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা > গোপনীয়তা > অনুমতি ব্যবস্থাপক

থেকে অনুমতি অনুযায়ী অ্যাপের তালিকা দেখা যায়। ফোনের নির্মাতা বা অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী মেনু একটু অন্য জায়গায় থাকতে পারে।

একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ নিয়ে সন্দেহ হলে:

সেটিংস > অ্যাপ > অ্যাপের নাম > অনুমতি

পথেও দেখা যায়।

আইফোনে একই কাজ শুরু হয়:

সেটিংস > গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা

থেকে। ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন খুললেই কোন অ্যাপ অনুমতি পেয়েছে দেখা যাবে।

এখানে প্রথমবারেই বেশি কিছু করার দরকার নেই। এমন অ্যাপ খুঁজুন যেগুলো দেখে নিজেরই মনে হচ্ছে, “এটাকে ক্যামেরার অনুমতি দিয়েছিলাম কেন?” উত্তর সব সময় খারাপ কিছু হবে না। কোনো সুবিধা ব্যবহার করার সময় অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, পরে সেটি ভুলে গেছেন—এটাই অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যাখ্যা। কিন্তু কারণটা একেবারেই মনে না পড়লে অনুমতিটি ধরে রাখার দরকার আছে কি না দেখা যায়।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

অবস্থানের ক্ষেত্রে আসল পার্থক্য শুধু চালু আর বন্ধ নয়

অবস্থানের ক্ষেত্রে আসল পার্থক্য শুধু চালু আর বন্ধ নয়

অবস্থান ব্যবহারের অনুমতিতে একটু বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার, কারণ এখানে অনুমতির স্তর আলাদা হতে পারে।

অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাপ অনুযায়ী এমন বিকল্প থাকতে পারে:

  • অ্যাপ ব্যবহারের সময় অনুমতি দিন
  • প্রতিবার জিজ্ঞেস করুন
  • অনুমতি দেবেন না
  • সব সময় অনুমতি দিন

আইফোনে দেখা যেতে পারে:

  • কখনো নয়
  • পরেরবার জিজ্ঞেস করুন বা আমি শেয়ার করলে
  • অ্যাপ ব্যবহারের সময়
  • সব সময়

সব অ্যাপে সব বিকল্প দেখা যায় না।

এখানে “সব সময়” দেখলেই সেটি ভুল—এমন কোনো নিয়ম নেই। পথনির্দেশ, অবস্থাননির্ভর স্বয়ংক্রিয় কাজ বা পেছনে চলতে থাকা কোনো সুবিধার জন্য অবস্থান দরকার হতে পারে। কিন্তু যে অ্যাপ আপনি এমন কোনো কাজে ব্যবহারই করেন না, সেটি সব সময় অবস্থান পাচ্ছে—সেখানে অনুমতি কমানো যায় কি না দেখার যথেষ্ট কারণ আছে।

আরেকটি সেটিং অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়: সুনির্দিষ্ট অবস্থান।

অ্যান্ড্রয়েড ১২ ও পরবর্তী সংস্করণে সমর্থিত অ্যাপের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অবস্থানের বদলে আনুমানিক অবস্থান দেওয়া যায়। আইফোনেও সমর্থিত অ্যাপের অবস্থান-সংক্রান্ত সেটিং থেকে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

প্রতিটি অ্যাপের আপনার একেবারে সঠিক অবস্থান জানার প্রয়োজন হয় না। ধরা যাক কোনো সুবিধার শুধু মোটামুটি এলাকা জানা দরকার। সেখানে আনুমানিক অবস্থান দিয়েও কাজ হতে পারে। আবার ধাপে ধাপে পথনির্দেশের সময় সঠিক অবস্থানই দরকার হতে পারে। কোনটা রাখবেন, সেটা অ্যাপের নাম দেখে নয়—আপনি তার কোন সুবিধা ব্যবহার করেন, সেটি দেখে ঠিক করা ভালো।

অনুমতি দেওয়া আছে, কিন্তু অ্যাপ সেটি ব্যবহার করছে কখন?

এটাই নিরীক্ষার সবচেয়ে কাজে লাগার মতো অংশ।

অ্যান্ড্রয়েডের গোপনীয়তা ড্যাশবোর্ড শুধু অনুমতির তালিকা দেখায় না, সাম্প্রতিক ব্যবহারও দেখায়।

সাধারণভাবে পাওয়া যায়:

সেটিংস > নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা > গোপনীয়তা > গোপনীয়তা ড্যাশবোর্ড

অ্যান্ড্রয়েড ১৩-এ এখানে গত ৭ দিনের কার্যক্রম দেখা যেতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ১২-এ সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত।

অনুমতি ব্যবস্থাপকে কোনো অ্যাপের পাশে অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি আছে দেখাটা এক ধরনের তথ্য। গোপনীয়তা ড্যাশবোর্ডে কখন অবস্থান ব্যবহার করেছে, সেটা দেখা আরেক ধরনের তথ্য। এই দ্বিতীয় তথ্যটাই অনেক সময় বেশি কাজে দেয়। যদি দেখেন এমন সময় অবস্থান বা মাইক্রোফোন ব্যবহার হয়েছে, যখন আপনার মনে পড়ছে না সংশ্লিষ্ট কোনো সুবিধা চালু ছিল, তখন অ্যাপটি আরও ভালো করে দেখা যায়।

তবে একটি সময়চিহ্ন দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর দরকার নেই। কোনো পটভূমিতে চলা সুবিধা বা সেবার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। উদ্দেশ্য হলো অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে সেটি আরেকটু খোঁজা।

আইফোনে কাছাকাছি কাজ করে অ্যাপ গোপনীয়তা প্রতিবেদন।

এটি আইওএস ১৫.২ বা পরবর্তী সংস্করণে পাওয়া যায়:

সেটিংস > গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা > অ্যাপ গোপনীয়তা প্রতিবেদন

এখানে একটি ছোট কিন্তু জরুরি বিষয় আছে। অ্যাপ গোপনীয়তা প্রতিবেদন চালু করার পর থেকে কার্যক্রম জমা হয়। আজ চালু করে গত সপ্তাহের তথ্য পাওয়া যাবে না।

চালু থাকার পর প্রতিবেদনের তথ্য ও সেন্সর ব্যবহার অংশে গত ৭ দিনে অ্যাপগুলো ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, অবস্থান, পরিচিতি, ছবি এবং অন্য গোপনীয়তাসংবেদনশীল তথ্য বা সেন্সর কখন ব্যবহার করেছে, তা দেখা যায়। অ্যাপ কোন ইন্টারনেট ঠিকানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, সে সম্পর্কেও তথ্য থাকতে পারে।

এই প্রতিবেদন দেখার সময় একটি সীমা মাথায় রাখা দরকার। কোনো অ্যাপ ক্যামেরা ব্যবহার করেছে—এতটুকু জানা আর ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্য নির্মাতার সার্ভারে পাঠানো হয়েছে—এই দুই দাবি এক নয়। প্রতিবেদন প্রথমটি দেখাতে পারে। দ্বিতীয়টি ধরে নেওয়ার জন্য আরও তথ্য দরকার।

সবুজ বা কমলা চিহ্নটাও কাজে দেয়

অনেক সময় আলাদা করে সেটিংসে যাওয়ার আগেই ফোন একটা ইঙ্গিত দিয়ে দেয়। অ্যান্ড্রয়েড ১২ বা পরবর্তী সমর্থিত ডিভাইসে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার হলে পর্দার ওপরের দিকে সবুজ চিহ্ন দেখা যায়। সেটি খুললে কোন অ্যাপ বা সেবা ক্যামেরা কিংবা মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে, তা দেখা যেতে পারে।

কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে দ্রুত সেটিংস থেকে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধও করা যায়। আইফোনে আইওএস ১৪ থেকে মাইক্রোফোন ব্যবহার হলে কমলা চিহ্ন দেখা যায়। ক্যামেরা ব্যবহার হলে সবুজ চিহ্ন দেখা যায়। ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন একসঙ্গে ব্যবহার হলেও সবুজ চিহ্নই থাকে।

নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র খুললে সম্প্রতি কোন অ্যাপ এগুলো ব্যবহার করেছে, সেটিও দেখা যায়।

এগুলো দেখলেই দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

ক্যামেরা খুলেছেন, সবুজ চিহ্ন এসেছে—স্বাভাবিক।

ভিডিও কল চলছে, চিহ্ন আছে—সেটাও স্বাভাবিক।

কিন্তু ফোনে অন্য কিছু করছেন, অথচ ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের চিহ্ন হঠাৎ দেখা গেল—তখন অ্যাপের নামটা দেখে নেওয়া যায়। এই ছোট অভ্যাস অনেক সময় পরে দীর্ঘ অনুমতির তালিকা ঘাঁটার চেয়ে দ্রুত উত্তর দেয়।

যেসব অ্যাপ বহুদিন খোলেননি, সেগুলো দিয়ে ঝাড়াই শুরু করুন

নিরীক্ষা করতে গিয়ে পুরোনো অ্যাপের তালিকায় বেশি সময় দেওয়া অনেকের জন্য বেশি কাজে আসবে। কারণ নতুন অ্যাপ কেন ইনস্টল করেছিলেন, সাধারণত মনে থাকে। এক বছর আগের অ্যাপের ক্ষেত্রে তা নাও থাকতে পারে।

সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে অব্যবহৃত অ্যাপের সেটিংস-এর মধ্যে অব্যবহৃত থাকলে অ্যাপের কার্যক্রম স্থগিত করুন ধরনের বিকল্প থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা কিছু অ্যাপের সংবেদনশীল অনুমতি অ্যান্ড্রয়েড স্বয়ংক্রিয়ভাবেও প্রত্যাহার করতে পারে।

তারপরও অ্যাপটি সত্যিই দরকার কি না, সেই সিদ্ধান্ত ফোন আপনার হয়ে নিতে পারবে না। আর ব্যবহারই করেন না? তখন ক্যামেরা অনুমতি বন্ধ করবেন, অবস্থান বন্ধ করবেন—এভাবে একে একে ভাবার বদলে অ্যাপটি আনইনস্টল করাই সহজ হতে পারে।

অনুমতি কমানোর সময় ছোট একটা পরীক্ষা কাজে দেয়

অনুমতি কমানোর সময় ছোট একটা পরীক্ষা কাজে দেয়

ধরা যাক একটি অ্যাপকে অবস্থান ব্যবহারের জন্য সব সময় অনুমতি দেওয়া আছে। আপনার সন্দেহ হচ্ছে এতটা দরকার নেই। সরাসরি অ্যাপ মুছে না দিয়ে অনুমতিটি অ্যাপ ব্যবহারের সময় করে দেখুন।

দরকারি সুবিধা ঠিকমতো চলছে?

তাহলে বেশি অনুমতি রাখার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে।

একইভাবে সুনির্দিষ্ট অবস্থান বন্ধ করেও যদি প্রয়োজনীয় সুবিধা কাজ করে, আনুমানিক অবস্থানই যথেষ্ট।

ক্যামেরা অনুমতি বন্ধ করার পর অ্যাপের এমন একটি সুবিধা কাজ করছে না, যেটি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন? তখন কেন অনুমতিটি দরকার ছিল, সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেল। প্রয়োজন হলে আবার চালু করতে পারবেন।

এভাবে পরীক্ষা করলে অনুমতি দরকার কি না আন্দাজ থেকে নয়, ব্যবহার থেকেই বোঝা যায়।

কোন পরিস্থিতিতে একটু থেমে দেখা উচিত

অনুমতি নিরীক্ষায় “সন্দেহজনক অ্যাপের সাত লক্ষণ” ধরনের তালিকা খুব বেশি সাহায্য করে না। অ্যাপ অনুযায়ী প্রয়োজন বদলায়। তবু কয়েকটি বিষয় প্রশ্ন তোলার মতো। যে অ্যাপের মূল কাজের সঙ্গে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছেন না, অথচ অনুমতি আছে।

সুনির্দিষ্ট অবস্থান দেওয়া আছে, কিন্তু সুবিধাটির জন্য আনুমানিক অবস্থানই যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে। পটভূমিতে অবস্থান ব্যবহার চালু আছে, অথচ আপনি এমন কোনো সুবিধা ব্যবহার করেন না। কয়েক মাস খোলা হয়নি এমন অ্যাপ এখনও সংবেদনশীল অনুমতি ধরে রেখেছে।

অথবা ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের চিহ্ন এমন সময় দেখা যাচ্ছে, যখন আপনি সেগুলো ব্যবহার করছেন বলে মনে হচ্ছে না। এর যেকোনো একটি ঘটলেই অ্যাপ ক্ষতিকর—এটা বলা যাবে না। তবে অনুমতি আবার দেখে নেওয়ার কারণ অবশ্যই আছে। প্রয়োজনে অ্যাপের হালনাগাদ সংস্করণ আছে কি না, কোথা থেকে ইনস্টল করেছিলেন এবং তার গোপনীয়তা নীতিতে কী বলা আছে, সেটিও দেখা যায়।

একটা কাজ অনুমতি সেটিং করতে পারে না

ফোন থেকে অনুমতি বন্ধ করলেন। তার মানে এই নয় যে অ্যাপ আগে যত তথ্য পেয়েছে, সব মুছে গেল। ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করলে অপারেটিং সিস্টেম ভবিষ্যতে ওই সুরক্ষিত সুবিধায় অ্যাপের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ করতে পারে।

কিন্তু কোনো সেবা আগে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের ব্যবস্থায় রেখে থাকলে ফোনের অনুমতি পরিবর্তন সেই সংরক্ষিত তথ্য মুছে দেওয়ার নির্দেশ নয়। সেক্ষেত্রে অ্যাপের নিজস্ব হিসাব সেটিংস, গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ বা তথ্য মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা দেখতে হবে।

এই পার্থক্যটা জানা জরুরি। অনুমতি নিরীক্ষা হলো ফোন থেকে ভবিষ্যৎ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের কাজ; কোনো সেবার হাতে আগে পৌঁছে যাওয়া তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা আলাদা হতে পারে।

নতুন অ্যাপে প্রথম অনুমতিটাই পরের নিরীক্ষা সহজ করে

কোনো অ্যাপ প্রথমবার ক্যামেরা চাইছে। একটু দেখুন—আপনি কি তখন ক্যামেরানির্ভর কোনো সুবিধা ব্যবহার করতে যাচ্ছেন? অবস্থান চাইছে। সঠিক অবস্থান লাগবে, নাকি অ্যাপের কাজ আনুমানিক অবস্থান দিয়েই হবে?

মাইক্রোফোনের অনুমতি চাইছে, অথচ আপনি কণ্ঠস্বর-সংক্রান্ত কিছু করছেন না। তখনই অনুমতি না দিলেও পরে প্রয়োজন হলে সেটিংস থেকে দেওয়া যায়। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুটিতেই সীমিত অনুমতির বিকল্প যেখানে আছে, প্রথমে সেটি ব্যবহার করাই অনেক ক্ষেত্রে সহজ সিদ্ধান্ত।

অনুমতি পরে বাড়ানো যায়। কিন্তু প্রতিটি বার্তায় না ভেবে অনুমতি দিতে থাকলে ছয় মাস পর নিরীক্ষার সময় তালিকাটা কেন এত বড় হয়েছে, সেটাই মনে করা কঠিন হয়ে যায়।

কোথা থেকে শুরু করবেন

ফোন হাতে নিয়ে এখনই নিরীক্ষা করতে চাইলে পুরো সেটিংস ঘাঁটার দরকার নেই। ক্যামেরা খুলুন। কোন অ্যাপ অনুমতি পেয়েছে দেখুন।

তারপর মাইক্রোফোন।

এরপর অবস্থান—বিশেষ করে সব সময়, পটভূমিতে অবস্থান ব্যবহার এবং সুনির্দিষ্ট অবস্থান।

তারপর সময় থাকলে অ্যান্ড্রয়েডে গোপনীয়তা ড্যাশবোর্ড বা আইফোনে অ্যাপ গোপনীয়তা প্রতিবেদন দেখুন। যে অনুমতি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে, সেটি এক ধাপ কমিয়ে অ্যাপটি ব্যবহার করে দেখুন।

ভালো অ্যাপ অনুমতি নিরীক্ষা মানে সব অনুমতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। কোন অ্যাপ কী ব্যবহার করতে পারে, কেন সেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এখনও সেটি দরকার কি না—এই তিনটি বিষয় যেন আপনার অজানা না থাকে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অ্যাপের অনুমতি বন্ধ করলে কি পরে আবার চালু করা যায়?

হ্যাঁ। ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা অবস্থানের অনুমতি বন্ধ করার পর প্রয়োজন হলে ফোনের সেটিংস থেকে আবার চালু করা যায়। কোনো সুবিধা কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট অনুমতিটিই আগে পরীক্ষা করুন।

কোনো অ্যাপ পটভূমিতে অবস্থান ব্যবহার করছে কি না কীভাবে বুঝব?

অ্যান্ড্রয়েডে গোপনীয়তা ড্যাশবোর্ড এবং আইফোনে অ্যাপ গোপনীয়তা প্রতিবেদন সাম্প্রতিক অবস্থান ব্যবহারের তথ্য দেখাতে পারে। পাশাপাশি অ্যাপটির অবস্থান-সংক্রান্ত অনুমতিতে “সব সময়” বা সমতুল্য বিকল্প চালু আছে কি না দেখুন।

আনুমানিক অবস্থান দিলে কি সব অ্যাপ ঠিকমতো কাজ করবে?

না। অনেক অ্যাপের জন্য আনুমানিক অবস্থান যথেষ্ট হলেও ধাপে ধাপে পথনির্দেশের মতো কাজে সুনির্দিষ্ট অবস্থান দরকার হতে পারে। তাই অনুমতি কমানোর পর দরকারি সুবিধাটি ঠিকমতো চলছে কি না পরীক্ষা করা ভালো।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাপের অনুমতি কি নিজে থেকেই বন্ধ হয়?

সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত কিছু অ্যাপের সংবেদনশীল অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হতে পারে। তবে সব অ্যাপ বা সব ফোনে একই আচরণ ধরে নেওয়া উচিত নয়। পুরোনো অ্যাপগুলো নিজে একবার দেখে নেওয়াই ভালো।

অ্যাপ গোপনীয়তা প্রতিবেদন চালু করলেই কি আগের সাত দিনের তথ্য দেখা যাবে?

না। আইফোনে অ্যাপ গোপনীয়তা প্রতিবেদন চালু করার পর থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। আগে ঘটে যাওয়া কার্যক্রম পরে ফিরে এসে প্রতিবেদনে যোগ হয় না।

অনুমতি বন্ধ করলেই কি অ্যাপ আগে সংগ্রহ করা তথ্য মুছে ফেলবে?

না। ফোনের অনুমতি বন্ধ করা ভবিষ্যৎ প্রবেশ সীমিত করতে পারে, কিন্তু আগে কোনো সেবা নিজের ব্যবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করে থাকলে সেটি আলাদাভাবে মুছতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যাপের হিসাব, গোপনীয়তা বা তথ্য মুছে দেওয়ার সেটিং দেখতে হবে।

সর্বশেষ