ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস খুঁজবেন কীভাবে: ইমেইল, ফোন ও পাসওয়ার্ড যাচাই

সর্বাধিক আলোচিত

অনেকেরই এমন অ্যাকাউন্ট আছে, যেগুলো বছরের পর বছর খোলা হয়নি। কোনো পুরোনো ফোরাম, কেনাকাটার সাইট, গেম, সংবাদপত্রের সদস্যতা বা অ্যাপে একসময় ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন, পরে আর ব্যবহার করেননি। সমস্যা হয় তখন, যখন সেই সেবা পরে তথ্য ফাঁসের শিকার হয় এবং আপনি জানেনই না সেখানে আপনার পুরোনো তথ্য পড়ে আছে কি না।

এ ধরনের সন্দেহ হলে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস যাচাই করার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো আগে ইমেইল দেখা, তারপর একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না পরীক্ষা করা। ফোন নম্বরের ক্ষেত্রে একই রকম পরিষ্কার ব্যবস্থা নেই, তাই সেটিকে আলাদাভাবে দেখতে হয়।

সবকিছু একসঙ্গে অন্ধকার জগতের তথ্যভান্ডারে খোঁজ করার মতো কোনো জাদুর ব্যবস্থা নেই। বরং দুই-তিনটি নির্ভরযোগ্য সেবা ব্যবহার করলেই সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ কাজ হয়ে যায়।

ইমেইল দিয়ে শুরু করাই সহজ

নিজের ইমেইল কোনো পরিচিত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পাওয়া গেছে কি না জানার জন্য হ্যাভ আই বিন পনড এখনো সবচেয়ে পরিচিত সেবাগুলোর একটি। ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের ইমেইল ঠিকানা লিখে যাচাই করলে দেখা যায় ওই ঠিকানাটি পরিচিত কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে মিলছে কি না।

মিল পাওয়া গেলে শুধু ঘটনার নাম দেখে বেরিয়ে আসবেন না। বিস্তারিত বিবরণটিও পড়ুন। সেখানে সাধারণত ঘটনাটি কবে ঘটেছিল এবং কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছিল—যেমন ইমেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বর বা জন্মতারিখ—এসব উল্লেখ থাকে।

এখানেই একটি বিষয় অনেক সময় ভুলভাবে বোঝা হয়।

ধরা যাক, কোনো ঘটনার পাশে “ফোন নম্বর” লেখা আছে। এর অর্থ হলো ওই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ফোন নম্বর ধরনের তথ্য ছিল। কিন্তু আপনার নিজের নম্বরটি নিশ্চিতভাবে ওই তথ্যভান্ডারে ছিল—এমন সিদ্ধান্ত শুধু ওই উল্লেখ দেখে নেওয়া যাবে না।

একইভাবে হ্যাভ আই বিন পনড কোনো নির্দিষ্ট ইমেইলের পাশে সেই ব্যক্তির আসল পাসওয়ার্ড দেখায় না। ফলে ফলাফল পেলে সেটিকে “আমার সব তথ্য ফাঁস হয়েছে” বলে পড়ার চেয়ে “এই অ্যাকাউন্টটি আরও ভালো করে দেখা দরকার” হিসেবে নেওয়াই ঠিক।

পুরোনো ইমেইল ঠিকানা থাকলে সেগুলোও পরীক্ষা করুন। আজ যে জিমেইল ঠিকানা ব্যবহার করছেন সেটি নিরাপদ হলেও, আট বছর আগে ব্যবহার করা অন্য কোনো ঠিকানার সঙ্গে পুরোনো পাসওয়ার্ড জড়িয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের অ্যাকাউন্টই পরে বেশি ঝামেলা করে, কারণ মানুষ সাধারণত এগুলোর কথা ভুলে যায়।

কিছু না পেলে?

কিছু না পেলে?

“কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি” দেখা অবশ্যই স্বস্তির। কিন্তু কথাটির অর্থ খুব সীমিত—হ্যাভ আই বিন পনডের খোঁজযোগ্য তথ্যভান্ডারে ওই ইমেইলের মিল পাওয়া যায়নি। এর বাইরে বাড়তি নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

বিশেষ করে হঠাৎ পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের ইমেইল, অচেনা প্রবেশ সতর্কতা বা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিং বদলে যাওয়ার মতো কিছু দেখলে শুধু হ্যাভ আই বিন পনডে কিছু পাওয়া যায়নি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

হ্যাভ আই বিন পনডে কিছু তথ্য ফাঁসের ঘটনা সংবেদনশীল হিসেবে রাখা হয়। নিজের ইমেইল যাচাই করে নিয়ন্ত্রণ পাতায় ঢুকলে এমন ফলও দেখা যেতে পারে, যা সাধারণ উন্মুক্ত অনুসন্ধানে দেখানো হয় না।

যাদের বারবার নিজে গিয়ে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা নেই, তারা তথ্য ফাঁসের সতর্কতা চালু রাখতে পারেন। ইমেইল যাচাই করার পর ভবিষ্যতে নতুন কোনো পরিচিত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ঠিকানাটি পাওয়া গেলে সতর্কবার্তা আসে।

একাধিক ইমেইল থাকলে মজিলা মনিটর সুবিধার

অনেকেরই এখন একাধিক ইমেইল থাকে—একটি কাজের জন্য, একটি ব্যক্তিগত ব্যবহারে, আরেকটি পুরোনো অ্যাকাউন্টের জন্য। এগুলো আলাদা করে মনে রাখা বিরক্তিকর।

মজিলা মনিটর সেই জায়গায় সুবিধা দেয়। বর্তমান ব্যবস্থায় একটি মজিলা অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ২০টি ইমেইল ঠিকানা নজরদারিতে যোগ করা যায়। নতুন ইমেইল যোগ করলে সেটি আপনার—এটি নিশ্চিত করতে হয়।

তবে এটিকে হ্যাভ আই বিন পনডের বিকল্প তথ্যভান্ডার ভাবা ঠিক হবে না। মজিলা মনিটর পরিচিত তথ্য ফাঁসের ঘটনা খুঁজতে হ্যাভ আই বিন পনডের তথ্য ব্যবহার করে। অর্থাৎ হ্যাভ আই বিন পনডে কিছু না পেয়ে মজিলা মনিটরে গেলে সম্পূর্ণ ভিন্ন উৎস থেকে নতুন একগুচ্ছ তথ্য ফাঁসের ঘটনা পাওয়া যাবে—এমন নয়।

এর সুবিধা অন্য জায়গায়: অনেকগুলো ইমেইল একসঙ্গে নজরে রাখা সহজ হয়।

একটি বা দুটি ইমেইল হলে সরাসরি হ্যাভ আই বিন পনডই যথেষ্ট হতে পারে। অনেকগুলো ঠিকানা থাকলে মজিলা মনিটর কিছুটা গুছিয়ে দেয়।

একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহারই অনেক সময় বড় সমস্যা

কোনো ইমেইল পুরোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পাওয়া গেছে—এটা জেনে অনেকে সেখানেই থেমে যান। কিন্তু বাস্তবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে: সেই সময়ের পাসওয়ার্ডটি এখনো অন্য কোথাও আছে কি না।

গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে পাসওয়ার্ড যাচাই দিয়ে শুরু করা যায়।

ক্রোমের কম্পিউটার সংস্করণে সাধারণত যেতে হবে:

আরও → পাসওয়ার্ড ও স্বয়ংপূরণ → গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার → যাচাই

ক্রোম ব্যবহার না করলেও গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ওয়েব সংস্করণ থেকে নিজের সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড দেখা এবং যাচাই চালানো যায়। গুগল সেখানে ফাঁস হওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ পাসওয়ার্ড, দুর্বল পাসওয়ার্ড এবং একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মতো সমস্যা দেখাতে পারে।

এখানে একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করাই সবচেয়ে অস্বস্তিকর।

ধরা যাক, বহু বছর আগে কোনো কেনাকাটার সাইটে একই ইমেইল-পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেছিলেন। পরে সেই সাইটের তথ্য ফাঁস হলো। আপনি হয়তো ওই অ্যাকাউন্ট আর ব্যবহারই করেন না। কিন্তু একই পাসওয়ার্ড যদি এখনো অন্য অ্যাকাউন্টে থেকে যায়, পুরোনো তথ্য ফাঁস তখনও কাজে লাগতে পারে।

আক্রমণকারীরা এই ফাঁস হওয়া ইমেইল-পাসওয়ার্ডের জোড়া অন্য সেবাতেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেষ্টা করতে পারে। এই কৌশলকে ফাঁস হওয়া পরিচয়তথ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয় প্রবেশের চেষ্টা বলা যায়।

তাই কোনো পাসওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ দেখালে যে সাইটের পাশে সতর্কতা এসেছে শুধু সেটির পাসওয়ার্ড বদলানো যথেষ্ট নাও হতে পারে। একই পাসওয়ার্ড বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড আর কোথায় ব্যবহার করেছেন, সেটিও খুঁজে দেখা দরকার। আর পুরোনো পাসওয়ার্ডের শেষে শুধু ১, ১২৩ বা চলতি সাল বসিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড বানানো খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

পনড পাসওয়ার্ডস নিয়ে যে প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই আসে

হ্যাভ আই বিন পনডের পনড পাসওয়ার্ডস সেবা দিয়ে কোনো পাসওয়ার্ড আগে পরিচিত ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডের সংগ্রহে ছিল কি না দেখা যায়। এখানে স্বাভাবিক সন্দেহ হলো—নিজের পাসওয়ার্ড লিখে পরীক্ষা করতে গিয়ে সেটি আবার সার্ভারে পাঠানো হচ্ছে না তো?

হ্যাভ আই বিন পনডের ওয়েবভিত্তিক পদ্ধতিতে পুরো পাসওয়ার্ড সরাসরি সার্ভারে পাঠানো হয় না। পাসওয়ার্ড থেকে ব্রাউজারেই একটি সাংকেতিক ছাপ তৈরি হয়। সেই এসএইচএ-১ সাংকেতিক ছাপের প্রথম ৫টি ষোলো-ভিত্তিক অক্ষর পাঠানো হয়, সম্ভাব্য মিল ফিরে আসে, তারপর পূর্ণ মিল স্থানীয়ভাবেই পরীক্ষা করা হয়।

এই ব্যবস্থাকে আংশিক অজ্ঞাত পরিচয়ভিত্তিক যাচাই বলা যায়।

শব্দটি না জানলেও ক্ষতি নেই। ব্যবহারকারীর জন্য মূল কথা হলো, আসল হ্যাভ আই বিন পনড সেবা পুরো পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে অনুসন্ধান করে না। কিন্তু গুগল অনুসন্ধানে উঠে আসা যেকোনো “পাসওয়ার্ড ফাঁস যাচাইকারী” একইভাবে কাজ করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই অচেনা সাইটে নিজের বর্তমান পাসওয়ার্ড লিখে পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আর পনড পাসওয়ার্ডসে মিল না পাওয়া মানেই পাসওয়ার্ড শক্তিশালী নয়। আগে ফাঁস হয়নি, অথচ সহজেই অনুমান করা যায়—এমন পাসওয়ার্ড প্রচুর আছে।

ফোন নম্বরের বিষয়টা একটু আলাদা

ফোন নম্বরের বিষয়টা একটু আলাদা

ফোন নম্বর নিয়ে এই ধরনের লেখায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়। ইমেইলের মতো একটি নির্ভরযোগ্য উন্মুক্ত অনুসন্ধান বাক্সে নম্বর লিখে সব পরিচিত তথ্য ফাঁসের ঘটনা দেখা যায়—এমন ব্যবস্থা নেই।

হ্যাভ আই বিন পনডে কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনার তথ্যশ্রেণি হিসেবে “ফোন নম্বর” থাকলে বোঝা যায় সেখানে ফোন নম্বর ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আপনার নির্দিষ্ট নম্বরটি সেখানে ছিল কি না, শুধু ওই ফলাফল থেকে জানা যায় না।

অন্যদিকে গুগলের রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ সম্পূর্ণ ভিন্ন কাজ করে।

এটি তথ্য ফাঁস যাচাইকারী নয়। গুগল অনুসন্ধানের ফলে আপনার ফোন নম্বর, ইমেইল বা বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে কি না খুঁজতে সাহায্য করে। কিছু ফলাফলের ক্ষেত্রে সেগুলো সরানোর অনুরোধও করা যায়।

দুটিকে একসঙ্গে ফেললে বিভ্রান্তি বাড়ে। হ্যাভ আই বিন পনড পুরোনো তথ্য ফাঁসের নথি নিয়ে কাজ করে। রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ গুগল অনুসন্ধানে প্রকাশ্যে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করে।

আর রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ-এর সব সুবিধা সব দেশে বা সব অ্যাকাউন্টে একভাবে পাওয়া যায় না। কিছু সুবিধা নির্দিষ্ট বাজারে ১৮ বছরের বেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে চালু হয়েছে। বাংলাদেশ বা ভারতে সুবিধাটি না দেখলে তাই অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। গুগলের ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর আলাদা আবেদনপত্রও আছে। অনুসন্ধানের ফলে ফোন নম্বর, ইমেইল, ঠিকানা বা নির্দিষ্ট সংবেদনশীল তথ্য থাকলে সেখান থেকেও সরানোর আবেদন করা যায়।

গুগল ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট এখন আর খুঁজে লাভ নেই

পুরোনো লেখা বা ইউটিউব ভিডিওতে এখনো গুগল ওয়ান → ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট ধরনের নির্দেশনা দেখা যায়। সেগুলো এখন আর কার্যকর নয়। গুগল নতুন অন্ধকার জগতের তথ্য পর্যবেক্ষণ বন্ধ করে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবহারকারীদের জন্য আর পাওয়া যায় না।

২০২৪ সালে গুগল ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট বন্ধ করেনি। বরং সে সময় সুবিধাটি গুগল ওয়ান সদস্যতার বাইরে আরও সাধারণ গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর কাছে দেওয়া হয়েছিল।

তাই ২০২৪ ও ২০২৬ সালের ঘটনা এক করে দেখা ঠিক হবে না। এখন গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, পাসওয়ার্ড যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই, দুই-ধাপ যাচাইকরণ এবং রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ আলাদা আলাদা কাজে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু পুরোনো ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট আর নেই।

কিছু পাওয়া গেলে কী করবেন, সেটিই আসল অংশ

তথ্য ফাঁসের ফলাফল পাওয়া মানেই সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড একসঙ্গে বদলাতে হবে—এমন নয়। আগে দেখুন কোন সেবার তথ্য ফাঁস হয়েছিল, সেখানে পাসওয়ার্ড জড়িত ছিল কি না এবং সেই পাসওয়ার্ড এখনো ব্যবহার করছেন কি না।

পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়ে থাকলে সেটি বদলান। একই পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে থাকলে সেখানেও আলাদা পাসওয়ার্ড দিন। এখানে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক ব্যবহার করা সুবিধাজনক। প্রতিটি সাইটের জন্য আলাদা, দীর্ঘ পাসওয়ার্ড রাখা যায়; সব মনে রাখার দরকার পড়ে না।

এনআইএসটি-এর বর্তমান পাসওয়ার্ড নির্দেশনায়ও সাধারণ, অনুমানযোগ্য এবং আগে ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডের তালিকার সঙ্গে নতুন পাসওয়ার্ড মিলিয়ে দেখার কথা আছে। ব্যবহারকারীর জন্য কথাটা খুব সাধারণ: যে পাসওয়ার্ড একবার ফাঁস হয়েছে বলে জানা গেছে, সেটি আবার ব্যবহার করার কোনো ভালো কারণ নেই।

এরপর বহুধাপ যাচাইকরণ বা দুই-ধাপ যাচাইকরণ দেখুন। খুদে বার্তার কোড কোনো দ্বিতীয় ধাপ না থাকার চেয়ে ভালো, কিন্তু এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প নয়। যাচাইকরণ অ্যাপ খুদে বার্তার চেয়ে ভালো হতে পারে। পাসকি এবং যান্ত্রিক নিরাপত্তা চাবি ভুয়া লগইন পাতার আক্রমণের বিরুদ্ধেও বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে।

বিশেষ করে প্রধান ইমেইল, মেঘভিত্তিক সংরক্ষণ সেবা এবং আর্থিক অ্যাকাউন্টে কোন ধরনের বহুধাপ যাচাইকরণ ব্যবহার করছেন, সেটাও একবার দেখা ভালো। পাসওয়ার্ড বদলানোর পর নিরাপত্তা পাতায়ও ঢুঁ মারুন।

অচেনা যন্ত্র বা সক্রিয় প্রবেশ আছে কি না দেখুন। পুনরুদ্ধার ইমেইল এবং ফোন নম্বর ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন। অচেনা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের প্রবেশাধিকার থাকলে সরিয়ে দিন। ইমেইল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অন্য অনেক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের লিংক শেষ পর্যন্ত ইমেইলেই আসে।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

ব্যাংক বা কার্ডের তথ্য থাকলে আর তথ্য ফাঁস যাচাইকারী ঘাঁটবেন না

কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পেমেন্ট কার্ড বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য থাকার সম্ভাবনা থাকলে সরাসরি ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করাই বেশি জরুরি।

নম্বর নেওয়ার জন্য ব্যাংকের সরকারি অ্যাপ, ওয়েবসাইট, হিসাব বিবরণী বা কার্ডের পেছনের তথ্য ব্যবহার করুন।

অচেনা ফোন, ইমেইল বা “তথ্য ফাঁস পুনরুদ্ধার” সেবার কাছে একবারের পাসওয়ার্ড, গোপন নম্বর, কার্ডের নিরাপত্তা সংখ্যা, পুনরুদ্ধার কোড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড দেবেন না। সাধারণ তথ্য ফাঁস যাচাইকারী সেবার এসব তথ্য প্রয়োজন হয় না।

পুরোনো তথ্য ফাঁস সবসময় পুরোনো সমস্যা নয়

কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনা অনেক বছর আগের হতে পারে। কিন্তু সেই সময়ের পাসওয়ার্ড যদি এখনো অন্য কোথাও ব্যবহার করেন, ঝুঁকিটা তখনও বর্তমান। এই কারণেই তথ্য ফাঁস কত পুরোনো, তার চেয়ে একই পাসওয়ার্ড এখনো কোথাও ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখা অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আবার হ্যাভ আই বিন পনডে নিজের ইমেইল পাওয়া মানেই ফোন বা কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তেও যাওয়া ঠিক নয়। তথ্য ফাঁসটি সংশ্লিষ্ট অনলাইন সেবার তথ্যভান্ডার থেকেই আসতে পারে।

ফলাফলের বিস্তারিত বিবরণ তাই পড়ে দেখা উচিত। হ্যাভ আই বিন পনডে সাধারণ তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি স্প্যাম তালিকা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার-সংক্রান্ত তথ্য, ভুয়া বা বিভিন্ন উৎস থেকে একত্র করা তথ্যভান্ডারও আলাদাভাবে চিহ্নিত থাকতে পারে।

নিজের জন্য কাজটি ছোট রাখতে চাইলে প্রথমে দুই-তিনটি জিনিস করুন। বর্তমান ও পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল হ্যাভ আই বিন পনডে দেখুন। তারপর গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার বা আপনার ব্যবহার করা বিশ্বস্ত পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপকে ফাঁস হওয়া বা পুনর্ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড আছে কি না পরীক্ষা করুন।

ঝুঁকিপূর্ণ পাসওয়ার্ড থাকলে একই পাসওয়ার্ডের পুনর্ব্যবহার বন্ধ করুন। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের বহুধাপ যাচাইকরণ, সক্রিয় প্রবেশ এবং পুনরুদ্ধার তথ্য একবার দেখে নিন।

ফোন নম্বর বা ইমেইল গুগল অনুসন্ধানে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে কি না নিয়ে চিন্তা থাকলে রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ আপনার অ্যাকাউন্টে আছে কি না দেখুন। না থাকলে গুগলের ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর আবেদনপত্র ব্যবহার করা যায়।

ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস যাচাই-এর কাজ আসলে খুব সীমিত, আর সেই সীমাটাই এর শক্তি। এটি বলে না যে আপনি “নিরাপদ” বা “অনিরাপদ”। বরং কোথায় পুরোনো ঝুঁকি পড়ে থাকতে পারে, সেই জায়গাটা ধরিয়ে দেয়। এরপর কী বদলাতে হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না কত দিন পরপর পরীক্ষা করা উচিত?

এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল বা পাসওয়ার্ড নিয়ে সন্দেহ হলে, কোনো বড় তথ্য ফাঁসের খবর সামনে এলে অথবা অচেনা প্রবেশের সতর্কতা পেলে পরীক্ষা করা ভালো। হ্যাভ আই বিন পনড বা মজিলা মনিটরের সতর্কতা চালু রাখলে বারবার নিজে খোঁজার প্রয়োজনও কমে।

হ্যাভ আই বিন পনডে ইমেইল পাওয়া গেলে কি নতুন ইমেইল খুলতে হবে?

সাধারণত না। আগে দেখুন কোন সেবার তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং পাসওয়ার্ড জড়িত ছিল কি না। পাসওয়ার্ড বদলানো, একই পাসওয়ার্ড অন্য জায়গায় ব্যবহার বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই-ধাপ যাচাইকরণ চালু করাই বেশি জরুরি।

কোনো পাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়া তালিকায় থাকলে কি সেটি সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে হবে?

হ্যাঁ, ওই পাসওয়ার্ডটি এখনো ব্যবহার করলে বদলানো উচিত। একই বা খুব কাছাকাছি পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেগুলোও আলাদা করে পরিবর্তন করুন।

ফোন নম্বর ফাঁস হয়েছে কি না সরাসরি জানা যায়?

সব ক্ষেত্রে নয়। কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ফোন নম্বর অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না জানা যেতে পারে, কিন্তু আপনার নির্দিষ্ট নম্বরটি সেখানে ছিল কি না সব সময় নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। গুগল অনুসন্ধানে নম্বরটি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে কি না আলাদাভাবে পরীক্ষা করা যেতে পারে।

তথ্য ফাঁসের ফলাফল পাওয়া মানেই কি ফোন বা কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে?

না। কোনো ওয়েবসাইট বা অনলাইন সেবার নিজস্ব তথ্যভান্ডার ফাঁস হলেও আপনার ব্যক্তিগত যন্ত্র আক্রান্ত না-ও হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অচেনা প্রবেশ, নিরাপত্তা সেটিং পরিবর্তন বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে অ্যাকাউন্ট ও যন্ত্র দুটিই আলাদাভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

সর্বশেষ