ক্লাউড ফটো ব্যাকআপে ব্যক্তিগত ছবি নিরাপদ রাখার নিয়ম

সর্বাধিক আলোচিত

ফোনে এমন কিছু ছবি প্রায় সবারই থাকে, যেগুলো নিয়ে আলাদা করে ভাবা দরকার। পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি, কোনো ব্যক্তিগত নথি, ব্যাংকের কাগজের স্ক্যান, কিংবা এমন কিছু পারিবারিক ছবি যা প্রকাশ্যে চলে যাওয়া মোটেই স্বস্তিকর হবে না।

সমস্যা হলো, এগুলোও অনেক সময় অন্য সব ছবির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডে চলে যায়। ব্যবহারকারী হয়তো ভাবছেন তিনি শুধু ফোনের ছবি ব্যাকআপ রাখছেন। বাস্তবে কোথায় কী জমা হচ্ছে, কার প্রবেশাধিকার আছে, পুরোনো কোনো শেয়ার করা অ্যালবাম এখনও খোলা আছে কি না—এসবই ক্লাউড ছবির গোপনীয়তার অংশ।

একটা কথা আগে পরিষ্কার করা ভালো: “এনক্রিপ্টেড” লেখা দেখলেই কোনো সেবা পুরোপুরি ব্যক্তিগত হয়ে যায় না। ছবি কীভাবে এনক্রিপ্ট হচ্ছে, সেটার পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট এবং ফোনের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শুরুটা অ্যাকাউন্ট থেকেই হওয়া উচিত

ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে চিন্তা করলে অনেকে আগে লকড ফোল্ডার বা ভল্ট খোঁজেন। তারও আগে একবার মূল অ্যাকাউন্টটা দেখা দরকার। একই পাসওয়ার্ড অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হলে ঝুঁকি সেখানেই। গুগল, অ্যাপল বা মাইক্রোসফট—যে অ্যাকাউন্টই হোক, সম্ভব হলে দুই ধাপের যাচাইকরণ বা বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাইকরণ চালু রাখুন।

গুগলে পাসকি ব্যবহারের সুবিধা আছে। আঙুলের ছাপ, মুখ শনাক্তকরণ বা ফোনের লক দিয়েও সাইন-ইন করা যায়। ফিশিংয়ের দিক থেকে পাসকি সাধারণ এসএমএস কোড বা হাতে লেখা একবার ব্যবহারযোগ্য পাসকোডের চেয়ে শক্তিশালী ব্যবস্থা হতে পারে।

এর চেয়ে জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবার দরকার নেই। আলাদা পাসওয়ার্ড, বহুস্তরীয় যাচাইকরণ আর ঠিকঠাক পুনরুদ্ধার ই-মেইল বা ফোন নম্বর—এই তিনটি জিনিসই আগে গুছিয়ে নেওয়া ভালো। আর পুরোনো যন্ত্রে অ্যাকাউন্ট সাইন-ইন করা আছে কি না, সেটাও একবার দেখুন। বহুদিন আগের কোনো ট্যাবলেট বা ব্রাউজার সেশন অনেক সময় ভুলেই পড়ে থাকে।

গুগল ফটোসের লকড ফোল্ডার আসলে কী দেয়

গুগল ফটোসের লকড ফোল্ডার খারাপ সুবিধা নয়। বরং সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য বেশ কাজের। এখানে ছবি রাখলে সেগুলো ফটোসের মূল ছবির তালিকা, মেমোরিজ, সার্চ বা অ্যালবামে দেখা যায় না। অন্য ছবি দেখার অ্যাপও সাধারণ ছবির সংগ্রহ থেকে সেগুলো সহজে পায় না।

অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ফটোসের কালেকশনস অংশে লকড ফোল্ডার পাওয়া যায়। ব্যাকআপ চালু বা বন্ধ করার সেটিং ফটোসের ব্যাকআপ অংশে রাখা আছে। তবে নামটা একটু বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

লকড ফোল্ডার মানেই এমন কোনো আলাদা ভল্ট নয়, যেটা গুগলও খুলতে পারবে না। অ্যান্ড্রয়েডে এটি ফোনের স্ক্রিন লক ব্যবহার করে। আইফোন বা আইপ্যাডে ফেস আইডি, টাচ আইডি বা পাসকোডের ওপর নির্ভর করে। ওয়েব থেকে খুললে গুগল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হয়।

অর্থাৎ আপনার ফোনের পিন অন্য কেউ জানলে লকড ফোল্ডারের ওপর ভরসা অনেকটাই কমে যায়। এখানে আরেকটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। গুগল ব্যাকআপ করা লকড ফোল্ডারের ছবিগুলোকে তাদের সাধারণ এনক্রিপশন ব্যবস্থায় সুরক্ষিত রাখে। এটিকে গুগল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ভল্ট বলে না।

তাই লকড ফোল্ডারকে মূলত ছবি আলাদা রাখা ও অনিচ্ছাকৃত প্রবেশ কমানোর ব্যবস্থা হিসেবে দেখা ভালো। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড সংরক্ষণাগার হিসেবে নয়।

ব্যাকআপ বন্ধ রাখলে ছবিটা কোথায় থাকবে, সেটাও ভাবুন

ব্যাকআপ বন্ধ রাখলে ছবিটা কোথায় থাকবে, সেটাও ভাবুন

খুব ব্যক্তিগত ছবি বলে লকড ফোল্ডারের ব্যাকআপ বন্ধ করে দিলেন। এতে ক্লাউডে কপি থাকবে না—ভালো। কিন্তু তারপর ফোনটি হারিয়ে গেলে?

ব্যাকআপ না-করা লকড ফোল্ডারের ছবি ফোন নষ্ট হওয়া, কারখানা-সেটিংসে ফিরিয়ে নেওয়া, অ্যাপের তথ্য মুছে ফেলা বা যন্ত্র হারানোর পর ফেরত নাও পাওয়া যেতে পারে। এই জায়গাটা অনেক গোপনীয়তাবিষয়ক পরামর্শে চাপা পড়ে যায়। ক্লাউডে ছবি না থাকা মানেই ঝুঁকি শেষ নয়। তখন ঝুঁকিটা তথ্য ফাঁস থেকে তথ্য হারানোর দিকে সরে যায়।

যে ছবিটি হারালেও সমস্যা নেই, সেটির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত এক রকম হতে পারে। কিন্তু একমাত্র কপি যদি ওই ফোনেই থাকে, তাহলে বিষয়টা অন্য।

আইক্লাউড ফটোসে অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন একটু বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য

অ্যাপলের সাধারণ আইক্লাউড সুরক্ষা আর অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশনকে এক মনে করা ঠিক হবে না। স্বাভাবিক অবস্থায় আইক্লাউড ফটোস এনক্রিপ্টেড থাকে। তবে ফটোসের প্রয়োজনীয় এনক্রিপশন চাবি অ্যাপলের অবকাঠামোর অংশ হিসেবে থাকে।

অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন চালু করলে ফটোসের ছবি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় যায়। তখন সুরক্ষিত তথ্য অ্যাপল নিজে খুলতে পারে না। শুনতে খুব সরল। ব্যবহারে এতটা নয়।

অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন চালু করার আগে সমর্থিত সফটওয়্যার লাগবে। দুই ধাপের পরিচয় যাচাইকরণও থাকতে হবে। পুনরুদ্ধার যোগাযোগ বা পুনরুদ্ধার চাবি সেট করতে হবে।

এই পুনরুদ্ধার অংশটাই আসল।

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেন—এমন সাধারণ সমস্যা নয়। ধরুন অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকারও গেল, আবার পুনরুদ্ধার চাবি বা যোগাযোগও নেই। অ্যাপলের কাছেই যদি সুরক্ষিত তথ্য খোলার চাবি না থাকে, তাহলে তাদের সহায়তা দলও ছবি খুলে দিতে পারবে না।

সুতরাং গোপনীয়তা বাড়ছে, কিন্তু পুনরুদ্ধারের দায়িত্বও আপনার দিকে চলে আসছে। বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য বর্তমান অ্যাপল নথিতে অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশনের আলাদা নিষেধাজ্ঞা দেখা যায় না। তবে নিজের অ্যাকাউন্ট ও যন্ত্রে সুবিধাটি পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটাই ব্যবহারিকভাবে আগে দেখা উচিত।

শেয়ার করা ছবির হিসাব আলাদা

নিজের ক্লাউড ছবির সংগ্রহ কতটা নিরাপদ, সেই আলোচনা এক জায়গা পর্যন্ত কাজে আসে। ছবি অন্য কাউকে পাঠানোর পর হিসাব বদলে যায়। গুগল ফটোসে কেউ আপনার পাঠানো ছবি নিজের ছবির সংগ্রহে সংরক্ষণ করে রাখলে পরে আপনি নিজের কপি মুছে ফেললেও তার কপি থাকবে।

আইক্লাউডেও সব শেয়ারিং ব্যবস্থা অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশনের একই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা পায় না। শেয়ারড অ্যালবাম বা “লিংক থাকা যে কেউ” ধরনের শেয়ারিং তার উদাহরণ।

এই কারণে ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করার সময় এনক্রিপশনের চেয়ে প্রাপক আর শেয়ারিং পদ্ধতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কার কাছে পাঠাচ্ছেন? লিংকটি কতদিন থাকবে? পুরোনো শেয়ার করা অ্যালবামে আর কে আছে? এগুলো সাধারণ প্রশ্ন, কিন্তু বাস্তবে এখানেই বেশি ভুল হয়।

ওয়ানড্রাইভ পার্সোনাল ভল্ট নিয়ে ভুল প্রত্যাশা না রাখাই ভালো

ওয়ানড্রাইভ ব্যবহারকারীদের জন্য পার্সোনাল ভল্ট সংবেদনশীল ফাইল আলাদা রাখার সুবিধা দেয়। ভল্ট খুলতে বাড়তি যাচাইকরণ লাগে। কিছু সময় ব্যবহার না করলে এটি নিজে থেকে লক হয়ে যায়। ভেতরের ফাইল সরাসরি শেয়ার করাও বন্ধ।

এগুলো দরকারি সুরক্ষা।

কিন্তু পার্সোনাল ভল্টকে আইক্লাউডের অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশনের সঙ্গে এক পাল্লায় রাখলে ভুল হবে। ওয়ানড্রাইভ নিজে তথ্য পাঠানো ও সংরক্ষণের সময় এনক্রিপশন ব্যবহার করে, আর পার্সোনাল ভল্ট তার ওপর বাড়তি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ দেয়।

মাইক্রোসফট এটিকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ভল্ট হিসেবে বর্ণনা করে না।

অর্থাৎ ল্যাপটপ বা ফোন অন্য কারও হাতে গেলে সংবেদনশীল ফাইল সহজে না খোলার জন্য পার্সোনাল ভল্ট উপকারী। কিন্তু সেবা প্রদানকারীর কাছেও তথ্য খোলার সামর্থ্য না থাকার মতো সুরক্ষা চাইলে সেটি অন্য ধরনের ব্যবস্থা।

স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপের সেটিং অন্তত একবার দেখা দরকার

স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপের সেটিং অন্তত একবার দেখা দরকার

এই অংশটি খুব আকর্ষণীয় নয়, কিন্তু কাজে লাগে। অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ফটোস শুধু ক্যামেরা ফোল্ডার ব্যাকআপ করে না। স্ক্রিনশট, ডাউনলোড বা বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপের মিডিয়া ফোল্ডারও ব্যাকআপ করা যায়।

সমস্যা হলো, অনেকেই পরে ভুলে যান কোন ফোল্ডারের ব্যাকআপ চালু করেছিলেন। ফলে কোনো ব্যক্তিগত স্ক্রিনশট, ডাউনলোড করা নথি বা বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ থেকে পাওয়া ছবি ক্লাউডে চলে যেতে পারে—ব্যবহারকারী হয়তো সেটাই চাননি।

ফটোসের সেটিংসের ব্যাকআপ অংশে গিয়ে কোন যন্ত্রের ফোল্ডার ব্যাকআপ হচ্ছে, সেটি একবার দেখলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে। আর ব্যক্তিগত ছবি তুলে পরে লকড ফোল্ডারে সরানোর পরিকল্পনা থাকলে একটা কথা মনে রাখুন: স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ আপনার আগেই কাজ করে ফেলতে পারে।

“হিডেন” আর “এনক্রিপ্টেড” এক কথা নয়

এখানে খুব বেশি প্রযুক্তিগত শব্দ শেখার দরকার নেই। গুগল ফটোসের আর্কাইভ ছবি মূল ছবির তালিকা থেকে সরিয়ে রাখে, কিন্তু সার্চে পাওয়া যেতে পারে। লকড ফোল্ডার প্রবেশ সীমিত করে।

অন্য কোনো অ্যাপের হিডেন অ্যালবাম হয়তো বায়োমেট্রিক লক ব্যবহার করছে। আর এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সম্পূর্ণ অন্য প্রশ্ন—তথ্য খোলার চাবি কার হাতে? চারটি সুবিধার নাম কাছাকাছি শোনাতে পারে, কিন্তু একই কাজ করে না।

তাই কোনো সেবায় “হাইড”, “প্রাইভেট”, “ভল্ট” বা “লকড” লেখা দেখলে শুধু নামের ওপর ভরসা না করে সেটি কী ধরনের সুরক্ষা দিচ্ছে, সেটা একটু দেখে নেওয়া ভালো।

অবস্থান-তথ্যও ছবির সঙ্গে চলে যেতে পারে

কোনো ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর আগে অবস্থান-তথ্য নিয়ে ভাবার কারণ আছে। গুগল ফটোসে হাতে যোগ করা বা অনুমানভিত্তিক অবস্থান বদলানো যায়। কিন্তু ক্যামেরা অ্যাপ যদি মূল ছবির ফাইলের তথ্যের মধ্যেই অবস্থান লিখে দেয়, সেটি গুগল ফটোস থেকে সব ক্ষেত্রে মুছে দেওয়া যায় না।

তখন মূল ফাইলের অতিরিক্ত তথ্য আলাদাভাবে দেখতে হবে।

অবশ্য অবস্থান-তথ্য সরিয়ে ফেললেই কাজ শেষ নয়। ছবিতে বাসার সামনে পরিচিত ভবন, দোকানের নাম, রাস্তার চিহ্ন বা পরিচিত স্থান দেখা গেলে সেখান থেকেও অবস্থান আন্দাজ করা যায়।

খুব ব্যক্তিগত ছবি কাউকে পাঠানোর আগে এই বিষয়টা একবার চোখে দেখাই ভালো।

ফোনের পিন যদি দুর্বল হয়, ক্লাউড নিরাপত্তা দিয়ে সব সামলানো যাবে না

অনেকেই খুব জটিল গোপনীয়তার সেটিং ব্যবহার করেন, কিন্তু ফোনের পিন থাকে সহজ। লকড ফোল্ডার যেহেতু যন্ত্রের পরিচয় যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে, এই জায়গায় দুর্বলতা থাকলে পুরো ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে যায়।

পুরোনো ফোন বিক্রি বা অন্য কাউকে দেওয়ার সময়ও শুধু অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে আসাকে যথেষ্ট ধরে নেওয়া উচিত নয়। অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের অনুমোদিত মুছে ফেলা বা পুনঃস্থাপন পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

তারপর নতুন ফোনে বসে পুরোনো সাইন-ইন করা যন্ত্রের তালিকাটাও দেখে নিতে পারেন। কাজটি বেশি সময়ের নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

সবকিছু এনক্রিপশন অ্যাপে ঢোকানোর দরকার নেই

এখানে অতিরিক্ত সতর্ক হতে গিয়েও সমস্যা করা যায়। হাজার হাজার সাধারণ ছবি গ্রাহক-পক্ষের এনক্রিপ্টেড সংরক্ষণাগারে রাখলে ছবি খোঁজা, পূর্বরূপ দেখা, স্বয়ংক্রিয় অ্যালবাম বা সম্পাদনার সুবিধা নষ্ট হতে পারে। এনক্রিপশন চাবি নিজে সামলালে সেটি হারানোর ঝুঁকিও আছে।

তার চেয়ে কোন ফাইল সত্যিই সংবেদনশীল, সেটি আলাদা করা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। পাসপোর্টের স্ক্যান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি, বা এমন কোনো ছবি যা ফাঁস হলে সত্যিই ক্ষতি হবে—এসবের ক্ষেত্রে গ্রাহক-পক্ষের এনক্রিপশন নিয়ে ভাবা যায়।

অ্যাপ বেছে নেওয়ার সময় “সামরিক মানের এনক্রিপশন” ধরনের প্রচারমূলক কথায় খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। চাবি কে রাখে, পুনরুদ্ধার কীভাবে হয়, সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ হয় কি না—এসব বেশি দরকারি প্রশ্ন।

খুব বেশি কিছু না করেও অনেকটা ঝুঁকি কমানো যায়

ব্যক্তিগত ছবি আছে মানেই নতুন সেবায় চলে যেতে হবে না। প্রথমে নিজের ক্লাউড অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড আর বহুস্তরীয় যাচাইকরণ ঠিক করুন। তারপর সাইন-ইন করা যন্ত্র এবং পুরোনো শেয়ারিং লিংক দেখুন। গুগল ফটোস ব্যবহার করলে কোন ফোল্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ হচ্ছে, সেটিও দেখে নিন।

এরপরও কিছু ছবি যদি সাধারণ ছবির সংগ্রহে রাখতে অস্বস্তি হয়, তখন লকড ফোল্ডার বা পার্সোনাল ভল্ট কাজে আসবে। আর হাতে গোনা কয়েকটি ফাইল যদি সত্যিই খুব সংবেদনশীল হয়, সেগুলো সাধারণ ছবি ব্যাকআপ থেকে আলাদা রাখাই বেশি যুক্তিসংগত।

একটি ইউএসবি ড্রাইভে একমাত্র কপি রেখে দেওয়াও অবশ্য ভালো পরিকল্পনা নয়। ড্রাইভ হারালে বা নষ্ট হলে গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকবে, কিন্তু ছবিটাই থাকবে না।

ক্লাউড ছবির গোপনীয়তা নিয়ে এর চেয়ে জটিল সিদ্ধান্ত সবার দরকার নেই। আপনি কোন ছবি নিয়ে সত্যিই চিন্তিত, সেটি আগে আলাদা করুন। তারপর সেই কয়েকটি ছবির জন্য প্রয়োজনমতো শক্ত সুরক্ষা ব্যবহার করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ক্লাউডে ব্যক্তিগত ছবি রাখা কি নিরাপদ?

ক্লাউডে ব্যক্তিগত ছবি রাখা মানেই অনিরাপদ নয়। তবে শুধু ছবিগুলো এনক্রিপ্টেড আছে জেনেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। অ্যাকাউন্টে বহুস্তরীয় যাচাইকরণ, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, সঠিক শেয়ারিং সেটিং এবং সংবেদনশীল ছবির জন্য আলাদা সুরক্ষা ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

গুগল ফটোসের লকড ফোল্ডার কি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড?

না। গুগল লকড ফোল্ডারের ব্যাকআপ করা ছবিগুলোকে তাদের সাধারণ এনক্রিপশন ব্যবস্থায় সুরক্ষিত রাখে, কিন্তু লকড ফোল্ডারকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ভল্ট হিসেবে বর্ণনা করে না। এর মূল সুবিধা হলো সংবেদনশীল ছবি সাধারণ ছবির তালিকা, সার্চ ও অ্যালবাম থেকে আলাদা রাখা।

আইক্লাউডে ব্যক্তিগত ছবির জন্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন কীভাবে পাওয়া যায়?

আইক্লাউডে ফটোসের জন্য শক্তিশালী এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন পেতে অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন চালু করতে হয়। এটি চালু করলে পুনরুদ্ধার যোগাযোগ বা পুনরুদ্ধার চাবি ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি, কারণ সুরক্ষিত তথ্য পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব তখন অনেক বেশি ব্যবহারকারীর ওপর থাকে।

লকড ফোল্ডারের ব্যাকআপ বন্ধ রাখলে কি ব্যক্তিগত ছবি বেশি নিরাপদ থাকবে?

ক্লাউডে আরেকটি কপি না থাকায় কিছু ঝুঁকি কমতে পারে, কিন্তু তখন তথ্য হারানোর ঝুঁকি বাড়ে। ফোন হারানো, নষ্ট হওয়া বা কারখানা-সেটিংসে ফিরিয়ে নিলে ব্যাকআপ না-করা ছবি আর ফেরত পাওয়া নাও যেতে পারে। তাই ছবিটি কতটা সংবেদনশীল এবং হারালে কতটা সমস্যা হবে—দুই দিকই বিবেচনা করা দরকার।

ব্যক্তিগত ছবি কাউকে পাঠানোর আগে কী দেখা উচিত?

প্রাপক ছবিটির আলাদা কপি রাখতে পারবেন কি না, শেয়ার করা লিংক পরে বন্ধ করা যাবে কি না এবং ছবির সঙ্গে অবস্থান-তথ্য যাচ্ছে কি না—এসব আগে দেখুন। একবার অন্য কেউ নিজের ডিভাইস বা অ্যাকাউন্টে ছবির কপি রেখে দিলে পরে নিজের কপি মুছে ফেললেও তার কপি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় না।

সর্বশেষ