ডিজিটাল উত্তরাধিকার কী: মৃত্যুর পর অনলাইন অ্যাকাউন্টের কী হবে?

সর্বাধিক আলোচিত

কারও মৃত্যুর পর তাঁর ফোনটি পরিবারের হাতে থাকতে পারে। কিন্তু সেই ফোনে থাকা জিমেইল, ফেসবুক বা গুগল ফটোজের তথ্য পরিবারের সদস্যরা দেখতে পারবেন কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। ফোনের পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যায় না। অনেক সময় প্রয়োজনীয় নথি বা পারিবারিক ছবিও আটকে যায় অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থায়।

ব্যাংকে টাকা থাকলে নমিনি বা উত্তরাধিকারীর মাধ্যমে তা দাবি করার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে গুগল ড্রাইভে জমা রাখা নথি, ফেসবুকের পুরোনো পোস্ট কিংবা আইক্লাউডের ছবিগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা অনেকেই ঠিক করে রাখেন না। এই প্রস্তুতির নাম ডিজিটাল উত্তরাধিকার পরিকল্পনা। অর্থাৎ মৃত্যুর পর নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্ট, সংরক্ষিত তথ্য ও ডিজিটাল সম্পদের কী হবে, তা আগেই নির্ধারণ করা।

ফেসবুক, গুগল, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট এ কাজে আলাদা সুবিধা দিয়েছে। কোনোটি প্রোফাইল সংরক্ষণের জন্য, কোনোটি নির্দিষ্ট তথ্য পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সব অ্যাকাউন্টের নিয়ম এক নয়। এমনকি একজনকে উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচন করলেও তিনি সব তথ্য দেখার অধিকার পান না।

আর অনলাইন ব্যাংকিং বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অনুমতির পাশাপাশি আইনি বিষয়ও জড়িত। ফলে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হলে নিজের অ্যাকাউন্টগুলো সম্পর্কে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

মৃত্যুর পর কোন তথ্য পরিবারের প্রয়োজন হতে পারে?

সবার ডিজিটাল সম্পদের তালিকা এক রকম হবে না। কারও গুগল ফটোজে বছরের পর বছর ধরে পারিবারিক ছবি জমা আছে। কেউ গুরুত্বপূর্ণ নথি রাখেন জিমেইল বা গুগল ড্রাইভে। আবার অনলাইন ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যক্তির কাছে ওয়েবসাইটের ডোমেইন, হোস্টিং কিংবা ব্যবসায়িক ইমেইলের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট এবং ভিডিও ব্যক্তির অনলাইন পরিচয়ের অংশ। মৃত্যুর পর পরিবার এগুলো সংরক্ষণ করতে চাইতে পারে। আর্থিক অ্যাকাউন্টের বিষয়টি আলাদা। ব্যাংকিং অ্যাপ, মোবাইল আর্থিক সেবা, বিনিয়োগ হিসাব ও ডিজিটাল ওয়ালেটে অর্থ থাকতে পারে। সেই অর্থের অধিকার নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী।

ই-বুক, চলচ্চিত্র, সংগীত ও সফটওয়্যারের ডিজিটাল সংস্করণ নিয়েও একটি ভুল ধারণা আছে। অনলাইনে কোনো কিছু কিনলেই তার পূর্ণ মালিকানা পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর সেই অনুমতি অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যাবে কি না, তা সেবাটির নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

এসব বিবেচনায় নিজের ডিজিটাল সম্পদকে অন্তত তিন ভাগে চিন্তা করা যায়। কিছু তথ্য পরিবারের প্রয়োজন হবে, কিছু সম্পদের আর্থিক মূল্য রয়েছে, আর কিছু তথ্য একান্ত ব্যক্তিগত। সবকিছু একই ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোথায় কী রাখা আছে এবং কোন তথ্য অন্যকে দেওয়ার অনুমতি দিতে চান, সেটি পরিষ্কার থাকাই বেশি জরুরি।

ফেসবুক প্রোফাইল রেখে দেবেন, নাকি মুছে ফেলবেন?

ফেসবুকে কারও মৃত্যুর পর তাঁর প্রোফাইল আগের মতো সক্রিয় রাখার ব্যবস্থা নেই। তবে সেটিকে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় স্মৃতিসংরক্ষিত অ্যাকাউন্ট। মৃত্যুর তথ্য যাচাইয়ের পর ফেসবুক কোনো প্রোফাইল এ অবস্থায় রাখলে নামের পাশে ‘স্মরণে’ অর্থবোধক একটি লেখা দেখা যায়। আগে প্রকাশিত পোস্ট ও ছবি আগের গোপনীয়তা অনুযায়ী দেখা যেতে পারে। বন্ধুবান্ধবও প্রোফাইলের নির্ধারিত জায়গায় স্মৃতি শেয়ার করতে পারেন।

তবে ওই অ্যাকাউন্টে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রোফাইলটি সাধারণত জন্মদিনের স্মরণবার্তা, বিজ্ঞাপন বা নতুন বন্ধু খোঁজার পরামর্শেও দেখানো হয় না। যাঁরা মৃত্যুর পর নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইল সংরক্ষণ করতে চান না, তাঁদের জন্য অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার বিকল্প রয়েছে।

উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি নির্বাচন করলে কী বদলাবে?

উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি নির্বাচন করলে কী বদলাবে?

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা আগে থেকেই একজন বন্ধুকে উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। মৃত্যুর পর প্রোফাইল স্মৃতি হিসেবে রাখা হলে তিনি কিছু কাজ করার অনুমতি পাবেন। যেমন প্রোফাইল বা প্রচ্ছদ ছবি পরিবর্তন করা, গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা প্রোফাইলের শুরুতে রাখা অথবা নতুন বন্ধুত্বের অনুরোধের উত্তর দেওয়া।

ব্যবহারকারী আগে থেকে অনুমতি দিয়ে রাখলে তাঁর প্রকাশিত তথ্যের অনুলিপি নামানোর সুযোগও থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি স্মৃতিসংরক্ষিত অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিতে পারেন।

তবে এই দায়িত্বের সীমা রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার বার্তা পড়তে পারবেন না। পুরোনো পোস্ট সম্পাদনা, মুছে ফেলা কিংবা মৃত ব্যক্তির পরিচয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার অনুমতিও পাবেন না। পুরোনো বন্ধুদের তালিকা থেকেও কাউকে সরাতে পারবেন না। তাই পরিবারের কারও কাছে ব্যক্তিগত বার্তা বা গুরুত্বপূর্ণ নথি পৌঁছে দেওয়াই উদ্দেশ্য হলে ফেসবুকের এই সুবিধা যথেষ্ট নয়।

সেটিংটি কোথায় পাবেন?

ফেসবুকে প্রবেশ করে সেটিংস ও গোপনীয়তা থেকে সেটিংস খুলুন। এরপর অ্যাকাউন্ট কেন্দ্রের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অ্যাকাউন্টের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অংশে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণের বিকল্প খুঁজুন। সেখানে নিজের প্রোফাইল নির্বাচন করে উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি যুক্ত করা অথবা মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার পছন্দ নির্ধারণ করা যায়।

অ্যাপের সংস্করণ ও ভাষা অনুযায়ী মেনুর নাম বা অবস্থান বদলাতে পারে। সেটিং খুঁজে পেতে সমস্যা হলে ফেসবুকের সহায়তা কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। একটি বিষয় আগেই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। প্রোফাইল মুছে গেলে সেখানে থাকা পুরোনো ছবি বা পোস্ট আর সংরক্ষণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

গুগল ফটোজ ও জিমেইলের তথ্য কীভাবে রেখে যাবেন?

গুগলের ব্যবস্থা ফেসবুকের চেয়ে আলাদা। এখানে মৃত্যুর পর কাউকে প্রোফাইল দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না। বরং দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না হলে নির্বাচিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার সুযোগ রাখা যায়।

সুবিধাটির বাংলা অর্থ দাঁড়ায় নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপক।

জিমেইল, গুগল ড্রাইভ ও গুগল ফটোজ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। পরিবারের প্রয়োজনীয় ছবি বা নথি এসব সেবায় রাখা থাকলে আগেই নির্ধারণ করা যায়, কোন ব্যক্তি কোন তথ্য পাবেন।

নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপক চালু করতে যা করতে হবে

নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে গুগল অ্যাকাউন্টের নিষ্ক্রিয়তা ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত পাতায় যান। শুরুতে নির্ধারণ করতে হবে, কত দিন অ্যাকাউন্টে কার্যক্রম না থাকলে গুগল সেটিকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে বিবেচনা করবে। এরপর নিজের যোগাযোগের তথ্য যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।

পরের অংশে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন করতে পারবেন। গুগল সর্বোচ্চ ১০ জনকে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার জন্য মনোনীত করার সুযোগ দেয়। সবাইকে একই তথ্য দিতে হবে না। গুগলের সমর্থিত বিকল্পগুলোর মধ্যে থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা ব্যক্তির জন্য আলাদা ধরনের তথ্য নির্বাচন করা যায়।

নির্ধারিত সময় ধরে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে গুগল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানাতে পারে। আগে থেকে তথ্য পাওয়ার অনুমতি দেওয়া থাকলে তাঁরা সেগুলো নামানোর নির্দেশনা পাবেন। চাইলে অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা যায়। তবে গুগল সব ধরনের তথ্য হস্তান্তরের সুযোগ দেয় না। মনোনীত ব্যক্তি মূল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও পান না।

দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করলে কী হবে?

নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপক ব্যবহার করার সময় মনে রাখতে হবে, গুগল কারও মৃত্যুর খবরের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা চালু করে না। অ্যাকাউন্টের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ কেউ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে অথবা অন্য কোনো কারণে গুগল ব্যবহার বন্ধ রাখলেও নির্ধারিত সময় শেষে প্রক্রিয়াটি চালু হতে পারে।

গুগল অ্যাকাউন্টের সক্রিয়তা বুঝতে প্রবেশের তথ্য, জিমেইল ব্যবহার, অন্যান্য সেবার কার্যক্রম ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ব্যবহারসহ বিভিন্ন সংকেত বিবেচনা করে। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট নীতিও জানা প্রয়োজন। অন্তত দুই বছর নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যক্তিগত গুগল অ্যাকাউন্ট এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য মুছে দেওয়ার অধিকার গুগল সংরক্ষণ করে।

তবে নির্দিষ্ট চলমান গ্রাহকসেবা, অর্থমূল্যযুক্ত ডিজিটাল কেনাকাটা কিংবা অন্যান্য যোগ্য কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টে ব্যতিক্রম রয়েছে। অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের জন্যও আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। নিজের ব্যবহারের অভ্যাস অনুযায়ী নিষ্ক্রিয়তার সময়সীমা বেছে নেওয়া উচিত। বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য ঠিক আছে কি না, সেটিও মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করা দরকার।

অ্যাপলের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রবেশসংকেত কেন এত জরুরি?

আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের ডিজিটাল উত্তরাধিকার সুবিধার মাধ্যমে মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আইক্লাউডের কিছু তথ্য পাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। এখানেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি বলা হয়। তবে ফেসবুকের একই ধরনের সুবিধার সঙ্গে অ্যাপলের ব্যবস্থার মিল নেই।

অ্যাপলের নির্বাচিত ব্যক্তি কিছু ক্ষেত্রে আইক্লাউডে রাখা ছবি, বার্তা, নোট, নথি ও ডিভাইসের সংরক্ষিত তথ্য পেতে পারেন। কিন্তু আইক্লাউডের সুরক্ষিত পাসওয়ার্ড সংরক্ষণব্যবস্থায় রাখা পাসওয়ার্ড, পরিচয় যাচাইয়ের বিশেষ সংকেত ও অর্থ পরিশোধের তথ্য তাঁর জন্য উন্মুক্ত হবে না। অ্যাপল অ্যাকাউন্টে কেনা চলচ্চিত্র, সংগীত, বই ও গ্রাহকসেবাও এই সুবিধার বাইরে।

উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি কীভাবে যোগ করবেন?

আইফোন বা আইপ্যাডের সেটিংস খুলে নিজের নাম নির্বাচন করুন। তারপর প্রবেশ ও নিরাপত্তা অংশ থেকে উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি নির্বাচন করুন। সেখানে নতুন উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি যোগ করার বিকল্প থেকে যাঁকে দায়িত্ব দিতে চান, তাঁকে যুক্ত করুন।

প্রক্রিয়াটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিশেষ প্রবেশসংকেত। উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি যুক্ত করার সময় এই সংকেত তৈরি হয়। মৃত্যুর পর তথ্যপ্রাপ্তির আবেদন করতে সাধারণত নির্বাচিত ব্যক্তির কাছে বিশেষ প্রবেশসংকেত এবং মৃত্যু সনদ থাকতে হবে। দেশভেদে অতিরিক্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে।

এই সুবিধার জন্য আইওএস ১৫.২, আইপ্যাডওএস ১৫.২ বা ম্যাকওএস মন্টেরে ১২.১ কিংবা পরবর্তী সমর্থিত সংস্করণ প্রয়োজন। অ্যাপল অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের পরিচয় যাচাইকরণও চালু থাকতে হবে। উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তির নিজের অ্যাপল ডিভাইস বা অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদন করার সময় বয়সসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। সাধারণভাবে ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর, যদিও দেশভেদে তা ভিন্ন হতে পারে।

একাধিক উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি রাখা যায়। তাঁদের প্রত্যেকে আলাদাভাবে তথ্যপ্রাপ্তির আবেদন করতে পারেন এবং অনুমোদনের পর অ্যাকাউন্টের তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনের পাশাপাশি বিশেষ প্রবেশসংকেত নিরাপদে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংকেতটি হারিয়ে গেলে আবেদন করার সময় সমস্যা হতে পারে।

ওয়ানড্রাইভের ফাইল কি পরিবারের কেউ দেখতে পারবেন?

মাইক্রোসফটের ওয়ানড্রাইভের ডিজিটাল উত্তরাধিকার সুবিধা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ফাইল ও ছবি দেখার অনুমতি দেওয়া যায়। ওয়ানড্রাইভের ওয়েবসাইটে সেটিংস থেকে ডিজিটাল উত্তরাধিকার অংশ খুলে বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে হয়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য তাঁর নিজের মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন।

এরপর অ্যাকাউন্টধারী একটি বিশেষ সংকেত সংগ্রহ করেন। নির্বাচিত ব্যক্তি সেই সংকেত দিয়ে প্রবেশাধিকারের আবেদন করতে পারেন। মাইক্রোসফটের নিয়মে আবেদনের পর ৭২ ঘণ্টার অপেক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফাইল দেখতে এবং প্রয়োজনীয় ফাইল নামিয়ে রাখতে পারবেন। তবে তিনি মূল ফাইল সম্পাদনার অনুমতি পান না।

এখানে অ্যাপলের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ওয়ানড্রাইভের ডিজিটাল উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় মৃত্যুর সনদ জমা দেওয়ার শর্ত নেই। ফলে অ্যাকাউন্টধারী জীবিত থাকা অবস্থাতেও সংকেতটি হাতে থাকা নির্বাচিত ব্যক্তি প্রবেশাধিকারের আবেদন করতে পারেন।

যিনি নিজের ব্যক্তিগত ফাইল জীবদ্দশায় অন্যের কাছে উন্মুক্ত করতে চান না, তাঁর সংকেত সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। উইল বা অন্য নিরাপদ নথির সঙ্গে সংকেত রাখা একটি বিকল্প। তবে সেই নথিতে কখন এবং কার প্রবেশাধিকার থাকবে, তা ঠিক করে রাখতে হবে।

ওয়ানড্রাইভের এই অনুমতি শুধু সংশ্লিষ্ট ফাইলের জন্য। এর মাধ্যমে আউটলুক ইমেইল বা পুরো মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা যায় না। প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। নিজের অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল উত্তরাধিকার বিকল্পটি না পাওয়া গেলে মাইক্রোসফটের সহায়তা নির্দেশনা দেখতে হবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেটের টাকা কে পাবেন?

ব্যক্তিগত ছবি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল সংরক্ষণ করা এক ধরনের কাজ। ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টের অর্থ দাবি করা সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া।

এখানে উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি নির্বাচন করে কাজ হবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম এবং প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন মানতে হবে।

পরিবারের কারও কাছে পাসওয়ার্ড বা লেনদেনের পিন থাকলেও সেটি ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করার পরিবর্তে অনুমোদিত উপায়ে দাবি জানানো উচিত।

বাংলাদেশে বিকাশ অ্যাকাউন্টের নমিনি

বাংলাদেশে বিকাশ অ্যাকাউন্টের নমিনি

বিকাশ ব্যবহারকারীরা অ্যাপ থেকে নমিনি যুক্ত বা পরিবর্তন করতে পারেন। জাতীয় পরিচয়পত্রধারী সর্বোচ্চ দুইজনকে নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। দুজন নমিনি থাকলে তাঁদের জন্য নির্ধারিত অংশের শতকরা হারও উল্লেখ করা যায়।

অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যুর পর নমিনিকে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত নথি, মৃত্যু সনদ ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে বিকাশ গ্রাহকসেবায় আবেদন করতে হয়। আগে নমিনি যুক্ত করা না থাকলে আদালত থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার সনদের প্রয়োজন হতে পারে।

বিকাশের প্রকাশিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিসহ আবেদন গ্রহণের পর সাধারণত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। অর্থ স্থানান্তরের পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে নথি অসম্পূর্ণ থাকলে বা দাবি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে নিষ্পত্তিতে বেশি সময় লাগতে পারে। শিক্ষার্থীদের বিশেষ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও পৃথক নিয়ম রয়েছে। যাঁদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে নমিনি যুক্ত নেই, তাঁদের জন্য আগেই সেটি করে রাখা একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি।

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঠকদের জন্য

ভারতের ব্যাংক হিসাবের নিয়ম বাংলাদেশের বিকাশ বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে এক নয়। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক মৃত গ্রাহকের হিসাব নিষ্পত্তি নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে। ব্যাংকগুলোকে ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় পরিচয় ও মৃত্যুর নথি যাচাই করে যোগ্য নমিনিকে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নমিনি অর্থ গ্রহণ করলেও বৈধ উত্তরাধিকারীদের অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় না। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নমিনি উত্তরাধিকারীদের স্বার্থরক্ষার দায়িত্ব নিয়ে অর্থ গ্রহণ করেন।

প্রয়োজনীয় সব নথি পাওয়ার পর মৃত গ্রাহকের আমানত হিসাবের দাবি সর্বোচ্চ ১৫ পঞ্জিকা দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নিয়মও রয়েছে। সরকার পরিচালিত নির্দিষ্ট সঞ্চয় প্রকল্পের নিজস্ব বিধান রয়েছে। ফলে সেগুলোর ক্ষেত্রে একই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নয়।

উইলে ডিজিটাল সম্পদের কথা লিখে রাখা যায়?

নিজের ডিজিটাল সম্পদ নিয়ে কী করতে চান, তা উইল বা উত্তরাধিকার পরিকল্পনার নথিতে উল্লেখ করা যেতে পারে। ওয়েবসাইট, ডোমেইন, অনলাইন ব্যবসার সম্পদ কিংবা মূল্যবান ডিজিটাল নথির দায়িত্ব কার কাছে থাকবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা রাখা সম্ভব।

তবে উইলে কারও নাম থাকলেই তিনি মৃত ব্যক্তির জিমেইল বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার অধিকার পাবেন না। একটি ডোমেইনের আর্থিক মূল্য থাকতে পারে। সেটির মালিকানা হস্তান্তরের প্রশ্নও উঠতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি একই ধরনের সম্পত্তির অধিকার নয়।

অনলাইন সেবার চুক্তি, গোপনীয়তা নীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এখানে প্রযোজ্য হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তরাধিকারসংক্রান্ত আইন এক নয়। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসা, মেধাস্বত্ব বা উল্লেখযোগ্য আর্থিক মূল্যসম্পন্ন সম্পদের ক্ষেত্রে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পনা করা উচিত।

ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের দায়িত্বও আলাদা করে ঠিক করা প্রয়োজন। ফেসবুক পেজের একমাত্র প্রশাসকের অ্যাকাউন্ট মৃত্যুর পর স্মৃতি হিসেবে রাখা হলে বৈধ অনুরোধের ভিত্তিতে পেজ সরিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও ডোমেইন নবায়ন, হোস্টিং বিল বা ব্যবসায়িক ইমেইলের দায়িত্ব একজনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকলে তাঁর অনুপস্থিতিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট আর প্রতিষ্ঠানের সম্পদ একইভাবে পরিচালনা করা ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

সব পাসওয়ার্ড পরিবারের কাউকে দিয়ে রাখা কি ঠিক হবে?

এই পদ্ধতি সুবিধাজনক মনে হতে পারে। কিন্তু সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং পিন এবং যাচাইকরণ সংকেত এক জায়গায় লিখে রাখলে তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বরং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর একটি তালিকা রাখা যায়। সেখানে কোন সেবায় কী ধরনের তথ্য রয়েছে, কোনটি সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোন ব্যক্তি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করবেন, তা উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যারের জরুরি প্রবেশাধিকার সুবিধাও বিবেচনা করা যায়। কিন্তু সেটি কী ধরনের তথ্য দেখার সুযোগ দেয়, অপেক্ষার সময় কত এবং অতিরিক্ত খরচ আছে কি না, তা আগে জানতে হবে।

পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও আর্থিক অ্যাকাউন্টের বৈধ উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। আরেকটি বিষয় অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। ব্যক্তিগত ইমেইল বা অনলাইন তথ্যভান্ডারে পরিবারের প্রয়োজনীয় নথির পাশাপাশি অন্য মানুষের গোপন তথ্যও থাকতে পারে।

ব্যক্তিগত কথোপকথন, চিকিৎসার নথি কিংবা গোপন ব্যবসায়িক তথ্য সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ছবি ও নথি আলাদা সংরক্ষণ করা ভালো ব্যবস্থা হতে পারে। তাতে মূল অ্যাকাউন্টের সব তথ্য না দিয়েও নির্দিষ্ট নথি পাওয়ার সুযোগ রাখা যায়।

আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা না রেখে মারা গেলে কী হবে?

পরিবারের কেউ মারা যাওয়ার পর দেখা গেল, কোনো অ্যাকাউন্টের জন্য উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি বা অন্য ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

  • গুগল: মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা বা নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার আবেদন গ্রহণ করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি মৃত ব্যক্তির পাসওয়ার্ড বা প্রবেশের তথ্য দেয় না।
  • ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম: মৃত্যুর প্রমাণ দিয়ে অ্যাকাউন্ট স্মৃতি হিসেবে রাখা কিংবা সরানোর আবেদন করা যায়।
  • অ্যাপল: আগে উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি নির্বাচন করা না থাকলেও আইনি নথির মাধ্যমে তথ্যপ্রাপ্তি বা অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। কিছু পরিস্থিতিতে আদালতের আদেশ প্রয়োজন হয়। দেশভেদে নথির শর্তও ভিন্ন।
  • মাইক্রোসফট: ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে আগে থেকে ওয়ানড্রাইভের ডিজিটাল উত্তরাধিকার ব্যবস্থা চালু না থাকলে তথ্য পাওয়ার সুযোগ সীমিত। আদালতের আদেশ থাকলেও তথ্য প্রকাশের নিশ্চয়তা নেই।
  • ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নমিনি ও উত্তরাধিকারী দাবি নিষ্পত্তির নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার আবেদন করার আগে ভেবে দেখা প্রয়োজন, সেখানে পরিবারের দরকারি কোনো ছবি বা নথি রয়েছে কি না। স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার পর সেই তথ্য আর উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

ডিজিটাল উত্তরাধিকার পরিকল্পনা শুরু করবেন কীভাবে?

প্রথমেই সব অনলাইন অ্যাকাউন্টের দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে, এমন নয়। পরিবারের কাজে লাগতে পারে এমন তথ্যগুলো কোথায় রয়েছে, সেটি খুঁজে বের করা বেশি প্রয়োজন। যাঁরা ফেসবুক ও গুগল নিয়মিত ব্যবহার করেন, তাঁরা এই দুটি অ্যাকাউন্টের সেটিং দিয়ে শুরু করতে পারেন। ফেসবুকে মৃত্যুর পর প্রোফাইলের কী হবে, তা নির্বাচন করুন। গুগলের নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় নির্ধারণ করুন, দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না হলে কোন তথ্য কার কাছে যাবে।

অ্যাপল ব্যবহারকারীদের উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি ও বিশেষ প্রবেশসংকেতের ব্যবস্থা করা উচিত। ওয়ানড্রাইভের ক্ষেত্রে বিশেষ সংকেতটি কোথায় রাখা হবে, সেটি ঠিক করতে হবে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টে নমিনি যুক্ত আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনীয় পারিবারিক ছবি ও নথির আলাদা সংরক্ষিত অনুলিপি রাখার বিষয়টিও বাদ দেওয়া যাবে না।

সবচেয়ে ভালো হয়, যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে আগে কথা বললে। তিনি কোন তথ্য পাবেন, কী করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে কোন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করবেন, তা জানা থাকা দরকার।

ডিজিটাল উত্তরাধিকার পরিকল্পনার জন্য আলাদা কোনো জটিল ব্যবস্থা তৈরি করতেই হবে, এমন নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের সেটিং ঠিক করা, নমিনির তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং প্রয়োজনীয় নথির নিরাপদ অনুলিপি সংরক্ষণই একটি কার্যকর শুরু। মূল সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত। মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য কী রেখে যেতে চান, আর কোন তথ্য ব্যক্তিগতই থেকে যাওয়া উচিত, সেটি অ্যাকাউন্টধারীকেই ঠিক করে যেতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. ডিজিটাল উত্তরাধিকারী হিসেবে কি একাধিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা যায়?

কিছু অনলাইন সেবায় একাধিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুগল সর্বোচ্চ ১০ জনকে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার জন্য নির্বাচন করতে দেয়। অ্যাপলেও একাধিক উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি রাখা যায়। তবে ফেসবুকের উত্তরাধিকারী যোগাযোগব্যক্তি নির্বাচনের নিয়ম আলাদা। তাই প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত দেখতে হবে।

২. দুই স্তরের পরিচয় যাচাইকরণ চালু থাকলে কি মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যাবে?

দুই স্তরের পরিচয় যাচাইকরণ চালু থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল উত্তরাধিকার সুবিধা ব্যবহার করা যায়। তবে মনোনীত ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল অ্যাকাউন্টে প্রবেশের অনুমতি পান না। গুগল বা অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। উত্তরাধিকার পরিকল্পনার জন্য পরিচয় যাচাইকরণের নিরাপত্তাব্যবস্থা বন্ধ করা উচিত নয়।

৩. উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন?

যাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছুক হলে অ্যাকাউন্টের সংশ্লিষ্ট সেটিং পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী আগের ব্যক্তিকে সরিয়ে নতুন কাউকে নির্বাচন করা যায়, যদি প্ল্যাটফর্মটি সেই সুযোগ দেয়। পুরোনো যোগাযোগের তথ্য রেখে দিলে প্রয়োজনের সময় তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।

৪. ডিজিটাল উত্তরাধিকার পরিকল্পনা কত দিন পরপর হালনাগাদ করা প্রয়োজন?

এ জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। নতুন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট খোলা, পুরোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, নমিনি পরিবর্তন কিংবা পরিবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য বদলানোর পর পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করা ভালো। বিশেষ করে গুগল ও অ্যাপলের মতো সেবায় নির্বাচিত ব্যক্তির তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রবেশসংকেতের ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত।

সর্বশেষ